বিশ্ব

ফিলিস্তিনির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনে থামছেই না ধ্বংসযজ্ঞ, কৃষিজমি গুঁড়িয়ে ১,৫০০-এর বেশি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলছে ইসরায়েলি বুলডোজার

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি ধ্বংস, জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা এবং ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে।   স্থানীয় সূত্র জানায়, পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের পশ্চিমে অবস্থিত জুবুবা গ্রামে রোববারও ইসরায়েলি বুলডোজার কৃষিজমি সমতল করার কাজ চালিয়ে যায়। এ সময় আরও জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েক ডজন পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।   স্থানীয়দের দাবি, চলতি মাসের শুরু থেকে জুবুবা গ্রামে ইতোমধ্যে ১,৫০০টিরও বেশি জলপাই গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে গ্রামটির ১২৮ দুনাম জমির জলপাই গাছ উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।   একই দিনে পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর পশ্চিমে দেইর কাদ্দিস ও খারবাথা বনি হারিস গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায়ও শত শত দুনাম কৃষিজমি বুলডোজার দিয়ে সমতল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, জমিগুলোর বেশির ভাগই ছিল জলপাই বাগান। এলাকাটি ইসরায়েলি বসতি নিলি-র সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।   এদিকে পশ্চিম তীরের তুবাসের পূর্বে তায়াসির গ্রামে নিজেদের জমিতে কাজ করার সময় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা কৃষকদের মারধর করে এবং জমিতে কাজ করতে বাধা দেয়।   স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, তায়াসির এলাকার উপকণ্ঠে দীর্ঘদিন ধরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, কৃষিজমি দখলের চেষ্টা এবং নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।   তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ২:৫৪
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ল

 মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং ইরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের দাবি ঘিরে সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের চাপ দেখা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।   রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।    নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। এর ফলে ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলনও বেড়েছে। একই সময়ে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা যায়। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ওপর চাপ বেশি ছিল।    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ রুটে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর দ্রুত প্রভাব ফেলে।    ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে একই ধরনের দাবির বিরোধিতা করে বলেছিল, আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতেও উভয় পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে, ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় আছে।  এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে প্রথমবারের মতো সাক্ষ্য দেওয়ার আগে বাজারে সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতির তথ্যও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। জ্বালানির দাম আরও বাড়লে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার নিয়ে ফেডের অবস্থান কঠোর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় বা হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন আরও ব্যাহত হয়, তাহলে শুধু জ্বালানির দামই নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন খরচ এবং ভোক্তা মূল্যও নতুন করে চাপে পড়তে পারে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ০:৪১
কুয়েতে মার্কিন হিমার্স লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস ও ৩ মার্কিন সেনা নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালিয়ে হিমার্স (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে অভিযানে তিন মার্কিন কর্মকর্তা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।   বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা একটি 'নির্ভুল ড্রোন অভিযান' চালিয়ে কুয়েতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র পড সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।   আইআরজিসির দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের দিকে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিল। বাহিনীটি আরও জানায়, অভিযানে তিন মার্কিন কর্মকর্তা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এই হতাহতের তথ্যের ভিত্তি হিসেবে তারা অনানুষ্ঠানিক সূত্রের কথা উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হিমার্স ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।   তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন), মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কিংবা কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর আগে কুয়েত জানিয়েছিল, দেশটির উত্তরাঞ্চলের তিনটি স্থল সীমান্ত চৌকি এবং কুয়েত অয়েল কোম্পানি (কেওসি) পরিচালিত একটি অফশোর তেল প্ল্যাটফর্মে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত একজন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে হামলার জন্য কোনো পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করেনি কুয়েত।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তবে সংঘাতের সময় উভয় পক্ষের বিভিন্ন দাবি ও পাল্টা দাবি প্রকাশিত হওয়ায় সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, ফার্স নিউজ এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ২৩:৫২
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইনফোগ্রাফিক। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুসহ ইরানের ‘হিট লিস্টে’ ১৩ বিশ্বনেতা, প্রতিশোধের ঘোষণা মোজতবা খামেনির

ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপের ১৩ জন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার ছবি ও নামসংবলিত একটি ‘প্রতিশোধের লক্ষ্য’ (টার্গেট) তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকাটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এটি ইরানের সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদিত তালিকা কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, তেহরানের পৌর কর্তৃপক্ষ-ঘনিষ্ঠ হামশাহরি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে শনিবার গভীর রাতে একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করা হয়। সেখানে ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি যুক্ত করে প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত বার্তা তুলে ধরা হয়। তবে একই ইনফোগ্রাফিক পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশ করা হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তালিকা প্রকাশের আগে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার পিতা, নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, প্রতিশোধ নেওয়া জাতির ইচ্ছা এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে।   প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্টজসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা।   তবে এএফপি বলছে, ইনফোগ্রাফিকটি ইরানের সরকার বা সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এটিকে সরকারি ‘হিট লিস্ট’ হিসেবে নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করা যাচ্ছে না।   সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান অভিযোগ করেছিল, কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে হামলায় পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। ওই প্রেক্ষাপটেই ইউরোপীয় কয়েকজন নেতার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রতীকী তালিকা বা উসকানিমূলক বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে তালিকাটি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি নীতির অংশ কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এর গুরুত্ব মূল্যায়নে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।   সূত্র: এএফপি, হামশাহরি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ২৩:৩৪
অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত বারের ভেতরের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, টয়লেট থেকে উদ্ধার বেশিরভাগ মরদেহ, নিহত বেড়ে ২৭

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় বার ও বিনোদনকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক সার্কিট বোর্ডের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।   সোমবার (১৩ জুলাই) মধ্যরাতের কিছু আগে ব্যাংককের চাতুচাক জেলার জনপ্রিয় রং বিয়ার না লাত ফ্রাও (Rong Beer Na Lat Phrao) বারে আগুন লাগে। খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার আগে মঞ্চের পাশে একটি বৈদ্যুতিক সার্কিট ব্রেকারের দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় এবং বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘন ধোঁয়া ও আগুন পুরো বারে ছড়িয়ে পড়ে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বারটির সামনের দরজা দিয়ে দাউদাউ করে আগুন বের হচ্ছে। আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকেই ধোঁয়ার কারণে ভেতরেই আটকা পড়েন।   থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, নিহতদের বেশিরভাগের মরদেহ বারের পেছনের টয়লেটের কাছে পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে পেছনের দিকে ছুটে যান এবং সেখানে ধোঁয়ায় আটকা পড়েন।   ব্যাংককের গভর্নর চাচার্ত সিত্তিপুন্ট জানান, বারের ভেতরে ব্যবহৃত দাহ্য সাজসজ্জার উপকরণের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া প্রাথমিক তদন্তে জরুরি নির্গমনপথের সামনে কিছু টেবিল ও অন্যান্য সামগ্রী থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক তদন্ত চলছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গেছে।   একজন চালক, যিনি আগুন প্রথম দেখতে পান, জানান যে তিনি নিজের গাড়ি থামিয়ে জানালার কাচ ভেঙে অন্তত দুজনকে বের হতে সহায়তা করেন। এরপর দমকল বিভাগকে খবর দেওয়া হয়।   ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আগুনের উৎস, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি নির্গমনপথের অবস্থা খতিয়ে দেখছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না।   থাইল্যান্ডে এর আগেও নাইটক্লাব ও বিনোদনকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে একটি মিউজিক পাবে আগুনে ১৪ জন নিহত হন। এরও আগে ২০০৯ সালে ব্যাংককের সান্টিকা নাইটক্লাবে নববর্ষ উদযাপনের সময় অগ্নিকাণ্ডে ৬৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। সর্বশেষ এই ঘটনা দেশটির জনসমাগমস্থলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।   সূত্র: এপি, রয়টার্স, বিবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ২২:৫২
লি রেডপাথ, যিনি ফেনবেনডাজল সেবনের পর মারা যান। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল মিডিয়ার ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করে ক্যানসার সারানোর আশায় পশুর কৃমির ওষুধ খেয়ে যুবকের করুণ মৃত্যু

