ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে: ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনায় কংগ্রেসম্যান
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। রিপাবলিকান দলের এই আইনপ্রণেতা দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দিক থেকে ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাসি লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা কমেছে, জ্বালানি মজুত হ্রাস পেয়েছে, সামরিক সদস্যদের প্রাণহানি ঘটেছে, ভোক্তা পণ্যের দাম বেড়েছে এবং দেশের জাতীয় ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ম্যাসি তার পোস্টে আরও বলেন, প্রশাসনের নীতির কারণে “ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ হয়েছে, তেলের মজুত কমেছে, সেনাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, ভোক্তা পণ্যের দাম বেড়েছে এবং দেশের ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে”—যা তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন উপেক্ষা করার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।
থমাস ম্যাসি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশে সামরিক অভিযান ও অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সমালোচনা করে আসছেন। ইরান ইস্যুতেও তার অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপাবলিকান দলের এই আইনপ্রণেতা এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার সর্বশেষ মন্তব্যকে ইরান সংঘাত নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরের মতপার্থক্যের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে ম্যাসির এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা নিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরেও মতবিরোধ রয়েছে। একদিকে কিছু আইনপ্রণেতা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিচ্ছেন, অন্যদিকে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট। ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ফলাফলের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রেসিডেন্ট অনিরবচ্ছিন্ন নয়, এমন চারটি মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন লুলা। নির্বাচনের প্রথম দফায় লুলার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও। গত ৪ অক্টোবরের ভোটে তিনি ৪৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ভোট পান, আর লুলার পক্ষে ভোট পড়ে ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই নিয়মেই দুই নেতার মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ২৫ অক্টোবর। প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ঘুচিয়ে জয় নিশ্চিত করেন লুলা। লুলার এই জয়কে ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং ডানপন্থী রাজনীতির পরিচিত মুখ। নির্বাচনী প্রচারে তিনি জননিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পরিবারের ঋণের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে লুলা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সহায়তা, ঋণের চাপ কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত লুলার পক্ষে ফল যায়। লুলা এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরে ২০২২ সালের নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন তিনি এবং ২০২৩ সালে তৃতীয় মেয়াদ শুরু করেন। এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আরও চার বছরের জন্য দেশটির নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলেন। শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে উঠে আসা লুলা দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলের বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থান পেয়েছে। তবে নির্বাচনে জয় পেলেও পরবর্তী মেয়াদে লুলার সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ থাকবে। দেশটির কংগ্রেসে ডানপন্থী ও রক্ষণশীল শক্তির প্রভাব বেড়েছে, যা তাঁর সরকারের নীতি বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করতে পারে। সরকারি ঋণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সুদের হার নিয়েও চাপ সামলাতে হবে প্রশাসনকে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মেরুকরণ কমানো এবং বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তোলাও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ফলে নির্বাচনী জয়কে প্রশাসনিক সাফল্যে রূপ দেওয়াই হবে লুলার নতুন মেয়াদের বড় পরীক্ষা। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।
যৌন নিপীড়ন থেকে বাঁচাতে রাতভর ঝোপে লুকিয়ে থাকলেন চীনা পর্যটক, অভিযুক্তের কারাদণ্ড
সৌন্দর্য ও ভালো বিয়ের আশায় মেয়েদের পা বেঁধে ছোট রাখার প্রথা ছিল প্রাচীন চীনে
ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ছয় মাসের সর্বোচ্চে তেলের দাম, বাড়ছে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত যৌন অপরাধী ও অর্থদাতা জেফরি এপস্টিনের কাছে পবিত্র কাবার গিলাফের অংশ পাঠানোর তথ্যকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার জোরদার করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে কাবার গিলাফের সঙ্গে সম্পর্কিত কাপড় তাঁর কাছে পৌঁছানোর তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনাকে সৌদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে হুতিরা। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের মাধ্যমে কাবার গিলাফের অংশ এপস্টিনের কাছে পৌঁছেছিল। এসব কাপড়ে পবিত্র কোরআনের আয়াতের নকশা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথিতে কাপড় পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেলেও এর সঙ্গে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা জরুরি। এপস্টিনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর যোগাযোগ নিয়ে প্রকাশিত নথিগুলো এর আগে থেকেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় রয়েছে। সৌদি আরব ও হুতিদের দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে নতুন করে বিষয়টি সামনে এসেছে। গত মাসে পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছিল সৌদি আরব। হুতিরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর হুতি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব এপস্টিনের কাছে কাবার গিলাফের অংশ পাঠানোর খবর তুলে ধরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে শুরু করে। হুতি গোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত তাদের সংবাদমাধ্যমে বলেন, যারা এপস্টিনকে কাবার গিলাফ দিয়েছে, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এটি হুতি নেতৃত্বের বক্তব্য, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিরা শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, ভিডিও, গান, বক্তৃতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদেরও এই প্রচারে যুক্ত করছে। এক্সে বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকা ইয়েমেনি কৌতুকাভিনেতা মুস্তফা আল-মোমারি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করে ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইয়েমেনের স্থানীয় শিল্পীরাও এ বিষয় নিয়ে গান তৈরি করেছেন। হুতি নেতা আব্দুল মালেক আল-হুতিও বিভিন্ন বক্তব্যে এপস্টিনের নথি উল্লেখ করে পশ্চিমা প্রভাবশালী মহলের সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু সৌদি আরবের সামরিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়, বরং ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর রক্ষক হিসেবে দেশটির ভাবমূর্তিকেও চ্যালেঞ্জ করা। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক, অন্যদিকে হুতিরা দেশটির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। এই বিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রচারমাধ্যমও জনমত প্রভাবিত করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এপস্টিনের নথি নিয়ে হুতিদের বক্তব্যের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তবে নথিতে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা কোনো বস্তু পাঠানোর তথ্য থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হুতিদের রাজনৈতিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তাই এপস্টিনের কাছে গিলাফের অংশ পৌঁছানোর ঘটনা এবং মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগকে পৃথক বিষয় হিসেবে দেখা জরুরি। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও এনডিটিভি।
ইউরোপে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যু, গবেষকদের চোখ কপালে
৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, বিশাল পরিবারের ভরণপোষণে হিমশিম খাচ্ছেন সাদিক
ইউরোপ রাশিয়াকে হারাতে পারবে না, দাবি পুতিনের
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বিক্ষোভের স্থান, বড় জনসমাগম এবং পুলিশের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে এমন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলার মধ্যে এ সতর্কতা জারি করা হয়। মার্কিন সরকারের নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় সহিংসতা, সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, লুটপাট এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফরাসি পুলিশ কাঁদানে গ্যাসসহ বিভিন্ন জনতা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। বিক্ষোভের স্থান ও গতিপথ অল্প সময়ের নোটিশে পরিবর্তিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। ফলে আগে থেকে নির্ধারিত কর্মসূচির ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পরিস্থিতির খোঁজ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২৪ অক্টোবর শনিবার প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে। একই দিনে মধ্য ফ্রান্সের অর্লেয়াঁ শহরেও বড় জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরদিন রোববারও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হতে পারে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ কিছু বিক্ষোভে বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছে, তবে অনুমোদিত সংগঠনগুলোর আয়োজিত কর্মসূচির ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা থাকতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের রুট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রোববার, ২৫ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) ম্যাচ দেখতে যাওয়া মার্কিন নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ওই ম্যাচে নিউ অরলিন্স সেইন্টস ও পিটসবার্গ স্টিলার্স মুখোমুখি হওয়ার কথা। ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে ম্যাচকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এনএফএল জানিয়েছে, খেলোয়াড়, দর্শক ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ফ্রান্সের কিছু এলাকায়, বিশেষ করে প্যারিসের নির্দিষ্ট পাড়া ও আশপাশের অঞ্চলে, রাতে চলাচলে বিধিনিষেধ বা কারফিউ কার্যকর থাকতে পারে। এসব ব্যবস্থা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘোষণা করতে পারে এবং কখনো কখনো তা অল্প সময়ের নোটিশে কার্যকর হয়। বিধিনিষেধের কারণে জনসমাগম, চলাচল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে যাতায়াত সীমিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসরণ, বিক্ষোভপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং ফরাসি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও পরিবহনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিরাপত্তা সতর্কতা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার
ঋণের পাহাড়ে বিশ্ব অর্থনীতি, ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বোঝায় বাড়ছে সুদের খরচ