অর্থনীতি

ছবি: সংগৃহীত
ডলারের বিপরীতে রুপির রেকর্ড পতন, ইতিহাসের সর্বনিম্নে ভারতীয় মুদ্রা

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান আরও কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দর প্রায় ৬০ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৪৯ রুপিতে।   লেনদেনের শুরুতে প্রতি ডলার ৯২ দশমিক ৯২ রুপিতে কেনাবেচা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই রুপির মান ৯৩-এর নিচে নেমে যায় এবং পরে আরও অবনতি ঘটে। এর ফলে এটি এখন পর্যন্ত রুপির সর্বনিম্ন মান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।   এর আগে গত বুধবার রুপির দর ৪৯ পয়সা কমে ৯২ দশমিক ৮৯-এ নেমে এসেছিল, যা ছিল আগের সর্বনিম্ন। তারও কয়েকদিন আগে ৯২ দশমিক ৪৮ রুপিতে লেনদেন হয়েছিল। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার রেকর্ড ভেঙেছে রুপি।   বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) অর্থ প্রত্যাহার এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি—এই তিনটি কারণে রুপির ওপর চাপ বেড়েছে।   বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে।   আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়েছে, যা রুপির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি বাজারে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তেলের দাম ১৮০ ডলার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।   এদিকে ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি নির্দেশক ডলার সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৪০-এ, যা বৈশ্বিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নতুন রেকর্ড, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে বিগত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (AAA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশটিতে প্রতি গ্যালন রেগুলার গ্যাসের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে ৩.৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবরের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে তেলের সর্বোচ্চ মূল্য। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে যে রেকর্ড উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই ভয়াবহতাকেও মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষত, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে ৯০ সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশটির আটটি অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।  ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই এবং ওয়াশিংটনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে এই দাম ৫ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
ভরিতে ২৫ হাজার টাকা কমল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ২৫ হাজার টাকা হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যে এই বড় পরিবর্তনের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।   বাজুস-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে, গত ১১ই মার্চ এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৬২ টাকা।   অন্যান্য ক্যারেটের ক্ষেত্রেও দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বর্তমানে বাজারে:   ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা।   ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লক্ষ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা।   উল্লেখ্য যে, গত ১১ই মার্চের পর থেকে মাত্র এক সপ্তাহে মোট পাঁচবার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার প্রতিবারই দাম কিছুটা করে কমেছে। গত এক বছরে স্বর্ণের বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও, সাম্প্রতিক এই দরপতন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড লাফ: সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি

ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (AAA) এর তথ্য অনুযায়ী, আজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৩.৭০ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে। গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ২.৬৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.১৪ ডলারে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৮.৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের শুরু থেকেই এই কৌশলগত জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে এই অঞ্চল থেকে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোর বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ডিসেম্বরে যেখানে গ্যাসের দাম ২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো ৩ ডলারের নিচে নেমেছিল, এখন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।  কেবল জ্বালানি নয়, জাহাজ ভাড়া এবং সারের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে বিমান ভাড়াতেও বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় মিত্ররা

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখতে চাওয়া ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়, সমুদ্রে আটকা পড়া বা ট্রানজিটে থাকা রুশ তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় (Waiver) দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা স্থিতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে দেখা গেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল দূত কিরিল দিমিত্রিভ জানিয়েছেন, এই ছাড়ের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা প্রায় এক দিনের বিশ্ব চাহিদার সমান। মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের এই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ প্রধান ইউরোপীয় মিত্ররা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মতে, রাশিয়ার আয়ের প্রধান উৎস তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করা হবে। তারা মনে করছে, মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ তেলের দাম কমাতে গিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে ছিল। সমালোচকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই রাশিয়ার সাথে এই সাময়িক সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রাশিয়ান তেলের উপর যে কারণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতা এবং তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।  ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার জেরে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায়, রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে, তা মোকাবিলা করতেই ৩০ দিনের জন্য এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই স্বল্পমেয়াদী সিদ্ধান্তের ফলে পুতিন সরকার খুব বেশি আর্থিক সুবিধা লাভের সুযোগ পাবে না। বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী মাইকেল শ্যাঙ্কস এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরাবে না। শ্যাঙ্কসের মতে, এই ধরনের নমনীয়তা ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধে আরও অর্থ বিনিয়োগের রসদ জোগাবে। এদিকে ক্রেমলিন এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। মস্কোর মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং এতে উভয় দেশের স্বার্থই জড়িত।  উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার- ১৩ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমেই সম্প্রসারিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে মুদ্রা বিনিময়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার জানা জরুরি।   শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ—   বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা ইউএস ডলার (USD) ১২৩.১২ ইউরো (EUR) ১৪১.৮০ ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) ১৬৪.৪৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) ৮৭.০২ জাপানি ইয়েন (JPY) ০.৭৭৫ কানাডিয়ান ডলার (CAD) ৯০.৩০ সুইডিশ ক্রোনা (SEK) ১৩.১৬ সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) ৯৬.২৫ চীনা ইউয়ান রেনমিনবি (CNY) ১৭.৯২ ভারতীয় রুপি (INR) ১.৩৩ শ্রীলঙ্কান রুপি (LKR) ২.৫৪ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) ৩১.৩০ সৌদি রিয়াল (SAR) ৩২.৮১ কাতারি রিয়াল (QAR) ৩৩.৬০ কুয়েতি দিনার (KWD) ৪০০.২৬ ওমানি রিয়াল (OMR) ৩১৭.০০ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম (AED) ৩৩.৩৪ বাহরাইনি দিনার (BHD) ৩২৫.৭৬ সুইস ফ্রাঁ (CHF) ১৫৩.৬২ দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (KRW) ০.০৮২   মুদ্রার বিনিময় হার যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।   সূত্র: গুগল

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপও একই ধরনের অনুরোধ করেছে। বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আনুষ্ঠানিক চুক্তির অধীনে বর্তমানে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা তুলে ধরা হয়। ভারতের এই ইতিবাচক সাড়া এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশসহ ১৫ দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন তদন্ত শুরু করেছে। সেকশন ৩০১-এর আওতায় শুরু হওয়া এই তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত ও চীনসহ ১৫টি দেশের নাম রয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই ঘোষণা দেন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করার পর হোয়াইট হাউজ এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল। আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তবে দমে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার 'অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা'র অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পথে হাঁটছে। বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, এই তদন্তের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের মধ্যেই চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর নতুন করে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসে আরোপিত অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ওয়াশিংটন। তদন্তের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যদি তদন্তে কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যের প্রমাণ মেলে, তবে সেই দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপাবে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বাংলাদেশের মতো তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য মার্কিন বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও এই তদন্ত তালিকা থেকে কানাডাকে বাদ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে মূলত ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারে তাদের শুল্ক নীতিকে আরও জোরালোভাবে কার্যকর করার সুযোগ খুঁজছে। আগামী সপ্তাহে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের আগে এই ঘোষণা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা উড়িয়ে দিতে ওহাইও ও কেনটাকি সফরে ট্রাম্প

মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগ নিরসনে এবং নিজের অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরতে ওহাইও এবং কেনটাকি সফরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ও সামরিক অস্থিরতার প্রভাবে যখন মার্কিন অর্থনীতি বেশ চাপের মুখে, ঠিক তখনই এই সফরের ঘোষণা দিলেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্টের এই সফর মূলত একটি কৌশলী পদক্ষেপ। তিনি আমেরিকান জনতাকে এই বার্তা দিতে চান যে, অর্থনীতির বর্তমান টানাপোড়েন সাময়িক এবং দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যাবে।  ওহাইও যাওয়ার পথে তিনি আবারও দাবি করেন যে, মার্কিন অভিযানে ইরানি নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতার স্বপদে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি নিজেকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি ট্রাম্প।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আজকের মুদ্রা বিনিময় হার- ১১ মার্চ ২০২৬: ডলার ১২৩ টাকার বেশি, কুয়েতি দিনার ৪০০ টাকা ছাড়াল

