বিশ্ব

ইসলামাবাদ সফর শেষে দেশে ফিরল ইরানি প্রতিনিধিদল
ইসলামাবাদ সফর শেষে দেশে ফিরল ইরানি প্রতিনিধিদল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় পাকিস্তান ত্যাগ করেছে ইরানের প্রতিনিধিদল। এই দলে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহের।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং ইরান মার্কিন প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেনি।   সব মিলিয়ে, ব্যর্থ আলোচনার পর দুই পক্ষই পাকিস্তান ছেড়ে চলে গেছে।   ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে এই বৈঠকটি শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত চলে। আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে কথা হলেও কোনো চুক্তি হয়নি।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও সীমারেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছিল—কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব এবং কোথায় নয়। তবে ইরান সেই শর্তগুলো মেনে নেয়নি বলে জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
সমুদ্রে মার্কিন বাহিনীর মাইন অপসারণের খবর ভুয়া বলছে ইরান।
হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব, সরাসরি নাকচ ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কাজ শুরু করেছে—এমন দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে এই তথ্য দ্রুতই নাকচ করেছে ইরান।   শনিবার সেন্টকম জানায়, তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন ও ইউএসএস মাইকেল মারফি—হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আরব উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং সেখানে মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। মার্কিন পক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ রুট তৈরি করা হচ্ছে।   মার্কিন নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই পদক্ষেপ অঞ্চলটির পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে এবং শিগগিরই নিরাপদ পথ বাণিজ্যিক খাতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।   তবে ইরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে—এমন কোনো তথ্য সঠিক নয়। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যেকোনো জাহাজের চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানেই ঘটে।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রণালিতে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি দেখা গেলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই মার্কিন জাহাজ ওই পথে চলাচল করে থাকে, তবে তা ইরানের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়। কারণ, হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।   এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটিকে দুই দেশের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি সংলাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর শুরু হওয়া এই আলোচনায়ও বেশ কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং আঞ্চলিক সামরিক অভিযান—এসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।   ইরানি সূত্রগুলোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালি আংশিক খোলার ইঙ্গিত দিলেও, মাইন থাকার অজুহাতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই দাবি মানতে নারাজ তেহরান।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
আলোচনা ব্যর্থ, ট্রাম্পের সামনে তিন কঠিন পথ

ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে টানা আলোচনা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ করে ফিরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।   এই ব্যর্থতার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন বিকল্প দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথে থাকা। দ্বিতীয়ত, আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ানো—যা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। তৃতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়া।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিজেই জানাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও সীমারেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে, তবে ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি।   মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তাদের সহজভাবে নতি স্বীকার করা উচিত। তবে অতীত অভিজ্ঞতা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। বারাক ওবামার সময় দুই দেশের মধ্যে বড় একটি চুক্তি করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল, যেখানে ইরানকে সীমিত আকারে পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।   বর্তমান সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রশ্ন। ইরান বলছে, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় নিজেদের ভূখণ্ডে এই কার্যক্রম চালানো তাদের অধিকার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দেয়। সাম্প্রতিক সংঘাত এই অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে।   এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২১ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। কারণ, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাজার অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি তাদের অবস্থানকে দুর্বল করেনি, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আরও দৃঢ় করেছে।   সব মিলিয়ে, আলোচনার এই পর্যায়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে শক্ত মনে করছে। তাই আপাতত সমঝোতার সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।   সূত্র – নিউইয়র্ক টাইমস

