বিশ্ব

হরমুজ প্রণালীতে পাকিস্তানের ২০ জাহাজ চলাচলে সম্মতি দিল ইরান

Unknown প্রকাশ: মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৬:২৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানের পতাকাবাহী ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

ইসহাক দার জানান, দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিদিন দুটি করে জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গঠনমূলক ও ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

 

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নেরই ইঙ্গিত নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
আমাজনের গভীর জঙ্গলে ৪০ দিন বেঁচে ছিল চার শিশু
বিমান দুর্ঘটনায় মা নিহত, আমাজনের গভীর জঙ্গলে ৪০ দিন বেঁচে ছিল চার শিশু

বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মা ও অন্য দুই প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু। চারদিকে ঘন আমাজন জঙ্গল, বিষধর সাপ ও বন্য প্রাণীর ঝুঁকি। সঙ্গে ১১ মাস বয়সী এক শিশু। এমন পরিস্থিতিতেও ১৩  বছরের বড় বোনের নেতৃত্বে চার ভাইবোন টানা ৪০ দিন নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছিল। ২০২৩ সালে কলম্বিয়ার আমাজনে ঘটে যাওয়া এই অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল।   ঘটনাটি ২০২৩ সালের ১ মে। একটি সেসনা ২০৬ উড়োজাহাজ কলম্বিয়ার কাকেতা অঞ্চলের আরারাকুয়ারা থেকে সান হোসে দেল গুয়াভিয়ারে যাচ্ছিল। উড়োজাহাজটিতে চার শিশুসহ সাতজন ছিলেন। যাত্রাপথে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পাইলট জরুরি সংকেত পাঠান। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি আমাজনের দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়।   উড়োজাহাজে থাকা চার ভাইবোন লেসলি, সোলেইনি, তিয়েন নোরিয়েল ও ক্রিস্টিন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। সে সময় তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ১৩, ৯, ৪ বছর এবং প্রায় ১১ মাস। পরে জঙ্গলের মধ্যে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ থেকে তিন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিশুদের মা মাগদালেনা মুকুতুই।   দুর্ঘটনার পর চার শিশুর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে ধ্বংসাবশেষের আশপাশে পাওয়া বিভিন্ন চিহ্ন দেখে উদ্ধারকারীরা ধারণা করেন, শিশুরা বেঁচে আছে এবং জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে। এরপর তাদের উদ্ধারে বড় পরিসরে শুরু হয় ‘অপারেশন এসপেরানজা’ বা ‘অপারেশন হোপ’।   চার ভাইবোনকে বাঁচিয়ে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বড় বোন লেসলির জঙ্গল সম্পর্কে জ্ঞান। শিশুরা আদিবাসী উইতোতো জনগোষ্ঠীর সদস্য। ছোটবেলা থেকেই বনজ ফল চেনা, জঙ্গলে চলাচল এবং বিপদ এড়িয়ে টিকে থাকার বিষয়ে তাদের পারিবারিক ও ঐতিহ্যগত শিক্ষা ছিল।   দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ থেকে পাওয়া কাসাভার আটা কিছুদিন তাদের খাবারের প্রধান উৎস ছিল। সেটি শেষ হয়ে গেলে জঙ্গল থেকে পরিচিত ফল ও বীজ সংগ্রহ করে খেতে শুরু করে তারা। লেসলি ছোট ভাইবোনদের জন্য ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ও তৈরি করেছিল। সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব ছিল তখনো এক বছর পূর্ণ না হওয়া ছোট বোন ক্রিস্টিনকে নিরাপদ রাখা।   শিশুদের খুঁজে বের করতে কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর শতাধিক সদস্যের পাশাপাশি বহু আদিবাসী অনুসন্ধানকারী জঙ্গলে নামেন। দুর্গম ভূখণ্ড সম্পর্কে আদিবাসীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তি ও উদ্ধার সক্ষমতার সমন্বয় করা হয়।   হেলিকপ্টার থেকে জঙ্গলে খাবারের প্যাকেট ফেলা হয়। শিশুদের দাদির কণ্ঠে রেকর্ড করা বার্তাও লাউডস্পিকারে বাজানো হয়েছিল। সেখানে শিশুদের এক জায়গায় থাকার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে উদ্ধারকারীরা সহজে তাদের খুঁজে পেতে পারেন।   দিন যত গড়াচ্ছিল, জঙ্গলে একের পর এক আলামত পাওয়া যাচ্ছিল। শিশুর ব্যবহৃত বোতল, অস্থায়ী আশ্রয়, খাওয়া ফলের অংশ এবং ছোট ছোট পায়ের ছাপ উদ্ধারকারীদের আশা জাগিয়ে রাখে। এসব চিহ্নই নিশ্চিত করছিল, শিশুরা দুর্ঘটনার পরও বেঁচে ছিল এবং জঙ্গলের মধ্যে চলাচল করছিল।   অবশেষে ২০২৩ সালের ৯ জুন, দুর্ঘটনার ঠিক ৪০ দিন পর চার শিশুকে জীবিত খুঁজে পান সেনাসদস্য ও আদিবাসী অনুসন্ধানকারীদের যৌথ দল। উদ্ধারের সময় তারা অপুষ্ট ও অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তবে চারজনই জীবিত ছিল। পরে তাদের হেলিকপ্টারে করে বোগোটার একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।   কলম্বিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো চার শিশুর জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে পুরো দেশের জন্য আনন্দের খবর হিসেবে বর্ণনা করেন। চার ভাইবোনের বেঁচে থাকার পেছনে তাদের আদিবাসী জ্ঞান ও জঙ্গলের সঙ্গে পরিচিতির গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।   এই অভিযানের আরেক আলোচিত সদস্য ছিল উইলসন নামের একটি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে উইলসন জঙ্গলে হারিয়ে যায়। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের আঁকা ছবিতে একটি কুকুরের উপস্থিতি দেখা যায় এবং তারা জানিয়েছিল, জঙ্গলে একটি কুকুর কিছু সময় তাদের সঙ্গে ছিল। সেটি উইলসন ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। ব্যাপক অনুসন্ধানের পরও উইলসনকে আর পাওয়া যায়নি।   আমাজনের দুর্গম পরিবেশে চার শিশুর ৪০ দিন বেঁচে থাকার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত শুধু একটি উদ্ধার অভিযানের গল্প হয়ে থাকেনি। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও আদিবাসীদের শতাব্দীপ্রাচীন বনজ জ্ঞানের সমন্বয় কীভাবে জীবন বাঁচাতে পারে, কলম্বিয়ার ‘অপারেশন হোপ’ তার একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১১:৪১
ওয়্যার ফ্রড, মানি লন্ডারিংয়ের ও কোভিড তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে লরেন্সের মেয়র গ্রেপ্তার

