পোল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রুশ ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী ও কার্টুনিস্ট সেমিওন স্ক্রেপেটস্কি গুলিতে নিহত হয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রেমলিনপন্থী নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পোলিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী স্ক্রেপেটস্কি সোমবার সকালে পূর্ব পোল্যান্ডের বিয়ালা পোডলাস্কা শহরে হামলার শিকার হন। বেলারুশ সীমান্তের কাছাকাছি ওই শহরের একটি সড়কে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশের মুখপাত্র আন্দ্রে ফিজোলেক জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর একজন বেলারুশ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পোলিশ কর্তৃপক্ষ। স্ক্রেপেটস্কি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে পুতিন, চেচেন নেতা রমজান কাদিরভসহ রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে আসছিলেন। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০২১ সালে তিনি রাশিয়া ছেড়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নেন। জানা গেছে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি জার্মানির বার্লিনে রুশ দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত একটি সরকারবিরোধী সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে তার একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক চিত্রকর্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পর পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইউরোপে অবস্থানরত রুশ ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত খবরকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো অর্থ দেবে না এবং এ ধরনের খবর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে না। তার ভাষায়, “আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে, এমন খবর ভুয়া। এটি ডেমোক্র্যাটরা ছড়িয়ে থাকতে পারে।” তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ইরানের জন্য জব্দকৃত সম্পদ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং সম্ভাব্য পুনর্গঠন সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ওই কর্মকর্তার মতে, প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করছে তার ওপর। এ বিষয়ে সোমবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স সম্ভাব্য তহবিল প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে সহায়তার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের সদস্য দেশগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও এক কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আলোচিত সমঝোতা কাঠামোর খসড়ায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলের একটি সম্ভাব্য ধারা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের সমঝোতা স্মারক, চূড়ান্ত চুক্তি নয়। তাদের মতে, প্রকৃত কারিগরি আলোচনা শুরু হবে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এবং সেখানে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইরান কোনো নগদ অর্থ পাচ্ছে না এবং চুক্তি স্বাক্ষরের বিনিময়ে কোনো সরাসরি তহবিল ছাড় দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, চুক্তির কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগ অগ্রাধিকার পায় এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভবিষ্যতে সীমিত অর্থনৈতিক সুবিধার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মাংসাশী উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ কীভাবে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তার পাতার ফাঁদ বন্ধ করে শিকার ধরে, দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহল ছিল। এবার ফরাসি জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের পদার্থবিদ জংউন রিউ-এর নেতৃত্বে একদল গবেষক সেই রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের গবেষণায় উদ্ভিদটির কোষ প্রাচীরের দ্রুত পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, ফাঁদ সক্রিয় হওয়ার সময় ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ পাতার বাইরের স্তরের কোষ প্রাচীরকে অত্যন্ত দ্রুত নরম করে ফেলে। এই পরিবর্তনের ফলে পাতার বাইরের অংশ ভেতরের তুলনায় বেশি প্রসারিত হয়। এর ফলেই পাতাটি ভেতরের দিকে বেঁকে গিয়ে নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করার পর হঠাৎ স্প্রিংয়ের মতো দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যে এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের ঘটনা আগে কখনো পর্যবেক্ষণ করা যায়নি। গবেষণায় দেখা যায়, স্পর্শের সংকেত পাওয়ার পর ফাঁদটি মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যেই বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। আগের ধারণা অনুযায়ী, পাতার এক পাশ থেকে অন্য পাশে পানি স্থানান্তরের মাধ্যমে এই ফাঁদ বন্ধ হয় বলে মনে করা হতো। তবে নতুন গবেষণায় এই ধারণার দুটি বড় অসংগতি পাওয়া গেছে। প্রথমত, উদ্ভিদের টিস্যুর মাধ্যমে পানি চলাচল অত্যন্ত ধীর গতির প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে ৩০ থেকে ১৫০ সেকেন্ড সময় লাগে। অথচ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের ফাঁদ এক সেকেন্ডের মধ্যেই সক্রিয় হতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, পানি প্রবাহের মাধ্যমে পাতা বন্ধ হলে টিস্যুর ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে বিস্তারের তরঙ্গ দেখা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষায় এমন কোনো তরঙ্গের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই কারণে হাইড্রোলিক তত্ত্বটি বাতিল করেন গবেষকরা। এরপর গবেষকরা ফাঁদ বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে দুটি পৃথক ধাপে ভাগ করেন। প্রথম ধাপ হলো পাতার ভেতরের দিকে ধীরে বাঁকানো প্রক্রিয়া এবং দ্বিতীয় ধাপ হলো মাত্র ০.২ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যাওয়া চূড়ান্ত দ্রুত বন্ধ হওয়া। এই প্রক্রিয়া বোঝার জন্য গবেষকরা একটি ছোট প্রোব ব্যবহার করে পাতার ভেতরের ও বাইরের কোষ প্রাচীরের দৃঢ়তা পরিমাপ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, ফাঁদ বন্ধ হওয়ার সময় পাতার ভেতরের অংশের কোষ প্রাচীর প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। তবে বাইরের পৃষ্ঠের কোষ প্রাচীর প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নরম হয়ে যায়। স্পর্শের সংকেত পাওয়ার পর কোষের ভেতরের তরল চাপ, যাকে টারগর প্রেশার বলা হয়, এই নরম কোষ প্রাচীরের ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে বাইরের অংশ দ্রুত প্রসারিত হয় এবং পাতার দুই পাশের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে, যা ফাঁদ বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফাঁদের ভেতরের সংবেদনশীল লোমে কোনো কীটপতঙ্গ পরপর দুইবার স্পর্শ করলেই এই প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে পাতার দুই পাশের দ্রুত বিস্তারের পার্থক্য তৈরি হয় এবং কীটপতঙ্গ আটকে যায়। গবেষকরা মনে করছেন, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ মূলত উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত কোষ প্রাচীর পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে বিবর্তনের মাধ্যমে শিকার ধরার কাজে অভিযোজিত করেছে। এই অভিযোজনই উদ্ভিদটিকে প্রাণিজগতের মতো দ্রুত শিকার ধরার সক্ষমতা দিয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় মুদ্রা ইয়েনের ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার বাড়িয়ে ১ শতাংশে উন্নীত করেছে। মঙ্গলবার ব্যাংক অব জাপান এই সিদ্ধান্ত নেয়, যা ১৯৯৫ সালের পর দেশটির সবচেয়ে উচ্চ সুদের হার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া আর্থিক নীতি স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হলো। এর আগে গত ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশ করা হয়েছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়, যা পরিচালনা পর্ষদের ৭–১ ভোটে অনুমোদিত হয়। একমাত্র ভিন্নমত দেন বোর্ড সদস্য তোইচিরো আসাদা, যিনি বর্তমান হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেন। সুদের হার বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং ইয়েনের দুর্বলতা উল্লেখ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জাপানের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল ইয়েন আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ০.৪৬ শতাংশ বেড়ে যায়। পাশাপাশি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েন সামান্য শক্তিশালী হয়ে ১৬০.২২ পর্যায়ে পৌঁছায়। দেশটির ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ইল্ডও ৩ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ২.৬১৫ শতাংশে দাঁড়ায়। ব্যাংক অব জাপান জানিয়েছে, তারা প্রতি প্রান্তিকে ২০০ বিলিয়ন ইয়েন করে সরকারি বন্ড কেনা কমাবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ২ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বন্ড কেনা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকার ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতি এখনো ২ শতাংশের নিচে রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার দামে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। মে মাসে জাপানের উৎপাদক মূল্য সূচক ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে। জেপি মরগান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান বাজার কৌশলবিদ তাই হুই বলেন, সুদের হার বৃদ্ধি বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও নীতি প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে ইয়েনের ধারাবাহিক দুর্বলতা নিয়ন্ত্রণে বারবার বাজারে হস্তক্ষেপ করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন টোকিওভিত্তিক বিশ্লেষকরা। মনেক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞ জেসপার কোল বলেন, নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া কেবল বাজারে হস্তক্ষেপ কার্যকর নয়। মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দিতে জাপান সরকার ইতোমধ্যে ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের সম্পূরক বাজেট অনুমোদন করেছে। যদিও কর সংস্কার ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমে ১.৪ শতাংশে নেমেছে, তা মূলত সাময়িক প্রভাব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বৃদ্ধি জাপানের অর্থনীতিতে মূল্য স্থিতিশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও ইয়েনের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘কোনো অর্থ খরচ’ করবে না। এ ধরনের দাবিকে তিনি গুজব ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তিকে ‘যথার্থ’ ও ‘দারুণ’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, গত সপ্তাহে তিনি ইরানের ওপর হামলা চালাতে চাননি। তবে পরিস্থিতির কারণে তাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। ট্রাম্প বলেন, “গত সপ্তাহে আমি তাদের ওপর হামলা করতে চাইনি। কিন্তু আমাদের হামলা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।” ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছি। আমি ওটা মোটেও পছন্দ করিনি।” লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান পরিচালনার ফলে অতিরিক্ত প্রাণহানি ঘটছে। তিনি বলেন, “কাউকে খুঁজে বের করার জন্য প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই ভবনগুলোতে অনেক মানুষ থাকে। তারা সবাই হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত নয়।” ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহ মোকাবিলার বিষয়টি সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার ভাষায়, “আমি হিজবুল্লাহকে সামলানোর বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছি। কারণ আমার মনে হয় তারা এটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।” ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলেও ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি টিকে থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি বহাল থাকবে। তিনি বলেন, “আমি এটিকে একটি ছোট যুদ্ধ মনে করি। ইরান হলো বড় বিষয়। তবে আমাদের জন্য সেখানে একটি ছোট কাঁটার মতো বিষয় রয়েছে, আর সেটি হলো হিজবুল্লাহ।” এর আগে শান্তি চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প জানান, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতোমধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং বহু তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সামরিক অভিযান বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরানি গণমাধ্যমগুলো এই চুক্তিকে ইরানের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। ঘারিভাবাদি বলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরানে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের সামনে পরাজয় ও আত্মসমর্পণ মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের গভীর অবিশ্বাস এখনো কাটেনি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি মূলত উত্তেজনা কমানোর একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে চীন। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গত কয়েক বছরে কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক প্রায় ১২ হাজার ডিগ্রি কর্মসূচি বাতিল করেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি ও এআই-সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার নতুন ডিগ্রি চালু করা হয়েছে। চীনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা কার্যক্রম এই পুনর্গঠনের আওতায় এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ২০০টি নতুন স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এসব নতুন কোর্সের বড় অংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত প্রকৌশল, রোবোটিকস এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের কাছে কলা ও মানবিক বিষয়ের অনেক ডিগ্রি এখন ক্রমেই কর্মসংস্থানের দিক থেকে কম কার্যকর এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিপরীতে ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’সহ নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক ডিগ্রিগুলোকে চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সাংহাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, দুর্বল চাকরির বাজারের কারণে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিছু প্রচলিত ডিগ্রি কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি পণ্য নকশা বা প্রোডাক্ট ডিজাইন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে যেসব কাজের জন্য মানুষের দক্ষতা অপরিহার্য ছিল, এখন তার অনেকটাই এআই দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, “মডেল তৈরি, নকশার প্রাথমিক খসড়া এবং দৃশ্যায়নের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাচ্ছে।” বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক একটি প্রবণতারই অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারত ইতোমধ্যে জাতীয় বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জাতীয় পর্যায়ে এআই শিক্ষা উদ্যোগ চালু করেছে। একইভাবে কাজাখস্তান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জাতীয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে নতুন শিক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে। ইউরোপেও এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্পেন তার ‘ডিজিটাল স্পেন’ কৌশলের অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যেও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন গত বছর জানিয়েছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্যবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। যুক্তরাজ্যের জাতীয় শিক্ষাক্রমের গত এক দশকের সবচেয়ে বড় পর্যালোচনার ফল আগামী বছর প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। ব্রিজেট ফিলিপসন সে সময় বলেছিলেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রম সর্বশেষ হালনাগাদের পর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের প্রস্তুত করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা দিতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়।”
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব এশীয়-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জীয় (এএপিআই) জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্টভাবে পড়েছে বলে নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষ জানিয়েছেন, তারা নিজেরা অথবা তাদের পরিচিত কেউ অভিবাসন-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন। এএপিআই ডাটা এবং দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, অনেক এশীয়-আমেরিকান এখন আর যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসীদের জন্য আগের মতো সুযোগের দেশ বলে মনে করেন না। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, গত এক বছরে তারা বা তাদের পরিচিত কেউ আটক বা বহিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছেন, নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন নথি সঙ্গে বহন শুরু করেছেন, ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন অথবা অভিবাসন উদ্বেগের কারণে দৈনন্দিন রুটিন বদলেছেন। কয়েক মাস ধরে অভিবাসন আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি বৃদ্ধির পর এই ফলাফল সামনে এলো। এর ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জন এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, একসময় যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের জন্য বড় সুযোগের দেশ ছিল, কিন্তু এখন আর তা নেই। মাত্র ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৩ জন এখনো মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের জন্য একটি চমৎকার গন্তব্য। অন্যদিকে ৫ শতাংশের মত, দেশটি কখনোই অভিবাসীদের জন্য আদর্শ সুযোগের জায়গা ছিল না। এএপিআই ডাটার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কার্তিক রামকৃষ্ণান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের গল্প অভিবাসীদের অবদানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। যারা কয়েক দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন, তারাও যখন বলতে শুরু করেন যে এটি আর সেরা দেশ বলে মনে হচ্ছে না, তখন সেটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।” জরিপে দেখা গেছে, বৈধ অভিবাসী বা নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও সাম্প্রতিক নীতিমালার প্রভাব অনুভব করছেন। যদিও বিভিন্ন ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি অভিবাসন-সংক্রান্ত পদক্ষেপ স্থগিত করেছে, তবুও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ কমেনি। আদালত যেসব পদক্ষেপ আটকে দিয়েছে, তার মধ্যে কিছু ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন সীমিত করার উদ্যোগও ছিল। ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এবং বর্তমানে নাগরিকত্ব পাওয়া ২৭ বছর বয়সী খোয়া ত্রান বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি ও তাঁর স্ত্রী এখন নিয়মিত নাগরিকত্ব ও অভিবাসন নথি সঙ্গে রাখেন। তিনি আরও বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভিসা-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশ সফর পিছিয়ে দিতে দেখেছেন। জরিপে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক এমন কাউকে চেনেন, যিনি গত এক বছরে নাগরিকত্ব বা বৈধ অবস্থানের প্রমাণপত্র সঙ্গে বহন করা শুরু করেছেন। এ হার সামগ্রিক এএপিআই জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি। রামাকৃষ্ণনের মতে, অনেক বৈধ অভিবাসী ও স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষও এখন মনে করছেন, তাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জরিপে পরিচয়বোধ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি বলেছেন, তাঁদের পারিবারিক শিকড়, বংশপরিচয় বা পূর্বপুরুষের দেশের পরিচয় তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তুলনায় ৪৪ শতাংশ বলেছেন, ‘আমেরিকান’ পরিচয় তাঁদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাসাচুসেটসের ২২ বছর বয়সী অ্যাবিগেল জেয়রাজ , যার বাবা-মা ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন, বলেন তিনি নিজেকে ‘দক্ষিণ এশীয়-আমেরিকান’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাঁর পরিবার যে সুযোগ পেয়েছে, সেটির মূল্য দেন। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়া সুনহো কোওন বলেন, তিনি কোরীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের জীবন ও সমাজের প্রতিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশ এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মিশ্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর আগে পরিচালিত একটি এপি-এনওআরসি জরিপে সব মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। অনেক উত্তরদাতা বলেছেন, অভিবাসন ও বৈচিত্র্যবিষয়ক চলমান বিতর্ক তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি করেছে।
ফিলিপাইনে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প শুধু প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞই ডেকে আনেনি, দেশটির ভূপ্রকৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিক এক আকাশ জরিপে দেখা গেছে, এই কম্পনের ফলে উপকূলরেখা কয়েকশো মিটার পর্যন্ত সমুদ্রের দিকে এগিয়ে গেছে এবং সমুদ্রতলও উল্লেখযোগ্যভাবে ওপরে উঠে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকশো মানুষ। বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিন্দানাও দ্বীপের কাছে সারাঙ্গানি প্রদেশ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, কয়েকশো কিলোমিটার দূরের ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপেও কম্পন অনুভূত হয়। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভোলকস) জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর সোমবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজারের বেশি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। এই ভয়াবহ কম্পনের পর উপকূলীয় এলাকায় যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তাকে বিজ্ঞানীরা ‘কোস্টাল আপলিফট’ বা উপকূলীয় ভূমি উত্থান হিসেবে বর্ণনা করছেন। ফিভোলকসের প্রাথমিক মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ভূমি প্রায় ২ মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে এসেছে এবং উপকূলরেখা প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত সমুদ্রের দিকে সরে গেছে। সংস্থাটির মতে, ভূমিকম্পের সময় দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত কোটাবাটো খাতের তীব্র নড়াচড়া সারাঙ্গানি ও দাভাও অঞ্চলের বিস্তীর্ণ উপকূলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে সমুদ্রের নিচে থাকা অংশ হঠাৎ করেই ওপরে উঠে আসে। স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা গেছে, অনেক জায়গায় আগে পানির নিচে থাকা প্রবাল এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ফিভোলকস প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উন্মুক্ত সমুদ্রতলে ছড়িয়ে রয়েছে প্রবাল, সি-গ্রাস, মৃত মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। এছাড়া সারাঙ্গানির বারাঙ্গে বুরিয়াস ও গ্ল্যান পৌরসভার মাঝামাঝি এলাকায় উপকূলীয় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে প্রায় দুই মিটার উচ্চতার ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ে একটি বাড়ি ধ্বংস করে এবং সমুদ্রে থাকা ছোট নৌকাগুলোকে ভাসিয়ে তীরে নিয়ে আসে। স্বাধীন বিশ্লেষণেও এই ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের সত্যতা মিলেছে। জিওস্পেশিয়াল বিশ্লেষক সের্জিও অগাস্টো জারডিম ভলকমার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক মানচিত্রে ১৬ মে থেকে ১০ জুনের মধ্যে দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, “এটি এমন একটি ব্যাপক উত্থান, যা আগে খুব কমই দেখা গেছে।” ভূতাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এই অঞ্চলে অসংখ্য ফল্ট লাইন ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর আগে ১৯৭৬ সালে কোটাবাটো খাতের নড়াচড়ার ফলেই মোরো উপসাগরে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল, যাতে প্রায় ৮ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইন সাগরীয় প্লেটের সীমান্ত বরাবর সিসমিক কার্যকলাপের কারণে অতীতে ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী সাতটি ভূমিকম্প এবং ৭ মাত্রার বেশি অন্তত ২৫০টি বড় কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এর সঙ্গে একাধিকবার সুনামির ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্প আবারও প্রমাণ করল—ফিলিপাইনের উপকূলীয় অঞ্চল শুধু তাৎক্ষণিক দুর্যোগের ঝুঁকিতেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তনের মুখেও রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন—চুক্তির চূড়ান্ত শর্তে ইরান আসলে কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, শুধু র্যাটক্লিফ নন—প্রশাসনের আরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও এই চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হ্যাগসেথ গত রোববার ঘোষিত সমঝোতা স্মারকের বেশ কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিপরীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চুক্তি ঘোষণার আগে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা করছেন, তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। র্যাটক্লিফ ও রুবিওর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত করছে—যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা আশা করছে, ইরান শেষ পর্যন্ত তা মেনে নাও নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষায়, “ইরানের প্রকৃত উদ্দেশ্য