- প্রচ্ছদ
- কমিউনিটি
কমিউনিটি
উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর ফেডারেশন ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। এতে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান এবং ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব নির্বাচিত হয়েছেন। রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে ফোবানার বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে নতুন কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফোবানার ৪০তম সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক বছরের জন্য ২০২৬–২৭ মেয়াদের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব রেজা রহিমের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোবানার নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেন অ্যাটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর ও ডিউক খান। নির্বাচনে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান, আবীর আলমগীর ভাইস চেয়ারম্যান, ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব, অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি এবং নাহিদা নাসের ইয়াসমিন ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন। ফোবানার নতুন নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এম. রহমান জহির ফ্লোরিডার, ভাইস চেয়ারম্যান আবীর আলমগীর নিউইয়র্কের, নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার ও জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ ভার্জিনিয়ার এবং ট্রেজারার নাহিদা নাসের ইয়াসমিন হিউস্টন, টেক্সাসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। নতুন কমিটির পাশাপাশি নয়জনকে আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন রবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদীন, মো. ইকবাল, শামসুদ্দোহা সাগর, মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর ভূঁইয়া, মকবুল এম. আলী, বাবুল হাই এবং ড. আব্দুস সাত্তার। তারা পেনসেলভেনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, ইলিনয়, ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ ছাড়া ফোবানার সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্য থেকে ১৭ জনকে এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার কানসাস সিটির রেহান রেজা এবং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির আবু রুমি রয়েছেন। এ তালিকায় আরও রয়েছেন ভার্জিনিয়ার বিএআইটিপিওর শামসুদ্দিন মাহমুদ, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি ডিএমভির আক্তার হোসাইন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার শফিকুল ইসলাম জুয়েল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের হাশমত মবিন, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ মেলা ইনকের তৌফিক সুলেমান খান তুহিন এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নুরুল আমিন। এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের দিলশাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন হিউস্টনের আজমল খান, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি হিউস্টনের নাদিম ভূঁইয়া, ভার্জিনিয়ার সুন্দরবনের করিম সালাউদ্দিন, বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সায়েদুল হক এবং জর্জিয়ার বেঙ্গলি বয়েজ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের রাসেল ভূঁইয়াও এক্সিকিউটিভ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। ফোবানার অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ মেয়াদে রবিউল করিম বেলাল চেয়ারম্যান এবং এম. রহমান জহির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জহির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসছেন এবং সংগঠনটির নেতৃত্বে নতুন এক বছরের মেয়াদ শুরু হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনটি ফোবানার ৪০তম কনভেনশন গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন নির্বাহী কমিটি আগামী এক বছর ফোবানার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংগঠনটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রয়েছে
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পদে নির্ধারিত মনোনয়ন ফি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। সভাপতি পদে প্রার্থী হতে ৬ হাজার ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলার দিতে হবে। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও মনোনয়ন ফি ৫ হাজার ডলার। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এবারের নির্বাচন। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন ফি ৪ হাজার ৫০০ ডলার, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ৩ হাজার ৫০০, ট্রেজারার ৩ হাজার এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি পদে ২ হাজার ৫০০ ডলার। এছাড়া একাধিক সম্পাদকীয় পদে ফি ২ হাজার ডলার এবং ছয়টি এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদের প্রত্যেকটির জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ফি নগদে জমা দিতে হবে এবং অর্থ গ্রহণের পর প্রার্থীকে অফিসিয়াল রসিদ দেওয়া হবে। কমিশন ও নির্বাহী কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে এসব মনোনয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কমিশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। বাংলাদেশ সোসাইটি নিজেদের পরিচিতিতে সংগঠনটিকে নন-পলিটিক্যাল, নন-প্রফিট ও নন-রিলিজিয়াস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির ২০২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ প্রকাশ্য ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ওই বছর সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারারের কমপেনসেশন শূন্য ডলার দেখানো হয়েছে। একই ফাইলিংয়ে সংগঠনটির মোট আয় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬০৭ ডলার এবং ব্যয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫ ডলার দেখানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মনোনয়ন ফি এর পরিমাণ নিয়ে কমিউনিটিতে মূল আলোচনা হচ্ছে, নন-প্রফিট সংগঠনের নির্বাচিত নেতৃত্বের পদগুলো বেতনভুক্ত না হলে প্রার্থী হতে এত বেশি অর্থ নির্ধারণের কারণ কী এবং এই অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মতামত আসছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিত অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল ও ইমিগ্রেশন লয়ার মইন চৌধুরী এক ফেসবুক পোস্টে সভাপতি পদে ৬ হাজার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলারের মনোনয়ন ফি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, নিউইয়র্কের অলাভজনক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির মনোনয়ন ফি হিসেবে এই পরিমাণ অর্থ তাঁর কাছে অনৈতিক মনে হয়। কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও নিউইয়র্কের পরিচিত মুখ তারিকুল ইসলাম মিঠুও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ সোসাইটির দুই বছর মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়ানোর জন্য শুধু মনোনয়ন পেপারের ফি হিসেবে ৬ হাজার ডলার দিতে হচ্ছে। তিনি নির্বাচনে মোট খরচ কত হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এত অর্থ ব্যয় করেও নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা নেই। একই পোস্টের শেষদিকে তিনি প্রশ্ন করেন, “এর মধ্যে কি মধু আছে ভাই?” এদিকে মনোনয়ন ফি নির্ধারণের কারণ ও এ অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে আমেরিকা বাংলা থেকে যোগাযোগ করা হলে কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশ সোসাইটির সর্বশেষ ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সংগঠনটির ১০০ শতাংশ আয় কনট্রিবিউশন হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং এক্সিকিউটিভ কমপেনসেশন ছিল শূন্য ডলার। সংগঠনটির ওই বছরের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৬৭৪ ডলার। এদিকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা, ৯ সেপ্টেম্বর আপিল, ১০ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর। মনোনয়ন ফি নিয়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটির অনেকের আগ্রহ এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে এই অর্থের ব্যবহার ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেদিকে।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয় নিয়ে যে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, চার দশকের মাথায় এসে সেই ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা’ বা ফোবানা এখন চার ভাগে বিভক্ত। বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা ও প্রবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বদলে সংগঠনটি এখন নেতৃত্বের কোন্দল ও সাংগঠনিক বিভক্তির কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছে। এবারের লেবার ডে উইকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চার শহর—নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, অরল্যান্ডো এবং টরন্টোতে একই সময়ে পৃথক চারটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আয়োজকদের প্রায় প্রতিটি পক্ষই নিজেদের আয়োজনকে ‘৪০তম ফোবানা সম্মেলন’ হিসেবে দাবি করছে, যা সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে চরম বিস্ময় ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। চার শহরে আয়োজিত এই সম্মেলনগুলোর প্রতিপাদ্য ও আয়োজন ভিন্ন। নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ায় ‘এনআরবি অ্যাসোসিয়েশন’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে ৫৪টি নিবন্ধিত সংগঠনের অংশগ্রহণে দ্বিতীয় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফ্লোরিডার কিসিমি এলাকায় তৃতীয় আয়োজনে থাকছে চলচ্চিত্র ও সংগীত তারকাদের অংশগ্রহণে জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। আর কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত চতুর্থ সম্মেলনে জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ ও অভিনেত্রী ববিতাসহ বিশিষ্টজনদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিনোদন ও উৎসবের আমেজ থাকলেও এই দৃশ্যমান বিভক্তি ফোবানার মূল উদ্দেশ্যকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সচেতন প্রবাসীদের অভিযোগ, ফোবানা এখন কেবলই সামাজিক মর্যাদা ও প্রভাব প্রদর্শনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। নেতৃত্বের এই প্রতিযোগিতার নেপথ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত অহমিকা। এর পাশাপাশি ‘দাওয়াত বাণিজ্য’ নিয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ। ফোবানা সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে অনেকেই দাবি করছেন। যদিও আয়োজকরা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের স্বচ্ছতার কথা জানিয়েছেন। ১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে যে ঐক্যের বার্তা নিয়ে ফোবানার জন্ম হয়েছিল, তা আজ ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বন্দ্বে ম্লান। উৎসবের আমেজে প্রবাসীরা সাময়িক আনন্দ পেলেও, সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ফোবানা কি আবারও তার পুরনো জৌলুস ফিরে পেয়ে প্রবাসীদের সত্যিকারের ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম হতে পারবে?
ক্যামব্রিজ, ম্যাসাচুসেটস: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার পর নিজের প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন বাফেলো, নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আসিফ মুকতাদির। হার্ভার্ডের অফিসিয়াল শপে গিয়ে নিজের জন্য হুডি ও টি-শার্ট কিনতে গিয়ে দাম দেখে তাঁর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটিই মজার ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন তিনি। আসিফ মুকতাদির একজন হেলথকেয়ার প্রফেশনাল ও লেখক। তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি হার্ভার্ডে মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ) পড়ছেন। পাশাপাশি তিনি দুইটি বইয়ের লেখক এবং বাফেলো, নিউইয়র্কে বসবাস করেন। ফেসবুকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ মুকতাদির লেখেন, “আমি সাধারণত ব্র্যান্ডেড কাপড়চোপড় কিনি না। আমার কাছে মনে হয়, কাপড় ভালো হলেই হলো। শুধু ব্র্যান্ডের নামের জন্য এত টাকা খরচ করার কোনো মানে নেই। তারচেয়ে এই টাকা জমিয়ে ট্যুর দেওয়া ভালো।” তবে হার্ভার্ডে নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার পর সেই ভাবনায় কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে জানান তিনি। নিজের অনুভূতি তুলে ধরে আসিফ আরও লেখেন, “কিন্তু হার্ভার্ডে পড়ার এক্সাইটমেন্ট বলে কথা! ভাবলাম, হার্ভার্ডের অফিসিয়াল শপ থেকে নিজের জন্য কয়েকটা হুডি আর টি-শার্ট কিনি।” দোকানে গিয়ে পোশাক পছন্দ করা পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু প্রাইস ট্যাগ দেখার পরই আসে চমক। আসিফ লেখেন, “দোকানে ঢুকে কাপড় পছন্দ করা পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল, কিন্তু প্রাইস ট্যাগ দেখার পর মনে হলো, একটা হুডির দামই বোধ হয় আমার সারা বছরের কাপড়ের বাজেটের সমান!” হার্ভার্ডের হুডি ও টি-শার্টের দাম দেখে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিতে। আসিফ আরও লেখেন, “বাংলাদেশে ভার্সিটিতে টি-শার্টের ডিজাইন করে চাঁদা তুলে তারপর ডিপার্টমেন্টের হুডি কেনার কথা মনে পড়ল। শীতের সময় প্রায় সব ডিপার্টমেন্টের নতুন হুডি।” বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভাগ, ব্যাচ কিংবা বিভিন্ন সংগঠনের নিজস্ব নকশার টি-শার্ট ও হুডি তৈরি করা পরিচিত একটি ক্যাম্পাস সংস্কৃতি। বন্ধুদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে শীতের মৌসুমে একই ডিজাইনের হুডি পরার স্মৃতিও অনেক শিক্ষার্থীর কাছে বিশেষ হয়ে থাকে। হার্ভার্ডের ক্ষেত্রে অবশ্য এই পোশাকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ১৬৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হার্ভার্ড যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ম্যাসাচুসেটসের ক্যামব্রিজে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় চার শতাব্দী ধরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। হার্ভার্ডের নাম ও প্রতীকযুক্ত পোশাক তাই অনেক শিক্ষার্থীর কাছে শুধু সাধারণ কাপড় নয়। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের পরিচয় এবং শিক্ষাজীবনের স্মৃতি বহন করার একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। তবে ‘দ্য হার্ভার্ড শপ’-এর বিশেষত্ব শুধু হার্ভার্ডের নাম ও প্রতীকযুক্ত পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি শিক্ষার্থীদের পরিচালিত একটি ব্যবসা। দোকানটির তথ্য অনুযায়ী, এর কার্যক্রমের সঙ্গে হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীরা সরাসরি যুক্ত থাকেন এবং ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের মজুরি, আর্থিক সহায়তা ও পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহার করা হয়। হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য দোকানটিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। হার্ভার্ডের ইমেইল ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীরা কেনাকাটায় ২৫ শতাংশ ছাড় পান। বাফেলোতে বসবাসকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আসিফ মুকতাদিরের কাছে তাই হার্ভার্ডের হুডি কেনার অভিজ্ঞতাটি শুধু দামের চমক নয়, বরং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্তও। বাংলাদেশের ক্যাম্পাসজীবনের হুডির স্মৃতির সঙ্গে হার্ভার্ডের হুডির দামের তুলনা করে করা তাঁর ফেসবুক পোস্টে সেই অভিজ্ঞতাই উঠে এসেছে। একদিকে বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরুর আনন্দ, অন্যদিকে পছন্দের একটি হুডির প্রাইস ট্যাগ দেখে বাজেটের হিসাব। আসিফ মুকতাদিরের সেই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে হার্ভার্ডের নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর ক্যাম্পাসজীবনের একটি মজার স্মৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো সংলগ্ন চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেম্বার বা কাউন্সিলম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পারভেজ রহমান। গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলীয় ভোটে ৪-২ ব্যবধানে তার এই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। সাবেক ডেমোক্র্যাট কাউন্সিল মেম্বার স্টিফেন নোইকির পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বের এক নতুন মাইলফলক রচিত হলো। পারভেজ রহমানের শেকড় বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আতাউর রহমানের সন্তান। পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মূলধারার রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তিনি প্রিন্সিপাল ফিন্যান্স বিজনেস পার্টনার হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর পারভেজ রহমান চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এই পদে অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর আগামী নভেম্বরে আসনটিতে স্থায়ী প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে তার এই অনন্য অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) গোয়েন্দা শাখায় ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। এনওয়াইপিডির দীর্ঘ ইতিহাসে এই শীর্ষ পদে পদোন্নতি পাওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি তিনি। সোমবার সকাল ১০টায় নিউইয়র্ক পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ইকবালের হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেন পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিস। তার এই সাফল্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসবের আমেজ ও গভীর গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের সন্তান ইকবাল হোসেন ১৯৯০ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা ইকবাল সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৬ সালের জুলাই মাসে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি ৩২ ও ২৬ প্রিসিনক্ট, সন্ত্রাসবিরোধী ব্যুরোর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমান্ড এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ব্যুরোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিভাগে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজের প্রতি একাগ্রতা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি ডিটেকটিভ থার্ড গ্রেড এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে ডিটেকটিভ সেকেন্ড গ্রেড পদে উন্নীত হন। বিশেষ করে এনওয়াইপিডির অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ‘ফোর্স ইনভেস্টিগেটিভ গ্রুপ’-এর ৫৪ নম্বর দলে কাজ করার সময় তার তীক্ষ্ণ মেধা ও পেশাদারিত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশংসা কুড়ায়, যার চূড়ান্ত স্বীকৃতি এই ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদোন্নতি। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী নিলুফা বেগম ও তিন ছেলেকে নিয়ে নিউইয়র্কের সাউথ ওজন পার্কে বসবাস করেন ইকবাল। পুলিশের কঠোর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। তার এই অনন্য অর্জন প্রবাসীদের জন্য শুধু গর্বের বিষয়ই নয়, বরং প্রবাসী তরুণ প্রজন্মের কাছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একাগ্রতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশনের পর ছবি বা ভিডিও তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এখন অনেকেরই স্বাভাবিক অভ্যাস। তবে এই প্রবণতা ঘিরে রেস্টুরেন্টের পরিবেশ, অন্য ক্রেতাদের গোপনীয়তা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করা হলে সেখানে নানা ধরনের মন্তব্য আসে। কেউ খাবারের ছবি বা ভিডিওকে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ারের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ মনে করছেন, রেস্টুরেন্টে ছবি বা ভিডিও করার সময় আশপাশের ক্রেতা ও কর্মীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। এ বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির একটি রেস্টুরেন্টের মালিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি তোলা বা ভিডিও করার বিষয়ে সরকারি কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বাস্তবে কিছু পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে বিড়ম্বনা তৈরি হতে পারে। তিনি আরও জানান, অনেক সময় কোনো কাস্টমার ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে আশপাশের অন্য কাস্টমারদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। আবার কেউ কেউ ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, যা রেস্টুরেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও রেস্টুরেন্টে কর্মরত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা রক্ষা করাও মালিকপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের ছবি বা ভিডিও ধারণের সময় কর্মীরা ক্যামেরায় চলে এলে কিংবা তাদের কাজের দৃশ্য অনুমতি ছাড়া ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে সেটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে খাবারের ছবি বা ভিডিও করা নিয়ে এর বাইরে বড় কোনো সমস্যা সাধারণত হওয়ার কথা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিউইয়র্কে খাবারের ছবি তোলা নিয়ে এমন আলোচনা নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ক্রেতাদের ছবি তোলা, ভিডিও করা কিংবা ফ্ল্যাশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজস্ব নিয়ম চালু করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বিষয়টিকে খাবারের প্রচারের সুযোগ হিসেবে দেখে, আবার কোনো রেস্টুরেন্ট অন্য ক্রেতাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে ছবি বা ভিডিও সীমিত করতে পারে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুড কনটেন্টের জনপ্রিয়তার কারণে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি ও ভিডিও করা আরও বেড়েছে। অনেক ক্রেতা নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, আবার ফুড ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা রেস্টুরেন্টের খাবার ও পরিবেশ নিয়ে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করছেন। এতে একদিকে রেস্টুরেন্টের প্রচার বাড়ছে, অন্যদিকে ছবি বা ভিডিও ধারণের ধরন নিয়ে নতুন করে কিছু প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নিজের খাবারের ছবি তোলার সময় আশপাশের অন্য ক্রেতা বা কর্মীরা যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিডিওতে না চলে আসেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে কোনো রেস্টুরেন্টের নিজস্ব ছবি বা ভিডিও নীতিমালা থাকলে সেটিও মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায়ও বিষয়টির দুই দিক উঠে এসেছে। কেউ মনে করছেন, খাবারের মান ও পরিবেশ সম্পর্কে অন্যদের জানাতে ছবি বা ভিডিও করা স্বাভাবিক। আবার কেউ মনে করছেন, ছবি বা ভিডিও করার সময় রেস্টুরেন্টে উপস্থিত অন্য মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য ও গোপনীয়তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। সব মিলিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি বা ভিডিও করা নিয়ে নিউইয়র্কে কোনো সাধারণ সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয় সামনে না এলেও, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং রেস্টুরেন্টের নিজস্ব নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়েই নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চলছে আলোচনা।
জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলা পার্কস ডেমোক্রেটিক গভর্নর প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমসের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বুধবার লরেন্সভিলের বাংলাদেশি মালিকানাধীন হালাল গ্রোসারি স্টোর আল হুদা গ্রোসারিতে বটমসের প্রচারণামূলক কর্মসূচিতে ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন নাবিলা। বিষয়টি তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও তুলে ধরেছেন। আল হুদা গ্রোসারিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বটমস জর্জিয়ার পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ কমানোর লক্ষ্যে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে গ্রোসারি পণ্যের ওপর স্থানীয় পর্যায়ের সেলস ট্যাক্স কমানো বা বাতিলের উদ্যোগ। পাশাপাশি ডায়াপার ও মাসিক স্বাস্থ্যসামগ্রীর ওপর জর্জিয়ার ৪ শতাংশ স্টেট সেলস ট্যাক্স বাতিলের প্রস্তাবও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে। বটমসের প্রচারণায় দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর ব্যয়ের চাপ কমাতে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের বোঝা কমানোর কথা বলছেন তিনি। তাঁর প্রচারণায় সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারের উদাহরণ হিসেবে ৫ ডলারের রোটিসেরি চিকেনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। নাবিলা পার্কস তাঁর পোস্টে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী হওয়া উচিত, কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরির কারণ হওয়া উচিত নয়। বটমসের পরিকল্পনায় তিনি তাঁর পরিবারের সমর্থনের কথাও জানান। বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে নাবিলা পার্কসের সম্পৃক্ততা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০২২ সালের নির্বাচনে নাবিলা পার্কস জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হন। তিনি জর্জিয়া স্টেট সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তাঁর সিনেট মেয়াদ ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছিল। চলতি বছর তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, তবে সেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। নাবিলার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কর্মজীবী পরিবার, হেলথ কেয়ার, নারীদের স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে বটমসের সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা সংক্রান্ত পরিকল্পনার অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি জর্জিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির দৃষ্টিতেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনকে সামনে রেখে বটমস ও রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসন দুজনই মেট্রো আটলান্টায় নিজেদের নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরছেন। বুধবার একই দিনে দুই প্রার্থীর কর্মসূচিকে ঘিরে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রচারণা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। নাবিলা পার্কসের আল হুদা গ্রোসারিতে উপস্থিতি এবং বটমসের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য সমর্থনের বিষয়টি জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার আরেকটি দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
