দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতে একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হবে। শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নির্ধারিত নিয়মে কাজ করবেন। পাম্পের প্রতিদিনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তারা নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেবেন। বিপিসি সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করবে। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) প্রতিটি পাম্পের জন্য একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেবেন। এদিকে পৃথক এক বার্তায় মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কেউ যদি অবৈধভাবে তেল মজুদ করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল ক্রয় প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।
বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৫ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিপোগুলোর নিরাপত্তা এবং মজুতদারদের অপতৎপরতা রুখতে বিজিবি সদর দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দায়িত্বরত সদস্যরা নিজস্ব ইউনিট থেকে দূরে হওয়ায় সুবিধাজনক স্থানে অস্থায়ী 'বেইজ ক্যাম্প' স্থাপন করে অভিযান ও তদারকি চালাচ্ছেন। একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এসব ক্যাম্পে নিয়মিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিজিবি: রংপুর বিভাগ: রংপুর (৩টি), কুড়িগ্রাম (২টি)। রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী (৩টি)। সিলেট বিভাগ: সিলেট (২টি), মৌলভীবাজার (৩টি), সুনামগঞ্জ (১টি)। চট্টগ্রাম ও ঢাকা: কুমিল্লা (৩টি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১টি) এবং ঢাকা (১টি)। ডিপোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নৌ-টহল এবং চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও লরিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অবৈধ মজুত ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এখন তুঙ্গে। ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে বিজিবির এই সক্রিয় উপস্থিতি জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছেছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। ডিপোর সহকারী ইনচার্জ মো. জীবন শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যেই আমদানিকৃত এই ডিজেল পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মূলত উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান ৮টি জেলায় সেচ কাজ এবং যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই বিশেষ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ভারতের সাথে সম্পাদিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় এই ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই ফেব্রুয়ারি এবং ১১ মার্চ দুটি আলাদা চালানে মোট ১০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে। আগামী সপ্তাহে আরও একটি চালানে ৫ হাজার টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে। চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আগামী চার মাসে পাইপলাইনের সাহায্যে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক চুক্তি অনুযায়ী এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাহাজ থেকে এসব তেল খালাস করা হবে বলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে। বিপিসির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়া জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল মজুত রয়েছে। নতুন করে আসা ১০ হাজার টন ডিজেল সেই মজুতে যুক্ত হবে। আমদানিকৃত ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত হবে, আর জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন বিমানবন্দরে। বিপিসি ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও জেট ফুয়েলসহ মোট পাঁচ ধরনের জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ করে থাকে। সংস্থাটির মতে, ডিপোগুলোতে থাকা মজুত এবং পাইপলাইনের তেল দিয়ে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। তবে সংকটের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করা হলেও ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে আমদানি পণ্য পরিবহণকারী লাইটার জাহাজ ও মাছ ধরার ট্রলারে রেশনিং করে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পেট্রল পাম্পগুলোতেও চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় দেশে যেন জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য এই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই ডিজেল সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে 'এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড' থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং 'সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড' থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন উন্নত মানের ডিজেল আমদানি করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই আমদানির মূল লক্ষ্য।
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তিন মাসের বিশেষ মজুত বা ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতাকে পুঁজি করে দেশে একটি অসাধু চক্র মজুতদারি ও কালোবাজারির পাঁয়তারা করছে। তবে সরকার বসে নেই; এসব অপতৎপরতা রুখতে ইতোমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই দিনে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। এর ওপর সাধারণ মানুষের মাঝে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি গোষ্ঠী সবসময় এ ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালায়। এদিকে, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। আগে যেখানে ১৫ দিনের মজুত রাখা হতো, সেখানে বর্তমান মজুতকে তিনি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন। তবে তেলের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, মানুষের মনে আস্থা ফিরে এলে ‘প্যানিক বায়িং’ দ্রুতই বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া, এদিনের মন্ত্রিসভায় রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত অর্থ আইন এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইন হিসেবে উপস্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। একইসঙ্গে কোনো অসাধু চক্র বা পেট্রোল পাম্প মালিক তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তারা লাভবান হতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বুধবার সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসিন খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে একটি কঠিন সময় পার করছে বিশ্ব অর্থনীতি। এমনকি উন্নত দেশগুলোও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও এক ধরনের ভীতি থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। তিনি পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। তাই যারা মনে করছেন দাম বাড়বে এবং সেই আশায় তেল মজুত করছেন, তাদের এই প্রবণতা কোনো কাজে আসবে না।" বাজারে তেলের সরবরাহ ও রেশনিং ব্যবস্থা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন যে, ঈদে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে রেশনিং শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে সরবরাহে টান পড়েছে। তিনি বলেন, "সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনলেও দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা চিন্তা করে এখনই দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কারণ তেলের দাম বাড়লে সরাসরি মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়ে।" গ্যাস সরবরাহ নিয়ে তিনি জানান, সরকার বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস সংগ্রহ করছে। কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পুরো গ্যাস পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিকল্প উপায়ে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে কোনো বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করা হবে।
