সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
অর্থনীতি

কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২১:৩৩
আমেরিকার জনপ্রিয় পাইকারি খুচরা বিক্রেতা কোস্টকো হোলসেল কর্পোরেশন
আমেরিকার জনপ্রিয় পাইকারি খুচরা বিক্রেতা কোস্টকো হোলসেল কর্পোরেশন

আমেরিকার জনপ্রিয় পাইকারি খুচরা বিক্রেতা কোস্টকো হোলসেল কর্পোরেশন ১৪ মিলিয়ন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে একটি মামলার নিষ্পত্তিতে। অভিযোগ ছিল, প্রমোশনাল ইমেইলের সাবজেক্ট লাইনে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গ্রাহকদের জরুরি কেনাকাটার চাপ তৈরি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি যদিও কোনো দোষ স্বীকার করেনি, তবে এড়িয়ে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

'মাইকেল আলান্ড বনাম কোসকো হোলসেল কর্পোরেশন' শীর্ষক এই মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়েছে ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে। মামলার অভিযোগ, ২০২১ সালের ২ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কোস্টকো যে সমস্ত প্রমোশনাল ইমেইল পাঠিয়েছে, তার সাবজেক্ট লাইনে লেখা ছিল "আজ সদস্য-এক্সক্লুসিভ সঞ্চয়ের শেষ দিন" অথবা "হট বাই শুধুমাত্র ৫ দিনের জন্য উপলব্ধ" — যা আসলে শেষ সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ জানায়, বিক্রয় শেষ হওয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও প্রমোশনগুলো বাড়ানো হত।

 

 

ওয়াশিংটনের কমার্শিয়াল ইলেকট্রনিক মেইল অ্যাক্ট ও কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয় এই মামলায়। ওই আইন অনুযায়ী, বিভ্রান্তিকর বাণিজ্যিক ইমেইল পাওয়া প্রতি ইমেইলের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এই নিষ্পত্তি থেকে প্রতিজন কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করবে কতজন বৈধ দাবি জানান তার ওপর। যেহেতু মোট তহবিল নির্দিষ্ট, তাই বেশি লোক দাবি জানালে প্রত্যেকের ভাগ কমবে।

ওয়াশিংটন রাজ্যের বাসিন্দা যাঁরা নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করেন, তাঁরাই এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়তে পারেন:

২০২১ সালের ২ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কোস্টকো বা তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাণিজ্যিক ইমেইল পেয়েছেন,ইমেইল পাওয়ার সময় ওয়াশিংটন রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন,ইমেইল ঠিকানাটি কোস্টকোর রেকর্ডে সংরক্ষিত ছিল।

 


যোগ্য ব্যক্তিদের ২০২৬ সালের ২৪ আগস্টের মধ্যে একটি দাবিপত্র (ক্লেইম ফর্ম) জমা দিতে হবে। এজন্য কোনো কেনাকাটার রসিদ বা অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন নেই। দাবি জানানোর সবচেয়ে দ্রুত উপায় হলো অনলাইনে ওয়াশিংটনকমার্শিয়ালইমেইলসেটেলমেন্ট ডটকম-এ গিয়ে ফর্ম পূরণ করা। যাঁরা ইতিমধ্যে ইমেইলে নোটিফিকেশন পেয়েছেন, তাঁরা সেখানে উল্লেখিত ক্লেইম আইডি ব্যবহার করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না জানালে কোনো অর্থই পাওয়া যাবে না।

এই নিষ্পত্তি এখনও চূড়ান্ত নয়। আদালতের অনুমোদন পেতে হবে, যার শুনানি ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হবে। তবেই অর্থ বিতরণ করা সম্ভব। যাঁরা এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়েন কিন্তু দাবি জানান না, তাঁরা ভবিষ্যতে কোস্টকোর বিরুদ্ধে এই একই বিষয়ে আলাদা মামলা করতে পারবেন না। অন্যদিকে, যাঁরা আলাদাভাবে মামলা করার অধিকার সংরক্ষণ করতে চান, তাঁদের ২৪ আগস্টের মধ্যে এই নিষ্পত্তি থেকে বেরিয়ে যেতে হবে (অপ্ট-আউট)।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, এই মামলার সম্ভাব্য ক্লাস সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ ৪০ হাজার। তবে সবাই দাবি জানাবেন না, তাই প্রকৃত অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ এখনও অনিশ্চিত। এই নিবন্ধের তথ্য ফক্স বিজনেস ও আদালতের নথির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

