সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে ইসরায়েল অনেক সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
সৌদি আরবকে অনেক সাহায্য করছে ইসরায়েল, সম্পর্কও স্বাভাবিক হতে পারে: ট্রাম্প

ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে ইসরায়েল অনেক সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে ইসরায়েল কী ধরনের সহায়তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।    টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত কি না, সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি সম্মতি জানান এবং সৌদি আরব সেই সহায়তা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই আলাপে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদ জানান ট্রাম্প। আব্রাহাম চুক্তির আওতায় সেই সম্ভাবনা আবার আলোচনায় এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য ছিল, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।    তবে ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে ইসরায়েল ইতিমধ্যে সরাসরি সহায়তা দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টাইমস অব ইসরায়েলও প্রতিবেদনে এই অস্পষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। ফলে তাঁর বক্তব্যকে নির্দিষ্ট কোনো সামরিক সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।  ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সেপ্টেম্বরে খবর পাওয়া গিয়েছিল। এটি সূত্রনির্ভর তথ্য, ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে এমন কোনো ব্যবস্থার বিস্তারিত জানাননি।    ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। সৌদি আরবকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চললেও রিয়াদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরির শর্ত বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের আশাবাদের পাশাপাশি এই শর্তও দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১:৬
ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা
নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

নিউইয়র্ক সিটিতে শীতকালে তুষার সরানোর অস্থায়ী কাজে যোগ দিতে আগ্রহীদের জন্য আজ শনিবার, ১৭ অক্টোবর রেজিস্ট্রেশনের আয়োজন করা হয়েছে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সুসান ই. ওয়াগনার হাইস্কুলে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা।  নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন বা ডিএসএনওয়াইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারী তুষারপাতের পর বাসস্টপ, ক্রসওয়াক, ফায়ার হাইড্রেন্ট এবং সিঁড়িযুক্ত রাস্তা থেকে বরফ ও তুষার সরাতে এসব কর্মীকে ডাকা হয়। এটি প্রয়োজন অনুযায়ী দৈনিক ভিত্তিতে কাজের অস্থায়ী ব্যবস্থা। এক সপ্তাহে প্রথম ৪০ ঘণ্টার পর অতিরিক্ত কাজের জন্য ঘণ্টায় ৪৫ ডলার দেওয়া হবে।    আজকের রেজিস্ট্রেশন ভেন্যুর ঠিকানা ১২০০ ম্যানর রোড, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড, জিপ কোড ১০৩১৪। আগে থেকে অনলাইনে নাম লেখালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হবে। তবে ডিএসএনওয়াই জানিয়েছে, আগাম নাম না লেখালেও যোগ্য কোনো আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।  আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হবে। পাশাপাশি শীতের প্রতিকূল আবহাওয়ায় ভারী শারীরিক পরিশ্রম করার সক্ষমতা থাকতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলেই তাৎক্ষণিক কাজ শুরু হবে না। তুষারপাতের পর প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধিত কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে ডিএসএনওয়াই।    রেজিস্ট্রেশনের জন্য সচল ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, মূল সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড এবং আই নাইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য মূল ও মেয়াদ বহাল থাকা নথি সঙ্গে নিতে হবে। ডিএসএনওয়াইয়ের বর্তমান নির্দেশনায় রেজিস্ট্রেশন দ্রুত করতে পূরণ করা ফেডারেল ও নিউইয়র্ক স্টেটের ট্যাক্স ফর্ম সঙ্গে আনার কথাও বলা হয়েছে।  ৩০ নভেম্বর ২০২৬ এর আগে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নকারীরা ডিসেম্বরে চার ঘণ্টার পেইড ওরিয়েন্টেশনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হবেন। তাঁদের কাজের দুই সপ্তাহের মধ্যে পেচেক পাওয়ার জন্য দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুবিধাও দেওয়া হবে।    এদিকে নিউইয়র্ক রাজ্যের চাকরির পোর্টাল স্টেটজবসএনওয়াইয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ইনস্টিটিউট ফর বেসিক রিসার্চের পরিচালক পদে আবেদনের শেষ দিনও আজ ১৭ অক্টোবর। অফিস ফর পিপল উইথ ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজের অধীন এই স্থায়ী পূর্ণকালীন পদে চিকিৎসাবিদ্যায় ডক্টরেট এবং নির্ধারিত ক্লিনিক্যাল গবেষণা, শিক্ষকতা ও গবেষণা কর্মসূচি পরিচালনার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। এটি সিটির তুষার সরানোর কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক নিয়োগ।   

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ০:৩৮
ইরানের সাহার তাবার সম্পাদিত ছবির মাধ্যমে ‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ নামে ভাইরাল, আসল চেহারা প্রকাশ্যে আসতেই জানা গেল ভিন্ন গল্প

ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকা সাহার তাবারকে একসময় অনেকে হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ভয়ংকর চেহারার সংস্করণ বলে মনে করতেন। মুখের অস্বাভাবিক গড়ন, চোখের নিচে গভীর ছাপ, সরু নাক ও বড় ঠোঁটের ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বজুড়ে। অনেকে ধারণা করেছিলেন, জোলির মতো দেখতে হতে তিনি ৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। কিন্তু ২০২২ সালের অক্টোবরে ইরানের টেলিভিশনে নিজের স্বাভাবিক চেহারা প্রকাশের পর সামনে আসে ভিন্ন এক গল্প। জানা যায়, ভাইরাল ছবিগুলোর নাটকীয় রূপের বড় অংশই তৈরি হয়েছিল মেকআপ ও ডিজিটাল সম্পাদনার মাধ্যমে।   সাহার তাবারের প্রকৃত নাম ফাতেমেহ খিশভান্দ। ২০১৭ সালে ইনস্টাগ্রামে তাঁর সম্পাদিত ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ছবিতে তাঁকে কঙ্কালসার মুখ, অস্বাভাবিকভাবে উঁচু গালের হাড় এবং বিকৃত ঠোঁটের মতো বৈশিষ্ট্যে দেখা যেত। এসব ছবি থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ পরিচিতি। একসময় প্রচারিত হয়েছিল, অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হওয়ার জন্য তিনি প্রায় ৫০টি প্রসাধনমূলক অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তবে পরে তিনি জানান, নাকের অস্ত্রোপচার, ঠোঁটে ফিলার ও শরীরের চর্বি অপসারণের মতো কিছু প্রসাধনমূলক চিকিৎসা নিলেও ভাইরাল ছবির অস্বাভাবিক চেহারা মূলত মেকআপ ও ফটোশপের ফল।   তাবারের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হওয়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল না। বরং ছোটবেলা থেকেই তাঁর খ্যাতি পাওয়ার ইচ্ছা ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি সম্পাদনা করে পরিচিতি অর্জনকে তিনি অভিনয়জগতে প্রবেশের তুলনায় সহজ পথ হিসেবে দেখেছিলেন। ২০১৯ সালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তাঁর এই পরিচিতি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তাঁর বক্তব্য ও অনলাইন পরিচিতির পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা এসেছে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করা এই পরিচিতির পরিণতি শুধু অনলাইন আলোচনা বা সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২০১৯ সালের অক্টোবরে ইরানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা, অশালীনতা এবং তরুণদের বিপথে পরিচালিত করার মতো অভিযোগের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তাঁর আইনজীবীর বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, তাবারকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং মামলার বিষয়টি ইরানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।   তাবারের কারাবাসের বিষয়টি মানবাধিকারকর্মীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ২০২০ সালে তাঁর আইনজীবী সাঈদ দেহকান অভিযোগ করেছিলেন, আইনজীবীদের উপস্থিতি ছাড়াই তাঁকে টেলিভিশনে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই বক্তব্যটি আইনজীবীর অভিযোগ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল; স্বাধীনভাবে যাচাই করা সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়। ফলে তাঁর টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলা কথাগুলোকে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ হিসেবে ধরে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ বছরের কারাদণ্ডের খবর প্রকাশের পরও তাবার প্রায় ১৪ মাস কারাভোগ করে মুক্তি পান। ২০২২ সালের অক্টোবরে তাঁর স্বাভাবিক চেহারা প্রকাশ্যে আসার সময় ইরানে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল। তবে তাঁর মুক্তির সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি। মুক্তির পর টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর বিখ্যাত হওয়ার ইচ্ছা ছিল এবং অনলাইনে ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে সেই পরিচিতি অর্জনের চেষ্টা করেছিলেন।   সাহার তাবারের ঘটনা দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি কীভাবে বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। তাঁর চেহারা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আলোচনার বড় অংশই ছিল সম্পাদিত ছবিকে ঘিরে, অথচ তাঁর গ্রেপ্তার, বিচার ও কারাবাস ছিল বাস্তব ঘটনা। তাই ‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ নামে পরিচিত এই কাহিনি কেবল ভাইরাল ছবির রহস্য নয়, বরং অনলাইন পরিচিতি, ডিজিটাল সম্পাদনা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ঘিরে জটিল এক অধ্যায়।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ০:৮
খরা ও দারিদ্র্যে বাস্তুচ্যুত আফগান পরিবারগুলো ঋণ শোধ এবং খাবারের খরচ জোগাতে শিশু কন্যাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আফগানিস্তানে খরায় নিঃস্ব পরিবার, ঋণ ও খাবারের জন্য বিয়ে দেওয়া হচ্ছে শিশু কন্যাদের

আফগানিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাদগিস প্রদেশে দীর্ঘ খরা, ফসলহানি ও চরম দারিদ্র্যের কারণে অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার। খাবার কেনা, পুরোনো ঋণ শোধ কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের চিকিৎসার খরচ জোগাতে মেয়েদের বিয়ের বিনিময়ে অর্থ নিচ্ছেন অভিভাবকেরা। এমনকি আট থেকে দশ বছর বয়সী অনেক শিশুর বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ও তীব্র খরা, জীবিকার সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   বাদগিস প্রদেশের রাজধানী কালা-ই-নাওয়ে বসবাসকারী ১১ বছর বয়সী খাতিরার জীবন সেই সংকটের একটি উদাহরণ। পরিবারের ঋণ শোধ করতে তাকে বিয়ের জন্য ঠিক করা হয়েছে ২০ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের কথা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে খাতিরা আগের মতো বাইরে যায় না। তার মা নূর বিবি জানান, মেয়েটি এখন প্রায়ই দুশ্চিন্তায় থাকে ও কাঁদে। হবু স্বামী বাড়িতে এলে খাতিরা তার সামনে পড়তে চায় না। মায়ের ভাষ্য, আগে মেয়েটি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বিয়ের সিদ্ধান্তের পর তার আচরণে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট হয়েছে।   বাদগিসের মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন। প্রদেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল কৃষি এবং পশুপালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বছরের পর বছর খরায় জমিতে ফসল হচ্ছে না, পশুর জন্য ঘাস ও খাবার মিলছে না। অনেক পরিবার ঋণ করে চাষাবাদ চালানোর পর ফসল না পেয়ে আরও বিপাকে পড়েছে। জীবিকা হারিয়ে হাজারো মানুষ নিজেদের গ্রাম ছেড়ে কালা-ই-নাওয়ের মতো শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে কাজের আশায় এলেও অনেকে নিয়মিত আয় বা পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না।   এমনই এক পরিবারে দুই ও পাঁচ বছর বয়সী দুই মেয়ের বিয়ের কথাও ঠিক করা হয়েছে। তাদের মা গুল বোবো বলেন, মেয়েরা বিয়ের জন্য অনেক ছোট, তা তিনি জানেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁর স্বামী আগে অন্যের জমিতে চাষ করতেন। বীজ কেনা এবং ট্রাক্টর বা গাধা ভাড়া করে জমি চাষের খরচ জোগাতে তাঁকে ধার করতে হতো। খরায় ফসল নষ্ট হওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। গুল বোবো আশঙ্কা করেন, মেয়েরা বড় হয়ে স্বামীর বাড়িতে গেলে নির্যাতনের শিকার হতে পারে। কিন্তু দরিদ্রতার চাপে তাঁদের কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি।   পরিবারের ঋণ পরিশোধে মেয়েদের বিয়ের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার ঘটনা বাদগিসের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে। ১১ বছর বয়সী গুলালাইয়ের বাবা-মা এক দোকানির কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঋণ শোধ করতে মেয়েটির বিয়ে ঠিক করা হয় চল্লিশের কোঠায় থাকা ওই দোকানির সঙ্গে। গুলালাইয়ের বাবা নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মেয়েদের অন্তত ২০ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দিতেন না। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখতে তাঁদের একজনকে এভাবে ত্যাগ করতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁদের পরিবার এখন ঘরে তৈরি রুটি, চা এবং মাঠ থেকে সংগ্রহ করা বুনো শাকপাতা খেয়েই দিন কাটায়।   খরার কারণে শুধু ফসল নয়, গবাদিপশুও হারিয়েছেন বহু পরিবার। বাদগিসের পশুর বাজারে এমন অনেক মানুষকে দেখা যায়, যাঁরা পশুখাদ্য কেনার সামর্থ্য না থাকায় নিজেদের মূল্যবান গরু বিক্রি করছেন। কোনো কোনো গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ২০১৮ সালে প্রদেশটিতে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে আবারও ধারাবাহিক খরায় ফসল নষ্ট ও গবাদিপশুর খাবারের সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার হেরাত শহরের শারাক-ই-সাবজ বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস হলেও মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় খাদ্য ও চিকিৎসার সংকট কাটছে না।   হেরাতের ওই শিবিরে বসবাসকারী ১৫ বছর বয়সী দারেল্লাহ এখন অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর স্বামী মোল্লার বয়স ৩০ বছর। ২০১৮ সালে খরার কারণে তাঁদের পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে আসে। দারেল্লাহ বলেন, এত অল্প বয়সে বিয়ে করা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তিনি নিজেকে এখনো শিশু মনে করেন এবং এই বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্তকে ভালো বলে মনে করেন না। তাঁর ১১ ও নয় বছর বয়সী দুই বোনকেও বিয়ের জন্য ঠিক করা হয়েছে। পরিবারগুলোর দুর্দশার মধ্যে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেশী বাবা খাবার ও সংসার চালানোর অর্থ জোগাড় করতে না পেরে নিজের ১০ বছর বয়সী ছেলের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শিশুবধূদের জীবনে বিয়ের পরও সংকট শেষ হয় না। অনেককে অল্প বয়সেই স্বামীর বাড়িতে গিয়ে রান্না, ঘরের কাজ এবং পরিবারের অন্য দায়িত্ব সামলাতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো এসব কাজ করতে না পারলে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বয়ঃসন্ধির পরপরই সন্তান নেওয়ার চাপও তৈরি হয়, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আফগানিস্তানে মাতৃমৃত্যুর হার বিশ্বের উচ্চতমগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অল্পবয়সী মায়েদের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।   বাদগিসের খোশকিয়ানে এক কৃষকের টানা আট বছরের মধ্যে সাতবার গমের ফলন নষ্ট হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে তিনি পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মেয়ে মাজরির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১২ বা ১৩ বছর বয়সে। এখন তাঁর বয়স ১৬ বা ১৭ বছর; স্বামীর বয়স চল্লিশের কোঠায়। তাঁর দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে এবং সম্প্রতি আরেকটি সন্তান জন্মেছে। মাজরি বলেন, স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর প্রথম দিকে রান্নাও করতে পারতেন না। তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যেরা তাঁর সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন। তাঁর ছোট বোনেরা এখনো বাড়িতে থাকলেও তাঁদের বিয়ের জন্য অর্থের ব্যবস্থা হওয়ার অপেক্ষা চলছে।   চরম দারিদ্র্যের কারণে অনেক পরিবারের কাছে মেয়ের বিয়ের বিনিময়ে পাওয়া অর্থ সাময়িকভাবে বেঁচে থাকার উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও বিয়ের অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। পুরো অর্থ দেওয়া হলে মেয়েকে স্বামীর পরিবারের কাছে পাঠানোর দাবি জানানো হয়, অনেক ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির শুরুতেই। ১৪ বছর বয়সী ববি সামিয়ার বিয়ের দিনও সেই বাস্তবতা দেখা যায়। বাড়ি ছাড়ার আগে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সামিয়া বলেন, তিনি খুশি নন, কারণ তিনি এখনো অনেক ছোট। পরিবারের অসহায়ত্বের কারণে মেয়েটিকে বিয়েতে যেতে হচ্ছে।   এই সংকটের মধ্যে শিশু ও নারীদের সহায়তার জন্য কাজ করা কর্মসূচিগুলোও আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনালের আফগানিস্তানবিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের পরিচালক মার্ক ক্যালডার বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে মেয়েদের জন্য প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, অথচ তাদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্লিনিকগুলোও সহায়তা কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১২ বছর বয়সী আয়েশার মতো কিছু মেয়ে এখনো স্কুলে যাচ্ছে, কিন্তু পরিবারের ঋণ শোধের জন্য ঠিক করা বিয়ের অর্থ পরিশোধ হয়ে গেলে তাদের স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হবে। তার মা চেষ্টা করছেন, যত দিন সম্ভব মেয়েকে স্কুলে রাখতে এবং বিয়ের বাকি অর্থ চেয়ে তাগাদা না দিতে, যাতে মেয়েকে দ্রুত বাড়ি ছাড়তে না হয়।   দীর্ঘ খরা ও ফসলহানির সঙ্গে দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি মিলিয়ে আফগানিস্তানের বহু পরিবারকে এমন সিদ্ধান্তের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের। পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য মেয়েদের বিয়েতে রাজি হওয়াকে অনেকে বাধ্যতামূলক ত্যাগ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত শিশুদের শিক্ষা, শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। দারিদ্র্য দূর করা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানো এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২৩:৫০
অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের পরিবর্তনে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সরকারের পতন চাই, তবে বাংলাদেশ-নেপালের মতো নয়: প্রকাশ রাজ

ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের পরিবর্তন চান অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ। তবে সেই পরিবর্তন রাজপথের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নয়, বরং নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রস্তাবিত পদযাত্রার আগে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের ২০২৪ ও নেপালের ২০২৫ সালের সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টানেন।   ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশ রাজ বলেন, ভারতে বর্তমান সরকারের পরিবর্তন গণতান্ত্রিক উপায়েই ঘটাতে চান তাঁরা। এ লক্ষ্যে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। ভারতের সংবিধান, ভোটাধিকার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন এই অভিনেতা।   দিল্লিতে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রার উদ্যোগ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এ বক্তব্য আসে। পদযাত্রার আগে কক্‌রোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।   প্রকাশ রাজের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে। তাঁর মতে, বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে তাঁদের দমনের চেষ্টা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে নৈরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, নাগরিকদের প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে।   নিজের বক্তব্যে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা অস্ত্র নিয়ে রাজপথে নামেননি; তাঁদের শক্তি সংবিধান এবং প্রতিবাদের অধিকার। মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও ভগৎ সিংয়ের আদর্শের কথাও উল্লেখ করে তিনি জোর দেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ হতে হবে গণতান্ত্রিক।   জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রার আগে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন প্রকাশ রাজ। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণেরা জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নিতে চান। অথচ সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে তাঁদের আটক করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   বিক্ষোভকারীদের ওপর, বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগও তোলেন প্রকাশ রাজ। এ বিষয়ে আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোকে সংসদে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চা এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে প্রকাশ রাজ বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে আরও বেশি মানুষ রাজপথে নামতে পারেন।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২৩:৩২
