জাতিসংঘ

ভয়ভীতি ছাড়া ভোটারদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ
জাতিসংঘ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ কার্যালয় এক বিশেষ বার্তা প্রদান করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়া‌রি) প্রকাশিত এই বার্তায় নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের সব অংশীজনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

জাতিসংঘের এই বার্তায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, নির্বাচনে নিরাপদ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে নারী, মেয়ে, প্রতিবন্ধী নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি সফল গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত।

 

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নারী প্রার্থী এবং ভোটারদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে— রাজনৈতিক নেত্রী, কর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিং, ডিপফেক, ছবি বিকৃতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির মতো ঘটনাগুলো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

 

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দল, নেতা ও তাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নারীদের প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো যাবে না। নারী ভোটাররা যেন কোনো প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব।

 

জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, তারা নারীদের নির্বাচনি অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ দেশের নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং প্রতিটি ব্যক্তির অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Advertisement

জাতিসংঘ

View more
গাজায় মানবিক বিপর্যয়: স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও খাদ্য সংকটে চরম উদ্বেগ প্রকাশ জাতিসংঘের

গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও সংকটজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের শান্তি দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে তিনি সতর্ক করে বলেন যে গাজায় প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো তাদের সক্ষমতার মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে উপত্যকাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে এবং সেখানকার অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ম্লাদেনভ জোর দিয়ে বলেন যে সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং অবশ্যই উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন।   মানবিক সহায়তার বর্তমান প্রবাহ গাজার বিশাল চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কিছু পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে তবে সামগ্রিক অবস্থা এখনো চরম উদ্বেগজনক। ম্লাদেনভ বলেন যে ২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বর্তমানে অমানবিক পরিস্থিতিতে বাস করছে যা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া যায় না। তিনি গাজায় সাহায্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা অবিলম্বে বাড়ানোর এবং অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা দ্রুততর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।   মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজও একই অধিবেশনে স্বীকার করেছেন যে গাজায় মানবিক প্রচেষ্টা এখনো যথেষ্ঠ নয় এবং এক্ষেত্রে আরও অনেক কাজ বাকি আছে। ওয়াশিংটন গাজার ভেতরে মানবিক প্রবেশাধিকার শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নই একমাত্র পথ যা গাজার পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মানবিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।

তেলবাহী জাহাজগুলো পাহাড়া দেয়ার তথ্য ভুল ছিল! ক্ষমা চাইলেন মার্কিন জ্বালানি সচিব

ছবি: সংগৃহীত

অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ

নির্বাচন ও গণভোটের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জাতিসংঘের

গাজা সিটির শাতি শরণার্থী শিবিরের ধ্বংসস্তূপে কয়েকটি শিশু। ছবি: এএফপি
গাজায় ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ শতাংশ স্কুল

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা নৃশংস আগ্রাসনে ফিলিস্তিনি শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ধসে পড়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, গাজার মোট স্কুল ভবনের ৯০ শতাংশই হয় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।   গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে। ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, গাজার যে কয়টি স্কুল ভবন এখনো টিকে আছে, সেগুলোতে বর্তমানে ঘরবাড়ি হারানো হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো এখন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে গাজার শিশুরা অস্থায়ী তাবু কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করে যৎসামান্য শিক্ষা গ্রহণের চেষ্টা করছে।   সংস্থাটি আরও জানায়, এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেও তারা গাজার শিশুদের জন্য শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ ও অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার কারণে এই কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সংঘাতের দুই বছরে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ (১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলের এই পদ্ধতিগত হামলাকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ

ভয়ভীতি ছাড়া ভোটারদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘের

জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ

জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’: জাতিসংঘের অস্তিত্বে হুমকি নয়, তবে কর্তৃত্ব ও কার্যকারিতায় চ্যালেঞ্জ

0 Comments