সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেনের সাফল্য

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: জুন ৪, ২০২৬ ১:৫৭
ছবি: বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন ও তার টিম
ছবি: বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন ও তার টিম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট অঙ্গনে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন ও তার টিম নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। স্থানীয়ভাবে ধারাবাহিক পেশাদার সেবা, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার কারণে তার নেতৃত্বাধীন “নাজমুল রিয়েল এস্টেট টিম” এখন পশ্চিম নিউইয়র্ক অঞ্চলে পরিচিত একটি নাম।

 

সম্প্রতি বাফেলোভিত্তিক প্রকাশনা বাফেলো রিয়েল প্রডিউসারস ম্যাগাজিন-এর বিশেষ সংখ্যায় স্থান পেয়েছে “দ্য এমডি নাজমুল হুসেইন টিম”। সাধারণত রিয়েল এস্টেট খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ তুলে ধরতেই এ ধরনের প্রকাশনা বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। সেখানে একটি বাংলাদেশি নেতৃত্বাধীন টিমের অন্তর্ভুক্তি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

 

জানা গেছে, নাজমুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় বাড়ি কেনাবেচা, বিনিয়োগ পরামর্শ এবং নতুন ক্রেতাদের সহায়তা নিয়ে কাজ করছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে বাড়ি কেনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরা এবং নির্ভরযোগ্য পরামর্শ দেওয়ার কারণে তার টিম দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

 

স্থানীয় কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য জানান, ভাষা ও সংস্কৃতিগত বোঝাপড়ার কারণে বাংলাদেশি এবং অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলো নাজমুল হোসেনের টিমের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারছেন। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য বাড়ি কেনা বা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়াও তুলনামূলক সহজ হচ্ছে।

 

প্রতিক্রিয়ায় নাজমুল হোসেন বলেন, রিয়েল এস্টেট শুধু ব্যবসা নয়, এটি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের অংশ। তাই প্রতিটি গ্রাহকের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করছেন। তিনি এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি এখন শুধু ছোট ব্যবসা বা রেস্টুরেন্ট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক খাতের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেটেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন। বাফেলো অঞ্চলে নাজমুল হোসেনের এই সাফল্য সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

আগামী দিনে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকসেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন নাজমুল হোসেন। তার ভাষায়, গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখাই তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

 

সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট খাতে নাজমুল হোসেন ও তার টিমের এই সাফল্য প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের একটি অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো বিমানবন্দর এলাকায় ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের দুর্ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই শিশুর

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রেসনো বিমানবন্দর এলাকায় একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চারজন আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজটি সান জোয়াকিন নদীর কাছাকাছি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।   ফ্রেসনো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা টনি বোটি দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টকে জানান, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সিয়েরা স্কাই পার্কের কাছে একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও শেরিফের একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর পাশের পাহাড়ি ঢালে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায়।   দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষের আশপাশের ঝোপঝাড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবে জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে।   উদ্ধারকারীরা গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দুই প্রাপ্তবয়স্ককে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু। তাদের পরিচয় ও বয়স তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।   এদিকে, ঠিক কী কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৩০ জানিয়েছে, প্রাথমিক উদ্ধারকাজে ফ্রেসনো পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নর্থ সেন্ট্রাল ফায়ার ডিপার্টমেন্টও অংশ নেয়। দুর্ঘটনার প্রভাবে ওই এলাকায় কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে তা মেরামত করে স্বাভাবিক করা হয়।   মাত্র কয়েক মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনায় দুই শিশুর প্রাণহানিতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১১:১৭
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক ডেলি দোকানি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য নগদ পুরস্কার দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

ভালো রেজাল্ট করলেই ১০০ ডলার, শিক্ষার্থীদের জন্য দোকানির অভিনব উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিমানবন্দরে টিকিট না থাকা ব্যক্তিদেরও টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

‘টিকিট ছাড়াই বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ!’ যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিমানবন্দরে নতুন সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন বাড়ির মালিকের প্রায় একজন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্রুত গৃহঋণ পরিশোধ করছেন। ছবি: সংগৃহীত

‘কম সুদের ঋণ, তবু বেশি কিস্তি!’ কেন দ্রুত ঋণ শোধ করছেন মার্কিন বাড়ির মালিকরা

কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিলেই ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকির পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিল থেকে ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকি দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা বিবাহিত দম্পতিদেরও সরকারি শিশু যত্ন ভর্তুকির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে এ জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের বদলে কর্মজীবী বাবা-মায়ের শিশু যত্নে ব্যবহৃত একটি ফেডারেল তহবিল থেকেই অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।  দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অন্যতম অগ্রাধিকার। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত দম্পতির একজন সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করলে এবং অন্যজন বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে তারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। প্রস্তাবিত অর্থ আসবে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে। ১৯৯০-এর দশকে চালু হওয়া এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী বাবা-মাকে শিশু যত্নের খরচে সহায়তা করা, যাতে তারা কাজ, পড়াশোনা বা কর্মপ্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলারের সহায়তা দেওয়া হয়।  নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনকারী অভিভাবকদের জন্য এটিই হবে ফেডারেল পর্যায়ে সরাসরি শিশু যত্ন সহায়তা পাওয়ার একটি নতুন পথ। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ঘরে থেকে সন্তান পালনের সুযোগকে উৎসাহিত করার রক্ষণশীল পারিবারিক ধারণারও মিল রয়েছে। মে মাসে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রশাসন ঘরে থাকা বাবা-মায়ের জন্য শিশু যত্ন ব্যবস্থায় আরও সুযোগ তৈরি করতে চায়।  তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, একই তহবিলের অর্থ ঘরে থাকা অভিভাবকদের জন্য ব্যবহার করা হলে কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য বরাদ্দ সহায়তা কমে যেতে পারে। এতে শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলোও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান সেবার মূল্য বাড়ানো বা কার্যক্রম কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে।  সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই শিশু যত্ন ভর্তুকি পাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবারের প্রায় ৮০ শতাংশই একক কর্মজীবী অভিভাবকের পরিবার। তাদের বেশিরভাগই নারী। ফলে নতুন শ্রেণির পরিবারকে একই তহবিলের আওতায় আনা হলে বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা। খসড়া প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে এটি জনসাধারণের মতামতের জন্য প্রকাশিত হতে পারে। চূড়ান্ত হলে আগামী বছর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:১
নতুন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় রেকর্ড পতন—অনুমোদন নেমেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে

ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে রেকর্ড ৩৩ শতাংশে, চাপে রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবন—সরকারি দুর্নীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রতীকী চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্নীতি নিয়ে ভয়াবহ চিত্র, সরকারের দুর্নীতিকে ‘ব্যাপক’ বলছেন ৮৯% মার্কিন

'চাকরি না পাওয়া ও আর্থিক চাপ নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন সাই প্রদীপ' -পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পর চাকরি না পেয়ে চাপে ভারতীয় তরুণের আত্মহত্যা

গরু ছাড়াই তৈরি দুধের প্রোটিন—প্রিসিশন ফারমেন্টেশনে বদলে যাচ্ছে ভবিষ্যতের খাদ্যশিল্প
স্টারবাকস, নেসলে ও ব্রেয়ার্স আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাহকদের পরিবেশন করেছে ল্যাবে তৈরি মাংস

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যবাজারে গরু ছাড়াই তৈরি দুধের প্রোটিন ধীরে ধীরে মূলধারার বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে জায়গা করে নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাকে অনেক সময় ‘ল্যাবে তৈরি খাবার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, এর বড় একটি অংশ আসলে বিশেষ ধরনের গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি দুধের প্রোটিন। ইতোমধ্যে আইসক্রিম, ক্রিম চিজসহ বিভিন্ন দুধজাত পণ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড ব্রেয়ার্স। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি পারফেক্ট ডে-এর তৈরি গাঁজনভিত্তিক দুধের প্রোটিন ব্যবহার করে ল্যাকটোজমুক্ত চকলেট আইসক্রিম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আনে। এতে প্রচলিত গরুর দুধের পরিবর্তে এমন হুই প্রোটিন ব্যবহার করা হয়েছে, যার আণবিক গঠন প্রচলিত দুধের হুই প্রোটিনের সঙ্গে একই বলে জানিয়েছে পারফেক্ট ডে। পণ্যটি ল্যাকটোজ ও কোলেস্টেরলমুক্ত। এই প্রযুক্তির নাম ‘নির্ভুল গাঁজন’ বা প্রিসিশন ফারমেন্টেশন। এতে নির্দিষ্ট অণুজীব ব্যবহার করে গরুর দুধে পাওয়া প্রোটিন তৈরি করা হয়। পারফেক্ট ডে-এর ক্ষেত্রে অণুজীবকে প্রয়োজনীয় জিনগত নির্দেশনা দেওয়ার পর গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিটা-ল্যাক্টোগ্লোবিউলিনসহ দুধের প্রোটিন তৈরি করা হয়। পরে অণুজীব আলাদা করে প্রোটিন সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ, এটি গরুর কোষ থেকে ল্যাবে দুধ বা মাংস উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়। বরং গরু ছাড়াই দুধের নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির একটি আধুনিক গাঁজন পদ্ধতি। এই প্রোটিনের গঠন প্রচলিত দুধের প্রোটিনের সঙ্গে একই হওয়ায় তা বিভিন্ন প্রচলিত খাদ্যপণ্যে ব্যবহার করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, পারফেক্ট ডে-এর প্রাণীহীন হুই প্রোটিন নির্দিষ্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত বা ‘সাধারণভাবে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত’ শ্রেণির আওতায় রয়েছে। ২০২০ সালে এ বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি না থাকার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। তবে এটিকে সরাসরি ‘এফডিএ অনুমোদিত’ বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ এ ধরনের খাদ্য উপাদান সাধারণত ওষুধের মতো এফডিএর কাছ থেকে আলাদা অনুমোদন নেয় না। ‘সাধারণভাবে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত’ ব্যবস্থার অধীনে কোনো খাদ্য উপাদান নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং সে বিষয়ে এফডিএকে অবহিত করা যায়। শুধু ব্রেয়ার্স নয়, বড় খাদ্য কোম্পানিগুলোও এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছে। নেসলে পারফেক্ট ডে-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রাণীহীন দুধের প্রোটিন ব্যবহার করে বিভিন্ন দুধজাত পণ্য তৈরি ও পরীক্ষা করেছে। কোম্পানিটির গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমেও এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হয়েছে। স্টারবাকসও ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের দুটি দোকানে পরীক্ষামূলকভাবে প্রাণীহীন দুধের পণ্য ব্যবহার করেছিল। তবে এটিকে স্টারবাকসের ব্যাপক বা স্থায়ীভাবে বাজারজাত করা পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পরবর্তী সময়ে এই পরীক্ষার বড় পরিসরে সম্প্রসারণের নির্ভরযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায়নি। প্রিসিশন ফারমেন্টেশনের অন্যতম আকর্ষণ পরিবেশগত সম্ভাবনা। পারফেক্ট ডে-এর তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনা করা জীবনচক্র মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রচলিত হুই প্রোটিন উৎপাদনের তুলনায় তাদের প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ এবং পানির ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ কমতে পারে। তবে এগুলো পারফেক্ট ডে-এর নিজস্ব পণ্যের মূল্যায়ন থেকে পাওয়া তথ্য। তাই সব ধরনের প্রিসিশন ফারমেন্টেশন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একই মাত্রার পরিবেশগত সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন দাবি করা ঠিক নয়। পণ্যের মোড়কে তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদানকে সাধারণত ‘ল্যাবে তৈরি খাবার’ নামে আলাদা করে বাজারজাত করা হয় না। উপাদান তালিকায় ‘প্রাণীহীন হুই প্রোটিন’ বা এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হতে পারে। তবে প্রোটিনটির আণবিক গঠন প্রচলিত দুধের প্রোটিনের মতো হওয়ায় দুধে অ্যালার্জি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না। এ ধরনের পণ্যে দুধ-সম্পর্কিত অ্যালার্জির সতর্কতাও থাকতে পারে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘গ্রাহকদের অজান্তে গোপনে ল্যাবে তৈরি খাবার খাওয়ানো হচ্ছে’ ধরনের দাবি পুরো বাস্তবতাকে তুলে ধরে না। প্রযুক্তিটি প্রকাশ্যেই খাদ্য কোম্পানিগুলো পরীক্ষা ও ব্যবহার করছে এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের নিরাপত্তা ও লেবেলিংয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক কাঠামোও রয়েছে। গরু ছাড়াই দুধের প্রোটিন তৈরির এই প্রযুক্তি এখনো খাদ্যশিল্পের তুলনামূলক নতুন একটি ক্ষেত্র। উৎপাদন খরচ, ভোক্তাদের গ্রহণযোগ্যতা, পণ্যের লেবেলিং এবং পরিবেশগত সুবিধা নিয়ে আরও গবেষণা ও বাজার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৬:২৭
লকার রুমে রেকর্ডিং ডিভাইস পাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্রুক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল এরিক জেমস

মেয়েদের লকার রুমে ৪ রেকর্ডিং ডিভাইস, গ্রেপ্তার স্কুলের প্রিন্সিপাল

টাম্পায় জব্দ করা হাজার বছরের পুরোনো প্রাচীন নিদর্শনের মধ্যে থাকা বিভিন্ন পাত্র ও মৃৎশিল্প

টাম্পায় ২২ হাজারের বেশি প্রাচীন নিদর্শন জব্দ, রয়েছে ৫ হাজার বছরের পুরোনো সামগ্রী

টেক্সাস সিনেট দৌড়ে প্যাক্সটনের পক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন

টেক্সাস সিনেট দৌড়ে প্যাক্সটনের পক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন

0 Comments