বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতা এবং তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার জেরে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায়, রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে, তা মোকাবিলা করতেই ৩০ দিনের জন্য এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই স্বল্পমেয়াদী সিদ্ধান্তের ফলে পুতিন সরকার খুব বেশি আর্থিক সুবিধা লাভের সুযোগ পাবে না।
বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী মাইকেল শ্যাঙ্কস এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরাবে না। শ্যাঙ্কসের মতে, এই ধরনের নমনীয়তা ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধে আরও অর্থ বিনিয়োগের রসদ জোগাবে।
এদিকে ক্রেমলিন এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। মস্কোর মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং এতে উভয় দেশের স্বার্থই জড়িত।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা এক শিশুর আর্তনাদ এবার বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আসর অস্কারের মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হতে যাচ্ছে। ৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে ইসরায়েলি বাহিনীর হত্যার নৃশংস ঘটনা নিয়ে নির্মিত ডকু-ড্রামা ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ (The Voice of Hind Rajab) আসন্ন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ‘সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। আগামী রবিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য অস্কার অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল ও প্রত্যাশা। সেই ভয়াল স্মৃতি ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার মুখে সপরিবারে গাড়ি নিয়ে পালাচ্ছিল শিশু হিন্দ। পথে তাদের লক্ষ্য করে ৩৫০টিরও বেশি গুলি চালায় ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক। পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলেই নিহত হলেও হিন্দ প্রায় ১২ ঘণ্টা জীবিত ছিল। রেড ক্রিসেন্টের সাথে ফোনে তার সেই আকুতি— “আমাকে একা রেখে যেও না, আমি ভয় পাচ্ছি, আমাকে নিয়ে যাও”— পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া দুই অ্যাম্বুলেন্স কর্মীকেও সেদিন হত্যা করা হয়। ১২ দিন পর হিন্দের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। সিনেমা যখন প্রতিবাদের ভাষা তিউনিসিয়ান পরিচালক কাউথার বিন হানিয়া পরিচালিত এই ৮৯ মিনিটের চলচ্চিত্রে হিন্দের সেই প্রকৃত অডিও রেকর্ড ব্যবহার করা হয়েছে। ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের পর এটি টানা ২৩ মিনিট দাঁড়িয়ে সম্মাননা (Standing Ovation) পেয়েছিল। চলচ্চিত্রটির প্রযোজক ওডেসা রে আল-জাজিরাকে বলেন, “অস্কার হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। আমাদের লক্ষ্য এই কাহিনীকে পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দেওয়া। এই স্বীকৃতি শুধু সিনেমার জয় নয়, এটি ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর চলা নৃশংসতার বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ।” গাজাবাসীর প্রত্যাশা গাজার চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ আল-সাওয়ায়াফ বলেন, “গাজার মানুষের কাছে অস্কার হয়তো যুদ্ধ থামানোর কোনো জাদুকরী শক্তি নয়, কিন্তু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ফিলিস্তিনিদের কেবল একটি ‘সংখ্যা’ হিসেবে নয়, বরং রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।” অন্যদিকে, হিন্দের মা উইসাম হামাদা এখনও মেয়ের কণ্ঠস্বর শোনার সাহস করতে পারেন না। তবে তিনি সিনেমাটির সাথে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করছেন যাতে বিশ্ববাসী গাজার শিশুদের ওপর চলা এই বর্বরতার কথা জানতে পারে। অস্কার ও ন্যায়বিচারের দাবি দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সিইও ফাতেমা হাসান আলরেমাইহি বলেন, “অস্কার জয় কেবল শৈল্পিক শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি নয়, এটি হওয়া উচিত সত্যকে রক্ষা করার এবং নৃশংসতার বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি অঙ্গীকার।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতারা ‘জাস্টিস ফর হিন্দ রাজাব অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যার লক্ষ্য হিন্দের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই মহোৎসবে ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জয় করতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে শান্তিকামী বিশ্ব। তবে পুরস্কারের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে গাজার অবরুদ্ধ মানুষের কণ্ঠস্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের রেড কার্পেট পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ইরানি হামলার কোনো ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলেই কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি স্থাপনা বা ধ্বংসাবশেষের ছবি তোলা এবং শেয়ার করার বিষয়ে নাগরিকদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও কঠোরভাবে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আমিরাতে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস এই সতর্কবার্তা প্রচার করে জানায়, স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করে কোনো প্রজেক্টাইল বা হামলার ঘটনার ছবি শেয়ার করলে কারাদণ্ড, মোটা অংকের জরিমানা এবং দেশ থেকে চিরতরে নির্বাসনের মতো কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যেই দুবাইয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি তোলার অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো রোধে আমিরাত সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাই আমিরাতে অবস্থানরত বিদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নতুন একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এই বোর্ড ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবে যে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন কি না। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি আরবাব মুহাম্মদ তাহির শুনানিকালে জানান, নতুন গঠিত বোর্ডে শিফা চক্ষু হাসপাতালের ডাক্তার নাদিম কুরেশিসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। বোর্ডের চূড়ান্ত রিপোর্ট ছাড়া তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। শুনানিতে আদালত আগের মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট উপস্থাপন না করায় উষ্মা প্রকাশ করলে ইসলামাবাদ অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, ইমরান খানের স্বাস্থ্য বর্তমানে সন্তোষজনক এবং সরকার তার চিকিৎসার বিষয়ে দায়বদ্ধ। শুনানি চলাকালে পিটিআই আইনজীবী বাবর আওয়ান বন্দীদের সঠিক চিকিৎসার অধিকার তুলে ধরেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের দৃষ্টান্ত দিয়ে ব্যক্তিগত ডাক্তারদের প্রবেশের অনুমতি দাবি করেন। অন্যদিকে ইমরান খানের বোন আলীমা খানও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে। নতুন মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই এখন তার পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে।