সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিশ্ব

ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর
ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ডেলিভারির অর্ডারের অপেক্ষায় মোটরসাইকেলের পাশে বসে কোরআন পড়েন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া। কাজের বিরতিতে তাঁর কোরআন পড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় এসেছেন এই ডেলিভারি রাইডার। তবে মনসুর জানিয়েছেন, মানুষের নজরে আসার জন্য নয়, নিজের ধর্মীয় চর্চার অংশ হিসেবেই নিয়মিত কোরআন পড়েন তিনি।   গত ১ অক্টোবর প্রকাশিত খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনসুর প্রায় দুই বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও কাজ করছেন। গত পাঁচ মাস ধরে তিনি তালাবাতের ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান উগান্ডায় থাকেন। তাঁদের ভালো জীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই দেশ ছেড়ে আমিরাতে এসেছেন তিনি।   ডেলিভারির কাজে দিনের বড় একটি অংশ রাস্তায় কাটে মনসুরের। এক অর্ডার শেষ করে পরবর্তী অর্ডারের অপেক্ষায় কিছুটা সময় পেলেই সঙ্গে রাখা কোরআন খুলে বসেন। মোটরসাইকেলের পাশে বসে তাঁর এমন একটি মুহূর্তের ভিডিওই সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে মানুষের নজর কাড়ে।   মনসুরের এই অভ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের তিন সদস্যকে হারানোর বেদনা। তিনি জানিয়েছেন, বাবা, মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর ধর্মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। প্রায় তিন বছর আগে তিনি কোরআন মুখস্থ করেন। এখন নিয়মিত পড়ার পাশাপাশি মুখস্থ করা অংশগুলো পুনরাবৃত্তি করেন।   কাজের বিরতিতে হাতে কোরআন নিয়ে পড়লে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন বলে খালিজ টাইমসকে জানিয়েছেন মনসুর। এই সময় তিনি প্রয়াত মা-বাবার জন্যও দোয়া করেন। তাঁদের ক্ষমা এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন তিনি।   পরিবার থেকে দূরে থেকে জীবিকার দায়িত্ব পালন করছেন মনসুর। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই কোরআন পড়ার জন্য সময় রাখেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আগেও এই অভ্যাস ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৩:৪
এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!
এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!

২০৩৯ সালে একই ইংরেজি বছরের মধ্যে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি হজ মৌসুম পড়তে পারে। সৌদি আরবের জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদের হিসাবের বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, হিজরি ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে।    আল মিসনাদের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ঈদুল আজহা পড়তে পারে ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি। পরের হিজরি বছরের ঈদুল আজহা একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ অক্টোবর হতে পারে ঈদুল ফিতর। তবে এগুলো আগাম হিসাব, চূড়ান্ত ধর্মীয় তারিখের ঘোষণা নয়।    দুটি ঈদুল আজহা দুটি আলাদা হিজরি বছরের অন্তর্ভুক্ত হবে। বছরের শুরুরটি হবে ১৪৬০ হিজরির ১০ জিলহজ এবং শেষেরটি ১৪৬১ হিজরির ১০ জিলহজ। ফলে একই গ্রেগরিয়ান বছরের জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে পৃথক দুটি হজ মৌসুম পড়বে।    এর কারণ হিজরি বছর ইংরেজি বছরের চেয়ে ছোট। চান্দ্র মাসভিত্তিক হিজরি বছরে থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন। অন্যদিকে সৌরভিত্তিক গ্রেগরিয়ান বছরে থাকে ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। তাই ঈদ, রমজান ও হজের সময় ইংরেজি বর্ষপঞ্জিতে সাধারণত প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে আসে।    কোনো হিজরি উৎসব ইংরেজি বছরের একেবারে শুরুতে পড়লে পরের হিজরি বছরের একই উৎসব ডিসেম্বরের শেষ দিকে ফিরে আসতে পারে। ২০৩৯ সালের দুটি ঈদুল আজহা ও দুটি হজ মৌসুমের সম্ভাবনাও এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন আল মিসনাদ। তিনি এ বিষয়ে নিজের ওয়েবসাইটে ২০১৩ সালেই হিসাব প্রকাশ করেছিলেন।    একই কারণে ২০৩০ সালের জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে দুটি রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে গালফ নিউজ। তবে ভবিষ্যতের ঈদ, রমজান ও হজের নির্দিষ্ট তারিখ চাঁদ দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতে নিশ্চিত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১:৮
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলার নতুন কারণ জানালেন ট্রাম্প, পাঠানো হচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ইরানে চলমান সংঘাতের পেছনে এতদিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকানোকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন একটি কারণ সামনে এনেছেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরিরও সম্পর্ক ছিল।   শুক্রবার টেক্সাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে বলেন, সেখানে পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক নিয়েও কাজ চলছিল। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই মাদক-সংক্রান্ত দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট স্থাপনের তথ্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প এর আগে মূলত দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টিই সামনে এনেছিলেন।   ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত নাবিক ও মেরিন পাঠাচ্ছে। এই বহরে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ রয়েছে। এই মোতায়েনের ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের হামলা চালানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো নির্ধারিত নয়। এর আগে ইরানের একটি সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাবকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথা জানান। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।   ইরানও সম্ভাব্য নতুন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরু করলে তেহরান আরও কঠোর সামরিক জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো শর্ত নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।   উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে একটি সাম্প্রতিক বিমানঘটনা। বুধবার একটি ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজে সহকারী পাইলট তার ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। ট্রাম্প বলেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে ওই ঘটনার যোগসূত্র নিশ্চিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন এবং ইরানকে ঘিরে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অবশ্য জানিয়েছেন, তার দেশ নিজেদের রক্ষা করতে থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হুমকি বাড়ছে, অন্যদিকে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালু রয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরির অভিযোগও যুক্ত হলো। তবে নতুন এই দাবির বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একই সময়ে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর ঘটনা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ২৩:২
ম্যানচেস্টারের ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্ত করছে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই ইরানি নাগরিক

