নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে যাত্রী নামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী ফর হায়ার গাড়িচালক রুহুল আমিন। শুক্রবার ভোরে ফোর্ট গ্রিন এলাকায় একটি ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এক ব্যক্তি তার গাড়ির কাছে এসে মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স তাকে এমডি আমিন নামে শনাক্ত করেছে। বাংলাদেশি কমিউনিতে তিনি রুহুল আমিন নাসির নামে পরিচিত বলে কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৪টার কিছু পর ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিনের নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সে সময় আমিন রাতের শিফটে কাজ করছিলেন।
সিবিএস নিউইয়র্ক ও এনওয়াইওয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রী নামানোর সময় আমিনের গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়। এরপর সেখানে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন আমিন।
পুলিশ সূত্রের বরাতে এনওয়াইওয়ান জানায়, বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পাশের হুইটম্যান হাউসেস এলাকা থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে এসে আমিনের গাড়ির কাছে যায়। ওই ব্যক্তি গাড়ির জানালায় নক করার পর তাকে গুলি করে। গুলিটি আমিনের মুখের ডান পাশে লাগে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমিনকে নিউইয়র্ক প্রেসবিটারিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শনিবার সকালে নিউজ ১২ জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও এনওয়াইওয়ানকে জানান, আমিন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে কুইন্সে বসবাস করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে আসছেন।
ঘটনার পর নিউইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমোজিন কমিশন চালকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, লাইসেন্সধারী চালকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রত্যেক চালকের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করার অধিকার রয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়া এটি দ্বিতীয় চালকের ঘটনা। আমিনের পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর বন্দুকধারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলাকারীর পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা জানতে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া সামান্য ২০ ডলার যে কারও জীবনের মোড় এভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার এক কাঠমিস্ত্রি। সম্প্রতি একটি গ্যাস স্টেশনের পার্কিং লট থেকে ২০ ডলারের একটি নোট কুড়িয়ে পেয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে শখের বশে একটি ‘স্ক্র্যাচ-অফ’ লটারি টিকিট কিনতেই ঘটে যায় অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। লটারি ঘষতেই তিনি দেখতে পান, রাতারাতি ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ডলারের বিশাল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি! সরকারি কর পরিশোধের পর এই কাঠমিস্ত্রি নগদ ৪ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। টানা ৫৬ বছর ধরে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনির পর বিশাল অঙ্কের এই অর্থ পেয়ে তিনি এখন স্থায়ীভাবে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর জীবনের এই স্মরণীয় মুহূর্ত ও আনন্দ উদযাপন করতে তিনি খুব সাধারণভাবেই স্থানীয় ‘গোল্ডেন কোরাল’ রেস্তোরাঁয় নিজের পছন্দের খাবার খেয়েছেন। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে নিতান্তই সাধারণ একটি ঘটনাও যে কীভাবে জাদুকরী রূপ নিতে পারে, এই ঘটনাটি যেন তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের তিন লক্ষাধিক বাসিন্দার একটি উপকূলীয় শহর বর্তমানে তীব্র পানি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম শহর হিসেবে পুরোপুরি পানিশূন্য হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে করপাস ক্রিস্টি। বছরের পর বছর ধরে চলা তীব্র খরা, পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং নতুন উৎসের সন্ধানে ধীরগতির কারণে শহরটির পানিসম্পদ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। শহরটির এই ভয়াবহ পানি সংকটের পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে দ্রুতগামী শিল্পায়ন। এই অঞ্চলের বিশাল পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পানির প্রয়োজন হয়, যা আগে থেকেই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে নির্মিত একটি প্লাস্টিক রাসায়নিক কারখানার শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়, তা করপাস ক্রিস্টির সমস্ত বাসিন্দার প্রতিদিনের মোট ব্যবহৃত পানির সমান। বিদ্যমান সরবরাহের ওপর এই চাপ কমাতে সমুদ্রের পানিকে ব্যবহারযোগ্য স্বাদু পানিতে রূপান্তর করার জন্য একটি 'ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট' বা লবণাক্ততা দূরীকরণ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অর্থায়ন সংকট, আইনি বা নিয়ন্ত্রণমূলক নানা জটিলতা এবং স্থানীয় বিরোধিতার কারণে সেই প্রকল্পটিও থমকে আছে। এই সংকটের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনও একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেক্সাসে একাধিক ভয়াবহ খরা আঘাত হেনেছে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলোর পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে গেছে। 