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ইরানকে চাপে ফেলেছে ইসরাইল
ইরানকে চাপে ফেলেছে ইসরাইল: নেতানিয়াহু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযান এখনো শেষ হয়নি। তবে তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে ইতোমধ্যেই ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ অর্জন করেছে ইসরাইল।   একটি মানচিত্র উপস্থাপন করে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব লাল রঙে দেখানো হয়, নেতানিয়াহু বলেন—ইরান একসময় ইসরাইলকে চাপে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো। তার ভাষায়, ইসরাইলই বর্তমানে ইরানকে চাপে রেখেছে এবং প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়টি তার দীর্ঘদিনের অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে তিনি নানা গোপন অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন। তবে তার অভিযোগ, বিশ্ব সেই সতর্কবার্তাকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।   নেতানিয়াহুর দাবি, গত জুনে ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে ইসরাইল এক ধরনের ‘ভয়ভীতি’র বাধা ভেঙে দিয়েছে, যা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এবার সঠিক সময়ে নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য তার কাছে পৌঁছেছিল, যা সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরছেন। সংগৃহীত ছবি
ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ, খালি হাতেই ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে কয়েক দফা বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনা ভেস্তে যায়।   তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের ছাড় দেবে না; প্রয়োজন হলে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই পথেই এগোবে। অন্যদিকে, নিজেদের দাবি পূরণ না হওয়ায় অসন্তুষ্ট ওয়াশিংটন।   ইরানের দাবি, এত দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র কার্যত শূন্য হাতে ফিরছে। দেশটির গণমাধ্যম বলছে, ওয়াশিংটন তাদের ‘অযৌক্তিক দাবি’ থেকে সরে না এলে ভবিষ্যতে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।   ঘানায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসের এক্স পোস্টেও একই সুর শোনা গেছে। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভাইস প্রেসিডেন্টকে দূর পথ পাড়ি দিয়ে ইসলামাবাদে নিয়ে এসে দীর্ঘ আলোচনা করেছে। কিন্তু যুদ্ধে যা অর্জন করা যায়নি, তা আলোচনার টেবিলে পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে—যা ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আলোচনা শেষ হয়েছে কোনো সমঝোতা ছাড়াই, আর মার্কিন প্রতিনিধি দল ফিরছে খালি হাতে।   এদিকে, ইরানি সূত্রের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানায়, আলোচনা ভেঙে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই অজুহাত খুঁজছিল। হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্যই মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায়।   ইরানের অভিযোগ, যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পথে আসে এবং সেখানে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এসব শর্তকে ‘অতিরঞ্জিত’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এমনকি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনাও আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ইরানি প্রতিনিধি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
হরমুজ নিয়ে ১০ দিনে নাটকীয় ইউ-টার্ন ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি এখন ইসলামাবাদে চলমান আলোচনার অন্যতম জটিল ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত অবস্থান কী—তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক সাংবাদিক মাইক হান্না এমনই মন্তব্য করেছেন।   অল্প সময়ের মধ্যেই, মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বক্তব্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই পথ দিয়ে যে তেল পরিবহন হয়, তা ওয়াশিংটনের প্রয়োজন নেই। বরং অন্যান্য দেশই এই রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক এবং ইরানের সঙ্গে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করুক।   কিন্তু এর কিছুদিন পরেই তিনি সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নেন। এবার তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এমনকি এই পথ চালু না থাকলে কোনো ধরনের আলোচনা এগোবে না বলেও জানান।   এই দুই ধরনের অবস্থান পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে ট্রাম্পের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।   তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইরান হরমুজ প্রণালিকে তাদের কৌশলগত সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। তাই সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় না করে তারা এই প্রভাবশালী হাতিয়ার ছাড়বে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনায় এই ইস্যুতে কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।   সূত্র – আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দাবি, সরাসরি অস্বীকার ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও মাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরুর দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ‘ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসন’ ও ‘ইউএসএস মাইকেল মারফি’ নামের দুটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তাদের দাবি, প্রণালিতে পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইন অপসারণের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ প্রবেশ বা অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে সেন্টকমের দাবি সঠিক নয়।   তিনি আরও জানান, প্রণালিতে যেকোনো জাহাজের চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে এলো, যখন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, পাকিস্তানে আরও ইরানি উড়োজাহাজ

চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে নতুন দফায় সরাসরি আলোচনা চলছে। আলোচনাটি এখন গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।   মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এই বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি।   সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধিদল কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখালেও মার্কিন প্রধান দাবিগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।   এদিকে আলোচনার মধ্যেই পাকিস্তানে ইরানের আরও কয়েকটি উড়োজাহাজ পৌঁছেছে। এক ঘণ্টার ব্যবধানে সেগুলো একটি সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এই উড়োজাহাজগুলোর আগমনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় সহায়তার জন্য অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ দল আনা হয়েছে।   উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। একটি সমাধানে পৌঁছাতে দুই পক্ষই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
পাকিস্তানকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতি: শান্তির পথে বিশ্ব, নাকি যুদ্ধের নতুন দামামা?

