সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করল ফেরারি, দাম প্রায় ৬.৪ লাখ ডলার

Unknown প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৩
ইতালির রোমে উন্মোচিত ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার “লুসে”। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির রোমে উন্মোচিত ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার “লুসে”। ছবি: সংগৃহীত

বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম।

 

ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে।

 

নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।

 

চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

 

ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১৩ বছরের ব্রিটিশ কিশোরীসহ নিখোঁজ ৩৩ ব্রিটিশ পর্যটক
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১৩ বছরের ব্রিটিশ কিশোরীসহ নিখোঁজ ৩৩ ব্রিটিশ পর্যটক

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১৩ বছরের এক ব্রিটিশ কিশোরীসহ যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনেও অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ।   নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও পানি নদীতে নেমে আসার পর মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নদীর আশপাশের বসতি, সড়ক, ধাতব সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়িঘর ও যানবাহন কাদা ও পানির নিচে চাপা পড়ে গেছে।   উদ্ধারকর্মীরা এখনো দুর্গত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। ৪০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে দুর্গম এলাকা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।   স্থানীয় এক স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকের ভাষায়, যেদিকে তাকানো যাচ্ছে, সেদিকেই ধ্বংসযজ্ঞ। নদীর পাশে থাকা অনেক বসতি পুরোপুরি ভেসে গেছে। তার নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।   নেপালের পাশাপাশি তিব্বতের দিকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চীনা কর্মকর্তারা বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, কাদা, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত আছড়ে পড়ার আগে মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে পালানোর চেষ্টা করছেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়ও উঠে এসেছে ভয়াবহতার চিত্র। ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল জানান, হঠাৎ করে বিশাল কাদার স্রোত তাদের দিকে ধেয়ে আসে। পানি ও কাদা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ার পর তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্রোতে তার স্ত্রী ভেসে যান। কয়েক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে করে তাকে উদ্ধার করা হলেও স্ত্রী এখনো নিখোঁজ।   জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমবাহ থেকে তুষার ও বরফ ধসে পড়ার কারণে এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পানি নেমে এসে নদীর পানি দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।   এদিকে নেপাল থেকে নেমে আসা পানির কারণে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিহারে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।   নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও রয়েছেন। একটি পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৪ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।   নেপাল ও তিব্বতের এই অঞ্চলটি মাউন্ট কৈলাসে তীর্থযাত্রার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সেখানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী জড়ো হন। এবারের দুর্যোগে মাউন্ট কৈলাসগামী ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রীও আটকা পড়েছেন বলে জানানো হয়েছে।   দুর্যোগের পর নেপাল ও আশপাশের এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি দুর্গত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ৩:৩৯
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এক বসায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তেলাওয়াত ফিলিস্তিনি কিশোরীর

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এক বসায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তেলাওয়াত ফিলিস্তিনি কিশোরীর

লাইভ এআই সহায়তায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, বিশ্বের প্রথম রোগীর টিউমার সফলভাবে অপসারণ

লাইভ এআই সহায়তায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, বিশ্বের প্রথম রোগীর টিউমার সফলভাবে অপসারণ

পা দেখানো শুরু করতেই আকাশচুম্বী টিপ, উবার ইটস ড্রাইভারের দাবি তরুণীর

পা দেখানো শুরু করতেই আকাশচুম্বী টিপ, উবার ইটস ড্রাইভারের দাবি তরুণীর

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬০
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬০, নিখোঁজ সহস্রাধিক; নিখোঁজদের মধ্যে ব্রিটিশ, মার্কিন ও কানাডীয় পর্যটক

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬০ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকও রয়েছেন। নেপালের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বন্যার পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও সীমান্ত অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   বুধবার স্থানীয় সময় সকালে ভোতে কোশি নদীর আশপাশে হঠাৎ ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। নেপাল পুলিশের হিসাবে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই সময়ে চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।   নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, দেশটিতে ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ৪৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ার, ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের এবং ২৪ জন কানাডার নাগরিক। নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে।   নিখোঁজদের বড় একটি অংশ তিব্বতের পবিত্র কৈলাস-মানসসরোবর এলাকায় তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন। নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ১৩৩। এছাড়া স্থানীয় পর্যটক, তীর্থযাত্রী, গাইড ও নিরাপত্তাকর্মীরাও নিখোঁজ রয়েছেন।   চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। তবে নেপাল ও চীনের নিখোঁজের হিসাবের মধ্যে একই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।   প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের পেছনে ভূমিকম্পের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে হিমবাহের বরফ ও পাথরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত থেকেই এই বন্যা তৈরি হয়েছে। উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের হিমবাহ ধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।   বন্যার প্রবল স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকার সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। বহু বাড়িঘর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।   নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার, তাঁবু ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি।   কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান আরও এগোলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নদীর তীরবর্তী নেপালের কয়েকটি জেলার বাসিন্দাদের ভোতে কোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ০:১৪
প্রবল জল ও কাদার স্রোতে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ৩৪ অস্ট্রেলীয় নাগরিক, তাদের মধ্যে ১১ ও ১৪ বছরের দুই শিশুও রয়েছে