উত্তর ইংল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ইয়ম কিপুরের আগে ম্যানচেস্টারে হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইয়ম কিপুর ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র দিন।   অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ৩৫ বছর বয়সী রহমান সালেহি ও ৩৬ বছর বয়সী সালাম আহমাদিয়ান। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রস্তুতি নেওয়া বা অন্য কাউকে এমন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০৬-এর ৫ ধারার অধীনে করা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দুই ব্যক্তি একটি ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যস্থলও তারা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত পরিকল্পনার বিষয়ে তারা বিদেশে থাকা এক তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, যিনি সম্ভবত ইরানে অবস্থান করছিলেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি ম্যানচেস্টার ও বৃহত্তর ম্যানচেস্টার এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান এবং উভয়ের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, দেশটি ইরানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি। তার দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিদেশে সমালোচকদের চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডে প্রক্সি ও অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। তবে ইরান বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স বলেন, পবিত্র দিনগুলোর সময় কথিত হামলার পরিকল্পনার খবর ইহুদি সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক সিনাগগে গত বছরের প্রাণঘাতী হামলার বর্ষপূর্তিও ঘনিয়ে এসেছে।   ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলাকারী গাড়ি নিয়ে উপাসনালয়ের বাইরে থাকা মানুষের ওপর আঘাত করার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে।   এদিকে নতুন মামলার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আরেকটি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্তে গত বৃহস্পতিবার এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারের মামলায় অভিযুক্ত সালেহি ও আহমাদিয়ানের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত কয়েক বছর আগে ছোট নৌকায় করে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের একজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যজনের আশ্রয়ের আবেদন তখনও চলমান ছিল।   দুই অভিযুক্তকে শুক্রবার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ৩ অক্টোবর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, দ্রুত পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের পর আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা মনে করেছেন। তবে সেটি কোনোভাবেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ২০:৪৮
ইন্দোনেশিয়ায় গন্ধগোকুলের মল থেকে পাওয়া বীজ দিয়ে তৈরি কোপি লুওয়াক বিশ্বজুড়ে কফিপ্রেমীদের কাছে দারুণ সমাদৃত। ছবি: সংগৃহীত
হাতি ও গন্ধগোকুলের মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম দামি কফি

কফির সুবাস ও স্বাদ উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এক কাপ পানীয় হাতে নেন। কিন্তু বিশ্বের কিছু বিশেষ কফি রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদনপ্রক্রিয়া সাধারণ কফির তুলনায় একেবারেই আলাদা। থাইল্যান্ডের ব্ল্যাক আইভরি কফি এবং ইন্দোনেশিয়ার কোপি লুওয়াক এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি নাম। দুই ক্ষেত্রেই কফির চেরি প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর মল থেকে আস্ত বিন সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার মাধ্যমে পান করার উপযোগী করা হয়।   ব্ল্যাক আইভরি কফি তৈরি হয় থাইল্যান্ডে। এর জন্য নির্বাচিত আরাবিকা কফির পাকা চেরি হাতিদের স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে দেওয়া হয়। কফি চেরিগুলো খাওয়ার পর হাতির পরিপাকতন্ত্রে সেগুলো কয়েক ঘণ্টা থাকে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এই সময় ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। পরে হাতির মল থেকে কফির বিন আলাদা করে হাতে সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকানো এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ভাজা হয়।   এই কফির বিশেষত্বের একটি কারণ হিসেবে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি হাতির পরিপাকতন্ত্রে সংঘটিত জৈবিক গাঁজন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে। তাদের দাবি, হাতির পরিপাকতন্ত্রের এনজাইম কফি চেরির কিছু প্রোটিন ভেঙে দেয়। এতে সাধারণ কফির তিক্ততা কমে এবং স্বাদে মাটির মতো ও ফলের আভাস তৈরি হয়। তবে এসব স্বাদগত বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা মূলত উৎপাদক ও কফি-বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।   ব্ল্যাক আইভরির উৎপাদনও খুব সীমিত। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৫০০ পাউন্ড বা ২২৭ কেজির মতো কফি উৎপাদন করা হয়। ২০২৫ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৪৯৫ পাউন্ড উৎপাদনের কথা জানিয়েছে। সীমিত উৎপাদন, হাতে বাছাই ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে এর দাম সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্যাকেজের দাম বেশ চড়া, আর তাদের এক প্রতিবেদনে প্রতি কেজি কফির দাম প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।   অন্যদিকে কোপি লুওয়াকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এশিয়ান পাম সিভেট বা গন্ধগোকুলের নাম। ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘কোপি’ অর্থ কফি এবং ‘লুওয়াক’ বলতে গন্ধগোকুলকে বোঝায়। এই নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী কফি চেরি খাওয়ার পর ফলের বাইরের অংশ হজম করে। কিন্তু শক্ত কফির বীজ পুরোপুরি হজম না হয়ে মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। পরে সেই বীজ সংগ্রহ করে পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজা হয়।   কফির এই অস্বাভাবিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া থেকেই কোপি লুওয়াকের বিশেষত্বের ধারণা এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্র ও এর সঙ্গে যুক্ত অণুজীব কফির রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে কোপি লুওয়াকের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য কেবল প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের কারণে তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাণীটির বেছে বেছে পাকা কফি চেরি খাওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত স্বাদের পার্থক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   কপি লুওয়াকের দামও সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। সীমিত সরবরাহ, উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিশেষত্ব এবং এর বিরলতার ধারণা এই কফিকে বিলাসবহুল পণ্যে পরিণত করেছে। তবে এই কফির বাজার নিয়ে প্রাণীকল্যাণের প্রশ্নও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ২৯টি সিভেট কফি পর্যটন খামার নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে প্রাণীদের কল্যাণের মান নিয়ে গুরুতর ঘাটতি ছিল এবং কোনো সিভেটই গবেষণায় মূল্যায়ন করা পাঁচটি মৌলিক প্রাণীকল্যাণের স্বাধীনতা পুরোপুরি পূরণ করেনি।   এ কারণে সব কোপি লুওয়াককে একইভাবে উৎপাদিত বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বন্য পরিবেশ থেকে সংগৃহীত কফি এবং খাঁচায় রাখা প্রাণী দিয়ে উৎপাদিত কফির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গবেষকেরা বিশেষ করে খাঁচায় রাখা সিভেটকে জোর করে কফি চেরি খাওয়ানো, সীমিত চলাচল ও অনুপযুক্ত পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফলে এই কফি কেনার ক্ষেত্রে উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রাণীকল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শও উঠে এসেছে।   আধুনিক গবেষণায় অবশ্য প্রাণী ব্যবহার না করেও কোপি লুওয়াকের মতো গাঁজন প্রক্রিয়া তৈরি করার চেষ্টা চলছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্রের অণুজীব ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে অনুরূপ জৈবিক গাঁজন পদ্ধতি তৈরির কথা জানানো হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল প্রাণীকে ব্যবহার না করেই একই ধরনের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া।   ফলে ব্ল্যাক আইভরি ও কোপি লুওয়াক শুধু অদ্ভুত উৎপাদনপ্রক্রিয়ার জন্যই আলোচিত নয়। সীমিত উৎপাদন, বিশেষ গাঁজন প্রক্রিয়া, বাজারের বিরলতার ধারণা এবং বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা মিলিয়ে এগুলো কফির দুনিয়ায় আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। তবে দাম বা স্বাদের পাশাপাশি প্রাণীকল্যাণের বিষয়টিও এই বিশেষ কফিগুলোর আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া যায় না।   সূত্র: Black Ivory Coffee, গবেষণাপত্র ও PubMed।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ২৩:৫৬
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান বা ড্রোন পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। কোনো ধরনের মানবিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্র এসব জলযান পানির নিচে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে এই অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২৯ আগস্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় জলযানের চলাচল’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বরেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।   নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ গবেষক দল এই যুগান্তকারী রেকর্ডটি গড়েছে। পরীক্ষামূলক এই প্রদর্শনীতে TH-৬১৮ মডেলের ১১৬টি আন্ডারওয়াটার অটোনমাস ভেহিকল পানিতে নামানোর পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ মিনিট স্থিতিশীলভাবে চলার পর ড্রোনগুলো ৫০০ মিটারেরও বেশি পূর্বনির্ধারিত পথ সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। পানিতে নামানোর পর পরই যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যায়। রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি ড্রোন নিজস্ব অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট বিন্যাস বজায় রাখে। এমনকি কোনো ড্রোন সাময়িকভাবে পথচ্যুত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে আসার দারুণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে।   পানির নিচে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় যান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কারণ সেখানে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেভিগেশন কার্যকর হয় না। পানির উচ্চ চাপ, কম দৃশ্যমানতা এবং সীমিত পরিবেশগত তথ্যের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই দীর্ঘ সময় যানগুলো পরিচালনা করাকে আন্ডারওয়াটার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রেকর্ড গড়া এই জলযানগুলোর প্রতিটির ওজন মাত্র ৫ দশমিক ১৪ কেজি, যা একজন মানুষ সহজেই পানিতে নামাতে পারেন। এগুলো সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পরিসরে একটানা আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে সক্ষম।   নেভিগেশনের জন্য এসব যানে অত্যাধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্রোতের ধাক্কায় পথচ্যুত হলেও পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান সংশোধন করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত ও সম্ভাবনাময়। সমুদ্রের তলদেশ জরিপ থেকে শুরু করে পানির নিচের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আগামীতে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় জলযানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৫৪
রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ
রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ

