তথ্যপ্রযুক্তি

নাসার ডার্ট মিশন: গ্রহ প্রতিরক্ষায় ইতিহাস গড়লেন উজবেকিস্তানের দুই বিজ্ঞানী

নাসার ডার্ট মিশন: গ্রহ প্রতিরক্ষায় ইতিহাস গড়লেন উজবেকিস্তানের দুই বিজ্ঞানী

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৭, ২০২৬ 0
Copyright NASA
Copyright NASA

একটি বিশ্বব্যাপী টেলিস্কোপ নেটওয়ার্কের পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করেছে যে, নাসার ডার্ট (DART) মহাকাশযান সফলভাবে ডিটূ (Dimorphos) নামক একটি গ্রহাণুর কক্ষপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। এটি মানবজাতির ইতিহাসে প্রথম এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে মানুষের তৈরি কোনো আঘাত একটি প্রাকৃতিক মহাকাশীয় বস্তুর গতিপথ বদলে দিয়েছে।

 

এই ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক সাফল্যে বিশেষ অবদান রেখে নাসা (NASA) কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছেন উজবেকিস্তানের দুই বিজ্ঞানী— কামোলিদ্দিন এরগাশভ এবং ওতাবেক বুরখোনভ। তারা মিরজো উলুগবেক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইনস্টিটিউটের গবেষক।


 

মেদানাক অবজারভেটরির ভূমিকা

উজবেকিস্তানের উচ্চ-উচ্চতার মেদানাক অবজারভেটরি (Maydanak Observatory) থেকে পাওয়া পরিমাপগুলো ডাইমরফোস গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়টি যাচাই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই অভিযানে বিশ্বের ২৮টি মানমন্দিরের প্রায় ১০০ জন গবেষক যুক্ত ছিলেন। এরগাশভ এবং বুরখোনভ মধ্য এশিয়ার দ্রাঘিমাংশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বৈশ্বিক ডেটাসেটের একটি বড় শূন্যস্থান পূরণ করেছেন।

 

বিজ্ঞানীদের এই অবদানের জন্য নাসা তাদের 'গ্রুপ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' (NASA Group Achievement Award) প্রদান করেছে। এটি একটি বিশেষ সম্মাননা যা সাধারণত বড় কোনো মিশনের উদ্দেশ্য সফল করতে কাজ করা সহযোগী দলগুলোকে দেওয়া হয়।

"আমরা মানব ইতিহাসের প্রথম এমন একটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি যা পৃথিবীকে হুমকির মুখে ফেলা কোনো বস্তুর কক্ষপথ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে," বলেন বিজ্ঞানী বুরখোনভ। "ভবিষ্যতে আমি নাসার সঙ্গে আরও বড় পরিসরে কাজ করার আশা রাখি।"


 

যেভাবে কক্ষপথ পরিবর্তন করা হলো

নাসার এই ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট (DART) ছিল একটি 'কাইনেটিক ইমপ্যাক্ট' বা গতিশীল আঘাতের পরীক্ষা। এর মূল লক্ষ্য ছিল একটি মহাকাশযানকে সজোরে গ্রহাণুর গায়ে ধাক্কা মেরে তার পথ বদলে দেওয়া।

  • ফলাফল: ডাইমরফোস যখন তার বড় সঙ্গী গ্রহাণু ডিডাইমোসকে (Didymos) প্রদক্ষিণ করছিল, তখন ধাক্কার ফলে এর কক্ষপথের সময়সীমা প্রায় ৩২ মিনিট কমে গেছে।

  • পদ্ধতি: বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপের মাধ্যমে 'ফটোমেট্রিক মনিটরিং' বা আলোর তীব্রতা পরিমাপ করে এই পরিবর্তন নিশ্চিত করেছেন।


 

ভাষাগত সংযোগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গ্রহাণু দুটির নামের পেছনে গ্রীক ভাষার সংযোগ রয়েছে। বড় গ্রহাণু ডিডাইমোস মানে 'যমজ', আর ছোট সঙ্গী ডাইমরফোস মানে 'দ্বি-রূপী'—যা মহাকাশযানের আঘাতের আগে ও পরের ভিন্ন অবস্থাকে নির্দেশ করে।

 

বিজ্ঞানী এরগাশভ মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে পৃথিবীর নিকটবর্তী বস্তু (Near-Earth Objects) এবং মহাকাশীয় আবর্জনা গবেষণায় সহায়ক হবে। অন্যদিকে, বুরখোনভ বিশ্বাস করেন যে এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণায় আরও আগ্রহী করে তুলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
Copyright NASA
নাসার ডার্ট মিশন: গ্রহ প্রতিরক্ষায় ইতিহাস গড়লেন উজবেকিস্তানের দুই বিজ্ঞানী