ক্যালিফোর্নিয়ার সান ক্লেমেন্তে ও সান হুয়ান ক্যাপিস্ট্রানো এলাকায় দাবানলের কারণে হাজারো বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে পুড়ল একাধিক বাড়ি, ১৬ হাজার মানুষকে সরানোর নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে একাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। অরেঞ্জ কাউন্টিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে শুরু হওয়া নর্তে ফায়ার নামের দাবানল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৪৬৫ একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ঝুঁকিতে সান ক্লেমেন্তে ও সান হুয়ান ক্যাপিস্ট্রানো এলাকার প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, আগুনে অন্তত ছয়টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং দুই দমকলকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।   কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার দুপুরের দিকে জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল সান্তা আনা বাতাস এবং এলাকার ভূপ্রকৃতির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির ডিভিশন থ্রি প্রধান মার্ক ব্যাকঅফ এক ভিডিও বার্তায় আগুন দ্রুত বিস্তারের পেছনে আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দমকলকর্মীরা একাধিক দিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।   দাবানলের কারণে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বাড়ির বাসিন্দা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের আওতায় পড়েছেন। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির প্রধান টি জে ম্যাকগভর্ন জানান, আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই ছিল তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সন্ধ্যায় কর্মকর্তারা জানান, আগুনের বড় একটি অংশের তীব্রতা কমানো সম্ভব হয়েছে, তবে বাতাসের গতি বেশি থাকায় নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।   অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির মুখপাত্র স্টিভ কনসিয়ালদি জানান, আগুনে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাতাস তখনো জোরে বইছিল। দুই দমকলকর্মী উল্লেখযোগ্যভাবে আহত হলেও তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের বিস্তার ঠেকাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দমকলকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দাবানলটির কোনো অংশই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।   স্থানীয় বাসিন্দা রবার্ট মরিস জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে ওই এলাকায় বসবাস করলেও সেখানে এমন আগুনের মুখোমুখি তিনি আগে হননি। দাবানলের আকস্মিক বিস্তারকে তিনি এলাকার মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মাইক লেভিন জানান, আগুনের কারণে তাঁর পরিবারকেও সান হুয়ান ক্যাপিস্ট্রানোর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে। তিনি দমকলকর্মীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বছরজুড়েই দাবানলের ঝুঁকি এখন নতুন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে।   অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের সদস্যরা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ থাকা এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বলছেন। ক্যাপিস্ট্রানো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১০টি স্কুলের ক্লাস নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দেয়। পাশাপাশি খেলাধুলা ও স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রম বাতিল করা হয়। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরাপদ ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।   দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা আনা বাতাসের প্রভাবে একই সময়ে আরও কয়েকটি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। মালিবু এলাকায় ব্রাইসন ফায়ার নামের আরেকটি দাবানল প্রায় ১৫০ একর জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার পর্যন্ত আগুনটির প্রায় ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় সাত হাজারের বেশি স্থাপনার জন্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ বা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। চার শতাধিক দমকলকর্মী এবং স্থল ও আকাশপথের বিভিন্ন সরঞ্জাম আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল।   এদিকে সান দিয়েগো কাউন্টিতে মেরিন কর্পসের ক্যাম্প পেন্ডলটন ঘাঁটির কাছেও হেন্ডারসন ফায়ার নামের আরেকটি দাবানল দুই হাজার একরের বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হওয়া আগুনের কারণে সামরিক ঘাঁটির একটি এলাকায় সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ইন্টারস্টেট-৫ মহাসড়কের কাছাকাছি একটি অংশও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। ধোঁয়ার কারণে মহাসড়কের দুই পাশেই দৃশ্যমানতা কমে যায়।   দাবানলের ঝুঁকি বাড়ায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সান্তা আনা বাতাসের তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং শনিবারও বাতাস জোরে বইতে পারে। সপ্তাহান্তের পর বাতাসের গতি কমার সম্ভাবনা থাকলেও দমকল কর্তৃপক্ষ কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।   সূত্র: সিএনএন, অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটি ও ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ফায়ার প্রোটেকশন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২৩:১৭
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী স্টিভেন হ্যামিলটন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে ৭১ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি পার্কে মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে উইন্টার গার্ডেন শহরের ড. ব্র্যাডফোর্ড মেমোরিয়াল পার্কের জলাশয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার করা মরদেহের পরিচয় স্টিভেন হ্যামিলটন হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্ত করছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করে কুমিরের সম্ভাব্য আক্রমণের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উইন্টার গার্ডেনের ফায়ার চিফ হোসে গেইনজা জানান, ওই ব্যক্তি মাছ ধরার সময় পানিতে কুমিরের আক্রমণের শিকার হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সহজ ছিল না। জলাশয়ের আশপাশে আরও কুমির সক্রিয় থাকায় উদ্ধারকর্মীদের পানিতে নামতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পানির মধ্য থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, হামলায় জড়িত বলে ধারণা করা প্রায় ১২ ফুট দীর্ঘ কুমিরটিকে পরে হত্যা করা হয়েছে। ফ্লোরিডার বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কুমিরটি প্রায় ১১ ফুট ৮ ইঞ্চি দীর্ঘ ছিল।   ফ্লোরিডার মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশন এবং উইন্টার গার্ডেন পুলিশ বিভাগ যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই জলাশয়ে মাছ ধরতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত যাতায়াত করেন। এলাকাটি লেক অ্যাপোপকার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিও রয়েছে। ঘটনার পর জলাশয়সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।   ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আমেরিকান অ্যালিগেটর বা এক প্রজাতির বৃহৎ জলজ সরীসৃপ নদী, হ্রদ, জলাভূমি ও খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে পাওয়া যায়। ফ্লোরিডা মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের ৬৭টি কাউন্টিতেই এ প্রাণীর উপস্থিতি রয়েছে। সাধারণত মানুষের ওপর এদের আক্রমণ বিরল হলেও, খুব কাছাকাছি চলে গেলে বা প্রাণীটি নিজেকে হুমকির মুখে মনে করলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী, জলাশয়ের ধারে কুমির দেখা গেলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, কুমিরকে খাবার না দেওয়া এবং পানির কিনারায় দাঁড়িয়ে মাছ ধরা বা অন্য কাজের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। কুমিরের উপস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ থাকলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। ফ্লোরিডার এই ঘটনায় একজন প্রবীণ ব্যক্তির মৃত্যু আবারও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   সূত্র: ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো, উইন্টার গার্ডেন পুলিশ বিভাগ ও ফ্লোরিডা মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২২:৫৯
করোনাকালে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ায় ভার্জিনিয়ার বাসিন্দাদের কাছ থেকে সংবর্ধনা পান ইউপিএস চালক অ্যান্থনি গ্যাসকিন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