চুক্তির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে না—গোয়েন্দা তথ্য সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।” তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারই। তার দাবি, এই সমঝোতা স্মারক ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিগত সীমারেখা বজায় রেখেই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। এদিকে, সিআইএ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রোববার স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকের পারমাণবিক শর্তগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ-বাগের গালিবফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। ১৪ দফার এই প্রাথমিক চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, বর্তমান কাঠামোয় ইরান তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছে—যদি না তারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি কঠোর পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হয়। চুক্তির অন্তর্বর্তী শর্ত অনুযায়ী, আলোচনাকালীন সময়ে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন থেকেও বিরত থাকবে। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকালীন মোতায়েন করা সেনা প্রত্যাহার করবে এবং পর্যায়ক্রমে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। তবে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের অবস্থান এবং মার্কিন আলোচকদের দাবি—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট অমিল রয়েছে। তিনি অবিলম্বে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবি জানান। এই সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। চুক্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন ইরান কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। ভবিষ্যতে ওমানসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই নৌপথ পরিচালনার বিষয়ে সংলাপ চালানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে, ৬০ দিনের পর এই প্রণালিতে ট্রানজিট ফি আরোপ করা হতে পারে—যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চুক্তির আরেকটি বিতর্কিত অংশ হলো ইরানের জব্দ বা স্থগিত সম্পদ অবমুক্ত করা। সমঝোতা অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেবে। মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে ‘কাজের ভিত্তিতে অর্থ ছাড়’ মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন—অর্থাৎ ইরান চুক্তির শর্ত মানলে পর্যায়ক্রমে অর্থ ছাড় করা হবে। এছাড়া ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি যৌথ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে সমর্থকদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ইরান পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার না আনলে তা বাস্তবায়িত হবে না। সব মিলিয়ে, ইরান চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এখন নজর আসন্ন আলোচনায় এই মতপার্থক্য কতটা কাটিয়ে ওঠা যায় এবং চূড়ান্ত চুক্তি আদৌ সম্ভব হয় কি না।
হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হেফাজতে ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, সন্দেহভাজনরা হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল। এফবিআই ১০ জুন সম্ভাব্য এই ষড়যন্ত্রের তথ্য পায় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে একাধিক অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যালের বিভিন্ন চ্যাটও খতিয়ে দেখছেন। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, এফবিআই, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সমন্বিত অভিযানের ফলে পরিকল্পিত হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টটি হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এতে কয়েক হাজার দর্শক অংশ নেন।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ রাখার ঘোষণা দিলেও তার পরদিনই ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। দেশটি জানিয়েছে, সরাসরি টোল আরোপ না করলেও নির্দিষ্ট কিছু ‘সেবার’ বিনিময়ে জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “ইরান ট্রানজিট টোল আরোপ করতে চায় না; তবে আমরা যে সেবা প্রদান করব, তার জন্য ফি নেওয়া হবে।” যদিও ঠিক কী ধরনের সেবা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তবে ইরানের কিছু কর্মকর্তার ধারণা, পরিবেশ সুরক্ষা, নিরাপত্তা বা নৌপথ ব্যবস্থাপনার মতো খাতে ব্যয় মেটাতে এই ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন করে খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই প্রণালির মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়। আন্তর্জাতিক নৌ-আইন বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, টোল এবং সেবামূলক ফি—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, প্রাকৃতিক আন্তর্জাতিক জলপথে অর্থ আদায়ের প্রশ্নে আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নৌ-আইন বিশ্লেষক জেমস আর. হোমস বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনে কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্রের জন্য প্রাকৃতিক জলপথ ব্যবহার বাবদ অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। আপনি এটিকে টোল বলুন বা ফি—দুই ক্ষেত্রেই বিষয়টি বিতর্কিত।” তিনি মালাক্কা প্রণালি ও তাইওয়ান প্রণালির উদাহরণ টেনে বলেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে এ ধরনের কোনো অর্থ আদায়ের নজির নেই। তবে পানামা খাল বা সুয়েজ খালের মতো কৃত্রিম জলপথে সেবা ও অবকাঠামোর বিনিময়ে ফি নেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। পরিস্থিতির পেছনে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর ইরান আঞ্চলিক জলপথে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ এবং পরবর্তীতে ফি আরোপের পরিকল্পনা সামনে আসে। এর আগে মার্চ মাসে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের চিন্তা করছে তারা। পরে মে মাসে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে একটি সংস্থা গঠন করা হয়, যা এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল ও অনুমোদন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে বলে জানানো হয়। একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থপ্রদানের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চালায় তেহরান। এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন বজায় রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই এই প্রণালিতে টোল আরোপ করা উচিত নয়। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। যদিও অতীতে তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ প্রণালি থেকে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে মে মাসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা চাই এই পথ উন্মুক্ত থাকুক, কোনো ধরনের টোল না থাকাই উচিত।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও কড়া অবস্থান নিয়ে বলেছেন, “এ ধরনের কোনো ফি আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। এতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়।