অর্থনীতি

View more
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের চেকিং অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৫ হাজার ৪৭২ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স গড়ে ১৫ হাজার ডলার, অধিকাংশের সঞ্চয় অনেক কম

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের চেকিং অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৫ হাজার ৪৭২ ডলার থাকলেও প্রকৃত চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। দেশটির অর্ধেক পরিবারের অ্যাকাউন্টে রয়েছে তিন হাজার ডলারের কম বা সমপরিমাণ অর্থ। আর্থিকবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য মোটলি ফুলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দশকে চেকিং অ্যাকাউন্টে গড় অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমেছে। বিশেষ করে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা ও পরিবারের প্রধানের লিঙ্গভেদে ব্যাংক ব্যালেন্সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।   দ্য মোটলি ফুলের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের চেকিং অ্যাকাউন্টে গড় ব্যালেন্স ১৫ হাজার ৪৭২ ডলার। তবে ২০২২ সালে এই পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৪৮৫ ডলার। অর্থাৎ ওই সময়ের তুলনায় গড় ব্যালেন্স কমেছে তিন হাজার ১৩ ডলার, যা প্রায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থের পরিমাণ বাড়লেও সাম্প্রতিক এই পতন পরিবারের আর্থিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গড় ব্যালেন্স এবং মধ্যম ব্যালেন্সের পার্থক্য। গড় হিসাব করার সময় সব পরিবারের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ যোগ করে মোট পরিবারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয়। ফলে অল্পসংখ্যক ধনী পরিবারের অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ থাকলে সামগ্রিক গড় অনেক বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে মধ্যম ব্যালেন্স এমন একটি পরিমাণ, যার নিচে অর্ধেক পরিবারের অর্থ রয়েছে এবং বাকি অর্ধেকের রয়েছে তার বেশি।   এই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের চেকিং অ্যাকাউন্টের মধ্যম ব্যালেন্স মাত্র তিন হাজার ডলার। অর্থাৎ গড় ব্যালেন্স ১৫ হাজার ডলারের বেশি হলেও সেটিকে সাধারণ পরিবারের ব্যাংকে থাকা অর্থের প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। গড় ও মধ্যম ব্যালেন্সের এই বড় ব্যবধান থেকেই বোঝা যায়, সব পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ অর্থ নেই।   