মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করতে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে। এ বিষয়ে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি বিশ্ব পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে। একই সঙ্গে এসব সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি ও বাজার ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করা হবে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাও প্রণয়ন করবে কমিটি।
এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কমিটি গঠনের দিনই বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পরপরই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনাকে ঘিরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে আলমগীর হাওলাদার (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলার সময় তাঁর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। নিহত আলমগীর হাওলাদার মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ছিলেন। পুলিশ জানায়, আলমগীর হাওলাদার হত্যার পর প্রতিপক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গেলে সুযোগ নিয়ে আরেকটি পক্ষ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালায়। হামলাকারীরা রাস্তাঘাট অবরোধ করে প্রতিপক্ষের সমর্থিত কয়েকটি বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিকভাবে পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এদিকে আলমগীর হাওলাদারের হত্যার প্রতিবাদে বিকেলে তাঁর লাশ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাসুদ ব্যাপারী (৫৪) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজে বাধা দেবে না ইরান — দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সরকার নানা কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে বাংলাদেশ ইরানের কাছে তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা চায়। জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, প্রণালীতে প্রবেশের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে ওই কৌশলগত জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এদিকে গতকাল সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে মোট এক লাখ ২০ হাজার ২০৫ টন জ্বালানি নিয়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ভারতের ওপর বাংলাদেশের বাণিজ্যনির্ভরতা বাড়তে পারে — বণিক বার্তা বণিক বার্তা পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের ওপর বাংলাদেশের বাণিজ্যনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশই মূলত ভারত থেকে পণ্য আমদানির মাধ্যমে হয়ে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি পণ্য নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। জানা গেছে, আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাঁচ হাজার টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ভারতের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি ছাড়াও খাদ্যপণ্যের বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে। দুই আসামিকে দেশে আনতে সরকারের প্রস্তুতি — যুগান্তর যুগান্তর পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ জোরদার করেছে। বাংলাদেশ-ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দুই আসামিকে ফিরিয়ে আনতে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি প্রয়োজনীয় চিঠি প্রস্তুত করেছে। খুব শিগগিরই ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হস্তান্তরের আবেদন পাঠানো হবে। এদিকে আটক দুই আসামির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। জ্বালানি তেলের ডিপোতে সেনা মোতায়েন — মানবজমিন মানবজমিন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান তেলের ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও পাচার রোধে জেলা প্রশাসকদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিষয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সরকার জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করেছে। এ জন্য একটি মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মজুদ দিয়ে উৎপাদন চলবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত — কালের কণ্ঠ কালের কণ্ঠ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বর্তমান মজুদ জ্বালানি দিয়ে সর্বোচ্চ আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো সম্ভব। বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) জানিয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছেই প্রায় ৫৫ হাজার টন তেল রয়েছে। জামিনের জন্য এক কোটি টাকা চান প্রসিকিউটর — প্রথম আলো প্রথম আলো পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটর আওয়ামী লীগের এক সাবেক কারাবন্দী রাজনীতিককে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেছেন-এমন তথ্য হোয়াটসঅ্যাপের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে পাওয়া গেছে। রেকর্ডিংগুলো সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ। এতে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর মামলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের কথোপকথন রয়েছে। রেকর্ডিংয়ে তিনি জামিনের বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় উল্লেখ করেন, যদি শেষ পর্যন্ত মুক্তি নিশ্চিত করা যায় তবে ‘ভালো অঙ্কের’ টাকা দিতে হবে। সেখানে এক কোটি টাকার পাশাপাশি অগ্রিম ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়। আরও চার বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ — নয়া দিগন্ত নয়া দিগন্ত পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার করতে আরও চারটি বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে এসব পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা কার্যক্রম, আর্থিক সিদ্ধান্ত ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। ১২ মার্চ সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করবে সরকার — নিউ এইজ নিউ এইজ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করতে যাচ্ছেন। সংসদ অধিবেশন না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতি এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী কেবল অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করতে হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশ উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা নেই। শুরুতে কার্ড পাচ্ছে ৩৭,৫৬৪ পরিবার — আজকের পত্রিকা আজকের পত্রিকা জানায়, নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু হচ্ছে। পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৭ হাজার ৫৬৪টি পরিবার এই কার্ড পাবে। পরিবারগুলোর নারীপ্রধানের নামে কার্ড দেওয়া হবে এবং তারা মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। এই কর্মসূচির উদ্বোধন রাজধানীর বনানীতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। থানায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা — দেশ রূপান্তর দেশ রূপান্তর পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে প্রতিটি থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে সরকারকে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চাঁদাবাজ ও মব সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেই অপরাধ করুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ঢাকা বিমানবন্দরে জমছে পণ্য — দ্য ডেইলি স্টার দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি এয়ারলাইনের কার্গো ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পণ্য জমে যাচ্ছে। দুবাই, আবুধাবি, দোহা ও মাসকাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে কার্গো ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রপ্তানিকারকদের সংগঠন জানিয়েছে, আকাশপথে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক হলেও বর্তমানে জমে থাকা পণ্যের বড় অংশ ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রগামী নয়।
রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরে এলএ প্লাজা নামের একটি বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আগুন লাগার পর ভবনের ভেতরে আটকা পড়া বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বেলা ১টা ৫২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। তাদের প্রচেষ্টায় বেলা ৩টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভে যায়। ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর স্টেশনের কর্মকর্তা শাজাহান সিরাজ জানান, ১১ তলা ওই বাণিজ্যিক ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর অনেকেই ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন তলায় আটকা পড়েন। পরে টার্ন টেবিল ল্যাডার ব্যবহার করে ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন তলা থেকে ২৪ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী ছিলেন। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে চার ও পাঁচতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ধোঁয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহসান সোহেল জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ব্যক্তির নাম রাকিব হাসান। নিহত নারীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত একটি স্পা সেন্টার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগকে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।