মাঝ আকাশে সহকারী পাইলটের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত। কিন্তু এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও নিজের অসীম সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার জোরে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছা। দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটা এই রোমহর্ষক ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বন্দিত হচ্ছেন এই সাহসী পাইলট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—সবাই তাঁকে ‘বাস্তবের নায়ক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা দেয় ফ্লাইদুবাইয়ের ওই যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি। বিমানটি ওমানের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই ককপিটের ভেতর ক্যাপ্টেন স্মিথের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরই এক সহকারী পাইলট। ধারণা করা হচ্ছে, মাঝ আকাশে যাত্রীবোঝাই বিমানটিকে বিধ্বস্ত করার ভয়ংকর উদ্দেশ্য নিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার পরও দমে যাননি স্মিথ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দেওয়া তথ্যমতে, স্মিথ রক্তাক্ত অবস্থাতেই হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে ওই হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন।   হামলাকারীকে প্রতিহত করার পর চরম সংকটাপন্ন অবস্থাতেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন ক্যাপ্টেন স্মিথ। তিনি দ্রুত বিমানের গতিপথ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং তাবুক শহরের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির সফল জরুরি অবতরণ করান। তাঁর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী সিদ্ধান্তে মাঝ আকাশে একটি নিশ্চিত বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পান ফ্লাইটের সব যাত্রী ও ক্রু। পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের যাত্রীদের সৌদি আরব থেকে নিরাপদে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।   পেশাগত জীবনে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যাপ্টেন স্মিথ ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে সবসময়ই ‘নিরাপত্তার প্রতি গভীর মনোযোগ’ দেওয়ার কথা নিজের পেশাগত বিবরণীতে উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যা তিনি বাস্তবে প্রমাণ করে দেখালেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   এদিকে, মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার ইস্ট এলাকায় বসবাসরত স্মিথের পরিবারও এই দুঃসংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরেই সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচানো এই পাইলটের বীরত্ব এখন গোটা বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৩৯
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

ভারতের কেরালার ত্রিশূরে একটি লজ থেকে তরুণীকে অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুকেও মারধর করা হয়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির স্ত্রী হামলাকারীদের ভাড়া করেছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ উঠে এসেছে।    গত সেপ্টেম্বরে ওই তরুণী তাঁর বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ত্রিশূরের একটি লজে ওঠেন। লজটি কেরালা রাজ্য পরিবহন সংস্থার বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত।   এনডিটিভি জানিয়েছে, পাঁচজনের একটি দল পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁদের কক্ষে ঢোকে। এরপর দুজনকে বেঁধে গাড়িতে করে তামিলনাড়ুর দিকে নিয়ে যায়। পথে পুরুষ সঙ্গীকে মারধর করা হয়। তাঁর হাত-পায়ে হাড় ভাঙার আঘাত লাগে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    অভিযোগ অনুযায়ী, তিরুপুরের একটি হাসপাতালের বাইরে ওই ব্যক্তিকে ফেলে রেখে হামলাকারীদের দুজন তরুণীকে অন্য গাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।   তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তামিলনাড়ু পুলিশ মামলা করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব ত্রিশূর সিটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    তদন্তকারীদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুষ সঙ্গীর স্ত্রী তাঁর স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে হামলাকারীদের কাছে তথ্য পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৭:৫৪
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত, বেসামরিক প্রাণহানিরও অভিযোগ

আফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে দুই দেশ। ইসলামাবাদের দাবি, হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। কোনো পক্ষের হতাহতের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জন নিহত হওয়ার তথ্যটি প্রাথমিক হিসাব। আস্তানাগুলোতে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। অস্ত্র জব্দের তথ্য তারা দেয়নি।    অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে তিনটি বাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা নারী ও শিশু বলে তাঁর দাবি। তিনি পাকিস্তানের এই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তান বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করেনি।    দুই পক্ষের দেওয়া সংখ্যাকে এক করে মোট নিহতের হিসাব করা যাচ্ছে না। পাকিস্তান যে ২২ জনকে জঙ্গি বলছে এবং আফগানিস্তান যে নয়জনকে বেসামরিক মানুষ বলছে, তাঁদের পরিচয় বা এই দুটি হিসাবের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়নি।    হামলাটি এমন সময় হলো, যখন সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আবার বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন চলতি বছর সীমান্তবর্তী সহিংসতায় দেশটিতে ১ হাজার ১০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। এটি বৃহস্পতিবারের হামলার হতাহতের হিসাব নয়। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৬:৬
এল নিনো ও বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাবে খাদ্য সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
নিকট ভবিষ্যতেই তীব্র হতে পারে খাদ্য সংকট, দায়ী এল নিনো ও দুই যু দ্ধ

