আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশনগুলোতে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে সম্ভাব্য ১২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে তরুণ নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে অংশ নেয় জামায়াত। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে দলটি এককভাবেই অংশ নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন নেতারা।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, একসময় কেবল রুকনদের মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন সেই নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে।
এবারের নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা করেছে দলটি। ২০২৪ সালের ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এই পরিকল্পনায়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ১০ মে বলেন, “পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে, তবে সিটি করপোরেশনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
ইতোমধ্যে চারটি সিটিতে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে দলের মহানগর আমির আবদুল জব্বারকে প্রার্থী করা হচ্ছে। গাজীপুরে প্রার্থী হচ্ছেন তুরস্কপ্রবাসী শিক্ষাবিদ ও ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা হাফিজুর রহমান। চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে মহানগর আমির এ টি এম আজম খানকে প্রার্থী করা হচ্ছে।
ঢাকার দুই সিটিতেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের নাম আলোচনায় রয়েছে।
দক্ষিণ সিটিতে আবু সাদিক কায়েমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হলেও দলীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় তাঁর ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাবে এবং প্রার্থী হতে সাংগঠনিক কোনো বাধা থাকবে না।
জামায়াত সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রার্থী করার প্রস্তাব ছিল। তবে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে এ প্রস্তাবে আপত্তি ওঠে। এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে সমর্থন দিলে রাজনৈতিক দায়ভার আমাদের ওপর আসতে পারে।”
জামায়াত নেতাদের মতে, অতীতে চার–দলীয় জোটে থেকেও আলাদাভাবে নির্বাচন করে তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এবার এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী তারা। নিজেদের জনসমর্থন বেড়েছে বলেও মনে করছেন নেতারা।
এদিকে ১১–দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। পাশাপাশি শতাধিক উপজেলা ও পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে জোটগতভাবে নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জামায়াত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসও জোরদার করেছে। সারা দেশকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রার্থী যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং গণসংযোগ শুরু হবে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জামায়াত দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করছে না। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন সময়সীমার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য বলেছেন, ঈদের পর থেকে সারা বছর নির্বাচন চলতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে মাঠ গোছাতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতা হবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের তফসিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
ঢাকা/নয়াদিল্লি: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “প্রতিটি বাধা এবং ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।” ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। প্রায় দুই বছর পর তিনি আবার দেশে ফেরার ইচ্ছার পাশাপাশি সম্ভাব্য সময়সীমার কথাও উল্লেখ করলেন। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য তিনি দেশে ফিরতে চান না। তার ভাষায়, “এখানে প্রশ্নটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার।” বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু এত চক্রান্তের পরও আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই থেকেছি।” নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, “এটা বিচার নয়। এটা অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত একটি ব্যবস্থার অংশমাত্র। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র করা হয়েছে।” দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এই দলকে বহুবার আঘাত করা হয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবার মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।” আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে কি না জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না।” তিনি বিএনপির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগও নাকচ করেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বিএনপিও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। সেই বাংলাদেশে কখনও ধর্মীয় আগ্রাসন ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে না।”
বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় যুবসমাজ এবং ‘জেন জি’ (জেনারেশন জেড) প্রজন্মের নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন সরকারগুলো বর্তমানে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। প্রবল জনসমর্থন ও পরিবর্তনের বড় ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্র পরিচালনার জটিলতা এখন তাদের সামনে দৃশ্যমান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ এই নতুন সরকারগুলোর যাত্রাপথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে। বিগত কয়েক বছরে এই তিন দেশেই তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় দেউলিয়া অবস্থা ও নিত্যপণ্যের চরম সংকটে গণ-বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পতন হয়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিপ্লবে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে নেপালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সৃষ্ট ‘জেন জি’ বিপ্লবের জোয়ারে কে পি শর্মা অলির সরকারের পতন ঘটে। দেশগুলোর আইএমএফ নির্ভরতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যুবসমাজের জনসংখ্যাগত চাপ এবং রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ উসকে দিতে এই আন্দোলনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করেছিল। গণ-অভ্যুত্থানের পর এই তিন দেশের রাজনৈতিক গতিপথ ভিন্ন ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। নেপালে উগ্র পরিবর্তনের পথে হেঁটে সাবেক র্যাপার বালেণ শাহ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিএনপি নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এবং শ্রীলঙ্কায় মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী জোটের নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন সরকারগুলোকে ঘিরে জনমনে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হলেও অনভিজ্ঞতা ও ধীরগতির কারণে সেই আশাবাদ দ্রুতই ফিকে হতে শুরু করেছে। নেপালে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম মাসেই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’ মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ এই সংকটগুলোর পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং রেমিট্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এই দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে, যা নতুন সরকারগুলোর স্বস্তির সময়কে অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একধরনের আস্থার সংকট বিরাজ করছে। বাংলাদেশে গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও উত্তেজনা বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। নেপালের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর খামখেয়ালি আচরণ দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার নতুন এই সরকারগুলো যদি বৈশ্বিক ধাক্কা সামলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে দেশগুলোতে আবারও তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণ-বিক্ষোভের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি আগামী বুধবার (৬ মে) শপথ গ্রহণ করবেন। জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে দুপুর ১২টায় তাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের পরে যাওয়ায় প্রথমে তার মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জন সংসদ সদস্য গত ৩ মে শপথ গ্রহণ করেছেন। ওই দিন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জন প্রার্থী শপথ নেন। নুসরাত তাবাসসুমের এই শপথে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জোটের আরও একজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। জামায়াত জোটের জন্য বরাদ্দকৃত ১৩টি আসনের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় মনিরা শারমিন নামের এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসিতে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকার পর তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। তবে ৪ মে আপিল শুনানির কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের একজন বিচারক অপারগতা প্রকাশ করায় ৫ মে অপর একটি বেঞ্চে শুনানির কথা রয়েছে। তীব্র আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে নুসরাত তাবাসসুমের শপথ নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবারের এই শপথমহলের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী আসনের শূন্যতা পূরণের প্রক্রিয়াটি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে।