বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজে বাধা দেবে না ইরান — দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সরকার নানা কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে বাংলাদেশ ইরানের কাছে তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা চায়।
জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, প্রণালীতে প্রবেশের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে ওই কৌশলগত জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
এদিকে গতকাল সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে মোট এক লাখ ২০ হাজার ২০৫ টন জ্বালানি নিয়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ভারতের ওপর বাংলাদেশের বাণিজ্যনির্ভরতা বাড়তে পারে — বণিক বার্তা
বণিক বার্তা পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের ওপর বাংলাদেশের বাণিজ্যনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশই মূলত ভারত থেকে পণ্য আমদানির মাধ্যমে হয়ে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি পণ্য নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।
জানা গেছে, আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাঁচ হাজার টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ভারতের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকার জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি ছাড়াও খাদ্যপণ্যের বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে।
দুই আসামিকে দেশে আনতে সরকারের প্রস্তুতি — যুগান্তর
যুগান্তর পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ জোরদার করেছে।
বাংলাদেশ-ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দুই আসামিকে ফিরিয়ে আনতে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি প্রয়োজনীয় চিঠি প্রস্তুত করেছে। খুব শিগগিরই ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হস্তান্তরের আবেদন পাঠানো হবে।
এদিকে আটক দুই আসামির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।
জ্বালানি তেলের ডিপোতে সেনা মোতায়েন — মানবজমিন
মানবজমিন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান তেলের ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও পাচার রোধে জেলা প্রশাসকদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিষয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
সরকার জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করেছে। এ জন্য একটি মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছে।
তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মজুদ দিয়ে উৎপাদন চলবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত — কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বর্তমান মজুদ জ্বালানি দিয়ে সর্বোচ্চ আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো সম্ভব।
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) জানিয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছেই প্রায় ৫৫ হাজার টন তেল রয়েছে।
জামিনের জন্য এক কোটি টাকা চান প্রসিকিউটর — প্রথম আলো
প্রথম আলো পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটর আওয়ামী লীগের এক সাবেক কারাবন্দী রাজনীতিককে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেছেন-এমন তথ্য হোয়াটসঅ্যাপের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে পাওয়া গেছে।
রেকর্ডিংগুলো সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ। এতে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর মামলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের কথোপকথন রয়েছে।
রেকর্ডিংয়ে তিনি জামিনের বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় উল্লেখ করেন, যদি শেষ পর্যন্ত মুক্তি নিশ্চিত করা যায় তবে ‘ভালো অঙ্কের’ টাকা দিতে হবে। সেখানে এক কোটি টাকার পাশাপাশি অগ্রিম ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়।
আরও চার বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ — নয়া দিগন্ত
নয়া দিগন্ত পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার করতে আরও চারটি বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে এসব পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা কার্যক্রম, আর্থিক সিদ্ধান্ত ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
১২ মার্চ সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করবে সরকার — নিউ এইজ
নিউ এইজ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করতে যাচ্ছেন।
সংসদ অধিবেশন না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতি এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী কেবল অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করতে হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশ উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা নেই।
শুরুতে কার্ড পাচ্ছে ৩৭,৫৬৪ পরিবার — আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকা জানায়, নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু হচ্ছে।
পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৭ হাজার ৫৬৪টি পরিবার এই কার্ড পাবে। পরিবারগুলোর নারীপ্রধানের নামে কার্ড দেওয়া হবে এবং তারা মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
এই কর্মসূচির উদ্বোধন রাজধানীর বনানীতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
থানায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা — দেশ রূপান্তর
দেশ রূপান্তর পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে প্রতিটি থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে সরকারকে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চাঁদাবাজ ও মব সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেই অপরাধ করুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ঢাকা বিমানবন্দরে জমছে পণ্য — দ্য ডেইলি স্টার
দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি এয়ারলাইনের কার্গো ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পণ্য জমে যাচ্ছে।
দুবাই, আবুধাবি, দোহা ও মাসকাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে কার্গো ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রপ্তানিকারকদের সংগঠন জানিয়েছে, আকাশপথে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক হলেও বর্তমানে জমে থাকা পণ্যের বড় অংশ ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রগামী নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আজ শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের মৎস্য আহরণ বন্ধ হচ্ছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে হ্রদে মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের এক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সাধারণত প্রতি বছর ১ মে থেকে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হলেও, এ বছর হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল রাত ১২টার আগে ধরা মাছসমূহ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবহন সম্পন্ন করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন হ্রদসংলগ্ন সকল বরফকল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। একইসঙ্গে অবৈধভাবে মাছ ধরা ও বাজারজাতকরণ রোধে হ্রদসংলগ্ন এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কঠোর মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া নিবন্ধিত জেলেদের জীবনযাত্রায় সহায়তার জন্য সরকারিভাবে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে। হ্রদের প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই আগাম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ফুটওভার ব্রিজ পার হয়ে রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখা যায় এক যুবককে, যার কোলে কাপড়ে মোড়ানো একটি শিশুর মরদেহ। স্থানীয় সূত্র ও ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, শিশুটির বয়স আনুমানিক ৩ থেকে ৫ বছর। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে যে যুবককের কোলে শিশু টির মরাদেহ দেখা গিয়েছে তিনি শিশুটির বাবা এ বিষয়ে ছবি ও তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, শিশুটির নাম সাদমান। তাকে চিকিৎসার জন্য কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে ঢাকার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন হাসপাতাল-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ছবিতে হাসপাতালের সামনে কয়েকজন নারীকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা গেছে। পরে শিশুটির মরদেহ নিয়ে স্বজনরা রাস্তায় ফিরে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে করা স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ৫১ শতাংশই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি আবেদনকারী ভিসা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ভিসা অনুমোদনের হারের রেকর্ড গড়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে বিদেশ থেকে করা উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক ভিসা আবেদনের মাত্র ৬৭.৬ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। কেবল বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। নেপালে ৬৫ শতাংশ, ভারতে ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৮ শতাংশ এবং ভুটানে ৩৬ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন গত বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এখন আবেদনকারীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ কি না, তা যাচাইয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণেই বিপুল সংখ্যক আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় আবেদন বৃদ্ধির হার নেপালে ৯১ শতাংশ এবং ভারতে ৩৬ শতাংশ হলেও চীন থেকে আবেদনের হার কমেছে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া। সংগঠনটির মতে, এই পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর 'ঝুঁকি' রেটিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এখন থেকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রস্তুতির বিষয়গুলো আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা প্রয়োজন, যাতে প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।