দেশের প্রতিটি প্রান্তরে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ করে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং দ্রুতগতির যানবাহনে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডিজিটাল কানেক্টিভিটিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে সরকার।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, "বর্তমান যুগে আইসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন যেন প্রতিটি ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, যাত্রীসেবা উন্নত করতে বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনের পাশাপাশি হাইস্পিড যানবাহনগুলোতেও ফ্রি ওয়াইফাই নিশ্চিত করা হবে।"
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের তিনটি বড় টেকপার্কে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কাজ করছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার প্রতিটি উপজেলায় আইসিটি পার্ক স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়েও পরিকল্পনা চলছে। সরকার জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
দেশের প্রতিটি প্রান্তরে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ করে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং দ্রুতগতির যানবাহনে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডিজিটাল কানেক্টিভিটিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে সরকার। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, "বর্তমান যুগে আইসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন যেন প্রতিটি ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, যাত্রীসেবা উন্নত করতে বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনের পাশাপাশি হাইস্পিড যানবাহনগুলোতেও ফ্রি ওয়াইফাই নিশ্চিত করা হবে।" বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের তিনটি বড় টেকপার্কে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কাজ করছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার প্রতিটি উপজেলায় আইসিটি পার্ক স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়েও পরিকল্পনা চলছে। সরকার জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok) আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছে। নতুন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা সত্ত্বেও গ্রোক এখনো যৌনতাপূর্ণ বা আপত্তিকর ছবি তৈরি করছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা ক্ষতিকারক কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বা ‘কার্বস’ বসিয়েছিল গ্রোকের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান xAI। কিন্তু ব্যবহারকারীরা দেখতে পেয়েছেন যে, সামান্য কৌশলী প্রম্পট বা কমান্ড ব্যবহার করলেই গ্রোক এখনো বিভিন্ন আপত্তিকর এবং যৌনতাপূর্ণ ছবি তৈরি করে দিচ্ছে। এমনকি যখন সরাসরি কোনো আপত্তিকর ছবি চাওয়া হচ্ছে না, তখনও গ্রোকের ইমেজ জেনারেটর অনেক ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রদান করছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মডেলগুলোকে নিরাপদ করার জন্য যেসব ফিল্টার ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতে এখনো অনেক ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। গ্রোকের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, ইলন মাস্ক গ্রোককে ‘অবাধ বাকস্বাধীনতা’ বা ‘আনসেন্সরড’ হওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কারণেই হয়তো এর সুরক্ষাব্যবস্থা অন্য চ্যাটবটগুলোর (যেমন চ্যাটজিপিটি বা জেমিনি) তুলনায় অনেক শিথিল। উল্লেখ্য, সম্প্রতি এআই দিয়ে তৈরি পর্নোগ্রাফিক ছবি বা ‘ডিপফেক’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে তারকা এবং সাধারণ মানুষের ছবি ব্যবহার করে এ ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা নিয়ে বিভিন্ন দেশ কঠোর আইন করার কথা ভাবছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রোকের এই ব্যর্থতা প্রযুক্তি মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। xAI বা ইলন মাস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি এর আগে জানিয়েছিল, তারা গ্রোকের ফিল্টারগুলোকে আরও উন্নত করার জন্য কাজ করছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের এই চরম শিখরে দাঁড়িয়ে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নতুন ভবিষ্যৎবাণী পৃথিবীব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) ২০২৬-এর বার্ষিক সভায় অংশ নিয়ে মাস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে তাঁর এই চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো: ইলন মাস্ক মনে করেন, এআই-এর উন্নতির গতি মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি। তাঁর মতে: ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ: চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বা বড়জোর ২০২৭ সালের মধ্যে এআই এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা যেকোনো একক মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হবে। আগামী ৫ বছরে (২০৩০-৩১): আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০৩০ বা ২০৩১ সাল নাগাদ এআই সমষ্টিগতভাবে পুরো মানবজাতির সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে (Superintelligence)। মাস্কের এই দাবির পেছনে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত কারণ রয়েছে: রোবোটিক্সের সমন্বয়: মাস্কের মতে, আসল বিপ্লব তখন ঘটবে যখন এআই সফটওয়্যারকে রোবোটিক্সের সাথে যুক্ত করা হবে। যেমন—টেসলার 'অপটিমাস' (Optimus) হিউম্যানয়েড রোবট। তিনি আশা করছেন, ২০২৭ সালের মধ্যেই এই রোবটগুলো সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে আসবে। অর্থনৈতিক বিস্ফোরণ: মানুষের চেয়ে রোবটের সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে, যা অভাব বা দারিদ্র্য দূর করতে সহায়ক হবে। কাজের বিবর্তন: ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ফ্যাক্টরি—সবখানেই রোবট মানুষের জায়গা নেবে। তবে মাস্ক সতর্ক করেছেন যে, এই অগ্রগতির পথে প্রযুক্তি নয় বরং বিদ্যুৎ বা এনার্জি সরবরাহ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গুগল ডিপমাইন্ডের মুখ্য এজিআই বিজ্ঞানী শেন লেগ মাস্কের এই সুরেই কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, এআই এখন কেবল সাধারণ তথ্য দেওয়া নয়, বরং যুক্তি প্রয়োগ এবং নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রেও মানুষের কাছাকাছি চলে আসছে।