বাংলাদেশ

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ১২ ইউনিটে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১৭:৪০
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

খুলনা মহানগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল ভবনটিতে আগুন লাগার বিষয়টি প্রথম সবার নজরে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় উৎসুক জনতা একযোগে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজের বেসমেন্ট থেকে হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং এর পরপরই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের সূচনা নিচতলা বা বেসমেন্ট থেকে হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনের অন্যান্য তলায় তীব্র ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিচতলার অক্সিজেন রুম লক্ষ্য করে পানি ছিটানো শুরু করেন, তবে রাত ১১টা পর্যন্ত বেসমেন্ট থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।

 

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল ইসলাম রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানান, ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হলেও এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় উদ্ধারকাজে তাদের একটি দল মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালজুড়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ১১ তলায় অবস্থানরত এক রোগী জানান, তারা সুরক্ষিত থাকলেও পুরো হাসপাতালজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতালের ভেতরে আটকে পড়া রোগীদের যেন ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট না হয়, সেজন্য স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ভবনের জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দেন। ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় হাসপাতালের রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
এআই ডেটা সেন্টার গড়তে বাংলাদেশে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের এডিক প্রতিষ্ঠানের। ছবি: সংগৃহীত
এআই ডেটা সেন্টার গড়তে বাংলাদেশে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, সফটওয়্যার, শিক্ষা ও গণমাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এআই আনছে আমূল পরিবর্তন। দেশের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ধারায় এবার এআই ডেটা সেন্টার তৈরিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এডিক বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রথম ফ্রন্টিয়ার এআই ডেটা সেন্টার ও কোয়ান্টাম-রেডি সোভরেন কম্পিউট ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর কিংবা সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আনিসুর রহমানের সই করা কৌশলগত এই প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।   প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এআই খাতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম তৈরি এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তোলা সহজ হবে। দেশের ভেতরের ডেটা দেশেই সংরক্ষণ করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং প্রায় ১৮ কোটি মানুষের তথ্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর আওতায় সুরক্ষিত রাখা যাবে।   প্রকল্পটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী চব্বিশ মাসের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ফ্রন্টিয়ার এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে এর সক্ষমতা বাড়িয়ে একশ থেকে দুইশ মেগাওয়াটে উন্নীত করে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক এআই কম্পিউট হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দীর্ঘমেয়াদে তৃতীয় ধাপে কোয়ান্টাম রেডি ইনফ্রাস্ট্রাকচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রকল্পটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। ডেটা সেন্টারের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে একশ মেগাওয়াটের একটি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ রাখা হবে। এছাড়া প্রকল্পটিকে জাতীয় অগ্রাধিকার বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।   বিদেশি বিনিয়োগের এই উদ্যোগকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে এআই ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয় এবং উচ্চ তাপ উৎপাদন একটি বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন থেকেই সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১২:৪২
আদালতের আদেশে আড়াই মাস পর নিজের সাত মাসের শিশুসন্তানকে ফিরে পেল কিশোরী। ছবি: সংগৃহীত

১২ বছরেই বিয়ে, ১৩ বছরেই মা: আড়াই মাস পর আদালতের আদেশে সন্তান ফিরে পেল কিশোরী

এটা স্ত্রী-সতীনের ঝগড়া নয়, স্বার্থ যেখানে সেখানেই বাংলাদেশ

এটা স্ত্রী-সতীনের ঝগড়া নয়, স্বার্থ যেখানে সেখানেই বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে ৮৪৪১ কোটি টাকার দুর্নীতি

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে ৮৪৪১ কোটি টাকার দুর্নীতি

সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ  করতে পারবেন বাবা-মা
সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা : আইনমন্ত্রী

দেশের দীর্ঘদিনের সিভিল মামলার জট কমাতে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী বাবা-মা জীবদ্দশায় নিজেদের ভোগদখলের অধিকার (জীবনস্বত্ব) অক্ষুণ্ণ রেখেই সন্তানদের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন। এতে পারিবারিক বিরোধ কমবে এবং সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।   বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়, ব্লাস্ট (বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট) ও ব্র্যাকের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।   অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের সিভিল আদালতগুলোর অধিকাংশ মামলাই সম্পত্তির বণ্টন, মালিকানা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় ট্রান্সফার অব প্রপার্টি আইনে সংশোধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   তিনি জানান, বর্তমানে মুসলিম আইনে ‘হেবা’ করার পর সম্পত্তির মালিকানা সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর হয়ে যায়। ফলে অনেক বাবা-মা নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুরোপুরি সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সন্তানরা দায়িত্ব পালন না করলে তাদের অসহায় অবস্থায় পড়তে হয়।   এই সমস্যা সমাধানে সরকার ‘গিফট’ বা দান সংক্রান্ত আইনি বিধান আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সম্পত্তি সন্তানের নামে হস্তান্তর করা হলেও বাবা-মা জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগদখলের পূর্ণ অধিকার রাখবেন। তাদের সম্মতি ছাড়া সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না। আবার বিশেষ প্রয়োজনে, যেমন চিকিৎসার খরচ মেটাতে সম্পত্তি বিক্রির দরকার হলে জেলা জজের অনুমতির মাধ্যমে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে।   আইন উপদেষ্টা বলেন, ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে বিদ্যমান আইনি কাঠামো আরও বিস্তৃত করার চিন্তা করা হচ্ছে। এতে পারিবারিক বিরোধ কমবে এবং ভবিষ্যতে নতুন সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   মামলার জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) বা মধ্যস্থতা ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার ভাষায়, আদালতে বিচারাধীন ও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উপযোগী, সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিচারকরা লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতা কমিটির কাছে পাঠালে দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।   এ ছাড়া বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে আইনজীবী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট গবেষণা ও আইনি সংস্কারের প্রস্তাবও আহ্বান করেন আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আইন সংশোধনের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার উদ্যোগ নেবে।   অনুষ্ঠানে বাগেরহাটে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ সম্পর্কেও কথা বলেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, অভিযোগটি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে।   তিনি আরও বলেন, অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং যারা বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন, তাদের মধ্যে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা পাওয়ার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।   আইন উপদেষ্টা বলেন, বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মামলা কমানো এবং জনগণকে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৩:৩৫
সিলেটে থমথমে অবস্থা

সিলেটে থমথমে অবস্থা , ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী দেশগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর

চীন-আমেরিকা টানাপোড়েনের মাঝে, ঢাকায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত সার্জিও গোর

শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ৫ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে এবং তার আরও পাঁচ সহযোগীকে পৃথক অভিযানে আটক করা হয়। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদী নজরদারির সফল পরিণতি হিসেবে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।   পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম নিজেই ফোর্সের সঙ্গে এই অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রায় সাত দিন ধরে ডেভিড ইমনের গতিবিধির ওপর নিবিড় নজরদারি চালানোর পর বুধবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই যশোর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।   তবে এই সন্ত্রাসীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রায়হানকে ধরার জন্য একই সময়ে অভিযান চালানো হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়। পলাতক রায়হানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই ডেভিড ইমনকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি গত ১৩ জুলাই দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনায় তার নাম নতুন করে আলোচনায় আসে।   প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, হামলার মাত্র দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে 'ডেভিড ইমন' পরিচয়ে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। ফোনে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলা হয়েছিল, চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। সেই অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করার জের ধরেই কার্যালয়ে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৫:২
বগুড়ার এরুলিয়া এয়ারফিল্ডকে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা। ছবি: সংগৃহীত

দেশে হচ্ছে চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

আশরাফ উদ্দিন আকন্দ শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক

‘নিশি রাতে পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড’, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

মিরপুরে টিসিবির চাল কেনার লাইনে দাঁড়িয়ে দেয়ালধসে নিহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নাসিমা বেগম। ছবি: সংগৃহীত

দুপুরের খাবার না খেয়ে সাশ্রয়ী দামে চাল কিনতে গিয়েছিলেন নাসিমা, প্রাণ গেল দেয়ালধসে

0 Comments