রমজান মাসে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত খেজুরের বিষয়টি সামনে এনে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এই ইস্যু নিয়ে এবার জোরালো বক্তব্য দিলেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু। আজ বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি হিসেবে নির্বাচিত না হলে এই সরকারি বরাদ্দের বিষয়টি সাধারণ মানুষের অগোচরেই থেকে যেত। তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই খেজুর সাধারণ মানুষ হাতে পেতও, তবে তারা মনে করত কোনো নেতা ব্যক্তিগতভাবে এটি পাঠিয়েছেন। সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তিনি হাসনাত আবদুল্লাহর এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠা ডা. মিতু তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, প্রায় আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। তিনি জানান, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুরের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর জন্য বিশেষ বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। সেই বরাদ্দের অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই ওই অঞ্চলের রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য ১১৩ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ক্ষমতার লোভ আমার কোনোদিন ছিল না, তবে জনগণের ভালোবাসার লোভ আমার চিরকাল থাকবে। আমি যতদিন আছি, আমার অঞ্চলের মানুষের হকের এক পয়সাও নষ্ট হতে দেব না।" যারা দুর্নীতি করে জনগণের অধিকার হরণ করে, তারা বেশিদিন টিকবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলার আসামিকে খালাস পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ ওঠার পরপরই তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং সরকার দ্রুততার সাথে তা গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি প্রদান করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) পদত্যাগের খবর প্রকাশের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ঘুষ সংক্রান্ত দুটি চাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া কথোপকথনে চট্টগ্রামের রাউজান আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের এক আইনজীবীর সঙ্গে লেনদেন নিয়ে দরকষাকষি করতে শোনা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার অব্যাহতি নিশ্চিত করতে এক কোটি টাকা দাবি করা হয় এবং অগ্রিম হিসেবে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। কথোপকথনে আরও শোনা যায়, বিএনপির একজন সংসদ সদস্য ও একজন প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে তদবির করানোর আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে ‘রিজনেবল’ বলে উল্লেখ করে তার সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী রেজওয়ানা ইউসুফ সরাসরি মন্তব্য না করলেও ঘটনার সত্যতা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে সাইমুম রেজা তালুকদার তার ফেসবুক পোস্টে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই অডিও ক্লিপগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং একটি মহলের অপপ্রচার। তার মতে, প্রসিকিউশনের কাজের ধরন অনুযায়ী এককভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, শিক্ষকতা ও গবেষণায় ফেরার উদ্দেশ্যেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এদিকে, সাইবার বিশেষজ্ঞ ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণে অডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হচ্ছে না। তবে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে।
ঢাকা অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। তবে আসিফ মাহমুদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তার দাবি, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির এসব অভিযোগ স্রেফ অপপ্রচার, যা কখনোই প্রমাণিত হবে না। বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব জনসমক্ষে তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এমন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজ আসিফ মাহমুদের পরিবারের ৪ সদস্যের মোট ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। যারা সরকার পরিবর্তনের পর ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশে থেকে আইনি বিধি মেনে সব হিসাব দিচ্ছেন, তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে আসিফের বিরুদ্ধে যে ধরনের মিডিয়া ট্রায়াল ও অপপ্রচার চলছে, তা দিনশেষে কেবল অভিযোগ হিসেবেই টিকে থাকবে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এসবের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার বিরুদ্ধে ছড়ানো দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এক বছর আগে ইউটিউবে একটি গুজব ছড়ানো হয় যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনেছেন এবং পরিবারসহ সেখানে চলে গেছেন। কিন্তু তিনি জানান, এমন কোনো সম্পত্তি তার নেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কেউ বাড়ি কিনলে তার রেকর্ড থাকে এবং তা গোপন রাখা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিক, ইউটিউবার ও সংশ্লিষ্টদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন—যদি যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তা প্রকাশ করতে। তার দাবি, এই চ্যালেঞ্জ দেওয়ার প্রায় আট মাস পার হলেও কেউ তার নামে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাড়ি বা সম্পত্তির প্রমাণ দেখাতে পারেনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তো দূরের কথা, বিশ্বের অন্য কোনো দেশেও তার কোনো বাড়ি বা সম্পত্তি নেই। আসিফ নজরুল আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পর হঠাৎ করে তার ও কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতির গুজব ছড়ানো শুরু হয়েছে। প্রথমে কিছু অনলাইন মাধ্যমে এসব প্রচারিত হয়, পরে তা বিভিন্ন মাধ্যমে কপি করে ছড়ানো হয়। ফেসবুক পোস্টে তিনি তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেন— প্রথমত, তিনি দাবি করেন, জীবনে কখনো কোনো ধরনের দুর্নীতি করেননি। সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে বা অন্য সময়েও তিনি এক টাকাও দুর্নীতি করেননি এবং তার কোনো নতুন ব্যাংক হিসাব বা সম্পদ তৈরি হয়নি। দ্বিতীয়ত, তিনি স্বজনপ্রীতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও সেখানে তার কোনো আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তৃতীয়ত, তিনি এলাকাপ্রীতির অভিযোগও নাকচ করেন। উপদেষ্টা থাকাকালে তিনি নিজের গ্রাম বা বেড়ে ওঠা এলাকায় যাননি বলেও উল্লেখ করেন। তবে নিয়ম মেনে লালবাগ শাহী মসজিদের উন্নয়ন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নে অনুদান আনতে সহায়তা করেছেন বলে জানান। পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি বিশ্বাস করেন সত্য শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা দেয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অভিযোগটি দাখিল করেন বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের একদল ভক্ত। দুদক সূত্র জানায়, দুপুরে ২০-৩০ জনের একটি দল সাকিব আল হাসানের পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ অভিযোগটি গ্রহণ করে। দুদকের কর্মকর্তা জানান, বেনামে দাখিল করা অভিযোগ সরাসরি তদন্ত বা মামলার পর্যায়ে যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হবে এবং যথাযথ তথ্য প্রমাণ না পাওয়া গেলে তা বাতিল করা হবে। পরবর্তী প্রক্রিয়া অভিযোগের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রহণ করা হবে।
গাজীপুরের কাশিমপুরে উদ্বোধনের আগেই নবনির্মিত সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার দুদকের গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ধনঞ্জয়খালী এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন দুদক কর্মকর্তারা দেখেন, সড়ক নির্মাণে চরম গাফিলতি এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সামান্য আঘাতেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে ধসে পড়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে সংশ্লিষ্ট রাস্তার নথিপত্র এবং প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নথিপত্র ও সরজমিন পরিদর্শন শেষে তদন্ত দল নিশ্চিত হয়েছে যে, রাস্তা নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এই অনিয়মের বিস্তারিত প্রতিবেদন খুব দ্রুতই কমিশনের কাছে দাখিল করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই দিনে দুদক রাজধানীতে পৃথক আরও একটি অভিযান চালিয়েছে। লিজের শর্ত ভঙ্গ করে সরকারি জমি আত্মসাৎ ও তহবিল তছরুপের অভিযোগে বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে এ তল্লাশি চালানো হয়। ট্রাস্টের আয় অবৈধভাবে আত্মসাতের অভিযোগটি বর্তমানে অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ছায়া! তদন্ত চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক দুই উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ এবং অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানের বিদেশযাত্রায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করেছিলেন। কেন এই নিষেধাজ্ঞা? দুর্নীতির অভিযোগ: এই দুই শীর্ষ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী অনুসন্ধান টিম কাজ করছে। পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা: বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে দুদক জানায়, তদন্ত চলাকালীন তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২১ সালে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন অধ্যাপক মশিউর রহমান। বর্তমানে তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঢাকার একটি আদালত টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালতের আদেশ প্রদান করেন মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। দুদকের দাখিলকৃত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন। টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়াও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত আগামী ৮ মার্চ আসামিদের গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। মামলাটি গুলশান এলাকার একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ ও লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছিল।
দুর্নীতির কালো মেঘ যেন কাটছেই না! ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর সর্বশেষ ২০২৫ সালের সূচকে দেখা যাচ্ছে, দুর্নীতির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও এক ধাপ অবনতি হয়ে এখন ১৩তম স্থানে দাঁড়িয়েছে। গত ১২ বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্ন স্কোর পেয়েছে দেশ, যা আমাদের সুশাসনের পথে এক বড় বাধা। গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য যা আপনার জানা প্রয়োজন: সূচকের অবনতি: ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ছিল ১৪তম অবস্থানে, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১৩তম হয়েছে (নিচ থেকে গণনায়)। স্কোর আপডেট: ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান স্কোর মাত্র ২২, যা গত বছরের তুলনায় ১ পয়েন্ট কম। উল্লেখ্য যে, বৈশ্বিক গড় স্কোর যেখানে ৪২, সেখানে বাংলাদেশ পেয়েছে অর্ধেকেরও কম। দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র: আফগানিস্তান বাদ দিলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই দুর্নীতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সেরা ও শেষ: বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তালিকার শীর্ষে আছে ডেনমার্ক এবং সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির কবলে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া। টিআইবি-র পর্যবেক্ষণ: টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং আমলাতন্ত্রের দলীয়করণ এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার ঘাটতি স্পষ্ট। ১৮২টি দেশের এই সূচক আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আপনার মতে, দুর্নীতি দমনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব এ তথ্য জানান। আজ অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপদেষ্টাদের সম্পদ জমা দেওয়ার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, আপনারা পাবেন। আমি যতুটুকু জানি, একজন বা দুজন ছাড়া সবাই সম্পদের স্টেটমেন্ট (বিবরণী) দিয়েছেন। এক-দুই দিনের মধ্যে এটি পাবলকি করা হবে।’ ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও এখনো উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়নি। অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলে আসছেন, একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সুফল দেশবাসী দেখেনি, যা হতাশাজনক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। সংযোজন-বিয়োজনের পর বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে প্রতিশ্রুত ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন। ওই বছরের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদবিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, যাঁরা সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তাঁরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে। এই বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা নিজ বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও তার পরিবার এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবুর নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ আজ, সোমবার ৯ জানুয়ারি, দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। শ্যামল দত্ত, তার স্ত্রী সঞ্চিতা দত্ত ও কন্যা সুষমা শশী দত্তের নামে থাকা মোট ১৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা রয়েছে। একইভাবে, মোজাম্মেল হক বাবু, তার স্ত্রী অপরাজিতা হক ও মেয়ে শাবাবা ইশায়াত হকের নামে থাকা ১১টি ব্যাংক হিসাবেও প্রায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা রয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে সংস্থার উপ-পরিচালক বায়োজিদুর রহমান খান আদালতে জানিয়েছিলেন যে, উক্ত সাংবাদিকদের পরিবারের নামে থাকা সম্পদগুলো অর্জনের স্পষ্ট উৎস পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা গেছে, এসব সম্পদ বিভিন্নভাবে হস্তান্তর বা স্থানান্তরের মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অর্থপাচার এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে প্রমাণিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর শ্যামল দত্তকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে ভারত যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করেছিল। মোজাম্মেল হক বাবু সেই সময় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর সময় দুজনকেই আটক করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।