গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে তিনি জানান, বিভিন্ন দেশ এই তহবিলে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, হামাস নিরস্ত্র হলে গাজাকে পুনর্গঠন ও নিরাপদ করার কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত এ বাহিনী শুরুতে রাফাহ এলাকায় কাজ করবে এবং পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার সেনা ও ১২ হাজার পুলিশ প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বোর্ডে ইসরায়েল অংশ নিলেও এতে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা নেই।
বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে অর্থ ও সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরব ১ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং কাতার ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ৮ হাজারের বেশি সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে এবং তুরস্ক পুনর্গঠন ও পুলিশ প্রশিক্ষণে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, গাজার যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে বলে তিনি আশা করছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সংস্কারের উদ্যোগ নেবে, তবে গাজা পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেবে বোর্ড অব পিস।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে তিনি জানান, বিভিন্ন দেশ এই তহবিলে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, হামাস নিরস্ত্র হলে গাজাকে পুনর্গঠন ও নিরাপদ করার কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত এ বাহিনী শুরুতে রাফাহ এলাকায় কাজ করবে এবং পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার সেনা ও ১২ হাজার পুলিশ প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বোর্ডে ইসরায়েল অংশ নিলেও এতে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা নেই। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে অর্থ ও সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরব ১ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং কাতার ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ৮ হাজারের বেশি সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে এবং তুরস্ক পুনর্গঠন ও পুলিশ প্রশিক্ষণে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, গাজার যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে বলে তিনি আশা করছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সংস্কারের উদ্যোগ নেবে, তবে গাজা পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেবে বোর্ড অব পিস। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুতগতিতে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রস্তুতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যে প্রয়োজনে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকেই ইরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে চুক্তিতে না এলে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হামলা চালানো হলে তা কীভাবে হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরি ও উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি রাখা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র–সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও উৎক্ষেপণকেন্দ্র। ট্রাম্প প্রশাসনের মূল উদ্বেগ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে তেহরান। যদিও ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা-তে দুই দেশের সর্বশেষ বৈঠকে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে গাজা বোর্ড অব পিস-এর এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, গত বছর ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালালে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আরও বিঘ্নিত হতো। তিনি বলেন, হয়তো আমাদের আরও এক ধাপ এগোতে হবে। আবার হয়তো একটি চুক্তিও হতে পারে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তা জানা যাবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরি, ডেস্ট্রয়ার ও ক্রুজার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং ৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে F-35 Lightning II, F-22 Raptor ও F-16 Fighting Falcon রয়েছে। এছাড়া গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় ব্যবহৃত B-2 Spirit বোমারু বিমানগুলোও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যা ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইরানবিশেষজ্ঞ ভালি নাসর মনে করেন, আলোচনা চলমান রেখে যুক্তরাষ্ট্র সময় নিচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানও প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে। সম্ভাব্য সংঘাতের মূল্য ও ঝুঁকি ট্রাম্প প্রশাসনকে বিবেচনায় রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে সক্রিয় হয়েছে ইসরায়েলও। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েল চায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ নিক। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির সামরিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন জোরালো হয়ে উঠছে।
কানাডা তাদের দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের প্রধান মাধ্যম ‘এক্সপ্রেস এন্ট্রি’ সিস্টেমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন সংশোধনীতে গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা ও এভিয়েশন খাতের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট কিছু সামরিক পেশাকেও অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার দেশটির সরকার নতুন এই ক্যাটাগরিগুলো উন্মোচন করে। এর মাধ্যমে দক্ষ কর্মী ও গবেষকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন গবেষক ও উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপক, পরিবহন খাতের দক্ষ কর্মী যেমন পাইলট ও এয়ারক্রাফট মেকানিক, কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিদেশি চিকিৎসক এবং কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী উচ্চদক্ষ বিদেশি আবেদনকারী—যাদের মধ্যে সামরিক চিকিৎসক, নার্স ও পাইলট রয়েছেন। কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডায়াব এক বিবৃতিতে জানান, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে এমন মেধাবীদের আকৃষ্ট করা হবে যারা শুরু থেকেই কানাডার অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে তীব্র শ্রমিক সংকটে ভুগছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসন সংকট এবং সামাজিক পরিষেবার ওপর চাপ কমাতে সামগ্রিক অভিবাসীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিশেষায়িত খাতে দক্ষ জনবল নিয়োগে নতুন এই স্ট্রিমগুলো চালু করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঘোষিত এক নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলে কানাডা সরকার আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ ৮৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানায়। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে নেটো সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় ওটাওয়া। এদিকে নতুন ক্যাটাগরি চালু হলেও বিদ্যমান এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেমের আওতায় ফরাসি ভাষাভাষী প্রার্থী, সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং দক্ষ ট্রেড ওয়ার্কারদের আমন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।