উড়োজাহাজের ভেতরে উচ্চস্বরে ধর্মপ্রচার ও যাত্রীদের বিরক্ত করার ঘটনায় দুই ধর্মযাজককে জরিমানা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত। ছবি: সংগৃহীত

‘যিশুকে বিশ্বাস না করলে নরকে যাবেন’, ফ্লাইটে যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে ধর্মপ্রচার, দুই যাজকের শাস্তি

সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও ট্রিস্টান টেট

সামাজিক মাধ্যমে ফেইক বিলাসী জীবনযাপনের প্রদর্শন, স্বীকার টেট ভাইদের

এবার লেবাননের তিন খ্রিষ্টান শহর দখলে নিলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী
এবার লেবাননের তিন খ্রিষ্টান শহর দখলে নিলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ

দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবাইল জেলায় অবস্থিত তিনটি খ্রিষ্টান শহর রমেইশ, দেবেল ও আইন এবেলে চলাচলে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এসব শহরের বাসিন্দাদের নির্ধারিত কনভয় ছাড়া একা যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কয়েক হাজার মানুষ কার্যত সীমিত চলাচলের মধ্যে পড়েছেন।   স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আশরাক আল আওসাত জানিয়েছে, তিন শহরে প্রবেশ বা বের হওয়ার আগে বাসিন্দাদের গাড়ির তথ্য ও যাত্রীদের পরিচয় নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এরপর লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিলের সমন্বয়ে নির্ধারিত কনভয়ের মাধ্যমে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে।   প্রতিদিন অন্তত একটি কনভয়ে কয়েকটি গাড়ি বা বাস শহরগুলোর একটি থেকে বের হয়। কনভয়গুলো দক্ষিণ তীর এলাকার উপকূলীয় সড়ক দিয়ে নাকুরা হয়ে বিনত জবাইলের শহরগুলোতে যায়। লেবাননের সেনাবাহিনী প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ইসরায়েলি সীমান্তের কাছাকাছি কুলাইলে পর্যন্ত কনভয়কে নিরাপত্তা দেয়। এরপর ইউনিফিলের গাড়ি তাদের সঙ্গে থাকে।   স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, যাত্রীদের পরিচয় যাচাই এবং গাড়িতে তল্লাশির পর ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কোনো গাড়িকে একা চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না।   এই পরিস্থিতিতে ভ্যাটিকানও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। লেবাননে নিযুক্ত ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করে খ্রিষ্টান শহরগুলোর বাসিন্দাদের চলাচলে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।   তবে দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন জেলার খ্রিষ্টান শহরগুলোতে একই ধরনের বিধিনিষেধ নেই। কুলাইয়া, জেদিদেত মারজায়ুন, বুর্জ আল-মুলুক ও দেইর মিমাসের বাসিন্দারা তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে পারছেন। তারা পূর্ব লেবাননের পশ্চিম বেকা হয়ে হাসবায়া এবং সেখান থেকে মারজায়ুনের দিকে যাতায়াত করছেন।   এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থাপনা ও বাড়িঘর ধ্বংসের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আশরাক আল আওসাত জানিয়েছে, ইসরায়েলি টহল দলের সঙ্গে বিস্ফোরক বহনকারী ট্রাকও দেখা যাচ্ছে। এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করে দখল করা এলাকাগুলোর পরিত্যক্ত বা লুট করা বাড়িঘর ধ্বংস করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।   মারজায়ুন জেলার মাইস আল-জাবাল শহরে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের দাবি, শহরটিতে ৫ হাজারের বেশি বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং এখন মাত্র কয়েক ডজন আবাসিক ইউনিট অবশিষ্ট রয়েছে।   সাম্প্রতিক ধ্বংসের মধ্যে একটি স্কুল কমপ্লেক্সও রয়েছে। ইরাক সরকারের সহায়তায় তৈরি ওই কমপ্লেক্সের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর কংক্রিট গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সেখান থেকে রডসহ ধাতব সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।   এদিকে লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিমাঞ্চলেও ইসরায়েলি হামলা ও গোলাবর্ষণ বেড়েছে। মানসুরি ও তাইর হারফার ওয়াদি হাসান এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মানসুরি ও মাজদাল জউনে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের খবরও পাওয়া গেছে।   বিনত জবাইল জেলার আইনাতা ও বেইত লিফেও ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। যুদ্ধবিমান থেকে মানসুরি ও তাইর হারফার উপকণ্ঠে হামলার খবরও পাওয়া গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৯:৯
ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি খোলার আলোচনায় ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার কমল তেলের দাম

ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি খোলার আলোচনায় ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার কমল তেলের দাম

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস

‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

0 Comments