নিউইয়র্কে যাত্রী নামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি চালক, হামলাকারী এখনো পলাতক
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে যাত্রী নামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী ফর হায়ার গাড়িচালক রুহুল আমিন। শুক্রবার ভোরে ফোর্ট গ্রিন এলাকায় একটি ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এক ব্যক্তি তার গাড়ির কাছে এসে মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স তাকে এমডি আমিন নামে শনাক্ত করেছে। বাংলাদেশি কমিউনিতে তিনি রুহুল আমিন নাসির নামে পরিচিত বলে কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৪টার কিছু পর ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিনের নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সে সময় আমিন রাতের শিফটে কাজ করছিলেন।
সিবিএস নিউইয়র্ক ও এনওয়াইওয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রী নামানোর সময় আমিনের গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়। এরপর সেখানে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন আমিন।
পুলিশ সূত্রের বরাতে এনওয়াইওয়ান জানায়, বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পাশের হুইটম্যান হাউসেস এলাকা থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে এসে আমিনের গাড়ির কাছে যায়। ওই ব্যক্তি গাড়ির জানালায় নক করার পর তাকে গুলি করে। গুলিটি আমিনের মুখের ডান পাশে লাগে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমিনকে নিউইয়র্ক প্রেসবিটারিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শনিবার সকালে নিউজ ১২ জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও এনওয়াইওয়ানকে জানান, আমিন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে কুইন্সে বসবাস করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে আসছেন।
ঘটনার পর নিউইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমোজিন কমিশন চালকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, লাইসেন্সধারী চালকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রত্যেক চালকের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করার অধিকার রয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়া এটি দ্বিতীয় চালকের ঘটনা। আমিনের পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর বন্দুকধারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলাকারীর পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা জানতে তদন্ত চলছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের এক অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যে আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’। রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, শিল্পোদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিনের উদ্যোগে এবং অর্থকণ্ঠ, এনআরবি ওয়ার্ল্ড ও গ্লোবাল এনআরবি চেম্বারের সহযোগিতায় এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা, অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। একই সঙ্গে দেশ ও প্রবাসের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও পেশাগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা। প্রথম দিন: গ্লোবাল হেলথ সামিট ২০২৬: সম্মেলনের প্রথম দিন, ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘গ্লোবাল হেলথ সামিট ২০২৬’। স্বাস্থ্যসেবা খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে এ আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসাবিজ্ঞানী, গবেষক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা পর্বে আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবায় উদ্ভাবন, চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চিকিৎসক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। দ্বিতীয় দিন: প্রবাসী বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব: সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন, ২৯ ডিসেম্বর প্রবাসী বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রযুক্তি, পেশাগত দক্ষতা বিনিময় এবং বৈশ্বিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাধিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। আলোচনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে প্রবাসী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে প্রবাসে অর্জিত অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কীভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে। বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিতে ‘এনআরবি অ্যাওয়ার্ড’: আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘এনআরবি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বীকৃতি ও সম্মাননা জানানোর উদ্দেশ্যে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। আয়োজকদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাফল্য ও অবদানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, গবেষণা ও নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করাও এ সম্মাননার অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশ ও প্রবাসের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সেতুবন্ধ: আয়োজকরা জানিয়েছেন, এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট কেবল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন নয়; বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ। বিশেষ করে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত সম্পর্কে অবহিত করা, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসায়িক ও পেশাগত নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার বিষয়টি সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণা খাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে তাঁদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরার প্রত্যাশা: সম্মেলনে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক আয়োজন বাংলাদেশের সঙ্গে প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক উদ্যোগ, পেশাগত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের অর্জন, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে একত্রিত করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নে কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’ দেশ ও প্রবাসের বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান আরও দৃশ্যমান করে তুলবে।
ফোবানার কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণ, চেয়ারম্যান এম রহমান জহির ও সেক্রেটারি ড. প্রিয়লাল কর্মকার
এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি
গাড়ির শোতে ঢেউটিনের গাড়ি! বিলাসবহুল গাড়ির ভিড়ে এ যেন চলন্ত টিনের চালা!
