চলতি ১৪৪৭ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতরের হার নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।
সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট আলেম ও কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বাজারমূল্য পর্যালোচনা করে এই হার চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হার ঘোষণা করেন কমিটির সভাপতি।
উল্লেখ্য যে, বিগত ১৪৪৬ হিজরি সনেও (২০২৫ সাল) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল। আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর এই হার নির্ধারণ করা হয়।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
চলতি ১৪৪৭ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতরের হার নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট আলেম ও কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বাজারমূল্য পর্যালোচনা করে এই হার চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হার ঘোষণা করেন কমিটির সভাপতি। উল্লেখ্য যে, বিগত ১৪৪৬ হিজরি সনেও (২০২৫ সাল) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল। আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর এই হার নির্ধারণ করা হয়।
সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় পরদিনই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফসহ জেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামে আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা রাখা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ৯ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা ঐতিহ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে এই গ্রামগুলোতে প্রতি বছরই একদিন আগে রোজা ও ঈদ উদ্যাপিত হয়। ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা ড. বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাদ্রা দরবার শরীফ ছাড়াও মতলব উত্তর উপজেলার সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজ আদায় এবং সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রমজানের কার্যক্রম শুরু করেন। পীর ইমামুল আরেফিন ড. মওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান জানান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ার পর শরীয়াহ মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রামের মানুষ এই নিয়ম পালন করছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজীগঞ্জের সমেশপুর, বলাখাল, বাসারা; ফরিদগঞ্জের লক্ষ্মীপুর, গল্লাক, কাইতাড়া; এবং মতলব উত্তরের দশানী ও মোহনপুর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সৌদি আরবে চাঁদ দেখার তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় রোজার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রথম রোজা পালন করছেন তারা। উল্লেখ্য, ১৯৩২ সাল থেকে এই আগাম রোজা ও ঈদ পালনের প্রথা প্রবর্তন করেন সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মওলানা ইসহাক (রহ.)। তাঁর অনুসৃত নিয়ম অনুযায়ী, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে প্রথম চাঁদ দেখা গেলে সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ইবাদত শুরু করা হয়। প্রায় ৯৪ বছর ধরে এই নিয়মটি চাঁদপুরের এই বিশেষ অঞ্চলগুলোতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে রমজান শুরুর একদিন আগেই এই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের জেরুসালেমে অবস্থিত মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদুল আকসায় মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত করার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। জেরুসালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইকরিমা সাবরি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মুসলমানদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই মসজিদে রমজানের সময়ও মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার নীল নকশা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করে ফেলেছে দখলদার বাহিনী। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বছরের শুরুতেই অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে নতুন পুলিশ কমান্ডার হিসেবে মেজর জেনারেল অ্যাভশ্যালম পেলেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগকে উগ্রপন্থি ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মসজিদুল আকসা দখলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এমনকি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছে যে, বেন-গভির মূলত ওই অঞ্চলে উত্তেজনার আগুনে হাওয়া দিতে এবং সংঘাত উসকে দিতে সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেখ ইকরিমা সাবরি আক্ষেপ করে বলেন, "রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনায় রমজানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিলেও জেরুসালেমে আমরা তা করতে পারছি না। দখলদার শক্তি তরুণদের মসজিদে প্রবেশে ইতোমধ্যেই কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের মুসল্লিদের জন্যও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, এর অর্থ হলো এবারের রমজানে আগের চেয়েও অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে ফিলিস্তিনিদের। মসজিদুল আকসায় মুসল্লিদের উপস্থিতি অনেক কমে যাবে, যা ধর্মীয় ও প্রার্থনার স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। ইসরাইলের এমন উসকানিমূলক পদক্ষেপ মুসলমানদের পবিত্র রোজার মাস উদযাপনে বড় ধরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।