৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের কুইন্সের ওজন পার্কে নতুন আল ফুরকান মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববারের এ আয়োজনে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও মুসল্লিরা অংশ নেন। নতুন মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনতলা ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মসজিদটি নির্মিত হলে ওজন পার্ক ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মুসল্লিদের নামাজ আদায়, ধর্মীয় শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের জন্য আরও বড় পরিসরের সুযোগ তৈরি হবে। আল ফুরকান জামে মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে ওজন পার্কের মুসলিম কমিউনিটিতে ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০০০ সালে একটি ছোট বেসমেন্ট থেকে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, ঈদের নামাজ, জানাজা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ইসলামি স্কুল, কোরআন তাফসির ও ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। মসজিদটির বর্তমান ঠিকানা ৭৬-১৮ গ্লেনমোর অ্যাভিনিউ, ওজন পার্ক, কুইন্স। স্থানীয় বিভিন্ন তথ্যসূত্রেও এটিকে ওই এলাকার মুসলিম কমিউনিটির একটি পরিচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে কুইন্স কমিউনিটি বোর্ড ১০-এর ২০২৬ সালের জুনের সভার নথিতেও আল-ফুরকান-সংক্রান্ত নতুন ভবনের জন্য খননকাজের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে প্রস্তাবিত নতুন ভবনের জন্য খননকাজের অনুমতির বিষয়টি আলোচনায় আসে। রোববারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের আয়োজনে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ নতুন মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হলে নতুন ভবনটি শুধু নামাজের স্থান হিসেবে নয়, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্যও ব্যবহৃত হবে। ওজন পার্ক কুইন্সের একটি বহুজাতিক এলাকা, যেখানে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। আল ফুরকান জামে মসজিদও দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মুসলিমদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। মসজিদের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। নতুন তিনতলা মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের যে তহবিল প্রয়োজন হবে, তা সংগ্রহে কমিউনিটির সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে নতুন ভবনের মোট আয়তন, আসনসংখ্যা এবং নির্মাণের নির্দিষ্ট সমাপ্তির তারিখ সম্পর্কে মসজিদের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এসব বিষয়ে আয়োজকদের ঘোষণাকেই প্রাথমিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কে ডেলিভারি দিতে গিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের লবিতে প্রস্রাব, ক্যামেরায় ধরা পড়লেন কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, সিনেটে নতুন বিল উত্থাপন
বাড়ি কিনতে খরচ বাড়ছে কোথায়, কমছে কোন রাজ্যে- দেখুন তালিকা
গাড়ির দাম কমানোর লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জ্বালানি সাশ্রয় নীতি আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়মে গাড়ি নির্মাতাদের ওপর জ্বালানি সাশ্রয়ের যে চাপ রয়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। তবে এর ফলে ভবিষ্যতে গাড়িতে জ্বালানি খরচ ও কার্বন নির্গমন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পরিবহন বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নতুন মানদণ্ডের মাধ্যমে গাড়ি তৈরির খরচ কমবে এবং এর প্রভাব নতুন গাড়ির দামের ওপরও পড়বে। তাঁর দাবি, আগের নিয়মগুলো গাড়ি নির্মাতাদের ওপর বাড়তি খরচ চাপিয়েছে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির দিকে তাদের বেশি উৎসাহিত করেছে। মার্কিন পরিবহন বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ি নির্মাতাদের বহরের গড় জ্বালানি সাশ্রয়ের মান প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ মাইল প্রতি গ্যালন করা হবে। বর্তমান নিয়মে এই মান ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালন। রয়টার্সের হিসাবে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে একটি গড় নতুন গাড়ির দাম প্রায় ৯৩০ ডলার কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। পরিবহন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি সাশ্রয়ের মান কমানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনও প্রায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। অর্থাৎ গাড়ির দাম কমার সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে গাড়ি নির্মাতারা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আরও স্বাধীনভাবে গাড়ি তৈরি করতে পারবেন। মার্কিন পরিবহন বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামোটি মূলত জ্বালানি সাশ্রয়ের নিয়মকে পুনর্বিন্যাস করে নির্মাতাদের জন্য তা সহজ করার লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের সমালোচনা করেছেন সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগিগ। রয়টার্সকে তিনি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের মান কমানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে ভবিষ্যতে জ্বালানির পেছনে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিবর্তনকে বাইডেন আমলের বৈদ্যুতিক গাড়ি-কেন্দ্রিক নীতির বিপরীতমুখী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে মার্কিন পরিবহন বিভাগের নথিতে বিষয়টি মূলত ‘করপোরেট অ্যাভারেজ ফুয়েল ইকোনমি’ বা CAFE মানদণ্ড পুনর্নির্ধারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে ভিজিটর ভিসা নয়, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে সতর্কতা
বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনের আওতায় মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজন আ টক
একসময় পানি আনতে হতো পার্ক থেকে, আজ সেই শহরেই চিকিৎসক দুই ভাই
রোববার সকালে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরপর দুটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। এতে সাউথ বে এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটের কিছু পর ৩ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। এর প্রায় ২০ মিনিট পর ২ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়। ভূ ক ম্পন দুটির কম্পন সান হোসে থেকে ওয়ালনাট ক্রিক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভূ ক ম্পনের তৎপরতা কিছুটা বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ছোট ভূ ক ম্পনও অনুভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক শনিবারে ওই অঞ্চলে ৬০টির বেশি কম মাত্রার ভূ ক ম্পন রেকর্ড করা হয়। এর বেশিরভাগের মাত্রাই ছিল ২ দশমিক ০-এর নিচে। লস এঞ্জেলেস এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ভূ ক ম্পন হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর কম্পটনের কাছে ৩ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। এর কম্পন লং বিচ, ডাউনি ও প্যারামাউন্ট এলাকায় অনুভূত হয়। এর আগে মাসের শুরুতে কম্পটনের কাছে ৩ দশমিক ২ মাত্রার আরেকটি ভূ ক ম্পন হয়েছিল। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের আরও দক্ষিণে ও সমুদ্রেও সাম্প্রতিক সময়ে ভূ ক ম্পন হয়েছে। ক্যাটালিনা দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। একই সপ্তাহান্তে সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকায় ৩ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূ ক ম্পন অনুভূত হয়। সাম্প্রতিক ভূ ক ম্পনগুলোর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হলেও ক্যালিফোর্নিয়ার বড় ফল্টগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সতর্কতা রয়েছে। ক্যালটেকের ভূকম্পবিদ ড. লুসি জোন্স বলেছেন, সান আন্দ্রেয়াস ফল্ট বড় ধরনের ভয়াবহ ভূ ক ম্পন সৃষ্টি করতে পারে। তবে ঠিক কখন এমন ঘটনা ঘটবে, তা বিজ্ঞানীরা নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে পারেন না। জোন্স এর আগে সান আন্দ্রেয়াস ফল্টের দক্ষিণ অংশে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি সম্ভাব্য ভূ ক ম্পনের মডেল তৈরি করেছেন। এমন একটি ঘটনা হলে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী কম্পন হতে পারে। গবেষণার মডেল অনুযায়ী, এ ধরনের ভূ ক ম্পনে পরিবহনব্যবস্থা, পানির অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হতে পারে। এদিকে ইউনিভার্সিটি অব বার্নের গবেষকরাও ক্যালিফোর্নিয়ার কাহন পাস এলাকায় ভূ ক ম্পনজনিত চাপ নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেখানে সান আন্দ্রেয়াস ও সান জাসিন্টো ফল্টের মিলনস্থল রয়েছে। গবেষকেরা এলাকাটিকে সম্ভাব্য একটি ‘ভূ ক ম্পনের প্রবেশদ্বার’ হিসেবে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে কোনো ভূ ক ম্পনের কম্পন দুটি ফল্টব্যবস্থাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষণা করছেন।
কয়েক মাসের টানাপোড়েন শেষে ইরাকে আবার নিয়মিত ডলার পাঠাতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র
অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোয় বাড়িভাড়া কমছে, ডিএইচএসের দাবি