আমেরিকা

নিউইয়র্কে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ২২:৪৭
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল। ছবি: আমেরিকা বাংলা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল। ছবি: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) জ্যাকসন হাইটস সোসাইটি নিউ ইয়র্ক, আমেরিকার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।

 

জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গিয়াস আহমেদ সদস্য জাতীয় নির্বাহী কমিটি বিএনপি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি নেতা জসীম উদ্দীন ভূঁইয়া, আব্দুস সবুরসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীকালে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বক্তারা তার কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

 

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দোয়া মাহফিল ও গণভোজ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। পরে আগত অতিথি ও সাধারণ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

 

অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট-লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। এ সময় তিনি গণভোজ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেন।

 

বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে স্মরণ করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দায়িত্ব। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয় এবং কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে।

 

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, জ্যাকসন হাইটস দীর্ঘদিন ধরেই নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে এখানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলো প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তারা মনে করেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং প্রবাসে বাংলাদেশি পরিচয় ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

 

আয়োজকরা জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং গণভোজের মাধ্যমে প্রবাসীরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করেন।

 

অনুষ্ঠানের শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জাতীয় ও ঐতিহাসিক দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার স্বয়ংক্রিয় সুযোগ হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ ভিসা আগের মতো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে না; বরং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হবে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতে পারেন।    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় থাকা শিক্ষার্থীরা সাধারণত “ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস” নীতির আওতায় থাকেন। অর্থাৎ, তারা নির্ধারিত শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়ম মেনে যুক্ত থাকলে পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। নতুন নীতিতে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।    প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় যারা চার বছরের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন না, তাদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য আলাদাভাবে অনুমতি বা ভিসা সম্প্রসারণের আবেদন করতে হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, ডক্টরাল প্রোগ্রাম বা জটিল একাডেমিক কার্যক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।    নতুন নীতিতে শুধু শিক্ষার্থী ভিসা নয়, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের আই ভিসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। জে ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ চার বছরের সীমা এবং সাংবাদিকদের ভিসার ক্ষেত্রে আরও কম সময়ের সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।    হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ভিসা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে অবস্থানের সময়সীমা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে।    নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক কর্মসংস্থানের সুযোগ, বিশেষ করে পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি বা ওপিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান।   এছাড়া প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য দেওয়া সময়সীমা কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। বর্তমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড কমিয়ে ৩০ দিন করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আসেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।    প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হওয়ার আগে সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পরই নতুন নিয়মের চূড়ান্ত রূপ পরিষ্কার হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৩:৫৩
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন

মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টকে ছুরিকাঘাত; সহকর্মীর পাল্টা গুলিতে হামলাকারী নিহত। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়া-অ্যারিজোনা সীমান্তে বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তার উপর হামলা, গুলিতে হামলাকারী নিহত

ওহাইওতে চাকা ফেটে পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে দাদিসহ ৩ জনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

টলেডো শহরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে বিষাক্ত গ্যাস, একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন নীতিমালার প্রস্তাব করল মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের মার্কিন ভিসা নীতি বদলাচ্ছে, থাকছে না অনির্দিষ্ট মেয়াদ

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বর্তমানে প্রচলিত অনির্দিষ্ট মেয়াদে অবস্থানের সুযোগের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের একটি নোটিশের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভিসা ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ভিসাধারীরা তাদের নির্ধারিত শিক্ষা কার্যক্রম, কর্মসূচি বা চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন।   প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা, সাংস্কৃতিক ও বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের জন্য জে ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য আই ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।   বর্তমান ব্যবস্থায় এসব ভিসার ক্ষেত্রে অনেক সময় আলাদা করে নির্দিষ্ট শেষ তারিখ উল্লেখ থাকে না। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার অনুমোদিত শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, কর্মসূচি বা সাংবাদিকতার দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান।   জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের নোটিশ অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে বিষয়টি কংগ্রেসের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরিবর্তন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে লাখো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এফ ভিসার মাধ্যমে পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি জে ভিসার আওতায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, গবেষণা ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেন অনেক বিদেশি নাগরিক। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।   তবে প্রস্তাবিত নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কংগ্রেসের পর্যালোচনা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরই এর বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১১:৪৮
অবৈধ ভোট ও জালিয়াতিসহ ৫টি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার টেক্সাসের আরকোলা শহরের মেয়র ফ্রেড বার্টন। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ ভোট ও চুক্তি অনিয়মের অভিযোগে শহরের মেয়রের বিরুদ্ধে ৫টি ফৌজদারি মামলা

গৃহহীন জীবন থেকে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান—প্রিন্স উইকস | ছবি: সংগৃহীত

হোমলেস থেকে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান: নিউইয়র্কে ১৯ বছরের তরুণের অবিশ্বাস্য সাফল্য

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় ফিলিস্তিনপন্থী এই কর্মী মাহমুদ খলিল | ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমনের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মাহমুদ খলিল

মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে জেফরি এপস্টিনের গোপন সম্পর্কের দাবি জেডি ভ্যান্সের। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সর্বোচ্চ মহলের সঙ্গে যৌন অপরাধী এপস্টিনের সম্পর্ক ছিল: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহল এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগাযোগ ছিল। তবে এপস্টিন কোনো গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   জো রোগানের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এপস্টিনের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী যোগাযোগ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এপস্টিনের যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর মহলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।   ভ্যান্স বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল। তার পরিচিতদের তালিকায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের ব্যক্তিরাই ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।   এপস্টিন ২০১৯ সালে ফেডারেল যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে মারা যান। এর আগে তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন শোষণ ও পাচারের অভিযোগ ছিল। তার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।   মোসাদের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, এপস্টিন হয়তো মোসাদ, সিআইএ বা অন্য কোনো “ডিপ স্টেট” কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।   এদিকে এপস্টিনের গোপন নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, প্রশাসন বিষয়টি জনগণের কাছে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের যোগাযোগগত ভুল করেছে।   ভ্যান্স বলেন, শুরুতেই সব তথ্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করা হলে বিভ্রান্তি কমত। তবে তিনি দাবি করেন, তথ্য গোপন করার কোনো উদ্দেশ্য প্রশাসনের ছিল না।   এপস্টিন নথি প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নিজ সমর্থকদের একটি অংশের সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন দীর্ঘদিন ধরে থাকা নথিগুলো পুরোপুরি প্রকাশ করা হচ্ছে না।   ভ্যান্স বলেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির একটি মন্তব্যের পর বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বন্ডি এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এপস্টিনের কথিত “ক্লায়েন্ট তালিকা” তার কাছে রয়েছে। পরে প্রকাশিত কিছু নথি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি আরও আলোচিত হয়।   ভ্যান্স আরও বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিছু রাজনৈতিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বের কাছে যে নথি দেওয়া হয়েছিল, তার বড় অংশই আগে থেকেই প্রকাশিত তথ্য ছিল। তার মতে, এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়।   এপস্টিনের নথি ও তার সম্পর্কের বিষয়টি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের একটি বড় বিষয়। তবে এপস্টিন কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট ছিলেন—এমন কোনো সরকারি তদন্তের নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।   এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা মানেই কোনো অপরাধে জড়িত থাকা নয়। তার পরিচিত ব্যক্তি ও যোগাযোগের বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাই করা হয়েছে, তবে প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ৯:৫৫
সরকারকে প্রতারণা করে সরকারি চাকরি নয়—ডেবোরাহ উইৎজবার্গ | ছবি: সংগৃহীত

করোনা ত্রাণ ঋণ জালিয়াতি: শিকাগোর ৩৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আরও ৮ জনকে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

নিউ ইয়র্ক পুলিশে পদোন্নতি পাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্ক পুলিশে বাড়ছে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি, নেতৃত্বেও শক্ত অবস্থান

শর্ত ভঙ্গের দায়ে আইসিই-এর হাতে গ্রেপ্তার আলাস্কা ডিপার্টমেন্ট অব ল’-এর চীনা আইনজীবী শুচেং ইয়াং। ছবি: সংগৃহীত

আলাস্কার সরকারি আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করল যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বিভাগ

0 Comments