ওয়্যার ফ্রড, মানি লন্ডারিংয়ের ও কোভিড তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে লরেন্সের মেয়র গ্রেপ্তার

বাবার আত্মত্যাগে দুই সন্তান বাঁচল, নিজে আর ফিরলেন না

বাবার আত্মত্যাগে দুই সন্তান বাঁচল, নিজে আর ফিরলেন না

মুসলিমদের ‘শিকারের পারমিট’ চেয়ে মিশিগানের জনপ্রতিনিধির পোস্ট, তীব্র বিতর্ক

মুসলিমদের ‘শিকারের পারমিট’ চেয়ে মিশিগানের জনপ্রতিনিধির পোস্ট, তীব্র বিতর্ক

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন নিয়মে ডেলিভারি কর্মীদের জন্য বাড়ছে ন্যূনতম মজুরি ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ডেলিভারি কর্মীদের জন্য সুখবর: ঘণ্টায় সর্বনিম্ন মজুরি ৩১ ডলারের বেশি, মিলবে বিমা সুবিধা

অস্ট্রেলিয়ায় খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ডেলিভারির কাজে যুক্ত গিগ কর্মীদের জন্য এক যুগান্তকারী নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় এসব কর্মীর জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরির চেয়েও বেশি বেতন এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য বিমা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই নিয়মের ফলে দেশটির অন্তত আড়াই লাখ ডেলিভারি কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার শ্রম ও শিল্প খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন' (এফডব্লিউসি) গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এই যুগান্তকারী আদেশের অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে।   নতুন আদেশ অনুযায়ী, গিগ কর্মীদের প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম ৩১ দশমিক ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার (যা প্রায় ২২ দশমিক ১১ মার্কিন ডলার) মজুরি দিতে হবে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি হলো ঘণ্টায় ২৬ দশমিক ৪৪ ডলার। অর্থাৎ, এখন থেকে ডেলিভারি কর্মীরা সাধারণ ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।   কাজের সময়ের হিসাব কীভাবে হবে, সেটিও আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, একজন কর্মী যখন কোনো কাজের অর্ডার বা ‘জব’ গ্রহণ করবেন এবং সেটি গ্রাহকের কাছে সফলভাবে ডেলিভারি করে শেষ করবেন কেবলমাত্র এই মধ্যবর্তী ‘ব্যস্ত সময়টুকু’ (এনগেজড টাইম) মজুরির হিসাবের আওতায় আসবে।   মজুরির পাশাপাশি কর্মীদের সুরক্ষায় বিমার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন নিয়মে ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের ব্যক্তিগত দুর্ঘটনার জন্য একটি ‘যৌক্তিক ও ন্যূনতম মাত্রার’ বিমা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিমার আওতা ঠিক কতটুকু হবে, তা আদেশে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। অন্যদিকে, ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত নিজস্ব যানবাহনের ‘থার্ড-পার্টি’ বা তৃতীয় পক্ষের বিমা করার দায়িত্ব আগের মতোই কর্মীদের নিজেদের কাঁধেই থাকছে।   গিগ অর্থনীতিতে কর্মীদের সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ সামনে এল। এর আগে গত জুনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) গিগ কর্মীদের বেতন, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো একটি বাধ্যতামূলক কর্মসংস্থান মানদণ্ড গ্রহণ করেছিল। আইএলও-এর সেই মানদণ্ডগুলো অবশ্য এখনো বিভিন্ন দেশের সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিডব্লিউইউ) ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের এই আদেশকে দেশের গিগ অর্থনীতির জন্য একটি "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।   উবার ইটস এবং ডোরড্যাশ-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে টিডব্লিউইউ-এর জাতীয় সম্পাদক মাইকেল কেইন বলেন, "অস্ট্রেলিয়ায় গিগ কর্মীদের অনেক দিন ধরেই আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মপরিবেশের সুযোগ-সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছিল। আগামী সোমবার থেকে তারা সম্পূর্ণ বিশ্বমানের একগুচ্ছ অধিকার ও সুবিধা পেতে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করা হবে।"   শুধু রেস্তোরাঁর খাবারই নয়, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহেও যুক্ত হয়েছে উবার ইটস ও ডোরড্যাশ। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই নিয়ম প্রমাণ করে যে কর্মীদের জোরালো সুরক্ষা এবং গিগ কাজের নমনীয়তা দুটি বিষয়ই একসঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব।   দীর্ঘদিন ধরেই ট্রেড ইউনিয়ন ও গিগ কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। সাধারণ কর্মীদের মতো সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গিগ কর্মীকে সাধারণত 'স্বাধীন চুক্তিনামা'র ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে। ফলে তারা প্রচলিত শ্রম আইনের অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।   এই বৈষম্য দূর করতে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সেন্টার-লেফট বা মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকার ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বেশ কিছু আইন পাস করে। ওই আইনগুলোর মাধ্যমেই মূলত ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনকে গিগ কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি ও বিমার মানদণ্ড নির্ধারণের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন দেখা গেল এই নতুন আদেশের মাধ্যমে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২৩:৩৫
দীর্ঘদিন ভুল রোগ নির্ণয়ের পর বিরল জন্মগত হৃদরোগ ধরা পড়ে অ্যাবিগেইল লুইসের। ছবি: সংগৃহীত

