ভেনেজুয়েলা

ছবি: সংগৃহীত
আইনজীবীদের ফি নিয়ে জটিলতা: ফের নিউ ইয়র্কের আদালতে নিকোলাস মাদুরো

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আজ বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে পুনরায় হাজির হচ্ছেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক ঝটিকা অভিযানে আটক হওয়ার পর এটি তাদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আদালত হাজিরা। তবে এবারের শুনানির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিশেষ আইনি বিতর্ক— মাদুরোর আইনজীবীদের ফি কে প্রদান করবে? ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি কারাকাসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মার্কিন কমান্ডোদের এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে সস্ত্রীক আটক হন নিকোলাস মাদুরো। এরপর তাদের নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস (Narco-terrorism), যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রশাসন। তবে শুরু থেকেই মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন এবং নিজেকে একজন ‘যুদ্ধবন্দি’ (Prisoner of War) হিসেবে অভিহিত করেছেন। মাদুরোর প্রধান আইনজীবী ব্যারি পোলাক আদালতকে জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার মাদুরোর আইনি লড়াইকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে অর্থের জোগান বন্ধ করে দিচ্ছে। ভেনেজুয়েলা সরকার মাদুরোর আইনি খরচ মেটাতে চাইলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পোলাক অভিযোগ করেন যে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (OFAC) প্রথমে এই অর্থ গ্রহণের অনুমতি দিলেও মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তা বাতিল করে দেয়। আইনজীবীদের দাবি, এর ফলে মাদুরোর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকারকে ফি দেওয়ার অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে ব্যারি পোলাক এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা নথিতে জানিয়েছেন, মাদুরোর ব্যক্তিগত তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভেনেজুয়েলা সরকারের কোনো রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এই ফি নেওয়া আইনের পরিপন্থী। তাদের মতে, মাদুরো এখন আর ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধান নন, তাই তিনি এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আজকের শুনানিতে বিচারপতি আলভিন হেলারস্টাইন মাদুরোর আইনজীবীদের এই আবেদন নিয়ে শুনানি করবেন। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবীদের ফি দিতে ব্যর্থ হন, তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী তাকে আদালত থেকে সরকারি আইনজীবী (Public Defender) নিয়োগ করে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ব্রুকলিনের একটি কারাগারে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটছে একসময়ের প্রতাপশালী এই নেতার। মাদুরো এবং তার স্ত্রী দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সারা বিশ্বের নজর এখন নিউ ইয়র্কের এই আদালতের দিকে, কারণ আধুনিক ইতিহাসে কোনো দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করে অন্য দেশে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনা বিরল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল খনিও কবজায় নেয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এবার ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সরাসরি ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের তেলের দখল নেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একে একটি "কার্যকর বিকল্প" বা অপশন হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প বলেন, "আমি এই বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে চাইছি না, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই আমাদের একটি অপশন।" তিনি এই পরিস্থিতির সমাধানে ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে আনেন, যেখানে নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল সম্পদ ও অন্যান্য ইস্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে সরাসরি কাজ শুরু করেছে। ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে নিজের সাফল্যের দাবি করে ট্রাম্প বলেন, "ভেনেজুয়েলার সাথে আমাদের যৌথ উদ্যোগটি চমৎকারভাবে কাজ করছে। আমরা সেখান থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অর্জন করছি। দেশটির ইতিহাসে বর্তমান সময়টি সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং এই প্রক্রিয়ায় আমেরিকাও লাভবান হচ্ছে।" মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্যের সমর্থনে জানান, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ভেনেজুয়েলা তেল রপ্তানি থেকে গত বছরের চেয়েও বেশি রাজস্ব আয় করেছে। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ এখন আর চুরি হচ্ছে না, বরং সঠিক পথে ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা মোটেও চিন্তিত নয়। তিনি দাবি করেন, "আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। সৌদি আরব বা রাশিয়ার চেয়েও দ্বিগুণ তেল এখন আমেরিকার ভাণ্ডারে আছে এবং শীঘ্রই তা তিনগুণ হবে। ফলে ইরানের সাথে যুদ্ধ বা সরবরাহ সংকটে আমেরিকার কোনো ক্ষতি হবে না।"

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
‘অ্যান্টিলিসের মুক্তা’ দখল করতে কেন এত মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প?