'ইনসাইড ক্লাইমেট নিউজ'-এর সাংবাদিক ডিলান বাডুর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় করপাস ক্রিস্টি পানিশূন্য হওয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সাম্প্রতিক কিছু বৃষ্টিপাত সামান্য স্বস্তি দিলেও, শহরটিতে বর্তমানে মাত্র এক বছরের জন্য ব্যবহারযোগ্য পানি মজুত রয়েছে, যা রীতিমতো একটি জরুরি অবস্থা। সংকট মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ গভীর নলকূপ স্থাপন এবং শিল্পের ব্যবহারের জন্য বর্জ্য পানি পুনর্ব্যবহারের মতো বেশ কিছু বিকল্প সমাধানের কথা ভাবছে। প্রস্তাবিত সমুদ্রের পানি শোধন প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন কয়েক কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা সম্ভব হবে, তবে এটি বাস্তবায়ন করতে শত শত কোটি ডলার ব্যয় হবে এবং কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে সাধারণ বাসিন্দাদের বাগানে পানি দেওয়া এবং গাড়ি ধোয়ার মতো দৈনন্দিন কাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাময়িক পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা বা পানি সরবরাহের সময়সীমা সীমিত করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট মূলত ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রতিনিয়ত সংকুচিত হতে থাকা পানিসম্পদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার এক বৃহত্তর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জকেই আমাদের সামনে তুলে ধরছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্নেল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের পরও বিনা বাধায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসার খবরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী অস্টিন ফ্রাঙ্কো নামের ওই শিক্ষার্থী গত জুনে নিউইয়র্কের একটি স্টার্টআপ কোম্পানির ইন্টারভিউ প্রত্যাখ্যান করে ভাইরাল হন। কারণ হিসেবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, কোনো "ইহুদির অধীনে কাজ করতে" তিনি একেবারেই আগ্রহী নন। এই মন্তব্যের জেরে অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও ফ্রাঙ্কো সম্প্রতি দাবি করেছেন, আগামী ফল সেমিস্টারে তিনি কোনো ধরনের শাস্তি ছাড়াই পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরছেন। রক্ষণশীল অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যুরেসি ইন মিডিয়া’-এর এক ছদ্মবেশী তদন্তকারীর কাছে ফ্রাঙ্কো নিজেই তার এই নির্বিঘ্নে ফিরে আসার কথা স্বীকার করেছেন। ছদ্মবেশী ওই ব্যক্তি নিজেকে ফ্রাঙ্কোর মতোই সমমনা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার সাথে দেখা করেন। সেখানে ফ্রাঙ্কো জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার সাথে যোগাযোগ করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, তার মন্তব্যটিকে সরাসরি 'ঘৃণাত্মক' বা 'হেইট স্পিচ' হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি। এমনকি, এই বিতর্কের পর নিজের উগ্র সমর্থকদের কাছ থেকে তিনি প্রায় ২৫ হাজার ডলার অনুদানও সংগ্রহ করেছেন বলে হাসিমুখে স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় কর্নেল ইউনিভার্সিটির নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ইহুদি নেতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য সিভিল রাইটস অফিসে পাঠানো হয়েছে এবং তারা সব ধরনের বৈষম্য ও ঘৃণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তবে ফ্রাঙ্কোর ক্যাম্পাসে ফেরার দাবির বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দ্য হ্যাম্পটন সিনাগগের প্রতিষ্ঠাতা র্যাবাই মার্ক স্নাইয়ার এই ঘটনাকে চরম উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রকাশ্য বিদ্বেষের পরও কোনো শিক্ষার্থীর বহাল তবিয়তে ক্লাস করার সুযোগ পাওয়াটা প্রমাণ করে যে, সমাজে ইহুদিবিদ্বেষ বর্তমানে কতটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। ডেভিয়ান গেকমান নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, বাকস্বাধীনতা মানেই পরিণতির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া নয়; প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই এক অশনিসংকেত। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ফ্রাঙ্কো তার মন্তব্যের স্বপক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইন্টারভিউ প্রত্যাখ্যানের ভাষাটি হয়তো খুব বেশি বুদ্ধিদীপ্ত ছিল না, তবে এর বিপরীতে মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল মাত্রারিক্ত। নিজের কর্মসংস্থান সংকটের পেছনেও তিনি ইহুদিদেরই দায়ী করেছেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত অন্য শিক্ষার্থীদের মতে, ফ্রাঙ্কো একসময় নিজেই কর্নেল ইউনিভার্সিটির ডাইনিং হলের 'কোশার' (ইহুদিদের খাবার) স্টেশনে কাজ করতেন। সর্বশেষ, ছদ্মবেশী মিডিয়া গ্রুপটি তাকে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বোকা বানানোয় তিনি উল্টো হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।