আমেরিকা

নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে দেখতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মার্চ ২৭, ২০২৬ ২২:৩০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে নিজের উত্তরাধিকার হিসেবে একজন ‘শান্তির দূত’ হিসেবে পরিচিত হতে চান। শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি চাই ইতিহাসে আমার নাম একজন মহান শান্তির দূত হিসেবে লেখা থাকুক।" বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় বিষয়টি সাংঘর্ষিক মনে হলেও, তিনি নিজেকে মনেপ্রাণে একজন শান্তিস্থাপক বলে দাবি করেন।

 

তবে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তির কথা বললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থানে অনড় রয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানে আঘাত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এক সময় শক্তিশালী দেশ থাকলেও বর্তমানে তারা সেই সামর্থ্য হারিয়েছে।

 

ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ এখনো চলছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকেই শেষ করতে হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধে জয় ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। সরাসরি বিজয় ঘোষণা না করলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই লড়াইয়ে আমেরিকা জয়ী হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্ট। ছবি : সংগৃহীত।
মার্কিন নাগরিকের দিকে বন্দুক তাক করলেন আইসিই এজেন্ট, ভিডিওতে ধরা পড়ল ভয়ংকর মুহূর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় এক মার্কিন নাগরিকের গাড়ি ঘিরে ধরে তার দিকে বন্দুক তাক করার অভিযোগ উঠেছে আইসিই এজেন্টের বিরুদ্ধে। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার ফলস চার্চ এলাকায় ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার ড্যাশক্যাম ও সেলফোন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আইসিই এজেন্টদের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দাবি, ওই নারী গাড়ি ব্যবহার করে এজেন্টদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিলেন।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার, ১০ আগস্ট বিকেলে। ওই নারীর নাম ক্যারোলিনা মোলিনা। তিনি একজন মার্কিন নাগরিক এবং লাইসেন্সধারী প্রফেশনাল কাউন্সেলর। ইমিগ্রেশন কেসে অ্যাটর্নিদের সঙ্গে কাজ করে তিনি সাইকোলজিক্যাল ইভ্যালুয়েশনও করে থাকেন।   এনবিসি ওয়াশিংটন ও ফক্স ৫ ডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় মোলিনা কলাম্বিয়া পাইকের কাছে বিভিন্ন ল অফিসে নিজের বিজনেস কার্ড দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আইসিই এজেন্টদের দুই ব্যক্তিকে আটক করতে দেখেন।   মোলিনার ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিই এজেন্টদের পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাদের উদ্দেশে ক্ষুব্ধ মন্তব্য করেন। এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে একটি অফিসে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় গাড়ি ঘুরিয়ে আবার ওই এলাকায় আসেন।   ড্যাশক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, কিছুক্ষণের মধ্যে দুটি এসইউভি তার গাড়ির সামনে ও পেছনে অবস্থান নেয়। এরপর মুখ ঢাকা কয়েকজন এজেন্ট গাড়ির কাছে এগিয়ে আসেন। একজন এজেন্ট তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি তাদের অনুসরণ করছেন কি না। মোলিনা তা অস্বীকার করেন।   পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেলফোন ভিডিওতে এক এজেন্টকে মোলিনার বিরুদ্ধে গাড়ি দিয়ে তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ করতে শোনা যায়। একই সময় ওই এজেন্টের হাতে বন্দুক দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে মোলিনার গাড়ির ড্রাইভার সাইডের জানালার কাছে অস্ত্র হাতে কথা বলতে দেখা গেছে।   একপর্যায়ে এজেন্ট তাকে গ্রেফতারের হুমকিও দেন। জবাবে মোলিনা জানান, তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। এজেন্ট তখন বলেন, এতে তার কিছু যায় আসে না।   মোলিনা আইসিই এজেন্টদের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার গাড়িতে ড্যাশক্যাম রয়েছে এবং পুরো ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। এনবিসি ওয়াশিংটনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজেন্ট গাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় থেকেই তার হাতে বন্দুক ছিল। ভিডিওতে ধারণ হওয়া পুরো মুখোমুখি অবস্থানটি প্রায় ৫০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়।   ফক্স ৫ ডিসিকে মোলিনা বলেন, তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়নি এবং গ্রেফতারও করা হয়নি। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেওয়া হয়। তার দাবি, তিনি কাউকে গাড়ি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেননি।   ঘটনার পর মোলিনা বলেন, পরিস্থিতি যেভাবে দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল, তাতে তিনি আতঙ্কিত হয়েছেন। তার পরিবার ও সন্তান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে জড়ানোর ইচ্ছা তার ছিল না।   তবে মোলিনার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। সংস্থাটির দাবি, ফলস চার্চে আইসিই একটি নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অপারেশন পরিচালনা করছিল। এ সময় এক আইসিইবিরোধী ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে এজেন্টদের আশপাশে ঘোরাঘুরি করেন এবং গাড়িকে ব্যবহার করে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন।   ডিএইচএসের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার পর আইসিই এজেন্টরা ওই গাড়ি থামান এবং চালকের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। ওই নারীর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে ক্রিমিনাল প্রসিকিউশন হতে পারে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে বুধবার পর্যন্ত মোলিনাকে গ্রেফতার করা হয়নি।   ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, ওই দিনের অভিযানে হিট অ্যান্ড রান ও ড্রাগ ট্রাফিকিংয়ের মতো অপরাধে অভিযুক্ত এবং ফাইনাল রিমুভাল অর্ডার থাকা ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়েছিল।   ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর আইসিই এজেন্টের বন্দুক বের করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মোলিনার দাবি, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে এজেন্টদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার অধিকার তার রয়েছে এবং সেই মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের শক্তি প্রদর্শন যুক্তিসঙ্গত ছিল না।   অন্যদিকে ডিএইচএস বলছে, এজেন্টরা সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করেছেন। ফলে ঘটনাটিকে ঘিরে এখন দুই পক্ষের সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। তবে ড্যাশক্যাম ও সেলফোনে ধারণ হওয়া ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় চলমান আইসিই অভিযানের সময় এজেন্টদের বলপ্রয়োগ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৮:৪১
জোহরান কোয়ামে মামদানি। ছবি:সংগৃহীত

ধনীদের বাড়িতে কর বসাতে বাধা , মামদানির পরিকল্পনা আটকাল আদালতে

ড্রাইভিং এ ফেল হওয়ার প্রতীকী।ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ড্রাইভিং টেস্টে ফেল হওয়ার বড় ৩ কারণ, শুরুতেই যা যাচাই করেন ইন্সপেক্টর

আফগানিস্তানে তালেবান শাসন এবং সেখানে নারী শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি ও সংকটের চিত্র। ছবি:সংগৃহীত

তালেবান শাসনে স্কুলে ফিরতে পারছে না ২৪ লাখ আফগান মেয়ে, মুছে যাচ্ছে দুই দশকের অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ৬ বছর বয়সী একটি অটিস্টিক শিশু জন মেদিনা এবং তার পরিবার। ছবি:সংগৃহীত
স্যান্ডউইচে বন্দুকের আকৃতি বানিয়ে সহপাঠীকে তাক করায় ৬ বছরের অটিজম শিশু বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে স্যান্ডউইচ কামড়ে বন্দুকের আকৃতি তৈরি করে সহপাঠীর দিকে সেটি তাক করার অভিযোগে ৬ বছরের এক অটিজম আক্রান্ত শিশুকে স্কুল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে শিশুটির বাবা-মা এখন স্কুলের শাস্তিমূলক নীতি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রতি এর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   শিশুটির নাম জন মেদিনা। গত মার্চে ফায়েট কাউন্টির সারাহ হার্প এলিমেন্টারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাকে সাময়িকভাবে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়।   জনের বাবা-মা ক্রিস্টিন ও হুয়ান ‘রিকি’ মেদিনা জানিয়েছেন, তাদের ছেলে চার বছর বয়সে অটিজমে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়। পরে তার এডিএইচডিও শনাক্ত করা হয়। এসব বিকাশগত অবস্থার কারণে সামাজিক আচরণ ও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া বোঝা তার জন্য কখনো কখনো কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান তারা।   তাদের দাবি, জন পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী হলেও স্কুলে তার আচরণকে ঘিরে ২০২৩ সাল থেকে প্রায় ১৫ বার সাময়িক বরখাস্ত এবং দুই ডজনের বেশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   বাবা-মায়ের ভাষ্য, এর মধ্যে কিছু ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ থাকলেও বেশ কয়েকটি ঘটনা ছিল তুলনামূলকভাবে নিরীহ। যেমন হাত দিয়ে বন্দুকের ভঙ্গি করা, ‘বন্দুক’ শব্দটি বলা কিংবা খেলাচ্ছলে অস্ত্রের ছবি আঁকার মতো আচরণও স্কুলের নজরে এসেছে।   স্যান্ডউইচের ঘটনাটি তাদের কাছে বিশেষভাবে হতাশাজনক হয়ে ওঠে। দুপুরের খাবারের সময় জন স্যান্ডউইচ কামড়ে বন্দুকের মতো আকৃতি তৈরি করে এবং সেটি সহপাঠীর দিকে তাক করে। স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এর পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।   জনের মা ক্রিস্টিন বলেন, সন্তানকে শাস্তি দেওয়ার বদলে ঘটনাটিকে শেখানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত ছিল। তার মতে, শিশুটিকে বোঝানো দরকার ছিল স্কুলে এ ধরনের আচরণ কেন উপযুক্ত নয় এবং কীভাবে সে পরিস্থিতিতে অন্যভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।   পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে ছোটখাটো আচরণও কখনো কখনো শাস্তির পর্যায়ে চলে যায়। তাদের দাবি, হাত দিয়ে বন্দুকের ইঙ্গিত করা বা ‘বন্দুক’ শব্দটি বলার মতো ঘটনাও স্কুলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় জমা হতে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে তা সাময়িক বরখাস্তের কারণ হয়ে ওঠে।   