বিশ্বজুড়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বড় ধরনের খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবের সঙ্গে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান দুই যু দ্ধ একসঙ্গে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।   নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমানে বিশ্ব একই সময়ে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থায়ন—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে চাপের মুখে রয়েছে। এর প্রভাব উন্নয়নশীল ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে।   জ্বালানি সংকট বাড়াচ্ছে চাপ   বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তাও খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কারণ কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য পরিবহনের সঙ্গে জ্বালানির দাম সরাসরি যুক্ত। তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়।   এরই মধ্যে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা এবং দেশটির ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপের ডিজেল ফিউচারসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ডিজেল রপ্তানিও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   শস্য সরবরাহেও বাড়ছে উদ্বেগ   খাদ্য সংকটের আরেকটি বড় কারণ হতে পারে শস্যের বৈশ্বিক সরবরাহে বাধা। ইউক্রেন যু দ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গমসহ বিভিন্ন শস্যের রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই নানা বাধার মুখে পড়ছে।   বিশ্বের বড় শস্য রপ্তানিকারক দেশগুলো যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠাতে না পারে, তাহলে সরবরাহ কমে গিয়ে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে দরিদ্র ও আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সারের সংকটও বড় সমস্যা   কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত। এসব অঞ্চলে সংঘাত ও উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সংকট দেখা দিতে পারে।   সারের দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে।   শক্তিশালী এল নিনো নিয়ে সতর্কতা   জয়শঙ্করের সতর্কতার কেন্দ্রে রয়েছে শক্তিশালী এল নিনো। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ধরন বদলে দিতে পারে।   এর ফলে কোথাও অতিরিক্ত খরা, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্য সরবরাহে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।   শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, চলমান এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ তাপজনিত মৃ ত্যু হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে। একই সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   জয়শঙ্কর নীতিনির্ধারকদের অন্য দেশগুলোর ওপর এসব সংকটের প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, একটি দেশের সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু সেই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বৈশ্বিক জ্বালানি, খাদ্য ও অর্থনীতির আন্তঃনির্ভরতার কারণে এর প্রভাব অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ০:৫২
ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ছবি: সংগৃহীত
মাঝ আকাশে বিমানে হামলা, পাইলটের সাহসিকতায় রক্ষা পেলেন ১৮০ যাত্রী

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভারতীয় নাগরিক ও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় তিনি হামলাকারীকে ঠেকানোর পাশাপাশি ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সুযোগ করে দেন, যাতে বিমানের যাত্রী ও অন্য সদস্যরা ভেতরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করান।   ভারতীয় ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্মিত মাচ্ছারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা থাকা এই পাইলট ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা স্পাইসজেটে প্রায় ১১ বছর কাজ করেছেন। মঙ্গলবারের ঘটনার পর তার ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   ঘটনার সময় বিমানটি ইসরায়েলের উদ্দেশে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের একপর্যায়ে সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এতে তিনি একাধিকবার আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও অন্যরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।   ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে জানান, আহত অবস্থায় মাচ্ছার তার অবশিষ্ট শক্তি ব্যবহার করে ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী তখন বিমানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের সামনে অবস্থান করছিলেন এবং সেটিতে আঘাত করছিলেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই সময় বিমানটির নিয়ন্ত্রণে গুরুতর সমস্যা তৈরির আশঙ্কা ছিল।   ঘটনার পর বিমানে থাকা দুই দায়িত্বের বাইরে থাকা পাইলট ককপিটে গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের পর আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলাকারীও আহত হয়েছেন এবং তাকেও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে।   ঘটনার পর বিমানের ভেতরের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাচ্ছারকে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় আহত অবস্থায় দেখা যায়। যাত্রীদের কয়েকজনও রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দৃশ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ফ্লাইটের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র ১২ মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। তীব্রভাবে উচ্চতা কমে যাওয়ার সময় বিমানের রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পর্যায়ে এই ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।   হামলার ঘটনায় সহ-পাইলটকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ওমানের নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এক বছরেরও কম সময় আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন বলে জেরুজালেম পোস্টকে সূত্র জানিয়েছে। তবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে এবং হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   ঘটনাটিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার দিক থেকেও তদন্ত করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হামলার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার আঘাত কতটা গুরুতর এবং বর্তমানে তিনি কেমন আছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।   বিমানটিতে মোট ১৮০ জন ছিলেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ককপিটে হামলার পর যাত্রীদের কয়েকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তাদের ভূমিকার পাশাপাশি দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলটের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বিমানে এমন ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে ককপিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্রুদের প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীদের জরুরি ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনার তদন্তে হামলার সঠিক কারণ, ককপিটে কীভাবে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২৩:৪৪
ন সন্তান হার্ভি, আইলা ও পার্কারের সঙ্গে জো ল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তিন সন্তানকে রেখে চিরবিদায় নিলেন মা

যুক্তরাজ্যের এম৪ মহাসড়কে লরির সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিন সন্তানের মা জো ল। ৩১ বছর বয়সী জো গত ৯ সেপ্টেম্বর উইন্ডসরের কাছে মহাসড়কটিতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। পরে তার পরিবার জানতে পারে, কাছাকাছি যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন দায়িত্বের বাইরে থাকা জরুরি সেবাকর্মী ঘটনাস্থলে থেমে তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন। তবে তাদের চেষ্টার পরও ঘটনাস্থলেই জোর মৃত্যু হয়।   জোর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা ওই জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে সহায়তা করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। জোর খালা সামান্থা নিল বলেন, শেষ মুহূর্তে তার পাশে মানুষজন ছিলেন এবং তারা তাকে সাহায্য, যত্ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, বিষয়টি পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা দিয়েছে। যারা গাড়ি থামিয়ে সাহায্য করেছেন বা জোর পাশে ছিলেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।   জো ল তার তিন সন্তান হার্ভি, ১২, আইলা, ৯ এবং পার্কার, ৪ বছরকে নিয়ে থাকতেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানরাই ছিল তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। জোর খালা তাকে সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল মা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সন্তানদের নিয়ে বাইরে সময় কাটানো, মোটরবাইক চালানো ও ডার্ট বাইকিংয়ের মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ছিল তাদের পারিবারিক জীবনের অংশ। সন্তানদের সঙ্গে মজা করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ছোট ভিডিও বানানোও পছন্দ করতেন জো।   জোর পরিবার জানিয়েছে, তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনেরা গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছেন। জোর খালা জানান, তারা বড় একটি পরিবার এবং পরস্পরের কাছাকাছি বসবাস করেন। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আগস্টে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে ইবিজায় ছুটিও কাটিয়েছিলেন। সেই সময়টিকে এখন পরিবারের কাছে বিশেষ স্মৃতি হিসেবে মনে হচ্ছে।   দুর্ঘটনার পর জোর পরিবার তার শেষকৃত্যের খরচ এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ সহায়তার জন্য অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য ৭ হাজার পাউন্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে একটি তহবিল চালু করা হলেও পরে সেখানে ১৭ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ জমা পড়ে। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ জোর শেষকৃত্যের খরচে ব্যবহার করা হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ তার সন্তানদের জন্য রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে পরিবার। জোর শেষকৃত্য অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   জোর খালা বলেন, তিন সন্তানকে ঘিরেই তার জীবন আবর্তিত হতো এবং তারা এখন খুব অল্প বয়সেই মাকে হারানোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোকে যারা ভালোবাসতেন তাদের কাছে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সন্তানরাও যেন সবসময় জানতে পারে, তাদের মা কতটা ভালোবাসা ও যত্নের মধ্যে ছিলেন, সেটিই এখন পরিবারের অন্যতম প্রত্যাশা।   জো ল কেন্টের গ্রেভসেন্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের পুরোটা সময় সোয়ানলিতে কাটিয়েছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। এম৪ মহাসড়কের ওই দুর্ঘটনার পর তার পরিবারের সদস্যরা এখন একদিকে শোক সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে তিন সন্তানকে সামনে রেখে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দায়িত্বের বাইরে থাকা জরুরি সেবাকর্মীরা শেষ মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন, এই তথ্যটিও পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা দিচ্ছে।   সূত্র: ডেইলি মেইল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২২:৩৭
নভিগের বিজ্ঞাপন প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। ছবি: সংগৃহীত
সিডনি সুইনির খোলামেলা বিজ্ঞাপনের পর স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মের মূল্য বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার

হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনিকে নিয়ে তৈরি আলোচিত বিজ্ঞাপন প্রচারের পর খেলাধুলাভিত্তিক পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার বা প্রেডিকশন মার্কেট নভিগের মূল্যায়ন বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের শুরুতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে অর্থ সংগ্রহ করা প্রতিষ্ঠানটির মূল্য কয়েক মাসের ব্যবধানে চারগুণ হয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে শুধু সুইনির বিজ্ঞাপন নয়, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নতুন বিনিয়োগ এবং নিউইয়র্ক মেটসের সঙ্গে অংশীদারত্বও ভূমিকা রেখেছে।   নভিগ মূলত খেলাধুলা নিয়ে পূর্বাভাসভিত্তিক লেনদেনের সুযোগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মডেল কালশি বা পলিমার্কেটের মতো অন্যান্য পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার থেকে কিছুটা আলাদা। নভিগ নিজেদের প্ল্যাটফর্মকে শুধু খেলাধুলাকেন্দ্রিক হিসেবে তুলে ধরে এবং যুদ্ধ, মৃত্যু বা রাজনীতির মতো বিষয় নিয়ে পূর্বাভাসের বাজার না রাখার কথা প্রচারে জোর দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি সিডনি সুইনিকে নিয়ে তাদের প্রথম জাতীয় বিজ্ঞাপন প্রচারণা শুরু করে।   এই প্রচারণায় ‘ইউফোরিয়া’ অভিনেত্রী সুইনিকে খেলাধুলার বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা অত্যন্ত সাহসী বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনের মূল বার্তা ছিল, নভিগে শুধু খেলাধুলা নিয়ে মতামত ও পূর্বাভাসের ওপর লেনদেন করা যাবে। বিজ্ঞাপনটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একই সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।   নভিগের সঙ্গে সুইনির সম্পর্ক শুধু বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত অংশীদার এবং শেয়ারধারী হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন। নভিগের নিজস্ব ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই প্রচারণার মাধ্যমে খেলাধুলাকেন্দ্রিক তাদের ব্যবসায়িক পরিচয়কে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরাই ছিল লক্ষ্য।   তবে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সমালোচনাও কম হয়নি। কয়েকজন নারী ক্রীড়াবিদ অভিযোগ করেন, বিজ্ঞাপনটি খেলাধুলায় নারীদের ভূমিকার বদলে তাদের শরীরকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ব্রিটিশ স্প্রিন্টার অ্যামি হান্ট, অস্ট্রেলিয়ার সাঁতারু ও চারবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আরিয়র্ন টিটমাস এবং মার্কিন জিমন্যাস্ট গ্রেসি ক্রেমার সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ক্রীড়া দক্ষতা তুলে ধরে বিজ্ঞাপনটির ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে আনেন।   সুইনির বিজ্ঞাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের মধ্যেই তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখের বেশি কমেছে বলে ভ্যারাইটির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। তবে এরপরও তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখের কাছাকাছি রয়েছে।   অন্যদিকে সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক মেগিন কেলি এবং দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস সুইনির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, পুরুষদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপনে দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণনির্ভর বিপণন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। সুইনিও বিজ্ঞাপনটি নিয়ে পিছিয়ে যাননি। বরং পরে সামাজিক মাধ্যমে ক্রীড়া সাময়িকীর বিভিন্ন প্রচ্ছদে নগ্ন বা অল্প পোশাকের ক্রীড়াবিদদের ছবি প্রকাশ করে নিজের প্রচারণার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।   নভিগের প্রধান নির্বাহী জ্যাকব ফোরটিনস্কিও বিজ্ঞাপনটির পক্ষে ছিলেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নারী ক্রীড়াকে সমর্থন করে এবং বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য নারী ক্রীড়াকে উপস্থাপন করা ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনের দৃশ্য ও বার্তার বড় অংশই সুইনির সৃজনশীল ধারণা থেকে এসেছে এবং তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবে সেটি উপস্থাপন করেছেন।   তবে নভিগের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে শুধু এই বিজ্ঞাপনকে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন বা সিএফটিসি নভিগকে নিয়ন্ত্রিত পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার হিসেবে পরিচালনার অনুমোদন দেয়। এই অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ফেব্রুয়ারিতে নভিগ ৭৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করেছিল এবং তখন প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার। নতুন অর্থ সংগ্রহের ফলে মূল্যায়ন ২ বিলিয়ন ডলারে উঠলে সেটি আট মাসেরও কম সময়ে চারগুণ বৃদ্ধির সমান হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন অর্থের বড় অংশ এসেছে আগের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। প্রতিষ্ঠানটির আগের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্যানটেরা ক্যাপিটাল, মাল্টিকয়েন ক্যাপিটাল ও এনএফএক্সের মতো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।   নভিগের ব্যবসা বাড়ার আরেকটি কারণ নিউইয়র্ক মেটসের সঙ্গে তাদের অংশীদারত্ব। জুলাইয়ে মেজর লিগ বেসবলের দল নিউইয়র্ক মেটসের সঙ্গে নভিগের অংশীদারত্বের ঘোষণা আসে। এটি একটি মেজর লিগ বেসবল দলের সঙ্গে পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার প্রতিষ্ঠানের প্রথম ধরনের অংশীদারত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   এই খাতটিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়লেও পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক বিতর্কও রয়েছে। কালশি ও পলিমার্কেটের মতো প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের ঘটনা নিয়ে পূর্বাভাসের বাজার পরিচালনা করে। এসব প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে কিছু অঙ্গরাজ্যের জুয়া নিয়ন্ত্রণ আইন, কর এবং বাজারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নভিগ অবশ্য নিজেকে খেলাধুলায় সীমাবদ্ধ রেখেছে এবং ফেডারেল নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পরিচালনার অনুমোদন পাওয়ার পর ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।   নভিগ ২০২১ সালে জ্যাকব ফোরটিনস্কি ও কেলেচি উকাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ফেব্রুয়ারির ৭৫ মিলিয়ন ডলারের অর্থ সংগ্রহের আগে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি আরও ১৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। ফলে এখন পর্যন্ত নভিগের মোট সংগৃহীত অর্থ ১০৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে ফ্রন্ট অফিস স্পোর্টস জানিয়েছে।   নতুন মূল্যায়ন অনুযায়ী নভিগ দ্রুত বেড়ে উঠলেও এটি এখনো কালশি ও পলিমার্কেটের তুলনায় ছোট প্রতিষ্ঠান। তবে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে আলাদা ব্যবসায়িক মডেল, সিএফটিসির অনুমোদন, বড় ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং সিডনি সুইনির মতো তারকাকে যুক্ত করে প্রচারণা প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।   সুইনির জন্যও এই অংশীদারত্ব আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি সাধারণ পারিশ্রমিকের পরিবর্তে নভিগের মালিকানার অংশ বা শেয়ার নিয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অংশীদারত্বের সঠিক পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ২ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে তাঁর অংশীদারত্বের প্রকৃত আর্থিক মূল্য কত, তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।   সব মিলিয়ে নভিগের মূল্যায়ন ৫০০ মিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সিডনি সুইনির আলোচিত বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও, নতুন বিনিয়োগ, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বও একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নভিগ ও ফ্রন্ট অফিস স্পোর্টস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২২:৭
আমেরিকায় অনিয়মিত পথে যাওয়ার চেষ্টায় বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিখোঁজ ভারতের গুজরাটের তিন আত্মীয়। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে আমেরিকা যাওয়ার পথে ৩ ভারতীয় অপহরণ, এক কোটি রুপি মুক্তিপণ দাবি

