আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১১:৩০
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

 

নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।

 

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।

 

ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।

 

অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ফেডারেল এজেন্ট I ছবি: সংগৃহীত
ট্রাফিক স্টপে ১৩ বছরের মার্কিন নাগরিককে ‘অবৈধ হলে নিয়ে যাব’: ফেডারেল এজেন্টের মন্তব্যের অভিযোগে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় ১৩ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক কিশোরকে উদ্দেশ করে একজন ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টের কথিত মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির চালক দাবি করছেন, তাঁর সৎভাইকে দেখে এজেন্ট বলেছেন, “সে যদি অবৈধ হয়, আমি তাকে নিয়ে যাব।”   ঘটনাটি ঘটে লুইজিয়ানার স্লাইডেল এলাকায়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন অ্যালান লরেয়ানো। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১৩ বছর বয়সী সৎভাই। ট্রাফিক স্টপের সময় বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তারা দুজনের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সম্পর্কে জানতে চান। ওই সময় লরেয়ানোর দাবি, এক এজেন্ট তাঁর সৎভাইকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন, যা তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। এরপর তিনি পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন।   ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আচরণ এবং ট্রাফিক স্টপের সময় নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন নিয়ে।   তবে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পরিচয় যাচাইয়ের পর চালক ও তাঁর সৎভাই—দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যাচাই শেষে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।   মার্কিন আইন অনুযায়ী, ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যানবাহন থামিয়ে পরিচয় যাচাই করতে পারে। তবে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযানের সময় নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ, পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং বর্ণগত বা জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।   লুইজিয়ানার এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর বর্ডার প্যাট্রোলের কার্যক্রম ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট এজেন্টের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:৫৭
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

সিডনিতে স্কুলের ছুটিতে সন্তানদের পছন্দের খাবার বানাতে গিয়ে আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন মা

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে ৫ বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রকল্প, গড়ে উঠছে আমেরিকার বৃহত্তম ক্যাসিনো রিসোর্ট

বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী শামসুল হক

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রাইমারিতে মাত্র ৭ ভোটে হেরেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শামসুল হক

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডে ২৮৭ ডলারের বিল আদায় করতে গিয়ে উল্টো ৩২ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ গুনলেন বাড়িওয়ালা

যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডে মাত্র ২৮৭ ডলারের একটি মেরামত বিল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজ বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন জোনাহ স্প্রিং নামের এক ভাড়াটে। সামান্য এই বিলের বিরোধ গড়ায় আদালত পর্যন্ত, যেখানে শেষ হাসি হেসেছেন জোনাহ। প্রতিপক্ষের যাবতীয় হুমকি-ধমকি ও আইনি জটিলতা পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত তিনি জিতে নিয়েছেন ৩২ হাজার মার্কিন ডলারের বিশাল ক্ষতিপূরণ।   তবে এই আইনি জয় মোটেও সহজ ছিল না। বিচারের মাত্র কয়েকদিন আগেও জোনাহ স্প্রিংকে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে হয়েছিল। মামলাটি প্রত্যাহার করবেন, নাকি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এই দোলাচলের মধ্যে তাকে জানানো হয়, মামলায় হেরে গেলে বাড়িওয়ালার আইনি খরচ হিসেবে তাকে ছয় অঙ্কের বিপুল পরিমাণ অর্থ (লাখ লাখ ডলার) গুনতে হতে পারে।   এ ছাড়া বাড়িওয়ালার আইনজীবী জন বারম্যান ইমেইলের মাধ্যমে তাকে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করেন। জোনাহর আইনজীবীর কাছে পাঠানো এক ইমেইলে বারম্যান অবমাননাকর ভাষায় ইঙ্গিত দেন যে, জোনাহর 'আইকিউ (IQ) সম্ভবত বেশ কম' এবং এই মামলা চালিয়ে তিনি একটি চরম বোকামি করতে যাচ্ছেন।   প্রতিপক্ষের আইনজীবী বারম্যান এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি রীতিমতো হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, কাঠগড়ায় জোনাহর সাক্ষ্যদানের সময় তার নিজের কথাগুলো দিয়েই তাকে 'পুরোপুরি ধ্বংস' করে দেওয়া হবে এবং এর ফলে তার 'বড় ধরনের ক্ষতি' হবে। নিজের আইনজীবীদের কাছ থেকে ফরোয়ার্ড করা এসব ইমেইল পেয়ে জোনাহ স্প্রিং শুরুতে বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন।   ইমেইলগুলো সম্পর্কে জোনাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "সেগুলো ছিল খুবই হুমকিস্বরূপ এবং অত্যন্ত ভীতিজনক।" তবে সব ভয় ও মানসিক চাপকে পাশ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে বাড়িওয়ালাকে পরাজিত করে নিজের অধিকার ঠিকই আদায় করে নিয়েছেন এই সাহসী ভাড়াটে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১৩:৫৭
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় সৎ বাবার ধর্ষণে গর্ভবতী ১১ বছরের শিশু, সন্তান জন্ম দিতেও বাধ্য করল মা