তবে জনের বাবা-মা স্বীকার করেছেন, তাদের ছেলে কয়েকটি গুরুতর আচরণেও জড়িয়েছে। এর মধ্যে শরীরচর্চার ক্লাসে এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেওয়া এবং একটি ডাল দিয়ে সহপাঠীকে আঘাত করার ঘটনাও রয়েছে।   তবে তাদের মতে, এসব ঘটনার পাশাপাশি যেসব আচরণ তুলনামূলকভাবে নিরীহ, সেগুলোকেও একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা জনের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   বাবা-মায়ের দাবি, জন এখন নিজেকে কখনো কখনো ‘খারাপ ছেলে’ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। স্কুলে বন্ধু তৈরি করতে তার সমস্যা হয় এবং বারবার শাস্তির কারণে সে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে করছে।   পরিবারটির আরও অভিযোগ, জনের বিকাশগত সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সহায়তা পেতেও শুরুতে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ক্রিস্টিনের দাবি, প্রথম দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা পরিকল্পনা বা আইইপি দিতে রাজি হয়নি। কারণ হিসেবে তার একাডেমিক দক্ষতা এবং স্কুলে অটিজমের প্রভাব স্পষ্টভাবে না দেখার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল বলে জানান তিনি।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর, ১০ থেকে ১২টি সাময়িক বরখাস্ত এবং দ্বিতীয়বার মূল্যায়নের পর যেখানে এডিএইচডি শনাক্ত হয় জনের জন্য আইইপি অনুমোদন করা হয়।   বর্তমানে জনের জন্য একটি আচরণগত পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলের তুলনামূলক অনিয়ন্ত্রিত সময় যেমন দুপুরের খাবার, বিরতি ও শরীরচর্চার সময় তার সঙ্গে একজন সহকারী থাকেন। পাশাপাশি শান্ত পরিবেশের ছোট একটি শ্রেণিকক্ষেও সে সময় কাটায়। সেখানে তার পারফরম্যান্স ভালো বলে জানিয়েছেন তার বাবা-মা।   বিশেষ শিক্ষা বিষয়ে একজন পরামর্শককে পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়ার পর স্কুলে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাও কমেছে বলে দাবি করেছেন তারা।   অন্যদিকে, জনের বাবা-মা জানিয়েছেন, কঠোর শাস্তির বদলে আচরণগত সমস্যাগুলো নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা এবং পরিস্থিতি থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করাই বেশি কার্যকর হতে পারে।   তাদের মতে, জনের একাডেমিক সক্ষমতাও তার সম্ভাবনার দিকটি স্পষ্ট করে। আগের শিক্ষাবর্ষের শেষে সে তৃতীয় শ্রেণির সমপর্যায়ের পড়ার দক্ষতা অর্জন করেছিল এবং মেধাবৃত্তিক বা প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল থেকে মাত্র চার পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল।   ফায়েট কাউন্টি পাবলিক স্কুলস জনের নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে স্কুল জেলা জানিয়েছে, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ শাস্তিমূলক ইতিহাস এবং ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা উচিত।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যা মোকাবিলায় শাস্তি বনাম সহায়ক শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে চলমান বিতর্ককেও সামনে এনেছে। জনের পরিবারের মূল দাবি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেও তার অটিজম ও বিকাশগত প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে শাস্তির বদলে শেখানো ও সহায়তার সুযোগ বাড়ানো।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৬:১২
ভ্রমণরত বড় জাহাজ। ছবি:সংগৃহীত

মেক্সিকো ভ্রমণে বাড়ছে খরচ, ক্রুজযাত্রীদের প্রবেশ ফি দ্বিগুণ

ব্রঙ্কসের থ্রগস নেক এলাকায় বাড়ির সামনে এক নারীকে গুলি; দুই মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত

ব্রঙ্কসে বাড়ির সামনে নারীকে গুলি, দুই মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ

নিউইয়র্কের কিউ৮ বাস রুটে ক্যামেরার কড়া নজর, ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ৫০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা

নিউইয়র্কের কিউ৮ বাস রুটে ক্যামেরার কড়া নজর, ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ৫০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের হুমকিতে গোপনে বিমান বদলের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কারণে তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তাকে বিমান পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী।    ঘটনাটি নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যায়, তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠানো হলেও সেটি ছিল মূলত বিভ্রান্তিমূলক ব্যবস্থা। ট্রাম্পকে পরে গোপনে বিমানবন্দরের একটি যানবাহনের মাধ্যমে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সম্ভাব্য হুমকির কারণে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।    ট্রাম্প নিজেও পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। তবে হুমকির সুনির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেননি বলে জানান।    এর আগে ট্রাম্প তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্য যাওয়ার সময় পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। পরে গোপন নিরাপত্তা অভিযানের তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।    হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি   এদিকে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান আর মধ্যপ্রাচ্যের ‘বুলি’ হিসেবে আগের অবস্থানে নেই।    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এই জলপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও পণ্যের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   তবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এটি ট্রাম্পের বক্তব্য। এই দাবির সমর্থনে স্বাধীন কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক মূল্যায়ন এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। তাই প্রতিবেদনে এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।   কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ?   একদিকে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের ঘটনা ইরান-সংক্রান্ত সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা তুলে ধরছে।   বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের অবস্থান গোপন রাখতে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে বিভ্রান্তিমূলকভাবে ব্যবহার এবং ট্রাম্পকে আলাদা সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা শুরু হয়েছে।    সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান—দুটিই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৩:২৮
সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের

ট্রাফিক স্টপে ১৮ বছরের তরুণীর মুখে ঘুষি! সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের

আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না

আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না

আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’

আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’, স্পর্শেই দেওয়া যাবে যন্ত্রণাদায়ক শক

0 Comments