তেল ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতেই কি ইরানের সাথে আলোচনার নাটক সাজাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? সাবেক মার্কিন ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট জোয়েল রুবিন সিএনএন-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতেই ট্রাম্প আলোচনার কথা বলছেন। রুবিন জানান, মার্কিন প্রশাসন হয়তো তেলের সরবরাহ সচল রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমিয়ে গ্যাসোলিনের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই কৌশল অবলম্বন করেছে। কারণ, হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজের জট এবং জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকির পরই তেহরান আলোচনার টেবিলে ফিরেছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। বরং জ্বালানির দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণ করতেই ট্রাম্প এমন ‘মিথ্যা’ দাবি করছেন।
দীর্ঘ ছুটির আমেজ কাটিয়ে ঈদ পরবর্তী সময়ে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশের নতুন সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—সব মিলিয়ে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ এখন সরকারের সামনে পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, স্থবির অর্থনীতিতে গতি আনা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই হবে এই মুহূর্তের প্রধান কাজ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অস্থিরতা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে হু হু করে। এর ফলে এপ্রিল-মে মাসের তীব্র গরমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সেচ মৌসুমে কৃষি উৎপাদন সচল রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম জানিয়েছেন, অফিস-আদালত ও কলকারখানা পূর্ণোদ্যমে চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বাড়বে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। অর্থনীতির টানাপোড়েন ও রিজার্ভ সংকট বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একদিকে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি, অন্যদিকে চড়া দামে জ্বালানি কেনা—এই দুইয়ের চাপে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, এখনই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না হলেও যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প ভাবা ছাড়া উপায় থাকবে না। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সংস্কারের চাপ কেবল অর্থনীতি নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হওয়ার আভাস দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, প্রশাসনে অতিরিক্ত দলীয়করণ জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা নতুন করে আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি করবে। সব মিলিয়ে, আসন্ন বাজেটে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকার কীভাবে এই সংকট উত্তরণ করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ যোগ হতে যাচ্ছে। সমুদ্রে ভাসমান ট্যাংকারে মজুত থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল এখন খালাস ও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রপথে নোঙর করে থাকা জাহাজে বিপুল পরিমাণ এই তেল সংরক্ষিত রয়েছে। যদিও পরামর্শক সংস্থা এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ তাদের প্রাক্কলনে এ পরিমাণ ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল বলে উল্লেখ করেছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের জন্য এই তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির পথ খুলে গেছে। এর ফলে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। বিশ্বের জ্বালানি চাহিদায় এশিয়ার দেশগুলো বড় ভূমিকা রাখে, যেখানে তাদের মোট তেলের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তবে চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় অঞ্চলের অনেক শোধনাগার উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানি তেলের সরবরাহ বাজারে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল ও কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। দেশটির সংসদ সদস্য সোমায়ে রাফিই সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তেহরানের ওয়ালিআসর স্কোয়ারে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি জানান, বর্তমানে ইরানের আইনপ্রণেতারা এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছেন। মূলত 'জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার' লক্ষ্যেই তেহরান তার এই সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চায়। শত্রুপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাফিই বলেন, "আমরা আমাদের শত্রুদের আগের সেই আয়েশি দিনগুলো কেড়ে নিয়েছি। তারা এখন এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, চলমান উত্তেজনার অবসান ইরানের চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমেই হবে এবং এরপর থেকে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত শত্রুপক্ষর জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের সিংহভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় ইরানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কুয়েতের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের নাশকতার খবর পাওয়া গেছে। প্রথম হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটির দ্বিতীয় আরেকটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি) নিশ্চিত করেছে যে, ড্রোন হামলায় দক্ষিণ কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ইউনিটে সরাসরি ড্রোনটি আঘাত হানে। হামলার পরপরই কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। তবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থাপনাটি সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর কিছুক্ষণ আগেই কুয়েতের অন্য একটি বড় শোধনাগার মিনা আল-আহমাদি-তে একই ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। পর পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এ ধরনের আক্রমণ কুয়েতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে হওয়া অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমদানিকৃত জ্বালানি দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে আরও দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভেন’ নামের জাহাজ দুটি বর্তমানে খালাস কার্যক্রমে রয়েছে। এর মধ্যে ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ বুধবার এবং ‘এলপিজি সেভেন’ শুক্রবার (২০ মার্চ) মূল বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ গত ১৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছে বর্তমানে ব্রাভো মুরিং এলাকায় অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি খালাস হয়েছে এবং ১৯ মার্চের মধ্যে পুরো খালাস শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘এলপিজি সেভেন’ গত ৮ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস করা হয়েছে। ২০ মার্চের মধ্যে জাহাজটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের মধ্যে অধিকাংশই কার্গো খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারত থেকে আসা এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, অ্যাঙ্গোলা, থাইল্যান্ড ও ওমান থেকে আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন জাহাজগুলোর আগমনে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, এই কৌশলগত জলপথটি সাধারণত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর কোনো জাহাজ এখান দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদ-এ প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নির্দিষ্ট মিত্রদের জন্য নিষিদ্ধ।" আরাঘচি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর যতদিন পর্যন্ত বৈরী দেশগুলোর হামলা বা চাপ অব্যাহত থাকবে, ততদিন এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটে ইরানের এমন সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইরান এই নীতি বজায় রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতা এবং তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার জেরে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায়, রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে, তা মোকাবিলা করতেই ৩০ দিনের জন্য এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই স্বল্পমেয়াদী সিদ্ধান্তের ফলে পুতিন সরকার খুব বেশি আর্থিক সুবিধা লাভের সুযোগ পাবে না। বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী মাইকেল শ্যাঙ্কস এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরাবে না। শ্যাঙ্কসের মতে, এই ধরনের নমনীয়তা ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধে আরও অর্থ বিনিয়োগের রসদ জোগাবে। এদিকে ক্রেমলিন এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। মস্কোর মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং এতে উভয় দেশের স্বার্থই জড়িত। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের নিশানায় এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন নিউজম। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে আদতে দেশটির লাভই হচ্ছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিউজম বিদ্রুপ করে লেখেন, “আমেরিকাবাসী, দুশ্চিন্তার কিছু নেই! আপনাদের গ্যাসোলিন বা জ্বালানির দাম বাড়ছে ঠিকই—কিন্তু এতে ট্রাম্পের প্রচুর অর্থ উপার্জন হচ্ছে। তাই সব ঠিক আছে।” মূলত সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা খরচ করে ট্রাম্প নিজের ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছেন কি না, নিউজম তার শ্লেষাত্মক বার্তার মাধ্যমে সেই প্রশ্নই তুলেছেন। তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও ট্রাম্প সেটাকে ইতিবাচকভাবে দেখায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপও একই ধরনের অনুরোধ করেছে। বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আনুষ্ঠানিক চুক্তির অধীনে বর্তমানে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা তুলে ধরা হয়। ভারতের এই ইতিবাচক সাড়া এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের পতাকাবাহী সকল ধরনের জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করেছে নরওয়ে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার ঝুঁকি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওসলো। নরওয়ের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নরওয়েজীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু প্রণালীতে জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-ষষ্ঠাংশ এবং এলএনজির এক-তৃতীয়াংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। নরওয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে যে পরিমাণ জ্বালানি আসে, তার বাইরেও জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি সহায়তা চেয়ে ভারত সরকারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপদকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সাথে জ্বালানি মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ সম্বলিত চিঠিটি তারা গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে সরাসরি ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ১ লাখ ৮০ হাজার টন সরবরাহের কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ভারতের এই অতিরিক্ত সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও। এমন এক জরুরি পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রেজানুর রহমান বার্তা সংস্থা এএনআই-কে নিশ্চিত করেছেন যে, এটি কোনো আকস্মিক সাহায্য নয়, বরং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিরই একটি অংশ। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া 'ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন' প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে নিয়মিত এই জ্বালানি আমদানি করা হয়। চুক্তির বিস্তারিত ও বর্তমান সরবরাহ: বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা: প্রতি বছর পাইপলাইনের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল আসার কথা। প্রথম ছয় মাসের লক্ষ্য: চুক্তি অনুযায়ী জুন মাসের মধ্যে ৯০ হাজার টন ডিজেল পৌঁছাবে। সাম্প্রতিক চালান: মঙ্গলবার ৫ হাজার টনের একটি চালান দেশে পৌঁছেছে। বিপিসি চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দুই মাসের মধ্যেই প্রথম ছয় মাসের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ ডিজেল বাংলাদেশে চলে আসবে। বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে ভারতের এই দ্রুত সরবরাহ দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের দামামা এখন চরম সীমায়। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ১৬টি মাইন পাতা যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অকার্যকর মাইন বহনকারী ইরানি নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এটি তারই প্রতিফলন। তবে সংঘাত কেবল সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই; ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে। একইসাথে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে চলছে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ। অন্যদিকে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বেজে উঠছে সাইরেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই চরম উত্তেজনার মাঝে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি আমেরিকান ওই অঞ্চল ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাজ্যও বিশেষ বিমানে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা এখন তেহরান থেকে বৈরুত, আর রিয়াদ থেকে দুবাই—পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।