২০২৫ সালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্বের ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য সরাসরি দায়ী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে মোট ৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই গাজার ফিলিস্তিনি। এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও ৩১ জন প্রাণ হারান। সিপিজে এটি তিন দশকের ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী একক হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ‘ইচ্ছাকৃত লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৮১ শতাংশের নেপথ্যে ইসরায়েল। তবে গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে।
গাজা ও ইয়েমেনের বাইরেও পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নিহত ১২৯ জনের মধ্যে ১০৪ জন সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সুদানে ৯ জন, মেক্সিকোতে ৬ জন, ইউক্রেনে ৪ জন এবং ফিলিপাইনে ৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
সিপিজের তথ্যে বলা হয়েছে, তিন দশকের তথ্য সংগ্রহের ইতিহাসে কোনো দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিকল্পিত সাংবাদিক হত্যার সঙ্গে যুক্ত।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তি জার্মানি ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক টানাপোড়েন নিরসন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে দুই দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে চীন পৌঁছেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেইজিং পৌঁছানোর পর তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চ্যান্সেলর মার্জকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে চীন ও জার্মানির উচিত একে অপরের ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে কাজ করা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের কঠোর শুল্ক নীতির প্রতি ইঙ্গিত করে শি বলেন, বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য রক্ষায় দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। চীন ইউরোপের স্বনির্ভরতাকে সমর্থন করে এবং আশা করে যে ইউরোপও চীনের সাথে সমান তালে কাজ করবে। বাণিজ্যিক আলোচনার পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে এই সফরে। বৈঠকে চ্যান্সেলর মার্জ ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চীনের প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “মস্কো বেইজিংয়ের সিগন্যালকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। আমরা চাই চীন এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখুক।” জবাবে প্রেসিডেন্ট শি জানান, চীন আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতি। এছাড়া তাইওয়ান ইস্যুতে মার্জ স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো ধরণের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে। সফরের শুরুতেই জার্মানির জন্য বড় ধরণের বাণিজ্যিক সুসংবাদ মিলেছে। আলোচনার পর মার্জ ঘোষণা করেন যে, ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'এয়ারবাস' থেকে ১২০টি বিমান কেনার বিষয়ে বেইজিং সম্মতি দিয়েছে। এই চুক্তিকে তিনি তার সফরের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন। সফরে মার্জের সাথে রয়েছেন বিএমডব্লিউ (BMW) এবং ভক্সওয়াগেনের (Volkswagen) মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের সাথে বৈঠকে মার্জ জার্মানির উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। গত বছর চীনের সাথে জার্মানির বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরো। মার্জ বলেন, “এই ভারসাম্যহীন বাণিজ্য সুস্থ অর্থনীতির লক্ষণ নয়।” তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে জার্মানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বাজারের অসম প্রতিযোগিতা দূর করার অনুরোধ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে বিশ্বজুড়ে যে বাণিজ্যিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা থেকে নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতেই ইউরোপীয় নেতারা এখন বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। মার্জের এই সফরকে সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আগামীকাল সফরের দ্বিতীয় দিনে চ্যান্সেলর মার্জ চীনে কর্মরত বিভিন্ন জার্মান প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন এবং দুই দেশের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহরের উপকণ্ঠে এক ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও মারা যাওয়ায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজন। মঙ্গলবার সকালে পিয়ার্স কাউন্টির গিগ হারবার এলাকার কি পেনিনসুলা (Key Peninsula) এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। পিয়ার্স কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে পুলিশ একটি কল পায়। জানা যায়, একজন ব্যক্তি তার নামে থাকা ‘নো-কন্টাক্ট অর্ডার’ লঙ্ঘন করছেন। ডেপুটিরা সেই আদেশের কপি পৌঁছে দিতে গেলে খবর আসে যে তিনি বাড়ির বাইরে লোকজনকে ছুরিকাঘাত করছেন। প্রথম পুলিশ সদস্য তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীকে সক্রিয় অবস্থায় দেখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালালে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার সময় তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, চতুর্থ ভুক্তভোগী হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। নিহতদের এবং হামলাকারীর পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর বয়স আনুমানিক ৩২ বছর। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, হামলাকারীর বিরুদ্ধে আগে থেকে সুরক্ষা আদেশের প্রক্রিয়া চলছিল। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, গত মে মাসে এক নারী তার ৩২ বছর বয়সী ছেলের বিরুদ্ধে এই আদেশের আবেদন করেছিলেন। আবেদনপত্রে উল্লেখ ছিল, তিনি মানসিক সমস্যা ও মাদকাসক্তিতে ভুগছেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধ থেকেই ঘটনা ঘটেছে। টাকোমা পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র শেলবি বয়েড বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা নিহতদের সঙ্গে হামলাকারীর সম্পর্ক এবং হামলার কারণ খতিয়ে দেখছি।" বর্তমানে পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ফরেনসিক দল তথ্যসংগ্রহ করছে।
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্মজীবী আমেরিকানদের জন্য একটি নতুন রিটায়ারমেন্ট বা অবসর সঞ্চয় পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় যোগ্য কর্মীরা তাদের অবসর সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা রাখলে সরকার সেই জমার বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ডলার পর্যন্ত সমপরিমাণ অর্থ যোগ করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করছেন, তাদের অবসর জীবন হওয়া উচিত নিরাপদ ও সম্মানজনক। জানা গেছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেস-এর অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের সরকারি ম্যাচিং সুবিধা সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিরোধী মহল বাজেট ব্যয়, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের অবসর সঞ্চয় ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে এবং লক্ষ লক্ষ কর্মজীবী মানুষের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।