বাংলাদেশ

রাজশাহীতে এইচআইভি আক্রান্তদের ৬৬ শতাংশই সমকামী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৬:৩২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে নীরবে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত রাজশাহীতে মোট ১৩৯ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯২ জন পুরুষে-পুরুষে যৌনসম্পর্কে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৬৬ শতাংশ।

 

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতার অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, নিয়মিত পরীক্ষা না করা এবং সামাজিক সংকোচ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য ও নেতিবাচক মনোভাবও অনেককে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে নিরুৎসাহিত করছে।

 

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১১৫ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১০৫ জন পুরুষ, ৯ জন নারী এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ জন এবং ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৮০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮ জন বিবাহিত এবং ৬৭ জন অবিবাহিত। এছাড়া কয়েকজন প্রবাসফেরত ব্যক্তিও রয়েছেন।

 

অন্যদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের বাইরে শনাক্ত হওয়া আরও ৩৪ জন আক্রান্তের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের তথ্য একত্র করলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৯ জন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বিভাগের আট জেলায় বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯৪। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩১০ জন আক্রান্ত রয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলায়। এরপর রয়েছে রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর, জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্র বোঝা কঠিন হবে। কারণ অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক ছাড়াও পরীক্ষাবিহীন রক্ত গ্রহণ, একই সূঁচ বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার এবং গর্ভাবস্থা, প্রসব বা বুকের দুধের মাধ্যমে মা থেকে শিশুর শরীরেও এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে।

 

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বলেন, নির্দিষ্ট কিছু আচরণের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং নিরাপদ আচরণ নিশ্চিত করা।

এইচআইভি আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘আপোষ’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এস. এন. আব্দুল্লাহ আল রেজা বলেন, এখনও অনেক মানুষ মনে করেন এইচআইভি আক্রান্ত মানেই নির্দিষ্ট ধরনের জীবনযাপন। বাস্তবে বিষয়টি আরও বিস্তৃত। আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও মানসিক সহায়তাও প্রয়োজন।

 

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের ফোকাল পারসন ডা. ইব্রাহিম মো. শরফ জানান, বর্তমানে রাজশাহীতে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার চালু রয়েছে এবং আক্রান্তদের জন্য ওষুধ, পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুরোনো রোগীদের কিছু ফাইল স্থানান্তর প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এইচআইভি প্রতিরোধে তথ্যভিত্তিক সচেতনতা, সহজলভ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্যমুক্ত আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক লজ্জা বা ভয় কাটিয়ে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
মির্জা ফখরুল ইসলাম ও আমানউল্লাহ আমান। ছবি:সংগৃহীত
“বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলামকে মিস করবো”—আমানউল্লাহ

পোস্টের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙ্‌ক্তি—“যেতে নাহি দিব! হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়”—উল্লেখ করে মির্জা ফখরুলকে বিদায় জানানোর অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি।   আমান লেখেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণের মতোই এই বিদায়ের মুহূর্তেও কান্না আসে। কারণ, এটি শুধু একটি নতুন দায়িত্বে যাওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের অসংখ্য স্মৃতি, আনন্দ-বেদনা ও রাজনৈতিক পথচলার নানা অধ্যায়।   মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তার আন্তরিকতার প্রশংসা করে তিনি লেখেন, “বিগত দুঃসহ দিনগুলোতে আপনার বিরতিহীন পথচলা আর কর্মীদের প্রতি নিখাঁদ দরদ যেমন আমাদের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তেমনি আপনি আমাদের মায়ার ডোরে বেঁধেছেন।”   সভা-সমাবেশে মির্জা ফখরুলের গাম্ভীর্যময় কণ্ঠ ও বক্তব্যের ধরনও স্মরণ করেন আমান। তিনি লেখেন, “সভা-সমাবেশে আপনার সেই চিরচেনা গাম্ভীর্যময় কণ্ঠ আর দারুণ বাচনভঙ্গির বক্তব্য আর শুনতে পাবো না।”   মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে আমান আরও লেখেন, “আপনি ক্রমান্বয়ে বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে গিয়েছেন স্যার।”   রাষ্ট্রপতি পদ নিয়েও নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদকে অনেকটা আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক পদ হিসেবে দেখা হলেও এবার দেশের মানুষ এই পদকে নতুন গুরুত্বে অনুধাবন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।   রাজনীতির মাঠে মির্জা ফখরুলকে হারানোর অনুভূতি তুলে ধরে আমান লেখেন, “রাজনীতির মাঠে আপনাকে অনেক বেশি মিস করবো স্যার।”   পোস্টের শেষদিকে মির্জা ফখরুলের নতুন পথচলার জন্য দোয়া করেন এই ছাত্রদল নেতা। তিনি লেখেন, দলের হাইকমান্ড, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে মির্জা ফখরুল সফল হবেন—এমন প্রার্থনা করেন তিনি।   সবশেষে আমান লেখেন, “আমরা মিস করবো কর্মীদের প্রতি একজন নিখাঁদ দরদীকে, আমরা মিস করবো বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।”   এরপর জিয়া পরিবারের প্রতি মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভূমিকার কথা স্মরণ করে লেখেন, “আমরা মিস করবো সংগ্রাম-সংকটে জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন এবং খালেদা জিয়ার লগের স্যারকে। অনেক বেশি মিস করবো স্যার…”

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৫:৪২
মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নিলেন তারেক রহমান

মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নিলেন তারেক রহমান

গোলাম রুহানি ও বিপ্লব। ছবি:সংগৃহীত

চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান

ইসলামের ইতিহাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স! ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার পেলেন মারুফ

বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ও অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধ করা যাবে।   সোমবার (১০ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্মে কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে অনেক বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভর্তি প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের এমন সুবিধার চাহিদা বাড়ছিল।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষা ব্যয় বহনকারী ব্যক্তি বা অভিভাবকের নামে এসব আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করা যাবে। কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ পরিশোধ করা যাবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শিক্ষা-সংক্রান্ত এসব কার্ড লেনদেনকে বিদ্যমান ভ্রমণ কোটার বাইরে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অনুমোদিত শিক্ষা ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করবে।   তবে এই সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত আইন, নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে হবে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে কার্ডের মাধ্যমে শুধু অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয়ই পরিশোধ করা হচ্ছে।   এ ছাড়া প্রতিটি লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত ‘পারপাস কোড’ ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন করতে হবে।   নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ থেকে টিউশন ফি পাঠানোর প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্ম সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৪:১২
সমালোচিত রাস্তার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী যাবেন তাই রং করা হয়েছিল একপাশ, অন্য পাশ মলিন থাকায় সমালোচনা

আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা

‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’ সৌদিতে আগুনে দুই ভাই নিহত

সালমান শাহ ও খলনায়ক ডন। ছবি:সংগৃহীত

সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন গ্রেপ্তার, নেয়া হচ্ছে আদালতে

বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের
বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তের ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে তারা মিয়া (২০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভারতের মাগুরুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিজিবি।   নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুড়াইছড়া বস্তি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।   বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে তারা মিয়াসহ চার থেকে পাঁচজন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।   ঘটনার পর তারা মিয়ার মৃত্যুর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিএসএফের গুলির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পর তার মরদেহের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।   মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে এর আগেও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের মার্চে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে ১৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কিশোর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।    সীমান্তে গুলির ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে। নতুন এই ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ২:৪২
ভারতীয়কে ধরে নিয়ো আসলো বাংলাদেশীরা। ছবি:সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, ক্ষোভে ভারতীয়কে ধরে আনল গ্রামবাসী

সন্তানদের সাথে একজন অসহায় মা। ছবি :সংগৃহীত

সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা

প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, রেমিট্যান্সে মিলবে ৩% প্রণোদনা

প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, রেমিট্যান্সে মিলবে ৩% প্রণোদনা

0 Comments