- প্রচ্ছদ
- বিশ্ব
বিশ্ব
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ দুই বছর পুরোপুরি আড়ালে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক দুই বছর পূর্তিতে আগামী ৫ আগস্ট তিনি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে আসছেন। জানা গেছে, নয়াদিল্লির 'ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া' (এফসিসি সাউথ এশিয়া)-র উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি হাজির হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের রোডম্যাপ তুলে ধরবেন। নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই হাই-ভোল্টেজ ভার্চ্যুয়াল কর্মসূচিতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এফসিসি সাউথ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. ওয়ায়েল আওয়াদের পরিচালনায় এই বৈঠকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এছাড়াও প্যানেলে থাকছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক এবং কাউন্টার-টেররিজম বিশ্লেষক আবু ওবাইদা আরিন। মানবাধিকার প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হবেন 'বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ'-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ও ইউএসএ চ্যাপ্টারের পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ার। সাবেক মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক, ক্রীড়া তারকা এবং মানবাধিকার কর্মীদের একই প্যানেলে নিয়ে আসাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের অবস্থান পুনর্গঠনের এক বড় রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দলটির বহু নেতাকর্মী ভারতে অবস্থান করছেন। বিশ্ব গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শেখ হাসিনা একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন, তেমনি অন্যদিকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি নিজের ওপর ওঠা অভিযোগগুলোর জবাব দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও এটিকে কাজে লাগাতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি চরম মেরুকৃত। একদলীয় শাসন, ২০২৪-এর আন্দোলনে প্রাণঘাতী দমনপীড়ন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কারণে দেশের বড় একটি অংশের কাছে তিনি স্বৈরাচারের প্রতীক। অন্যদিকে, তাকে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ভারতের ওপর ক্রমাগত আইনি ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন যে, জীবন বা গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। মৃত্যুদণ্ডের দণ্ডাদেশ ও দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের বিপরীতে দলীয় অনুসারীদের প্রত্যাশা—এই দুই মেরুর টানাপোড়েনে আগামী ৫ আগস্টের বৈঠকে তিনি ঠিক কী বার্তা দেন, সেদিকেই এখন নজর রাখছে পুরো দক্ষিণ এশিয়া।
প্রায় ২১ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এক তরুণ ফিলিস্তিনির জীবিত থাকার প্রথম প্রমাণ মিলেছে এক ইসরায়েলি সেনার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করা ছবিতে। ছবিটি শনাক্ত করার পর তার পরিবার নিশ্চিত হয়েছে যে, নিখোঁজ হওয়ার পর অন্তত এক সময় তিনি জীবিত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন এবং তাকে কোনো আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রাখা হয়েছে কি না, এসব প্রশ্ন এখনও অজানা। নিখোঁজ তরুণের নাম মাহমুদ আতাল্লাহ আল-দ্রিমলি (২২)। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ছবিতে তাকে চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই নারী ইসরায়েলি সেনার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ছবিটি দেখে তাকে শনাক্ত করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর মাহমুদ গাজা সিটিতে ফেরার চেষ্টা করার সময় নিখোঁজ হন। সে সময় উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে বিভক্তকারী নেতজারিম করিডোরের নিয়ন্ত্রণে ছিল ইসরায়েলি বাহিনী। ছবিটি মাহমুদের জীবিত থাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে এলেও, তার বর্তমান অবস্থান, শারীরিক অবস্থা কিংবা তিনি আটক রয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার পরিবার এবং মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বহু ফিলিস্তিনির নিখোঁজ হওয়া, আটক থাকা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তুলে ধরেছে। মাহমুদ আল-দ্রিমলির ঘটনাও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির সুযোগ পেতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা) পর্যন্ত ফি নেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ফি যুক্ত করা হতে পারে ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ কর্মসূচির সঙ্গে। এই কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর সাধারণত ১ বছর এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে স্নাতকেরা সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থেকে কাজ করার সুযোগ পান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পর্যায়ে আলোচনাধীন। হোয়াইট হাউস চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে কি না, সেটিও এখনও নিশ্চিত নয়। এছাড়া এই অর্থ শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় নাকি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান—কে বহন করবে, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো নীতিকেই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার কথা জানিয়েছে ডিএইচএস। এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভিসা ও অভিবাসন নীতি প্রতিটি দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত হলেও ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরবে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আর্থিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এর ফলে কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে বিপুল আয় করা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এতে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের বহু প্রতিষ্ঠান, যারা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করা বিদেশি মেধাবীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে, তারাও দক্ষ কর্মী নিয়োগে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি বৈধ অভিবাসন ও শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা বিধি, অবস্থানের সময়সীমা এবং কর্মসংস্থানের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই প্রস্তাবকে সেই বৃহত্তর অভিবাসন নীতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসি শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা কোনো অপরাধ নয় বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে জার্মানির একটি উচ্চতর আদালত। নাগরিকের বাকস্বাধীনতার অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে এক নারীকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং জার্মানির আইন বিষয়ক খবরের ওয়েবসাইট বেক অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। অভিযুক্ত নারী তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে নাৎসি শাসনামলের অপরাধের তুলনা করে একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে নাৎসিদের ব্যবহৃত স্বস্তিকা চিহ্ন এবং নাৎসি পার্টির পতাকার ছবি যুক্ত কিছু গ্রাফিক্স ব্যবহার করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া অন্য একটি পোস্টে একটি দেয়ালচিত্রের ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ডেভিড তারকার মাঝে স্বস্তিকা চিহ্ন আঁকা ছিল। চিত্রে দেয়ালের ওপর থেকে সৈন্যদের গুলি ছোঁড়ার দৃশ্য এবং নিচ দিয়ে রক্ত বয়ে যাওয়ার ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। পোস্টগুলোতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং গাজায় সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছিল। জার্মানির সংবিধানে নিষিদ্ধ বা অসাংবিধানিক সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগে দেশটির লুদভিগসহাফেন শহরের একটি নিম্ন আদালত ওই নারীকে ২ হাজার ৪০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড দেয়। নিম্ন আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাইব্রুকেনের একটি উচ্চতর আঞ্চলিক আদালতে মামলাটির শুনানি হয়। আপিল শুনানির পর জাইব্রুকেনের উচ্চতর আঞ্চলিক আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া ওই দণ্ড আদেশ পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অসাংবিধানিক সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের যে আইনি বাধা রয়েছে, এই ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। কারণ সংশ্লিষ্ট নারী কোনো নিষিদ্ধ আদর্শের প্রচার বা উসকানি দিতে এটি করেননি; বরং ইসরায়েল রাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে বাকস্বাধীনতার অংশ হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
পেরুর বিখ্যাত নাজকা লাইনস ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে উড়ে যাওয়া একটি পর্যটকবাহী ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন ইউরোপীয় পর্যটক এবং দুজন পেরুর বিমানচালক ও সহকারী বিমানচালক রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১ আগস্ট) দক্ষিণ পেরুর নাজকা অঞ্চলের একটি মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। পেরুর প্রতিষ্ঠান অ্যারোডিয়ানার পরিচালিত সেসনা গ্র্যান্ড ক্যারাভান উড়োজাহাজটি নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে দর্শনীয় ভ্রমণে ছিল। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানটি জরুরি পরিস্থিতির সংকেত পাঠায়। এরপর নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরে সেটি বিধ্বস্ত হয়। পেরুর পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন ইতালির নাগরিক, দুজন স্পেনের এবং দুজন জার্মানির নাগরিক ছিলেন। এছাড়া নিহত হয়েছেন বিমানটির পাইলট আমেরিকো সালাজার এবং কো-পাইলট ইরেঙ্কা গুয়ানিলো দেল কার্পিও। দুর্ঘটনায় বিমানের আরোহীদের কেউই বেঁচে যাননি। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি নাজকা লাইনসের কাছাকাছি একটি এলাকায় ভূপাতিত হওয়ার পর আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছালেও আগুন এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নাজকা লাইনস পেরুর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অঙ্কিত বিশাল আকৃতির বিভিন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ ও জ্যামিতিক নকশা মূলত আকাশপথ থেকেই স্পষ্টভাবে দেখা যায়। প্রতি বছর প্রায় এক লাখ পর্যটক এসব রহস্যময় ভূচিত্র দেখতে সেখানে যান। পেরুর প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। পেরুর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কমিশন যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। একই সঙ্গে অ্যারোডিয়ানার পরিচালিত দর্শনীয় ফ্লাইটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগেও নাজকা লাইনস এলাকায় ছোট পর্যটকবাহী বিমানের একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে এই অঞ্চলে পরিচালিত দর্শনীয় ফ্লাইটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্কটল্যান্ডের ওয়েস্টার রসে হাঁটতে বেরিয়ে হাজারো মৌমাছির ঝাঁকের হামলার শিকার হন এক মা ও তার দুই বছরের ছেলে। শরীরে ১৫০টিরও বেশি হুল ফোটার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দুজনকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার এক বছর পরও তারা মানসিক আঘাত থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মৌচাক স্থাপনের নিয়ম কঠোর করার দাবিও উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস ও পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৯ জুন স্কটল্যান্ডের ওয়েস্টার রসের পুলিউয়ে এলাকায় হাঁটছিলেন রোজি কার্কনেস ও তার দুই বছরের ছেলে জেমি। পথ দিয়ে একটি গাড়ি যাওয়ার সময় রোজি রাস্তার পাশে সরে দাঁড়ান। সেখানেই ছিল কয়েকটি মৌচাক, যেখানে মৌপালকেরা কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মাথায় একটি মৌমাছি অনুভব করেন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে তার হাত ও শরীর মৌমাছিতে ঢেকে যায় এবং ঝাঁকের আক্রমণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতির মধ্যে ছেলেকে নিয়ে কাছের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন রোজি। বাড়ির মালিক তাদের ভেতরে নিয়ে যান। পরে তিনি রোজির মা সুসান কার্কনেসকে জানান, রাস্তার পাশে ছোট্ট জেমিকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত মৌমাছিতে ঢেকে থাকতে দেখার দৃশ্য তিনি কোনো দিন ভুলবেন না। সাহায্য করতে গিয়ে ওই ব্যক্তিও মৌমাছির হুলের শিকার হন। বাড়ির ভেতরে গোসলের পানিতে শরীর থেকে মৌমাছি সরানোর চেষ্টা চলাকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জরুরি সেবাকর্মীরা। এক পর্যায়ে শিশুটি গলায় আটকে থাকা মৌমাছির কারণে বমি করতে শুরু করে। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মা ও শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাদের কিডনির জটিলতা, বিষক্রিয়াজনিত পেশির খিঁচুনি, তীব্র ফোলাভাব এবং ত্বকের সংক্রমণের চিকিৎসা দিতে হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও পড়েছে তাদের জীবনে। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে মা ও ছেলে দুজনই পরবর্তীতে আঘাত-পরবর্তী মানসিক চাপজনিত সমস্যায় (পিটিএসডি) আক্রান্ত হন। রোজি আগে থেকেই কিছু অ্যালার্জির কারণে জরুরি ইনজেকশন সঙ্গে রাখতেন। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে মৌমাছির হুল আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। রোজির মা সুসান কার্কনেস এই ঘটনাকে "ভয়ের চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো" বলে বর্ণনা করেছেন। ঘটনার প্রায় এক বছর পর তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টে একটি আবেদন জমা দেন। সেখানে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত মৌচাক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা, বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং জনপথ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে মৌচাক রাখার বিধান চালুর দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনে সুসান অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় মৌপালকেরা মৌচাকে কাজ করলেও সেখানে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল না। মৌমাছিগুলো উত্তেজিত হয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করলে তার মেয়ে ও নাতি হামলার মুখে পড়েন। তিনি আরও দাবি করেন, মৌপালক তার মেয়ের চিৎকার শুনলেও সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মৌপালকের কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি। এদিকে স্কটিশ মৌপালক সমিতি জানিয়েছে, জনপথ বা শিশুদের চলাচলের কাছাকাছি মৌচাক না রাখাই নিরাপদ। পাশাপাশি স্কটিশ সরকার বলেছে, মৌমাছির কারণে জনসাধারণের ক্ষতি বা ঝুঁকি সৃষ্টি হলে বিদ্যমান আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিয়নের এক বহুল আলোচিত বিতর্কে ইসলামবিরোধী একটি প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সদস্যদের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বিতর্কে প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন কট্টর ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক ভাষ্যকার লরেন্স ফক্স। অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি, গাজার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম শিক্ষার্থী আরওয়া এলরায়েস এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগ। গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামের প্রতি সন্দিহান হওয়া উচিত।’ দীর্ঘ আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর শেষে সদস্যদের ভোটে ৩৩–৩০ এবং চেম্বারের ভোটে ৫৭–৪১ ব্যবধানে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। বিতর্কে টমি রবিনসন ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় উদ্ধৃতি তুলে ধরে দাবি করেন, ইসলাম অন্য ধর্মের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে উৎসাহিত করে না। এর জবাবে আরওয়া এলরায়েস বলেন, ধর্মীয় গ্রন্থের বক্তব্যকে প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ছাড়া উদ্ধৃত করলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও আচরণের প্রতিফলন হিসেবে দেখানো ন্যায়সঙ্গত নয়। তিনি বলেন, সন্দেহের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই সব উগ্রবাদী গোষ্ঠী, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সহিংসতা ছড়ায়—কোনো ধর্ম বা তার অনুসারীরা নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মুসলমানরাও সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে থাকেন এবং অনেক মুসলিম নারীও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তার বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে উপস্থিত দর্শকদের করতালি ও সমর্থন দেখা যায়। অন্যদিকে লরেন্স ফক্স বিতর্কে দাবি করেন, ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি ‘যুদ্ধযন্ত্রের’ মতো। এর প্রতিবাদ করে আরওয়া এলরায়েস কোরআনের ধর্মীয় সহনশীলতা, ন্যায়বিচার এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আচরণ সম্পর্কিত শিক্ষার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি ধর্মকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে মূল ধর্মীয় শিক্ষা ও বৃহত্তর অনুসারীদের বাস্তব অবস্থান বিবেচনা করা উচিত। বিতর্কে সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগও ইসলামবিরোধী প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কিছু চরমপন্থীর কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে দায়ী করা যায় না। তার মতে, যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং একটি ধর্মকে সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখার যৌক্তিক ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভয়ের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা শরিয়া আইন ব্রিটিশ আইনের বিকল্প হয়ে উঠবে—এ ধরনের আশঙ্কার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কগুলো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক এই বিতর্কের ভিডিও ও বিশেষ করে আরওয়া এলরায়েসের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তার উপস্থাপিত যুক্তি, পাল্টা প্রশ্ন এবং বিতর্ক পরিচালনার ধরন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে অন্তত একজন অভিভাবক হারানো ১০০ শিশু দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আয়োজিত ৫০০ মিটারের একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। যুদ্ধে অনাথ হয়ে পড়া শিশুদের মানসিকভাবে সাহস জোগানো এবং সমাজের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতাটি শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; বরং যুদ্ধের মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে শিশুদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরির একটি প্রচেষ্টা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও সামাজিক কার্যক্রমও রাখা হয়। অংশগ্রহণকারী শিশুদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, যুদ্ধ তাদের জীবন আমূল বদলে দিয়েছে। অনেক শিশু বাবা, মা অথবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে। তবুও দৌড়ে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে যায়নি। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বহুবার সতর্ক করেছে, গাজায় যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার শিশু এতিম হয়েছে বা পরিবারের প্রধান অভিভাবককে হারিয়েছে। এসব শিশুর জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবারও জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাতে খান ইউনিসসহ গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং শিশুদের বড় একটি অংশ শিক্ষা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই বাস্তবতায় আয়োজকেরা বলছেন, এমন সামাজিক উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হামাসকে অর্থ, খাদ্য ও অন্যান্য রসদ সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুরস্কের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ হাসনা একটি ভুয়া আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে হামাসের জন্য অর্থ ও সরঞ্জাম সংগ্রহে কাজ করতেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা প্রদান, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে বিচার হবে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তত ২০২৩ সাল থেকে হাসনা হামাসের শীর্ষ নেতা গাজী হামাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন উপায়ে সংগঠনটির জন্য অর্থ, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহে ভূমিকা রাখেন বলে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে নিজের কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি হামাসের জন্য সহায়তা সংগ্রহ ও স্থানান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই মামলাটিও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউতা আবারও ইউরোপের অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মরক্কো থেকে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্র সাঁতরে, রাবারের টিউব ব্যবহার করে এবং স্থলসীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ঢলে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজিরবিহীন মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সিউতা আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত হলেও এটি স্পেনের অংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত। ফলে সেখানে পৌঁছাতে পারলেই ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন বিশ্বাস বহু বছর ধরেই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের আকৃষ্ট করে আসছে। তবে এবারের ঢল অতীতের অনেক ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। মরক্কোর অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা আগেই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মানবপাচারকারী চক্র বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালায় যে, সিউতায় পৌঁছাতে পারলে স্পেন আর দ্রুত কাউকে ফেরত পাঠাতে পারবে না। এই তথ্যের সত্যতা না থাকলেও হাজারো মানুষ সেই প্রচারণায় বিশ্বাস করে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামেন। স্পেনের একটি আদালতের সাম্প্রতিক রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এই গুজব আরও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক অভিবাসী মনে করেন, সীমান্ত অতিক্রম করতে পারলেই তারা ইউরোপে থেকে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বাস্তবে স্পেন সরকার জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রত্যেক অভিবাসীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের অনেককেই মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বও পালন করা হবে। একই সঙ্গে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবপাচারকারী চক্রের কার্যক্রম বন্ধ না হলে মানুষ জীবন বাজি রেখে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েই যাবে। সিউতার সাম্প্রতিক সংকট আবারও দেখিয়ে দিল, ইউরোপের অভিবাসন সমস্যা শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি মানবিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য অভিবাসনের মূল কারণগুলো মোকাবিলা এবং বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ এখন শুধু ভাড়া পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন বলে আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আবাসন বাজার, সংক্রান্ত বিশ্লেষণ ও ভাড়ার তথ্য অনুযায়ী, সিডনি, ব্রিসবেন, পার্থসহ বড় শহরগুলোতে ভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে সাপ্তাহিক মধ্যম ভাড়া গত পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে শূন্য বাসার হার খুবই কম থাকায় ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। উচ্চ সুদের হার, নতুন আবাসন নির্মাণের ধীরগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভাড়ার জন্য পর্যাপ্ত বাড়ির সংকট বাজারকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে। ফলে অনেক পরিবারকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি শুধু বাড়িভাড়ার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে, যা জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ সামলানো কঠিন করে তুলছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে বিনিয়োগ সম্পর্কিত কর নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী নতুন ভাড়ার সম্পত্তি কেনা থেকে সরে আসছেন বলে আবাসন খাতের পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তাদের মতে, এতে ভাড়ার জন্য নতুন বাড়ির সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নয়, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নতুন আবাসন নির্মাণ, ভাড়ার বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদের জন্য কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। অন্যথায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও আবাসন–সংকট দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত এক শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে এবং তার প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তবে ঘটনার জেরে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এক নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে গত ২৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে, তা গোটা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিপথগামী তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শুধু আমাকে নয়, আমার প্রয়াত মাকেও তারা অপমান করেছে।” ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, “গালিগালাজ করে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। আসুন, বিপথগামীদের সঠিক পথ দেখাই। সবাই মিলে ভারতের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করি।” তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের পক্ষে নন বলেও জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, তরুণ বয়সে মানুষ ভুল করতে পারে এবং সেই ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকা উচিত। মোদি বলেন, “সমাজে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা আমি বুঝি। কিন্তু এই তরুণদের দূরে ঠেলে দেওয়া বা আদালতে টেনে হয়রানি করা কোনো সমাধান নয়। এরা আমাদেরই সন্তান। ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব।” ভিডিও বার্তায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিও তাদের প্রতি সহনশীল ও উদার মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানান। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নোয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে শান্তিভঙ্গের উসকানি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মানহানির বিষয় রয়েছে। পরে জিরো এফআইআরের বিধান অনুযায়ী মামলাটি তদন্তের জন্য দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনের আয়োজক সংগঠন। সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ব্যবহৃত ভাষার শালীনতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং আইন প্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্ষমার আহ্বানও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
উত্তর আফ্রিকার স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটের পর স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত মুক্ত ভ্রমণব্যবস্থার সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্পেন এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করছে। তবে স্পেন সরকার ইতালির এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। মাদ্রিদের দাবি, শেনজেন চুক্তির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করে ঘটনাটিকে দেশের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তাদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে। এ কাজে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। ইতালির অভিযোগ, স্পেনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ মানবপাচারকারী চক্রকে আরও উৎসাহিত করেছে। তবে স্পেন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংকট মোকাবিলায় সেউতা সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে স্পেন। একই সঙ্গে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও সীমান্ত এলাকায় টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নতুন করে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সময় পদদলিত হওয়া এবং পানিতে ডুবে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মরক্কোর অংশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সেউতা ও মেলিলা আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই দুটি অঞ্চল অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি গত কয়েক দশকের অন্যতম বড় সীমান্ত সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেনজেন চুক্তির আওতায় সাধারণভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ সীমান্তে পাসপোর্ট পরীক্ষা বা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে জননিরাপত্তা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাময়িকভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহালের সুযোগ পায়। ইতালির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই বিধানের আওতায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও ইউরোপীয় মহলে আলোচনা চলছে।
রাশিয়ায় অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ২১ বছর বয়সী এক মডেল কারাদণ্ড এড়িয়েছেন। তবে আদালত তাকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং তিন বছরের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার ও অনলাইনে উপস্থিত থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মস্কোর একটি আদালত সোফিয়া ভারশিনিনা নামের ওই মডেলকে অনলাইনে যৌনস্পষ্ট কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। রুশ আইনে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় তথাকথিত ‘ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ’ রক্ষার নীতির অংশ হিসেবে অবৈধ পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে এই মামলার বিচার হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে আদালতে অভিযোগ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করায় সোফিয়া ভারশিনিনাকে তিন বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে যাচ্ছেন না। তবে আদালতের নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে এই স্থগিত দণ্ড কার্যকর হতে পারে। রায়ের অংশ হিসেবে তাকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন বছর তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না এবং অনলাইনে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা বা উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ফলে তার অনলাইনভিত্তিক আয়ের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাবে। রুশ প্রসিকিউটরদের দাবি, সোফিয়া ভারশিনিনা অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বিক্রি করে চার লাখ ডলারের বেশি আয় করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একটি জনপ্রিয় সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি টেলিগ্রামেও অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তিগত কনটেন্ট সরবরাহ করতেন। তদন্তের সময় জব্দ করা তার আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স এখনো তদন্ত সংস্থার হেফাজতে রয়েছে। তবে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রীর কিছু অংশ পরে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সোফিয়া ভারশিনিনা একমাত্র নন। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ায় অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে আরও কয়েকজন মডেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ বছর বয়সী ডায়ানা শুরিগিনার বিচারও চলছে। একই অভিযোগে আনাস্তাসিয়া ওভসিয়ানিকোভা নামের আরেক কনটেন্ট নির্মাতাকেও আটক করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ায় অবৈধ পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে আইন বহুদিন ধরেই কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের মামলার সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তথাকথিত ‘ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ’ বাস্তবায়নের নীতির অংশ হিসেবে অনলাইন কনটেন্টের ওপর নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে।
ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেপলসের উপকণ্ঠে ৪ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে (১৭:৪৬ জিএমটি) এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে নেপলস ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, সাময়িকভাবে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি ভবনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলক্যানোলজি (আইএনজিভি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নেপলসের পশ্চিমে অবস্থিত কাম্পি ফ্লেগ্রেই আগ্নেয়গিরি অঞ্চল। ভূগর্ভের মাত্র ৩ কিলোমিটার গভীরে এর কেন্দ্রস্থল হওয়ায় কম্পনটি বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়। ইতালীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতেও বাসিন্দাদের আতঙ্কিত অবস্থায় বাইরে জড়ো হতে দেখা গেছে। ইতালির ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কয়েকটি ভবনে ফাটল ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া কাউকে উদ্ধারের জন্য জরুরি সহায়তার আবেদন আসেনি। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ভবনগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তার স্বার্থে নেপলসের কিছু রেলপথ ও মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে সেবা চালু করার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। কাম্পি ফ্লেগ্রেই ইউরোপের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি অঞ্চলগুলোর একটি এবং এটি একটি সুপারভলকানো হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছরে সেখানে ভূকম্পন ও ভূত্বকের অস্বাভাবিক নড়াচড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে ইতালির ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই ঘটে। তবে এবারের মতো শক্তিশালী কম্পন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকের ভূমিকম্পের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময়ের ধারাবাহিক ভূকম্পনের কারণে হাজার হাজার মানুষকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছিল। ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে ইতালির অতীতেও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৬ সালে মধ্য ইতালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এরও আগে ১৯৮০ সালে দক্ষিণাঞ্চলের এরপিনিয়া অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হন এবং শত শত শহর ও গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দাদার ৫৬ লাখ ডলারের সম্পত্তি থেকে প্রায় ১০ লাখ ডলার দাবি করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী টিয়ানা বার্লো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলস সুপ্রিম কোর্ট তাকে মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে বিচারক এলিজাবেথ পেডেন মন্তব্য করেন, টিয়ানার দাবিতে ‘অযৌক্তিক অধিকারবোধ’ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রকাশিত আদালতের নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, টিয়ানার দাদা টেরেন্স বার্লো ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। এরপর তিনি পারিবারিক সম্পত্তিতে অতিরিক্ত অংশ পাওয়ার দাবিতে মামলা করেন। তার দাবি ছিল, দাদা তার কাছে কেবল দাদা ছিলেন না, বরং বাবার মতো দায়িত্ব পালন করেছেন। সে কারণেই দাদার সম্পত্তি থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। মামলায় টিয়ানা আদালতের কাছে দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার, নতুন গাড়ি কেনার জন্য ৫৫ হাজার ৫০০ ডলার, আগের গাড়ির ঋণ পরিশোধে ১১ হাজার ১২৭ ডলার, ভবিষ্যতে আইভিএফ চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচ হিসেবে ১০ হাজার ডলার এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়ের জন্য আরও ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার চেয়েছিলেন। টেরেন্স বার্লোর মোট সম্পত্তির মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে সিডনির বুরানিয়ারে অবস্থিত সমুদ্রতীরবর্তী পারিবারিক বাড়িটির মূল্য ছিল প্রায় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া শোল বে এলাকায় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রের বাড়ির মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ ডলার। আদালতে টিয়ানা দাবি করেন, সম্পত্তির পরিমাণ এত বেশি যে পরিবারের সবাইকে দেওয়ার পরও তার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকবে। শুনানিতে উঠে আসে, টিয়ানার মা ১৭ বছর বয়সে তাকে জন্ম দেন। জীবনের প্রথম কয়েক বছর তিনি দাদা-দাদির সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন। পরে মায়ের সঙ্গে থাকলেও ১৫ বছর বয়সে আবার দাদার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং এরপর থেকেই সেখানে ভাড়ামুক্তভাবে বসবাস করছিলেন। এই সময়ে টিয়ানা একাধিক হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করান। আদালতে জানানো হয়, তার চিকিৎসার বিভিন্ন খরচ বহন করেছিলেন দাদা টেরেন্স এবং দাদি ফে মেরি বার্লো। স্কুলের ফি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়েও তারা সহায়তা করেছিলেন। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা টিয়ানার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, টেরেন্স একজন স্নেহশীল দাদার দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু কখনোই অভিভাবকের ভূমিকা নেননি। বিচারক এলিজাবেথ পেডেন রায়ে বলেন, টিয়ানা দীর্ঘদিন দাদা-দাদির কাছ থেকে থাকার জায়গা, খাবার, পোশাক ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। তবে এসব ছিল একজন দাদার স্বাভাবিক উদারতা। এতে বাবা-মেয়ের মতো সম্পর্কের প্রমাণ মেলে না। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, টিয়ানা দাদার বাড়িতে দীর্ঘদিন ভাড়ামুক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই সময়ে তার অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় খরচের পরিবর্তে তিনি আয়ের বড় অংশ ব্যক্তিগত ও বিলাসী ব্যয়ে ব্যয় করেছেন। মামলার সময় টিয়ানা একটি প্রতিষ্ঠানে স্টোর ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পান। আদালতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, তার মাসিক আয় ছিল ৪ হাজার ৩৪২ ডলার। তবে তিনি দাবি করেন, মাসিক ব্যয় আয়ের চেয়ে প্রায় ৫৬৭ ডলার বেশি। তার ব্যয়ের তালিকায় প্রতি মাসে খাবার ও পানীয়ের জন্য ১ হাজার ডলার, কেনাকাটা ও ব্যক্তিগত ব্যয়ে ১ হাজার ৫০০ ডলার, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ৫৩০ ডলার এবং বিনোদনে ৩০০ ডলার দেখানো হয়েছিল। বিচারক এসব হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে টিয়ানার ব্যয়ের হিসাব বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। যেমন শুরুতে তিনি গণপরিবহনে সপ্তাহে ১০০ ডলার ব্যয়ের কথা বললেও পরে সেটি ব্যাখ্যা ছাড়াই মাসে ৯০০ ডলারে উন্নীত করেন। একইভাবে চিকিৎসা ব্যয়ের দাবিও আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রমাণে সমর্থিত হয়নি। ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার জন্য আইভিএফ চিকিৎসার সম্ভাব্য ব্যয় হিসেবে ১০ হাজার ডলার চাওয়ার দাবিও আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের মতে, ভবিষ্যতে এমন চিকিৎসার প্রয়োজন হবে, তা প্রমাণ করার মতো কোনো তথ্য টিয়ানা উপস্থাপন করতে পারেননি। রায়ে বিচারক আরও বলেন, শুনানির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিয়ানা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে গেছেন। পরে এসে তিনি নিজেই তার দাবির পরিমাণ কমিয়ে আনেন। এতে বোঝা যায়, মামলার শুরুতে করা দাবিগুলো বাস্তবসম্মত ছিল না। সব দিক বিবেচনা করে আদালত টিয়ানাকে সম্পত্তি থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিচারক মন্তব্য করেন, টিয়ানা আর্থিকভাবে অসহায় নন। তার স্থায়ী চাকরি রয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোনো বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার প্রমাণও আদালতে পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আটলান্টিক উপকূলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাদা হাঙরের চলাচল নতুন করে গবেষকদের নজর কেড়েছে। প্রায় ১৪ ফুট দীর্ঘ ও ১ হাজার ৬৫০ পাউন্ডের বেশি ওজনের এই পুরুষ সাদা হাঙরের নাম ‘কনটেন্ডার’। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলে হাঙর দেখা যাওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি হাঙর প্রজাতির স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র বদলে যাচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওশার্চ (Ocearch) জানায়, কনটেন্ডার আটলান্টিক মহাসাগরে এখন পর্যন্ত উপগ্রহ যন্ত্র বসানো সবচেয়ে বড় পুরুষ সাদা হাঙর। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এর পৃষ্ঠপাখনায় স্যাটেলাইট ট্যাগ সংযুক্ত করা হয়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর বয়সী এই হাঙর প্রতি বছর মৌসুমি অভিবাসনের অংশ হিসেবে ফ্লোরিডা থেকে কানাডা পর্যন্ত যাতায়াত করে। চলতি বছরের ১১ জুলাই সর্বশেষ কানাডার নোভা স্কশিয়া উপকূলে এর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে উত্তর ক্যারোলাইনা ও মেইনের কাছেও একাধিকবার এর অবস্থান ধরা পড়ে। কনটেন্ডারের এই যাত্রাপথ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সমুদ্রসৈকতে হাঙর দেখা যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। শুধু জুলাই মাসেই নিউইয়র্ক সিটির রকঅ্যাওয়ে সৈকতের আশপাশে ১৬ বার হাঙর দেখা গেছে। এতে অনেক পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দার মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঙর দেখা যাওয়ার সংখ্যা বাড়লেও মানুষের ওপর হামলার ঝুঁকি এখনও খুবই কম। ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক শ্যানন ব্যারি বলেন, সমুদ্রের পানি উষ্ণ হওয়ার কারণে হাঙরের অনেক প্রজাতি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে চলে যাচ্ছে। তার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বুল হাঙরও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ধরে আগের তুলনায় আরও উত্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব হাঙর নদীর মোহনা ও স্বল্প লবণাক্ত পানিতেও সহজে চলাচল করতে পারে। ফলে যেসব এলাকায় মানুষ সাঁতার কাটেন বা মাছ ধরেন, সেখানে মানুষ ও হাঙরের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে গবেষকদের মতে, এ পরিবর্তনকে আতঙ্কের চেয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান প্রভাব হিসেবে দেখা উচিত। গত মাসে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপের প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্র শোষণ করে নিচ্ছে। এর সঙ্গে চলমান এল নিনো পরিস্থিতিও সমুদ্রকে আরও উষ্ণ করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ হাঙর ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলে। তাই সমুদ্র উষ্ণ হলে তারা নতুন এলাকায় চলে যেতে পারে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বড় সাদা হাঙরের জন্যও সমস্যা তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, অতিরিক্ত উষ্ণ পানিতে এ ধরনের হাঙরের শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে প্রাণঘাতী ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ মাসেই ফ্লোরিডার একটি সৈকতে এক ব্যক্তি হাঙরের কামড়ে আহত হন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন এমন ঘটনা ঘটলেও বিশ্বজুড়ে হাঙরের আক্রমণ এখনও অত্যন্ত বিরল। গত বছর বিশ্বে উসকানিবিহীন হাঙরের কামড়ের ঘটনা ছিল মাত্র ৬৫টি, যার মধ্যে ২৫টি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে প্রতি বছর মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রায় ১০ কোটি হাঙর মারা যায়। মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে কিংবা খাদ্য, খেলাধুলা ও হাঙরের পাখনার বাণিজ্যের জন্য বিপুলসংখ্যক হাঙর নিধন করা হয়। গবেষকদের মতে, সমুদ্রে হাঙরের উপস্থিতি সাধারণত একটি সুস্থ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের লক্ষণ। কারণ খাদ্যশৃঙ্খল স্বাভাবিক থাকলেই শীর্ষ শিকারি হিসেবে হাঙরের সংখ্যা টিকে থাকে। শার্ক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নিল হ্যামারশলাগ বলেন, সংরক্ষণ কার্যক্রম ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার কারণে এখন অনেক এলাকায় হাঙর সহজে শনাক্ত হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবেও তারা এমন সব অঞ্চলে যাচ্ছে, যেখানে আগে খুব কম দেখা যেত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কেপ কডের আরও উত্তরে এখন টাইগার হাঙর দেখা যাচ্ছে, যা আগে ছিল অত্যন্ত বিরল। তিনি আরও বলেন, হাঙরের ভয়ে সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। কারণ হাঙর সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলতে চায়। তবে সমুদ্রে নামার সময় কিছু সতর্কতা মানা উচিত। যেমন চকচকে গয়না না পরা, সন্ধ্যার সময় বা মাছের অস্বাভাবিক চলাচল দেখা গেলে পানিতে না নামা। তার ভাষায়, মানুষ সমুদ্রের স্থায়ী বাসিন্দা নয়, বরং অতিথি। আর হাঙরের জন্য সমুদ্রই তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল।
উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনায় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে প্রবেশ করা অধিকাংশ অভিবাসী স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে যেতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেউতায় স্পেন সরকারের প্রতিনিধি জানান, স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রম করা ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যেই ফিরে গেছেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সীমান্ত অতিক্রম করা প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জন মরক্কোতে ফিরে যান। তবে সেউতার স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাসের দাবি, গত দুই দিনে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন। স্প্যানিশ কর্মকর্তারা জানান, সেউতার সীমান্ত এলাকায় ৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্তের স্প্যানিশ অংশে এসব মরদেহ পাওয়া গেলেও মরক্কোর অংশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের ঢেউ প্রতিরোধক বাঁধ ও কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকে পানিতে ডুবে এবং পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান। নতুন করে কেউ যাতে সেউতায় প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা চালায়। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে সীমান্তে জড়ো হওয়া মানুষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। অন্যদিকে স্পেন সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে সামরিক যান মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করে। রয়টার্সের প্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকায় দেখতে পান, শত শত মানুষ মরক্কোর দিক থেকে স্পেনের সীমান্তের দিকে তাকিয়ে থাকলেও নিরাপত্তা কড়াকড়ির কারণে আর এগোতে পারছিলেন না। অনেককে সীমান্ত ফটক ও বেড়ার পাশ দিয়ে আবার মরক্কোতে ফিরে যেতে দেখা যায়। ফিরে যাওয়া কয়েকজন অভিবাসী জানান, সেউতায় পৌঁছেও তারা খাবার বা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তাঞ্জিয়ার থেকে আসা এক তরুণ রয়টার্সকে বলেন, কেন সীমান্ত পেরিয়েছিলেন, সেটাই এখন বুঝতে পারছেন না। তিনি জানান, সঙ্গে টাকা থাকলেও দীর্ঘ সময় কিছু খেতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লারাচে শহরের ২০ বছর বয়সী এক তরুণ জানান, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সাঁতার কেটে তিনি সেউতায় পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সেখানে খাবারের সংকট এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মুখে শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছে। ঘটনার পর শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি এ ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মরক্কোর সহযোগিতায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত সেউতা ও মেলিলা স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সীমান্ত এই দুই শহরেই অবস্থিত। বিভিন্ন সময় অভিবাসীরা এখান দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করলেও এবারের অনুপ্রবেশের পরিমাণ সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় বলে বিবেচিত হচ্ছে। এ ঘটনার জেরে ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থার কিছু সুবিধা স্থগিতের ঘোষণা দেয়, যদিও স্পেন দাবি করেছে, এ পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অভিবাসীদের ঢলের কারণ নিয়েও বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ সাম্প্রতিক স্প্যানিশ আদালতের একটি রায়কে এ ঘটনার পেছনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই রায় নিয়ে বিভ্রান্তি ও গুজবও অভিবাসীদের উৎসাহিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া মানবপাচারকারী চক্র এবং মরক্কোর অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও এ সংকটের পেছনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবিক বিবেচনা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতের নীতি হলো, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এই অবস্থান এমন সময়ে জানানো হলো, যখন সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা বা সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তারিখ জানানো হয়নি। এদিকে একই বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে। কমিটির সদস্যদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা সেবা সীমিত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করে ভারত। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ভিসা সেবাও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার অবস্থান, প্রত্যর্পণ অনুরোধ এবং ভিসা কার্যক্রম এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।