ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে। উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী ছেলে রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে একটি বিড়াল আঁচড় দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
তানভীর হাসানের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে প্রথমে সালাম দিয়ে তিনি শিশুর বিষয়টি জানান এবং তাকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। এ সময় চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে বর্তমানে বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের প্রয়োজনীয় টিকা নেই এবং বিকেলে আসতে হবে।
পরে যোগাযোগের সুবিধার জন্য চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন তানভীর। তার দাবি, ‘ভাই’ সম্বোধন নিয়ে চিকিৎসক অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং একপর্যায়ে তাদের চলে যেতে বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রোগীর স্বজন চিকিৎসককে উদ্দেশ করে বলছেন, “প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?” জবাবে চিকিৎসককে বলতে শোনা যায়, “আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।”
তানভীর হাসান বলেন, “আমি অসুস্থ শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে গিয়েছিলাম। চিকিৎসককে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু ভাই বলায় তিনি বিরক্ত হন এবং পরে চিকিৎসা না দিয়েই চলে যেতে বলেন।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি মূলত ভুল বোঝাবুঝি থেকে তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য, ডা. আরিফুল ইসলাম একজন দায়িত্বশীল ও কর্মঠ চিকিৎসক। রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে হাসপাতালের অফিসিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত।
তিনি আরও বলেন, ভিডিওতে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের আরও সহানুভূতিশীল ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অসুস্থ এক মেধাবী শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড প্রবাসী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ কাজল। সোমবার বিকেলে বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অভিজিৎ মজুমদারের পরিবারের হাতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। অভিজিৎ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। অসুস্থতার কারণে তার চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান মোহাম্মদ কাজল। তার পক্ষ থেকে অভিজিতের বাবা শ্যামল মজুমদারের হাতে নগদ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুলতান-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খাজা নজরুল ইসলাম, বসুরহাট পৌরসভা যুবদল নেতা খাজা কামরুল ইসলাম স্বপন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্যামল দাস। মোহাম্মদ কাজল দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বসবাস করছেন। তিনি সেখানকার একজন ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি তিনি সুলতান-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি মেরিল্যান্ড বাংলাদেশি ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসে বসবাস করলেও নিজ এলাকা কোম্পানীগঞ্জের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ রেখে চলেছেন মোহাম্মদ কাজল। সুলতান-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসচ্ছল পরিবার, অসুস্থ ব্যক্তি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি। দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে অসহায় মানুষের সহায়তা, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অসুস্থ শিক্ষার্থী অভিজিৎ মজুমদারের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় মোহাম্মদ কাজলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা।
বাংলাদেশের একজন তরুণ পেশাজীবী শায়েরা তার কঠোর পরিশ্রম, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ প্রোগ্রামে জায়গা করে নিয়েছেন। তার এই যাত্রা শুধু একটি উচ্চশিক্ষার অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, আত্মউন্নয়ন এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি উদাহরণ। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইদ বিজনেস স্কুলের এমবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া শায়েরার জন্য ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তবে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে তাকে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে—শিক্ষাজীবন, পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং নিজেকে ক্রমাগত উন্নত করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে। শায়েরা মনে করেন, বড় কোনো অর্জন একদিনে আসে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে কাজ করা। অক্সফোর্ড এমবিএর মতো প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে আবেদন করার আগে তিনি নিজের একাডেমিক যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজনেস স্কুলগুলো সাধারণত শুধু ভালো ফলাফল নয়, বরং একজন প্রার্থীর চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং সমাজে সম্ভাব্য অবদানের বিষয়গুলো বিবেচনা করে। অক্সফোর্ড এমবিএতে আবেদন করতে গিয়ে শায়েরা বিভিন্ন পর্যায়ের প্রস্তুতি নেন। এর মধ্যে ছিল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, আবেদনপত্র তৈরি, নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা এবং সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। তার মতে, একটি শক্তিশালী আবেদন শুধু অর্জনের তালিকা নয়; বরং একজন ব্যক্তি কেন এই প্রোগ্রামের জন্য উপযুক্ত এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চান, সেটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হয়। অক্সফোর্ডের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা শায়েরার জন্য একটি বিশেষ অর্জন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করার সুযোগ তার সামনে নতুন অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে। অক্সফোর্ড এমবিএ প্রোগ্রাম বিশ্বজুড়ে ব্যবসা, উদ্যোক্তা, নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে কাজ করা পেশাজীবীদের জন্য অন্যতম সম্মানজনক শিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত। শায়েরা মনে করেন, স্বপ্ন পূরণের জন্য শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন ধৈর্য, নিয়মিত পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা। তার যাত্রা দেখায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় সুযোগ অর্জনের জন্য একজন শিক্ষার্থী বা তরুণ পেশাজীবীকে নিজের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন কিছু শেখার মানসিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যেতে হয়। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর এই গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
মাদক মামলায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে অভিনব কৌশল নিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানা পুলিশ। পুলিশের ইউনিফর্ম ছেড়ে লুঙ্গি পরে খালি গায়ে কৃষকের ছদ্মবেশে ফসলের মাঠে প্রবেশ করে শেষ পর্যন্ত ওই আসামিকে আটক করেন এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। শনিবার, ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় নাচোল উপজেলার বাইরে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার রাওতা গ্রামের একটি ফসলি মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নাচোল থানার এএসআই ফরহাদ হোসেন। গ্রেফতার ব্যক্তি সুশীল (পুলিশের নথি অনুযায়ী পূর্ণ নাম), যিনি নাচোল উপজেলার রাজবাড়ী হাট টাওয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় প্রায় তিন মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ আদালত-২ সুশীলকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতারের জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও তিনি প্রতিবারই কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, সুশীল নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার একটি ফসলি মাঠে কৃষিকাজ করছেন। সন্দেহ এড়াতে এএসআই ফরহাদ হোসেন নিজের সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের পাশের একটি বাজারে অবস্থান নিতে নির্দেশ দেন। এরপর তিনি নিজেই কৃষকের বেশ ধারণ করে মাঠে প্রবেশ করেন। এএসআই ফরহাদ হোসেন জানান, কাছে পৌঁছাতেই সুশীল তাকে চিনতে পেরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সুশীলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আদালতের রায় কার্যকর করতে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে নাচোল থানা পুলিশ।