মার্কিন সিদ্ধান্ত ও সামরিক পদক্ষেপের কারণেই মূলত ইসরায়েল টিকে রয়েছে বলে বড় দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ না করলে মানচিত্র থেকে মুছে যেত ইসরায়েল: ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাট নেত্রী আয়ানা প্রেসলির স্বামীর মালিকানাধীন বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তরুণী মার্তে। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য আয়ানা প্রেসলির স্বামীর বাড়িতে ১৮ বছরের তরুণীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ট্রাম্পের কাছে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করা কারাবন্দি ব্র্যান্ডন অর্টিজ-ভিটে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করল খুনের আসামি, চাইল ৭৫ মিলিয়ন ডলার ও মার্কিন নাগরিকত্ব

মিশিগানের এক নারী হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে থাকা এক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি ৭৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।    মামলাকারী ব্র্যান্ডন অর্টিজ-ভিটে বর্তমানে মিশিগানের কারাগারে ৩৯ থেকে ১০২ বছর পর্যন্ত সাজা ভোগ করছেন। ২০২৪ সালের মার্চে গ্র্যান্ড র‌্যাপিডস এলাকায় তার প্রেমিকা রুবি গার্সিয়াকে হত্যার ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।   আদালতে দাখিল করা হাতে লেখা অভিযোগে অর্টিজ-ভিটে দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার মামলাকে রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ট্রাম্প তাকে অভিবাসন ইস্যুতে একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করেছেন এবং এর কারণে তিনি কারাগারে উপহাসের শিকার হয়েছেন।    মামলায় ট্রাম্পের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের প্রিন্সিপাল ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি স্টিভেন চেউংকেও বিবাদী করা হয়েছে। অর্টিজ-ভিটে অভিযোগ করেছেন, তার ছবি ও মামলার তথ্য রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করে তাকে জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।    ২০২৪ সালে গ্র্যান্ড র‌্যাপিডসে এক বক্তব্যে ট্রাম্প অর্টিজ-ভিটের মামলাকে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তার প্রচারণার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তার নির্বাচনী প্রচারে অর্টিজ-ভিটের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   অর্টিজ-ভিটে তার অভিযোগে লিখেছেন, তার পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবনকে পাশ কাটিয়ে শুধু তার অভিবাসন অবস্থা ও অপরাধের ভিত্তিতে তাকে একটি রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করা হয়েছে। তবে তিনি একই সঙ্গে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের দায় তিনি স্বীকার করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের পরিণতি মেনে নিয়েছেন।    আদালতের নথি অনুযায়ী, অর্টিজ-ভিটে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তার 'ডাকা' সুবিধার মেয়াদ ২০১৯ সালে শেষ হয় এবং ২০২০ সালে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর তাকে দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি কীভাবে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, তা স্পষ্ট নয়।    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত। তাদের যুক্তি, রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে অপমানিত হওয়ার দাবি সাধারণত সাংবিধানিক ক্ষতিপূরণের ভিত্তি তৈরি করে না। এছাড়া প্রেসিডেন্টের আইনি সুরক্ষা এবং মামলার অন্যান্য বিষয়ও বড় বাধা হতে পারে।    অর্টিজ-ভিটে তার মামলায় আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। তবে কোনো আদালত এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি এবং মামলাটি কীভাবে এগোবে, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১১:৫৪
স্থানীয় সরকার ও স্কুল বোর্ড পেরিয়ে এখন মার্কিন কংগ্রেস এবং বড় শহরের শীর্ষ নির্বাহী নেতৃত্বে আসছেন মুসলিম প্রার্থীরা। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন, মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের উত্থান এখন আলোচনায়

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার বিভাগের তদন্ত শুরু। ছবি: সংগৃহীত

চীনা বৃত্তিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, হার্ভার্ডে তদন্ত শুরু

0 Comments