গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা এক শিশুর আর্তনাদ এবার বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আসর অস্কারের মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হতে যাচ্ছে। ৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে ইসরায়েলি বাহিনীর হত্যার নৃশংস ঘটনা নিয়ে নির্মিত ডকু-ড্রামা ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ (The Voice of Hind Rajab) আসন্ন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ‘সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। আগামী রবিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য অস্কার অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল ও প্রত্যাশা।
সেই ভয়াল স্মৃতি
২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার মুখে সপরিবারে গাড়ি নিয়ে পালাচ্ছিল শিশু হিন্দ। পথে তাদের লক্ষ্য করে ৩৫০টিরও বেশি গুলি চালায় ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক। পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলেই নিহত হলেও হিন্দ প্রায় ১২ ঘণ্টা জীবিত ছিল। রেড ক্রিসেন্টের সাথে ফোনে তার সেই আকুতি— “আমাকে একা রেখে যেও না, আমি ভয় পাচ্ছি, আমাকে নিয়ে যাও”— পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া দুই অ্যাম্বুলেন্স কর্মীকেও সেদিন হত্যা করা হয়। ১২ দিন পর হিন্দের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
সিনেমা যখন প্রতিবাদের ভাষা
তিউনিসিয়ান পরিচালক কাউথার বিন হানিয়া পরিচালিত এই ৮৯ মিনিটের চলচ্চিত্রে হিন্দের সেই প্রকৃত অডিও রেকর্ড ব্যবহার করা হয়েছে। ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের পর এটি টানা ২৩ মিনিট দাঁড়িয়ে সম্মাননা (Standing Ovation) পেয়েছিল।
চলচ্চিত্রটির প্রযোজক ওডেসা রে আল-জাজিরাকে বলেন, “অস্কার হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। আমাদের লক্ষ্য এই কাহিনীকে পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দেওয়া। এই স্বীকৃতি শুধু সিনেমার জয় নয়, এটি ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর চলা নৃশংসতার বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ।”
গাজাবাসীর প্রত্যাশা
গাজার চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ আল-সাওয়ায়াফ বলেন, “গাজার মানুষের কাছে অস্কার হয়তো যুদ্ধ থামানোর কোনো জাদুকরী শক্তি নয়, কিন্তু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ফিলিস্তিনিদের কেবল একটি ‘সংখ্যা’ হিসেবে নয়, বরং রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।”
অন্যদিকে, হিন্দের মা উইসাম হামাদা এখনও মেয়ের কণ্ঠস্বর শোনার সাহস করতে পারেন না। তবে তিনি সিনেমাটির সাথে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করছেন যাতে বিশ্ববাসী গাজার শিশুদের ওপর চলা এই বর্বরতার কথা জানতে পারে।
অস্কার ও ন্যায়বিচারের দাবি
দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সিইও ফাতেমা হাসান আলরেমাইহি বলেন, “অস্কার জয় কেবল শৈল্পিক শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি নয়, এটি হওয়া উচিত সত্যকে রক্ষা করার এবং নৃশংসতার বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি অঙ্গীকার।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতারা ‘জাস্টিস ফর হিন্দ রাজাব অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যার লক্ষ্য হিন্দের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই মহোৎসবে ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জয় করতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে শান্তিকামী বিশ্ব। তবে পুরস্কারের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে গাজার অবরুদ্ধ মানুষের কণ্ঠস্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের রেড কার্পেট পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যুদ্ধের চতুর্দশ দিনে এসে প্রাণহানির সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংস্থার পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বিদেশি সেনারাও রয়েছেন। তেহরানের বেহেশত-ই জাহরা কবরস্থানে স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অঞ্চলভেদে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান: ইরান: জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের তথ্যমতে বুধবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১,৩০০ থাকলেও, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (HRANA) শুক্রবার জানিয়েছে, ইরানে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১,৮৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। সরকারিভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। লেবানন: লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৩ জনই নিষ্পাপ শিশু। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক: ইরাকে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ মার্কিন সেনার মৃত্যুসহ এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন মার্কিন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরাকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ২৭ সদস্যসহ মোট ৩২ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল: আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই সেনাসহ মোট ১৫ জন ইসরায়েলি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও। কুয়েতে কুমেতীয় নাগরিক ও মার্কিন সেনাসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। আরব আমিরাতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ ৬ জন এবং ওমানে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সৌদি আরব ও বাহরাইনেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও সরাসরি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ততই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির উন্নতি এখনো সুদূরপরাহত।
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (KC-135 Stratotanker) বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা সকল ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক শোকাবহ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, এই দুর্ঘটনায় বিমানের ছয়জন আরোহীর কেউই বেঁচে নেই। প্রাথমিকভাবে চারজন নিহতের খবর জানানো হলেও, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানটি গতকাল বন্ধুত্বপূর্ণ আকাশসীমায় অবস্থানকালে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যে শত্রুপক্ষের হামলা বা ভুলবশত নিজেদের কোনো গোলাবর্ষণের (friendly fire) প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না; সামরিক নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরিবারের কাছে সংবাদ পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টা পর নাম-পরিচয় জনসমক্ষে আনা হবে।
ইরানের হরমজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোর জন্য ২ লাখ ডলার অনুদান ঘোষণা করেছে চীন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মানবিক সহায়তার কথা জানায়। জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে এই অর্থ ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে প্রদান করবে চীনের রেড ক্রস সোসাইটি। মূলত নিহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি সমবেদনা ও ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের সময় মিনাবের ওই স্কুলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই শিশু শিক্ষার্থী। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্কুল ও শিশুদের ওপর এমন হামলা বিবেক ও নৈতিকতার সর্বনিম্ন সীমাকেও অতিক্রম করেছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই কঠিন সময়ে ইরানের জনগণের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। যদিও এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার মতো বিভিন্ন প্রমাণ সামনে এসেছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয়ই দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে সমালোচকদের মতে, একটি প্রাথমিক স্কুলে এই হামলা বর্তমান যুদ্ধের ভয়াবহতাকে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন করে তুলে ধরেছে।