চার বছর ধরে বলা হয়েছিল ‘প্যানিক অ্যাটাক’, পরে ধরা পড়ল বিরল জন্মগত হৃদরোগ

বিস্ফোরিত রুশ জাহাজের ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পরেছে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায়

বিস্ফোরিত রুশ জাহাজের ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পরেছে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায়

ফিলিপাইনে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন এফবিআইয়ের তালিকাভুক্ত মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী

ফিলিপাইনে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন এফবিআইয়ের তালিকাভুক্ত মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী

স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ ডেকে ‘গ্রেফতার’ করালেন মা
স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ ডেকে ‘গ্রেফতার’ করালেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছেলেকে অভিনব কায়দায় শিক্ষা দিলেন এক মা। স্থানীয় এক পুলিশ অফিসারের সহায়তায় ছেলেকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ‘গ্রেফতারের’ অভিনয় করানো হয়। তবে এটি কোনো সত্যিকারের গ্রেফতার ছিল না, পুরো ঘটনাটিই ছিল মা, ছেলে ও পুলিশ অফিসারের মজার আয়োজন।   ঘটনাটি ঘটেছে কলোরাডোর কীনসবার্গে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কোল্টন সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে প্রথম দিনের প্রচলিত ‘ব্যাক টু স্কুল’ ছবি তুলতে রাজি হচ্ছিল না। মা আমান্ডা স্টলজ তখন স্থানীয় পুলিশ অফিসার জ্যাকের সহায়তা নেন।   অফিসার জ্যাকও বিষয়টিকে মজার ছলে নেন। তিনি কোল্টনের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বোঝানোর অভিনয় করেন যে, স্কুলের প্রথম দিনে মায়ের সঙ্গে ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানানো নাকি ‘আইনবিরোধী’। পরে ছেলেটিকে পুলিশ গাড়ির পেছনের সিটে বসিয়েও ছবি তোলা হয়।   সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পুরো ঘটনাটি উপভোগ করছে কোল্টন। হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায়ও তাকে হাসতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে পুলিশ গাড়ির পেছনে বসে হাসছে সে, সামনে দাঁড়িয়ে আছেন অফিসার জ্যাক।   অবশ্য কোল্টনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে প্রকৃত অর্থে আটকও করা হয়নি। ঘটনাটি ছিল স্কুলের প্রথম দিনের স্মৃতি ধরে রাখতে মা ও স্থানীয় পুলিশ অফিসারের পরিকল্পিত কৌতুক।   অমান্ডা পরে মজা করে লেখেন, তার ছেলে স্কুলে যাওয়ার আগে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পড়েছিল। অফিসার জ্যাক তাকে বুঝিয়েছেন, স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে মাকে অস্বীকার করা নাকি সত্যিই ‘আইনের বিরুদ্ধে’।   ঘটনার পর অমান্ডা স্থানীয় পুলিশ অফিসারদের প্রশংসাও করেন। তার মতে, শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করা তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে এবং কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের সম্পর্ক তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।   অমান্ডা বলেন, শেষ পর্যন্ত তারা কোল্টনের স্কুলে ফেরার দিনের ছবিও পেয়ে গেছেন। ফলে যে ছবি তুলতে রাজি না হওয়া থেকে পুরো ঘটনার শুরু, পুলিশের মজার ‘গ্রেফতারের’ সুবাদে সেই ছবিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে পরিবারের জন্য ব্যতিক্রমী এক স্মৃতি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৩:৪০
সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, সেই বেজি নিধনেই লেগেছে ৪৫ বছর

ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার

ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার

আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা কি ফিরে পাবেন  নাগরিকত্ব!

আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা কি ফিরে পাবেন নাগরিকত্ব!

0 Comments