সীতাকুণ্ডে চলন্ত চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন
সীতাকুণ্ডে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ আগুন: প্রাণ বাঁচাতে যাত্রীদের আর্তচিৎকার ও উদ্ধার অভিযান
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চলন্ত 'চট্টলা এক্সপ্রেস' ট্রেনে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুরে ট্রেনটি সীতাকুণ্ড এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একটি বগিতে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে ট্রেনের ভেতরে থাকা শত শত যাত্রী প্রাণভয়ে আর্তচিৎকার শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যাত্রীদের গগনবিদারী চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং রেললাইনের পাশে ট্রেনটি থামলে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগুনের তীব্রতা দেখে অনেক যাত্রী চলন্ত ট্রেন থেকেই লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন, এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে, যা ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। অগ্নিকাণ্ডে ট্রেনের একটি বগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরণের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। রেলওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি আলাদা করে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreনাটোরের লালপুরে ১০৬ পিস ইয়াবাসহ এক পুলিশ কনস্টেবলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার মোহরকয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যের নাম আল আমিন, বয়স ২৩ বছর। তিনি রাজশাহী রেঞ্জের রিজার্ভ ফোর্সে কর্মরত এবং লালপুর উপজেলার পানসিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্য দুজন হলেন মোহরকয়া গ্রামের ওহিদুল মোল্লা, ৩২, এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের মুক্তার আলী, ৩৪। লালপুর থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহরকয়া গ্রামের ওহিদুল মোল্লার টিনশেড বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি কক্ষ থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি ও ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান চালিয়ে ১০৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মাদক বিক্রি ও পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল এবং নগদ ৩২ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে উদ্ধার করা এসব সামগ্রীর সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ এখন এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং উদ্ধার করা ইয়াবা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সূত্র: বাংলা টিভি
জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
পাসপোর্ট হারালেই এবার কড়াকড়ি, দ্বিতীয়বার থেকে গুনতে হবে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা
অনার্সে ২.৯৩, গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল না চীনে শুরু করে এখন বিশ্বের ৭ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি
বাবা, দাদা বা পরিবারের অন্য সদস্যের নামে কোথায় কতটুকু জমি রয়েছে, তার প্রাথমিক তথ্য এখন স্মার্টফোন থেকেই খুঁজে দেখা যায়। ভূমি সেবা ডিজিটাল হওয়ায় ঘরে বসে অনলাইনে খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু কারও নাম লিখে দেশের সব এলাকায় তাঁর নামে থাকা জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জমির রেকর্ড নির্দিষ্ট এলাকা, খতিয়ান ও দাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আরটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জমির তথ্য খুঁজতে প্রথমে স্মার্টফোনের ক্রোম ব্রাউজারে গিয়ে ই-পর্চা সার্চ করতে হবে। এরপর সরকারি ই-পর্চা সেবায় প্রবেশ করে খতিয়ান অনুসন্ধানের অপশন নির্বাচন করতে হবে। সেখানে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন করার পর খতিয়ানের ধরন নির্ধারণ করতে হবে। রেকর্ড অনুযায়ী বিএস, সিএস, আরএস বা এসএ খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যাপচা পূরণ করে অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে হয়। অনুসন্ধানের পর পাওয়া রেকর্ডে জমির মালিকের নাম, দাগ ও খতিয়ানসংক্রান্ত তথ্য এবং জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ফলে জমির অবস্থান বা রেকর্ড সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানতে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। খতিয়ানের কপি প্রয়োজন হলে অনলাইনেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতে পারে। নির্ধারিত সরকারি ফি থাকলে অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যায়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খতিয়ানের অনলাইন কপি পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা। তবে অনলাইনে পাওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খতিয়ান, দলিল, নামজারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে পুরোনো জমির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ের খতিয়ানে তথ্য পরিবর্তিত থাকতে পারে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবার আওতায় খতিয়ান ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবা অনলাইনে দেওয়ার ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে পাওয়া কিউআর কোডযুক্ত খতিয়ানও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাবা-দাদা বা পরিবারের কারও জমির তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে অনলাইন অনুসন্ধানকে প্রাথমিক যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে মালিকানা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বৈধ নথি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। সূত্র: আরটিভি
বিমানের বহরে বড় চমক, ১১ বোয়িং কেনার পথে বাংলাদেশ; দরজায় ১০ এয়ারবাসের প্রস্তাবও
চলন্ত মেট্রোরেলে অপারেটর কেবিনের দরজার তালা খুলে বিপত্তি, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল
বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে খরচ ৫০ লাখ টাকা, দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী
ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ঢাকায় একটি অফিস খুলে বাংলাদেশকে তাদের আঞ্চলিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মেটার সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসার প্রসার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। শামা ওবায়েদ বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মেটার অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও বৈঠকে থাকার কথা ছিল, তবে সময়ের কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি। বৈঠকে ঢাকায় মেটার অফিস খোলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারীভিত্তি থাকায় মেটা ঢাকাকে তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে মেটা কবে অফিস খুলবে বা প্রস্তাবিত অফিসের কাঠামো ও দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স এবং অনলাইন ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে মেটার সঙ্গে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। মেটার সঙ্গে বৈঠকটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের অর্থনৈতিক কূটনীতি কর্মসূচির অংশ। এর আগে পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছিলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, উৎপাদন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মেটা ও লাইটক্যাসল পার্টনার্সের আয়োজনে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে মেটা বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থানীয় পেমেন্ট সুবিধা চালুর ঘোষণা দেয়, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিকাশের মাধ্যমে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ করতে পারে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি অধিবেশনের উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশ নেন। সফরকালে তিনি বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করছেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকায় মেটার আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তা মূলত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো বৈঠকের তথ্য। অফিস স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সময়সীমা বা বিনিয়োগের পরিমাণ সম্পর্কে মেটার পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও আলোচনার অগ্রগতির ওপরই বিষয়টির বাস্তব রূপ নির্ভর করবে।
তারেক রহমানের হোটেলের কাছে সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস, নিউইয়র্কে নিরাপত্তা জোরদার
জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান