- প্রচ্ছদ
- Topic
দুর্নীতি
দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বিরোধী দলকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের দুর্নীতি ও বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করা হোক। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এনসিপির আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনটি আয়োজন করা হয় বিএনপি সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন প্রণয়ন, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে। বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের নামে এনসিপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের যদি দুর্নীতি তদন্তের বিষয়ে আগ্রহ থাকে, তাহলে অতীতের সময়ের অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় আনা উচিত। জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন ভাষণের প্রসঙ্গও টেনে আনেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। তাঁর মতে, এমন আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের জাতীয় ঐক্যের চিত্র তুলে ধরা হলে তা ইতিবাচক হতো। দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যেগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার হরণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছিল, সেগুলো এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম সরকারের কাছে তাঁর অবস্থান জানতে চান। তিনি দাবি করেন, মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ মাস পার হলেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নাহিদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবার প্রথমে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি এবং পরে সাধারণ ডায়েরি করা হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ করতে দেওয়া হয়নি। এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলাদা বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সাবেক এনসিপি নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তানভীরের বক্তব্যকে দল সমর্থন করেনি এবং তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধে একই আইনে মামলা হওয়ার বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন নাহিদ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধের দাবিও জানান এনসিপির আহ্বায়ক। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, গুমের অভিযোগের তদন্ত যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হয়, তাহলে তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। তাঁর দাবি, সরকারে এসে তারা জাতীয় পর্যায়েও একই ধরনের তদন্তের সুযোগ দিচ্ছে না। পুলিশ সংস্কারের পরিবর্তে পুলিশকে বিরোধী দল দমনে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনকেও দুর্বল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া সরকারের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও তোলেন। মানববন্ধনে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য মূলত দুর্নীতি তদন্ত, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ওই প্রতিবেদনে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৬ জন জেলা প্রশাসক বা ডিসি পদায়নে দুই থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানের আওতায় আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি তার বাবা এবং সাবেক দুই সহকারীকেও রাখা হয়েছে। তানজীর আহমেদ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আসিফ মাহমুদের প্রভাব ছিল কি না, অভিযোগ অনুযায়ী কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, অনুসন্ধানে সেসব বিষয় যাচাই করা হবে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার খবর প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি, সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি, বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য এবং সরকারি কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুদকের অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগ ওঠা আর তা প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ পাচার, বিদেশে সম্পদ ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে দুদকের অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্যালাপের নতুন জরিপে ৮৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, দেশটির সরকারে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। গত বছরের তুলনায় এ হার বেড়েছে ১০ শতাংশ পয়েন্ট। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একই প্রশ্নে এই হার সাধারণত ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশের মধ্যে ছিল। দলীয় বিভাজনেও এবার বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক মনে করার হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্টের শেষ বছরে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এমনটা মনে করলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭৬ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই হার ৯০ শতাংশ। ২০২৪ সালের তুলনায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে ১২ শতাংশ পয়েন্ট। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক বলে মনে করেন। গ্যালাপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের দুর্নীতি নিয়ে ধারণা হোয়াইট হাউস কোন দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মতামত তুলনামূলকভাবে স্থির থাকায় তাদের উদ্বেগ ক্ষমতাসীন দলের ওপর কম নির্ভরশীল হতে পারে। শুধু সরকার নয়, ব্যবসায়িক খাত নিয়েও দুর্নীতির উদ্বেগ বেড়েছে। ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ব্যবসায়িক খাতেও দুর্নীতি ব্যাপক। গত বছরের তুলনায় এই হার বেড়েছে ৮ শতাংশ পয়েন্ট। তবে সরকার ও ব্যবসার মধ্যে দুর্নীতির ধারণাগত ব্যবধান এখন ১৮ শতাংশ পয়েন্ট, যা যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক মনে করার হার ব্যবসায়িক দুর্নীতির তুলনায় গড়ে ১১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ছিল। চলতি বছরে এই ব্যবধান আরও বড় হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও সরকারি দুর্নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ফলে সরকারে দুর্নীতি নিয়ে মানুষের অসন্তোষ এখন দলীয় সীমারেখাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে দুদক। টিমটির নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অপর তিনজন হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ হাসিলের জন্য ঘুষ গ্রহণ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে অর্থপাচার, বেআইনি বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। সূত্র আরও জানায়, আসিফ মাহমুদ সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ড গঠনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন—এমন অভিযোগও দুদকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। দুদকের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।
দুর্নীতির অভিযোগে ইরাকে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রোববার ভোরে রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত মাসে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক উপ-তেলমন্ত্রী আদনান আল-জুমাইলির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কয়েকজন সংসদ সদস্যও রয়েছেন, যাদের সংসদীয় দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) আগে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানীর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এই এলাকাতেই ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাস অবস্থিত। বার্তা সংস্থা এপির হাতে আসা একটি নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনই সংসদ সদস্য। গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির রাজনৈতিক জোটের সদস্য। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গত নভেম্বরের সংসদ নির্বাচনে আল-সুদানির জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠন নিয়ে ইরান-সমর্থিত শিয়া দলগুলোর জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’-এর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেননি। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী ও রাজনীতিতে নবাগত আলী আল-জায়েদি সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার প্রার্থিতায় যুক্তরাষ্ট্রেরও সমর্থন ছিল। এই অভিযানের পর ইরাকের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটিতে দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রভাব বিস্তারের বিষয়গুলো প্রায়ই সামনে আসে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান গুরুতর দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি তার পদত্যাগপত্র সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কেএম মজিবুল হক বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তদন্তের আবেদন করেছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিচারপতি রেজাউল হাসান ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলায় পক্ষপাতিত্ব করেছেন। একটি মামলায় সিনিয়র আইনজীবী অনুপস্থিত থাকলেও রায়ে তার নামে কাল্পনিক যুক্তি উল্লেখ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বাতিল হয়। আরেকটি মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে কোনো পক্ষ না করেই তার মালিকানাধীন ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা হয়েছিল, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়েছিল। আইনি মহলের মতে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্তের প্রারম্ভে বা চলাকালীন পদত্যাগ এমন গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। উচ্চ আদালতের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।