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস করে পশুর জন্য ব্যবহৃত একটি কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের পর যুক্তরাজ্যের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসা বা প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রচারিত ওই ওষুধ মানুষের জন্য অনুমোদিত নয় এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।   ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী লি রেডপাথ নামের ওই ব্যক্তি ফেনবেনডাজল (Fenbendazole) নামের একটি অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক বা পরজীবীনাশক ওষুধ টানা কয়েক সপ্তাহ সেবনের পর গুরুতর লিভার বিকল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে গত বছরের ২৯ এপ্রিল ক্যামব্রিজের অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   তদন্তে জানা যায়, লি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট দেখে বিশ্বাস করেছিলেন, ফেনবেনডাজল ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় উপকারী হতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি ইউক্রেনভিত্তিক এক অনলাইন সরবরাহকারীর কাছ থেকে ওষুধটি সংগ্রহ করেন। ফেনবেনডাজল মূলত পশুর অন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের পরজীবী ও কৃমি দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয় এবং ক্যানসারের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়।   সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের হান্টিংডনে অনুষ্ঠিত এক করোনারের তদন্তে লির দীর্ঘদিনের সঙ্গী লরেন লল সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য দেখে লি মনে করেছিলেন ওষুধটি নিরাপদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ এটি ব্যবহার করছেন। লরেন বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই লি ওষুধটি সেবন শুরু করেছিলেন। তার মতে, এ ধরনের ওষুধ অনলাইনে সহজলভ্য হওয়ায় অনেক মানুষ পূর্ণ তথ্য না জেনেই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   তিনি আরও জানান, তার ধারণা লি মৃত্যুর আগে হয়তো প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিতভাবে এই ওষুধ গ্রহণ করছিলেন। তদন্তে অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. গুইলিম ওয়েব স্পষ্টভাবে জানান, মানুষের ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় ফেনবেনডাজলের কোনো প্রমাণিত উপকারিতা নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।   হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, লিকে গত বছরের ১২ এপ্রিল গুরুতর লিভার সমস্যার লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার সময় তিনি চিকিৎসকদের জানান যে, অনলাইনে ক্যানসারবিরোধী গুণের দাবি দেখে তিনি ফেনবেনডাজল কিনে সেবন করছিলেন।   ময়নাতদন্তে দেখা যায়, লিভারের গুরুতর ক্ষতির পাশাপাশি কিডনিও অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, লির আগে থেকেই অ্যালকোহলজনিত লিভার সিরোসিস ছিল। তবে করোনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেনবেনডাজলজনিত লিভারের বিষক্রিয়াই ছিল তার মৃত্যুর প্রধান কারণ, যা শেষ পর্যন্ত লিভার ও কিডনি বিকলের দিকে নিয়ে যায়।   ক্যামব্রিজশায়ার ও পিটারবরোর সহকারী করোনার ক্যারোলিন জোনস বলেন, ফেনবেনডাজল অত্যন্ত শক্তিশালী কৃমিনাশক ওষুধ এবং এটি মানুষের জন্য কখনো যে মাত্রায় বা যে সময় পর্যন্ত ব্যবহারের কথা ভাবা হয়নি, লি তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ও দীর্ঘ সময় ধরে এটি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, লি নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতির উদ্দেশ্যে ওষুধটি গ্রহণ করেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিতেই তার মৃত্যু হয়েছে।   লরেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আনুষ্ঠানিক সতর্কতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানালেও করোনার জানান, সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, অনলাইনে এ ধরনের ওষুধ সহজে কেনাবেচার বিষয়টি উদ্বেগের। তদন্ত শেষে লির মৃত্যুকে 'মিসঅ্যাডভেঞ্চার' বা অনিচ্ছাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ফলে সংঘটিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর অনেকগুলোরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে না। কোনো ওষুধ বা বিকল্প চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   সূত্র: দ্য সান, যুক্তরাজ্য; করোনারের তদন্তে উপস্থাপিত তথ্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ২১:৩
বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ
তরুণদের সমর্থনে ক্ষমতায়, এবার তাদেরই বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। দেশটির বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল তাঁর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছে।   বিতর্কের সূত্রপাত হয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে বালেন শাহ বলেন, শুধু ভারত নয়, নেপালও সীমান্তের কিছু এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিনের ভারত–নেপাল সীমান্ত বিরোধ নতুন করে আলোচনায় আসে।   বক্তব্য প্রকাশের পর কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নেপালের জাতীয় অবস্থানকে দুর্বল করেছে। সংসদেও এ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হয় এবং বিরোধীরা তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলে।   এদিকে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ব্যাখ্যায় জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় উভয় দেশের বাস্তব পরিস্থিতি ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন, নেপালের সার্বভৌম অবস্থান থেকে সরে আসেননি।   ভারতও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়াদিল্লি পুনর্ব্যক্ত করেছে, ভারত–নেপাল সীমান্ত বিরোধ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত এবং তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকার প্রয়োজন নেই।   ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থনে ক্ষমতায় আসেন বালেন্দ্র (বালেন) শাহ। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতির কারণে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সীমান্ত ইস্যুতে তাঁর মন্তব্য সেই সমর্থকদের একাংশের মধ্যেই অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৪:৫৮
ওমানে ড্রোন হামলা, কাতারে আহত ৩
ওমানে ড্রোন হামলা, কাতারে আহত ৩: ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছেই

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে ওমানের মুসান্দাম অঞ্চলে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং কাতারে ইরানি হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া কারও স্বার্থে নয়। ইসলামাবাদ কূটনৈতিক সংলাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।   ওমানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় মুসান্দাম গভর্নরেটের কয়েকটি স্থানে ড্রোন আঘাত হেনেছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে।   অন্যদিকে কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলার সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পর পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক সংঘাতের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। একই সঙ্গে ওমান, কাতার ও পাকিস্তানসহ একাধিক মধ্যস্থতাকারী দেশ আবারও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।     হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৪:২৩
ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিক
ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিক, তদন্তে নজর দিল নয়াদিল্লি

ওমান উপকূলের কাছে হামলার শিকার সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ জিএফএস গ্যালাক্সি থেকে ১১ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও একজন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানায়, মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।   এই ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলা চালায়। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফা হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে আগুন লাগে, ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ হন।   অন্যদিকে ইরানের দাবি, জাহাজটি অনুমোদনহীন নৌপথে চলাচল করছিল। তাই সেটির উদ্দেশে কেবল সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়েছিল, যা জাহাজে আঘাত হানে। বেইজিং বা অন্য কোনো স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন পর্যন্ত এই দুই পক্ষের দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার কারণে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। ভারতসহ একাধিক দেশ তাদের নাগরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৪:১৬
এক সপ্তাহে দ্বিতীয় টাইফুন ‘বাভি’: চীনে ১৭ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
এক সপ্তাহে দ্বিতীয় টাইফুন ‘বাভি’: চীনে ১৭ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও শক্তিশালী টাইফুনের আঘাতে বিপর্যস্ত চীন। ‘বাভি’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি দেশটির পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ার পর অন্তত ১৭ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ফিলিপাইনে ঝড়টির প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে ১৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।   চীনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় উপকূলীয় শহর তাইঝোতে প্রথম আঘাত হানে বাভি। প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই ঝড়টি মধ্যরাতে ওয়েনঝো শহরে দ্বিতীয়বার আঘাত করে। বর্তমানে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।   রোববার সকালে ঝড়টি ঝেজিয়াং প্রদেশের রাজধানী হাংঝুতে পৌঁছায় এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার এটি আনহুই প্রদেশ অতিক্রম করে মঙ্গলবারের মধ্যে শানডং উপদ্বীপ হয়ে উত্তর পীত সাগরে প্রবেশ করতে পারে।   টাইফুনের প্রভাবে ঝেজিয়াং প্রদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে স্কুল, অফিস এবং সব ধরনের বহিরাঙ্গন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমান ও রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে; ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল স্থগিত রয়েছে।   ওয়েনঝো শহরে ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যাওয়া এবং গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় এক কোটি মানুষের এই শহরে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে রাজধানী বেইজিংয়েও আরও এক লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।   চীনের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক শক্তি নিয়ে এগোয় বাভি। গত সোমবার গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানার সময় এটিকে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে এর প্রভাবে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের আশঙ্কায় বহু মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে।   উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন এখনো গত সপ্তাহের টাইফুন ‘মেসাক’-এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ওই ঝড়ে অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারান এবং কৃষি ও পশুপালন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই বাভির নতুন আঘাত দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় অনেক এলাকায় সুপারমার্কেটগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে, তাই সতর্কতা অব্যাহত রাখা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৩:৫৩
জর্ডানের প্রিন্স হাসান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি আইআরজিসির
জর্ডানের প্রিন্স হাসান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ‘প্রতিশোধমূলক’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। রোববার (স্থানীয় সময়) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।   বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা ওই বিমানঘাঁটির একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং ড্রোন সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এতে উল্লেখিত স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে।   প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিটি জর্ডানের বিমান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এ ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   তবে হামলার এই দাবির বিষয়ে জর্ডান বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির সত্যতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের দাবি নতুন করে উদ্বেগ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অঞ্চলটি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।   সিএনএনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৩:৪২
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানে নতুন দফা হামলার নির্দেশ ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি-তে হামলার জেরে ইরানে নতুন দফা সামরিক হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজটিতে হামলা চালানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, জাহাজে আগুন লাগে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। এর জবাবে শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, নৌ সক্ষমতা, গোলাবারুদ গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থাসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম।   অন্যদিকে ইরান বলছে, একটি জাহাজ অনুমোদনহীন রুটে চলাচল করায় সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়েছিল। তেহরান আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ইরানের একচ্ছত্র এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।   সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ জলপথে জাহাজে হামলা, পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৩:৩৩
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু, রাষ্ট্রজুড়ে শোক

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। রোববার (১২ জুলাই) দেশটির আমিরে দেওয়ান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আল্লাহর ফয়সালা ও নিয়তির প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আমিরে দেওয়ান। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর প্রতি রহমত প্রার্থনা করা হয়েছে।   শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি কাতারের আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। তার শাসনামলে কাতার বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করে এবং জ্বালানি সম্পদভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কাতারকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যেতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য।   ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে দায়িত্ব তুলে দেন, যা আরব বিশ্বে বিরল একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।   তার মৃত্যুতে কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে শোকবার্তা আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।   আমিরে দেওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।   সূত্র: আমিরে দেওয়ান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ২:২৫
পশ্চিম তীরে মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে ‘আটকে রাখার’ অভিযোগ
পশ্চিম তীরে মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে ‘আটকে রাখার’ অভিযোগ, ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরের সময় ইসরায়েলি সেটেলার ও সেনাবাহিনীর হাতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান রো খান্না। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেলধারী সেটেলাররা তার বহরের পথরোধ করে এবং পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে সেটেলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়।   রয়টার্সের বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে অবস্থানকালে রো খান্না এ অভিযোগ করেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত এই মার্কিন আইনপ্রণেতা বলেন, বুধবার দক্ষিণ পশ্চিম তীরের খিরবেত যানুতা এলাকায় সফরের সময় তাদের বহরের মাইক্রোবাস ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি সেটেলাররা।   খান্নার ভাষ্য, তিনি এমন একটি গ্রাম পরিদর্শন করছিলেন, যেটি সেটেলারদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তার দাবি, সেখানে স্কুল ও অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সশস্ত্র সেটেলাররা তাদের পথ আটকে দেয় এবং পরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) ডেকে আনে।   তিনি বলেন, “তারা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেল নিয়ে আসে, রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং আমাদের আটকে রাখে। পরে আইডিএফ আসে, কিন্তু তারা আমেরিকানদের নয়, সেটেলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়।”   খান্নার সফরসঙ্গী ক্যামেরন কাস্কি জানান, তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তারা জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছে সহায়তা চান। পরে পুলিশ বলে মনে হওয়া একদল কর্মকর্তা এসে হস্তক্ষেপ করলে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে সক্ষম হন।   অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, খিরবেত যানুতার কাছে কিছু যানবাহন সেটেলাররা আটকে রেখেছে—এমন খবর পাওয়ার পর সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। তাদের দাবি, সেখানে পৌঁছে তারা ইসরায়েলি বেসামরিকদের ছত্রভঙ্গ করে এবং আটকে পড়া যানবাহনগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেয়।   খিরবেত যানুতা দক্ষিণ হেবরন এলাকার একটি ছোট ফিলিস্তিনি গ্রাম। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর ওই এলাকায় ইহুদি সেটেলারদের হামলার মুখে গ্রামটির বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হন এবং বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর থেকে এলাকাটি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।   রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্যের জন্য ইসরায়েলি পুলিশ ও জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রো খান্নার অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১:৫৯
খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার মোজতবা খামেনির
খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার মোজতবা খামেনির

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তার উত্তরসূরি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রতিশোধ নেওয়া ইরানি জাতির দাবি এবং তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।   প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, তার ‘নিষ্পাপ রক্ত’ এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহত সব মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের পরিচয় ইরানের কাছে রয়েছে এবং তারা কোনোভাবেই শাস্তি এড়াতে পারবে না। তাদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তাও দেন তিনি।   মোজতবা খামেনি আরও বলেন, এই প্রতিশোধ কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কর্মকর্তার জীবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। তার ভাষায়, “আমরা থাকি বা না থাকি, এই প্রতিজ্ঞা খুব শিগগিরই পূরণ করা হবে।” তার এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরে সমর্থকদের মধ্যে দৃঢ় অবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করে বা এ ধরনের কোনো চেষ্টা চালায়, তাহলে দেশটিকে কঠোর সামরিক জবাবের মুখে পড়তে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   এর আগে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ইরানের কথিত হত্যাচক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।   নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ খামেনি, মা ও স্ত্রী নিহত হন এবং তিনি নিজেও আহত হন। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে থেকে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এ অবস্থায় নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।   সূত্র: ফার্স নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১:৩২
যুদ্ধের মধ্যেই তিনগুণ বেড়েছে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা
ইরানের দাবি, যুদ্ধের মধ্যেই তিনগুণ বেড়েছে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা: ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের সময় উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ফলে ইরান তাদের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিনগুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মাজিদ ইবনে রেজা।   শনিবার পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান। পরে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা তার বক্তব্য প্রকাশ করে।   রেজার দাবি, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগই সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান অত্যন্ত উন্নত সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মুখোমুখি হয়েছিল।   ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ১৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি সহায়তা দিয়েছিল। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পেরেছে বলে তিনি দাবি করেন।   তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।   তবে রেজার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই দাবি অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ০:৫০
হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ইরানের

একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটি সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেছে, যেকোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের জবাব ‘কঠোরভাবে’ দেওয়া হবে।   রোববার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানায়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজটির পরিচয় বা সংশ্লিষ্ট বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।   আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ‘অননুমোদিত রুটে’ চলাচলের চেষ্টা করেছিল। এ প্রেক্ষাপটে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এবং ‘অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়। একই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে অঞ্চলে নতুন করে শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে প্রকাশ্যে অঙ্গীকার চেয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ করা হবে এবং কোনো ধরনের শুল্ক বা বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌপথ উন্মুক্ত রাখা হবে। ওয়াশিংটনের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওমান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন করে আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।   বিশ্ব জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন দেশে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য, পরিবহন ব্যয় এবং খাদ্যপণ্যের দামেও এর প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।   সূত্র: রয়টার্স  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ০:১৭
করাচির ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া শিশুদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে ৩ বছর বয়সী শিশুসহ ৮০ জনের এইচআইভি শনাক্ত, হাসপাতালকে ঘিরে বিতর্ক