করোনার লকডাউনে ঘরে ঘরে পার্সেল পৌঁছে দিতেন, সেই ইউপিএস চালককে ধন্যবাদ জানাতে রাস্তায় শত শত মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিয়মিত পার্সেল পৌঁছে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন ইউপিএসের এক চালক। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতিদিনের মতো নিজের নির্ধারিত পথে পণ্য পৌঁছে দিতে গিয়ে তিনি দেখেন, তাঁকে স্বাগত জানাতে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছেন শত শত মানুষ। কারও হাতে ধন্যবাদ লেখা প্ল্যাকার্ড, কেউ বাজাচ্ছেন ঘণ্টা, আবার কেউ গাড়ির হর্ন বাজিয়ে জানাচ্ছেন কৃতজ্ঞতা। অপ্রত্যাশিত এই আয়োজনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চালক অ্যান্থনি গ্যাসকিন্স।   ঘটনাটি ঘটে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরের কাছের হলসলি আবাসিক এলাকায়। সেদিন নিজের নিয়মিত সরবরাহের পথে একটি মোড় ঘুরতেই গ্যাসকিন্স দেখতে পান, তাঁকে ঘিরে রেখেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁর কাজের স্বীকৃতি জানাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইউপিএসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও যোগ দেন। প্রতিদিনের সাধারণ কর্মদিবসটি মুহূর্তেই পরিণত হয় ব্যতিক্রমী এক সংবর্ধনায়।   করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সময় ঘরে থাকার বিধিনিষেধ ও সামাজিক দূরত্বের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাপকভাবে বদলে গিয়েছিল। অনেক পরিবার তখন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য সরবরাহকর্মীদের ওপর নির্ভর করত। খাবার, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে দূরে থাকা আত্মীয়স্বজনের পাঠানো উপহারও পৌঁছে দিতেন ডেলিভারি চালকেরা। ওই সময় গ্যাসকিন্সও নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এলাকার অনেক পরিবারের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।   বাসিন্দাদের কাছে তাঁর অবদান শুধু পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকা মানুষের কাছে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি ছিল বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের একটি পরিচিত মাধ্যম। প্রতিদিনের কাজে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং যত্ন নিয়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মনে বিশেষ জায়গা করে নেয়। মহামারির অনিশ্চয়তা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে এই পরিচিত মুখটি অনেকের কাছে স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল।   এলাকার বাসিন্দা প্যাটি ফ্রিডম্যান গ্যাসকিন্সকে ধন্যবাদ জানানোর উদ্যোগটি সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি উপলব্ধি করেন, চালকটির আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতি এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর কৃতজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। সেই অনুভূতিকে সম্মিলিতভাবে প্রকাশ করার জন্য তিনি অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং চমকপ্রদ আয়োজনটির পরিকল্পনা করেন। পরে শত শত মানুষ এতে অংশ নেন।   আয়োজনের সময় বাসিন্দারা বিভিন্ন বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান। ঘণ্টা বাজিয়ে ও গাড়ির হর্ন দিয়ে তাঁরা গ্যাসকিন্সকে স্বাগত জানান। সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য পৌঁছে দিয়ে পরবর্তী গন্তব্যে চলে যাওয়াই ছিল তাঁর কাজ। কিন্তু সেদিন সেই পরিচিত পথেই তাঁকে থামতে হয় মানুষের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা গ্রহণের জন্য। তাঁর কর্মস্থলের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও বিশেষ করে তোলে।   ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, সংকটের সময় মানুষের পাশে থাকা অনেক কর্মীর অবদান হয়তো প্রতিদিন চোখে পড়ে না, কিন্তু তা মানুষের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়। মহামারির সময়ে স্বাস্থ্যকর্মী, সরবরাহকর্মী, পরিবহনকর্মী ও দোকানের কর্মচারীদের মতো পেশাজীবীরা নানা ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও জরুরি সেবা চালু রেখেছিলেন। গ্যাসকিন্সের জন্য এলাকাবাসীর এই আয়োজন ছিল সেই নীরব অবদানের প্রতি সম্মিলিত স্বীকৃতি।   একটি সাধারণ ডেলিভারি রুটে শত শত মানুষের উপস্থিতি তাই কেবল একজন কর্মীকে চমকে দেওয়ার ঘটনা ছিল না। দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার সময়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, পারস্পরিক নির্ভরতা এবং ছোট ছোট দায়িত্বের বড় প্রভাবের কথাও মনে করিয়ে দেয় এটি। নিজের নিয়মিত কাজের মধ্য দিয়েই গ্যাসকিন্স যে মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন, এলাকাবাসীর এই উদ্যোগ ছিল তারই এক আন্তরিক প্রতিফলন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২২:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে হামলার পর তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে হামলা চালানো কিশোর ছিল ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে হামলা চালিয়ে তিন শিশু ও এক শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী সন্দেহভাজন কিশোর গ্রিফিন জে. জন দ্বিতীয় ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ে ঢুকে সে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের একটি শ্রেণিকক্ষে গুলি চালায়। ওই শ্রেণিকক্ষে একসময় নিজেও পড়াশোনা করত সে। হামলায় আরও এক শিশু ও এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর বাবা কাইলুব জিয়ামাঙ্কোর গুলিতে ওই কিশোর নিহত হয়।   বার্তা সংস্থা এপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে স্কুলের কাছে গুলির ঘটনার খবর পায় জরুরি সেবা বিভাগ। প্রথম দিকে একটি গাড়িতে গুলি চালানোর খবর এলেও পরে একাধিক ফোনে বিদ্যালয়ের ভেতরে বন্দুকধারী প্রবেশের তথ্য জানানো হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর আগেই হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে এসেছিলেন কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এবং দুই শিক্ষার্থীর বাবা কাইলুব জিয়ামাঙ্কো ছিলেন।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রিফিন পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে আসে। তার কাছে ছিল মায়ের কেনা একটি ১২-গেজ পাম্প-অ্যাকশন শটগান। প্রথমে বিদ্যালয়ের সামনের প্রবেশপথ দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করার সময় বাধার মুখে পড়ে সে। এরপর পেছনের প্রবেশপথের দিকে গিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। বিদ্যালয়ের শিশুদের সুরক্ষায় প্রবেশপথে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। তবে সেটি অতিক্রম করে সে বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শ্রেণিকক্ষে পৌঁছে গুলি চালায়।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে, হামলার সময় সর্বোচ্চ ১৫টি গুলি ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। পরে হামলাকারীর কাছে আরও ৪৪টি গুলি পাওয়া যায় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার পেছনে তার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারীরা। বিদ্যালয়টিতে হামলার আগে বা পরে তার আচরণ সম্পর্কে কী তথ্য পাওয়া গেছে, কীভাবে সে গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছিল এবং হামলার পরিকল্পনা কতটা আগে থেকে করেছিল, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এ ঘটনায় নিহত চারজনের মধ্যে পাঁচ, আট ও ১১ বছর বয়সী তিন শিশু এবং ২৫ বছর বয়সী শিক্ষক মেগান ল্যামবার্ট রয়েছেন। আহত সাত বছর বয়সী এক শিশু ও ৫৪ বছর বয়সী আরেক শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অবস্থা গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী রোয়াম সামারের পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্য শিশুদের পরিচয় পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।   নিহত শিক্ষক মেগান ল্যামবার্ট বেন্ড শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পরিবারের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি বোইসি স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন এবং খেলাধুলার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে কোচ হিসেবেও কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মেগান অন্যায়ের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি তাঁর গভীর মমতা ছিল। হামলার সময়ও তিনি শিক্ষার্থীদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   কাইলুব জিয়ামাঙ্কো নিজের দুই মেয়ের বিদ্যালয়ে হামলার খবর শুনে সেখানে ছুটে যান। তিনি মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। গুলির শব্দ শুনে স্কুলের দিকে এগিয়ে গিয়ে হামলাকারীকে অনুসরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে গুলি করেন। পুলিশের তথ্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারী নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা কাইলুবের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তবে তাঁর পরিবার জানিয়েছে, এই কঠিন সময়ে তাঁরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা চান।   হামলার পর পুলিশ সন্দেহভাজন কিশোরের পরিবারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র জব্দ করেছে। তদন্তকারীরা অস্ত্রটি কীভাবে তার হাতে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলার উদ্দেশ্য এখনো অজানা থাকায় কোনো নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করেনি পুলিশ। বিদ্যালয়টির নিরাপত্তাব্যবস্থা, হামলাকারীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী সম্পর্ক এবং ঘটনার আগে কোনো সতর্কসংকেত ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।   ঘটনার পর বেন্ড শহরের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দাদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ শুক্রবারের সব ক্লাস ও কার্যক্রম বাতিল করে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীদের সহায়তার ব্যবস্থা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলের নিরাপত্তা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানো ঠেকানোর বিষয়টি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স ও বেন্ড পুলিশ বিভাগ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২২:১০
নেভাডায় একটি পিকআপ থেকে উদ্ধার করা সন্দেহভাজন মাদকের প্যাকেট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার অবৈধ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি চালানোর পর ৭০০ পাউন্ডের বেশি সন্দেহভাজন মাদক উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে প্রায় ৩০ পাউন্ড ফেন্টানিল এবং ৬৭৭ পাউন্ড মেথামফেটামিন রয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকো জোয়েল গার্সিয়া ফারিয়াসের বিরুদ্ধে মাদক বিতরণের উদ্দেশ্যে মজুত রাখার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা জেলার অ্যাটর্নির কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর নেভাডার লিংকন কাউন্টিতে ইউএস হাইওয়ে ৯৩-এ গাড়িটি থামানো হয়। অ্যাশ স্প্রিংস এলাকার কাছে এক শেরিফের ডেপুটি নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিতে চলতে দেখে পিকআপটিকে থামান। পরে মাদক শনাক্তে প্রশিক্ষিত একটি কুকুর গাড়িটিতে মাদকের উপস্থিতির সংকেত দেয়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির ভেতরে রাখা ১৩টি বড় সংরক্ষণ বাক্সে সন্দেহভাজন মাদকের প্যাকেট পাওয়া যায়।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে প্রায় ৩০৭ দশমিক ২২ কেজি সাদা স্ফটিকজাতীয় পদার্থ এবং প্রায় ১৪ কেজি ইটের মতো আকৃতির প্যাকেট ছিল। পরীক্ষার জন্য নেওয়া নমুনায় প্রথম পদার্থটি মেথামফেটামিন এবং দ্বিতীয়টি ফেন্টানিল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তবে উদ্ধার করা সব মাদকের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   নেভাডা জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রধান ফেডারেল কৌঁসুলি সিগাল চাট্টাহ বলেন, বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের ঘটনাটি অপরাধী চক্রগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাদক সরবরাহের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা প্রায় ১৪ কেজি ফেন্টানিল থেকে আনুমানিক ৭০ লাখ সম্ভাব্য প্রাণঘাতী মাত্রা তৈরি হতে পারে। প্রতি মাত্রা দুই মিলিগ্রাম ধরে করা এই হিসাব নেভাডার জনসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি মানুষের জন্য সম্ভাব্য প্রাণঘাতী পরিমাণের সমান বলে তিনি উল্লেখ করেন।   তবে এই হিসাবটি কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য মাত্রাভিত্তিক অনুমান। বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদক কতজন মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে, তা পদার্থের বিশুদ্ধতা, মিশ্রণ, গ্রহণের পরিমাণ এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ফেন্টানিল অত্যন্ত শক্তিশালী কৃত্রিম ওপিওয়েড, যা চিকিৎসায় নির্দিষ্ট প্রয়োজনে ব্যবহার করা হলেও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট ও মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মেথামফেটামিন একটি শক্তিশালী উত্তেজক মাদক, যা হৃদ্‌যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।   কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করা চালানের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলার বলে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ফেন্টানিলের মতো প্রাণঘাতী মাদক অবৈধভাবে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন মাদক মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।   তদন্তে যুক্ত রয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, লিংকন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট ফেডারেল টাস্কফোর্সের সদস্যরা। লিংকন কাউন্টির শেরিফ ডেরেক ফোরমাস্টার বলেন, নিয়মিত সড়ক নজরদারি এবং প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদক শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের অবৈধ মাদক গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা থেকে শুরু করে সড়কে চলাচলকারী মানুষের নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গার্সিয়া ফারিয়াসের বিরুদ্ধে ৪০০ গ্রাম বা তার বেশি ফেন্টানিলযুক্ত মিশ্রণ এবং ৫০০ গ্রাম বা তার বেশি মেথামফেটামিনযুক্ত মিশ্রণ বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে তাঁর ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি পাঁচ বছরের তত্ত্বাবধানাধীন মুক্তির বিধানও রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: ফক্স নিউজ, যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা জেলার অ্যাটর্নির কার্যালয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২২:০
নিউইয়র্ক সিটিতে গ্রিল ব্যবহারের সময় ভবন ও দাহ্য বস্তু থেকে অন্তত ১০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বারবিকিউ থেকে অগ্নিকাণ্ড রোধে নিউ ইয়র্ক সিটির কড়াকড়ি, মানতে হবে যেসব আইন

গ্রীষ্মের ছুটিতে কিংবা পরিবারের সঙ্গে অবসর কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাড়ির বাইরে বারবিকিউ বা গ্রিলে খাবার রান্না করেন অনেকে। তবে গ্রিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তা-সংক্রান্ত নিয়ম রয়েছে, বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে। সেখানে গ্রিল ভবনের দেয়াল, কাঠের ডেক, আসবাবসহ আগুন ধরে যেতে পারে এমন বস্তু থেকে অন্তত ১০ ফুট দূরে রাখতে হয়। পাশাপাশি আগুন নেভানোর জন্য হাতের কাছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র অথবা পানির সংযোগসহ বাগানের পাইপ রাখতে হয়।   নিউইয়র্ক সিটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কয়লা, বৈদ্যুতিক কিংবা গ্যাসচালিত গ্রিল বাইরে ব্যবহার করা গেলেও নির্দিষ্ট অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে। ঘরের ভেতরে বাইরের ব্যবহারের উপযোগী গ্রিল চালানো নিষিদ্ধ। একইভাবে জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত অগ্নিনির্গমন সিঁড়িতেও গ্রিল রাখা বা ব্যবহার করা বেআইনি ও বিপজ্জনক। এসব নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রিল থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়া এবং আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো।   নিউইয়র্ক সিটির অগ্নিনিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, বহনযোগ্য গ্রিল ব্যবহার বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দাহ্য বর্জ্য, আগুন ধরে যেতে পারে এমন উপকরণ এবং দাহ্য ভবনপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ১০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। গ্রিল ব্যবহারের সময় আশপাশের জানালা ও দরজা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখার নির্দেশনাও রয়েছে। গ্রিল জ্বালানোর পর সেটি নজরদারির বাইরে ফেলে রাখা যাবে না। আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাতের কাছে রাখাও জরুরি।   অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারীদের জন্য গ্যাসচালিত গ্রিল ব্যবহারে বাড়তি বিধিনিষেধ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ছাদ বা বারান্দাসহ অধিকাংশ আবাসিক ভবনে তরল প্রোপেন গ্যাসের ব্যবহার ও সংরক্ষণ সীমিত। এসব ভবনে সাধারণত সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৪ আউন্স ধারণক্ষমতার একটি ছোট, একবার ব্যবহারযোগ্য প্রোপেন সিলিন্ডার ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। তবে এক বা দুই পরিবারের বাড়িতে বাইরে সর্বোচ্চ ২০ পাউন্ডের দুটি প্রোপেন সিলিন্ডার সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। বাড়ির ধরন ও গ্রিলের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।   শহরের পার্কে বারবিকিউ করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির পার্ক বিভাগ নির্ধারিত এলাকায় গ্রিল ব্যবহারের অনুমতি দেয়। অনুমোদিত এলাকার বাইরে পার্ক বা সৈকতে বারবিকিউ করা যায় না। পার্কের ভেতরে গাছের পাশে কিংবা ভবনের কাছেও গ্রিল ব্যবহার নিষিদ্ধ। এসব এলাকায় প্রোপেনচালিত গ্রিল ব্যবহারের অনুমতিও নেই। কয়লা ও দেশলাই ব্যবহারের পর নির্ধারিত পাত্রে ফেলতে হয়, যাতে আগুনের অবশিষ্টাংশ থেকে নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি না হয়।   শুধু নিউইয়র্ক সিটিতে নয়, পুরো অঙ্গরাজ্যেই গ্রিল ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গ্রিলের আগুনে আহত হওয়ার ঘটনায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু ঘটে এবং সরাসরি সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এসব পরিসংখ্যান গ্রিল ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।   কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী, গ্রিল ব্যবহারের আগে গ্যাসের পাইপ ও সংযোগে ছিদ্র বা লিকেজ আছে কি না পরীক্ষা করা উচিত। গ্রিল পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা তেল ও খাবারের অবশিষ্টাংশ সরিয়ে ফেললে আগুন হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। গ্যাসচালিত গ্রিল জ্বালানোর সময় ঢাকনা খোলা রাখতে হয়, যাতে জমে থাকা গ্যাস থেকে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা কমে। শিশু ও পোষা প্রাণীকে গ্রিলের কাছ থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি ব্যবহারের পর কয়লা সম্পূর্ণ নিভেছে কি না, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।   তবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সর্বত্র একই ১০ ফুট দূরত্বের নিয়ম প্রযোজ্য, এমনটি বলা ঠিক হবে না। নিউইয়র্ক সিটির ক্ষেত্রে এ দূরত্বের বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকায় স্থানীয় আইন, আবাসন কর্তৃপক্ষের বিধি এবং নির্দিষ্ট স্থানের নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই বাড়ির উঠান, ছাদ, বারান্দা কিংবা পার্কে গ্রিল ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি ৩১১, নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা বিভাগ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২১:৪৫
ওরেগনের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে হামলার ঘটনায় বন্দুকধারীকে থামাতে এগিয়ে আসেন দুই সন্তানের বাবা কাইলুব জিয়ামাঙ্কো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দুই মেয়ের স্কুলে গুলির শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে বন্দুকধারীকে থামালেন বাবা, বাঁচালেন বহু প্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর হামলার সময় নিজের দুই মেয়ের স্কুলে ছুটে গিয়ে হামলাকারীকে থামান ৩৬ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি কাইলুব জিয়ামাঙ্কো। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে বাড়ি ফেরার পথে গুলির শব্দ শুনে তিনি স্কুলটিতে যান। পরে স্কুলের ভেতরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পৌঁছে ১৬ বছর বয়সী বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও এক শিশু ও এক শিক্ষক।   ঘটনাটি ঘটেছে ওরেগনের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাইলুবের ভাই কাইল গিয়ামাঙ্কো জানিয়েছেন, তাঁর ভাই দুপুর ১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় স্কুলের কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান তিনি। কাইলুবের নিজের দুই মেয়েও ওই বিদ্যালয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে এগিয়ে যান এবং স্কুলে প্রবেশ করা বন্দুকধারীকে থামানোর চেষ্টা করেন।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাইলুবের কাছে বৈধভাবে গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি ছিল। তিনি বন্দুকধারীকে অনুসরণ করে স্কুলের বিশেষ শিক্ষার শ্রেণিকক্ষে পৌঁছান এবং সেখানে তাকে গুলি করেন। এতে ১৬ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারী জন জে. গ্রিফিন দ্বিতীয় নিহত হয়। তবে এ ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা থাকলেও কাইলুব নিজেকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরতে চান না বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।   কাইলুবের মা হিসেবে পরিচয় দেওয়া কেন্ডা ফ্রিম্যান নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ছেলের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। তবে এমন ভয়াবহ ঘটনার পর কাইলুব মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আরও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা করতে না পারার জন্য তিনি অপরাধবোধে ভুগছেন। এ কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নন এবং ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।   পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাইলুব কোনো ধরনের প্রচার বা স্বীকৃতি চাইছেন না। বরং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো জরুরি সেবাকর্মী, স্কুলের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দুই মেয়েও ওই স্কুলের শিক্ষার্থী হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁরা আপাতত কোনো সাক্ষাৎকারে অংশ নেবেন না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাইলুবের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ‘একজন মহান নায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কাইলুব দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। তবে ঘটনাটিতে প্রাণহানির পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা এবং স্কুলের শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থাও এখন স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে হামলার খবর পায় বেন্ড পুলিশ। প্রথমে একটি গাড়িতে গুলি চালানোর খবর আসে। এর পরপরই জরুরি সেবা বিভাগে একাধিক ফোন আসে, যেখানে জানানো হয়, এক বন্দুকধারী স্কুলের ভেতরে ঢুকে গুলি চালাচ্ছে। দুপুর ১টা ২ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়।   পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিভিজেড জানিয়েছে, বন্দুকধারী স্কুলের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং দরজার কাচে গুলি চালিয়ে প্রবেশপথ তৈরি করে। পরে সে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে গুলি চালায়। ওই শ্রেণিকক্ষে হামলাকারীকে ঠেকানোর চেষ্টা করেন এক শিক্ষকও। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষকের প্রতিরোধের ঘটনাটিও হামলা থামানোর প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   হামলায় পাঁচ, আট ও ১১ বছর বয়সী তিন শিশু এবং ২৫ বছর বয়সী শিক্ষক মেগান ল্যামবার্ট নিহত হয়েছেন। আহত সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এবং ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত শিশুটির অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি সহায়তা এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   বেন্ড পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এবং কিশোরটি কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবহৃত অস্ত্রটি ছিল তার মায়ের পাম্প-অ্যাকশন শটগান। স্কুলটির সঙ্গে হামলাকারীর পূর্ববর্তী সম্পর্ক কী ছিল, সেটিও তদন্তের বিষয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানোর ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: এনবিসি নিউজ, নিউইয়র্ক পোস্ট, বেন্ড পুলিশ বিভাগ ও কেটিভিজেড।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২১:১৬
১৫ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি এক যুবক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১৫ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে সৌদি আরব

সৌদি আরবে কিশোর বয়সে বিক্ষোভ ও জানাজায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মুখে রয়েছেন ইউসুফ আল-মানাসিফ নামের এক যুবক। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আল-মানাসিফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে শিয়া সম্প্রদায়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং জানাজায় উপস্থিত থাকা। এসব ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রায় বহাল থাকায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি উদ্বেগ জানিয়েছে।   আল-মানাসিফকে ২০১৭ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয় এবং পরে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলার বিচার পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশেষায়িত ফৌজদারি আদালতে তাঁর বিচার হয়। আদালত ২০২২ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর মামলায় ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং জানাজায় উপস্থিত থাকার মতো কর্মকাণ্ডও অভিযোগের অংশ ছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব জমায়েতকে কখনো কখনো বিক্ষোভ বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভের দাবি, গ্রেপ্তারের পর আল-মানাসিফকে নির্যাতন করা হয় এবং জোর করে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এমন একটি স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের পাঁচ বছর পর, ২০২২ সালে, প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং স্বীকারোক্তি আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে এসব অভিযোগ গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির অভিযোগের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   আল-মানাসিফের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। তাঁদের হয়ে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন রিপ্রিভ ও ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থার পরামর্শক দুয়া ধাইনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা এখন কার্যত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করতে পারছেন না। প্রকাশ্যে কথা বললে তাঁদের হয়রানি বা গ্রেপ্তারের আশঙ্কা রয়েছে বলেও মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন আশঙ্কার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   আল-মানাসিফের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাটি সৌদি আরবে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। ২০২০ সালে দেশটির রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ঘোষণায় বলা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পরবর্তী সময়েও এমন কয়েকটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনার সময় ১৮ বছরের নিচে ছিলেন। ফলে ঘোষিত নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য আল-মানাসিফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা মানবাধিকারের ক্ষেত্রে গুরুতর অবনতি হবে। জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও এর আগে তাঁর মামলাসহ অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সৌদি আরবকে ১৮ বছরের কম বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী, শিশু অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ।   এ ধরনের মামলার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আলি আল-সুবাইতির নাম উল্লেখ করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে তাঁকে তাঁর চাচা মুস্তাফা আল-সুবাইতির সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে মানবাধিকার সংগঠন সানাদ জানিয়েছে। আলি আল-সুবাইতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে এমন কর্মকাণ্ডও ছিল, যেগুলো সংঘটিত হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ঘটনা সৌদি আরবে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তবে এসব মামলার অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও দণ্ডের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য জানা জরুরি।   সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বৃদ্ধিও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যা। সংস্থাটির তথ্য বলছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ ছিলেন মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি, যাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সবগুলোই প্রাণঘাতী অপরাধ ছিল না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি অহিংস অপরাধেও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার দেশটির বিচারব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ও মামলার ধরন সম্পর্কে বিভিন্ন সংস্থার হিসাব পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে।   জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আগেও আল-মানাসিফের মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের কম বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৌদি আরব এই সনদের পক্ষভুক্ত দেশ। ফলে দেশটির ঘোষিত নীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তব বিচারপ্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।   রিপ্রিভের দুয়া ধাইনি মনে করেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য একজন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, আল-মানাসিফের বয়স ও অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচও তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রায় স্থগিত, দণ্ড পরিবর্তন বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।   আল-মানাসিফের পরিণতি কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সর্বোচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার খবর তাঁর জন্য আইনি প্রতিকারের সুযোগ আরও সীমিত করে দিয়েছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন। তাঁরা সৌদি কর্তৃপক্ষকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করে মামলাটি পুনর্বিবেচনা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার ঘোষিত নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ১৬ অক্টোবর ২০২৬; হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২১:২
জাপানের টোকিওতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপন আলোচনায় অংশ নেয় মার্কিন প্রতিনিধিদল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠক, নেপথ্যে কী?

যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের মধ্যে গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখলেও এখন ওয়াশিংটন আবার সরাসরি আলোচনার পথ অনুসরণ করছে। রয়টার্সের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা গত সপ্তাহে জাপানের টোকিওতে গোপন বৈঠক করেছেন। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা ও গবেষণাবিষয়ক সহকারী সচিব মাইকেল ভ্যান্স টোকিওর বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এতে এক ডজনের বেশি মার্কিন কর্মকর্তা অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে মিয়ানমারের পক্ষে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয় হওয়ায় সূত্রগুলো নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দুই পক্ষের বৈঠক হয়েছিল। ওই আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আটক মার্কিন ব্যবসায়ী অ্যাডাম কাস্তিয়োর মুক্তি নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধে মিয়ানমারের সহযোগিতা আদায় করা। পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণাকেন্দ্রগুলো এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। এসব চক্রের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন বিনিয়োগে প্রতারণা এবং অন্যান্য আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হয়। সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, মিয়ানমারের কিছু সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কোনো কোনো এলাকায় সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। তবে এসব অপরাধ দমনে মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রতারণা দমনের পাশাপাশি মিয়ানমারের বিরল খনিজসম্পদও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের একটি বিষয়। দেশটিতে ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুবিদ্যুৎ প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উন্নত শিল্পপণ্য তৈরিতে এসব খনিজ ব্যবহৃত হয়। চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র এসব সম্পদের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই খনিজসম্পদে প্রবেশাধিকার পাওয়া সহজ নয়। মজুতের বড় অংশ এমন এলাকায় অবস্থিত, যেখানে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সংঘাত চলছে। অন্যদিকে চীন এসব খনিজের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। ফলে খনিজসম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উদ্যোগে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও প্রভাব ফেলতে পারে। মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে এই যোগাযোগ যুক্তরাষ্ট্রের আগের নীতির তুলনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর ওয়াশিংটন সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র গণহত্যার স্বীকৃতিও দিয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারের নেতা মিন অং হ্লাইং এখনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। বাংলাদেশের জন্যও এই কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। তবে টোকিওর সাম্প্রতিক বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিংবা এ বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য রয়টার্সের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই বৈঠকটিকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপন করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সর্বশেষ বৈঠক নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বৈঠকের পূর্ণ আলোচ্যসূচি, সম্ভাব্য চুক্তি এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২০:৩৪
হলিউড অভিনেতা টিমোথি বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে শিশু যৌ ন নিপীড়নের মামলা খারিজ করলেন বিচারক
হলিউড অভিনেতা টিমোথি বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে শিশু যৌ ন নিপীড়নের মামলা খারিজ করলেন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একজন বিচারক বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা টিমোথি বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে আনা শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগের একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। প্রসিকিউটরদের চরম অসদাচরণ এবং গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়ায় ত্রুটির কারণে মামলাটি বাতিল করা হয়।   গত শুক্রবার স্টেট ডিস্ট্রিক্ট জজ জোসেফ মন্টানো আসামিপক্ষের একটি আবেদন মঞ্জুর করে এই রায় দেন। বিচারক তাঁর আদেশে জানান, প্রসিকিউটিং অ্যাটর্নি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। গ্র্যান্ড জুরিরা সাক্ষীদের ডাকতে চাইলেও প্রসিকিউটররা এমন একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করেন, যার ফলে সাক্ষীদের আদালতে উপস্থাপন করা থেকে বিরত রাখা হয়। এটি গ্র্যান্ড জুরি ব্যবস্থার কাঠামোগত অখণ্ডতা রক্ষার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বিচারক উল্লেখ করেন।   'ওয়েস্ট উইং' এবং 'ফিল্ড অফ ড্রিমস'-খ্যাত এই অভিনেতার বিরুদ্ধে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে 'দ্য ক্লিনিং লেডি' টিভি সিরিজের সেটে দুই যমজ শিশুকে (৭ ও ৮ বছর বয়সী) অনুচিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ উঠেছিল। শিশু দুটির বাবা-মা অভিযোগ করেছিলেন যে, নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কের সেটে বাসফিল্ড তাঁদের সন্তানদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন।   তবে বাসফিল্ড প্রথম থেকেই এই অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, সিরিজ থেকে কাজ হারানোর ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা থেকেই ওই শিশুদের বাবা-মা তাদের দিয়ে এমন মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছেন।   বাসফিল্ডের আইনজীবী অ্যাম্বার ফেয়ারবার্গ জানান, গ্র্যান্ড জুরির শুনানির সময় সেটে উপস্থিত থাকা সাক্ষীরা হলের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা আদালতে সত্য তুলে ধরতে প্রস্তুত ছিলেন, যা বাসফিল্ডের নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ দিত। জুরিরা তাঁদের বক্তব্য শুনতে চাইলেও প্রসিকিউটররা ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের সাক্ষ্য দিতে দেননি।   প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুরাও পুলিশের কাছে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের কথা অস্বীকার করেছিল বলে আইনজীবীরা আদালতকে জানান। এদিকে, এই ভিত্তিহীন অভিযোগের জেরে বাসফিল্ডের ক্যারিয়ারে বড় ধস নামে। তিনি কাজ হারান এবং তাঁর ট্যালেন্ট এজেন্সি তাঁকে বরখাস্ত করে।   এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে বাসফিল্ড স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি যে নতুন করে কোনো অভিযোগ গঠন করে মামলাটি এগিয়ে নেওয়া হবে কি না। তবে বাসফিল্ডের আইনজীবী ফেয়ারবার্গ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি রাষ্ট্রপক্ষ আবারও এই মামলা নিয়ে এগোতে চায়, তবে সত্য প্রমাণের জন্য বাসফিল্ড এবং তাঁর পক্ষের সাক্ষীরা আইনি লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৯:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৫ বছরের শিশুকে লাঞ্চবক্স দিয়ে আঘাত, গ্রেপ্তার থেরাপিস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৫ বছরের শিশুকে লাঞ্চবক্স দিয়ে আঘাত, গ্রেপ্তার থেরাপিস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে ৫ বছর বয়সী এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ওই শিশুর সহায়তার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত জেনিফার রেনল্ডস (৫৪) নামের এক থেরাপিস্টকে শক্ত লাঞ্চবক্স দিয়ে শিশুটির মুখে আঘাত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   হেনরি কাউন্টি শেরিফ বিভাগ জানিয়েছে, গত ৬ অক্টোবর প্যারিস শহরের রিয়া এলিমেন্টারি স্কুলে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে এবং গুরুতর শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ওই থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।   জানা গেছে, জেনিফার রেনল্ডস একজন 'এবিএ' (ABA) থেরাপিস্ট হিসেবে শিশুটিকে তার আচরণগত সমস্যা ও উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করার জন্য স্কুলে নিয়োজিত ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এমন আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার পরপরই তাকে স্কুল ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শিশুটির শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের জন্য তাকে স্কুলের নার্সের কাছে নেওয়া হয়।   স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে ভুক্তভোগী শিশুর মা এমিলি ডটসন জানান, তারা স্কুলের সার্বিক তদারকিতে সন্তুষ্ট এবং শিশুটিকে পুনরায় ওই স্কুলে পাঠাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে ভবিষ্যতে তারা আর ওই নির্দিষ্ট থেরাপি কোম্পানির সেবা নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।   ঘটনার দুদিন পর গত ৮ অক্টোবর অভিযুক্ত জেনিফার রেনল্ডসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্ডের বিনিময়ে জামিনে মুক্তি পান তিনি। আগামী ২০ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। অভিযুক্ত থেরাপিস্ট এখনো কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না বা নিজের দোষ স্বীকার করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুরো ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৯:২০
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে বন্দুক হা মলায় প্রাণ গেল ২৫ বছরের শিক্ষিকার, দরিদ্র শিশুদের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে বন্দুক হা মলায় প্রাণ গেল ২৫ বছরের শিক্ষিকার, দরিদ্র শিশুদের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি এলিমেন্টারি স্কুলে বন্দুকধারীর বর্বরোচিত হামলায় নিহত ২৫ বছর বয়সী শিক্ষিকাকে মেগান ল্যাম্বার্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে ১৬ বছর বয়সী গ্রিফিন জনের ওই নারকীয় হামলায় মেগানসহ মোট চারজন প্রাণ হারান। নিহত বাকি তিনজনের সবাই ওই স্কুলের শিক্ষার্থী, যাদের বয়স যথাক্রমে ৫, ৮ ও ১১ বছর। মেগান ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা এবং দারুণ একজন ভলিবল কোচ।   শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেগানের শোকস্তব্ধ পরিবার অত্যন্ত আবেগঘন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, "মেগান কেমন মানুষ ছিল, তা বলে শেষ করতে অন্তত ২৫ বছর সময় লাগবে।" ভলিবল ও খেলাধুলার প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আবেগ। দরিদ্র পরিবারের শিশুরাও যেন খেলাধুলায় অংশ নিতে পারে, সেজন্য ভলিবল কোচ হিসেবে প্রাপ্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক তিনি হাসিমুখে ফিরিয়ে দিতেন।   বেন্ড পুলিশ বিভাগের মাধ্যমে দেওয়া ওই বিবৃতিতে পরিবার আরও জানায়, মেগান অত্যন্ত দয়ালু ও বিশাল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুসহ পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য তিনি সবসময় লড়াই করতেন। পরিবারের মতে, মেগান যেখানেই যেতেন, নিজের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে চারপাশ আলোকিত করে রাখতেন।   এই মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটে কাইলুব জিয়াম্যানকো নামের এক বীর প্রত্যক্ষদর্শীর সাহসিকতায়। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন এবং বন্দুকধারী কিশোর গ্রিফিনকে গুলি করে হত্যা করেন, যার ফলে আরও বড় কোনো প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।   নিহত শিক্ষিকার পরিবার এই বীরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছে, "আমরা জানি ওই ব্যক্তি এখন একটি কঠিন মানসিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে আমরা তাঁর কাছে চিরকৃতজ্ঞ এবং আমাদের চোখে তিনি একজন সত্যিকারের বীর।"

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৯:০
ব্রুকলিন ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ ১৯ বছরের তরুণের, মুহূর্তেই ছুটে এসে প্রাণ বাঁচালেন জেট-স্কিয়াররা