"জন্ম থেকেই কিউবার নাম শুনে আসছি, এবার কোনো না কোনোভাবে আমরা কিউবা নিয়ে নেব।"— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই একটি বাক্যেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দান।  গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কিউবা দখলের এক প্রকার প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন তিনি। সংকটে কিউবা: অন্ধকারে ডুবছে দ্বীপরাষ্ট্র বর্তমানে কিউবা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎহীনতায় কিউবার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল জানিয়েছেন, গত তিন মাসে কোনো জ্বালানি তেল কিউবায় প্রবেশ করতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর সেখান থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় কিউবার পাওয়ার গ্রিডগুলো অচল হয়ে পড়েছে। সুর নরম থেকে চরম: ট্রাম্পের ৮ দিনের পরিবর্তন মাত্র আট দিন আগে গত ৯ই মার্চ ট্রাম্প কিউবার সংকট নিরসনে 'বন্ধুত্বপূর্ণ অধিগ্রহণে'র (Friendly Acquisition) প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৭ই মার্চ তার সুর সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা কিউবাকে স্বাধীন করতে পারি, অধিগ্রহণ করতে পারি বা যা খুশি করতে পারি। সত্যি বলতে, ওরা এখন অত্যন্ত দুর্বল একটি রাষ্ট্র।" ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: ২০০ বছরের আধিপত্যের লড়াই বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউবার প্রতি ট্রাম্পের এই মনোভাব কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি আমেরিকার দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। ১৯০২ সালে কিউবা নামমাত্র স্বাধীনতা পেলেও মার্কিন 'প্ল্যাট সংশোধনী'র মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বজায় রাখে ওয়াশিংটন। পরবর্তীতে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লব এবং চে গেভারার গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে কিউবা আমেরিকার প্রভাবমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলেও তা চিরস্থায়ী শত্রুতার জন্ম দেয়। ১৯৬১ সালের ব্যর্থ 'বে অফ পিগস' অভিযান থেকে শুরু করে বর্তমানের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—আমেরিকা সবসময়ই কিউবাকে একটি 'কমিউনিস্ট হুমকি' হিসেবে দেখে এসেছে। আদর্শগত যুদ্ধ ও মারকো রুবিও ফ্যাক্টর ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও, যিনি নিজে একজন কিউবান শরণার্থীর সন্তান, কিউবায় সরকার পরিবর্তনের কট্টর সমর্থক। ট্রাম্প এমনকি রুবিওকে কিউবার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিউবা এখন ট্রাম্পের কাছে একটি 'আদর্শগত যুদ্ধ' বা 'আইডিওলজিক্যাল ব্যাটল' হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেনেজুয়েলার পর কিউবা কি তবে আমেরিকার পরবর্তী লক্ষ্য? ট্রাম্পের এই 'অধিগ্রহণ' বার্তার পর লাতিন আমেরিকার রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র: বিবিসি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে: বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Donald Trump প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বৃহৎ সামরিক সংঘাতের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আলোচনায় অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে কয়েক সপ্তাহব্যাপী পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযানটি কেবল সীমিত হামলা হবে না; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বড় আকারের অভিযান হতে পারে। এর পরিধি গত বছরের স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের তুলনায় অনেক বড় হবে এবং ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য এটি অস্তিত্বের লড়াই হয়ে উঠতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়জুড়েও এর প্রতিক্রিয়া থাকবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে সম্ভাব্য এই সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে তেমন জনআলোচনা দেখা যাচ্ছে না।   কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি জেনেভায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা Jared Kushner ও Steve Witkoff ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয় পক্ষ আলোচনায় কিছু অগ্রগতির কথা বললেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।   এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্ত এখনো মেনে নেয়নি ইরান। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।   সামরিক প্রস্তুতি জোরদার বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী, একাধিক যুদ্ধজাহাজ, শত শত যুদ্ধবিমান এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও যুদ্ধবিমান ওই অঞ্চলের দিকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।   পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় সামরিক প্রস্তুতি কেবল কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নয়; বরং প্রয়োজন হলে সরাসরি হামলার ইঙ্গিতও হতে পারে।   যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটা ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। তবে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, চূড়ান্ত হামলার আগে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।   মার্কিন সিনেটর Lindsey Graham বলেছেন, সম্ভাব্য হামলা শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা দাবি করেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যদি কূটনৈতিক সমঝোতা না হয়, তবে সংঘাত প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে এর পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
Venezuela Amnesty Bill
ভেনেজুয়েলায় মুক্তি পাচ্ছেন রাজবন্দিরা

শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এক বিশাল পদক্ষেপ নিল ভেনেজুয়েলা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও সহাবস্থান ফিরিয়ে আনতে পার্লামেন্টে পাস হলো বহুল আলোচিত 'অ্যামনেস্টি বিল'। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজের নেতৃত্বে এই বিলটি ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।     গত বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টে বিলটির ওপর প্রথম ভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সব রাজনৈতিক দলের নজিরবিহীন সমর্থনে এটি পাস হয়। বিলটি পাসের পর প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "দেশের শান্তি স্থাপনে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অ্যাসেম্বলিতে সব দলের ঐক্যমত্য প্রমাণ করে যে আমরা সবাই একটি শান্তিপূর্ণ ভেনেজুয়েলা চাই।"   এই বিলটি কার্যকর হলে নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে কারাবন্দি হওয়া অসংখ্য বিরোধী দলীয় নেতা, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী মুক্তি পেতে পারেন। এর আগে গত মাসে বিলটি পেশ করার সময় ডেলসি রডরিগেজ জানিয়েছিলেন, এই পদক্ষেপ দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।   উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ডেলসি রডরিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অ্যামনেস্টি বিল পাসের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা তার অন্ধকার সময় কাটিয়ে নতুন এক ভোরের দিকে যাত্রা শুরু করল।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের বরফ গলছে
যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের বরফ গলছে

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল হোয়াইট হাউস। দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারকে তেল বিক্রির বকেয়া ৫০ কোটি ডলার ফিরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   মূলত ভেনেজুয়েলার ধসে পড়া অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জনসেবামূলক খাতের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।   কাতারে গচ্ছিত এই অর্থ এখন থেকে ভেনেজুয়েলার শিক্ষক, পুলিশ এবং জরুরি সেবা কর্মীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। গত মাসে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে হওয়া গোপন চুক্তির অংশ হিসেবেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
ভেনেজুয়েলার অধিকারকর্মী জাভিয়ের তারাজোনা। ছবি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইট থেকে
ভেনেজুয়েলার খ্যাতিমান মানবাধিকারকর্মী জাভিয়ের তারাজোনা কারামুক্ত

ভেনেজুয়েলার খ্যাতিমান মানবাধিকারকর্মী জাভিয়ের তারাজোনা দেশের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক চাপ এবং রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির সাম্প্রতিক ঘোষণার পর তারাজোনা ৪ বছর ৭ মাস, অর্থাৎ ১,৬৭৫ দিন কারাবন্দী থাকার পর অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। তারাজোনার ভাই জোসে রাফায়েল তারাজোনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “১,৬৭৫ দিনের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেই দিনটি এসেছে। আমার ভাই জাভিয়ের তারাজোনা মুক্ত হয়েছেন। একজন মানুষের মুক্তি অন্য সবার মনে আশার সঞ্চার করে।” জাভিয়ের তারাজোনা ভেনেজুয়েলার একটি প্রধান মানবাধিকার সংস্থার প্রধান। ২০২১ সালের জুলাই মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাকাসের একটি কারাগারে বন্দী ছিলেন। তার সংগঠনও রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে তার মুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মানবাধিকার রক্ষায় সরব থাকা, দমন–পীড়নের সমালোচনা এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্য তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।” ফোরো পেনাল নামের ভেনেজুয়েলার আরেকটি অধিকার সংস্থা জানায়, ৮ জানুয়ারির পর থেকে তারা ৩ শতাধিক রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির ঘটনা যাচাই করেছে। গত শুক্রবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ঘোষণা করেন, সরকার একটি সাধারণ ক্ষমা আইন চালু করবে, যা শত শত রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তিতে সহায়ক হবে। উল্লেখযোগ্য, কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংস্কার করার আহ্বানের কয়েক সপ্তাহ পর এই ঘোষণা আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
জর্জে রদ্রিগেজ (সামনে, বাঁ থেকে) ডেলসি রদ্রিগেজ ও দিয়োসদাদো কাবেয়ো। ছবি: এএফপি
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন রদ্রিগেজ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের আগে তাঁর প্রশাসনের ব্যক্তিরাই যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত চারটি সূত্রের মাধ্যমে দ্য গার্ডিয়ান এমন তথ্য জানতে পেরেছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। সম্প্রতি তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।   অপর ব্যক্তি ডেলসির ভাই জর্জে রদ্রিগেজ। তিনি ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান। গোপনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ডেলসি ও জর্জে যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতারের কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন মাদুরোর বিদায়কে তারা স্বাগত জানাবেন।   গার্ডিয়ান জানতে পেরেছে, মাদুরোকে গ্রেপ্তারের কয়েক মাস আগে ডেলসি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছিল। গত নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাদুরোর মধ্যে ফোনালাপ হয়। তখন ট্রাম্প মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা ছাড়ার আহ্বান জানান। কিন্তু মাদুরো সেটি প্রত্যাখ্যান করেন। গুরুত্বপূর্ণ ওই ফোনালাপের পরও ডেলসির সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ছিল।    গত ডিসেম্বরে ডেলসির সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ডেলসি তখন নিজের প্রস্তুত থাকার ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সংকেত দিয়েছিলেন। ওই বার্তার বিষয়ে জানেন এমন আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘ডেলসি বলেছিলেন, পরবর্তীতে যাই ঘটুক না কেন তিনি এ কাজ করতে প্রস্তুত’।    শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কারাকাসের শাসকগোষ্ঠীর ভেতরের লোকজনের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি ডেলসির সহযোগিতার প্রতিশ্রুতির প্রতি ভরসা রাখেন।    গার্ডিয়ান লিখেছে, ডেলসি ও জর্জে রদ্রিগেসের দেওয়া সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগে কেউ প্রতিবেদন করেনি। তবে মায়ামি হেরাল্ড নামের একটি গণমাধ্যম লিখেছিল, গত অক্টোবরে কাতারের মধ্যস্থতায় একটি আলোচনা ব্যর্থ হয়। ওই আলোচনার সময় ডেলসি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চান। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন মাদুরো প্রশাসনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো।    চারটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, ডেলসি ও তাঁর ভাই কেবল মাদুরো পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত করার সময় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতার ব্যাপারে তারা সম্মত ছিলেন না। সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে, মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি রদ্রিগেজ পরিবারের কোনো পরিকল্পিত অভ্যুত্থান ছিল না।   চলতি মাসের শুরুতে কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর নিউইয়র্ক পোস্টকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ডেলসি রদ্রিগেস এতে সম্মত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আমরা বহুবার কথা বলেছি।’   সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ও আলোচনার বিষয়ে জানতে ইমেইলের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা ও মার্কিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দ্য গার্ডিয়ান। কিন্তু কোনো পক্ষই জবাব দেয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0