প্রবাসী আয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাস থেকে দেশে টাকা পাঠানো কিংবা বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার জানা জরুরি।   আজ বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাংক, মোবাইল ওয়ালেট ও ক্যাশ লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।   প্রবাস থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠালে বাংলাদেশি টাকায় যে মূল্য পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার আজকের হার তুলে ধরা হলো-   আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার (বাংলাদেশি টাকায়)   মার্কিন ডলার (USD): ১২৩ টাকা ২৬ পয়সা (ব্যাংক) ইউরো (EUR): ১৪৫ টাকা ২১ পয়সা ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP): ১৬৫ টাকা ০৬ পয়সা সৌদি রিয়াল (SAR): ৩২ টাকা ৬৪ পয়সা মালয়েশিয়ান রিংগিত (MYR): ৩১ টাকা ১০ পয়সা সিঙ্গাপুর ডলার (SGD): ৯৬ টাকা ৫৯ পয়সা অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD): ৮৭ টাকা ৪৫ পয়সা নিউজিল্যান্ড ডলার (NZD): ৭২ টাকা ৬৩ পয়সা কানাডিয়ান ডলার (CAD): ৯০ টাকা ৩০ পয়সা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম (AED): ৩৩ টাকা ৩৪ পয়সা কাতারি রিয়াল (QAR): ৩৩ টাকা ৬০ পয়সা ওমানি রিয়াল (OMR): ৩১৭ টাকা বাহরাইনি দিনার (BHD): ৩২৫ টাকা ৭৬ পয়সা কুয়েতি দিনার (KWD): ৪০০ টাকা ২৬ পয়সা সুইস ফ্রাঁ (CHF): ১৫৩ টাকা ৬২ পয়সা জাপানি ইয়েন (JPY): ০.৭৭৫ টাকা দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (KRW): ০.০৮২ টাকা ভারতীয় রুপি (INR): ১ টাকা ২৯ পয়সা   বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার, বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং ডলারের চাহিদা–জোগানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করে।   এদিকে সরকার বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহ দিতে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। ফলে ব্যাংক বা বৈধ মাধ্যমে টাকা পাঠালে প্রবাসীরা অতিরিক্ত সুবিধা পান। তবে সময় ও লেনদেনের মাধ্যমভেদে প্রকৃত বিনিময় হার কিছুটা কমবেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
টানা দ্বিতীয় দফা বাড়ল সোনার দাম, ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   বুধবার (১১ মার্চ) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।   বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   নতুন নির্ধারিত দামে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনা কিনতে খরচ পড়বে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা।   অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা।   সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা।   এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সময় অনুযায়ী স্বর্ণ ও রুপার দাম সমন্বয় করা হয়ে থাকে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সাত সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করতে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে। এ বিষয়ে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি বিশ্ব পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে। একই সঙ্গে এসব সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি ও বাজার ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করা হবে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাও প্রণয়ন করবে কমিটি।   এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।   কমিটি গঠনের দিনই বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পরপরই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
জ্বালানি বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব: ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে ব্যারেল প্রতি মূল্য

বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের বাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংকটের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব। জ্বালানি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান আমেনা বকর একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে মার্চের শেষ নাগাদ অপরিশোধিত তেলের দাম অনায়াসেই ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। যদিও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে তেলের দাম সাময়িকভাবে ১০০ ডলারের নিচে নেমেছিল, তবে আমেনা বকর এই স্বস্তিকে দীর্ঘস্থায়ী বলে মনে করছেন না। তিনি জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল রপ্তানিকারক দেশ ইতিমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী প্রণালীতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে সহায়তার ঘোষণা দিলেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরছে না। আমেনা বকরের মতে, শুধুমাত্র ট্রাম্পের আশ্বাস শুনে রাতারাতি কেউ নিজেদের জাহাজকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাইছে না। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি: কমছে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণাই বদলে দিল জ্বালানি তেলের বাজারচিত্র। 'ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে'— ট্রাম্পের এমন ইতিবাচক বার্তার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেলের দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই নিম্নমুখী তেলের বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮.৫ শতাংশ কমে ৯২.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই-এর দাম ৯ শতাংশ কমে বিক্রি হচ্ছে ৮৮.৬০ ডলারে। উল্লেখ্য, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা এবং হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে গত কয়েকদিন ধরেই তেলের দাম ছিল আকাশচুম্বী। গত রোববার তেলের দাম বিগত চার বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুড ১০৮.৬৮ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ১০৮ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। তবে সোমবার ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প যুদ্ধ থামার আভাস দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম কিছুটা কমলেও সাধারণ সময়ের তুলনায় তেলের বাজার এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চড়া। তবে যুদ্ধের উত্তাপ কমলে সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানি তেলের বাড়তি চাপের বোঝা অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সম্মতিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে মুখ খুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই চুক্তি কোনো গোপন প্রক্রিয়ায় হয়নি বরং দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতেই তা সম্পাদিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচনের আগেই আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের সাথে কথা বলেছে এবং তারা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং, এটি অন্ধকারে করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।" চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি 'এন্ট্রি' ও 'এক্সিট' ক্লজের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, চুক্তিটি এখনো কার্যকর (নোটিফিকেশন) হয়নি এবং সরকার চাইলে যেকোনো সময় এটি রিভিউ করার সুযোগ রাখে। এছাড়া মাত্র ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পথও খোলা রয়েছে। ড. রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির ভাষা ও শর্তাবলি ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির মতোই অভিন্ন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা বাংলাদেশকে কোনো বন্ধ ঘরে ঠেলে দিইনি।" বাণিজ্যিক সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আলোচনা শুরু হয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর জুলাই মাসে এটি চূড়ান্ত হয়। বিশেষ করে আমেরিকান কটন দিয়ে তৈরি পোশাকে 'জিরো রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ' সুবিধা আদায় বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি বড় বিজয়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই চুক্তি বর্তমান সরকারের 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতির সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’: চার দিনেই যুদ্ধের ব্যয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়াল

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) কেবল রণক্ষেত্রেই নয়, মার্কিন অর্থনীতিতেও বড় ধরনের আঘাত হানতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ফোর্বস এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, গত শনিবার হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধের প্রাথমিক ব্যয় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্যয়ের নেপথ্যে যা রয়েছে: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল ব্যয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা ‘ভাস্ট আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর পেছনে। পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামলা শুরুর আগের সামরিক প্রস্তুতিতেই ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৬৩ কোটি ডলার। এরপর গত ২৪ ঘণ্টায় বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং টমাহক মিসাইল ব্যবহারের ফলে ব্যয়ের পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। শুধুমাত্র বি-২ বোমারু বিমানের উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচই কয়েক কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও ঝুঁকি: পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত যদি দুই মাস স্থায়ী হয়, তবে মার্কিন অর্থনীতির মোট ক্ষতির পরিমাণ ২১ হাজার কোটি (২১০ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে সরাসরি সামরিক খরচ হবে প্রায় ৬৫ থেকে ৯৫ বিলিয়ন ডলার। বাকিটা আসবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাণিজ্যে অচলাবস্থার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা: যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার মার্কিন অপরিশোধিত তেলের (WTI) দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭১ ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ প্রণালী যদি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের যাতায়াত ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। রাজনৈতিক চাপ: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধকে ৪ থেকে ৫ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও, বিশেষজ্ঞরা একে ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করছেন। ঘরোয়া রাজনীতিতেও ট্রাম্প চাপের মুখে রয়েছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪১ শতাংশ আমেরিকান এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। বিরোধীরা দাবি করছেন, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই এই ‘বেআইনি’ যুদ্ধ সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেনিকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই সরাসরি সংঘাতের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে তেহরান ও আশপাশের এলাকায় হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ, বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় সংকটের আশঙ্কা

বর্তমান ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রে চলে এসেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর 'হরমুজ প্রণালী'। প্যালেস্টাইন ক্রনিকলের এক বিশেষ বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকীর্ণ জলপথটি কেবল একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং এটি যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণকারী এক শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি ধমনী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ (২০ মিলিয়ন ব্যারেল) এবং ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতি যেমন চীন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জ্বালানি চাহিদার জন্য এই পথের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল। ইরানের কৌশলগত অবস্থান প্রণালীটির উত্তর উপকূলে ইরানের অবস্থান দেশটিকে এক অনন্য ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, তারা এই পথে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেবে না। সমরবিদদের মতে, ইরানের নৌ-কৌশল মূলত এই প্রণালীর ওপর অসম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। দ্রুতগতির আক্রমণকারী বোট, উপকূলীয় মিসাইল সিস্টেম এবং নৌ-মাইনের মাধ্যমে ইরান এই পথে যে কোনো সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে সক্ষম। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলতে পারে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি এই পথে তাদের জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে এবং বিকল্প পথে চলাচলের কারণে বীমা ও জাহাজ ভাড়ার খরচ বহুগুণ বেড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা যদিও এই পথ এড়িয়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য কিছু পাইপলাইনের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে তা সামুদ্রিক পথে পরিবহনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফলে হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য অবরুদ্ধ বা অস্থির থাকলে তা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নামাতে পারে। উপসংহার প্যালেস্টাইন ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান যদি এই প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তবে তা কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ থাকবে না; বরং এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহাবিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। যুদ্ধের ময়দানে কে জিতবে তা হয়তো এই 'হরমুজ চোকপয়েন্ট' কার নিয়ন্ত্রণে থাকে তার ওপরই নির্ভর করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
শফিকুল আলম, সাংবাদিক এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব।
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এলএনজি দামে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক শফিকুল আলম। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এতে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে অত্যন্ত উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করতে বাধ্য হতে হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।   তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে কষ্টার্জিতভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন করেছে, তা আবারও দ্রুত কমে যেতে পারে এবং বিনিময় বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ শুরুর পর মাত্র দুই বছরের মধ্যে দেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছিল।   শফিকুল আলম আরও বলেন, ২০০০ দশকের মাঝামাঝি সময় ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলন না করা ছিল একটি বড় ভুল সিদ্ধান্ত। দুই দশক আগে দিনাজপুরে কয়লা খনন প্রকল্প বাতিল করে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে দেশের জ্বালানি ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ বাইরের শক্তির হাতে চলে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ এমন এক বৈশ্বিক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তাহীন দেশগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না।   পোস্টে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই যুদ্ধ যেন এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়।  

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানই আমাদের মূল লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে চট্টগ্রামে একটি আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত হাসপাতালের জায়গা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। তাই আমরা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে বিশেষ জোর দিচ্ছি। আমাদের ট্যাক্স নেট বাড়াতে হবে এবং সেই অর্থ বিনিয়োগে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।   পতেঙ্গায় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে পতেঙ্গায় একটি বড় পরিসরের হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান: এটি একটি জেনারেল হাসপাতাল হবে, তবে এখানে বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকবে।   হাসপাতালের পাশাপাশি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং টেকনোলজিস্ট তৈরির জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুবিধার পাশাপাশি অবকাঠামোগত সম্ভাবনাগুলো যাচাই করা হচ্ছে। মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে '১১-তে ১১' নামে যে বিশেষ ঘোষণা ছিল, এই হাসপাতাল প্রকল্প তারই প্রথম দফার বাস্তবায়ন। এদিন তিনি নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমি পরিদর্শন করেন, যেখানে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান তাকে প্রকল্প এলাকার ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কর বাড়ানোর বিকল্প নেই: অর্থমন্ত্রী

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং স্থবিরতা কাটাতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত একটি সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত জমি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, "দেশের নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কর বা ট্যাক্স বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। রাজস্ব বৃদ্ধি ও নতুন নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরির মাধ্যমেই কেবল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব, যা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।" তিনি আরও জানান, আসন্ন বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান—এই তিনটি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। পতেঙ্গায় বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শনে মন্ত্রী বিকেল ৩টার দিকে মন্ত্রী পতেঙ্গা থানাধীন জেলে পাড়া এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন প্রায় ১৭ একর জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত এই জমিতে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শনকালে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান মন্ত্রীকে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান ও অবকাঠামোগত সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম মহানগরের স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0