সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

চীনে ১০ পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি, অর্থনৈতিক চাপ ও আবাসন সংকটে বদলাচ্ছে স্বপ্ন

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ২২:০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চীনে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া ছিল মধ্যবিত্ত জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য। সরকারি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী আবাসন সংস্কৃতি। তবে ধীরগতির অর্থনীতি ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট সেই স্বপ্নকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

 

চীনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ নেমে এসেছে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। ২০২১ সালে যেখানে নতুন বাড়ি বিক্রির মূল্য ছিল ১৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, সেখানে গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে।

 

ম্যাককোয়ারি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের অর্থনীতিবিদেরা চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানান, নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ গত বছর ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে এবং এই নিম্নমুখী প্রবণতা দ্রুত থামার কোনো ইঙ্গিত নেই।

 

বেইজিংয়ের ৩৬ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার কাই ইয়োচেংও আপাতত বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। তিনি বলেন, ভাড়া বাসায় থাকলে অনেক সময় অস্থায়ী জীবনের অনুভূতি তৈরি হয় এবং নিজের ইচ্ছামতো ঘর সাজানোর স্বাধীনতা থাকে না। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভাড়াতেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

 

তার ভাষায়, “হিসাব করলে ভাড়া থাকাই বেশি যৌক্তিক মনে হয়। তবে মনের ভেতরে নিজের একটি বাড়ির ইচ্ছা এখনো আছে।”

 

চীনে বাড়ির মালিক হওয়া কেবল সম্পত্তির মালিকানা নয়, এটি পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এরিক ফং বলেন, কনফুসীয় পারিবারিক মূল্যবোধ চীনা সমাজে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং পরিবারকে কেন্দ্র করেই জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

১৯৮০-এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর চীনের কমিউনিস্ট সরকার ধীরে ধীরে কর্মস্থলনির্ভর আবাসন ব্যবস্থা কমিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানাকে উৎসাহিত করতে শুরু করে। ১৯৯০-এর দশকে ভর্তুকিনির্ভর নীতির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়।

 

ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানির অধ্যাপক হুয়াং ইউচিন বলেন, অনেক মানুষ খুব কম দামে হঠাৎ করেই বাড়ির মালিক হয়ে যান। এতে বিপুলসংখ্যক ভাড়াটিয়া একসময় বাড়ির মালিক শ্রেণিতে পরিণত হন।

 

চীনা সমাজে সঞ্চয়ের প্রবণতাও এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে। দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পত্তির দাম আবাসন খাতকে জনপ্রিয় বিনিয়োগে পরিণত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক গ্রামীণ অভিবাসী শহরে বাড়ি কিনে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চেয়েছেন। আবার সন্তানদের বিয়ের সম্ভাবনা বাড়াতেও বাবা-মায়েরা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দিয়েছেন।

 

বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ আবাসন মালিকানার হার।

 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকানার হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষার ঋণ ও বাড়ির বাড়তি মূল্য অনেক তরুণকে দীর্ঘ সময় ভাড়ায় থাকতে বাধ্য করছে।

 

তবে চীনের আবাসন খাতের দ্রুত উত্থানের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বড় ঝুঁকিও। প্রবৃদ্ধির সময় অনেক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিপুল ঋণ নেয়। অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় ফাঁকা আবাসিক অঞ্চল ও অবিক্রীত প্রকল্প।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২০ সালে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। আবাসন খাত, যা একসময় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ৩০ শতাংশ জুড়ে ছিল, তা নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়।

 

এই পদক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কমলেও সম্পত্তির দাম দ্রুত পড়ে যায়। অনেক ক্রেতা অসম্পূর্ণ বা বিলম্বিত ফ্ল্যাটের মুখোমুখি হন। ঋণসংকটে পড়ে বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও ধসে পড়ে।

 

চীনের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভারগ্রান্ডকে ২০২৪ সালে হংকংয়ের একটি আদালত বিলুপ্তির নির্দেশ দেয়। কান্ট্রি গার্ডেন ও ভ্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও আর্থিক চাপে পড়ে।

 

এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যসংঘাতের আশঙ্কা। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতারা এখন আরও সতর্ক।

 

কাই ইয়োচেং বলেন, তিনি ভবিষ্যতে বাড়ি কিনতে চান, তবে আগামী কয়েক বছরে সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।

 

পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন খাত এখনো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মার্চ মাসেও দেশজুড়ে নতুন বাড়ির দাম কমেছে, যদিও কয়েকটি বড় শহরে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

