বাণিজ্য

ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশসহ ১৫ দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন তদন্ত শুরু করেছে। সেকশন ৩০১-এর আওতায় শুরু হওয়া এই তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত ও চীনসহ ১৫টি দেশের নাম রয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই ঘোষণা দেন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করার পর হোয়াইট হাউজ এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল। আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তবে দমে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার 'অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা'র অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পথে হাঁটছে। বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, এই তদন্তের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের মধ্যেই চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর নতুন করে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসে আরোপিত অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ওয়াশিংটন। তদন্তের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যদি তদন্তে কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যের প্রমাণ মেলে, তবে সেই দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপাবে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বাংলাদেশের মতো তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য মার্কিন বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও এই তদন্ত তালিকা থেকে কানাডাকে বাদ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে মূলত ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারে তাদের শুল্ক নীতিকে আরও জোরালোভাবে কার্যকর করার সুযোগ খুঁজছে। আগামী সপ্তাহে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের আগে এই ঘোষণা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালিতে একইদিনে তিন কার্গো জাহাজে হামলা

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন।   অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির ধাক্কা: অনিশ্চয়তায় ছোট ব্যবসা, বাড়ছে কর্মী ছাঁটাই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা বলছেন, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিদ্যমান কর্মীদের মধ্যেও ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।   বিশেষ করে উৎপাদন, নির্মাণ ও খুচরা খাতের অনেক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, বাণিজ্য নীতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং এর প্রভাব শ্রমবাজারেও পড়তে পারে। ফলে আগামী মাসগুলোতে নিয়োগ ও বিনিয়োগের গতি আরও ধীর হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলায় স্পেন তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে।   হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস–কে আতিথ্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। আমরা স্পেনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।   এর আগে সোমবার স্পেন সরকার জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করেনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহার করবে না। মাদ্রিদ স্পষ্ট করে দেয়, তাদের সার্বভৌম সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা আটলান্টিকপারের অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও গবেষকেরা। আজ বুধবার ঢাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। ছবি : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি কৌশলগতভাবে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তিটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও গবেষকেরা। এই চুক্তির বেশ কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বিস্তারিত পর্যালোচনার (রিভিউ) পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাব উঠে আসে।   বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, চুক্তির শর্তাবলি অস্পষ্ট হওয়ায় বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করলে তৈরি পোশাকে শূন্য শুল্ক সুবিধার বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, তড়িঘড়ি না করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ও ধীরগতিতে এই চুক্তির ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন।   বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি করেছে, আমরা তার ভালো-মন্দ সব দিক খতিয়ে দেখছি। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নানা উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। আমরা সব কিছু পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।’ চুক্তির সময় কেন গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছিল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক কিছু সংবেদনশীল বিষয় এবং ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ (এনডিএ) থাকায় তখন সব কিছু প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।   সভায় সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘চুক্তিটিতে বাংলাদেশের স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষিত হয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যে পাল্টা শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন, সেই রায়কেও আমাদের পক্ষে কাজে লাগানোর কৌশল নিতে হবে।’ অন্যদিকে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মার্কিন তুলা ব্যবহারের বিপরীতে শূন্য শুল্ক পাওয়ার শর্তাবলি দ্রুত পরিষ্কার করার দাবি জানান।   বৈঠকে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিটিএমএসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দ্রব্যমূল্য ও বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আসন্ন রমজানে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং চাঁদাবাজি বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
চীন-মার্কিন বাণিজ্য
বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতির সমীকরণ

বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কে এক নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে। শুল্ক বাধা, প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আর ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুই দেশ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না; বরং তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক প্রবেশ করছে এক নতুন ‘কাঠামোগত সমন্বয়ে’। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কিছুটা হ্রাস পেলেও সহযোগিতার নতুন নতুন দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।   চীনের কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৮.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪.০১ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা একে বাণিজ্যের ধস হিসেবে না দেখে 'কাঠামোগত সমন্বয়' হিসেবে দেখছেন। সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়ান সুয়েথোং মনে করেন, চীন-মার্কিন বাণিজ্য এখন কেবল পণ্য রপ্তানি উদ্বৃত্তের মডেল থেকে বেরিয়ে এসে বহুমুখী পণ্যের বাণিজ্যের দিকে যাচ্ছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষিপণ্যের পাশাপাশি বর্তমানে জ্বালানি খাত দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ডিউক কুনশান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন কুয়েলচ জানান, চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।   বাণিজ্যে ভাটা পড়লেও দুই দেশ এখনও একে অপরের প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদার। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের পণ্যের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। অন্যদিকে, চীন হলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তৃতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ও রপ্তানি গন্তব্য।   চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করতে এবং স্থিতিশীল বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।   পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। যেমন—মার্কিন কেমিক্যাল কোম্পানি 'মিলিকেন অ্যান্ড কোং' চীনে তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। কোম্পানির ভাইস-প্রেসিডেন্ট সাইমন ওরামের মতে, চীন কেবল একটি বড় বাজারই নয়, বরং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির অন্যতম বড় কেন্দ্র।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
india arab deal
৬ আরব দেশের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক চুক্তি:

বিশ্বজুড়ে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ ও শুল্ক বাধার অস্থিরতার মাঝে ভারতের সামনে এক বিশাল কৌশলগত দ্বার উন্মোচন করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন—এই ছয়টি দেশের জোট ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ বা জিসিসি এখন ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক শক্তি।   সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে। এর ফলে এই জোটটি বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একক বাজারগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। মূলত রত্ন পাথর, ইলেকট্রনিক্স এবং রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানিই এই বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।   এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভারত এখন জিসিসির সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জিসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার রূপরেখা বা ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে পণ্য ও পরিষেবার অবাধ আদান-প্রদান নিশ্চিত হবে, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সহায়ক হবে।   উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রায় এক কোটি ভারতীয় এই অঞ্চলে কর্মরত রয়েছেন, যা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং মানবিক ও কৌশলগতভাবেও শক্তিশালী করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, পশ্চিমা বাজারের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার এই উদীয়মান বাজারে মনোযোগ দেওয়া ভারতের জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল এবং আইসিটি (ICT) খাতের জন্য এক বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে। সূত্র: এনডিটিভি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
us bangladesh trade deal
সোমবার ওয়াশিংটনে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সই

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক মোকাবিলা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুসংহত করার লক্ষ্যে সোমবার ওয়াশিংটনে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। যদিও এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এক দিন আগে অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি। জাপানে পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কারণে এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তবে বাণিজ্য উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই ঢাকায় চুক্তিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছেন এবং সেই কপিটিই প্রতিনিধি দল নিয়ে যাচ্ছেন ওয়াশিংটনে।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শুক্রবার ঢাকা ত্যাগ করবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করবেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার। একই সময়ে জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি সইয়ের কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ দুপুরে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও সচিব।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদি
দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন মোদি, রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় ভারত

দিল্লি এখন উত্তপ্ত! লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কার্যত ‘দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন’। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি রাতারাতি সই করার নেপথ্যে কি কোনো বিশেষ চাপ কাজ করছে?   রাহুল গান্ধীর দাবি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন মামলা এবং রহস্যময় 'এপস্টিন ফাইলস'-এর ভয়েই নাকি প্রধানমন্ত্রী এই আপস করেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সত্যটা ঠিক কোথায়?   কেন এই বিতর্ক? একনজরে দেখে নিন মূল পয়েন্টগুলো: তড়িঘড়ি চুক্তি: রাহুল গান্ধীর মতে, নিজের ভাবমূর্তি বাঁচাতে চাপের মুখে তাড়াহুড়ো করে এই বাণিজ্য চুক্তি সই করেছেন মোদি। সংসদে হট্টগোল: চীন ইস্যু এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন বিরোধী দলনেতা। এপস্টিন ফাইলস ও আদানি কানেকশন: রাহুল দাবি করেছেন, আমেরিকার হাতে এমন কিছু তথ্য আছে যা মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তিকর, আর সেই কারণেই এই ‘আপস’। প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা যুক্তি: এনডিএ বৈঠকে মোদি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ধৈর্য এবং সঠিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলেই এই অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।   দেশের অর্থনীতি কি সত্যিই সুরক্ষিত, নাকি ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে? আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0