ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন।
অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান।
এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত সামুদ্রিক দুর্ঘটনাগুলোর একটি টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা শতাধিক নিদর্শন নিলামে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলছে, এসব নিদর্শন বিক্রির উদ্যোগ আদালতের নির্দেশনা ও আইনি বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী হতে পারে। তবে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার কার্যক্রমের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, তাদের পরিকল্পনা কোনো আইন লঙ্ঘন করছে না। ব্রিটিশ যাত্রীবাহী জাহাজ আরএমএস টাইটানিক ১৯১২ সালে ইউরোপ থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে উত্তর আটলান্টিকে একটি হিমশৈলের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরও টাইটানিকের ইতিহাস বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধারকৃত নিদর্শনের একচ্ছত্র উদ্ধার অধিকার রয়েছে আরএমএস টাইটানিক ইনকরপোরেটেডের হাতে। প্রতিষ্ঠানটি এবার শতাধিক নিদর্শন নিলামে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে যাত্রীদের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, অলংকার এবং জাহাজের রান্নাঘর থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন বস্তু। সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা আদালতের নথি অনুযায়ী, নিলামে তোলার জন্য প্রস্তাবিত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে স্বর্ণখণ্ড দিয়ে তৈরি একটি হার এবং হৃদয় আকৃতির একটি লকেট। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিলামের পাশাপাশি এসব নিদর্শন বিশ্বের চারটি শহরে প্রদর্শনীর জন্যও নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তবে এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)। সংস্থাটি টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ ও তদারকির দায়িত্বে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে। এনওএএর দাবি, টাইটানিক থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৫ হাজার নিদর্শন আদালতের শর্ত অনুযায়ী একটি সমন্বিত সংগ্রহ হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। সেগুলো আলাদা করে বিক্রি করা বা বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের পাশাপাশি ফ্রান্সের আদালতের নির্দেশনাতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে উদ্ধার করা নিদর্শনগুলো একক সংগ্রহ হিসেবে রাখতে হবে এবং পৃথকভাবে বিক্রি করা যাবে না। টাইটানিক থেকে উদ্ধার হওয়া প্রথম দিকের কিছু নিদর্শন ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযানে আরও হাজার হাজার বস্তু উদ্ধার করা হয়। এসব সম্পদের মালিকানা ও সংরক্ষণ নিয়ে বহু বছর ধরেই আদালতে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। টাইটানিক ইনকরপোরেটেডের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শনীর মাধ্যমে এসব নিদর্শন জনসাধারণের সামনে তুলে ধরেছে। তবে এখন কিছু নিদর্শন বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগোতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থান হলো, টাইটানিক কেবল একটি ঐতিহাসিক জাহাজ নয়; এটি হাজারো মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত একটি স্মৃতিবাহী স্থান। তাই এর ধ্বংসাবশেষ ও উদ্ধারকৃত নিদর্শন সংরক্ষণে বিশেষ দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। এর আগে টাইটানিক ধ্বংসাবশেষ এলাকায় নতুন অভিযান পরিচালনা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র সরকার আপত্তি জানিয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এটি মূলত একটি গণকবরের মতো ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে যথাযথ সম্মান ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। এখন আদালত এই বিরোধ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে টাইটানিকের উদ্ধারকৃত নিদর্শনগুলোর ভবিষ্যৎ। ইতিহাসের এই মূল্যবান স্মারকগুলো কি নিলামে বিক্রি হবে, নাকি একক সংগ্রহ হিসেবেই সংরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ইতিহাসবিদ, গবেষক ও টাইটানিকপ্রেমীদের মধ্যে।
রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছেছে চীনের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ বহর। মঙ্গলবার চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (পিএলএ নেভি) টাস্ক ফোর্স-৮৩ রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের সদর দপ্তর ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছায়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত ছবি ও তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে পৌঁছানো জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ জাহাজ ‘চি জিগুয়াং’ এবং উভচর অবতরণ জাহাজ ‘কুনলুনশান’। রুশ নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে চার দিনের এই সফরে চীনা নাবিকরা রুশ নৌ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন যৌথ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। বন্দরে জাহাজ দুটি পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা পতাকা নাড়িয়ে তাদের স্বাগত জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু একটি নিয়মিত সামরিক বিনিময় কর্মসূচি নয়; বরং এটি বেইজিং ও মস্কোর ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতারও প্রতীক। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি বাড়ানো এবং বিভিন্ন ধরনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানির মাধ্যমে চীন রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা কমাতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ভাষ্য, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে বেইজিং সফরকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও তাদের কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সে সময় উভয় দেশ প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেয়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবধর্মী সহযোগিতা আরও বাড়াবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীন নিয়মিত যৌথ নৌ ও বিমান মহড়া পরিচালনা করছে। যদিও ২০২৫ সালে দুই দেশের যৌথ মহড়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল, তবুও ওই বছর প্রথমবারের মতো যৌথ সাবমেরিন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যা সামরিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, যৌথ মহড়ার সংখ্যা কিছুটা কমলেও দুই দেশের নৌ সহযোগিতার গভীরতা আগের তুলনায় বেড়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে বলেছে, রাশিয়া তার নৌবাহিনীকে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখে। সে কারণেই রাশিয়া-চীন নৌ সহযোগিতা স্থলবাহিনীর যৌথ কার্যক্রমের তুলনায় বেশি বিস্তৃত হয়ে উঠেছে। এদিকে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। বিশেষ করে আলাস্কার কাছাকাছি এলাকায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ টহল কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে দেখছে। গত ডিসেম্বরে জাপান সাগর এবং ওকিনাওয়া ও মিয়াকো দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ বোমারু বিমান টহল পরিচালনার ঘটনায় জাপান তাদের যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছিল। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সে সময় মন্তব্য করেন, ওই অভিযান ছিল জাপানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের স্পষ্ট বার্তা এবং এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। যদিও চীন ও রাশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নেই, তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও সামরিক আধিপত্যের বিকল্প একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রশ্নে দুই দেশ একই অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভ্লাদিভস্তকে চীনা যুদ্ধজাহাজের এই সফর শুধু দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের প্রতীক নয়, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সমঝোতা প্রক্রিয়া নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এই মুহূর্তে তেহরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’র ভিত্তিতে দুই দেশ নতুন করে আলোচনায় বসেছে এবং এই প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। ইসহাক দার জানান, আলোচনার পরবর্তী ধাপ মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে—ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা, তেহরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি। এসব বিষয়ে বিশদ পর্যালোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে তিনটি পৃথক কারিগরি দল গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতা প্রক্রিয়াকে একটি স্থায়ী কাঠামোয় নিয়ে যেতে উভয় পক্ষের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য থাকলেও প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৭ বছর পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি আলোচনায় বসতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই অগ্রগতিকে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো গোপন সমঝোতা নয়—বরং লিখিত ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’র মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়ার রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক মজুত কমানোর মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুটি বহু বছর ধরেই ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের মূল দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা জোরদার করতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্ক মিলে ‘আর-৪ ফোরাম’ নামে একটি নতুন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে। ইসহাক দার বলেন, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক জোট নয়; বরং প্রায় ৫০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী একটি যৌথ উদ্যোগ, যা লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর এবং আফ্রিকার মধ্যে সংযোগ জোরদারে ভূমিকা রাখবে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই এই সমঝোতা কাঠামোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নিরসনে একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সংলাপ সফল হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।