ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর কুমিল্লার বরুড়ায় এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়ে নিজের দলেরই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নবনিযুক্ত গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। গত শনিবার সন্ধ্যায় বরুড়ায় নিজ বাসভবনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও জনরোষে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার কাছ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা গ্রহণ করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে সমালোচনার ঝড়।
জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার এমন ‘আপোষকামী’ আচরণে ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজপথের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা।
শুভেচ্ছা জানানো সেই ‘নিষিদ্ধ’ মুখগুলো:
মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো এসব ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রায় সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী। তালিকায় রয়েছেন— উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামান মাসুদসহ অন্তত ১৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান। তাঁরা সবাই বরুড়ার সাবেক বিতর্কিত আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শফিউদ্দিন শামীমের একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
তৃণমূলের ক্ষোভের আগুন:
বিএনপির সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, এই আওয়ামী নেতাদের নেতৃত্বেই গত ১৭ বছর বরুড়াতে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া ছিলেন। অসংখ্য মিথ্যা মামলা, হামলা আর নির্যাতনের শিকার হওয়া ত্যাগী কর্মীরা এখন দিশেহারা। আব্দুল হাকিম নামে এক বিএনপি কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, “এই নেতারাই আমাদের পিটিয়েছে, এখন ওরাই আবার মন্ত্রীর পাশে বসে ফুল দিচ্ছে। হালুয়া-রুটির ভাগ সবাই মিলেমিশে খাচ্ছে, আর আমাদের মতো সাধারণ কর্মীদের কপালে এখনো সেই গাছতলা আর ধানক্ষেত!”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকে লিখছেন— “যাদের কারণে শত শত কর্মী পঙ্গু হয়েছে, তাদের হাত থেকে ফুল নেওয়া শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।” জুলাই বিপ্লবের পর যেখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচারের আওতায় আনার কথা, সেখানে বিএনপির নেতারাই তাঁদের ‘শেল্টার’ দিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের শুরুতে এমন ঘটনা জনমনে ভুল বার্তা দিতে পারে এবং সরকারের স্বচ্ছতা ও নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর এবার সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে দলটি এবার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে জিতার নিরিখে জামায়াত ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ১২টি আসন পেতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী যদি সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়, তবে জামায়াতের নারী এমপির সংখ্যা দাঁড়াবে ২৪-এ। এই ঐতিহাসিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিজ্ঞ সাংগঠনিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সংসদ কাঁপাতে পারেন এমন দক্ষ পেশাজীবীদের খুঁজছে দলটি। সম্ভাব্য তালিকায় আলোচনায় যারা: জামায়াতের মহিলা বিভাগ ও নীতিনির্ধারণী সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনের দৌড়ে বেশ কিছু পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন: দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আমেনা বেগম। নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট। জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুন্নিসা সিদ্দিকা। প্রখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী। কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমুন্নাহার নীলু, সাঈদা রুম্মান এবং ফাতেমা আক্তার হ্যাপি। পেশাজীবী ও নতুন চমক: দলীয় নেতৃত্বের বাইরেও এবার দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের সংসদে পাঠানোর কথা ভাবছে জামায়াত। এক্ষেত্রে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মারদিয়া মমতাজ, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি ডা. শামীমা তাসনিম এবং ঢাকা-১০ আসনের আলোচিত নেতা অ্যাডভোকেট জসীমউদ্দিন সরকারের স্ত্রী ড. ফেরদৌস আরা খানম বকুলের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, মহিলা বিভাগ থেকে প্রস্তাবিত নামগুলো দলের সংসদীয় বোর্ডে যাচাই-বাছাই করা হবে। মূলত সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দেশজুড়ে সুষম প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই তালিকা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে জামায়াত মাত্র ২টি এবং ২০০১ সালে ৪টি সংরক্ষিত আসন পেয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবারই প্রথম তারা সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি এত বড় নারী প্রতিনিধিত্ব পেতে যাচ্ছে। ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর মধ্য থেকেও কাউকে এই কোটায় মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না। কেউ দলের পরিচয় ভাঙিয়ে অপকর্মে জড়ালে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি—দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে উপজেলার রায়পুর, চরআবাবিল, উত্তর চরবংশী ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের দলীয় কার্যালয় এবং ইফতার মাহফিলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে তিনি স্থানীয়দের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন। এলাকাবাসী রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জবাবে এমপি বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমেই দিতে চান। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাঘাট সংস্কার, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনসেবামূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতি মানুষের সেবার জন্য। মদিনা সনদের আদলে রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শ সামনে রেখে কাজ করা হবে। ব্যক্তিস্বার্থে দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভূঁইয়াসহ বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে একাধিক মামলা করা হবে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডিতে এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে ববি হাজ্জাজ এই তথ্য জানান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন একাধিক কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিজে দাঁড়িয়ে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এখনও কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ের আগে অনেক চড়াই–উতরাই পেরোতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছে। এই হামলাকে আমরা আইন ছাড়া ছাড়ব না। প্রত্যেক আহত কর্মীর বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, মামুনুল হক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ‘ভোটের দিন তাদের সঙ্গে তেমন কোনো সংঘাত হয়নি। পুলিশ ও আর্মি উভয়পক্ষের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করেছে। যে যেখানেই আহত হয়েছেন, তা পুলিশের ও আর্মির কারণে হয়েছে। মামলা দিয়ে হয়রানি করা রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।’