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এখন এক অস্বাভাবিক নীরবতায় ঢেকে আছে। তবে এই নীরবতা স্বস্তির নয়, বরং চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সড়কে সশস্ত্র বাহিনীর টহল, যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ- কার্যত অবরুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশের উচ্চনিরাপত্তা এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেল খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিনের জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ একটাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা।   ঘটনার সূত্রপাত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নিহত হন বলে জানানো হয়। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।   এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়, তেলের দাম বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়।   এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। এখন সেই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।   এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন দেশটির বিশেষ দূত এবং প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।   দুই পক্ষের প্রস্তাবে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর দাবিও রয়েছে। অন্যদিকে ইরান চায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা, পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার বজায় রাখা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়।   এই আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ- ইসলামাবাদ একটি কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে।   তবে সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ইস্যুতে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বললেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে আলোচনা অর্থহীন হয়ে যেতে পারে।   আলোচনার ধরন সরাসরি নয়। দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে অবস্থান করবে এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মধ্যস্থতা করে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।   বর্তমানে সামনে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আলোচনা সফল হলে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হয়ে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যর্থ হলে ২২ এপ্রিলের পর আবারও ভয়াবহ সংঘাত শুরু হতে পারে। তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা বজায় রেখে আলোচনা চলতে পারে।   ইসলামাবাদে চলমান এই আলোচনার প্রতিটি সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। বিশ্বের জ্বালানি বাজার, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকনির্দেশনা—সবই এখন এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
নিজার আমেদি
ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন কুর্দি নেতা নিজার আমেদি

দীর্ঘ পাঁচ মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুর্দি রাজনীতিবিদ নিজার আমেদি। শনিবার দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হলো। পার্লামেন্ট সূত্রে জানা গেছে, প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) মনোনীত প্রার্থী নিজার আমেদি দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটিতে মোট ২২৭টি ভোট পান। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুথান্না আমিন নাদের পেয়েছেন মাত্র ১৫ ভোট। ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর আমেদি ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে নিজার আমেদি বলেন, "দেশের সামনে যে বিশাল চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সে সম্পর্কে আমি পুরোপুরি সচেতন।" তিনি সকল সরকারি বিভাগের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার এবং "ইরাক ফার্স্ট" (ইরাক আগে) নীতিতে অটল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়া সাম্প্রতিক আঞ্চলিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরাকের ওপর হওয়া হামলারও তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ৫৮ বছর বয়সী নিজার আমেদি একজন অভিজ্ঞ আমলা এবং রাজনীতিবিদ। তিনি এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুজন সাবেক প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ইরাকের প্রচলিত ক্ষমতা ভাগাভাগির নিয়ম অনুযায়ী, দেশটির প্রধানমন্ত্রী হবেন শিয়া মুসলিম, স্পিকার হবেন সুন্নি এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন একজন কুর্দি নেতা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এখন সকলের দৃষ্টি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের দিকে। সংবিধান অনুযায়ী, আমেদি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের বৃহত্তম ব্লকের মনোনীত প্রার্থীকে মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর প্রায় ১৫০ দিন ধরে ইরাকে কোনো স্থায়ী সরকার ছিল না। নিজার আমেদির এই নির্বাচন ইরাকের ভঙ্গুর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত নূরী আল-মালিকির নাম নিয়ে ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে ইরাককে একটি স্থিতিশীল সরকার উপহার দিতে কতটুকু সফল হন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
যুদ্ধবিরতি হলেও ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: নেতানিয়াহু

লেবাননে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সংকল্প ব্যক্ত করেন। নেতানিয়াহু লিখেছেন, "আমার নেতৃত্বে ইসরায়েল ইরানের সন্ত্রাসী শাসন এবং তাদের প্রক্সিদের (সহযোগী গোষ্ঠী) বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।" একই পোস্টে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের তীব্র সমালোচনা করেন। এরদোয়ানকে ইরানের প্রতি নমনীয় হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করে নেতানিয়াহু বলেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইরানের পক্ষ নিচ্ছেন এবং কুর্দি নাগরিকদের ওপর 'গণহত্যার' জন্য তিনিই দায়ী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েল যে তাদের আগ্রাসী অবস্থান থেকে সরছে না, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক তিক্ততা এই বার্তার মাধ্যমে আরও প্রকট হয়ে উঠল।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় প্রাদেশিক থেকে ফেডারেল রাজনীতির লড়াইয়ে সিলেটি কন্যা ডলি বেগম

কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গর্ব হিসেবে পরিচিত ডলি বেগম নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের পথে যাত্রা শুরু করেছেন। প্রাদেশিক পর্যায়ে টানা সাফল্যের পর এবার তিনি ফেডারেল রাজনীতিতে নাম লেখাচ্ছেন, যা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট থেকে টানা তিনবার এমপিপি (MPP) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ডলি বেগম ইতোমধ্যেই নিজের নেতৃত্বগুণ ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে তার সক্রিয় ভূমিকা, কমিউনিটির পক্ষে কথা বলা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি দ্রুতই একজন গ্রহণযোগ্য রাজনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।   এবার তার লক্ষ্য কানাডার ফেডারেল সংসদ। আগামী ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নতুন এই চ্যালেঞ্জে অবতীর্ণ হচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে ফেডারেল পর্যায়ে উত্তরণ সহজ নয়, তবে ডলি বেগমের অভিজ্ঞতা ও কমিউনিটি-ভিত্তিক সমর্থন তাকে এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখছে।   ডলি বেগমের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। কলেজে অধ্যয়নকালে স্টুডেন্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটান তিনি। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে মূলধারার রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার ব্যক্তিত্বে রয়েছে সহজ-সরল আচরণ, দৃঢ় মনোভাব এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দক্ষতা যা তাকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।   প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তার জনপ্রিয়তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কমিউনিটির অনেকেই মনে করেন, ডলি বেগম ফেডারেল রাজনীতিতে গেলে প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা তার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে কাজ করছেন।   ব্যক্তিগত জীবনেও ডলি বেগমের সাফল্যের পেছনে রয়েছে পারিবারিক সমর্থন। তার পরিবার, বিশেষ করে তার পিতা, শুরু থেকেই তাকে রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছেন। টরন্টোর বিভিন্ন কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার মতো বহুসাংস্কৃতিক দেশে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর এই অগ্রযাত্রা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি পুরো প্রবাসী সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। তার এই লড়াই সফল হলে তা নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।   সবশেষে বলা যায়, প্রাদেশিক থেকে ফেডারেল রাজনীতিতে ডলি বেগমের এই উত্তরণ শুধু একটি নির্বাচনী লড়াই নয়—এটি একটি স্বপ্ন, একটি প্রতিনিধিত্বের গল্প এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের প্রত্যাশা। এখন চোখ ১৩ এপ্রিলের নির্বাচনের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে এই অগ্রযাত্রার পরবর্তী অধ্যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চরম মতভেদ

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার উদ্দেশ্যে পর্দার আড়ালে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে দুই দেশ এখনও বড় ধরণের দ্বিমত পোষণ করছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ‘সাধারণ সমঝোতা কাঠামো’ (common framework) তৈরির লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পরোক্ষভাবে বার্তার আদান-প্রদান করছে।  পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিযুক্ত তাসনিমের বিশেষ প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আলোচনার টেবিলে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেলেও ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ দাবির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনার অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালী ইস্যু। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে, যা বর্তমানে এক ‘গুরুতর মতভেদে’ রূপ নিয়েছে। বর্তমানে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে গেলেও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো এখনও অনিশ্চিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণ শুরু করল মার্কিন নৌবাহিনী

শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে সমুদ্র মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও প্রণালীটির কিছু অংশে জাহাজ চলাচল এখনো বিপজ্জনক থাকায় এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন' এবং 'ইউএসএস মাইকেল মারফি' বর্তমানে আরব উপসাগরে অবস্থান করছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কর্তৃক পেতে রাখা মাইনগুলো পরিষ্কার করে জলপথটিকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, "আমরা আজ থেকে একটি নতুন এবং নিরাপদ জাহাজ চলাচলের পথ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছি। খুব শীঘ্রই এই নিরাপদ রুটের তথ্য আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক শিল্প সংস্থাগুলোর সাথে শেয়ার করা হবে, যাতে বিশ্ব বাণিজ্য পুনরায় স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে এই পদক্ষেপকে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আমেরিকার একটি "উপহার" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের স্বার্থেই আমেরিকা এই ঝুঁকি গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সিএনএন-এর তথ্যমতে এ পর্যন্ত মাত্র ৩০টির মতো জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে। মাইনের পাশাপাশি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান থাকায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়: উত্তাল লন্ডন