আমেরিকায় অনিয়মিত পথে যাওয়ার চেষ্টায় বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ভারতের গুজরাটের তিন আত্মীয়। পরিবারের অভিযোগ, ইথিওপিয়ায় তাঁদের অপহরণ করে মুক্তির জন্য এক কোটি রুপি দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।    নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন মমতা চাভদা, ৩০, তাঁর আত্মীয় ঋত্বিক জানসারি, ২৩, এবং ময়ূরী সোলাঙ্কি, ২৭। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁরা গুজরাট থেকে জয়পুর, এরপর আবুধাবি হয়ে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যান।    ২২ সেপ্টেম্বর মমতা পরিবারকে ফোন করে জানান, তাঁরা কানাডায় পৌঁছেছেন। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে তাঁদের কানাডায় পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত হয়নি। পরিবারের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় এজেন্ট আলপেশ পাঞ্চালের দাবি, তিনজন ইথিওপিয়াতেই আটকা পড়েছেন।    পরিবারের ভাষ্য, পরে ‘খান’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ফোন করে তিনজনকে অপহরণের দাবি করেন এবং এক কোটি রুপি মুক্তিপণ চান। অপহরণের অভিযোগ ও ফোনদাতার পরিচয় তদন্তাধীন।    বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মমতার বাবা কীর্তিভাই চৌহান মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর মেহসানার লাংঘনাজ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন। থানার ইন্সপেক্টর এ এম গেহলটের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনজন ২০ সেপ্টেম্বর বাড়ি ছাড়েন।   যাত্রার খরচ নিয়ে পরিবারের বক্তব্য ও অভিযোগে ভিন্ন অঙ্ক এসেছে। মমতার বাবার দাবি, প্রত্যেকের জন্য প্রায় ৭০ লাখ রুপি এজেন্টকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে জনপ্রতি ৭৫ লাখ রুপিতে যাত্রার ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।    মমতার স্বামী প্রায় ছয় মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকায় যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, কয়েকবার আমেরিকান ভিসা পাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মমতার পরিবার বিকল্প পথে তাঁকে পাঠাতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।   তিনজনকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। পুলিশ নিখোঁজের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে এবং যাত্রার ব্যবস্থা করা এজেন্টদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১০:২৭
ভারতে সিআইএসএফ সদস্য
সহকর্মীর গুলিতে ভারতে কমান্ডারসহ ৪ সিআইএসএফ সদস্য নিহত

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় নিজ বাহিনীর এক সদস্যের গুলিতে কোম্পানি কমান্ডারসহ চারজন সিআইএসএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসোহলি এলাকার মাশকা গ্রামের সেবা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে।   নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং এবং দুই কনস্টেবল সন্দীপ কুমার ও মোহাম্মদ রফিক। আহত অবস্থায় তাদের কাছের একটি এনএইচপিসি হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনই মারা যান।   প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হেড কনস্টেবল অবদেশ কুমার সিং সহকর্মীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর নিজের সার্ভিস রাইফেল দিয়ে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ২০০৯ ব্যাচের সদস্য। ঘটনার পর তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।   ঘটনার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় একটি শিশুকে কর্মস্থলে আনা নিয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারও কথা-কাটাকাটি হয় এবং এরপরই গুলির ঘটনা ঘটে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার চূড়ান্ত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।   সিআইএসএফ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে কোর্ট অব ইনকোয়ারি বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাঠুয়া পুলিশও ঘটনার তদন্ত করছে।   ঘটনাস্থলটি জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার বাসোহলি এলাকায়, হিমাচল প্রদেশের সীমান্তের কাছাকাছি। সেবা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তায় সিআইএসএফ সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৭:১৪
১১ হাজার ৬৯৫টি লেগোর টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র বানিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন দুই বন্ধু
১১ হাজার ৬৯৫ লেগো টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র, দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দুই বন্ধু লেগোর ১১ হাজার ৬৯৫টি টুকরা জুড়ে তৈরি করেছেন পুরো পৃথিবীর মানচিত্র। আর এই কাজটি তাঁরা শেষ করেছেন মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে। অসাধারণ এই কীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছে তাঁদের।   রেকর্ড গড়া দুই বন্ধু হলেন আথেনা লিওং ও সেভি সুইফট। গত ১২ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার হেওয়ার্ডের ‘ব্রিক বাই ব্রিক টয়েজ’ নামের একটি দোকানে তাঁরা এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেন।   গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম অনুযায়ী, পৃথিবীর মানচিত্রটি তৈরি করতে তাঁদের সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট আগেই তাঁরা কাজটি সম্পন্ন করে ফেলেন।   চ্যালেঞ্জে নামার আগে প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির অনুশীলন করেন। ছোটবেলা থেকেই লেগোর প্রতি আথেনার বিশেষ আগ্রহ ছিল। পরে সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে লেগোর প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি আরও অনেক বিষয়ে আগ্রহের মিল খুঁজে পান তাঁরা।   বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনাটিও প্রথম আথেনার মাথায় আসে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে তিনি জানান, ছোটবেলায় লেগো তাঁকে নিজের কল্পনাশক্তি প্রকাশের সুযোগ করে দিত। তখন নিজের চিন্তাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো দক্ষতা বা প্রয়োজনীয় উপকরণ তাঁর ছিল না। সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর সেই আগ্রহ নতুনভাবে ফিরে আসে।   তবে এই রেকর্ডের একটি আলাদা দিকও রয়েছে। এর আগে এককভাবে দ্রুততম সময়ে লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির রেকর্ড করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্ল্যারি ফারকাশ। ২০২৩ সালে তিনি ৭ ঘণ্টা ৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে কাজটি শেষ করেন।   আথেনা ও সেভির দলীয় রেকর্ড সেই সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত হলেও ক্ল্যারি ফারকাশের একক রেকর্ড এখনো বহাল রয়েছে। অর্থাৎ, দলগতভাবে নতুন রেকর্ড হলেও একক বিভাগে আগের রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৬:১০
ইরাকে শেষ মার্কিন ঘাঁটিও ছাড়ল মার্কিন সেনারা, সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধ নিয়ে
ইরাকে শেষ মার্কিন ঘাঁটিও ছাড়ল মার্কিন সেনারা, সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধ নিয়ে

ইরাকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টাগন জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের শেষ বিমানঘাঁটি থেকেও সেনারা সরে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন শেষ হলো। তবে ইরান যুদ্ধের মধ্যে এই প্রস্থান ইরাকের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।    পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা ও সরঞ্জাম পরিকল্পিতভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন ইরাকের নিরাপত্তায় দেশটির নিজস্ব বাহিনী নেতৃত্ব দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা চলবে দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কের ভিত্তিতে।    প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটন ও বাগদাদ ২০২৪ সালেই সামরিক মিশন গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল। জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে হওয়া সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।    ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা দেশটি ছেড়ে যায়। কিন্তু আইএস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর ২০১৪ সালে ইরাকি সরকারের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আবার সেখানে যায়। এবার সেই দ্বিতীয় মিশনও শেষ হলো।    মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরানঘনিষ্ঠ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে দেশটির কুর্দি অঞ্চলের কর্মকর্তারা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরে যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইরাকে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার কাজও শেষ হয়নি; এ জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত পিছিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।    আইএস নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সংগঠনটি আগের মতো এলাকা নিয়ন্ত্রণ না করলেও তাদের গোপন সক্রিয় সদস্য রয়ে গেছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরাকি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনীর দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির সহায়তা বন্ধ হলে নিরাপত্তার ফাঁক তৈরির সুযোগ নিতে পারে আইএস। এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি, আইএস আবার বড় এলাকা দখল করেছে বলে কোনো তথ্য নয়।    এই প্রেক্ষাপটে নিউজউইকের বিশ্লেষণে⁠ ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ভবিষ্যৎ ভাবার কথা বলা হয়েছে। লেখাটির সতর্কবার্তা ইরানকে দেওয়া মার্কিন সরকারের কোনো নতুন হুমকি নয়। এর মূল প্রশ্ন হলো, সামরিক শক্তি দিয়ে লক্ষ্য অর্জনের দাবি করার পর দীর্ঘ সংঘাত থেকে বের হওয়ার রাজনৈতিক পথ কী হবে।    ইরাকে মার্কিন সামরিক মিশন শেষ হলেও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে। ফলে সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাক কতটা স্থিতিশীল থাকবে এবং ইরান যুদ্ধের জন্য ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।   

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৪:৪৭
দামি ফোন, স্বর্ণের গহনার জন্য দুই মাসের শিশুকে ৪ দফায় বিক্রি করেন বাবা-মা
দামি ফোন, স্বর্ণের গহনার জন্য দুই মাসের শিশুকে ৪ দফায় বিক্রি করেন বাবা-মা

ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এক দম্পতির বিরুদ্ধে দুই মাস বয়সী ছেলেশিশুকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, শিশুটিকে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে তেলেঙ্গানায় নেওয়া হয় এবং মোট চার দফা হাতবদল হয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে শিশু কল্যাণ কমিটির নির্দেশে একটি অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মা ভান্দনা কাম্বলে ও যোগেশ কাম্বলে প্রায় এক মাস বয়সে তাকে সীমা রেশওয়ালের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে দেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। সীমা পরে শিশুটিকে তাঁর আত্মীয় সঙ্গীতা আওহাদের কাছে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপিতে বিক্রি করেন। সঙ্গীতা নানদেড়ে নিয়ে গিয়ে সুরেশ গুন্টুকার কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার রুপিতে শিশুটিকে দেন। পুলিশ জানায়, নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া সুরেশ পরে শিশুটিকে তাঁর আত্মীয় উমা খটকমের কাছে একই দামে হায়দরাবাদে পৌঁছে দেন।   পুলিশের ভাষ্য, শিশুটির বাবা-মা বিক্রির টাকার একটি অংশ দিয়ে একটি স্মার্টফোন ও স্বর্ণালংকার কিনেছিলেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। শিশুটির খোঁজে তদন্ত চলার সময় মা ভান্দনা ২০ সেপ্টেম্বর অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন বলে পুলিশ জানায়।   গত ২৭ সেপ্টেম্বর সুরেশ ও উমা শিশুটিকে মুকুন্দওয়াড়ি থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে শিশু কল্যাণ কমিটির নির্দেশে তার সুরক্ষা ও দেখভালের জন্য তাকে একটি অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়।   এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, অন্য রাজ্যগুলোতে বিস্তৃত কোনো শিশু পাচারচক্রের সঙ্গে ঘটনাটির যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৩:১
মুসলমানদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ রেখে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করলো ইসরাইলিরা
মুসলমানদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ রেখে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করলো ইসরাইলিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে ইব্রাহিমি মসজিদ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মুসলিম মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখার মধ্যে সেখানে প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ইহুদি ধর্মীয় উৎসব সুক্কোত উপলক্ষে নিরাপত্তার কথা জানিয়ে মসজিদ ও পুরোনো শহরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখা হয়।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা WAFA-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে প্রবেশ করেন। এ সময় হেবরনের পুরোনো শহরের কয়েকটি সড়ক ও পাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। মসজিদের পরিচালক মু’তাজ আবু সুনেইনা জানান, ওই দিন ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রশাসনিক কর্মীদেরও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।   আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচারিত ভিডিওতে বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ প্রাঙ্গণে তালমুদিক ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা করতে দেখা যায়। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও তাঁদের সঙ্গে সেখানে যান।   মসজিদ বন্ধের কথা জানিয়ে WAFA বলেছে, কর্তৃপক্ষ সুক্কোত উৎসবের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেছে। এ সময় মসজিদে যাওয়ার পথের সামরিক চেকপয়েন্ট ও ইলেকট্রনিক গেটগুলোও বন্ধ করা হয়। পুরোনো শহরের কয়েকটি বাজার বন্ধ রাখার পাশাপাশি আশপাশের পাড়ায় চলাচলেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।   ইব্রাহিমি মসজিদ হেবরনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা। উৎসব ও বিশেষ সময়ে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ রেখে বসতি স্থাপনকারীদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া নিয়ে এর আগেও বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২:৩৬
মুসলিম শিশুদের খ্রিষ্টধর্ম শেখাতে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি
মুসলিম শিশুদের খ্রিষ্টধর্ম শেখাতে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি

সৌদি আরবে শিক্ষকতার কাজে গিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে কথোপকথন এবং কোরআনে ঈসা (আ.)-এর বর্ণনা জানার পর ইসলাম গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন ‘সিস্টার ডেইজি’। তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মীয় যাত্রার কথা ২০২৬ সালের ৭ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরা হয়।   ডেইজির বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে বড় হয়েছেন। পরে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রি-স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সেখানে যান। তাঁর কাছে ওই চাকরি ছিল শিশুদের খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে শেখানোরও একটি সুযোগ। তিনি বলেন, বাইবেল ও জপমালা নিয়ে একটি স্যুটকেস সঙ্গে করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।   সেখানে স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে যিশু ও তাঁর অলৌকিক ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেইজি কোরআনে ঈসা (আ.)-এর উল্লেখ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে, শিশুকালে তাঁর কথা বলার বর্ণনা ডেইজিকে বিস্মিত করেছিল বলে তিনি সাক্ষাৎকারে জানান। তাঁর দাবি, এই বিষয়টি তিনি গির্জায় শেখেননি।   এরপর খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলাম সম্পর্কে আরও জানতে শুরু করেন ডেইজি। ঈশ্বরের ধারণা এবং যিশুর ভূমিকা নিয়ে দুই ধর্মের ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ইসলামের তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ধারণায় স্পষ্টতা খুঁজে পান বলে জানান।   ইসলামে ঈসা (আ.)-কে সম্মানিত নবী হিসেবে মানা হয়। ডেইজির ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর প্রেরিত নবী হিসেবে বোঝার পর তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।   খ্রিষ্টধর্ম শেখানোর উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত নিজের বিশ্বাস নিয়ে অনুসন্ধান ও আত্মবিশ্লেষণের যাত্রায় রূপ নেয়। তাঁর ধর্মান্তরের বিবরণটি ব্যক্তিগত সাক্ষ্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২:৯
শরণার্থী পুনর্বাসন চালু করছে যুক্তরাজ্য, আফগান নারী ও ফিলিস্তিনিদের অগ্রাধিকার
শরণার্থী পুনর্বাসন চালু করছে যুক্তরাজ্য, আফগান নারী ও ফিলিস্তিনিদের অগ্রাধিকার

শরণার্থীদের জন্য স্থগিত থাকা ‘ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিমে’ নতুন সুপারিশ গ্রহণ আবার শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হবেন আফগান নারী ও বালিকা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বে তাঁদের শনাক্ত ও সুপারিশ করা হবে।    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন সুপারিশ গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং এ পথে প্রথম শরণার্থীদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কথা। ‘এক-চতুর্থাংশ’ হলো সুপারিশের প্রত্যাশিত অনুপাত; ইতিমধ্যে পৌঁছানো শরণার্থীদের হিসাব নয়।    এই পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি তিনটি নতুন স্পন্সরশিপ পথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে দাতব্য ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো কমিউনিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্পন্সরশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে। এসব পথে শরণার্থীদের প্রথম আগমন প্রত্যাশিত ২০২৭ সালের শরতে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানভিত্তিক স্পন্সরশিপের আবেদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের বসন্তে; এর প্রথম আগমনও ওই বছরের পরের দিকে হতে পারে। স্পন্সরদের আবাসন ও নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সহায়তা দিতে হবে।    সরকার বলছে, পুনর্বাসন ও নতুন তিনটি স্পন্সরশিপ পথ মিলিয়ে শুরুতে কয়েক শ শরণার্থী আসতে পারেন। পরে অনিয়মিত অভিবাসন কমার সঙ্গে সংখ্যা কয়েক হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবছর একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসব পথে আসা শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য পাঁচ বছরের পথ দেওয়া হবে।    শাবানা মাহমুদের বক্তব্য, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালানো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পারাপার কমাতে সরকার নিয়ন্ত্রিত আইনি পথ রাখতে চায়। তবে নতুন কর্মসূচির আকার এত ছোট হলে তা নৌকায় আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসন গবেষকেরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেছেন, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত কতজনকে নেওয়া হয়, তার ওপর নির্ভর করবে।    রিফিউজি কাউন্সিল নতুন নিরাপদ পথ তৈরির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির প্রধান নীতিবিশ্লেষক জন ফিটনবির মতে, মানবপাচারকারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে হলে কয়েক শ নয়, হাজার হাজার মানুষের জন্য এসব পথ চালু করতে হবে। অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে নতুন পথ চালুর সমালোচনা করেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রস পৃথকভাবে শরণার্থীদের পারিবারিক পুনর্মিলনের পথ কবে আবার চালু হবে, তা জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।    পুনর্বাসনের এই ঘোষণা যুক্তরাজ্যে যেতে ইচ্ছুক সবার জন্য সরাসরি আবেদনের সুযোগ নয়। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির নিজের আবেদন করার ব্যবস্থা নেই; সুরক্ষার প্রয়োজন বিচার করে সংস্থাটি শরণার্থী শনাক্ত ও সুপারিশ করে, আর গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট দেশ। পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ অর্থ চাইলে তা-ও সতর্কতার বিষয়, কারণ এই প্রক্রিয়া শরণার্থীর জন্য বিনামূল্যে। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১:৩২
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০