দীর্ঘদিন ধরে যৌন অপরাধের অভিযোগে আলোচিত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন–কে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ আইনে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে এপস্টেইনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের গোপন নথি প্রকাশের পথ খুলে যায়। ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া তদন্তের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন আইনের আওতায় বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করতে শুরু করে মার্কিন বিচার বিভাগ। এসব নথির মধ্যে রয়েছে লিখিত ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিও এবং ই-মেইল বার্তা। বিশেষ করে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এতে উঠে এসেছে। প্রকাশিত প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন নথির বিশ্লেষণে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বারবার উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটস, ইলন মাস্ক এবং সাবেক হোয়াইট হাউস কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাইবেলের ইংরেজি অনুবাদে ‘প্রভু’ শব্দটি যতবার এসেছে, প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে তার চেয়েও বেশি বার ট্রাম্পের নাম উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন ইংরেজি অনুবাদে ‘প্রভু’ শব্দটি প্রায় তিন হাজার ৩০০ থেকে সাড়ে চার হাজারবার ব্যবহৃত হলেও প্রকাশিত প্রায় পাঁচ হাজার ৩০০ নথিতে ট্রাম্পের নাম পাওয়া গেছে। এছাড়া ট্রাম্প, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টসহ প্রেসিডেন্টকে ঘিরে ৩৮ হাজারের বেশি উল্লেখ এসব নথিতে পাওয়া গেছে। তবে মিরর ইউএস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্প সরাসরি কোনো অপরাধে জড়িত—এমন স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, এক সময় ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যদিও পরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অন্তত ২০০০ সাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন। বিবিসি–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এফবিআই–এর নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মাইকেল রেইটার জানান, ২০০৬ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, তখন ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে এপস্টেইনের আচরণ সম্পর্কে নিউ ইয়র্কের অনেক মানুষ আগেই জানতেন এবং তাকে অপছন্দ করতেন। প্রকাশিত নথির আরেক অংশে এক নারীর সাক্ষাৎকার উঠে এসেছে, যেখানে তিনি দাবি করেন—কিশোরী বয়সে তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ অনুযায়ী, এপস্টেইনই তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই নারী বলেন, যখন তার বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে, তখন ট্রাম্প ও এপস্টেইন তাকে নির্যাতন করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এক পর্যায়ে ট্রাম্প তাকে জোর করে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করলে তিনি প্রতিবাদ করে তাকে কামড় দেন। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। আগে থেকেই মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, প্রকাশিত কিছু নথিতে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ‘অসত্য ও চাঞ্চল্যকর’ দাবি থাকতে পারে। উল্লেখ্য, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার কয়েক দিন আগে এপস্টেইন–সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ করা হয়, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর বিষয়টি অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। এদিকে কংগ্রেসে এই আইন পাসে ভূমিকা রাখা রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি বলেছেন, বিশ্বের অন্য কোথাও বোমা হামলা হলেই এপস্টেইন ফাইলের প্রশ্ন মুছে যাবে না। একই সঙ্গে তিনি চলমান যুদ্ধেরও সমালোচনা করেছেন।
স্টিফেন হকিং যাকে অনেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে দেখেন। বিরল মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ জীবন হুইলচেয়ারে কাটিয়েছেন তিনি। চলৎশক্তিহীন শরীর, কিন্তু মহাবিশ্ব নিয়ে ছিল অসাধারণ চিন্তার বিস্তার। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত দুই মাসে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে যৌন পাচার–সংক্রান্ত তদন্তের বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এবার প্রকাশিত নথিতে ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের একটি পুরোনো ছবি সামনে এসেছে। ছবিতে দেখা যায়, তিনি একটি সান লাউঞ্জারে হেলান দিয়ে বসে আছেন; তার হাতে একটি পানীয় এবং দুই পাশে বিকিনি পরিহিত দুই নারী অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন মোটর নিউরন রোগে ভোগা স্টিফেন হকিং ২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান। বিরল এ রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় চলৎশক্তিহীন অবস্থায় জীবনযাপন করেন। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি ২০০৬ সালে তোলা। সে সময় এপস্টেইনের অর্থায়নে আয়োজিত একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশ নিতে হকিং ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কোয়ান্টাম কসমোলজি বিষয়ে বক্তব্য দেন। দ্য টাইমসের বরাতে জানা যায়, ওই সফরে ২১ জন বিজ্ঞানী সেন্ট থমাস দ্বীপ ও এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসে অবস্থান করেছিলেন। আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় পাঁচতারকা রিটজ-কার্লটন হোটেলে। প্রকাশিত নথিতে স্টিফেন হকিংয়ের নাম বহুবার উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, নথিতে কারও নাম থাকা মানেই তিনি কোনো অপরাধে জড়িত এমনটি নয়। এপস্টেইনের যৌন দাসত্বের শিকার দাবি করা ভার্জিনিয়া জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, হকিং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে অর্গিতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এই অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি।
মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করেছে প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা, ২ হাজার ভিডিও ও ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি, যা জেফরি এপস্টেইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের দীর্ঘদিনের যৌন নির্যাতন এবং কিশোরী গ্রুমিংয়ের চক্রের চূড়ান্ত প্রমাণ তুলে ধরে। মার্কিন বিচার বিভাগ ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশ করেছে। এসব ফাইল জেফরি এপস্টেইনের যৌন নির্যাতন ও শিশু পাচারের অভিযোগের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষভাবে উঠে এসেছে তাঁর সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের ভূমিকাও, যিনি কিশোরী ও তরুণী মেয়েদের এপস্টেইনের জালে টেনে আনতেন। মিশিগানের ইন্টারলোচেন স্কুল অব দ্য আর্টস-এর একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে ১৯৯৪ সালে এপস্টেইন ও গিলেইন প্রথম শিকার নির্বাচন করেন। ১৩ বছর বয়সী ‘জেন ডো’ নামের এক কিশোরী সেখানে অংশ নেন। এপস্টেইন নিজেকে শিল্প অনুরাগী ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি জানার পর কয়েক মাস পর তাকে চায়ের আমন্ত্রণ জানান। এরপর থেকে জেন ডো নিয়মিত এপস্টেইনের বাড়িতে যেতেন, যেখানে সুইমিংপুল, সিনেমা ও শপিংয়ের আড়ালে দীর্ঘমেয়াদি যৌন নির্যাতন শুরু হয়। এফবিআই রিপোর্ট ও আদালতের নথিতে দেখা গেছে, এপস্টেইন ও গিলেইন কিশোরীদের একে অপরের কাছে পাঠাতেন, গ্রুমিং করাতেন এবং নগদ অর্থ, শিক্ষা খরচ ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে প্রলোভিত করতেন। ২০০৪–২০০৫ সালে এপস্টেইনের বাড়িতে যেসব মেয়েদের আনা হতো, তাঁদের বয়স ছিল ১৪–১৮ বছরের মধ্যে। প্রতিজন নতুন কিশোরী আনার বিনিময়ে নগদ অর্থ দেওয়া হতো। গিলেইন এই নেটওয়ার্ক পরিচালনার মূল কৌশল ছিলেন। ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন চুপ ছিলেন ভয়ে। জেন ডো প্রায় দুই দশক পর প্রথমবারের মতো নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরে ২০২০ সালে এক ভুক্তভোগী গিলেইনকে ‘সাইকোপ্যাথ’ আখ্যা দেন। বিচার চলাকালে ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট কারাগারে থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা করেন এপস্টেইন। গিলেইন ২০২১ সালে শিশু যৌন পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, এপস্টেইনের কাছে আসা-যাওয়া করা বিশ্বের নামি-দামি অনেক ব্যক্তির পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। এসব নথি শুধুমাত্র অপরাধীকে নয়, পুরো ক্ষমতার নেটওয়ার্ক ও জনমতের উত্তেজনাকেও সামনে এনেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস