নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত। গ্লোবাল আর্মস ওয়াচডগ বা বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আজ মঙ্গলবার ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই খবর প্রকাশ করেছে।
এসআইপিআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করার এই সিদ্ধান্ত নয়া দিল্লির কয়েক দশকের পুরোনো সামরিক নীতি থেকে এক বিশাল বিচ্যুতি। এতদিন পর্যন্ত দেশটিতে পারমাণবিক বোমা বা ওয়ারহেড এবং সেগুলো বহনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পৃথকভাবে ও আলাদা গুদামে সংরক্ষণ করা হতো। তবে এবারই প্রথম ভারতের পরমাণু অস্ত্রাগারের একটি অংশকে মজুত রাখার পরিবর্তে সরাসরি কার্যকরের জন্য মোতায়েনকৃত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে (এসএসবিএন) উৎক্ষেপণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় এই ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। শান্তিকালীন সময়েই ওয়ারহেডগুলোকে লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত করা বা সক্রিয় বাহিনীর ঘাঁটিতে স্থাপন করার এই পদক্ষেপ উচ্চ সামরিক সতর্কাবস্থার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এর মাধ্যমে মূলত গভীর সমুদ্রে ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বেড়ে প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের চেয়ে সামান্য বেশি। ভারত মূলত ‘আগে ব্যবহার নয়’ নীতি অনুসরণ করে আসলেও সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও পরমাণু ত্রিমাত্রিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কারণে তাদের এই কৌশলগত পরিবর্তন। তবে ভারতের এই সক্ষমতা কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্য নয়, বরং কেবল সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের নিরুৎসাহিত করার জন্য তৈরি বলে নীতিতে উল্লেখ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ইমারাতে ইসলামিয়ার অধীনে দেশটি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন বা ইউনামা। সোমবার (৮ জুন) আফগানিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই মন্তব্য করেন ইউনামার রাজনৈতিক বিষয়ক উপ-বিশেষ প্রতিনিধি জর্জেট গ্যাগনন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমান কর্তৃপক্ষের শাসনের বিরুদ্ধে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সশস্ত্র বা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আপাতত নেই। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জর্জেট গ্যাগনন উল্লেখ করেন, ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাকে নিজেদের অন্যতম প্রধান অর্জন হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। তবে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ মূলত বাস্তবে ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের শাসন কাঠামোর অভ্যন্তরীণ গতিশীলতার ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করেন তিনি। গ্যাগনন আরও জানান, এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের চিত্র থেকে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যদিও এর কোনো স্পষ্ট চূড়ান্ত রূপ এখনো নির্ধারিত হয়নি। একই বৈঠকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং। তিনিও আফগানিস্তানের বর্তমান স্থিতিশীলতার বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেও দেশটিতে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনো অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর পর্যায়ে রয়ে গেছে। আফগান জনগণের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশটিতে স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন চীনা প্রতিনিধি। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আফগানিস্তানের বর্তমান কর্তৃপক্ষকে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে একটি অভিন্ন পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকটি ছিল ইউনামার পূর্বঘোষিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রথমটি। আগামী ১৬ জুন দ্বিতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ইউনামার ম্যান্ডেট বা কার্যপরিধির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংকগুলো গত বছর জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে ৯০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি সত্ত্বেও কয়লা, তেল এবং গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে ব্যাংকগুলোর এই বিপুল বিনিয়োগের তথ্য একটি নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আজ মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর জোটের তৈরি করা বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর জীবাশ্ম জ্বালানিতে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ বা ৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বেড়েছে। গবেষকরা বলছেন, বিশ্বের শীর্ষ ৬৫টি ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। প্রতিবেদনে জানানো হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করেছে মার্কিন ব্যাংক ‘জেপি মরগান চেজ’। গত বছর তারা এই খাতে ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার দিয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘ব্যাংক অব আমেরিকা’। এরপরই রয়েছে জাপানের দুটি ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিটিগ্রুপ’। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের বড় ব্যাংকগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে মোট ৮.৭ ট্রিলিয়ন ডলার তহবিল জুগিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু রক্ষার এই পুরোনো প্রতিশ্রুতি থেকে ব্যাংকগুলো এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অর্থায়নের এই বিশাল অঙ্কের ৪০ শতাংশেরই জন্য দায়ী শীর্ষ ১২টি ব্যাংক। তবে এর মধ্যেও ইউরোপীয় কিছু ব্যাংক গত বছর এই খাতে তাদের অর্থায়ন কিছুটা কমিয়েছে। গবেষকদের মতে, স্বেচ্ছায় দেওয়া পরিবেশগত প্রতিশ্রুতিগুলো কাজ না করায় এখন বিভিন্ন দেশের সরকারি নীতি নির্ধারকদের আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে দুই দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে পিয়ংইয়ং পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত প্রায় সাত বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় এটিই তাঁর প্রথম সফর। সম্প্রতি রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে বেইজিংয়ের সাথে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা ঘোচাতেই শি জিনপিংয়ের এই সফর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পিয়ংইয়ংয়ের সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে পিয়ংইয়ংয়ের কেন্দ্রস্থলে কিম ইল-সুং স্কয়ারে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ও তাঁর স্ত্রী রি সোল-জু। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়। কুুমসুসান রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় দুই নেতার মধ্যে বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শি জিনপিং এক বিবৃতিতে জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, উত্তর কোরিয়ার প্রতি চীনের সমর্থন সবসময় বজায় থাকবে। একই সাথে তিনি দুই দেশের সীমান্ত বন্দরগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেওয়া এবং বিমান ও আন্তর্জাতিক ট্রেন যোগাযোগ পুনরায় চালু করে বাণিজ্য ও পর্যটন বাড়ানোর ওপর জোর দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করা এবং মস্কোর সাথে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করার মাধ্যমে পুতিনের বেশ কাছাকাছি চলে গেছে উত্তর কোরিয়া। বেইজিং মনে করে, রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার এই মাত্রাতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এ অঞ্চলে চীনের নিজস্ব প্রভাবকে কিছুটা ম্লান করতে পারে। তাই ঐতিহাসিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের বলয়ে ধরে রাখাই এখন শি জিনপিংয়ের মূল লক্ষ্য।