কলকাতার কালিঘাটে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বাড়ির সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চন্দন ও রবি নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কালীঘাট থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতেই কুণাল ঘোষ এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কালিঘাটে মমতা ব্যানার্জীর বাসভবনে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। কুণাল ঘোষ গেটের সামনে দাঁড়াতেই হরিশ চ্যাটার্জি গলির দিক থেকে এক যুবক হাতে একাধিক ডিম নিয়ে বেরিয়ে আসে এবং তাকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারে। হঠাৎ এই আক্রমণে কুণাল ঘোষ মাথা নিচু করে নিলেও ডিম তার মাথা ও পিঠে লাগে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ওই যুবককে আটকানোর চেষ্টা করেন। ঘটনার পর সাংবাদিকদের সামনে অভিযুক্তদের একজন দাবি করেন, “কুণাল ঘোষ বহু মানুষকে অত্যাচার করেছেন, সেই কারণেই এই কাজ করেছি।” যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “এক সময় দেড়শো পুলিশ আমাকে সামলাতে পারত না। দু’টো কুকুর-বেড়াল আমার কিছু করতে পারবে না। আমি ওই পথ দিয়েই আবার যাব। মারার হলে সামনে থেকেই মারুক—সবাই দেখুক।” অন্যদিকে, তৃণমূলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য বিরোধী বিজেপিকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, “বিজেপির গুন্ডারাই এই হামলা চালিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর লোকজনের কাজ এটা। সাংবাদিকদের সামনেই এভাবে হামলা হচ্ছে—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” পুলিশের ভূমিকাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, “এত পুলিশ উপস্থিত থেকেও তারা কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।” উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা একাধিকবার সামনে এসেছে। তবে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত একটি সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সভায় অংশ নিতে আসা দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সভা শুরুর আগেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন। একই সময় এনসিপির সমর্থক ও কর্মীরাও ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এনসিপি সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শেষ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই এলাকা ত্যাগ করেন। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সভাস্থলের বাইরে একটি পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীদের অনুসরণ করে কয়েকজন বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হক আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। পরবর্তীতে এহতেশামুল হকের সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আটক তিনজনের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন। তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলার দৃশ্যও দেখা গেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। ঘটনার পর এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, হাসনাত আবদুল্লাহর সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণ করেছেন। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতিরই বহিঃপ্রকাশ। তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। লন্ডনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম ঘিরে মাঝে মধ্যেই উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই ঘটনাকে ঘিরেও প্রবাসী মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কলকাতার সল্ট লেক এলাকার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে এই জিজ্ঞাসাবাদ চলে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইডি কার্যালয়ে উপস্থিত হন অভিষেক। দিনভর জেরা শেষে রাত ১০টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইডি সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর আর্থিক লেনদেন, কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত নিয়োগ দুর্নীতি মামলাসহ একাধিক অভিযোগ নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে অভিষেক সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এর আগে রোববার (১৪ জুন) তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কলকাতার ভবানী ভবনে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। পরদিনই আবার ইডির তলবে হাজিরা দিতে হয় তাঁকে। ইডির দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বিজেপিকে নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। একদিকে তারা দল ভাঙানোর রাজনীতি করছে, অন্যদিকে যারা মাথা নত করছে না, তাদের দমন–পীড়নের চেষ্টা চালাচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধীশূন্য করার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব চাপে তৃণমূল কংগ্রেস নতি স্বীকার করবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এসব করে কোনো লাভ হবে না। আমাদের গলা কেটে নিলেও আমরা আত্মসমর্পণ করব না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।” পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তৎপরতা নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতা–কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা জিজ্ঞাসাবাদকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি শিথিল না করার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ইরান। বরং এই সময়েই সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে তেহরান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রের বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই মুখপাত্র বলেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সময়েও ইরান তাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির মাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উঁচুতে ধরে রাখবে। একইসঙ্গে জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চললেও নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। চুক্তি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভঙ্গ করা হলে ইরান কঠোর জবাব দিতে দ্বিধা করবে না। এমন পরিস্থিতিতে খুব দ্রুতই আঞ্চলিক সামরিক বাস্তবতাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “যদি শত্রুপক্ষ এই চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা দ্রুত ও শক্তভাবে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় নিয়ে যাব।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখলেও ইরান তার সামরিক কৌশলে কোনো শৈথিল্য আনছে না। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পথেই হাঁটছে দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই ধরনের অবস্থান আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিকে নিজেদের জন্য বাধ্যতামূলক নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল বলেছেন, এই চুক্তির বাইরে থেকেই ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেটের প্রভাবশালী এই সদস্যের সাক্ষাৎকারের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেন এ তথ্য জানিয়েছে। টেলিভিশনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে গামলিয়েল বলেন, “আমরা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নই। আমাদের দৃষ্টিতে হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।” তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও তেল আবিব তার সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসছে না। তিনি আরও জানান, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের উপস্থিতি ধরে রাখার পরিকল্পনা করছে। পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বাস্তবে লেবাননের ভেতরে বেশ গভীরভাবে অবস্থান নিয়েছি। লিতানি নদী থেকে শুরু করে বোফোর্ট দুর্গ পর্যন্ত যেসব এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইচ্ছা নেই।” এছাড়া গামলিয়েল ইঙ্গিত দেন, ওইসব এলাকা থেকে হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘বাফার জোন’ তৈরির কৌশলের অংশ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে ইসরায়েলের এমন কঠোর অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও লেবাননের সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে সংঘাত বারবার বড় ধরনের সামরিক মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও মাঠের বাস্তবতায় সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘর্ষে ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০ জন ইসরায়েলি সেনা ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩৪৭ জন সেনাসদস্য। সোমবার (১৫ জুন) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য প্রকাশ করে। তাদের দাবি, শুধু গত তিন দিনেই আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন সেনা। ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে লেবাননে সামরিক অভিযানের গতি কিছুটা কমানো হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সেনাবাহিনী। তবে অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সেই আলোচনায় লেবানন সীমান্তের পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। তবুও ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় তাদের সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান আপাতত চালিয়ে যাওয়া হবে। বর্তমানে যেসব অগ্রবর্তী অবস্থানে সেনারা অবস্থান করছে, সেখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো নির্দেশ এখনো দেওয়া হয়নি। এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ইসরায়েলি সামরিক যানবাহন লক্ষ্য করে দুটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এ হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করা হয়েছে। পরে হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে দাবি করে, তারা রকেট ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে একটি ইসরায়েলি সামরিক দলকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে উভয় পক্ষের সামরিক উপস্থিতি এবং পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। ফলে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি থাকলেও মাঠের বাস্তবতায় এখনো এক ধরনের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন কোনো সমঝোতা না হলে এবং সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে অঞ্চলটিতে সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটবে না।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্কে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ও সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বরং তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিজের জেলার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে তিনি গর্ববোধ করেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ভাষাতেই কথা বলে যাবেন। সম্প্রতি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা তুললে স্যাটা গরম করে দেব।” মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে, একজন মন্ত্রীর মুখে এ ধরনের ভাষা কতটা শোভন। কেউ কেউ মন্তব্যটিকে কঠোর প্রশাসনিক বার্তা হিসেবে দেখেছেন, আবার অনেকে ভাষার ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। এই বিতর্কের মধ্যেই সোমবার (১৫ জুন) বোলপুরের কাছে কংকালীতলায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের একটি জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে গিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমার ভাষা, আমার গর্ব। আমি বীরভূমের ছেলে। আমি বীরভূমের ভাষাতেই কথা বলব। কারো ভালো লাগুক বা না লাগুক, আমি আমার জেলার ভাষা ব্যবহার করা বন্ধ করব না।” মন্ত্রী আরও বলেন, তিনি যে অঞ্চলের মানুষ, সেই অঞ্চলের কিছু শব্দ ও অভিব্যক্তি তার কথাবার্তায় স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। এটিকে অস্বাভাবিকভাবে দেখার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, “মানুষ কী বলবে, কী খাবে, কী পরবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই। তাহলে আমি কোন ভাষায় কথা বলব, সেটি নিয়ে এত আপত্তি কেন?” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় উপভাষা ও আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া বা মালদহের মতো জেলার ভাষায় অনেক শব্দ রয়েছে, যা কলকাতাকেন্দ্রিক প্রচলিত বাংলার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ফলে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। তবে একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রীর বক্তব্যে ব্যবহৃত শব্দচয়ন নিয়ে জনমনে সংবেদনশীলতা বেশি থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ তার আঞ্চলিক ভাষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছে, জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সংযত ভাষা ব্যবহার করা উচিত। তবে বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করছেন না। বরং এটিকে তিনি নিজের আঞ্চলিক পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই দেখছেন।
দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তারা এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার বিষয়ও সমঝোতার অংশ বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। বরং এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ না হওয়ায় বেশ কিছু বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ব্যবহার, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ইরানি সূত্রগুলো বলছে, প্রণালিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি বা বিশেষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, খুব শিগগিরই কোনো অতিরিক্ত টোল বা বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল শুরু হবে। মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা ইরানের স্থগিত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়গুলো তেহরানের সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ বর্তমান সমঝোতা একটি কাঠামোগত চুক্তি হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে সমঝোতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব বিষয়ে তাদের অবস্থান এক নয়। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা স্মারক তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার মতো জটিল প্রশ্নগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও, কয়েক মাসের সংঘাতের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়াকে কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ব্রাজিলে বাঞ্জি জাম্পিং করতে গিয়ে আয়োজকদের মারাত্মক অবহেলায় প্রাণ হারিয়েছেন মারিয়া এদুয়ার্দা রদ্রিগেস দে ফ্রেইতাস নামের ২১ বছর বয়সী এক তরুণী। দড়ি ছাড়াই ১৩০ ফুট উঁচু একটি পরিত্যক্ত ব্রিজ থেকে তাকে লাফ দিতে দেওয়া হয়েছিল। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার পরপরই তিনি বেঁচে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাকে উদ্ধার করতে ছুটে যাওয়া একজন নার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার সাও পাওলোর কাছে ওই ব্রিজ থেকে লাফ দেওয়ার আগে অবহেলাবশত কর্মীরা তরুণীর শরীরে বাঞ্জি জাম্পের দড়ি বাঁধতে ব্যর্থ হন। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন ডিউটির বাইরে থাকা নার্স রাইজা দিয়াস। তিনি অবৈধভাবে পরিচালিত ওই বাঞ্জি জাম্পিং সাইট বা ‘স্কেলিটন ব্রিজ’-এর নিচে তরুণীকে বাঁচাতে দ্রুত ছুটে যান। ব্রাজিলের টিভি নেটওয়ার্ক ‘ডোমিঙ্গো এসপেকটাকুলার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিয়াস জানান, নিচে নামার পথটি অত্যন্ত খাড়া এবং কাদামাটিতে ভরা ছিল। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামার সময় তার হাত ছিলে যায়। কাদামাখা পথ পেরিয়ে তিনি যখন নিচে পৌঁছান, তখনো মারিয়া জীবিত ছিলেন। আবেগাপ্লুত হয়ে ওই নার্স আরও জানান যে তিনি আহত মারিয়ার সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। তাকে সাহস দেওয়ার জন্য তিনি বলেছিলেন, "দুদা (এদুয়ার্দা), আমার শিফটে কেউ মারা যায় না।" যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে তার কোনো ডিউটি ছিল না, তবুও তিনি মুমূর্ষু তরুণীকে বাঁচানোর এবং মানসিকভাবে জোর দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। এদিকে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বাঞ্জি জাম্প পরিচালনাকারী তিনজনকে গ্রেপ্তার করে রোববার তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন পালানোর চেষ্টা করলে একটি সামরিক হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাদের ট্র্যাক করে ধরা হয়। এছাড়া এই অবৈধ সাইটে কাজ করা আরও তিন সন্দেহভাজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হলেও পরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। সোমবার শহীদ স্মারক প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার ঘটনায় অন্তত ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনইইটি) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা খাতের অনিয়ম ও বেকারত্ব সমস্যার প্রতিবাদে গত ৬ জুন দিল্লিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই সমাবেশ থেকে দলটি ঘোষণা দিয়েছিল, এক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন জোরদার করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার জয়পুরের শহীদ স্মারক প্রাঙ্গণে প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট এবং বেকারত্ব দূরীকরণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সমাবেশ চলাকালে অভিজিৎ দীপক সমর্থকদের কাঁধে চড়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার গলায় থাকা কাপড় ধরে নিচের দিকে টেনে নামানোর চেষ্টা করেন। পরে ওই ব্যক্তি এবং তার সঙ্গে থাকা আরেকজন মিলে তাকে চড়-থাপ্পড় ও আঘাত করেন। হামলার পরপরই উপস্থিত সমর্থকেরা অভিযুক্তদের আটক করেন। পরে তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দীপক লিখেছেন, “শারীরিক হামলা ভয় ও কাপুরুষতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমি গান্ধী ও আম্বেদকরের অনুসারী। শান্তি ও ভালোবাসা দিয়েই আমি এই লড়াই চালিয়ে যাব। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।” এদিকে হামলার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জয়পুরের বিধায়কপুরী থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ডিউটিরত এক পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের নাম-পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রোববার রাত পর্যন্ত এই বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। পরে কিছু শর্তসাপেক্ষে সমাবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রশাসনের নির্ধারিত শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল, সমাবেশে ৮০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।