রোহিঙ্গা সংকট

ছবি: ইউএনএইচসিআর
নয় বছরের অপেক্ষা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর সাগরের গণকবর: রোহিঙ্গা সংকটের শেষ কোথায়?

আগস্ট ২০১৭-মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আগুন জ্বলছিল। গ্রাম পুড়ছিল, মানুষ পালাচ্ছিল। প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। সেই সময় বিশ্ব বিবেক নড়ে উঠেছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্ষোভ জানিয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরব হয়েছিল। জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকার প্রধান ঘটনাটিকে বলেছিলেন, “জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ।”   নয় বছর পর পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। কক্সবাজারের পাহাড়ঘেরা শরণার্থী শিবিরগুলোতে এখনও বাস করছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। তাদের অনেকেই জানেন না কবে ফিরতে পারবেন নিজ দেশে। আদৌ কোনোদিন ফিরতে পারবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত। এরই মধ্যে কমছে খাদ্য সহায়তা, কমছে স্বাস্থ্যসেবা এবং কমছে আন্তর্জাতিক মনোযোগ। একই সঙ্গে বাড়ছে হতাশা। মঙ্গলবার জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক সহায়তা তীব্র চাপে রয়েছে। সেই চাপের সরাসরি প্রভাব পড়ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর।   চলতি বছরের জন্য বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা মিলে ৭১ কোটি ডলারের একটি মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রাই গত বছরের তুলনায় কম নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপরও প্রয়োজনীয় অর্থের বড় একটি অংশ এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।   মানবিক সহায়তা কর্মীরা বলছেন, সংকটের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি এখন চলছে।   একদিকে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমছে, অন্যদিকে মিয়ানমারের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বরং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ২০২৪ সালের শুরু থেকে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। রাখাইনে সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।   ফলে লাখো রোহিঙ্গা এমন এক অবস্থায় বাস করছে, যেখানে অতীত হারিয়ে গেছে, বর্তমান অনিশ্চিত এবং ভবিষ্যৎ অন্ধকার।   কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে এরই মধ্যে বেড়ে উঠছে একটি নতুন প্রজন্ম, যাদের জন্মই হয়েছে শরণার্থী হিসেবে। আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ তরুণ-তরুণী কার্যত কর্মহীন অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের জন্য নেই বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ কিংবা স্বীকৃত উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা। একটি পুরো প্রজন্ম দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে বেড়ে উঠছে।   জীবনযাত্রার অবস্থাও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। কয়েক বছর আগে খাদ্য সহায়তা কমে এমন পর্যায়ে নেমে এসেছিল যে একজন শরণার্থীর মাসিক খাদ্য বরাদ্দ দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৮ ডলার। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কিছুটা উন্নতি এলেও অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। চলতি বছরের শুরুতে একটি অগ্নিকাণ্ডে শত শত আশ্রয়কেন্দ্র পুড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষ আবারও গৃহহীন হয়ে পড়ে।   আশ্রয়, খাদ্য এবং নিরাপত্তাহীনতার এই পরিস্থিতি থেকে অনেক রোহিঙ্গা বেছে নিচ্ছেন আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ, সমুদ্রযাত্রা। বাংলাদেশের উপকূল থেকে ছোট ছোট নৌকায় করে তারা যাত্রা করেন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে। এই যাত্রার অধিকাংশই নিয়ন্ত্রণ করে মানবপাচারকারী চক্র। ভাঙাচোরা নৌকা, অনিশ্চিত গন্তব্য এবং উত্তাল সাগরের মধ্যে শুরু হয় জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিযাত্রা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল ছিল রোহিঙ্গাদের সামুদ্রিক যাত্রার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। প্রায় ৬ হাজার ৫০০ মানুষ সমুদ্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনের একজন আর ফিরে আসেননি। মৃত বা নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ৯০০ জন।   ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ বলেন, “আন্দামান সাগর এবং বঙ্গোপসাগর দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাজার হাজার মরিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য একটি চিহ্নহীন গণকবরে পরিণত হয়েছে।”   গত এক দশকে এই সামুদ্রিক পথে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবুও যাত্রা থামছে না। কারণ শিবিরে থাকা অনেকের কাছেই অনিশ্চিত সমুদ্র স্থবির জীবনের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   চলতি বছরও সেই চিত্র অপরিবর্তিত রয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রে যাত্রা করেছেন। মার্চের শেষ দিকে টেকনাফ উপকূল থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে গেলে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হন। জীবিত উদ্ধার করা যায় মাত্র কয়েকজনকে।   এই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে বড় শিকার নারী ও শিশুরা। অনেকেই পাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার হন। অনেকে দিনের পর দিন খাবার ও পানি ছাড়া সাগরে ভাসতে থাকেন। অনেকের যাত্রার শেষ গন্তব্য হয়ে ওঠে অচিহ্নিত সমুদ্রতল। অন্যদিকে মিয়ানমারে ফেরার পথ এখনও কার্যত বন্ধ। রাখাইনে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা নেই, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই এবং সম্মানের সঙ্গে ফিরে যাওয়ার পরিবেশও গড়ে ওঠেনি।   জাতিসংঘ বলছে, পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বও শেষ হয়ে যায়নি।   বাংলাদেশ গত নয় বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সীমিত সম্পদ নিয়ে ১২ লাখ মানুষের দায়িত্ব বহন করা সহজ কাজ নয়। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমতে থাকলে সেই দায়ভার বহন করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।   নয় বছর আগে যারা আগুন, গুলি এবং মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়েছিল, তারা এখনও অপেক্ষা করছে। তাদের অনেক সন্তান জন্ম নিয়েছে শিবিরে, বড় হচ্ছে শিবিরে। তারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়, বাংলাদেশেরও নয়। তাদের পরিচয় অনিশ্চয়তার মধ্যেই আটকে রয়েছে।   রোহিঙ্গা সংকট তাই মানবিক সহায়তার প্রশ্নের পাশাপাশি মানবতারও একটি বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় বিশ্ব এখনও একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায়নি, এই মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ কোথায়?

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা, ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের পক্ষে রায় মার্কিন আদালতের

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0