পরিবারের প্রধানের লিঙ্গভেদেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে। দ্য মোটলি ফুলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরুষপ্রধান পরিবারের চেকিং অ্যাকাউন্টে মধ্যম ব্যালেন্স চার হাজার ৪২০ ডলার। অন্যদিকে নারীপ্রধান পরিবারের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ মাত্র এক হাজার ডলার। অর্থাৎ দুই ধরনের পরিবারের মধ্যে মধ্যম ব্যালেন্সের পার্থক্য তিন হাজার ৪২০ ডলার। তবে শুধু এই তথ্য থেকে পার্থক্যের নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায় না। বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতেও ব্যাংক ব্যালেন্সে বড় ব্যবধান রয়েছে। বিবাহিত অথবা সঙ্গীর সঙ্গে বসবাসকারী পরিবারের চেকিং অ্যাকাউন্টে মধ্যম ব্যালেন্স পাঁচ হাজার ৫০০ ডলার। বিপরীতে যাঁরা বিবাহিত নন বা সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস করেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ এক হাজার ২০০ ডলার। অর্থাৎ দুই শ্রেণির মধ্যে পার্থক্য চার হাজার ৩০০ ডলার। তবে এই হিসাব থেকে শুধু বৈবাহিক অবস্থাই বেশি ব্যাংক ব্যালেন্সের কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।   বয়সের ভিত্তিতে বিশ্লেষণেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের চেকিং অ্যাকাউন্টে মধ্যম ব্যালেন্স পাঁচ হাজার ডলার, যা প্রতিবেদনে উল্লেখিত বয়সভিত্তিক শ্রেণিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এতে দেখা যাচ্ছে, বয়সের সঙ্গে ব্যাংকে থাকা অর্থের পরিমাণেও পার্থক্য রয়েছে। তবে বয়সভিত্তিক এই তথ্য কেবল চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সকে নির্দেশ করে, ব্যক্তির মোট সম্পদ বা অবসরকালীন সঞ্চয়কে নয়। যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্ট সাধারণত দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয়। চাকরির পেচেক জমা হওয়া, রেন্ট পরিশোধ, ইউটিলিটি বিল, বাজার খরচ এবং অন্যান্য নিয়মিত ব্যয়ের অর্থ এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে চেকিং অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের পরিমাণ দিয়ে কোনো পরিবারের সম্পূর্ণ আর্থিক সক্ষমতা বা মোট সঞ্চয় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। অনেক পরিবারের অর্থ সেভিংস অ্যাকাউন্ট, অবসরকালীন তহবিল কিংবা অন্য বিনিয়োগেও থাকতে পারে।   প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর ব্যাংক ব্যালেন্সে বড় ধরনের পার্থক্যের চিত্র পাওয়া যায়। বিশেষ করে গড় ব্যালেন্সের তুলনায় মধ্যম ব্যালেন্স অনেক কম হওয়ায় সাধারণ পরিবারের আর্থিক অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে শুধু গড় হিসাবের ওপর নির্ভর করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। একই সঙ্গে নারীপ্রধান পরিবার, এককভাবে বসবাসকারী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষের ব্যাংক ব্যালেন্সের পার্থক্যও এই পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্য পরিবারের চেকিং অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট সময়ে থাকা অর্থের হিসাব। এগুলো দিয়ে পরিবারের মোট আয়, ঋণ, বিনিয়োগ কিংবা সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।      

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১০:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস, খাবারের খরচ বাঁচাতে খাবার বাদ দিচ্ছেন অর্ধেক মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস, খাবারের খরচ বাঁচাতে খাবার বাদ দিচ্ছেন অর্ধেক মানুষ

১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের গড় বয়স ছিল ৩৩ বছর, এখন ৫৬!

১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের গড় বয়স ছিল ৩৩ বছর, এখন ৫৬! নতুন ক্রেতার রেকর্ড পতন

ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান জিও

আম্বানির শেয়ার কিনতে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড

ফ্রান্সের অস্থিরতায় চাপের মুখে ইউরোর দর
ফ্রান্সে দাঙ্গা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য ও বৈশ্বিক উদ্বেগে ইউরোর দর কমল, শক্তিশালী ডলার

জ্বালানির উচ্চমূল্য ও ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা ইউরোপের মুদ্রাবাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর কমেছে। দেশটিতে সপ্তাহান্তে ব্যাপক বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর অস্থিরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উচ্চমূল্য ইউরোপের অর্থনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সোমবার ইউরোর দর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ কমে প্রতি ডলারে ১ দশমিক ১২১৮ ডলারে দাঁড়ায়। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি স্থানীয় এলাকায় আংশিক ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারফিউ জারির অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা ইউরোর ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোর ওপর বর্তমান চাপের মাত্রা অক্টোবরের শুরুর দিকের তুলনায় কম। তাঁদের ধারণা, ফ্রান্সের রাজনৈতিক সংকট যদি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের বাজার ও অর্থনৈতিক আস্থায় প্রভাব ফেলে, তাহলেই ইউরোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে ফ্রান্সের সরকারি বন্ড ও জার্মানির তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি বন্ডের সুদের হারের ব্যবধান দ্রুত বেড়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যে এই ব্যবধান প্রায় ৪০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এতে ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের ঋণঝুঁকি নিয়েও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ে। সোমবার ফ্রান্স ও জার্মানির বন্ডের ব্যবধান আরও দুই বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ১৪৪ বেসিস পয়েন্টে পৌঁছায়। মুদ্রাবাজারে ডলারের অবস্থানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে উত্থান ডলারকে সমর্থন জুগিয়েছে। কিন্তু এখন বিনিয়োগকারীদের একাংশ ভাবছেন, এআই খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও দুর্বল হতে পারে। এআই খাতে ব্যয় কমলে একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার ঝুঁকি তৈরি হবে, অন্যদিকে ঋণের চাহিদাও কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও নিম্নমুখী হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে ডলারের ভবিষ্যৎ শক্তি নিয়ে বাজারে নতুন হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছে। জ্বালানির দাম ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তও মুদ্রাবাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কমার্জব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও পণ্যবাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান থু লান নগুয়েনের মতে, ইউরো-ডলারের বিনিময় হারের ক্ষেত্রে শুধু তেলের দাম নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হলেও ফেডারেল রিজার্ভ যদি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত না দেয়, তাহলে ডলার সেই পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি সুবিধা নিতে পারবে না। মার্চে ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম বৃদ্ধি ডলারকে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ইউরো ও জাপানি ইয়েনের মতো মুদ্রা চাপে পড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমলেও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও নতুন চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৮৯ দশমিক ৭৪ ইউরোতে পৌঁছায়। সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে—এমন সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের প্রায় ৮৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মোট ৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমানোর প্রত্যাশাও রয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষেত্রেও সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কাছাকাছি ধারায় এগিয়েছে। সোমবার মার্কিন ডলার সূচক শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ৮৭-তে দাঁড়ায়। এই সূচক বিশ্বের প্রধান কয়েকটি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সামগ্রিক শক্তি পরিমাপ করে। এদিকে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলার শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ১৫৮ দশমিক ২০ ইয়েনে পৌঁছায়। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা সোমবার জানিয়েছেন, সুদের হার আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে যথাযথ গতিতে সুদের হার বাড়ানো হলে বন্ডের সুদের হারে আকস্মিক উল্লম্ফন এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা দেশটির বিপুল সরকারি ঋণের বোঝা আরও বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগ রয়েছে। আমোভা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বৈশ্বিক কৌশলবিদ নাওমি ফিঙ্কের মতে, বন্ড ও মুদ্রাবাজারের চাপ জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দ্রুত স্বাভাবিক সুদের হারে ফেরার দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনার জন্য স্পষ্ট অর্থায়নের উৎস দেখানোর প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে। চীনা মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কমে অফশোর বাজারে ৬ দশমিক ৬৮১৫ ইউয়ানে নেমেছে। সোমবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি বেড়েছে। এর ফলে ইউয়ান ২০২২ সালের জুনের পর ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলীয় ডলারের দর শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি মার্কিন ডলারে শূন্য দশমিক ৬৯৮৮ ডলারে দাঁড়ায়। সব মিলিয়ে, ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য ইউরোর ওপর চাপ তৈরি করলেও মুদ্রাবাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করছে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, এআই খাতে বিনিয়োগের গতি এবং জ্বালানির দাম—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনগুলোতে ডলার ও ইউরোর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৮:৩৯
পেশাভেদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, কয়েক বছরের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স

আমেরিকায় কোন পেশায় আয় বেশি? জেনে নিন, ঘণ্টাপ্রতি বেতনসহ ১০টি কাজের তালিকা

নতুন মালিক বেন্ডিং স্পুনস

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বে এরিয়ায় চাকরি গেছে ১৪ হাজারের বেশি

ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ

ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ

হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার আছে, কিন্তু কোথায় বিনিয়োগ করবেন বুঝতে পারছেন না? শেয়ারবাজার, সোনা, সরকারি বন্ড নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি—উচ্চ সুদের বর্তমান বাজারে এই প্রশ্ন এখন অনেক বিনিয়োগকারীর। এমন পরিস্থিতিতে আটজন বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, তাঁরা এখন ১০ হাজার ডলার হাতে পেলে কোন কোন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতেন।   বাজারের হিসাব বদলে যাওয়ার অন্যতম কারণ সুদের হার। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদ বাড়ানোর চক্রের মুখোমুখি হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির বাড়তি দাম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগ বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। ট্রেজারি বন্ডের ফলনও বহু বছরের উচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ফলে শুধু বেশি মুনাফার আশা নয়, ঝুঁকি সামলে কোথায় অর্থ রাখা যায়, সেটিও বড় বিবেচ্য হয়ে উঠেছে।  জেপিমরগ্যান প্রাইভেট ব্যাংকের বৈশ্বিক বিনিয়োগ কৌশলবিদ কৃতি গুপ্তা সুযোগ দেখছেন চারটি খাতে—ইউটিলিটি, শিল্প, প্রতিরক্ষা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তাঁর ধারণা, সুদের হার তুলনামূলক বেশি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার এখন পর্যন্ত স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন শিল্প খাতকে সহায়তা করতে পারে। আর বেশি সুদের পরিবেশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ থেকে আয় বাড়াতে পারে। তবে সিবার্ট ফিন্যান্সিয়ালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মার্ক মালেকের কৌশল কিছুটা ভিন্ন। ১০ হাজার ডলার হলে তিনি ৩০ শতাংশ এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে, ২০ শতাংশ এআই সংশ্লিষ্ট শেয়ারে এবং সবচেয়ে বড় অংশ—৩৫ শতাংশ—পাঁচ বছরের কম মেয়াদের মার্কিন ট্রেজারিতে রাখার কথা বলেছেন। বাকি ১৫ শতাংশ সোনা অথবা স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিলে রাখার পক্ষে তিনি। অর্থাৎ তাঁর কৌশলে প্রবৃদ্ধির সুযোগ নেওয়ার পাশাপাশি বাজারের ঝুঁকি সামলানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। ইউএস ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের রব হাওর্থ আবার ১০ হাজার ডলারের ৬৫ শতাংশ বৈশ্বিক শেয়ারে বিনিয়োগের কথা বলেছেন। এর বড় অংশ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও উদীয়মান বাজারে। তাঁর পরিকল্পনায় আরও প্রায় ৩০ শতাংশ উচ্চমানের দীর্ঘমেয়াদি বন্ড এবং ৫ শতাংশ বৈশ্বিক অবকাঠামো খাতে রাখা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ ধরতেই শেষের এই বরাদ্দ। আরেক বিশেষজ্ঞ কিয়ারান অসবর্নের নজর ইন্টারভ্যাল ফান্ডে। এসব তহবিল বিকল্প ও বেসরকারি সম্পদে বিনিয়োগ করে এবং সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পরপর সীমিত পরিমাণ অর্থ তোলার সুযোগ দেয়। তাঁর মতে, স্বল্পমেয়াদি সুদ বাড়লে এসব তহবিলের আয়ও বাড়তে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—প্রয়োজনের সময় দ্রুত পুরো অর্থ তুলে নেওয়া কঠিন হতে পারে। অর্থাৎ সম্ভাব্য আয়ের পাশাপাশি তারল্যঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে।  কনভেক্স ওয়েলথের মেলিসা কোরমেয়ার জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে আরও সম্ভাবনা দেখছেন। অন্যদিকে ভ্যানগার্ডের কেভিন খাং মনে করছেন, এআই ঘিরে বাজার এমন পর্যায়ে এসেছে যেখানে শুধু খাত দেখে বিনিয়োগ করার বদলে সঠিক কোম্পানি বেছে নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কোন প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করে বাস্তবে আয় বাড়াতে পারছে, সেই পার্থক্য এখন বিনিয়োগের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।  এডওয়ার্ড জোন্সের মোনা মাহাজানের পছন্দ যোগাযোগসেবা ও শিল্প খাত। আর ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের জেসন ড্রাহো এআই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প ও ভোক্তানির্ভর খাতেও তিনি সম্ভাবনা দেখছেন।  আট বিশেষজ্ঞের মত ভিন্ন হলেও একটি বিষয় পরিষ্কার—বর্তমান বাজারে ১০ হাজার ডলার এক জায়গায় রাখার বদলে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ও খাতে ভাগ করে বিনিয়োগের কৌশল গুরুত্ব পাচ্ছে। শেয়ার ও এআই থেকে প্রবৃদ্ধির সুযোগ নেওয়ার পাশাপাশি ট্রেজারি, বন্ড কিংবা সোনার মতো সম্পদ দিয়ে ঝুঁকি সামলানোর কথাও উঠে এসেছে তাঁদের পরামর্শে। তবে কারও হাতে ১০ হাজার ডলার আছে বলেই এই বিনিয়োগ কৌশল হুবহু অনুসরণ করা উচিত নয়। বয়স, আয়, ঋণ, জরুরি সঞ্চয়, কতদিন অর্থ বিনিয়োগ করে রাখা সম্ভব এবং কতটা ঝুঁকি নেওয়া যায়—এসবের ওপর ব্যক্তিগত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:৭
চট্টগ্রাম বন্দর ছবি:সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন

তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ

বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ: ববি হাজ্জাজ

0 Comments