পাকিস্তানের করাচির কুলসুম বাই ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আরও দুই শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ জনে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।   পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, নতুন শনাক্ত হওয়া দুই শিশুর একজন করাচির মেট্রোভিল এলাকার মাত্র তিন বছর বয়সী একটি শিশু। তার বাবা জানান, বুকের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য তাকে সিন্ধ এমপ্লয়িজ' সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (SESSI) পরিচালিত ভ্যালিকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়ে।   শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে অতিরিক্ত পরীক্ষা করানোর পর এইচআইভি শনাক্ত হয়। এর আগে সিন্ধ প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ ঘানি জানিয়েছিলেন, ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অন্তত ৭৮ শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ আরও দুই শিশুর সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ জনে পৌঁছেছে।   ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে সাঈদ ঘানি বলেন, কীভাবে এতসংখ্যক শিশু সংক্রমিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এদিকে চলতি মাসের শুরুতে সিন্ধ হাইকোর্ট প্রাদেশিক সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। একটি রিট আবেদনের শুনানিতে আদালত এ নির্দেশ দেন। ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হাসপাতালের অবহেলার কারণে প্রায় ২০০ শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে।   আবেদনকারী পক্ষের দাবি, ২০২৫ সালে হাসপাতালটিতে দূষিত সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহারের কারণে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এ অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।   আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করতে সিন্ধ এমপ্লয়িজ' সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (SESSI) ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি ব্যয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তহবিল থেকে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচআইভি সংক্রমণের উৎস নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধে জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ২৩:২৯
যুদ্ধকালীন সময়ে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ বাড়ানোর দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধের কঠিন সংকটেও সক্ষমতার প্রমাণ, ড্রোন উৎপাদন ৩ গুণ বাড়ালো ইরান

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি, বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে ইরানের মেধাবী জনশক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।”   তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি। বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।” ইরানের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে বিনিয়োগ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তারই ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরির দাবি করে আসছে তেহরান। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররা ইরানের ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।   অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ২৩:২
টরন্টোর ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই রক্তাক্ত, টরন্টোতে গুলিতে নিহত ২

কানাডার টরন্টো শহরের জনপ্রিয় ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ (Salsa on St. Clair) স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শুরুতে পুলিশ ‘অ্যাকটিভ শুটার’ সতর্কতা জারি করলেও পরে জানায়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হয়েছে। তবে হামলাকারী বা হামলাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।    টরন্টো পুলিশ জানায়, শহরের মিডটাউনের সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ও আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় বার্ষিক লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব চলাকালে গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ছয়জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    ঘটনার পরপরই পুলিশ সাধারণ মানুষকে এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে জানানো হয়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য বা এটি লক্ষ্য করে চালানো হামলা ছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বৃহৎ লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতিবছর হাজারো মানুষ এই দুই দিনের আয়োজন উপভোগ করতে সেখানে জড়ো হন। সঙ্গীত, নৃত্য, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার জন্য পরিচিত এই উৎসবে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় পুরো শহরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।  এদিকে অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।    টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ২২:৪৪
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পরেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সামরিক হামলা

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং কৌশলগত এই নৌপথ বন্ধের ঘোষণার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যায় ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির কারণে জাহাজটি আর যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেনি।   হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথ বলেন, "ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার তাদের মূল্য দিতে হবে।"   সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোরের আগে (মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট) যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে এ সপ্তাহের তৃতীয় দফার হামলা শুরু করে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে ইরান পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকের শর্ত আবারও লঙ্ঘন করেছে। তাই বেসামরিক নাবিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এর আগে ইরান ঘোষণা দেয় যে, হরমুজ প্রণালি আপাতত বন্ধ থাকবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়। ফলে এ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তার সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।   মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সর্বশেষ সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ২১:২৪
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০