যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের Buffalo শহরে রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল আমিন শাহ আলমের রহস্যময় মৃত্যুকে ঘিরে কমিউনিটিতে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই এই করুণ পরিণতি ঘটেছে।
শাহ আলম ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। প্রায় অন্ধ এই মিয়ানমার নাগরিক স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বাফেলোতে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয় অন্যের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ, আঘাত ও ‘অস্ত্র’ রাখার অভিযোগে। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তথাকথিত অস্ত্রটি ছিল একটি পর্দার রড, যা তিনি চলাচলের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতেন।
গ্রেফতারের পর তাকে এক বছর রাখা হয় Erie County Holding Center-এ। তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত ‘ডিটেইনার’ জারি করে U.S. Immigration and Customs Enforcement (আইস)। পরিবার আশঙ্কা করেছিল, জামিনে মুক্তি পেলে তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হতে পারে এই ভয়ে দীর্ঘদিন জামিন চাওয়া হয়নি।
সম্প্রতি দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তির প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। তবে পরে জানা যায়, ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বর্ডার পেট্রোল সদস্যরা তাকে হোল্ডিং সেন্টার থেকে নিয়ে যায় এবং রাতের দিকে ব্ল্যাক রক এলাকার নায়াগ্রা স্ট্রিটের একটি কফি শপে নামিয়ে দেয়। পরিবার জানায়, তিনি চোখে প্রায় দেখতেন না, ইংরেজি জানতেন না এবং নিজের বর্তমান বাসার ঠিকানাও স্পষ্টভাবে বলতে পারতেন না।
ওইদিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন শাহ আলম। কয়েকদিন পর শহরের পেরি স্ট্রিট এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় অনুসন্ধানী গণমাধ্যম Investigative Post জানায়, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মৃত্যুকে ‘স্বাস্থ্যগত’ বলে উল্লেখ করেছেন; এটি ঠান্ডাজনিত মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ড নয়।
তবে কমিউনিটির প্রশ্ন একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, ভাষাজ্ঞানহীন শরণার্থীকে সন্ধ্যার পর শহরের অন্যপ্রান্তে নামিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল? তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কার ছিল?
বাফেলোর রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতারা বলছেন, শরণার্থীদের সহায়তা ও তদারকিতে স্পষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। মানবাধিকার কর্মীরাও বলছেন, এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়—বরং পুরো শরণার্থী ব্যবস্থাপনার মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump দুই মুসলিম কংগ্রেসওম্যান Ilhan Omar ও Rashida Tlaib-কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে “দেশছাড়া” করার দাবি জানিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সাম্প্রতিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর তিনি এ মন্তব্য করেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাষণ চলাকালে ওমর ও তালিব প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি বলেন, তাদের “যেখান থেকে এসেছে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত।” তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বার্তা সংস্থা Reuters জানায়, ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই ডেমোক্র্যাট নেতারা এর তীব্র সমালোচনা করেন এবং একে বিভাজনমূলক ও বৈষম্যমূলক ভাষা হিসেবে আখ্যা দেন। উল্লেখ্য, ইলহান ওমর একজন প্রাকৃতিকীকৃত মার্কিন নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যদিকে রাশিদা তালিব যুক্তরাষ্ট্রেই জন্মগ্রহণ করেন এবং মিশিগানের নির্বাচিত প্রতিনিধি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্ট করা যায় না। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য রাজনৈতিক বক্তব্য হলেও এর কোনো তাৎক্ষণিক আইনগত ভিত্তি নেই। ঘটনাটি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অভিবাসন, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক ভাষার সীমা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার বিরুদ্ধে কর্মী নিয়োগে মার্কিন নাগরিকদের প্রতি বৈষম্য করার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, টেসলা জেনেশুনে মার্কিন নাগরিকদের বাদ দিয়ে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিচ্ছে, যাতে তাদের কম বেতন দেওয়া সম্ভব হয়। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার একজন বিচারক টেসলার পক্ষ থেকে মামলাটি খারিজ করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তবে একই সঙ্গে বিচারক মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে জানান, মামলাকারী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মামলাটি দায়ের করেছেন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, যিনি অভিযোগ করেছেন যে তিনি টেসলায় চাকরির জন্য যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তার দাবি, টেসলা সুপরিকল্পিতভাবে এইচ-১বি (H-1B) বা অন্যান্য বিশেষ ভিসাধারী বিদেশি কর্মীদের প্রাধান্য দিচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিদেশি কর্মীরা সাধারণত মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় কম বেতনে কাজ করতে রাজি থাকেন এবং ভিসার শর্তের কারণে তারা সহজে চাকরি ছাড়তে পারেন না। মামলাকারীর অভিযোগ অনুযায়ী, এটি কেবল সাধারণ নিয়োগ প্রক্রিয়া নয়, বরং মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি একটি ‘আমেরিকান-বিরোধী’ বৈষম্য। টেসলা কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, তারা শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ দেয় এবং কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তা বা নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে তাদের কোনো বিদ্বেষ নেই। প্রতিষ্ঠানটি মামলাটি খারিজ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল, যা আদালত নাকচ করে দিয়েছে। মামলাটি খারিজ না করলেও বিচারক কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একজন নিয়োগদাতার জন্য ব্যবসায়িক স্বার্থে খরচ কমানো একটি সাধারণ বিষয় হতে পারে, কিন্তু যদি সেটি প্রমাণ করা যায় যে শুধুমাত্র জাতীয়তার কারণে মার্কিন নাগরিকদের বঞ্চিত করা হয়েছে, তবে তা আইনের লঙ্ঘন। তবে এই অভিযোগ প্রমাণ করা মামলাকারীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও টেসলার বিরুদ্ধে বর্ণবাদ এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রিমন্ট কারখানায় কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে টেসলা বর্তমানে আরও কয়েকটি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন এই মামলাটি টেসলা এবং এর প্রধান নির্বাহী এলন মাস্কের জন্য নতুন এক অস্বস্তি তৈরি করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, আইনি প্রক্রিয়ায় এই ‘আমেরিকান-বিরোধী’ বৈষম্যের অভিযোগ কতটুকু সত্য প্রমাণিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম Truth Social–এ দেওয়া পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় Supreme Court of the United States। আদালত জানায়, জাতীয় জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অপব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপ করেছিলেন। আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিন্ন একটি বাণিজ্য আইনের আওতায় বিশ্বব্যাপী প্রায় সব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন নতুন শুল্ক আরোপে Trade Act of 1974–এর ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করেছে। এই আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যায়। তবে শুল্ক কার্যকর রাখার মেয়াদ ১৫০ দিনের বেশি বাড়াতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প জানান, এই সময়কে তিনি এমন কিছু শুল্ক আরোপের জন্য ব্যবহার করবেন, যা আইনগতভাবে অনুমোদিত। প্রশাসন আরও দুটি আইনের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করছে, যেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা এবং অসাধু বাণিজ্য চর্চার তদন্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি অবিলম্বে বিশ্বজুড়ে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করছি। অনেক দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যে ক্ষতির মধ্যে রেখেছে।” শুক্রবারের রায়ে ছয়জন বিচারপতি শুল্ক আরোপের বিপক্ষে অবস্থান নেন, আর তিনজন সমর্থন করেন। রায়ের পরও ট্রাম্প বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দেননি। বরং তিনি বিচার বিভাগের কয়েকজন সদস্যের সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক নীতি বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং বিভিন্ন দেশের রপ্তানি খাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।