 

রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ডের কর্মকর্তা ঝ্যাং শিয়াওদুয়ান বলেন, সরকারের ইতিবাচক বার্তা থাকলেও বাস্তবে ক্রয়ক্ষমতার বড় ধরনের পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে না।

 

গত বছর চীন ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতায় সেই প্রবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

কুনমিং শহরের ৩০ বছর বয়সী আলোকচিত্রী ম্যান্ডি ফেং বলেন, বাড়ির দাম কমলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করছে।

 

তার ভাষায়, “মানুষ বাড়ি কিনতে চায় না, এমন নয়। কিন্তু আয় অনিশ্চিত এবং উপার্জন কম থাকলে কেউ ঋণ নিতে সাহস পায় না।”

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে আবাসন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে। বেইজিংয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ঝো ঝ্যাং বলেন, তিনি সম্ভবত নিজের সন্তানদের জন্য বাড়ি কিনবেন না, যদিও নিজের ফ্ল্যাট কিনতে বাবা-মায়ের সহায়তা পেয়েছিলেন।

 

তার মতে, চীনের আবাসন বাজার ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশের মতো হয়ে উঠছে, যেখানে ভবিষ্যতে ভাড়া বাসায় থাকার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!
এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!

২০৩৯ সালে একই ইংরেজি বছরের মধ্যে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি হজ মৌসুম পড়তে পারে। সৌদি আরবের জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদের হিসাবের বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, হিজরি ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে।    আল মিসনাদের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ঈদুল আজহা পড়তে পারে ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি। পরের হিজরি বছরের ঈদুল আজহা একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ অক্টোবর হতে পারে ঈদুল ফিতর। তবে এগুলো আগাম হিসাব, চূড়ান্ত ধর্মীয় তারিখের ঘোষণা নয়।    দুটি ঈদুল আজহা দুটি আলাদা হিজরি বছরের অন্তর্ভুক্ত হবে। বছরের শুরুরটি হবে ১৪৬০ হিজরির ১০ জিলহজ এবং শেষেরটি ১৪৬১ হিজরির ১০ জিলহজ। ফলে একই গ্রেগরিয়ান বছরের জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে পৃথক দুটি হজ মৌসুম পড়বে।    এর কারণ হিজরি বছর ইংরেজি বছরের চেয়ে ছোট। চান্দ্র মাসভিত্তিক হিজরি বছরে থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন। অন্যদিকে সৌরভিত্তিক গ্রেগরিয়ান বছরে থাকে ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। তাই ঈদ, রমজান ও হজের সময় ইংরেজি বর্ষপঞ্জিতে সাধারণত প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে আসে।    কোনো হিজরি উৎসব ইংরেজি বছরের একেবারে শুরুতে পড়লে পরের হিজরি বছরের একই উৎসব ডিসেম্বরের শেষ দিকে ফিরে আসতে পারে। ২০৩৯ সালের দুটি ঈদুল আজহা ও দুটি হজ মৌসুমের সম্ভাবনাও এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন আল মিসনাদ। তিনি এ বিষয়ে নিজের ওয়েবসাইটে ২০১৩ সালেই হিসাব প্রকাশ করেছিলেন।    একই কারণে ২০৩০ সালের জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে দুটি রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে গালফ নিউজ। তবে ভবিষ্যতের ঈদ, রমজান ও হজের নির্দিষ্ট তারিখ চাঁদ দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতে নিশ্চিত হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১:৮
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হামলার নতুন কারণ জানালেন ট্রাম্প, পাঠানো হচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ম্যানচেস্টারের ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্ত করছে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই ইরানি নাগরিক

ইন্দোনেশিয়ায় গন্ধগোকুলের মল থেকে পাওয়া বীজ দিয়ে তৈরি কোপি লুওয়াক বিশ্বজুড়ে কফিপ্রেমীদের কাছে দারুণ সমাদৃত। ছবি: সংগৃহীত

হাতি ও গন্ধগোকুলের মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম দামি কফি

পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান বা ড্রোন পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। কোনো ধরনের মানবিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্র এসব জলযান পানির নিচে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে এই অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২৯ আগস্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় জলযানের চলাচল’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বরেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।   নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ গবেষক দল এই যুগান্তকারী রেকর্ডটি গড়েছে। পরীক্ষামূলক এই প্রদর্শনীতে TH-৬১৮ মডেলের ১১৬টি আন্ডারওয়াটার অটোনমাস ভেহিকল পানিতে নামানোর পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ মিনিট স্থিতিশীলভাবে চলার পর ড্রোনগুলো ৫০০ মিটারেরও বেশি পূর্বনির্ধারিত পথ সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। পানিতে নামানোর পর পরই যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যায়। রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি ড্রোন নিজস্ব অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট বিন্যাস বজায় রাখে। এমনকি কোনো ড্রোন সাময়িকভাবে পথচ্যুত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে আসার দারুণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে।   পানির নিচে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় যান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কারণ সেখানে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেভিগেশন কার্যকর হয় না। পানির উচ্চ চাপ, কম দৃশ্যমানতা এবং সীমিত পরিবেশগত তথ্যের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই দীর্ঘ সময় যানগুলো পরিচালনা করাকে আন্ডারওয়াটার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রেকর্ড গড়া এই জলযানগুলোর প্রতিটির ওজন মাত্র ৫ দশমিক ১৪ কেজি, যা একজন মানুষ সহজেই পানিতে নামাতে পারেন। এগুলো সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পরিসরে একটানা আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে সক্ষম।   নেভিগেশনের জন্য এসব যানে অত্যাধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্রোতের ধাক্কায় পথচ্যুত হলেও পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান সংশোধন করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত ও সম্ভাবনাময়। সমুদ্রের তলদেশ জরিপ থেকে শুরু করে পানির নিচের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আগামীতে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় জলযানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৫৪
রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ

রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ

স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত, বেসামরিক প্রাণহানিরও অভিযোগ

এল নিনো ও বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাবে খাদ্য সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
নিকট ভবিষ্যতেই তীব্র হতে পারে খাদ্য সংকট, দায়ী এল নিনো ও দুই যু দ্ধ

বিশ্বজুড়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বড় ধরনের খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবের সঙ্গে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান দুই যু দ্ধ একসঙ্গে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।   নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমানে বিশ্ব একই সময়ে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থায়ন—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে চাপের মুখে রয়েছে। এর প্রভাব উন্নয়নশীল ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে।   জ্বালানি সংকট বাড়াচ্ছে চাপ   বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তাও খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কারণ কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য পরিবহনের সঙ্গে জ্বালানির দাম সরাসরি যুক্ত। তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়।   এরই মধ্যে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা এবং দেশটির ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপের ডিজেল ফিউচারসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ডিজেল রপ্তানিও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   শস্য সরবরাহেও বাড়ছে উদ্বেগ   খাদ্য সংকটের আরেকটি বড় কারণ হতে পারে শস্যের বৈশ্বিক সরবরাহে বাধা। ইউক্রেন যু দ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গমসহ বিভিন্ন শস্যের রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই নানা বাধার মুখে পড়ছে।   বিশ্বের বড় শস্য রপ্তানিকারক দেশগুলো যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠাতে না পারে, তাহলে সরবরাহ কমে গিয়ে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে দরিদ্র ও আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সারের সংকটও বড় সমস্যা   কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত। এসব অঞ্চলে সংঘাত ও উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সংকট দেখা দিতে পারে।   সারের দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে।   শক্তিশালী এল নিনো নিয়ে সতর্কতা   জয়শঙ্করের সতর্কতার কেন্দ্রে রয়েছে শক্তিশালী এল নিনো। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ধরন বদলে দিতে পারে।   এর ফলে কোথাও অতিরিক্ত খরা, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্য সরবরাহে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।   শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, চলমান এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ তাপজনিত মৃ ত্যু হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে। একই সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   জয়শঙ্কর নীতিনির্ধারকদের অন্য দেশগুলোর ওপর এসব সংকটের প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, একটি দেশের সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু সেই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বৈশ্বিক জ্বালানি, খাদ্য ও অর্থনীতির আন্তঃনির্ভরতার কারণে এর প্রভাব অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ০:৫২
ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ছবি: সংগৃহীত

মাঝ আকাশে বিমানে হামলা, পাইলটের সাহসিকতায় রক্ষা পেলেন ১৮০ যাত্রী

ন সন্তান হার্ভি, আইলা ও পার্কারের সঙ্গে জো ল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তিন সন্তানকে রেখে চিরবিদায় নিলেন মা

নভিগের বিজ্ঞাপন প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। ছবি: সংগৃহীত

সিডনি সুইনির খোলামেলা বিজ্ঞাপনের পর স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মের মূল্য বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার

0 Comments