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে নির্বাচনি সমাবেশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ডেট্রয়েট শহরে আয়োজিত সমাবেশে এল-সায়েদের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। ওবামা অভিযোগ করেন, এল-সায়েদের নাম ও মুসলিম ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদ। ডেট্রয়েটের ক্যাস টেকনিক্যাল হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজারো সমর্থকের সামনে বক্তব্য দেন ওবামা। সেখানে এল-সায়েদের পাশাপাশি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসনও উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় মিশিগানে আগাম ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম দিনে। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে সাবেক প্রেসিডেন্টের এই উপস্থিতি ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমাবেশে ওবামা বিশেষভাবে এল-সায়েদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর নাম কিংবা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করা উচিত নয়। নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতেও একই ধরনের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ওবামার জন্মস্থান ও নাগরিকত্ব নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি ছড়ানো হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে এল-সায়েদকে ঘিরে চলমান বিতর্কের তুলনা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে সিনেটের মনোনয়ন পান তিনি। এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও প্রথম মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সিনেটর হবেন। তবে নির্বাচনের ফলাফল এখনো নির্ধারিত হয়নি। এল-সায়েদের নির্বাচনি প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং মেডিকেয়ার ফর অল কর্মসূচির সমর্থক। অন্যদিকে ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পাস হওয়া অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট নিয়ে অতীতে সমালোচনা করেছিলেন এল-সায়েদ। এই নীতিগত মতপার্থক্য স্বীকার করেও শনিবার তাঁর প্রতি সমর্থন জানান ওবামা। সাবেক প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, সব বিষয়ে একমত না হলেও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর মতো মৌলিক লক্ষ্য তাঁদের মধ্যে অভিন্ন। মিশিগানের সিনেট আসনটি এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মিশিগানে গত ২৫ বছর ধরে রিপাবলিকানরা মার্কিন সিনেটের কোনো আসনে জয় পায়নি। তবে এবার আসনটি নিয়ে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর সমর্থনের ব্যবধান জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যে ছিল। ফলে ভোটের ফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এদিকে এল-সায়েদের বিরুদ্ধে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিকবার আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এল-সায়েদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর সঙ্গে সংগঠনটির সংশ্লিষ্টতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। শনিবারের সমাবেশে ওবামা এসব আক্রমণের সমালোচনা করে বলেন, এল-সায়েদ মিশিগানের মানুষের স্বার্থ নিয়েই কাজ করতে চান। শুধু এল-সায়েদের সমর্থনেই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাও করেন ওবামা। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিবর্তে প্রশাসন অন্য বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক আরোপ এবং ইরানসংক্রান্ত মার্কিন নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তবে এসব বক্তব্য ওবামার রাজনৈতিক অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধের সিদ্ধান্ত নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওবামা মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হতে আরও দুই বছর বাকি থাকলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে ভোটারদের হাতে। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে মিশিগানের পাশাপাশি ওহাইওতেও প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। সেখানে সিনেট প্রার্থী শেরড ব্রাউন এবং গভর্নর প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটনের পক্ষে সমাবেশ করেন। ওহাইওর সমাবেশে রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর একটি নির্বাচনি বিজ্ঞাপনেরও সমালোচনা করেন ওবামা। বিজ্ঞাপনটিতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যামি অ্যাকটনের পারিবারিক জীবনের সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ওবামা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিজ্ঞাপনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ওহাইওর কয়েকজন রিপাবলিকান নেতাও বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ট্রাম্পও ওবামার সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সাবেক প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে এল-সায়েদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন করে অভিযোগ তোলেন। শনিবার জর্জিয়ার একটি নির্বাচনি সমাবেশেও ওবামার মিশিগান সফরের প্রসঙ্গ আনেন ট্রাম্প। ফলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বক্তব্যের পাল্টাপাল্টি আরও বেড়েছে। মিশিগানের ডেট্রয়েট শহর ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভোটারসমর্থনের এলাকা। শহরটিতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বড় অংশের বসবাস রয়েছে। আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচনে ডেট্রয়েটসহ ওয়েইন কাউন্টিতে এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্স বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এ কারণে সাধারণ নির্বাচনের আগে ওই এলাকার ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন এল-সায়েদ। এর আগে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ভোট হবে। মিশিগানের সিনেট আসনটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফল ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মিশিগানের মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে বারাক ওবামার সরাসরি প্রচারণা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের বিরোধিতা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও প্রশাসনের জবাবদিহির বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটেই নির্ধারিত হবে মিশিগানের এই গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনের পরবর্তী প্রতিনিধি।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি নাকি সামরিক হামলা, দুই বিকল্প বিবেচনায় ট্রাম্প
ফ্লোরিডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বন্দুকধারীর হা মলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক
নিউইয়র্কে ইহুদিদের উপর হামলা ও নিরাপত্তার উদ্বেগে ফ্লোরিডায় পাড়ি জমাচ্ছে শতাধিক ইহুদি পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য দারুণ এক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘হোমফার্স্ট ডাউন পেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’-এর আওতায় যোগ্য ক্রেতারা বাড়ি কেনার প্রাথমিক ডাউন পেমেন্ট অথবা ক্লোজিং খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো—কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দারা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। মূলত বাড়ির ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং প্রাথমিক খরচের কারণে যেসব পরিবার নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না, তাদের পাশে দাঁড়াতেই নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এইচপিডি) এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সম্প্রতি সেঞ্চুরি ২১-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে সম্ভাব্য ক্রেতাদের এই কর্মসূচির সুবিধা ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। এই কর্মসূচির আওতায় এক থেকে চার পরিবারের বসবাসের উপযোগী বাড়ি, কনডোমিনিয়াম এবং কো-অপারেটিভ অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো, কেনা বাড়িটি আবেদনকারীর প্রধান বাসস্থান হতে হবে এবং তাকে অবশ্যই প্রথমবার বাড়ি ক্রেতা হতে হবে (অর্থাৎ গত তিন বছরের মধ্যে কোনো বাড়ির মালিক ছিলেন না)। সহায়তা পাওয়ার জন্য পরিবারের আয়সীমা সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে এবং আবেদনকারীদের এইচপিডি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি কেনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এছাড়া ক্রেতার নিজস্ব তহবিল থেকে অন্তত ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা থাকা বাধ্যতামূলক। এই আর্থিক সহায়তা মূলত সাধারণ অনুদানের বদলে শর্তসাপেক্ষে মওকুফযোগ্য ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওই বাড়িতে বসবাসসহ আনুষঙ্গিক সব শর্ত পূরণ করলে পুরোপুরি মওকুফ হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের র্যান্ডলফ কাউন্টিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাঁচাতে কেনাকাটায় অতিরিক্ত ১০ সেন্ট ফি আরোপ
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৩ লাখ ডলার আয়েও মাস শেষে টাকা থাকছে না অনেকের