- প্রচ্ছদ
- শিক্ষা
শিক্ষা
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তনের কারণে লাখো ঋণগ্রহীতার জন্য নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ‘সেভ’ নামে পরিচিত একটি ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাঁরা এখনো বিকল্প পরিকল্পনা বেছে নেননি, তাঁদের অনেকেই ‘চূড়ান্ত নোটিশ’ পাচ্ছেন। এই নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন না করলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তাঁদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট কিস্তির পরিকল্পনা চালু করতে পারে। এতে আগের তুলনায় মাসিক পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইক ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির সরকারি শিক্ষাঋণ সহায়তা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে আদালতের আদেশের পর ‘সেভ’ বা ‘সেভিং অন আ ভ্যালুয়েবল এডুকেশন’ পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিকল্পনায় ঋণগ্রহীতার আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হতো। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় থাকা প্রায় ৭৫ লাখ ঋণগ্রহীতাকে বিকল্প পরিশোধ পরিকল্পনায় যাওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। https://studentaid.gov/articles/save/ প্রথম পর্যায়ে ঋণ ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের নোটিশ পাঠানো শুরু করে। ওই নোটিশে নতুন পরিশোধ পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়। কেউ সেই সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে তাঁকে আরও ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হতে পারে। তবে সবার নোটিশ একই দিনে পাঠানো হয়নি। ফলে প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার শেষ সময়সীমাও এক নয়। নিজের ঋণ ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠানের পাঠানো নোটিশ থেকেই সঠিক তারিখ জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকারি শিক্ষাঋণ সহায়তা দপ্তর। চূড়ান্ত সময়সীমার মধ্যে নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন না করলে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ সাধারণ নির্দিষ্ট কিস্তির পরিকল্পনা অথবা নতুন স্তরভিত্তিক নির্দিষ্ট কিস্তির পরিকল্পনায় স্থানান্তর করা হতে পারে। কোন পরিকল্পনা প্রযোজ্য হবে, তা ঋণ বিতরণের তারিখসহ সংশ্লিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করবে। এসব পরিকল্পনায় মাসিক কিস্তি আয়ভিত্তিক পরিকল্পনার তুলনায় বেশি হতে পারে। যাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি কেটে নেওয়া হয়, তাঁদের ক্ষেত্রেও নতুন কিস্তির পরিমাণ অনুযায়ী টাকা কাটার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। সরকারি শিক্ষাঋণ সহায়তা দপ্তর জানিয়েছে, নতুন পরিকল্পনায় যাওয়ার পর ঋণগ্রহীতাকে প্রথম কিস্তি পরিশোধের নির্ধারিত তারিখের অন্তত ২১ দিন আগে নতুন মাসিক কিস্তির পরিমাণ জানানো হবে। তাই শুধু চূড়ান্ত নোটিশ পাওয়ার পরই নয়, নতুন কিস্তি কত হবে এবং কখন থেকে কার্যকর হবে, সেটিও যাচাই করা জরুরি। ঋণগ্রহীতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো, নোটিশ উপেক্ষা না করে দ্রুত নিজেদের ঋণের অবস্থা যাচাই করা। সরকারি ওয়েবসাইট StudentAid.gov-এ প্রবেশ করে নিজের ঋণের ধরন, বর্তমান পরিশোধ পরিকল্পনা এবং বিকল্প পরিকল্পনার যোগ্যতা দেখা যায়। সেখানে থাকা ঋণ পরিশোধের হিসাবযন্ত্র ব্যবহার করে সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি ও মোট পরিশোধের পরিমাণ তুলনা করা সম্ভব। এরপর নিজের পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই পরিকল্পনা বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিতে হবে। আয়ের ভিত্তিতে কিস্তি নির্ধারণ করা হয় এমন কিছু পরিকল্পনাও যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য রয়েছে। এর মধ্যে আয়ভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, আয় ও ঋণ পরিশোধের সম্পর্কনির্ভর পরিকল্পনা এবং ‘পে অ্যাজ ইউ আর্ন’ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ‘রিপেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্ল্যান’ বা নতুন সহায়তাভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনাও চালু হয়েছে। তবে সব ঋণগ্রহীতা সব পরিকল্পনার জন্য যোগ্য নন। ঋণের ধরন, ঋণ বিতরণের সময় এবং ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে। যাঁরা সরকারি চাকরি বা নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কারণে ঋণ মওকুফের সুবিধা পাওয়ার পথে রয়েছেন, তাঁদের জন্য পরিকল্পনা নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সব পরিশোধ পরিকল্পনার কিস্তি ঋণ মওকুফের যোগ্যতার ক্ষেত্রে একইভাবে গণ্য হয় না। বিশেষ করে সরকারি সেবা খাতে কাজের ভিত্তিতে ঋণ মওকুফের আবেদনকারীদের নতুন পরিকল্পনায় যাওয়ার আগে তাঁদের কিস্তি সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত পূরণ করবে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার আবেদনে ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। কোথাও আর্থিক অসচ্ছলতার ভিত্তিতে আবেদন করা যায়, কোথাও নির্দিষ্ট ভর্তি তথ্যসেশন বা ওপেন হাউসে অংশ নিলে এই সুবিধা মেলে। তবে আবেদন ফি মওকুফ পাওয়া মানেই পূর্ণ অর্থায়নের স্কলারশিপ পাওয়া নয়। ভর্তি, ফি মওকুফ ও পড়াশোনার অর্থায়নের জন্য পৃথক শর্ত পূরণ করতে হয়। স্টকটন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনসের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক কারণে আবেদন ফি দিতে অসুবিধা হলে ফি মওকুফের অনুরোধ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমের গ্র্যাজুয়েট স্কুলেও আর্থিক প্রয়োজন বা সংকটের ভিত্তিতে ফি মওকুফ চাওয়া যায়। নটর ডেমের আবেদনপত্রে এ অনুরোধ জানানোর এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের আবেদনকারী যোগ্যতা অনুযায়ী এই সুবিধা পেতে পারেন। ভর্তি বিষয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েও আবেদন ফি বাঁচানোর সুযোগ আছে। স্টিভেন্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনসের তথ্য অনুযায়ী, তাদের ভর্তি বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের আবেদন ফি মওকুফ দেওয়া হয়। ভার্চুয়াল ওপেন হাউসের তথ্যেও এই সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ডিয়ারবর্নের গ্র্যাজুয়েট ইভেন্টস পাতায়ও অংশগ্রহণকারীদের ফি মওকুফের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ নীতিতে ফি মওকুফ সীমিত এবং আগে আসলে আগে বিবেচনার কথা উল্লেখ রয়েছে। ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান ও প্রোগ্রামের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়টির লিবো কলেজ অব বিজনেসের এমবিএ ও বিশেষায়িত মাস্টার্স প্রোগ্রামের আবেদনবিষয়ক কিছু কর্মশালায় ফি মওকুফের সুবিধা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই যেকোনো ভার্চুয়াল সেশনে অংশ নিলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রোগ্রামে ফি মওকুফ পাওয়া যাবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের ঘোষণায় সুবিধাটি আছে কি না, তা দেখতে হবে। কিছু প্রোগ্রামে আবেদন ফি নেওয়াই হয় না। লয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগোর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি প্রোগ্রামের সম্ভাব্য আবেদনকারীদের জন্য প্রকাশিত তথ্যে কোনো আবেদন ফি নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে একটি বিভাগের এই নিয়ম অন্য বিভাগ বা ডিগ্রির জন্যও প্রযোজ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদন ফি মওকুফ ও পূর্ণ অর্থায়নের পার্থক্য নটর ডেমের তথ্যেও স্পষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েট স্কুলে টিউশন স্কলারশিপ, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও ফেলোশিপের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়। মাস্টার্স প্রোগ্রামে সহায়তার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। কোনো প্রোগ্রামে টিউশন সহায়তা থাকে, আবার কোনো ক্ষেত্রে পূর্ণ টিউশনের সঙ্গে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়। নটর ডেমের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট প্রেসিডেনশিয়াল ফেলোশিপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও বিবেচিত হন। এতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পূর্ণ টিউশন এবং প্রোগ্রাম অনুযায়ী বার্ষিক ৩৮ হাজার থেকে ৪৩ হাজার ৫০০ ডলার স্টাইপেন্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষার্থীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের পূর্ণ ব্যয়ও এই ফেলোশিপের অন্তর্ভুক্ত। এটি নির্দিষ্ট ফেলোশিপের সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবেদনকারীর জন্য সাধারণ ঘোষণা নয়। ‘৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ফি মওকুফ ও পূর্ণ অর্থায়ন’ হিসেবে উল্লেখ করা তালিকাতেও একটি সংশোধন প্রয়োজন। সেখানে লয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগোর দুটি প্রোগ্রাম আলাদা করে গণনা করা হয়েছে। ফলে ৩০টি ক্রমিক থাকলেও পৃথক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে ২৯টি। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের কোন ক্যাম্পাসের কথা বলা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম থাকায় সবগুলোর সব প্রোগ্রামে একই সুবিধা রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের জন্য প্রথম কাজ হলো পছন্দের ডিগ্রি ও বিভাগ নির্ধারণ করা। এরপর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশনস ও ফান্ডিং নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, ফি মওকুফের পদ্ধতি এবং অর্থায়নের শর্ত মিলিয়ে নিতে হবে। অর্থায়নের প্রস্তাব পেলে কত বছরের টিউশন, কত মাসের স্টাইপেন্ড এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কতটুকু ব্যয় দেওয়া হবে, তা লিখিত প্রস্তাবেই নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স করার জন্য ফালাক সুফি স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন যোগ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। এই বৃত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের টিউশন, উপবৃত্তি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয় ফি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে ভর্তির জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনের শেষ সময় ১৫ জানুয়ারি ২০২৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের অধীনে কেভর্কিয়ান সেন্টারের নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামের সঙ্গে এই বৃত্তি যুক্ত। ডন ও দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের সংরক্ষিত বিবরণে এসব তথ্য পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর এমন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা বৃত্তিটির লক্ষ্য, যাঁদের পক্ষে এই আর্থিক সহায়তা ছাড়া স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করা কঠিন। নির্বাচনে নারী আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি কেবল নারীদের জন্য সংরক্ষিত বৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক বিবেচনার মধ্যে পড়লেও শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া বা নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী হওয়াই বৃত্তি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা ও বৃত্তির নির্বাচনী শর্ত পূরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে উপবৃত্তির ন্যূনতম পরিমাণ ৩৭ হাজার ১৩২ মার্কিন ডলার। এটি একটি শিক্ষাবর্ষের উপবৃত্তি, দুই বছরের মোট অর্থ নয়। পাশাপাশি টিউশন, শিক্ষার্থীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন ও সার্ভিস ফি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বহনের কথা বলা হয়েছে। সহায়তা অব্যাহত রাখতে গ্র্যাজুয়েট স্কুলের নির্ধারিত একাডেমিক মান বজায় রাখতে হবে। আবেদন করতে আগ্রহীদের এনওয়াইইউর গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের অ্যাপ্লিকেশন রিসোর্স সেন্টারে গিয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অনলাইন আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি এবং বৃত্তি বিবেচনার নির্দেশনা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। মূল লেখায় জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট ও একাডেমিক নথির যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ আবেদনতালিকা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামভিত্তিক নির্দেশনাই প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারণ করবে। এই বৃত্তি এনওয়াইইউর সব বিষয়ের মাস্টার্সের জন্য প্রযোজ্য নয়। নির্বাচিত নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরাই এর আওতায় বিবেচিত হবেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সুবিধার বাইরে বিমানভাড়া, ভিসা ফি বা ব্যক্তিগত সব ব্যয়ও বহন করা হবে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। টিউশন ফি, বইপত্র, আবাসন, যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জানাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের আবেদন চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ। ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষা বিভাগ জানায়, ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার আবেদনপত্র সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই আবেদনপত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার খরচ মেটাতে বিভিন্ন ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আবেদনপত্রটি নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু করা হয়েছে। এই আবেদনের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীরা অনুদান, শিক্ষাঋণ এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগভিত্তিক সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। অনুদানের অর্থ সাধারণত নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ফেরত দিতে হয় না। অন্যদিকে, শিক্ষাঋণ গ্রহণ করলে ঋণের শর্ত অনুযায়ী তা পরিশোধ করতে হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগভিত্তিক সহায়তা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। আবেদন করলেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। যেসব পরিবারের সন্তান উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের উচিত আগেভাগে আর্থিক সহায়তার নিয়ম জেনে নেওয়া। ইতোমধ্যে কলেজে পড়ছেন—এমন শিক্ষার্থীরাও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করতে পারেন। আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি শিক্ষাসহায়তা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নিজের হিসাব তৈরি করে সঠিক শিক্ষাবর্ষের আবেদনপত্র নির্বাচন করতে হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শুরু হওয়া শিক্ষার জন্য ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদনপত্র প্রযোজ্য। আবেদনপত্র পূরণের সময় শিক্ষার্থীর পরিচয়, পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং করসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। নির্ভরশীল শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে অভিভাবকের তথ্যও জমা দিতে হতে পারে। কোন তথ্য প্রয়োজন হবে, তা শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদনে সাধারণত ২০২৫ সালের করসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। তাই আবেদন শুরুর আগে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো। আবেদনপত্র পূরণ করতে কোনো ফি লাগে না। সরকারি ওয়েবসাইটের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন জমা দেওয়ার জন্য টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো ফেডারেল শিক্ষাসহায়তা ডট গভ—এখান থেকেই আবেদন ও নির্দেশনা পাওয়া যাবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ফলাফল দেখা যায়। কিছু আবেদন প্রক্রিয়াকরণে এক থেকে তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এরপর শিক্ষার্থী তাঁর আবেদনের সারসংক্ষেপে সম্ভাব্য সহায়তার তথ্য দেখতে পারবেন। তবে এটি চূড়ান্ত অর্থ অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। কলেজে ভর্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যাচাই শেষে প্রকৃত সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। ফেডারেল পর্যায়ে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২০২৮ সালের ৩০ জুন। তবে অঙ্গরাজ্য, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাসহায়তা কর্মসূচির সময়সীমা এর আগেই শেষ হতে পারে। কিছু সহায়তা সীমিত অর্থের কারণে আগে আবেদনকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তাই শেষ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করা এবং নিজের অঙ্গরাজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়সীমা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। বৃত্তি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেয়, কোনোটির অর্থায়ন সীমিত মেয়াদের। আবার আবেদনের সময়সীমা নির্ভর করে কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবেদনকারীর দেশের ওপর। আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকার কয়েকটি সময়সীমায় সংশোধনও প্রয়োজন। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ ও ইপিএফএলের বৃত্তিতে আবেদন করতে ডিসেম্বর কিংবা এপ্রিল পর্যন্ত সময় আছে ধরে অপেক্ষা করলে সুযোগ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। ইটিএইচ জুরিখের এক্সেলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রামে ২০২৭ সালের শরৎকালীন মাস্টার্সের জন্য আবেদন নেওয়া হবে ২০২৬ সালের ১ থেকে ৩০ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের এই আবেদনপর্ব অনুসরণ করতে হবে। ফলে তালিকায় উল্লেখ করা নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়সীমাটি যথাযথ নয়। ইপিএফএল মাস্টার এক্সেলেন্স ফেলোশিপের ২০২৭ সালের নির্দেশনায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। বৃত্তির বিবেচনায় আসতে মাস্টার্সের প্রথম আবেদনপর্বে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা, ফি পরিশোধ ও আবেদন চূড়ান্ত করতে হবে। পরে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন বিবেচিত হলেও এই ফেলোশিপের যোগ্যতা থাকবে না। বৃত্তিটিতে প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ দেওয়া হয়, সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত। এটিকে সব খরচ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট হেনেসি স্কলার্সের ২০২৭ সালের আবেদন ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকাশিত সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর। এই বৃত্তির পাশাপাশি স্ট্যানফোর্ডের সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামেও আলাদা আবেদন করতে হয়। অর্থাৎ বৃত্তিতে আবেদন করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন সম্পন্ন হয় না। ইউরোপের ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্সের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ কোর্সে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হয়। তবে এটি সব কোর্সের অভিন্ন সময়সীমা নয়। প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ভর্তি ও বৃত্তির নির্দেশনা রয়েছে। জার্মানির ডাডকে একটি নির্দিষ্ট বৃত্তি হিসেবে দেখাও বিভ্রান্তিকর। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে, যার একটি হলো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের ইপস বৃত্তি। ইপসের আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কোর্স অনুযায়ী আলাদা। তাই ডাডের জন্য আগস্ট থেকে নভেম্বর কিংবা ইপসের জন্য আগস্ট থেকে মার্চকে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সময়সীমা ধরা যাবে না। ফ্রান্সের আইফেল এক্সেলেন্স বৃত্তিতে শিক্ষার্থী সরাসরি ক্যাম্পাস ফ্রান্সে আবেদন করেন না। ফরাসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে আবেদন জমা দেয়। ২০২৭ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন জমার শেষ সময় ৬ জানুয়ারি। তবে শিক্ষার্থী বাছাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সময়সীমা এর আগেই হতে পারে। আইফেলের অর্থায়ন নিয়েও স্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন। ক্যাম্পাস ফ্রান্স জানিয়েছে, বৃত্তি থেকে সরাসরি টিউশন ফি দেওয়া হয় না। তবে নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ডিগ্রিতে ফরাসি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রযোজ্য নিয়মে টিউশন ফি থেকে ছাড় পেতে পারেন। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সব কোর্সের খরচ একইভাবে মওকুফ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নেদারল্যান্ডসের এনএল স্কলারশিপকে পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি বলা স্পষ্টতই ভুল। সরকারি উচ্চশিক্ষা তথ্যসেবা স্টাডি ইন এনএল জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহনকারী বৃত্তি নয়। আবেদনের শেষ সময়ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। যুক্তরাজ্যের গ্রেট স্কলারশিপও সব খরচ বহন করে না। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে এক বছরের নির্দিষ্ট পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের টিউশন ফিতে ১০ হাজার পাউন্ড সহায়তা দেওয়া হয়। আবেদনের সময়সীমা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা। হাঙ্গেরির স্টিপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম টিউশন ফি, ভাতা ও আবাসনসংক্রান্ত সহায়তা দিলেও আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই সুবিধা জীবনযাপনের সব খরচ মেটায় না। শিক্ষার্থীকে নিজের অর্থ থেকেও ব্যয় করতে হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরির বাইরে থাকলে আবাসন সহায়তা দিয়ে পুরো ভাড়া মেটানো নাও যেতে পারে। আয়ারল্যান্ডের গভর্নমেন্ট অব আয়ারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন স্কলারশিপের প্রকাশিত কাঠামো অনুযায়ী, এক বছরের জন্য ১০ হাজার ইউরো ভাতা ও ওই বছরের পূর্ণ ফি মওকুফের সুবিধা রয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি পিএইচডির পুরো সময়ের অর্থায়ন নয়। ফলে ডিগ্রির মেয়াদ বেশি হলে পরবর্তী সময়ের অর্থের ব্যবস্থা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ল্যারেন্ডন বৃত্তিতে সাধারণত আলাদা আবেদন লাগে না। সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স বা ডিফিল কোর্সের ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারির অর্থায়নসংক্রান্ত সময়সীমার মধ্যে ভর্তি আবেদন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। তাই শুধু জানুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে ধরে না নিয়ে নিজের কোর্সের নির্দিষ্ট তারিখ দেখা প্রয়োজন। কমনওয়েলথ মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির ক্ষেত্রে কমিশনের আবেদনপদ্ধতির পাশাপাশি মনোনয়নকারী সংস্থার প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হয়। কমনওয়েলথ শেয়ার্ড বৃত্তিতে আবার অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রার্থী বাছাই করে। তিনটি কর্মসূচিকে একই আবেদনপদ্ধতি বা সময়সীমার মধ্যে ফেলা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামেও সব পর্যায়ের জন্য অভিন্ন পূর্ণ বৃত্তি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েট স্কুল জানিয়েছে, অধিকাংশ মাস্টার্স শিক্ষার্থী সেখান থেকে আর্থিক সহায়তা পান না এবং নিজ দায়িত্বে টিউশন ফি দেন। পিএইচডির অর্থায়ন কাঠামো আলাদা। ফলে ‘ইয়েল ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ’ নাম দেখেই মাস্টার্সে পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত ধরে নেওয়া যাবে না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের যোগ্যতা। আন্তর্জাতিক বৃত্তি মানেই সব দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন, এমন নয়। যেমন বেলজিয়ামের ভিএলআইআর ইউওএসের আইসিপি কানেক্ট বৃত্তিতে নির্ধারিত দেশের নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্ত রয়েছে। তাই অর্থায়ন ও সময়সীমা দেখার আগেই নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বৃত্তির প্রস্তুতিতে তাই নামের তালিকার চেয়ে প্রয়োজন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের তথ্য। কোন ডিগ্রির জন্য সুযোগ, বাংলাদেশিরা যোগ্য কি না, অর্থায়ন কত বছরের, টিউশন ও জীবনযাপনের কতটুকু খরচ মিটবে এবং ভর্তি ও বৃত্তির জন্য পৃথক আবেদন লাগবে কি না, এসব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আনুমানিক মাসভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতির ধারণা দিতে পারে, তবে আবেদন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমার বিকল্প হতে পারে না।
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সল পার্লমুটারের সঙ্গে একই গবেষণাপত্রের সহলেখক হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ আল জামান। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কানসাসে অধ্যয়নরত এই গবেষক লাজুলি স্পেস অবজারভেটরি প্রকল্পের একটি গবেষণাপত্রে যুক্ত আছেন। ‘দ্য লাজুলি স্পেস অবজারভেটরি: আর্কিটেকচার অ্যান্ড ক্যাপাবিলিটিজ’ শিরোনামের গবেষণাপত্রটি দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাপত্রের প্রকাশিত প্রথম পৃষ্ঠায় অনলাইনে প্রকাশের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৩ অক্টোবর ২০২৬। এতে পার্লমুটার ও আবদুল্লাহ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকের নাম রয়েছে। লেখক তালিকায় আবদুল্লাহর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব কানসাসের পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের নাম দেওয়া হয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে আবদুল্লাহ জানান, তিন বছর আগেও নোবেলজয়ী কোনো পদার্থবিজ্ঞানীর সঙ্গে গবেষণাপত্রের সহলেখক হওয়ার কথা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতো। যে স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পে তিনি কাজ করেছেন, সেটির গবেষণাপত্রে পার্লমুটারের পাশাপাশি নিজের নাম দেখে তিনি আনন্দিত। এই কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নিজের গবেষণা উপদেষ্টা অধ্যাপক ইয়ান জে. এম. ক্রসফিল্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, ক্রসফিল্ড তাঁদের এই কাজের উপযুক্ত মনে করেছিলেন বলেই প্রকল্পটিতে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর সহকর্মী জেসন পেরোও গবেষণাপত্রটির সহলেখক। লাজুলি স্পেস অবজারভেটরি নিয়ে গবেষণাপত্রটিতে প্রস্তাবিত মহাকাশ পর্যবেক্ষণাগারের প্রাথমিক নকশা ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে। এটি তিন মিটার অ্যাপারচারের একটি টেলিস্কোপভিত্তিক প্রকল্প, যা দৃশ্যমান আলো থেকে নিকট অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য পরিকল্পিত। এর গবেষণার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত পরিবর্তনশীল মহাজাগতিক ঘটনা, নক্ষত্র ও গ্রহ এবং মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তন। সৌরজগতের বাইরের গ্রহের ছবি ধারণ ও সেসব গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণের সক্ষমতাও প্রকল্পটির পরিকল্পনায় রয়েছে। গবেষণাপত্রটি মূলত পর্যবেক্ষণাগারের নকশা ও সম্ভাব্য সক্ষমতা নিয়ে লেখা। আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত একাডেমিক পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব কানসাসে অধ্যাপক ক্রসফিল্ডের নেতৃত্বাধীন এক্সোল্যাবে সৌরজগতের বাইরের গ্রহ নিয়ে গবেষণা করছেন। এর আগে তিনি ঢাকার নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সল পার্লমুটার দূরবর্তী সুপারনোভা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি বাড়ছে, এমন আবিষ্কারের জন্য ২০১১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। একই আবিষ্কারের স্বীকৃতিতে ব্রায়ান পি. স্মিট ও অ্যাডাম জি. রিসও ওই বছর পুরস্কৃত হন। এই অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তিগত জীবনের স্মরণীয় অর্জন হিসেবে দেখছেন আবদুল্লাহ। পোস্টে রসিকতা করে তিনি লিখেছেন, ভবিষ্যতে নাতি-নাতনীদের কাছে গল্পটি তিনি বাড়িয়ে বলবেন। এমন একটি গবেষকদলের অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন তিনি।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মুমতাহিনা করিম মীম যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির প্রস্তাব পাওয়ার পর আরকানসাসের হেনড্রিক্স কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালে তিনি কলেজটির হেইস মেমোরিয়াল স্কলারশিপ অর্জন করেন, যার আওতায় টিউশন ফি, থাকা ও খাবারসহ সরাসরি শিক্ষাব্যয় বহন করা হয়। হেনড্রিক্স কলেজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৯ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার জন্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারজন এই বৃত্তি পেয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশের মীমকে হেইস ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী। কলেজ জানিয়েছে, টিউশন ফি বাড়লে বৃত্তির অর্থও সেই অনুযায়ী বাড়ে। মীমকে নিয়ে প্রচারিত ‘৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপ’ কথাটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৃত্তির প্রস্তাবের সম্মিলিত মূল্য। ইত্তেফাকের ২০২৫ সালের ৪ আগস্টের প্রতিবেদনে এই হিসাব উল্লেখ করা হয়। এটি এক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বৃত্তি কিংবা একসঙ্গে তাঁর হাতে আসা অর্থ নয়। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, এসব বিকল্পের মধ্য থেকে তিনি হেনড্রিক্স কলেজকে বেছে নিয়েছেন। প্রথম আলোর ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মীম ওই বছরের ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। ২৬ আগস্ট তাঁর ক্লাস শুরু হয়। তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ফলে তাঁর এই অর্জনটি ২০২৫ সালের, নতুন করে পাওয়া বৃত্তির ঘোষণা নয়। রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় জন্ম হলেও মীম বড় হয়েছেন চট্টগ্রাম নগরে। অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয়ের শুরু মায়ের হাত ধরে। প্রথম আলোকে মীম জানান, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা তাঁকে কোডিং শেখার ভিডিও দেন। সপ্তম শ্রেণিতে স্কুলের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেন। নবম শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রোগ্রামিং ক্লাব, যেখানে অন্য শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখাতেন। করোনাকালে ইউটিউব দেখে রোবোটিকসের বিভিন্ন কাজ শেখেন মীম। জমানো টাকায় আরডুইনো কিট ও সেন্সর কিনে নিজের ঘরে ছোট একটি পরীক্ষাগার গড়ে তোলেন। সেখানেই তৈরি করেন খাবার পরিবেশনকারী রোবট ‘কিবো’। পড়াশোনার পাশাপাশি আঁকাআঁকি, বিতর্ক, সাহিত্য ও সংগীতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। মীমের ভাষ্য, এসব অভিজ্ঞতা বিদেশে ভর্তির আবেদনে তাঁকে সহায়তা করেছে। প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মেয়েদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও পরিবারের, বিশেষ করে মায়ের সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি।
ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামের মো. সাজিবুল ইসলাম প্রায় চার কোটি টাকার ফিন্যান্সিয়াল এইড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গ কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৫ সালে তাঁর এই ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। কাঠমিস্ত্রি বাবার সংসারে বেড়ে ওঠা সাজিবুলের প্রস্তুতির বড় অংশজুড়ে ছিল অনলাইনে শেখা, ইংরেজির দক্ষতা বাড়ানো এবং বিদেশে ভর্তির সঠিক তথ্য খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা। আজকের পত্রিকায় ২০২৫ সালের ৩১ মে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে সাজিবুল জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার সবচেয়ে বড় বাধা ছিল সঠিক দিকনির্দেশনা ও তথ্যের অভাব। ইংরেজিতে কথা বলার পরিবেশও ছিল সীমিত। এসব বাধা পেরিয়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করেন। তাঁর আর্থিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় চার কোটি টাকা বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সাজিবুলের বাবা মো. রুহুল আমিন পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। মা হালিমা বেগম গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের পরিবারে ছোটবেলা থেকেই আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়াশোনা করেছেন তিনি। স্থানীয় ২১০ নম্বর চর শশিভূষণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু। পরে বরিশালের কর্ণকাঠী ইজ্জাতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। আব্দুর রসিদ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম ও দশম শ্রেণি শেষ করার পর গ্রামের বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। বিদেশে পড়ার আগ্রহ তৈরিতে বড় ভাই মো. আল আমিনের ভূমিকা ছিল। বড় ভাই স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সাজিবুলও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। উচ্চমাধ্যমিকের পর দেশের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি বিদেশে আবেদনের জন্য নিজেকে তৈরি করেন তিনি। বড় ভাইয়ের পরামর্শে নেক্সটজেন অ্যাব্রড থেকে এসএটি ও ডুয়োলিঙ্গো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন সাজিবুল। ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে ব্যবহার করেন ইউটিউব ও অনলাইনে বিনা মূল্যে পাওয়া শিক্ষাসামগ্রী। কলেজ বোর্ডের বিগফিউচার প্ল্যাটফর্মে খোঁজ করতে গিয়ে গেটিসবার্গ কলেজ সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে সেখানে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ ও আর্থিক সহায়তা পান। এই প্রস্তুতির আগেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে। করোনাকালে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় এক বছর মাস্ক বিক্রি করেন সাজিবুল। সংসারের সেই সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি চালিয়ে যান। উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করতে চান সাজিবুল। নিজ গ্রামের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে চান, যাতে তথ্য ও দিকনির্দেশনার অভাবে অন্য শিক্ষার্থীদের পথ আটকে না যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পূর্ণকালীন ও সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টার থেকে নতুন ন্যূনতম স্টাইপেন্ড কার্যকর হবে। ১২ মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বছরে ন্যূনতম ৩৫ হাজার ১০০ ডলার এবং ১০ মাসের নিয়োগে শিক্ষাবর্ষে ন্যূনতম ২৭ হাজার ডলার পাবেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ফান্ডিং প্যাকেজে টিউশন ও নির্ধারিত ফি মওকুফের সুবিধাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের প্রকাশিত তথ্যে এসব জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পিএইচডি এক্সিলেন্স ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এই স্টাইপেন্ড কাঠামো প্রযোজ্য হবে। এটি সব মাস্টার্স বা পিএইচডি আবেদনকারীর জন্য স্বয়ংক্রিয় অর্থায়নের ঘোষণা নয়। পূর্ণকালীন ও সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে নিয়োগের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়া হবে। পিএইচডির অ্যাসিস্ট্যান্টশিপগুলো প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়। বাফেলোতে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা পাঠদান কার্যক্রমে, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কাজে এবং রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টরা শিক্ষকদের গবেষণায় সহায়তা করেন। টিচিং ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টের নিয়োগ সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেয়। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয় বিভাগ বা গবেষণা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে। ফুল অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা এবং হাফ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ১০ ঘণ্টা কাজের প্রত্যাশা থাকে। স্টেট পেরোলে থাকা টিচিং ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ কিছু সুবিধা রয়েছে। নিয়োগের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য সুবিধা ও শর্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। মাস্টার্সে পড়তে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে অর্থায়নের বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মাস্টার্স প্রোগ্রামের খরচ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে বহন করতে হয়। ফলে পিএইচডির জন্য ঘোষিত স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের কাঠামো মাস্টার্সেও একইভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না। আবেদনের যোগ্যতা, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের প্রাপ্যতা ও সময়সীমা জানতে আগ্রহীদের নিজ নিজ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরাও পছন্দের বিভাগের কাছে ইমেইলে এসব তথ্য জানতে পারেন।
এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবার পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে এবং অকৃতকার্য হওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষা এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর বগুড়ার শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি আয়োজিত ৪৯তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি অকৃতকার্য ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এগিয়ে গেলে চলবে না, পিছিয়ে পড়াদের জন্যও ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এসএসসিতে সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলে ফল প্রকাশের পর দ্রুত পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। এই পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পুনঃপরীক্ষাতেও সফল না হলে তাদের কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে পুনঃপরীক্ষার সময়সীমা ও সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে, আবেদন কীভাবে করতে হবে কিংবা পরীক্ষার ফি ও সময়সূচি কী হবে, সে বিষয়ে একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একই অনুষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে এসব কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে সরকার। সাধারণ শিক্ষায় বারবার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট না করে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা সরদার কেরামত আলী। উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাসহ শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। সূত্র: একাত্তর টিভি
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শর্তে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন, অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে নতুন ভিসার আবেদন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন বিধি শিক্ষার্থী ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) এবং শিক্ষার্থীর অভিভাবক ভিসা (সাবক্লাস ৫৯০)—দুই ধরনের ভিসার আবেদনকারীদের জন্য প্রাসঙ্গিক। নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সেখানে থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি এবং আবেদনকারীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নেওয়ার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ওপর। তাই অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা, ভ্রমণ কিংবা বসবাসের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন বিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, এখন থেকে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে করতে হবে। আগে থেকেই দেশটিতে শিক্ষার্থী ভিসায় অবস্থান করছেন—এমন ব্যক্তিরাও চাইলেই অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড়ের আওতায় পড়তে হবে। আবেদনকারীর বর্তমান ভিসার ধরন এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে তিনি দেশটির ভেতরে থেকে আবেদন করতে পারবেন কি না। যাঁরা নতুন শর্ত অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করতে বাধ্য, তাঁদের ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ও অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া চলার সময় অন্য কোনো বৈধ ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময় দেশের বাইরে থাকার শর্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে, নতুন নিয়ম না মেনে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে আবেদন করলে সেটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে আবেদনকারীর বর্তমান ভিসার অবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আগের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী ভিসার আবেদন করার সুযোগও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা ও ছাড়ের শর্ত যাচাই করা জরুরি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নতুন নিয়মে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাঁদের সঙ্গী বা নির্ভরশীল সন্তানকে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। একই বিধি পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আবার শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হওয়ার পর আলাদা আবেদনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগও সাধারণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সীমিত কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। পিএইচডি বা ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থী, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর কিংবা প্রতিরক্ষা বিভাগের অর্থায়নে পড়াশোনা করা ব্যক্তি, বিদেশি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট দেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা কিছু শর্তে পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া বর্তমান ভিসায় আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত পরিবারের সদস্যদের পরবর্তী আবেদনে রাখার সুযোগও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে থাকতে পারে। যেমন, মূল কোর্স শেষ করতে আরও সর্বোচ্চ ১২ মাস প্রয়োজন হলে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোর্স পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় নতুন আবেদন করতে হলে বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আবেদন জমা দেওয়ার সময় একই স্থানে থাকার শর্তও রয়েছে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পরিবারের কাউকে আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করলে তাঁর আবেদন অবৈধ হতে পারে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২ অক্টোবর ২০২৬-এর আগে জমা দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনগুলো আগের বিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল—এমন পুরোনো আবেদনও এর আওতায় পড়বে। অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার আগে ভিসার যোগ্যতা, পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এবং অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে না বাইরে থেকে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভর্তি, ভিসা, ভ্রমণ বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করলে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের মেয়ে শান্তা যাদব যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেছেন। তিনি ‘মাস্টার অব মেডিকেল সায়েন্সেস ইন গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন গত ২ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের সাবেক এই শিক্ষার্থীর হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরুর তথ্য জানিয়েছে। শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রিনা যাদব লংলা চা বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। সীমিত আয় ও শিক্ষার সুযোগের মধ্যে বেড়ে ওঠা শান্তা স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে এসএসসি এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন বলে জাগোনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন শান্তা। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে পড়েছেন। চা বাগানে বেড়ে ওঠার সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও সুযোগ বাড়ানোর কাজে আগ্রহী করেছে। জাগোনিউজ২৪ গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, শান্তা উচ্চশিক্ষার জন্য ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। নিজের লক্ষ্য ও গবেষণার আগ্রহ বিবেচনায় তিনি হার্ভার্ডকে বেছে নেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর বৃত্তির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকার সমপরিমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। জাগোনিউজ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এ দায়িত্বের মাধ্যমে চা বাগানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিবরণ অনুযায়ী, গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি প্রোগ্রামে সীমিত সম্পদের পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য গবেষণা, কর্মসূচি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা শেখানো হয়। এর একটি প্রধান অংশ হলো শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে মাঠপর্যায়ে গবেষণা এবং সেই গবেষণার ভিত্তিতে স্নাতকোত্তর অভিসন্দর্ভ তৈরি করা। শান্তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে নিজের চা বাগানের মানুষের জন্য কাজ করা। জাগোনিউজ২৪-কে তাঁর বাবা ও মা জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি বিশেষ করে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান। হার্ভার্ডে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাজে লাগানোই তাঁর লক্ষ্য।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কার্যালয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সংকটের সূত্রপাত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক সায়েম ২৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, অল্প সময়ের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা দাবি করছেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।তবে সরকার কেন সাবেক উপাচার্যকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং নিজের কার্যালয়ে যান। এর আগে চলমান আন্দোলনের কারণে তিনি ক্যাম্পাসে নিয়মিতভাবে প্রবেশ করতে পারেননি এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। নতুন উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে তাঁকে দুপুরের মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রবেশপথে আবার তালা লাগিয়ে দেন। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করেন, উপাচার্য তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে, উপাচার্য কীভাবে ভবনে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। তাই ঘটনাটির প্রতিটি বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ১২ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করেন।শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, নতুন উপাচার্যকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালাবেন। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় তাঁর সঙ্গে বহিরাগত ও রাজনৈতিক কর্মীরা ছিলেন। এ ছাড়া শহর থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা দুটি বাসে হামলার অভিযোগও তাঁরা উত্থাপন করেন এবং ঘটনাটির তদন্ত দাবি করেন।তবে বাসে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলও প্রকাশিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার বিশেষ সুযোগ পাচ্ছেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে যোগ্য টেক্সাসের বাসিন্দারা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন বিনা আবেদন ফিতে। টেক্সাসের উচ্চশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আর্থিক বাধা কমানো এবং আরও বেশি শিক্ষার্থীকে কলেজে আবেদন করতে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে যাঁরা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চান, তাঁদের জন্য এটি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই কর্মসূচিতে দুই লাখ ষাট হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কারা আবেদন করতে পারবেন? এই কর্মসূচির আওতায় টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন। প্রথমবার কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ভর্তি হতে আগ্রহীরাও এই সুযোগ পেতে পারেন। আবেদনকারীর টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্যতা যাচাই করা হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিংবা টেক্সাসে পড়াশোনা করার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার যোগ্য হবেন না। কর্মসূচিটি মূলত স্নাতক পর্যায়ের আবেদনের জন্য। সাধারণ নিয়মে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের আবেদন এই ফি মওকুফের আওতায় পড়ে না। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে। কীভাবে আবেদন করবেন? শিক্ষার্থীদের প্রথমে ApplyTexas ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে অথবা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এরপর পছন্দের কলেজ, শিক্ষাবিষয় এবং ভর্তির সময় নির্বাচন করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের চাওয়া অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট সেন্ট্রাল ডে-লাইট টাইমের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, শেষ সময়টি হবে ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টা ৫৯ মিনিট। আবেদন তৈরি করে রেখে দিলে হবে না; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার প্রমাণ থাকতে হবে।যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ApplyTexas-এর মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদনের ফি মওকুফ হবে। আবেদনপ্রক্রিয়ায় ফি বা অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেখা গেলেও যোগ্য আবেদনকারীদের এই সপ্তাহে জমা দেওয়া আবেদনের জন্য অর্থ দিতে হবে না বলে প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে। আবেদনের ওয়েবসাইট: https://www.applytexas.org/ কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে? কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদন ফি আলাদা। কোনো শিক্ষার্থী একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চাইলে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে। এই কর্মসূচিতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন। তবে সাশ্রয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আবেদন ফি এবং শিক্ষার্থী কতটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন তার ওপর। আবেদন ফি মওকুফের অর্থ এই নয় যে টিউশন ফি, ভর্তি-পরবর্তী অন্যান্য খরচ বা আবাসনের খরচও মওকুফ হবে। বাংলাদেশি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী নিয়ম? যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত নয়। সুবিধাটি টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেই কেউ এই সুবিধা পাবেন না। যাঁরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান অথবা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদন করতে চান, তাঁদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আবেদন ফি মওকুফের নিয়ম যাচাই করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদনের ফি, যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নিয়ম আলাদা হতে পারে।
মাস্টার্স না করেও স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। পারডু ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইন এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগে এই পথ খোলা আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহায়তার মাধ্যমে ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। সরাসরি পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ এবং ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। কোনো বিভাগ স্নাতক ডিগ্রিধারীদের আবেদন গ্রহণ করলেও ভর্তি নির্ভর করে আবেদনকারীর যোগ্যতা ও বিভাগের নির্বাচনের ওপর। আবার ফান্ডিংয়ের ধরন, মেয়াদ এবং কোন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম ও লিখিত অফারের শর্ত অনুযায়ী। পারডু ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ভর্তি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হবে। পিএইচডি আবেদনকারীদের স্বাধীন গবেষণার সম্ভাবনাও দেখাতে হবে। বিভাগটি জানিয়েছে, পিএইচডিতে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। এই বিবেচনা প্রত্যেকের ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়ার সমার্থক নয়। জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা জর্জিয়া টেক নামে পরিচিত। এর গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর ব্যাচেলর ডিগ্রি, সমমানের ডিগ্রি অথবা উচ্চতর ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের অতিরিক্ত শর্তও প্রযোজ্য। কম্পিউটার সায়েন্সের পিএইচডি নির্দেশনায় চূড়ান্ত লক্ষ্য পিএইচডি হলে সরাসরি ডক্টরাল প্রোগ্রামে আবেদন করতে বলা হয়েছে। জর্জিয়া টেকের স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স জানিয়েছে, গবেষণা অনুদানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন ও স্টাইপেন্ড পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ফান্ডিং নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ সাধারণত প্রাথমিক ভর্তি অফারে উল্লেখ থাকে। অফারে ফান্ডিংয়ের তথ্য না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের কাছে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটেশনাল ম্যাথমেটিকস, সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডিতে মাস্টার্স বাধ্যতামূলক নয়। বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রয়োজন। আবেদনকারীদের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও ফেলোশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সাধারণত নির্ধারিত ক্রেডিট পর্যন্ত টিউশন মওকুফ, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও গ্রীষ্মকালীন সহায়তা পান। এই তথ্য ওই বিভাগের জন্য প্রযোজ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য নয়। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইনের কম্পিউটার সায়েন্স পিএইচডির ভর্তি শর্তেও সমমানের ব্যাচেলর ডিগ্রির কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রেইঞ্জার কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রথম পাঁচ বছরের ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে ফান্ডিংয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এতে পূর্ণ টিউশন মওকুফ, আংশিক ফি মওকুফ ও স্টাইপেন্ড অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে এই সুবিধাকে সব ফি এবং বছরের প্রতিটি সময়ের খরচ বহনের নিশ্চয়তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডিতে সরাসরি ভর্তির পথ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগে মাস্টার্স না করেই পিএইচডি করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ডিরেক্ট পিএইচডি ট্র্যাকে আবেদন করতে পারেন। ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোসিয়েটশিপ গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, কোনো প্রোগ্রাম অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অর্থায়ন করলেও অন্য কোনো প্রোগ্রাম অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীকে অথবা আংশিক সহায়তা দিতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই প্রথম কাজ হলো নিজের বিষয় ও গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে মানানসই প্রোগ্রাম নির্বাচন করা। ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চলতি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, ডিগ্রির সমমান, ইংরেজি দক্ষতার শর্ত এবং আবেদনের শেষ সময় দেখতে হবে। ফান্ডিংয়ের অফার পেলে টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, গ্রীষ্মকালীন সহায়তা ও নবায়নের শর্ত মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকা দিয়ে ভর্তি বা পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এফ-১ ভিসায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে অন্তত ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হতে পারে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ৭ অক্টোবর রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়। সাধারণত এফ-১ ভিসাধারীরা পড়াশোনার সময় নির্দিষ্ট শর্তে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ পেতে পারেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে যোগ্য ডিগ্রিধারীরা অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের সময় পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন। এই কর্মসূচি অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত জীবন শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনেকে ওপিটির মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি কর্মভিসার জন্য চেষ্টা করেন। নতুন প্রস্তাবের কারণে এই পথ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের খরচ প্রায় ৫০০ ডলারের কাছাকাছি হলেও প্রস্তাবিত ফি অনেক বেশি। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পর চাকরি খোঁজা ও কর্মজীবন শুরু করার পরিকল্পনায় বড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি কোন কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। প্রশাসনের যুক্তি, নতুন ফি দিয়ে জালিয়াতি ঠেকানো, অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সমালোচকদের আশঙ্কা, এত বড় অঙ্কের ফি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা পড়াশোনার খরচ মেটাতে পরিবারের সঞ্চয়, শিক্ষা ঋণ বা সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের জন্য প্রস্তাবটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করা প্রয়োজন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর এবং যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর কাছ থেকে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া ভালো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিক করণীয় হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা, ওপিটি আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সরকারি নিয়মের আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত গুজবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। নতুন ফি প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এর কার্যকর হওয়ার তারিখ, প্রযোজ্য শিক্ষার্থীর শ্রেণি এবং বিদ্যমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেগুলোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে পিএইচডি শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য ফান্ডিংসহ গবেষণার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরাল কলেজের ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আবেদনকারীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচিত গবেষকদের টিউশন ফি, জীবনযাপনের জন্য বার্ষিক অনুদান এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফুলটাইম গবেষকদের তিন বছরের এবং পার্টটাইম গবেষকদের ছয় বছরের টিউশন ফি বহন করবে স্টুডেন্টশিপ। ফুলটাইম গবেষকদের জন্য বছরে প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড করমুক্ত মেইনটেন্যান্স গ্র্যান্ট এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ৯০০ পাউন্ডের সহায়তা উল্লেখ রয়েছে। প্রচারিত তথ্যে বার্ষিক অনুদান প্রায় ২২ হাজার পাউন্ড বলা হলেও বর্তমান আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় অঙ্কটি প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড। যেসব প্রকল্পে পার্টটাইম সুযোগ রয়েছে, সেখানে পড়াশোনার সময় ও ফান্ডিং ফুলটাইমের ৫০ শতাংশ হারে নির্ধারিত হবে। এই সুযোগ ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে গবেষণার জন্য। তবে প্রচারিত পোস্টে ১৩০টি স্টুডেন্টশিপের কথা বলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রতিযোগিতার ঘোষণায় মোট সংখ্যাটি নিশ্চিত করা হয়নি। সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফার্স্ট ক্লাস অথবা আপার সেকেন্ড ক্লাস, অর্থাৎ ২:১ অনার্স ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। সমমানের আন্তর্জাতিক যোগ্যতাও বিবেচিত হতে পারে। লোয়ার সেকেন্ড ক্লাস বা ২:২ অনার্সের সঙ্গে মাস্টার্সে ডিস্টিংকশন থাকলে আবেদন বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণও দিতে হবে। ২০২৭ সালের ভর্তির আবেদন ৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। শেষ সময় ৮ জানুয়ারি ২০২৭, যুক্তরাজ্যের সময় বিকেল ৪টা। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি একই দিন রাত ১০টা। তবে যোগ্যতার অংশে ডিগ্রি অর্জনের সময় হিসেবে এখনো সেপ্টেম্বর ২০২৬ লেখা রয়েছে। তাই যাঁদের ডিগ্রি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট সময়সীমা ডক্টরাল কলেজের কাছে নিশ্চিত করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে চাওয়া ডিগ্রি সার্টিফিকেট, গবেষণা প্রস্তাব, সিভি এবং প্রয়োজনে একাডেমিক লেখার নমুনাসহ সব নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি বাদ থাকলে আবেদন সময়মতো সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রকল্পের বিবরণে উল্লেখ করা সুপারভাইজারের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগও রয়েছে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকে মাঝামাঝি সময়ে ইন্টারভিউ এবং ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ফল জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্টুডেন্টশিপ শুরু হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৭। নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে, যেখানে আবেদনকারীর যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আগ্রহ বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।এর অংশ হিসেবে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিনিময়ভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত একটি কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের ফি আরোপের প্রস্তাব এসেছে। এসব পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে পারে। ৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘোষণা দেন, হার্ভার্ড, ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ডসহ নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হবে। প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ব্যবহৃত জে-১ ভিসা কর্মসূচি যথাযথভাবে ব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এই ভিসা সাধারণত শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস শাখা, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ইতিমধ্যে তদন্তসংক্রান্ত নথি তলবের চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস শাখা তদন্তে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। অন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও নথি পর্যালোচনা বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলেছে। এই তদন্তের পাশাপাশি ৭ অক্টোবর বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কাজ করার সুযোগ নিয়েও নতুন প্রস্তাব সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছামূলক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা ওপিটিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে, এমন প্রস্তাব করেছে প্রশাসন। ওপিটি কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে সাময়িকভাবে যুক্ত হতে পারেন। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত নিয়ম; কার্যকর হয়ে গেছে এমন সিদ্ধান্ত হিসেবে একে দেখা ঠিক হবে না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পর অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিজেদের বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ওপিটি কর্মসূচির ওপর নির্ভর করেন। প্রস্তাবিত ফি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে এর ব্যয় বহন করবে, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগে কী প্রভাব পড়বে এবং নিয়মটি কবে কার্যকর হতে পারে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠবে। তবে এখনই সব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাজের অনুমতি বন্ধ হচ্ছে বা তাঁদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীর সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ছোট শিশুদের ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই অনলাইনে পড়াশোনায় সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর প্রকাশিত শিক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম চকবিট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত সিইউএনওয়াই রিডিং ফেলোস কর্মসূচি দূর থেকে পড়ানোর সুযোগ পাবে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর ঠিক আগে দ্বিতীয় শ্রেণি ও তার নিচের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিদ্যালয়ে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সীমিত করার বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু নতুন নিয়মের কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কর্মসূচি বাধার মুখে পড়ে। সিইউএনওয়াই রিডিং ফেলোস কর্মসূচির শিক্ষক ও প্রশিক্ষিত সহায়তাকারীরা শিশুদের পড়ার দক্ষতা বাড়াতে কাজ করেন। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সরাসরি গিয়ে পড়ানো সম্ভব না হলে তাঁরা ভিডিও যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষে এই কর্মসূচির আওতায় পড়াশোনার সহায়তা পাওয়া ১,৬০০ শিশুর প্রায় ৩০ শতাংশ অনলাইনে পাঠ নিয়েছিল। সহায়তাকারীদের সব বিদ্যালয়ে সরাসরি পৌঁছানো বাস্তবসম্মত না হওয়ায় দূর থেকে পড়ানোর ব্যবস্থা অনেক শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। গত গ্রীষ্মেও প্রায় ৯০০ শিশু সরাসরি এই কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছিল। গত মাসে নগরীর শিক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, কর্মসূচিটি অনলাইনে পাঠ দিতে পারবে না। এতে শিশুদের পড়ার দক্ষতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন এমন শিশুরা একটি কার্যকর শিক্ষাসুযোগ হারাতে পারে। পরে শিক্ষা বিভাগ অবস্থান পরিবর্তন করে অনলাইন পাঠদানের অনুমতি দেয়। কর্মসূচিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্রুকলিন কলেজের অধ্যাপক কেটি পেস মাইলস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, যেসব শিশু পড়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় রয়েছে, তাদের সহায়তা দিতে কর্মসূচিটি ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে। তবে এই ছাড় নিয়ে সবাই একমত নন। প্রযুক্তির ব্যবহার কমানোর পক্ষে থাকা কিছু অভিভাবক ও সংগঠকের বক্তব্য, শিশুদের সরাসরি শিক্ষক দিয়ে পড়ানোর সুযোগ বাড়ানো উচিত। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সহায়তাকারী নিয়োগের বদলে পর্দার মাধ্যমে পাঠদানের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
বিদেশে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের ২৭টি স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষায় অর্থায়নের সুযোগের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের এসব কর্মসূচিতে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত কিংবা গবেষণার খরচে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয়। কিছু কর্মসূচিতে শুধু টিউশন ফি কিংবা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপের আবেদন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য ১৪ অক্টোবর এবং কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপের জন্য ২০ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। ফ্রান্সের এমিল বুতমি স্কলারশিপের মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম আবেদন পর্বের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। তবে আবেদনকারীর নাগরিকত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত উচ্চশিক্ষা বৃত্তি। এই কর্মসূচির আওতায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬। অন্য দেশের আবেদনকারীদের জন্য কোর্সভেদে ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ অথবা ৬ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৪ অক্টোবরের ডেডলাইন সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ যোগ্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পান। স্কলারশিপে টিউশন ফি, বিমানভাড়া ও জীবনযাপনের নির্ধারিত ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ অক্টোবর ব্রিটিশ সময় বিকেল ৪টায় আবেদন শেষ হবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনও এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি স্কলারশিপেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপ মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। মাস্টার্স পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দুই বছরের প্রতিটি বছরে ১৮ হাজার ৫০০ ইউরো পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড় পান। প্রথম আবেদন পর্বের ডেডলাইন ১৮ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় পর্বের ডেডলাইন ২৯ নভেম্বর। ব্যাচেলর পর্যায়ের আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্যও আলাদা সুযোগ রয়েছে। তবে এটি মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের সব জীবনযাত্রার খরচ বহন করে না। দক্ষিণ কোরিয়ার গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস ২০২৭ কর্মসূচিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এই স্কলারশিপে বিভিন্ন পর্যায়ে টিউশন ফি, ভাষাশিক্ষা ও জীবনযাপনের সহায়তার সুযোগ থাকে। প্রকাশিত তালিকায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের এম্বাসি ট্র্যাকের ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে ইউনিভার্সিটি ট্র্যাকের আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পৃথক সময়ে পরিচালিত হয়। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর করতে আগ্রহীদের জন্য ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন, আবাসন এবং অন্যান্য নির্ধারিত শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও স্কলারশিপ বিবেচনার শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হয়। একই সময়ে রাশিয়ার ওপেন ডোরস স্কলারশিপ কর্মসূচিতেও আবেদন করার সুযোগের কথা রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত বিষয়ে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থী একই ধরনের আর্থিক সুবিধা পান না। বিশেষ করে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার খরচ বহন করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে। এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচির আওতায় জাপানের এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব টোকিওসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, জীবনযাপনের ভাতা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সুবিধা পেতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের আবেদনের সময়সীমা এবং কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত আলাদা হতে পারে। চীনের ইয়েনচিং একাডেমি স্কলারশিপেও মাস্টার্স পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই কর্মসূচিতে চীনবিষয়ক আন্তবিষয়ক গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকাশিত তালিকায় ৩০ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সময় অস্ট্রিয়ার হেলমুট ভাইথ স্টাইপেন্ডের ডেডলাইনও দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রিয়ার এই কর্মসূচি কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করতে আগ্রহী যোগ্য নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যৌথভাবে মাস্টার্স করার জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস কর্মসূচিতে একাধিক স্কলারশিপ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় এমএপিপি, আইএলএসপিএসডি, এমইএসপিওএম ও গ্লোকাল কর্মসূচির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রোগ্রামে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। তবে ইরাসমাস মুন্ডাসের সব প্রোগ্রামের আবেদন একসঙ্গে শুরু বা শেষ হয় না। প্রতিটি কোর্সের নিজস্ব আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের ইপিএফএল মাস্টার্স এক্সিলেন্স ফেলোশিপের জন্য ১৫ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ সহায়তা পান। সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত এই অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের টিউশন ফি ও আবাসনসহ অন্যান্য ব্যয়ের দায়িত্বও বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে এটিকে সব খরচ বহনকারী স্কলারশিপ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ নয়। নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএল হাই পটেনশিয়াল স্কলারশিপেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে এবং স্কলারশিপের চূড়ান্ত ডেডলাইন ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। তবে স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হতে অনেক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন ১০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। এই স্কলারশিপ মূলত নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য, সব ব্যাচেলর কোর্সের জন্য নয়। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটি এক্সিলেন্স স্কলারশিপে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয় এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেশি। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। জার্মানির ডাড ইপিওএস স্কলারশিপ উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচিতে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, অর্থনীতি, ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং নগর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও নির্দিষ্ট স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক কর্মঅভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সব কোর্সের ডেডলাইন এক নয়। ডাডের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে আলাদা আবেদন সময়সূচি দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা কাউস্টেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন সহায়তা, আবাসন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট ফান্ডিংয়ের সুযোগ পান। তবে আবেদনকারীকে আগে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তির শর্ত ও নির্ধারিত ইনটেক সম্পর্কে জানতে হবে। কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ এবং হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় যথাক্রমে ১৫ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পৃথক হতে পারে। থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতেও মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপ রয়েছে। তবে এআইটির সাধারণ স্কলারশিপে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক টিউশন ফি ছাড় দেওয়া হতে পারে। জীবনযাপনের খরচ এবং অন্যান্য ফি অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীকে বহন করতে হয়। ফলে সব এআইটি স্কলারশিপকে সম্পূর্ণ ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রকাশিত ২৭টি সুযোগের তালিকায় আরও রয়েছে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসংশ্লিষ্ট জেমস স্কলারশিপ, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের এডিবি স্কলারশিপ, সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ এবং ফ্রান্সের এমওপিজিএ ফেলোশিপ। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে কিছু গবেষণা ফেলোশিপ, কিছু টিউশন সহায়তা এবং কিছু সম্পূর্ণ স্কলারশিপ। সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাস বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত, হাঙ্গেরিতে নয়। পাশাপাশি সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপের সব বিভাগ সাধারণ মাস্টার্স ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি ভর্তির যোগ্যতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভালো সিজিপিএ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রাসঙ্গিক গবেষণা বা কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে পিএইচডি ও গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সুযোগের মধ্যে মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, স্কলারশিপের আবেদন চালু থাকা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদন চালু থাকা সব সময় একই বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে হয়। কিছু স্কলারশিপে আলাদা আবেদন প্রয়োজন, আবার কিছু প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন থেকেই ফান্ডিংয়ের জন্য বিবেচনা করা হয়। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই অক্টোবর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব স্কলারশিপের আবেদন অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে শেষ হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যোগ্যতা ও ডেডলাইন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্কলারশিপে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, বিমানভাড়া এবং অন্যান্য খরচের কতটুকু বহন করা হবে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এতে আবেদনকারীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ নির্বাচন করতে পারবেন।
নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের ভবিষ্যৎ কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের খরচ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক সিটির NYC Kids RISE Save for College Program বুধবার, ৭ অক্টোবর বাংলাসহ একাধিক ভাষায় বিনামূল্যের তথ্যভিত্তিক কর্মশালার আয়োজন করেছে। কর্মশালাটির মূল লক্ষ্য হলো নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে পড়া শিশুদের পরিবারকে কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের জন্য সঞ্চয় কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো। আজকের কর্মশালায় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা, উর্দু ও কোরিয়ান ভাষায় সরাসরি অনুবাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। NYC Kids RISE-এর তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসে। অংশগ্রহণকারী চার্টার স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। পরিবারের আয় বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই প্রাথমিক অন্তর্ভুক্তি নির্ধারিত হয় না। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য শিশুদের জন্য একটি NYC Scholarship Account তৈরি করা হয়। এই অ্যাকাউন্টে কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকে। পরিবারগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন পুরস্কার ও কমিউনিটি স্কলারশিপের মাধ্যমে সন্তানের অ্যাকাউন্টে আরও অর্থ যোগ করার সুযোগ পেতে পারে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য বাংলায় তথ্য পাওয়ার সুযোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে এবং বাংলা ভাষায় সরকারি বা কমিউনিটি সেবার তথ্য পাওয়া অনেক পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ করে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসীদের দীর্ঘদিনের কমিউনিটি উপস্থিতিও রয়েছে। আজকের কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন, সন্তানের অ্যাকাউন্ট কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে জানতে পারবেন। এই ধরনের কর্মসূচি বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হতে পারে। ছোটবেলা থেকে সঞ্চয়ের সুযোগ সম্পর্কে পরিবারকে সচেতন করা ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যয় পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য তাই সন্তানের স্কুল ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সরকারি সুবিধাগুলোর পাশাপাশি এই ধরনের সঞ্চয় ও বৃত্তি কর্মসূচির তথ্য নিয়মিত যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আজকের কর্মশালাটি ৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচিটি নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস ও নিউইয়র্ক সিটির অংশীদারিত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।