ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ধানের শীষের সমর্থকদের পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন জসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবক। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। নিহত জসিম মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের ‘ফুটবল’ প্রতীকের সমর্থক ছিলেন। ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল জসিমদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা জসিম উদ্দিন, তাঁর বৃদ্ধ বাবা মাফিক নায়েব এবং দুই ভাই মোখলেস ও মহসিনকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জসিম মারা যান।
নিহতের বড় ভাই মসিউর নায়েব অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের একমাত্র দোষ ছিল আমরা ফুটবল প্রতীকের নির্বাচন করেছিলাম। নাসির দেওয়ান ও তাঁর ছেলে শাকিল দেওয়ানের নেতৃত্বে আমাদের ওপর এই তান্ডব চালানো হয়েছে। ওরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।” উল্লেখ্য, শাকিল দেওয়ান মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বরত।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাকিল দেওয়ান দাবি করেছেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং সকালে জসিমদের পক্ষ থেকেই আগে হামলা চালানো হয়েছিল।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচনি দ্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের পর এমন সহিংসতায় পুরো চরাঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলার ফুলগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা, দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ‘ধানের শীষ’ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং এক হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজীর মুন্সিরহাট বাজারে জামায়াত সমর্থিত ব্যবসায়ীদের অন্তত পাঁচটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মুন্সিরহাট ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সুমনকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি জানিয়েছে, দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ১০-১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে, দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নে জয়নাল আবেদীন দুলাল নামের এক জামায়াত কর্মীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঘটনার সবচেয়ে করুণ অধ্যায়টি ঘটে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে; হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিজের সন্তানের ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর সইতে না পেরে স্ট্রোক করে মারা যান দুলালের মা রৌশন আরা বেগম। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহিংসতার ছায়া পড়েছে ছাগলনাইয়াতেও। সেখানে এক জামায়াত নেতার তিনটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামায়াত নেতারা অবিলম্বে এসকল হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) জানিয়েছেন, প্রাপ্ত প্রতিটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে এক রুদ্ধশ্বাস ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। আওয়ামী আমলের ‘আমি-ডামি’ আর ‘নিশিরাতের ভোটের’ গ্লানি মুছে ভোটাররা এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়েছেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের নির্বাচন ছিল ‘জায়ান্ট কিলার’দের দখলে। দেশের রাজনীতির বহু হেভিওয়েট এবং আলোচিত মুখ এবারের ব্যালট যুদ্ধে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের পরাজয়। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আলি আসগার লবির কাছে মাত্র ২ হাজার ৭০২ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। কক্সবাজার-২ আসনেও হার মেনেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। একইভাবে সুনামগঞ্জ-২ আসনে প্রখ্যাত আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং সিলেট-৬ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে লড়াই ছিল সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ। ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তরুণ তুর্কি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্ষীয়ান নেতা মির্জা আব্বাসের কাছে মাত্র ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। অন্যদিকে, ঢাকা-১৪ আসনে ‘মায়ের ডাক’-এর সানজিদা ইসলাম তুলিকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন গুম থেকে ফেরা ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের ডা. খালিদুজ্জামান শক্ত লড়াই দিলেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পিরোজপুরের ফলাফল ছিল মিশ্র। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে শামীম সাঈদী পরাজিত হলেও ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে আসছেন। এদিকে, জুলাই বিপ্লবের পরিচিত মুখ সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পরাজিত হয়েছেন। ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা ডা. তাসনিম জারাও বড় ব্যবধানে হেরেছেন। বিস্ময়কর ফলাফল দেখা গেছে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার ক্ষেত্রে। বগুড়া-২ আসনে তিনি মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্যও এই নির্বাচন ছিল বিপর্যয়কর; দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীর ফয়জুল করীমসহ চরমোনাই পীরের তিন ভাইই শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন এবং কেউ কেউ জামানতও হারিয়েছেন। এছাড়াও নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ফুটবলার আমিনুল হক, মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জুনায়েদ আল হাবীবের মতো আলোচিত প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে জয়ের স্বাদ পাননি। মূলত ভোটাররা এবার ব্যক্তি পরিচিতির চেয়ে দলীয় মেরুকরণ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকেই ব্যালট পেপারে প্রাধান্য দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘ দুই দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর লড়াই শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফলাফলে দেখা গেছে, ২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এর ফলে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে দলটি। এবারের নির্বাচনে বিএনপির এই বিশাল বিজয়ে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে নারী প্রার্থীদের পারফরম্যান্স। দলটির মনোনীত ছয়জন নারী প্রার্থী নিজ নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ধরাশায়ী করে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়াও একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও আলোচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সংসদে আসা ধানের শীষের সেই সাহসী নারী সংসদ সদস্যরা হলেন: ১. মানিকগঞ্জ-৩: আফরোজা খান রিতা ২. ঝালকাঠি-২: ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টু ৩. সিলেট-২: তাহসিনা রুশদীর লুনা ৪. ফরিদপুর-২: শামা ওবায়েদ ৫. ফরিদপুর-৩: নায়াব ইউসুফ কামাল ৬. নাটোর-১: ফারজানা শারমিন পুতুল পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ ভোটারদের সমর্থন এবং মা-বোনদের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটই বিএনপিকে এই বিশাল ব্যবধানে জয়ী হতে সাহায্য করেছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর দলটির ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। এখন দেশবাসীর নজর নতুন মন্ত্রিসভার গঠন এবং আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনার রোডম্যাপের দিকে।