রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক হামলা হবে “আগুন নিয়ে খেলা”র মতো বিপজ্জনক পদক্ষেপ। তিনি মনে করেন, এমন হামলা বড় ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকা ইরানের স্থাপনাগুলো অতীতেও হামলার শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের পরিস্থিতি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পরদিনই তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসে। ল্যাভরভ বলেন, চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নীতিরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার জ্বালানি কোম্পানি লুকঅয়েল ও রোসনেফট-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি ভারতকে রুশ তেল কেনা থেকে বিরত রাখতে চাপ প্রয়োগ এবং ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে রাশিয়া, চীন ও ইরানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্তকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।
ল্যাভরভের ভাষ্য, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন সংকটের সমাধানের কথা বলছে, অন্যদিকে ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়ার বাণিজ্যিক স্বার্থে আঘাত হানছে। তার মতে, এই দ্বিমুখী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র: মেহের নিউজ
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিপ্লব-পরবর্তী সংবিধান সংস্কারের জন্য আয়োজিত জাতীয় গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার আভাস দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর ভিত্তিতে আয়োজিত গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিজয়ী দল বিএনপি এবং তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের সময় এই দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংবিধান রক্ষার শপথ গ্রহণের পরও বিএনপির সংসদ সদস্যরা ‘সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল’-এ দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, জুলাই সনদে বর্ণিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য এই কাউন্সিল বাধ্যতামূলক। বিএনপির এই অবস্থানের কারণে কাউন্সিলের বৈধতা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই বিরোধের মূলে রয়েছে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন প্রক্রিয়া। জুলাই সনদে বিদ্যমান ৩৫০ আসনের জাতীয় সংসদের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি চায় এই উচ্চকক্ষের নির্বাচন হোক ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ পদ্ধতিতে। এতে করে প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী দলগুলো আসন পাবে। অন্যদিকে, বিএনপি বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভিত্তিক পদ্ধতি ধরে রাখতে আগ্রহী, যা তাদের বিশাল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে আরও সংহত করতে সাহায্য করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারা জুলাই সনদের সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও এই কাউন্সিলকে এখনই বৈধ মনে করছেন না। তাদের মতে, নির্বাচিত সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পরেই এই কাউন্সিল আইনি ভিত্তি পাবে। অন্যদিকে, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা বিএনপির এই অবস্থানকে সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ তৈরি করে। এতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ নির্ধারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির মতো ৮০টিরও বেশি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এখন এই সংস্কারগুলো ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও বড় দলগুলোর মধ্যকার এই মতভেদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দেশটিতে অবস্থানরত পোল্যান্ডের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে এবং যেকোনো সময় নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে ইরানে ভ্রমণ না করারও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, বৃহস্পতিবার ওয়ারশর কাছে জিয়েলোনকা শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড টাস্ক এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দয়া করে অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করুন এবং কোনো পরিস্থিতিতেই এই দেশে ভ্রমণ করবেন না।’ সংঘাতের আশঙ্কাকে বাস্তব উল্লেখ করে তিনি জানান, নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব দ্রুত সীমিত হয়ে যেতে পারে। ডোনাল্ড টাস্ক আরও বলেন, কয়েক ঘণ্টা বা স্বল্প সময়ের মধ্যেই মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাই এ সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের আহ্বান উপেক্ষা করলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে। বর্তমানে ইরানে কতজন পোলিশ নাগরিক অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি পোল্যান্ড সরকার। এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেবে পোলিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চললেও ওয়াশিংটন ও তেলআবিব ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিকভাবে মুখোমুখি অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে। গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকট এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জাতিসংঘে সোচ্চার হয়েছে চীন। গতকাল বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ সভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছং ইসরায়েলের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনা প্রতিনিধি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান সংকটের মূল কারণ হলো ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ নীতি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা। ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ও ন্যায়সঙ্গত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। ফু ছং তার বক্তব্যে গাজায় অবিলম্বে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য করা। গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে চীনের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, "গাজা ফিলিস্তিনিদের, তাই এর শাসনভার ফিলিস্তিনিদের হাতেই থাকা উচিত।" যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা প্রশাসনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধান ভূমিকা এবং পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি নজরদারিকে চীন পূর্ণ সমর্থন জানাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।