আন্তর্জাতিক

প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায় বিক্রি হয়ে গেল ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’

প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায় বিক্রি হয়ে গেল ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৭, ২০২৬ 0
দ্য টেলিগ্রাফ
দ্য টেলিগ্রাফ

দীর্ঘ দুই বছরের মালিকানা সংকট ও টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিক্রি হলো ব্রিটেনের প্রভাবশালী রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’। জার্মানির প্রখ্যাত মিডিয়া জায়ান্ট ‘অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার’ ৫৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৯৩৬৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা) নগদ অর্থের বিনিময়ে এটি কিনে নিয়েছে। 

শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো এই চুক্তির ঘোষণা দেয়।


১৭১ বছরের পুরনো এই সংবাদমাধ্যমটির মালিকানা পাওয়ার দৌড়ে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করল বার্লিন-ভিত্তিক এই কোম্পানিটি। এর আগে ‘ডেইলি মেইল’-এর মালিকপক্ষ ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের বড় অঙ্কের অফারের কাছে তারা পিছিয়ে পড়ে।


অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিয়াস ডফনার এই অর্জনকে একটি ‘স্বপ্ন পূরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ২০০৪ সালেও তারা একবার দ্য টেলিগ্রাফ কেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ডফনার বলেন, “দ্য টেলিগ্রাফের মতো একটি মানসম্মত ব্রিটিশ সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া একইসঙ্গে একটি বিশেষ সুযোগ এবং বড় দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য হলো এই সংবাদপত্রটিকে ইংরেজিভাষী বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক সেন্টার-রাইট (মধ্য-ডানপন্থী) গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।”


চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার সংবাদপত্রের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সঙ্গে তারা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও আধুনিকীকরণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এর বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা করছে।


উল্লেখ্য, বার্কলে পরিবারের ঋণের দায়ে ২০২৩ সালে টেলিগ্রাফ মিডিয়া গ্রুপ বিক্রির তালিকায় ওঠে। এর আগে আবুধাবি-ভিত্তিক একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এটি কেনার চেষ্টা করলে ব্রিটিশ সরকার ‘বিদেশি রাষ্ট্রীয় মালিকানা’ সংক্রান্ত আইন এনে তা আটকে দেয়। পরবর্তীতে ডেইলি মেইল গ্রুপ (DMGT) চেষ্টা চালালেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সরকার সেটির ওপরও তদন্ত শুরু করে। অবশেষে অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।


অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত পলিটিকো (Politico), বিজনেস ইনসাইডার (Business Insider) এবং জার্মানির শীর্ষ সংবাদপত্র বিল্ড (Bild)-এর মালিক। দ্য টেলিগ্রাফের অন্তর্ভুক্তি তাদের বৈশ্বিক মিডিয়া সাম্রাজ্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিত্রতা প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে তীব্র জনরোষ ইন্দোনেশিয়া

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর সাথে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের জেরে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ হলো, প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিতর্কিত 'বোর্ড অফ পিস' (Board of Peace) উদ্যোগে যোগ দিয়ে এবং ওয়াশিংটনের সাথে বিশেষ বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করে মূলত মার্কিন স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম এই মুসলিম প্রধান দেশটি ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিন ও মুসলিম উম্মাহর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে এসেছে। তবে বর্তমান প্রশাসনের মার্কিনপন্থী নীতি ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের এই নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে "জাতীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী" বলে অভিহিত করছেন। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনে তেহরান সফরের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। তবে দেশের প্রভাবশালী আলেম সমাজ এবং সাধারণ জনগণ মনে করছেন, আক্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ইন্দোনেশিয়া কোনোভাবেই নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না। জনরোষের মুখে ইতিমধ্যে ইন্দোনেশীয় সরকার 'বোর্ড অফ পিস' থেকে নিজেদের কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে প্রেসিডেন্ট প্রাবোবোর জন্য জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। আল জাজিরার প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিচ্ছে না, বরং জাকার্তার মতো সুদূরপ্রসারী অঞ্চলেও রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং নেতৃত্বের বৈধতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত।

হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক তেল ট্যাঙ্কারে ইরানের ড্রোন হামলা

ইরান সংঘাতে কৌশলগত চাপে চীন

ইরান সংঘাতে কৌশলগত চাপে চীন

যুদ্ধের মধ্যেই ভূমিকম্পে কাঁপল ইরান

যুদ্ধের মধ্যেই ভূমিকম্পে কাঁপল ইরান

ছবি: সংগৃহীত।
আমিরাত ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: রাডার ও রানওয়ে ধ্বংস

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)।  শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল আমিরাতের আল-দাফরা বিমান ঘাঁটি। ইরানের নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সেখানে মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এতে ঘাঁটির একটি অত্যাধুনিক আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম, এমকিউ-৯ ড্রোনের রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং ইউ-২ নজরদারি বিমানের বিভিন্ন স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সময়ে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতেও ভারী মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষাণাগার লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।  এছাড়া মার্কিন সামরিক বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণে ব্যবহৃত দুটি রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ৭, ২০২৬ 0
দ্য টেলিগ্রাফ

প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায় বিক্রি হয়ে গেল ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’

বাঙ্কারে নির্ঘুম ইসরাইল

ইরানের মিসাইল আতঙ্কে নির্ঘুম ইসরাইল: রাতভর বাঙ্কারে লাখো মানুষ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইলে জরুরি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
নির্দিষ্ট দেশগুলোর জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার ঘোষণা ইরানের

ইরানের অভিজাত প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ইউরোপীয় দেশ ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   তবে আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র নয়, তাদের জাহাজের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ নিরপেক্ষ বা অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।   এই তথ্য জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি। তিনি ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি তুলে ধরেন।   হরমুজ প্রণালী আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করে বলে ধারণা করা হয়।   এই কারণেই হরমুজ প্রণালীকে অনেক সময় ‘বিশ্ব জ্বালানির প্রবেশদ্বার’ বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো প্রধানত এই পথ ব্যবহার করেই তাদের জ্বালানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে থাকে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করে আইআরজিসি। এ সময় কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   ব্রিটিশ সংস্থা UK Maritime Trade Operations জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ইরান বলছে স্থল অভিযান হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’, যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত তেহরান

ইরান বলছে স্থল অভিযান হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’, যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত তেহরান

সংগৃহীত ফাইল ছবি

ইসরাইলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যা বললেন পুতিন

0 Comments