ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
যুক্তরাষ্ট্রের ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন অবৈধ ঘোষিত ট্রাম্প প্রশাসনের আমদানি শুল্ক থেকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যেসব গ্রাহক ওই শুল্কজনিত অতিরিক্ত খরচ বহন করেছিলেন এবং যাদের ক্ষেত্রে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
অ্যামাজনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ব্রায়ান ওলসাভস্কি কোম্পানির আয়-সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে বলেন, যেসব লেনদেনে অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব সরাসরি নির্ধারণ করা যাবে, সেসব ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান নিজেই যোগাযোগ করবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেবে। আর যেসব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হবে না, সেখানে ফেরত পাওয়া অর্থ কম দামে পণ্য সরবরাহ ও গ্রাহকসেবায় বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে।
তবে ঠিক কতজন গ্রাহক এই অর্থ ফেরত পাবেন, কোন সময়ের কেনাকাটা এর আওতায় পড়বে বা কীভাবে ফেরতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি অ্যামাজন।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ওই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের শুল্ক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।
অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা তুলনামূলক কম অর্থ ফেরত পেয়েছে, কারণ নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য মজুত করেছিল। এছাড়া তাদের প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের আমদানিকারক ছিল তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা, ফলে সেসব পণ্যের শুল্ক ফেরতের দাবিদারও অ্যামাজন নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করেছে, অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে নিজেই বহন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে শুল্ক ফেরতের অর্থ সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা বিরল। যদিও অন্যান্য বড় খুচরা প্রতিষ্ঠানও শুল্ক ফেরতের আবেদন করেছে, তাদের সবাই এখনো গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অর্থনীতি
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানসহ ৪৩টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বাড়ি কেনার জন্য নতুন ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে জিলো হোম লোনস। এই কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ক্রেতারা বাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে পাবেন। ফলে এফএইচএ মর্টগেজের ন্যূনতম ডাউন পেমেন্টের পুরো অর্থই এই সহায়তার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁচ বছর নির্ধারিত শর্ত মেনে চললে সহায়তার পুরো ঋণ মওকুফ হয়ে যাবে। জিলো হোম লোনসের এই উদ্যোগের লক্ষ্য বাড়ি কেনার শুরুতে ক্রেতাদের আর্থিক চাপ কমানো। যুক্তরাষ্ট্রে অনেকের নিয়মিত আয় রয়েছে এবং মাসিক মর্টগেজের কিস্তি দেওয়ার সামর্থ্যও আছে। কিন্তু বাড়ি কেনার জন্য একসঙ্গে ডাউন পেমেন্টের টাকা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন রেন্ট দিয়ে আসছেন এবং নিজের বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই কর্মসূচি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। কর্মসূচির আওতায় বাড়ির ক্রয়মূল্য অথবা মূল্যায়িত মূল্যের মধ্যে যেটি কম, তার সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থ মূল এফএইচএ মর্টগেজের পাশাপাশি দ্বিতীয় ঋণ হিসেবে যুক্ত থাকবে। তবে দ্বিতীয় ঋণের ওপর কোনো সুদ দিতে হবে না। এমনকি এই সহায়তার জন্য আলাদা করে মাসিক কিস্তিও পরিশোধ করতে হবে না। ধরা যাক, একজন ক্রেতা দুই লাখ ডলারের একটি বাড়ি কিনছেন এবং বাড়িটির মূল্যায়িত মূল্যও একই। সে ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হিসাবে ডাউন পেমেন্টের জন্য প্রয়োজন হবে সাত হাজার ডলার। কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী যোগ্য হলে এই সাত হাজার ডলারই জিলো হোম লোনসের সহায়তা থেকে পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ ক্রেতাকে নিজের সঞ্চয় থেকে এফএইচএ ঋণের ন্যূনতম ডাউন পেমেন্টের অর্থ দিতে হবে না। তবে ডাউন পেমেন্টের সহায়তা পাওয়া মানেই কোনো নগদ অর্থ ছাড়াই বাড়ি কেনা যাবে, এমন নয়। বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্ট, প্রিপেইড ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্সসহ অন্যান্য খরচ থাকতে পারে। এসব ব্যয় মেটানোর জন্য ক্রেতাকে আলাদা অর্থের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। পাশাপাশি মূল মর্টগেজের মাসিক কিস্তি, সুদ ও প্রযোজ্য মর্টগেজ ইনস্যুরেন্স যথারীতি বহাল থাকবে। এই কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো, আবেদনকারীর জন্য আলাদা কোনো আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। অর্থাৎ নির্দিষ্ট আয়ের নিচে থাকতে হবে, এমন শর্ত নেই। একইভাবে শুধু প্রথমবার বাড়ি কিনছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও কর্মসূচি