একটি বিশ্বব্যাপী টেলিস্কোপ নেটওয়ার্কের পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করেছে যে, নাসার ডার্ট (DART) মহাকাশযান সফলভাবে ডিটূ (Dimorphos) নামক একটি গ্রহাণুর কক্ষপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। এটি মানবজাতির ইতিহাসে প্রথম এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে মানুষের তৈরি কোনো আঘাত একটি প্রাকৃতিক মহাকাশীয় বস্তুর গতিপথ বদলে দিয়েছে।   এই ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক সাফল্যে বিশেষ অবদান রেখে নাসা (NASA) কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছেন উজবেকিস্তানের দুই বিজ্ঞানী— কামোলিদ্দিন এরগাশভ এবং ওতাবেক বুরখোনভ। তারা মিরজো উলুগবেক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইনস্টিটিউটের গবেষক।   মেদানাক অবজারভেটরির ভূমিকা উজবেকিস্তানের উচ্চ-উচ্চতার মেদানাক অবজারভেটরি (Maydanak Observatory) থেকে পাওয়া পরিমাপগুলো ডাইমরফোস গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়টি যাচাই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই অভিযানে বিশ্বের ২৮টি মানমন্দিরের প্রায় ১০০ জন গবেষক যুক্ত ছিলেন। এরগাশভ এবং বুরখোনভ মধ্য এশিয়ার দ্রাঘিমাংশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বৈশ্বিক ডেটাসেটের একটি বড় শূন্যস্থান পূরণ করেছেন।   বিজ্ঞানীদের এই অবদানের জন্য নাসা তাদের 'গ্রুপ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' (NASA Group Achievement Award) প্রদান করেছে। এটি একটি বিশেষ সম্মাননা যা সাধারণত বড় কোনো মিশনের উদ্দেশ্য সফল করতে কাজ করা সহযোগী দলগুলোকে দেওয়া হয়। "আমরা মানব ইতিহাসের প্রথম এমন একটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি যা পৃথিবীকে হুমকির মুখে ফেলা কোনো বস্তুর কক্ষপথ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে," বলেন বিজ্ঞানী বুরখোনভ। "ভবিষ্যতে আমি নাসার সঙ্গে আরও বড় পরিসরে কাজ করার আশা রাখি।"   যেভাবে কক্ষপথ পরিবর্তন করা হলো নাসার এই ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট (DART) ছিল একটি 'কাইনেটিক ইমপ্যাক্ট' বা গতিশীল আঘাতের পরীক্ষা। এর মূল লক্ষ্য ছিল একটি মহাকাশযানকে সজোরে গ্রহাণুর গায়ে ধাক্কা মেরে তার পথ বদলে দেওয়া। ফলাফল: ডাইমরফোস যখন তার বড় সঙ্গী গ্রহাণু ডিডাইমোসকে (Didymos) প্রদক্ষিণ করছিল, তখন ধাক্কার ফলে এর কক্ষপথের সময়সীমা প্রায় ৩২ মিনিট কমে গেছে। পদ্ধতি: বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপের মাধ্যমে 'ফটোমেট্রিক মনিটরিং' বা আলোর তীব্রতা পরিমাপ করে এই পরিবর্তন নিশ্চিত করেছেন।   ভাষাগত সংযোগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গ্রহাণু দুটির নামের পেছনে গ্রীক ভাষার সংযোগ রয়েছে। বড় গ্রহাণু ডিডাইমোস মানে 'যমজ', আর ছোট সঙ্গী ডাইমরফোস মানে 'দ্বি-রূপী'—যা মহাকাশযানের আঘাতের আগে ও পরের ভিন্ন অবস্থাকে নির্দেশ করে।   বিজ্ঞানী এরগাশভ মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে পৃথিবীর নিকটবর্তী বস্তু (Near-Earth Objects) এবং মহাকাশীয় আবর্জনা গবেষণায় সহায়ক হবে। অন্যদিকে, বুরখোনভ বিশ্বাস করেন যে এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণায় আরও আগ্রহী করে তুলবে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল মহাকাশের রহস্যময় ‘অদৃশ্য গ্যালাক্সি’

বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে মিলবে ফ্রি ওয়াইফাই: ঘোষণা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর

বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে মিলবে ফ্রি ওয়াইফাই: ঘোষণা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর

tiktok europe ban

ইউরোপে নিষিদ্ধ হওয়ার পথে টিকটক?

সংগৃহীত
ফ্রিল্যান্সিং: প্রযুক্তির সুবিধা, বাজারের বাস্তবতা

ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে ফ্রিল্যান্সিং এখন আর বিকল্প পেশা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মবাজার। ইন্টারনেট, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং গ্লোবাল মার্কেটপ্লেস এই চারটি প্রযুক্তিগত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আজকের ফ্রিল্যান্সিং ইকোসিস্টেম।   উচ্চগতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে একজন ফ্রিল্যান্সার বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ক্লায়েন্টের সঙ্গে রিয়েল টাইম যোগাযোগ করতে পারেন। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টুল, ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার এবং ক্লাউড স্টোরেজ কাজকে করেছে দ্রুত ও স্বচ্ছ। ডিজিটাল স্কিল যেমন গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট রাইটিং বা ডেটা অ্যানালাইসিস এসবের চাহিদা তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রবেশের সুযোগ।   তবে প্রযুক্তিগত বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখায়। অটোমেশন ও এআই টুলের কারণে অনেক সাধারণ কাজের মূল্য কমে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতা বাড়ছে, বিশেষ করে গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসে। অ্যালগরিদম নির্ভর প্ল্যাটফর্মে কাজ পেতে হলে প্রোফাইল অপ্টিমাইজেশন, রেটিং, রেসপন্স টাইম এবং পোর্টফোলিও নিয়মিত আপডেট করা জরুরি। শুধু দক্ষতা থাকলেই হয় না, নিজেকে ডিজিটালি উপস্থাপন করাও একটি আলাদা স্কিল।   আরেকটি বাস্তব দিক হলো টেকনিক্যাল রিস্ক। ইন্টারনেট সমস্যা, পেমেন্ট গেটওয়ে জটিলতা, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এসব ফ্রিল্যান্সিংয়ের অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ। নিয়মিত ব্যাকআপ, নিরাপদ পাসওয়ার্ড এবং পেমেন্ট নীতিমালা বোঝা এখন অপরিহার্য।   ফ্রিল্যান্সিংয়ে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। নতুন সফটওয়্যার শেখা, স্কিল আপগ্রেড করা এবং বাজার ট্রেন্ড বিশ্লেষণ এসবই দীর্ঘমেয়াদে সফলতার ভিত্তি গড়ে দেয়।   সব মিলিয়ে, ফ্রিল্যান্সিং কোনো রাতারাতি সাফল্যের প্রযুক্তি নয়। এটি প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, কৌশলগত চিন্তা ও ধারাবাহিক শেখার সমন্বয় যেখানে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয় পরিকল্পনার মাধ্যমে।  

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
অ্যাডবির কার্যালয় | ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ হচ্ছে অ্যানিমেশন সফটওয়্যার অ্যাডোবি অ্যানিমেট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রোক’

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা, ইলন মাস্কের ‘গ্রোক’ এ তৈরি হচ্ছে আপত্তিকর ছবি

একীভূত হচ্ছে ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স ও এক্সএআই

একীভূত হচ্ছে ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স ও এক্সএআই

আমেরিকান মালিকানায় টিকটক - তবে শুরুতেই সংকটে ট্রাম্প-সমর্থিত উদ্যোগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনে মূলত আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে গঠিত টিকটকের নতুন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসা উদ্যোগ শুরুতেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষার উদ্বেগ দূর করতে এই নতুন কাঠামো তৈরি করা হলেও বাস্তবে আস্থার সংকট কাটেনি।   নতুন মালিকানার আওতায় টিকটক ইউএস পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যবসা শুরুর পরপরই প্রশাসনিক জটিলতা, বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের অনিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনা মালিকানার প্রভাব পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়েছে কি না—এই প্রশ্ন এখনো মার্কিন নীতিনির্ধারক ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মনে রয়ে গেছে। ফলে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো টিকটকে বিজ্ঞাপন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।   এদিকে রাজনৈতিক সমর্থন থাকলেও প্রযুক্তি বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন করাই নতুন টিকটক ইউএসের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারীদের তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রমাণ করতে না পারলে সামনে আরও সংকট ঘনিয়ে আসতে পারে।

Unknown জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0

নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ডি-রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে

চলতি বছরেই মানুষকে টপকে যাবে এআই, জানালেন ইলন মাস্ক

২০২৬ সালের মধ্যেই মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হবে এআই: ইলন মাস্ক

0 Comments