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারী গোষ্ঠী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। শনিবারের এই সমাবেশে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন, যেখানে পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা "আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থক" লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সেন্ট্রাল লন্ডনে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ বেশ কয়েকজনকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে। এমনকি লাঠি হাতে থাকা এক বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকেও পুলিশি পাহারায় সরিয়ে নিতে দেখা যায়। বিক্ষোভের আয়োজক সংস্থা ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ (DOJ) সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যেন অবিলম্বে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার প্রেক্ষাপট: প্যালেস্টাইন অ্যাকশন মূলত একটি সরাসরি অ্যাকশন গ্রুপ, যারা ইসরায়েলি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার এই গোষ্ঠীটিকে 'সন্ত্রাসবাদী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা সমর্থন জানানো দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছরের কারাদণ্ড। আইনি লড়াই ও পুলিশের অবস্থান: চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বেআইনি’ ও ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী’ বলে রায় দিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ের পর শুরুতে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছিল যে, তারা সমর্থনকারীদের গ্রেপ্তার করবে না। কিন্তু গত ২৫ মার্চ পুলিশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়, যা নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কায়সার জোহরা নামে এক অ্যাক্টিভিস্ট আল-জাজিরাকে বলেন, "পুলিশের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ মানুষের সুরক্ষা বা অধিকারের তোয়াক্কা করে না, বরং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নই তাদের মূল কাজ।" আয়োজকদের মতে, শনিবারের এই সংহতি সমাবেশে প্রায় ১,৫০০ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। এদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের করা আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি
সাবেক তিন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানে হামলায় রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন নেতানিয়াহু

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বছরের পর বছর ধরে একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরান আক্রমণের জন্য প্ররোচিত করে আসছিলেন। তবে বারাক ওবামা সহ অন্য প্রেসিডেন্টরা এই যুদ্ধ এড়িয়ে চললেও, কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পই নেতানিয়াহুর সেই বিতর্কিত পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওবামা প্রশাসনের এই শীর্ষ কূটনীতিক জানান, নেতানিয়াহু ওবামা প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিলেন যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। কেরির মতে, নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাথে একটি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা। জন কেরি বলেন, "আমি ও প্রেসিডেন্ট ওবামা যখন ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তির (JCPOA) বিষয়ে আলোচনা করছিলাম, তখন নেতানিয়াহু পর্দার আড়ালে ক্রমাগত যুদ্ধের কথা বলছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরানকে থামানোর একমাত্র পথ হলো সামরিক হামলা।" কেরি আরও যোগ করেন, নেতানিয়াহু কেবল ওবামাকেই নয়, তার পূর্বসূরিদের কাছেও একই দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক উপদেষ্টাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে তা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করত। ফলে ওবামা প্রশাসন সামরিক হামলার বদলে কূটনৈতিক পথকেই বেছে নেয়। তবে চিত্রপট বদলে যায় ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ছিল ওবামা প্রশাসনের ঠিক বিপরীত। কেরি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর নেতানিয়াহু তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পান। ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের সাথে সম্পাদিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন এবং ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আমলে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার মতো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ মূলত নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের প্ররোচনারই প্রতিফলন। জন কেরির এই বক্তব্য বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই "যুদ্ধংদেহী" নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা থেকে খোদ যুক্তরাষ্ট্রও বের হতে পারছে না। কেরির এই স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করল যে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলি লবিং কতটা প্রভাবশালী।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
ইসলামাবাদে শেষ হলো প্রথম দফার ঐতিহাসিক আলোচনা; বরফ গলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কে

দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সফলভাবে সম্পন্ন হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি কূটনৈতিক বৈঠক, যা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রথম দফার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং এর পরিবেশ ছিল বেশ ইতিবাচক। যদিও আলোচনার প্রতিটি বিন্দু অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে, তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে; যেখানে ইসরায়েলি অভিযান কেবল দক্ষিণ লেবাননের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং বৈরুতে আর কোনো হামলা না চালানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।   পাশাপাশি, ইরানের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী তাদের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও প্রাথমিক কিছু অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। যদিও এটি আলোচনার শুরু মাত্র, তবুও দুই দেশের প্রতিনিধিদের পুনরায় নৈশভোজে মিলিত হওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তান সরকারের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও মধ্যস্থতায় এই আলোচনার সফলতার ওপরই এখন নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।   সূত্র: আলজাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ইরানের সাবেক নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমেহ এবতেকার
সাবেক ইরানি ভাইস প্রেসিডেন্টের ছেলের ভিসা বাতিল: ডিপোর্ট করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সাবেক নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমেহ এবতেকারের পরিবারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন যে, মাসুমেহ এবতেকারের ছেলে ঈসা হাশেমি, তার স্ত্রী এবং সন্তানের রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস বা বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই ভিসা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে রুবিও বলেন, যারা আমাদের দেশের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার যোগ্য নয়, তাদের এখানে থাকার অনুমতি দেওয়া কখনোই উচিত ছিল না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈসা হাশেমি ও তার পরিবার বর্তমানে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাসুমেহ এবতেকার ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব। তার পরিবারের ওপর এমন সরাসরি মার্কিন পদক্ষেপ দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: যুদ্ধ বন্ধে প্রধান বাধাগুলো কী?

দীর্ঘদিনের বৈরিতা পেছনে ফেলে অবশেষে আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের এই বৈঠক ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।  আল জাজিরার কূটনৈতিক সম্পাদক জেমস বেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও শান্তি চুক্তির পথে এখনো রয়ে গেছে পাহাড়সম বাধা। আলোচনার মূল ‘স্টিকিং পয়েন্ট’ বা অমীমাংসিত বিষয়গুলো: নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের লড়াই: ইরান চাইছে তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি: তেহরানের স্পষ্ট কথা—অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি না উঠলে কোনো স্থায়ী চুক্তি নয়। তবে ওয়াশিংটন এই ইস্যুতে এখনো ‘ধীরে চলো’ নীতিতে অটল। আঞ্চলিক প্রভাবের দ্বন্দ্ব: ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে দেশ দুটির বিপরীতমুখী স্বার্থ আলোচনার গতিকে ধীর করে দিচ্ছে। কোনো পক্ষই নিজেদের প্রভাব বলয় ছাড়তে রাজি নয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে চলা পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে ইসলামাবাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক যদি সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে কোনো বড় ধরনের ‘ব্রেক-থ্রু’ বা চূড়ান্ত সংবাদের অপেক্ষায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার খবর নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের জব্দকৃত বা ‘ফ্রিজ’ হয়ে থাকা বিশাল অংকের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র অবমুক্ত করতে রাজি হয়েছে—এমন গুঞ্জন জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। বুধবার এক মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরানের সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত নেয়নি জো বাইডেন প্রশাসন। এর আগে আজ দিনের শুরুতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কাতার ও অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে। একজন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল, সম্পদ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ভাষায় তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানান, তেহরানের ওপর আরোপিত আর্থিক বিধি-নিষেধ শিথিল করার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। এই টানাপোড়েনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে রয়েছে। সম্পদ অবমুক্ত করার এই খবরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর।  ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক এই অস্বীকারের পর পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জাতিসংঘের; সংঘাত এড়াতে সংলাপই একমাত্র পথ: গুতেরেস

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি দুই পক্ষকেই ‘সৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার এবং কূটনৈতিক এই সুযোগকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, গুতেরেস বিশ্বাস করেন একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমানো সম্ভব। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংঘাত এড়িয়ে পুনরায় যুদ্ধাবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ।   জাতিসংঘের মহাসচিবের মতে, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী সম্পন্ন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। এদিকে, কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টায় সরাসরি সহায়তা প্রদানের জন্য মহাসচিবের এক ব্যক্তিগত দূত বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0