সীমাবদ্ধ নয়। আগে বাড়ি কিনেছেন এমন ব্যক্তিরাও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে এই সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে আবেদনকারীকে অবশ্যই এফএইচএ মর্টগেজের যোগ্য হতে হবে। এ ধরনের ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট স্কোর, আয়, বিদ্যমান ঋণের পরিমাণ এবং মাসিক কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়। ফলে ডাউন পেমেন্ট সহায়তার জন্য আয়সীমা না থাকলেও সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না। সহায়তার অর্থ মওকুফ হওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। বাড়ির মালিককে টানা পাঁচ বছর সংশ্লিষ্ট বাড়িতে বসবাস করতে হবে এবং মূল মর্টগেজের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে হবে। এই দুটি শর্ত পূরণ হলে ডাউন পেমেন্টের জন্য নেওয়া সুদমুক্ত দ্বিতীয় ঋণ মওকুফ হবে। ফলে সহায়তা হিসেবে পাওয়া অর্থ আর ফেরত দিতে হবে না। অন্যদিকে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বাড়ি বিক্রি করলে, বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে অথবা মর্টগেজ রিফাইন্যান্স করলে সহায়তার পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে। তাই যাঁরা অল্প সময়ের মধ্যে বাড়ি পরিবর্তন বা বিক্রির পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই শর্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দ্বিতীয় ঋণের চুক্তি এবং অর্থ ফেরতের নিয়ম ভালোভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। জিলো জানিয়েছে, ক্রেতারা চাইলে সহায়তার অর্থের পাশাপাশি নিজেদের সঞ্চয় থেকেও ডাউন পেমেন্ট দিতে পারবেন। কর্মসূচির কাঠামো অনুযায়ী, সহায়তার ৩ দশমিক ৫ শতাংশের সঙ্গে নিজের অর্থ থেকে আরও সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৫ শতাংশ যোগ করে মোট ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেওয়া সম্ভব। তবে এফএইচএ মর্টগেজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মর্টগেজ ইনস্যুরেন্সের নিয়ম বহাল থাকবে। জিলোর মর্টগেজ বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার এরিক উইলসন জানিয়েছেন, অনেক সম্ভাব্য বাড়ি ক্রেতার মাসিক মর্টগেজ পরিশোধের আর্থিক সামর্থ্য থাকলেও ডাউন পেমেন্টের অর্থ জোগাড় করতে না পারায় তাঁদের বাড়ি কেনার পরিকল্পনা আটকে যায়। এই বাধা কমিয়ে আরও বেশি মানুষকে বাড়ি কেনার সুযোগ করে দেওয়াই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। মিশিগানসহ কর্মসূচির আওতাভুক্ত অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্যও এই উদ্যোগ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা প্রথম বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন কিংবা ডাউন পেমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চয় গড়ে তুলতে পারছেন না, তাঁরা নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন। তবে সহায়তার প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে মূল মর্টগেজের সুদের হার, বাড়ির দাম, মাসিক কিস্তি এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের শর্তের ওপর। আগ্রহী ক্রেতারা জিলো হোম লোনসের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করতে পারবেন। আবেদন করার আগে বাড়ি কেনার মোট খরচ, ক্লোজিং কস্ট, মর্টগেজ ইনস্যুরেন্স এবং পাঁচ বছরের মধ্যে বাড়ি বিক্রি বা রিফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে অর্থ ফেরতের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ডাউন পেমেন্টের অর্থ জোগাড় করতে না পারা ক্রেতাদের জন্য এই কর্মসূচি বাড়ি কেনার প্রাথমিক বাধা কমাতে পারে। তবে এটি সরাসরি নগদ অনুদান নয়, বরং শর্তসাপেক্ষে মওকুফযোগ্য দ্বিতীয় ঋণ। ফলে দীর্ঘমেয়াদে ওই বাড়িতে বসবাসের পরিকল্পনা এবং নিয়মিত মর্টগেজ পরিশোধের সামর্থ্য বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জিলোর ২৮ অক্টোবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, এই সহায়তা পেতে ন্যূনতম ৬৪০ ক্রেডিট স্কোর থাকতে হবে। বাড়িটি নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে কিনতে হবে এবং মূল এফএইচএ মর্টগেজ নিতে হবে জিলো হোম লোনস থেকে। কর্মসূচিটি নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, অ্যারিজোনা, ডেলাওয়্যার, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ায় প্রযোজ্য নয়। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, ক্লোজিং কস্ট আলাদাভাবে বহন করতে হবে, যা সাধারণত ঋণের পরিমাণের ২ থেকে ৫ শতাংশ হতে পারে। সূত্র: বাংলা ওয়ান ডেইলি
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স গড়ে ১৫ হাজার ডলার, অধিকাংশের সঞ্চয় অনেক কম
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস, খাবারের খরচ বাঁচাতে খাবার বাদ দিচ্ছেন অর্ধেক মানুষ
১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের গড় বয়স ছিল ৩৩ বছর, এখন ৫৬! নতুন ক্রেতার রেকর্ড পতন
ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান জিও প্ল্যাটফর্মসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে বা আইপিওতে আবেদন শুরুর প্রায় ১০০ মিনিটের মধ্যেই বিক্রির জন্য নির্ধারিত শেয়ারের সমপরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে দ্রুত এই অবস্থায় পৌঁছায় প্রতিষ্ঠানটি। পিটিআইয়ের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে। প্রথম ঘণ্টায় আইপিওর প্রায় ৮৫ শতাংশের সমপরিমাণ আবেদন জমা পড়েছিল বলে রয়টার্সের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়। পরে দুই ঘণ্টারও কম সময়ে পুরো আইপিও সাবস্ক্রাইব হয়। অর্থাৎ প্রথম ঘণ্টায় সব শেয়ার বিক্রির আবেদন পূর্ণ হয়নি, তবে শুরু থেকেই উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়। এই আইপিওর মাধ্যমে প্রায় ৩২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জিও প্ল্যাটফর্মস। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, অর্থের পরিমাণে এটি ভারতের বৃহত্তম আইপিও এবং প্রায় দুই দশকে আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর প্রথম আইপিও। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন সর্বোচ্চ প্রায় ১০ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার ধরা হয়েছে। প্রতি শেয়ারের মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৫ থেকে ১ হাজার ১১৯ রুপি। আবেদন গ্রহণ চলবে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর নির্ধারিত তারিখ ২৮ অক্টোবর। সংগৃহীত অর্থের বড় অংশ টেলিকম ব্যবসার ঋণ পরিশোধে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে হালনাগাদ প্রসপেক্টাসের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। সাধারণ আবেদন শুরুর আগেও বড় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য চাহিদা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি, ব্ল্যাকরক ও ফিডেলিটিসহ অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রায় ৮৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অংশে আবেদন এসেছিল আড়াই হাজার কোটি ডলারের বেশি। জিও প্ল্যাটফর্মসের অধীনে ভারতের বৃহত্তম টেলিকম অপারেটর রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মেটা ও গুগলও আছে। পুরো আইপিওর সমপরিমাণ আবেদন জমা পড়লেও শেয়ার বরাদ্দ ও বাজারে লেনদেন শুরু পৃথক ধাপ। ফলে প্রথম দিনের আবেদনকে শেয়ারবাজারে দর বৃদ্ধি বা বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত মুনাফা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ফ্রান্সে দাঙ্গা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য ও বৈশ্বিক উদ্বেগে ইউরোর দর কমল, শক্তিশালী ডলার
আমেরিকায় কোন পেশায় আয় বেশি? জেনে নিন, ঘণ্টাপ্রতি বেতনসহ ১০টি কাজের তালিকা
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বে এরিয়ায় চাকরি গেছে ১৪ হাজারের বেশি
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের ওপর গড়ে প্রায় ২ হাজার ডলারের অর্থনৈতিক বোঝা পড়েছে বলে হিসাব দিয়েছেন মুডিস অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় আট মাসে জ্বালানির বাড়তি দাম, ঋণের সুদ এবং সামরিক ব্যয় মিলিয়ে এই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে। তাঁর হিসাবে, দেশজুড়ে মোট অর্থনৈতিক বোঝা প্রায় ২৬৫ বিলিয়ন ডলার। সোমবার, ১২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা বিশ্লেষণে জান্ডি এসব হিসাব তুলে ধরেন। এটি যুদ্ধের কারণে পরিবারপ্রতি গড় অর্থনৈতিক ব্যয়ের একটি অনুমান। প্রতিটি পরিবার সরাসরি একই পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে, এমন দাবি এই হিসাবের অর্থ নয়। জান্ডির বিশ্লেষণে সবচেয়ে বড় অংশ জ্বালানির বাড়তি খরচ। গ্যাসোলিন, ডিজেল, বিমানের জ্বালানি এবং ঘর গরম রাখার জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব মিলিয়ে পরিবারপ্রতি প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলারের বোঝা তৈরি হয়েছে। সরাসরি জ্বালানি কেনার পাশাপাশি ট্রাক বা বিমানে পরিবহন করা পণ্যের বাড়তি খরচও এতে ধরা হয়েছে। তাঁর হিসাবে, বিশ্লেষণের সময়কার জ্বালানির দাম বজায় থাকলে এই বোঝা সপ্তাহে প্রায় ৫০ ডলার করে বাড়ছে। দ্বিতীয় বড় খাত ঋণের বাড়তি সুদ। জান্ডির মতে, যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। উচ্চ সুদের কারণে মর্টগেজসহ ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়েছে। এই খাতে পরিবারপ্রতি গড় অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৫৪০ ডলার বলে হিসাব করেছেন তিনি। এর সঙ্গে যুদ্ধের সরাসরি সামরিক ব্যয় যুক্ত হয়েছে পরিবারপ্রতি প্রায় ৩৬০ ডলার। সিএনএনের ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জ্বালানি, ঋণের সুদ ও সামরিক ব্যয়ের এই তিনটি খাত আলাদা করে তুলে ধরা হয়। সব মিলিয়ে পরিবারপ্রতি আনুমানিক বোঝা দাঁড়ায় ২ হাজার ডলার। জান্ডির মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের এসব খরচ গত প্রায় আট মাসে গড় মার্কিন পরিবারের আয় বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক শুষে নিয়েছে। তাঁর এই বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু সরকারের সামরিক ব্যয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না; জ্বালানি ও ঋণের বাড়তি খরচের মাধ্যমেও পরিবারের বাজেটে চাপ ফেলছে।
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন