বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ভিসা স্থগিত থাকলেও ইমিগ্রেশনের অন্যান্য ক্যাটাগরির তারিখ অনেক এগিয়েছে

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মার্চ ২৬, ২০২৬ ২৩:২৯
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ভিসা স্থগিত থাকলেও ইমিগ্রেশনের অন্যান্য ক্যাটাগরির তারিখ অনেক এগিয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ভিসা স্থগিত থাকলেও ইমিগ্রেশনের অন্যান্য ক্যাটাগরির তারিখ অনেক এগিয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কার্যক্রমের কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় নতুন করে আশার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ইমিগ্রেশনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায়োরিটি ডেট উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা ইস্যু বা সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও অভিবাসন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ নেই। প্রতি মাসে প্রকাশিত ভিসা বুলেটিনে দেখা যাচ্ছে পরিবারভিত্তিক ফ্যামিলি বেসড এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক এমপ্লয়মেন্ট বেসড একাধিক ক্যাটাগরিতে তারিখ সামনে এসেছে। এর ফলে অনেক আবেদনকারী এখন তাদের কেসের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

 

বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রায়োরিটি ডেট কারেন্ট হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, ভিসা স্থগিত থাকলেও ডকুমেন্ট যাচাই, ফাইল প্রসেসিং এবং তারিখ আপডেটের কাজ নিয়মিতভাবে চলতে থাকে, তাই অনেক সময় ভিসা বন্ধ থাকলেও বুলেটিনে অগ্রগতি দেখা যায়।

 

অভিবাসন আইনজীবীরা আবেদনকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন, যাদের প্রায়োরিটি ডেট এগিয়েছে তারা যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখেন এবং নিয়মিত ভিসা বুলেটিন অনুসরণ করেন। কারণ যেকোনো সময় প্রসেসিং দ্রুত শুরু হলে দেরি করলে সুযোগ হারানোর সম্ভাবনা থাকে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে ভিসা কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে, যদিও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো’: ট্রাম্প

গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও “খুব ভালো” বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোমবার ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন গাজা যুদ্ধ বন্ধে তার প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে প্রকাশ্য মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজায় বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পরিকল্পনা মেনে নেবে না।    ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবটি গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে একটি নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি নিয়ে হামাস ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে।    এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রকাশ্য মতবিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প নিজে দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সম্পর্ককে “খুব ভালো” বলে বর্ণনা করেছেন।    এর আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তবে গাজায় যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, ইসরায়েলি সেনা কখন ও কোথা থেকে সরে যাবে এবং হামাসের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।   বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের আগে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের সম্মতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে আপাতত এই মতপার্থক্যকে দুই দেশের সম্পর্কের বড় সংকট হিসেবে দেখানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো রয়েছে বলেই বার্তা দিয়েছেন।   ফলে এখন মূল প্রশ্ন, গাজা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই মতপার্থক্য শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিকল্পনার বাস্তবায়নে কতটা প্রভাব ফেলবে। নেতানিয়াহু হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, আর ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   অর্থাৎ, সম্পর্ক ভালো থাকার দাবি করলেও গাজা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবস্থানের পার্থক্য এখন আর গোপন নেই। আগামী দিনগুলোতে এই মতপার্থক্য দুই নেতার সম্পর্ক এবং গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সমাধানে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন নজরে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৩:৪৩
গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা

গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা

উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট

আবারো চীনের ব্যর্থতা! উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট

১৯৮০-এর পর, প্রথমবার ৩০ কোটি ব্যারেলের নিচে নামল যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত

১৯৮০-এর পর, প্রথমবার ৩০ কোটি ব্যারেলের নিচে নামল যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত

ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে  ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!
ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ছাড়ার সময় ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে তাঁকে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রথমে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট কোন বিমানে করে তুরস্ক ছাড়ছেন, তা গোপন রাখতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি বিভ্রান্তিমূলক পরিকল্পনা করেন।   পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ট্রাম্পকে প্রথমে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রকাশ্যে উঠতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই তিনি বিমানে ওঠেন। কিন্তু পরে বিমানের অন্য পাশ দিয়ে তাঁকে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অপেক্ষমাণ একটি ছোট সামরিক বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।   সেই সামরিক বিমানটি ছিল এয়ার ফোর্সের সি-৩২এ, যা আকারে ছোট হলেও প্রেসিডেন্টের বহরে ব্যবহৃত বিমানের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকজন শীর্ষ সহযোগীও ওই গোপন ফ্লাইটে ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ওই বিমানে ওঠেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই রাখা হয়েছিল। ফলে বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল ট্রাম্প ওই বিমানেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এমনকি সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    গোপন সামরিক বিমানে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মিলডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভ্রান্তিমূলক ফ্লাইটটি পৌঁছানোর প্রায় নয় মিনিট আগেই ট্রাম্পের প্রকৃত বিমান সেখানে অবতরণ করে। পরে তাঁকে আবার প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামতে দেখা যায়। কীভাবে তাঁকে আবার ওই বিমানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।    ট্রাম্প তুরস্কে যাওয়ার সময় কাতারের দেওয়া একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য বিমানটি নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। সেই বিমানটিকেই পরে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়।    হোয়াইট হাউস গোপন বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করলেও নতুন কাতার-দেওয়া বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্বহীন বলে দেখিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের এই গোপন অভিযান সামনে এলো। প্রেসিডেন্টের গতিবিধি ও অবস্থান গোপন রাখতে এমন জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ০:২২
ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় নিরাপত্তার বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হুমকিতে ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প, প্রকাশ্যে ছিল ভিন্ন নাটক

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

হোটেলে এক রাত থাকার পর শরীরজুড়ে ছারপোকার কামড়ের চিহ্ন দেখান ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার হান্না স্টিফেনসন। ছবি: সংগৃহীত

বিখ্যাত হোটেল এক রাত থাকার পর শরীরজুড়ে ছারপোকার কামড়, পেলেন লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

man-eating-a-donut-on-the-couch
অলসদের দিন আজ, আলসেমি করারও আছে দিবস!

‘অলস’ বা ‘কুঁড়ে’ মানুষকে সাধারণত কেউ খুব একটা পছন্দ করেন না। বরং কাজ ফেলে রাখার জন্য তাদের প্রায়ই শুনতে হয় নানা কথা। কিন্তু জানেন কি, অলসতারও রয়েছে একটি বিশেষ দিন!   আজ ১০ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হচ্ছে National Lazy Day বা জাতীয় অলস দিবস। দিনটি মূলত কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নিয়ে আরাম করা এবং নিজের জন্য সময় কাটানোর একটি মজার উপলক্ষ।   তাই যারা সারাবছর অলসতার জন্য বকুনি খান, তাদের জন্য আজ যেন একটু স্বস্তির দিন। ইচ্ছা করলে ঘুমিয়ে, শুয়ে-বসে, সিনেমা দেখে কিংবা কোনো কাজ না করেই দিনটি কাটিয়ে দিতে পারেন।   ধারণা করা হয়, কাজের চাপ ও ব্যস্ত জীবন থেকে মানুষকে সাময়িক বিরতি দেওয়ার ভাবনা থেকেই দিবসটির প্রচলন। তবে ঠিক কে বা কারা, কবে এই দিবসটি চালু করেছিলেন—এ নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।   আর এখানেই দিবসটির সবচেয়ে মজার দিক!   মজা করে অনেকে বলেন, হয়তো যারা National Lazy Day চালু করেছিলেন, তারা এতটাই অলস ছিলেন যে দিবসটি চালুর ইতিহাস লিখে রাখতেও আলসেমি করেছিলেন!   তবে মজার এই দিবসের পেছনে একটি বার্তাও রয়েছে—সবসময় কাজের পেছনে ছুটে চলার পাশাপাশি মাঝে মাঝে নিজেকে বিশ্রাম দেওয়াও প্রয়োজন।   তাই আজ যদি আপনার কাজের তালিকা একটু লম্বা হয়, তাহলে সব কাজ একেবারে বাদ না দিলেও অন্তত কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখতেই পারেন।   কারণ আজকের দিনটা যে অলসদের!

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৫:১৭
চীনের ওপর  খনিজের নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৬০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ট্রাম্পের

চীনের ওপর খনিজের নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৬০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ট্রাম্পের

'হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি’ বলায় ইসরায়েলির হাতে মার খেলেন মার্কিন নাগরিক

'হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি’ বলায় ইসরায়েলির হাতে মার খেলেন মার্কিন নাগরিক

কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ৯৬৮ বাংলাদেশি

কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ৯৬৮ বাংলাদেশি

0 Comments