ব্রুকলিন ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ ১৯ বছরের তরুণের, মুহূর্তেই ছুটে এসে প্রাণ বাঁচালেন জেট-স্কিয়াররা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ থেকে ইস্ট রিভারে ঝাঁপ দেওয়া এক কিশোরকে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করে খবরের শিরোনামে এসেছেন একদল জেট-স্কিয়ার। 'এনওয়াইসি পাইরেটস' (NYC Pirates) বা 'পার্টি পাইরেটস' নামের এই দলটি সাধারণত তাদের উদ্দাম জলপার্টির জন্য পরিচিত হলেও, গত বুধবার তারা আবির্ভূত হন সত্যিকারের ত্রাতা হিসেবে।   ২৭৮ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে লাফ দেওয়ার পর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ১৯ বছর বয়সী ওই কিশোরকে পানি থেকে তুলে পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা। সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর কারণে ওই তরুণের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।   এনওয়াইসি পাইরেটসের প্রেসিডেন্ট জেমস রাইশেল্ট জানান, তিনি ও তাঁর বন্ধুরা সেসময় নদীতেই অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ তারা দেখতে পান, ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি নৌকা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ওই ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দেন। কোনো কিছু না ভেবেই রাইশেল্ট দ্রুত তাঁর জেট-স্কি নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।   তিনি যখন পৌঁছান, তখন কিশোরটি পানির প্রায় এক ফুট নিচে তলিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তখনও তার জ্ঞান ছিল। রাইশেল্ট তাকে টেনে তুলে বলেন, "ভয় পেয়ো না বন্ধু, আমি আছি!"   কিশোরটিকে পানি থেকে তোলার পর তার চোখে চরম আতঙ্ক দেখতে পান রাইশেল্ট। কিশোরটি প্রথমেই তাকে বলে, "আমি দুঃখিত"। সেসময় দলের আরেক সদস্য রাইশেল্টের জেট-স্কিতে লাফিয়ে উঠে ওই আহত কিশোরকে স্থির রাখতে সাহায্য করেন। এরপর তারা তাকে নিউইয়র্ক পুলিশের (NYPD) হারবার ইউনিটের নৌকায় তুলে দেন। সাউথ স্ট্রিট সিপোর্ট হয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত তাকে বেলভ্যু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোর বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।   এই রোমহর্ষক উদ্ধারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে রাইশেল্ট মানসিক অবসাদে ভোগা মানুষদের আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে সাহায্য চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে এনওয়াইসি পাইরেটস বেশ কয়েক বছর ধরে তহবিল সংগ্রহের কাজ করে আসছে। রাইশেল্ট বিনয়ের সাথে জানান, এমন উদ্ধারকাজ তাদের জন্য নতুন কিছু নয়; এর আগেও তারা পানিতে ডুবে যাওয়া ক্লান্ত সাঁতারুদের এবং নৌকায় আগুন লাগার ঘটনায় অনেককে উদ্ধার করে জীবনের ঝুঁকি এড়িয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৮:৩৬
জার্মানির বিমানবন্দরে যাত্রীর স্যুটকেসে মিলল ৩৭টি বিষধর সাপ ও ৫৫টি টিকটিকি, হতবাক কর্মকর্তারা
জার্মানির বিমানবন্দরে যাত্রীর স্যুটকেসে মিলল ৩৭টি বিষধর সাপ ও ৫৫টি টিকটিকি, হতবাক কর্মকর্তারা

জার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে এক মেক্সিকান যাত্রীর স্যুটকেস থেকে অত্যন্ত অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৯২টি জীবন্ত সরীসৃপ উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। আপনার দেওয়া তথ্যে ৯২টি সাপ ও ৫৫টি টিকটিকির কথা বলা হলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন যাচাই করে দেখা গেছে স্যুটকেসটিতে মূলত ৩৭টি বিষধর সাপ এবং ৫৫টি টিকটিকিসহ সর্বমোট ৯২টি সরীসৃপ ছিল।   ৪৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পেশায় একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং তিনি মেক্সিকো থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে জার্মানিতে পৌঁছেছিলেন। বিমানবন্দরে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি চালান কর্মকর্তারা। এ সময় মাদক পরীক্ষায় তার শরীরে কোকেনের উপস্থিতিও পাওয়া যায়।   মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার পর শুল্ক কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর স্যুটকেস তল্লাশি করে রীতিমতো চমকে যান। সেখানে প্লাস্টিকের পাত্র, শ্যাম্পুর খালি বোতল, প্রসাধনীর কৌটা এবং মোজার ভাঁজে অত্যন্ত সুকৌশলে প্রাণীগুলোকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিমানবন্দরের শুল্ক কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন অভিনব পন্থায় ভয়ংকর বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি।   ছোট পাত্রে অক্সিজেনের অভাবে এবং দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে বেশ কয়েকটি প্রাণী মারা যায়। তবে জীবিত প্রাণীগুলোকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   জিজ্ঞাসাবাদে আটক ওই মেক্সিকান নাগরিক জানান, পরিচিত এক ব্রাজিলীয় ব্যক্তির অনুরোধে তিনি প্রাণীগুলোকে ইউরোপে নিয়ে আসছিলেন। তবে এমন গুরুতর অপরাধের কারণে জার্মান কর্তৃপক্ষ তাকে সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। বন্যপ্রাণী চোরাচালান ও মাদক সেবনের দায়ে তাকে সরাসরি ‘নিরাপত্তাঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইস্তাম্বুলগামী একটি ফিরতি ফ্লাইটে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৮:১৭
কানাডায় এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে বড় পরিবর্তন, বাড়তি সুবিধা পাবেন ভারতীয় পেশাজীবীরা
কানাডায় এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে বড় পরিবর্তন, বাড়তি সুবিধা পাবেন ভারতীয় পেশাজীবীরা

কানাডার নতুন অভিবাসন নিয়মে দেশটিতে কর্মরত দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীরা বড় ধরনের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেমে আনা নতুন পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে উচ্চ বেতনের পেশায় কানাডীয় কাজের অভিজ্ঞতা এবং জব অফার বা চাকরির প্রস্তাবের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। গত ১৬ অক্টোবর কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (আইআরসিসি) ঘোষিত এই পরিবর্তনগুলো আগামী ৩ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) আবেদনকারীদের মধ্যে ভারতীয়রাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, ফলে নতুন এই নিয়মের অধীনে তাদের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশেষ করে যারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে কানাডায় কাজ করছেন, তারা এই নিয়মে অতিরিক্ত পয়েন্ট পাবেন। অন্যদিকে, কানাডার বাইরে বসবাসকারী যেসব আবেদনকারীর স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতা বা যোগ্য জব অফার নেই, তাদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।   নতুন নিয়মের অধীনে, প্রার্থীরা উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য কাজের অভিজ্ঞতার জন্য কানাডিয়ান কাজের মেয়াদভিত্তিক পয়েন্টের বাইরেও সর্বোচ্চ ৭০টি অতিরিক্ত পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন। আর একটি উচ্চ বেতনের যোগ্য জব অফার থাকলে মিলতে পারে সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্ট। তবে প্রার্থীরা কেবল যোগ্য কাজের অভিজ্ঞতা অথবা জব অফার—এই দুটির মধ্যে যেটিতে বেশি পয়েন্ট পাবেন, সেটিই তাদের স্কোরে যোগ হবে; একসঙ্গে দুটির পয়েন্ট দাবি করা যাবে না।   কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডিয়াব জানিয়েছেন, কানাডায় সফল হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য দক্ষ নতুনদের বেছে নেওয়া, দেশীয় শ্রমশক্তিকে পরিপূরক করতে সক্ষম কর্মীদের আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং দক্ষ ট্রেডসহ অন্যান্য বেশ কিছু খাতের নির্দিষ্ট পেশাগুলো এই নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে। কোনো পেশার জাতীয় মধ্যম মজুরি যদি কানাডিয়ান শ্রমশক্তির মধ্যম মজুরির অন্তত ১.৩ গুণ হয়, তবে সেটি উচ্চ বেতনের পেশা হিসেবে বিবেচিত হবে।   কাজের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে, যেসব প্রার্থী যোগ্য পেশায় অন্তত ১২ মাস বা ১ হাজার ৫৬০ ঘণ্টা কাজ করেছেন, তারা মজুরির হারের ওপর ভিত্তি করে ২০, ৪০ বা ৭০টি অতিরিক্ত পয়েন্ট পেতে পারেন। যে পেশাগুলোর মধ্যম মজুরি জাতীয় মধ্যম মজুরির অন্তত দ্বিগুণ, সেসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বোনাস পয়েন্ট প্রযোজ্য হবে।   এর পাশাপাশি, প্রার্থীরা কানাডায় তাদের দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতার মেয়াদের জন্যও পয়েন্ট পাওয়া অব্যাহত রাখবেন। যোগ্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো প্রার্থীর যদি সঙ্গী বা জীবনসঙ্গী না থাকে, তবে তিনি ৫ বছর বা তার বেশি কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৮০ পয়েন্ট এবং সঙ্গী থাকলে সর্বোচ্চ ৭০ পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন।   অন্যদিকে, যোগ্য উচ্চ বেতনের পেশায় জব অফারের ক্ষেত্রে মজুরির স্তরের ওপর নির্ভর করে ৫০, ৭০ বা ১০০ পয়েন্ট যুক্ত হবে। যোগ্য বিবেচিত হওয়ার জন্য চাকরির প্রস্তাবটিকে অবশ্যই বেতনভুক্ত, পূর্ণকালীন এবং দক্ষ পেশায় নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে। সেইসঙ্গে প্রার্থীর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পর কাজ অন্তত এক বছর চলবে বলে প্রত্যাশিত হতে হবে। অভিবাসন বিভাগ এই অফারের সত্যতা এবং নিয়োগকর্তার প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষমতা যাচাই করবে।   এই পরিবর্তনের আরেকটি বড় দিক হলো, কমপ্রিহেনসিভ র‍্যাঙ্কিং সিস্টেমের (সিআরএস) অধীনে পয়েন্ট অর্জনের ক্ষেত্রে যোগ্য জব অফারের জন্য এখন থেকে আর লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (LMIA) বা এলএমআইএ-র প্রয়োজন হবে না। সাধারণত বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে কানাডিয়ান শ্রমবাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না—এটি প্রমাণ করতে নিয়োগকর্তাদের এলএমআইএ সংগ্রহ করতে হয়।   আগামী ৩ নভেম্বর থেকে, যোগ্য জব অফারের জন্য সিআরএস পয়েন্ট পেতে কিংবা কানাডার ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রাম এবং ফেডারেল স্কিলড ট্রেডস প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণের জন্য এলএমআইএ নথির আর দরকার হবে না। তবে এর মানে এই নয় যে সব জব অফারই অতিরিক্ত পয়েন্টের যোগ্য হবে; কেবল যোগ্য উচ্চ বেতনের পেশার অফারগুলোই এই নতুন সিআরএস পয়েন্ট পাবে।   ইতিমধ্যে যাদের এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোফাইল রয়েছে, নতুন নিয়মের অধীনে তাদের স্কোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় হিসাব করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে এবং এই সময়ে ইনভাইটেশন রাউন্ড বা আমন্ত্রণ পর্ব স্থগিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব প্রার্থী তাদের যোগ্য জব অফারের জন্য পয়েন্ট পেতে আগ্রহী, তাদেরকে আগামী ৩ নভেম্বরের আগেই নিজেদের প্রোফাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৭:৪৮