আমেরিকা

সমুদ্রের পানি গরম হওয়ায় যুক্তরাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ অক্টোপাসের আগমন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২২:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের উপকূলে রেকর্ড সংখ্যক অক্টোপাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, যা দেশটির মৎস্য শিল্প এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রথম ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে এই বুদ্ধিমান প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই অক্টোপাসগুলো এখন স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

 

গবেষকদের মতে, সাধারণত ব্রিটিশ সাগরে এই সাধারণ বা ভূমধ্যসাগরীয় অক্টোপাস খুব কম সংখ্যায় থাকে। তবে মৃদু শীতকাল এবং বসন্তে উষ্ণ প্রজনন মৌসুমের কারণে এদের বংশবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সমুদ্রের পানি ক্রমাগত উষ্ণ হওয়া এবং সামুদ্রিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণেই এমনটি ঘটছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

 

এই অক্টোপাসের আকস্মিক বৃদ্ধি স্থানীয় জেলেদের জন্য মিশ্র খবর নিয়ে এসেছে। অক্টোপাস অত্যন্ত চতুর শিকারি হওয়ায় তারা জেলেদের খাঁচায় বন্দি কাঁকড়া ও গলদা চিংড়ি খেয়ে ফেলছে, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী চিংড়ি ও কাঁকড়া শিকারি জেলেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এমনকি অনেক জেলে তাদের নৌকা বিক্রি করতেও বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, কিছু জেলে প্রচুর পরিমাণে অক্টোপাস ধরে রেকর্ড পরিমাণ লাভ করছেন। গত সপ্তাহেও ডেভনের একটি বাজারে মাত্র একদিনে রেকর্ড ১০০ টন অক্টোপাস বিক্রি হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অক্টোপাসের এই ব্যাপক আগমন পুরো সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্যকে ওলটপালট করে দিচ্ছে। একদিকে যেমন কাঁকড়া ও চিংড়ির সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে সিল মাছ ও বিশেষ প্রজাতির ডলফিনের মতো সামুদ্রিক প্রাণীদের খাবারের জোগান বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে তোফায়েল আহমেদ স্মরণে আয়োজিত শোকসভার একাংশ । ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ স্মরণে শোকসভা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদের স্মরণে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। গত শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার এলাকার এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুল মিলনায়তনে ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।   সংগঠনের সভাপতি রুহেল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।   বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম বাদশা, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী এবং রাজনীতিবিদ জাকারিয়া চৌধুরী।   এ ছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুর আহমদ, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি শাখাওয়াত আলী, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম জিকু, সোহান আহমেদ টুটুল, শেখ মখলু, শেখ শফিকুর রহমান, শেখ জামাল হোসেন, শ্যামল চন্দ্র চন্দ, হাবিবুর রহমান কামাল, শামীম আহমেদ, শেখ অলি আহাদ, ছাদেকুর রহমান, নুরুল ইসলাম মিলন এবং কবি সুধাংশু রঞ্জন মন্ডলসহ অনেকে।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।   বক্তারা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২৩:১৯
ছবি: সংগৃহীত

সব মাছ মারা যাওয়ায় আমেরিকার সান কার্লোস লেক বন্ধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চরম খরাপ্রবণ এলাকায় তৈরি হচ্ছে বেশির ভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই তথ্যকেন্দ্র

ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রের পানি গরম হওয়ায় যুক্তরাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ অক্টোপাসের আগমন

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাথে যুদ্ধ নিয়ে নিজের দলের নেতাদের ক্ষোভের মুখে ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই বড় ধরনের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের অধীনে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, যেখানে হোয়াইট হাউসকে ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন সিনেটেও এই সংক্রান্ত বিলটি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট পড়ে।   বিগত সময়ের ব্যর্থ চেষ্টাগুলোর চেয়ে এবারের ভোটাভুটি সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ এবার ট্রাম্পেরই দলের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নিজের দলের এই দলছুট বা বিদ্রোহীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে একটি 'অর্থহীন ভোট' এবং আইনপ্রণেতাদের এই পদক্ষেপকে 'অদেশপ্রেমিক কাজ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে ভেনিজুয়েলা ইস্যুতেও দলের বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।   তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই হুমকির কৌশল এবার আর কাজ করবে না, কারণ ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ মার্কিন অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে। মার্কিন সামরিক হামলায় ইরানের ক্ষতি হলেও তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করাসহ মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে তেরো জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।   আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ৬৮ শতাংশ মার্কিনি ইরানের সাথে দ্রুত শান্তি চুক্তি চান। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়েই মূলত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এখন ট্রাম্পের পাশ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এই প্রস্তাবটি আইনিভাবে ট্রাম্পকে বাধ্য করতে না পারলেও, এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে দেশের মাটিতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ইরানের ওপর তাঁর প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২২:১
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে রেগে ইন্টারভিউ ছেড়ে চলে গেলেন ট্রাম্প

মেটা-এর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ | ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে মেটা ও সিলিকন ভ্যালি, বললেন নিক ক্লেগ

নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট সেনেটর হাসিব ফাতমী। ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার স্টেট সেনেটর হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হাসিব ফাতমী

ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাগোস কেনার পরিকল্পনা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিনল্যান্ডের পর এবার ভারত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জ কিনতে আগ্রহী ট্রাম্প প্রশাসন

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার পর এবার ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কাছে এমন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মরিশাসের কাছ থেকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ সরাসরি কিনে নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অর্থমন্ত্রী Scott Bessent এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যদিও এটি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের প্রধান বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিকল্প নয়, তবুও সম্ভাব্য কয়েকটি নীতিগত বিকল্পের মধ্যে বিষয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে।   চাগোস দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর সরকার এ নিয়ে একটি চুক্তির পথে এগোলেও ২০২৬ সালে তা স্থগিত হয়ে যায়। ট্রাম্প ওই পরিকল্পনাকে আগে "বড় ভুল" বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।   চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Diego Garcia। এখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিটি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।   মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ডিয়েগো গার্সিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ওয়াশিংটন চায় না যে দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হোক, যা ঘাঁটির কার্যকারিতা বা নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।   তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি বলে জানিয়েছে Mauritius সরকার। সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে চাগোস বা ডিয়েগো গার্সিয়া নিয়ে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। একই সঙ্গে মরিশাস পুনর্ব্যক্ত করেছে যে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব ‘আলোচনাতীত’।   চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে বিরোধ নতুন নয়। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ডিয়েগো গার্সিয়ায় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের সময় হাজারো স্থানীয় চাগোসবাসীকে দ্বীপ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এরপর থেকে দ্বীপটির মালিকানা, পুনর্বাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালতও অতীতে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন আলোচনা কেবল ভূখণ্ডের মালিকানার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে ভারত মহাসাগরে সামরিক প্রভাব, চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশলও গভীরভাবে জড়িত। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মরিশাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার ফলাফল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৮:২০
লস অ্যাঞ্জেলেসে এক ব্যক্তি ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

এনবিসির জনপ্রিয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে প্রমাণ চাইতেই রাগ করে এনবিসির সাক্ষাৎকার ছাড়লেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় ছিনতাইকারীর গুলিতে নিহত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

0 Comments