আমেরিকার ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল পেরিয়ে শিকড়ের টানে একত্রিত হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফেনী জেলার প্রবাসীরা। প্রবাসে ফেনীবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’র প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ২০২৬। “একসাথে মিলি বন্ধন গড়ি, আমরা সবাই ফেনীবাসী”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক সংগঠন ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত মনোরম ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই মহা মিলনমেলার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান শুরু হবে দুপুর ১২টায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসে ফেনীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখা, শৈশব ও কৈশোরের বন্ধুদের সঙ্গে পুরোনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ফেনীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। দিনব্যাপী এই পুনর্মিলনীতে প্রবাসী ফেনীবাসীদের জন্য থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। থাকবে স্মৃতিময় আড্ডা, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ এবং ছোট-বড় সবার জন্য আনন্দঘন পরিবেশ। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে থাকছে বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য থাকবে ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময় খাবারের আয়োজন। পুনর্মিলনীর অন্যতম আকর্ষণ হবে জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ড. সীমা খান ও জহির। ফেনীর মাটি ও মানুষের গানসহ ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত পরিবেশন করবেন কণ্ঠশিল্পী ইসরাত শর্মী। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় সাজাবেন জনপ্রিয় সঞ্চালিকা রূপা। আয়োজকরা জানান, কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের মাঝেও ফেনীর মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’র পরিচালনা ও অ্যাডমিন প্যানেল পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল ফেনী প্রবাসী, তাঁদের স্বজন ও পরিবারবর্গকে সপরিবারে এই পুনর্মিলনীতে অংশ নেওয়ার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাটির টান ও নাড়ির বন্ধনে সাড়া দিয়ে বিপুলসংখ্যক ফেনীবাসী এই মিলনমেলায় অংশ নেবেন এবং দিনটি প্রবাসে ফেনীবাসীদের জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চার বাংলাদেশি। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত হয়েছেন ইউসুফ রাজু, টেনেসিতে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন শাহেদ রানা মোহসিন। আর মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা বাংলাদেশি মা-মেয়ে মুসাম্মাত শামীমা বেগম ও তাঁর ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আরিবা জাহিন। পরপর এসব ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে গুলির ঘটনায় নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু। তিনি ওই রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। রাজু প্রায় তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে জানা গেছে। তাঁর মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক। টেনেসির ক্রকেট কাউন্টির বেলস এলাকায় ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হন ৩৬ বছর বয়সী শাহেদ রানা মোহসিন। তদন্তের পর এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সবশেষ ২৯ আগস্ট মেরিল্যান্ডের আই-২৭০ হাইওয়েতে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ভুল পথে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী মুসাম্মাত শামীমা বেগম এবং তাঁর মেয়ে আরিবা জাহিন। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অন্য গাড়িটির চালক ভুল পথে দক্ষিণমুখী লেনে প্রবেশ করেছিলেন। দুর্ঘটনায় একই গাড়িতে থাকা আরও দুজন আহত হন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সময় অন্য গাড়িটির চালকের অ্যালকোহলের প্রভাবে থাকার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। মা-মেয়ের জানাজায় স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ অংশ নেন। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে নিউইয়র্ক, টেনেসি ও মেরিল্যান্ডে চার বাংলাদেশির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে প্রবাসী সমাজে। ভিন্ন তিন ঘটনায় প্রাণ হারালেও চারটি পরিবারই হারিয়েছে আপনজন। কর্মস্থলে গুলির ঘটনা থেকে শুরু করে হাইওয়ের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, পরপর এসব মৃত্যু আবারও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মেরিল্যান্ডের আই-২৭০ মহাসড়কে শনিবারের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। নিহতরা হলেন ৪৬ বছর বয়সী মুসাম্মাত শামিমা বেগম ও তার ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আরিবাহ জাহিন। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা ভার্জিনিয়ার বার্ক ও আলেকজান্দ্রিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আগামীকাল সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জোহরের নামাজের পর গেইথার্সবার্গের ইসলামিক সেন্টার অব মেরিল্যান্ডে মা ও মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে ফ্রেডেরিকের আল-ফিরদাউস মেমোরিয়াল গার্ডেনসে। ২৯ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটের দিকে বেথেসডায় ডেমোক্রেসি বুলেভার্ডের দক্ষিণে আই-২৭০-এর দক্ষিণমুখী লেনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একটি ফোর্ড মুস্তাং ভুল পথে উত্তরমুখী হয়ে দক্ষিণমুখী লেনে ঢুকে পড়ে। পরে সেটি একটি টয়োটা ক্যামরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শামিমা বেগম ও আরিবাহ জাহিন ওই টয়োটা ক্যামরির যাত্রী ছিলেন। গাড়িটিতে আরও ছিলেন ৬২ বছর বয়সী ওই পরিবারের কর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, এবং ৮ বছর বয়সী তাদের ছোট মেয়ে। দুর্ঘটনার পর তাদের দুজনকেই অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে ফোর্ড মুস্তাংয়ের চালক হিসেবে ৩২ বছর বয়সী জার্মানটাউনের বাসিন্দা হোসে কাবায়েরো নোলাসকোকে শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা ব্যাহত হওয়া দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নোলাসকোর বিরুদ্ধে দুইটি গ্রস নেগলিজেন্ট ম্যানস্লটার, অ্যালকোহলের প্রভাবে মোটরযান চালিয়ে মৃত্যুর অভিযোগে দুইটি মামলা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে এমন আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কোর্ট কমিশনারের সামনে হাজিরার অপেক্ষায় রয়েছেন। মা ও মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হওয়ায় তাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য কমিউনিটির সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে পরপর দুটি নৃশংস খুনের পর এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা এক দুর্ধর্ষ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) ব্রঙ্কসের একটি পার্ক থেকে ৩১ বছর বয়সী জেসুস অ্যাকোস্টা নামের ওই ঘাতককে আটক করে। জোড়া খুনের মতো ভয়ংকর অপরাধে হাতকড়া পরা অবস্থায় ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে অদ্ভুত এক মন্তব্য করে সে। কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে সে বলে ওঠে, "ঈশ্বর মঙ্গলময়, ঈশ্বর মহান।" পুলিশ জানিয়েছে, নিছক ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটিয়েছিল অ্যাকোস্টা। গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের একটি উইংস-রেস্তোরাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে এমডি ইউসুফ (৪৪) নামের এক কর্মীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে সে। নিহত ইউসুফ অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ব্রঙ্কসের ১৪৯ নম্বর স্ট্রিটের একটি দোকানে আবারও সশস্ত্র ডাকাতি করে এই ঘাতক। সেখানে টেভন শুলার (৩৩) নামের এক ক্রেতাকে গুলি করে হত্যা করে সে। জেসুস অ্যাকোস্টা মূলত একজন দাগী অপরাধী। অনলাইনে প্রাপ্ত রেকর্ড অনুযায়ী, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং হামলার অভিযোগে দীর্ঘ ১০ বছর কারাভোগের পর গত ২৩ এপ্রিল প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল সে। প্যারোলে থাকা অবস্থাতেই সে পুনরায় এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এফবিআই ২৫ হাজার ডলার এবং ছোট ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন 'ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকা' আরও ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অবশেষে শনিবার ব্রঙ্কসের ৪৩ নম্বর প্রিসিনক্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানা থেকে বের করার সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও, অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের ওই অদ্ভুত কথাগুলো বলে ওঠে এই অপরাধী।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছেন ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ এর প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, টাইটেল স্পন্সর মুনিরুল ইসলাম, চিফ প্যাট্রন শিপার চৌধুরীসহ হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল, ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সাধারণ সম্পাদক এম. ওয়াহিদ রহমান, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মুনিম, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রীর নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অবস্থিত ইউনিভার্সল হিলটন এ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুটির ঠিকানা ৫৫৫ Universal Hollywood Drive, Universal City, California কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত ফোবানা কনভেনশন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রদেশ থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান ও বাংলাদেশি-কানাডিয়ানরা এ আয়োজনে অংশ নেন। এবারের ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড সংলগ্ন ইউনিভার্সাল সিটিতে আয়োজন হওয়ায় এবারের কনভেনশনকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদেরা জানান, তিন দিনের এই কনভেনশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন প্রতিভা প্রদর্শন, যুব কার্যক্রম, সম্মাননা ও কমিউনিটি গ্যাদারিংয়ের পাশাপাশি খাবার, পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মশালার ব্যবস্থা থাকবে। ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসীদের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করাও এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকে তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ফোবানা হোস্ট কমিটি ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কনভেনশনকে সফল করতে আয়োজকরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর এক ডেলিভারি চালককে নগ্ন অবস্থায় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান বাড়ির মালিক কিয়ান্তে ম্যাটলক। ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট হিউস্টনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, হোমস্টেড এলাকার কাছাকাছি ম্যাটলকের বাড়িতে। ম্যাটলক জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির ভেতরে বসে ভিডিও গেম খেলছিলেন। তার মেয়েও তখন বাড়িতে ছিল। মেয়ের কাছ থেকে ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসার কথা জানতে পেরে ম্যাটলক বুঝতে পারেন, তার খাবারের অর্ডার পৌঁছে গেছে। এরপর তিনি বাড়ির রিং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে অস্বাভাবিক দৃশ্যটি দেখতে পান। ফুটেজে দেখা যায়, খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর ডেলিভারি চালকটি বাড়ির বাইরে নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না বলে জানান ম্যাটলক। ম্যাটলক নিয়মিত ডোরড্যাশ ব্যবহার করেন। তবে ওই দিনের খাবার তিনি আর গ্রহণ করেননি। পরে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ তার অর্ডারের অর্থ ফেরত দেয়। ঘটনার বিষয়ে ডোরড্যাশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৬ হিউস্টন। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র ঘটনাটিকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর ডোরড্যাশ সরাসরি ম্যাটলকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংশ্লিষ্ট চালকের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। ডোরড্যাশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা অনুপযুক্ত আচরণ তারা মেনে নেয় না। ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া অভিযোগগুলো ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগ পর্যালোচনা করে। ডেলিভারির সময় কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বা উদ্বেগজনক আচরণের মুখে পড়লে দ্রুত অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে অনিরাপদ মনে হলে স্থানীয় পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দিয়েছে ডোরড্যাশ। তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে জরুরি নম্বরে ৯১১-এ ফোন করতে বলা হয়েছে। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছে ফক্স ২৬। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়ির বাসিন্দারা এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পুলিশকে জানানো এবং ঘটনার সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত। এর মধ্যে রিং ক্যামেরা, দরজার ক্যামেরা কিংবা বাড়ির অন্য কোনো নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে সে জন্য আগে ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রয়োজন এবং এরপর পুলিশ তদন্ত করে দেখবে ঠিক কী ঘটেছিল। ফক্স ২৬ জানিয়েছে, টেক্সাসের আইনে এ ধরনের আচরণ কোন পরিস্থিতিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তা জানতে তারা একজন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করছে। ঘটনাটি আবারও বাড়িতে খাবার বা পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ক্যামেরার গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডেলিভারি কর্মীর আচরণ নিয়ে কোনো উদ্বেগ তৈরি হলে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ফক্স ২৬ হিউস্টন (FOX 26), প্রতিবেদক লেসলি ডেলাসবোর।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি হাইস্কুলে কিশোরী শিক্ষার্থী পরিচয়ে ভর্তি হয়ে চার দিন ক্লাস করার পর ধরা পড়েছেন ২৯ বছর বয়সী এক নারী। হায়েজিয়ং শিন নামের ওই নারী ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়ে নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক শহরে। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি শিনের বিরুদ্ধে পরিচয় বা বয়স যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ভুয়া সরকারি নথি দেওয়ার অভিযোগে তৃতীয় মাত্রার অপরাধের একটি মামলা করা হয়। তিনি স্কুল বোর্ডে একটি জাল জন্মসনদ জমা দিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার পর শিন প্রায় চার দিন স্কুলে যান। তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই শ্রেণিকক্ষে ছিলেন এবং স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তার জমা দেওয়া নথি যাচাই করার সময় তথ্যের অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয় এবং শিনকে স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিউ ব্রান্সউইক পাবলিক স্কুলের তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট অউব্রে জনসন স্কুল বোর্ডের এক বৈঠকে জানান, ভুয়া নথি জমা দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থী পরিচয়ে স্কুলে ভর্তি হতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে ঘটনাটির পেছনে সহিংসতা বা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি বলে পরে নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানায়। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক ফলোআপ বিবৃতিতে পুলিশ বলেছিল, শিন কেন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তা বোঝার জন্য তদন্ত অব্যাহত ছিল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তখনো কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। ঘটনার পর শিনের আইনজীবী ড্যারেন গেলবার তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। পরে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইনজীবীর ভাষ্য ছিল, শিন একাকিত্বে ভুগছিলেন এবং নিজের স্কুলজীবনের তুলনামূলক নিরাপদ ও আনন্দের সময়টিতে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। আইনজীবী দাবি করেন, তার ক্লায়েন্টের উদ্দেশ্য কারও ক্ষতি করা ছিল না। শিনের শিক্ষাগত পরিচয়ও পরে সামনে আসে। তিনি রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ ব্রান্সউইক ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি চীনা ভাষায় একটি বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন। নিউ জার্সির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত কিছু নিয়মও ঘটনাটিকে সম্ভব করে তুলেছিল। রাজ্যের আইন ও শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব নথি না থাকলেও দ্রুত স্কুলে ভর্তি করার বিধান রয়েছে। পরে বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নথি পরীক্ষা করা যায়। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানিয়েছে, শিন এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ভুয়া জন্মসনদ জমা দিয়েছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কয়েকজন অভিভাবক স্কুলের নিরাপত্তা ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ভুয়া নথি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া আরও পর্যালোচনা করার কথা জানায়। পরবর্তী সময়ে শিন অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মে ২০২৩ সালে মিডলসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস জানায়, তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে প্রথমবারের অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত একটি বিচারপূর্ব কর্মসূচিতে তিন বছর অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে ভুয়া পরিচয় ও নথি ব্যবহার করে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছিলেন, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। তবে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে শিক্ষার্থী বা স্কুলের কর্মীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সূত্র: নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগ
নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় বয়স্ক বাবা-মায়েদের হাতে ফলানো ব্যাকইয়ার্ডের দেশি সবজি বিক্রির বেশ কয়েকটি দৃশ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ছোট পরিসরে লাউ, শসা, করলা, বেগুন, টমেটো থেকে শুরু করে নানা ধরনের দেশি সবজি সাজিয়ে বিক্রি করছেন বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি। এই ঘটনাগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে শ্রমের মর্যাদা এবং প্রবীণদের প্রতি পারিবারিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে এসেছে। একাংশের মতে, সৎ পথে পরিশ্রম করে উপার্জন করা সবসময়ই সম্মানজনক। অনেকেই মনে করেন, নিজেদের বাগানের বাড়তি সবজি নষ্ট না করে বিক্রি করা এবং প্রবীণদের কর্মক্ষম থাকাটা ইতিবাচক একটি দিক। তবে অন্যদিকে অনেকেই সমালোচনা করে বলছেন, আর্থিক প্রয়োজনে বা অন্য কোনো চাপে একাধিক বয়স্ক বাবা-মাকে দীর্ঘক্ষণ ফুটপাতে বসিয়ে রাখা মোটেও মর্যাদাকর নয়। এ বিষয়ে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের এক কমিউনিটি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যম ‘আমেরিকা বাংলা’-কে জানান, বাগানের অতিরিক্ত সবজি নষ্ট না করে বিক্রি করাতে দোষের কিছু নেই এবং এতে কিছু খরচও উঠে আসে। তবে বয়স্ক বাবা-মায়েদের এভাবে রাস্তায় বসিয়ে দিনের পর দিন বিক্রি করানোর বদলে স্থানীয় গ্রোসারি বা অন্য কোনো সম্মানজনক বৈধ উপায়ে তা সরবরাহ করা যেতে পারে, যাতে প্রবীণদের অযথা কষ্ট না হয়। সব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু কয়েক ঝুড়ি সবজি বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি প্রবাস জীবনে পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা এবং প্রবীণদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধের একটি বড় সামাজিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো উপসংহারে পৌঁছানোর আগে বা কাউকে বিদ্রূপ করার বদলে প্রবীণদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মান বজায় রেখে কীভাবে এ ধরনের কাজের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, সেটি নিয়েই এখন ভাবছেন সচেতন প্রবাসীরা।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী এমডি ইউসুফের রাজুর জানাজা আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে আগামীকাল শুক্রবার তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিবারের স্বজন ও কমিউনিটির পক্ষ থেকে জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জানাজার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজ বাদ মাগরিব ব্রুকলিনের বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার জামে মসজিদে এমডি ইউসুফের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদটির ঠিকানা ১০৫ কোর্টেলিউ রোড, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক। বিজ্ঞপ্তিতে জানাজার সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট রাতে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি পিজ্জা শপে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী এমডি ইউসুফ। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রকওয়ে অ্যাভিনিউয়ের American Best Wings and Pizza-তে রাত ১২টার পর এই ঘটনা ঘটে। গুলিতে ইউসুফ মাথায় আঘাত পান এবং পরে হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী আরেক কর্মী পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তদন্তে ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তিনি এখনো পলাতক এবং তাকে ধরতে অভিযান চলছে। পুলিশের মতে, ব্রুকলিনের ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ব্রঙ্কসেও একটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে ১৪৯ গ্রিল অ্যান্ড ডেলিতে ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হন। তদন্তকারীরা দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র থাকার কথা বলছেন এবং একই সন্দেহভাজনকে দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে খুঁজছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আকোস্তা এর আগে ২০১৫ সালে ম্যানহাটনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে গুলি চালানোর মামলায় সাজা ভোগ করেছেন। প্রায় ১০ বছর কারাভোগের পর চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি প্যারোলে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে। এদিকে ইউসুফের আকস্মিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হবে। মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ এবং পরিবারের সহায়তার জন্য এরই মধ্যে কমিউনিটির পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ জানাজা শেষে আগামীকাল ইউসুফের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর কথা রয়েছে। তার মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে এবং জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের জন্য দোয়া করতে কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন, জীবিকা কিংবা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমানো অন্তত আটজন বাংলাদেশি গত ১৬ মাসে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও টেনেসির মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় কেউ কর্মস্থলে, কেউ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে, আবার কেউ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনার পেছনে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে কোনো সংঘবদ্ধ হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে একের পর এক এমন মৃত্যু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রাণহানির শুরুটা হয়েছিল ফ্লোরিডায়। ২০২৫ সালের মে মাসে মাউন্ট ডোরায় ৪৪ বছর বয়সী মনিকা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যার অভিযোগে তার ভাশুর শাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিলে ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই জোড়া খুনের অভিযোগে তাদের সাবেক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে, গত এপ্রিলে ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে একটি গ্যাস স্টেশনে কর্মরত ৫১ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী নিলুফা ইয়াসমিন এক দুর্বৃত্তের হাতুড়ির আঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন। নিউইয়র্কেও একাধিক বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ম্যানহাটনের একটি ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সময় বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারান নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সাহসী অফিসার দিদারুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তিনি তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে যান। এছাড়া, গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু। একই ঘটনায় রাসেল নামের আরেক বাংলাদেশি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এর আগে জুলাই মাসে ব্রুকলিনেই ছোটখাটো এক সড়ক দুর্ঘটনার বিরোধ মেটাতে গিয়ে মুখে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ট্যাক্সিচালক রুহুল আমিন নাসির। পেনসিলভানিয়া ও টেনেসিতেও বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় 'ডোরড্যাশ' অ্যাপে খাবার ডেলিভারি করতে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে নিহত হন মো. মাহফুজুল হক। ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বাংলাদেশে পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন। অন্যদিকে, গত ২৩ আগস্ট টেনেসির বেলস এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতি ও হত্যার শিকার হন বাংলাদেশি অভিবাসী শাহেদ রানা মোহসিন। এই আটটি মৃত্যুর পেছনে কোনো অভিন্ন কারণ নেই। পারিবারিক বিরোধ, কর্মস্থলে ডাকাতি বা আকস্মিক বন্দুক হামলার মতো ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনা ঘটেছে। তাই একে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বা ধারাবাহিক হামলা বলার সুযোগ নেই। তবে রেস্তোরাঁ, গ্যাস স্টেশন, খাবার ডেলিভারি বা ট্যাক্সি চালানোর মতো পেশায় যুক্ত প্রবাসীদের প্রতিনিয়ত অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে কাজ করতে হয় বলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এই আটটি মৃত্যু শুধু আটটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গই নয়, বরং স্বপ্নের দেশে নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশাকে ঘিরে এক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
গত ২৩ আগস্ট ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মেজবানকে ঘিরে ব্যাপক মানুষের সমাগম হলেও খাবার বিতরণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেন। অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি একপর্যায়ে কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে বলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার কিছু ভুল-ত্রুটি স্বীকার করা হয়েছে এবং আগামী আয়োজন আরও সুশৃঙ্খলভাবে করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা বাংলার হাতে আসা আয়োজকদের সেই লিখিত বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো— ডিএমভিতে স্মরণকালের সফল আয়োজন—বাইটপোর মেজবান: কৃতজ্ঞতা, ভুল-ত্রুটির স্বীকারোক্তি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা গত ২৩ আগস্ট বাইটপোর উদ্যোগে ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত মেজবান আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দের, আবেগের এবং স্মরণীয় একটি আয়োজন। বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে ডিএমভি এলাকার অন্যতম বৃহৎ ও সফল কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত করেছে। শুধু ডিএমভি নয়—পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, টেক্সাসসহ বিভিন্ন স্টেট থেকে অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের মেজবানে অংশ নিয়েছেন। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা। শুরু থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল একটি খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করা নয়। আমরা চেয়েছিলাম আমাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা সন্তানদের শেকড়ের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করতে। একদিকে অতিথিরা উপভোগ করেছেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও অথেনটিক মেজবানি খাবারের স্বাদ, অন্যদিকে ডিএমভিতে প্রথমবারের মতো উপভোগ করেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের গান। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানের পরিবেশনা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নাচ, গান ও ফ্যাশন শো অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। হাজারো দর্শক-শ্রোতা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে থেকে পুরো আয়োজন উপভোগ করেছেন। একটি সুশৃঙ্খল, মানসম্মত ও সময়ানুবর্তী অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার চেষ্টা আমাদের ছিল, আর আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সেই প্রচেষ্টাকে সার্থক করেছে। শুধু উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানালেই আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্পূর্ণ হবে না। গত প্রায় তিন মাস ধরে যাঁরা নিজেদের মূল্যবান সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন—আমাদের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ডোনার, স্পন্সর, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নানাভাবে সহযোগিতা করা প্রত্যেক মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এত বড় একটি আয়োজন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। এত বড় একটি আয়োজনের অনেক সফলতার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতা ও ভুল-ত্রুটিও ছিল। আমরা সেগুলো এড়িয়ে যেতে চাই না। আমাদের মেজবানি অনুষ্ঠান নিয়ে কমিউনিটিতে যে আলোচনা, সমালোচনা ও কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। প্রথমেই আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমাপ্রার্থী তাঁদের কাছে, যাঁরা অনুষ্ঠানে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খাবার পাননি অথবা অন্য কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আপনাদের কষ্ট আমাদেরও কষ্ট দিয়েছে। আমাদের প্রস্তুতি মূলত রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যাকে ভিত্তি করেই করা হয়েছিল। রেজিস্ট্রেশনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষের জন্য—রেজিস্ট্রেশন থেকে তিনগুণ বেশি মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা আমরা করেছিলাম। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতি ঘটে। পার্কটি চারদিক থেকে উন্মুক্ত হওয়ায় রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অনেক মানুষও অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। ফলে প্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। মেজবানির প্রতি কমিউনিটির ভালোবাসা এবং আমাদের আগের আয়োজনগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার কারণে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হবেন—এটি আমরা সঠিকভাবে অনুমান করতে পারিনি। এখানেই আমাদের পরিকল্পনার একটি বড় ঘাটতি ছিল, এবং আমরা সেটি স্বীকার করছি। আগের ঘোষণা ও ভিডিওগুলোতেও আমরা বারবার জানিয়েছিলাম যে, যেহেতু কিংবদন্তি শিল্পী নকীব খানের কনসার্টসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল, তাই দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যেই খাবার পরিবেশনের মূল পর্ব শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর পুরো টিমকে কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতির কারণে খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। অতিরিক্ত চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবার ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা আমরা যত দ্রুত করা প্রয়োজন ছিল, তত দ্রুত করতে পারিনি। যেহেতু অনুষ্ঠানটি একটি পার্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তাই শেষ মুহূর্তে নতুন করে বিপুল পরিমাণ খাবার রান্না ও সরবরাহের ব্যবস্থা করাও বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব হয়নি। এসব কারণে যাঁরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন কিংবা শেষ পর্যন্ত খাবার পাননি—তাঁদের কাছে আমরা আবারও আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। অনুষ্ঠানে সংগৃহীত অর্থ নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই—এই আয়োজন কোনো ব্যবসায়িক বা লাভজনক উদ্দেশ্যে করা হয়নি। অনুষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহে কমিউনিটির সদস্যরা স্বেচ্ছায় যে সহযোগিতা করেছেন, সেটিই ছিল সংগৃহীত অর্থের মূল উৎস। কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ প্রদানের কথা বলা হয়নি। শিল্পী, খাবার, প্যান্ডেল, সাউন্ড, স্টেজ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাসহ এত বড় আয়োজন সম্পন্ন করতে যে পরিমাণ ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় সংগৃহীত অর্থ কোনোভাবেই ব্যবসায়িক লাভের পর্যায়ে ছিল না। প্রয়োজনে আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিউনিটির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতেও আমরা প্রস্তুত। একটি অনুষ্ঠান সফল হয়েছে বলেই তার ভুলগুলো অস্বীকার করতে হবে—আমরা এমনটি বিশ্বাস করি না। বরং আমরা স্বীকার করছি, আমাদের পরিকল্পিত উপস্থিতি এবং বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাবার বিতরণ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সারিবদ্ধ ব্যবস্থাপনায় আরও ভালো প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিক্ষা নিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই আগামী বছরের বাইটপোর মেজবানের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আগামী আয়োজনে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ, প্রবেশব্যবস্থা, সারিবদ্ধতা, ভলান্টিয়ার টিম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও বড় পরিসরে ও আরও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিশেষ করে, এ বছর যাঁরা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত খাবার পাননি, তাঁদের জন্য আগামী মেজবানে একটি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আমরা শিগগিরই জানাব। আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার—এ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী বছরের আয়োজনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণবান্ধব করা। একটি বড় কমিউনিটি আয়োজনের ভুল-ত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। আমরা সেই সমালোচনাকে সম্মান করি এবং তা থেকে শেখার চেষ্টা করি। তবে কিছু ফেইক আইডি থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানোর বিষয়টিও আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হয়েছে। কমিউনিটির সবার প্রতি অনুরোধ—যাচাই না করে কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার করবেন না। গঠনমূলক পরামর্শ দিন, ভুল ধরিয়ে দিন এবং আমাদের জবাবদিহির মধ্যে রাখুন। একই সঙ্গে কমিউনিটির ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করুন, যাতে ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় ও সুন্দর আয়োজন আপনাদের উপহার দিতে পারি। আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু হাজারো মানুষের উপস্থিতি নয়। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—একটি মেজবানকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্তের মানুষ একত্রিত হয়েছেন, পুরোনো ও নতুন প্রজন্ম পাশাপাশি বসেছেন, আমাদের খাবার, গান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদ্যাপন করেছেন। এটাই ছিল আমাদের স্বপ্ন। যেখানে ভুল হয়েছে, আমরা তা স্বীকার করছি। যেখানে ঘাটতি ছিল, আমরা তা সংশোধন করব। আর যেখানে আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি, সেটিকে সঙ্গে নিয়েই আরও ভালো কিছু করার পথে এগিয়ে যাব। বাইটপোর চট্টগ্রামের মেজবান আপনাদের অনুষ্ঠান—আপনাদের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাই এর সবচেয়ে বড় শক্তি। আবারও আমাদের সকল অতিথি, শিল্পী, কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ডোনার, স্পন্সর, সহযোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষী এবং পুরো কমিউনিটির প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, সাফল্যকে সঙ্গে নিয়ে—ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আবার দেখা হবে আরও বড়, আরও সুন্দর এবং আরও সুশৃঙ্খল বাইটপোর মেজবানে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে ক্লিফ থেকে গাড়ি সাগরে পড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৯ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম অ্যালি রেনি সিং। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা ক্রুজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তার তৃতীয় বর্ষ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে ১৩ আগস্ট রাত প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে সান্তা ক্রুজের ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভে, স্টিমার লেনের কাছে। জরুরি বিভাগে খবর আসে একটি গাড়ি ক্লিফ থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে পড়ে গেছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, গাড়িটি পানিতে ডুবে রয়েছে এবং ভেতরে একজন আটকা পড়েছেন। সান্তা ক্রুজ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা একজন ব্যক্তি নিজে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন এবং তিনি সামান্য আহত হন। অন্যদিকে অ্যালি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে ছিলেন। চারজন ওশান রেসকিউ সুইমার পানিতে নেমে ডুবে থাকা গাড়ির কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সান্তা ক্রুজ পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি একজন নারী চালাচ্ছিলেন এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রী ছিলেন একজন পুরুষ। তবে দুর্ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অ্যালি ২০২৪ সালের জুনে ইউসি সান্তা ক্রুজে ভর্তি হন। তিনি সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন আর. লুইস কলেজ কমিউনিটির সদস্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র স্কট হার্নান্দেজ-জেসন তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জানান, শিক্ষার্থীর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর সমবেদনা রয়েছে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সাপোর্ট রিসোর্স দেওয়া হচ্ছে। অ্যালির খালা মনিকা সিং-স্ট্রোহমেয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন এবং পরিবারের এই কঠিন সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সময় দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে অ্যালিকে মেধাবী, ভালোবাসাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত তরুণী হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। স্টিমার লেন সান্তা ক্রুজের পরিচিত একটি সার্ফিং স্পট। এলাকাটি ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভের পাশে প্রশান্ত মহাসাগরের খাড়া উপকূল বরাবর অবস্থিত। সেখানে শক্তিশালী ঢেউ ও খাড়া ক্লিফের কারণে উদ্ধার অভিযানও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলের ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভের একটি অংশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপকূলীয় ক্ষয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়া দুটোই এখন অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। তবে এপার্টমেন্ট ডট কমের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, দেশটির সাতটি বড় মেট্রো এলাকায় বাড়ি কেনার তুলনায় ভাড়া থাকলে মাসে কয়েকশ থেকে ১ হাজার ডলারের বেশি সাশ্রয় হতে পারে। এর মধ্যে অস্টিন ও স্যাক্রামেন্টোতে এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। তালিকায় রয়েছে টেক্সাসের অস্টিন, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো, কলোরাডোর ডেনভার, ওরেগনের পোর্টল্যান্ড, মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, ইউটাহর সল্ট লেক সিটি এবং ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো। এসব মেট্রো এলাকায় গড় মাসিক রেন্টের তুলনায় মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অস্টিনে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৪৭৫ ডলার। বিপরীতে গড় মাসিক রেন্ট ১ হাজার ৪২১ ডলার। অর্থাৎ বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫৪ ডলার কম খরচ হতে পারে। স্যাক্রামেন্টোতে ব্যবধানও ১ হাজার ডলারের বেশি। সেখানে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৬২১ ডলার, আর গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৭৯ ডলার। ফলে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ১ হাজার ৪২ ডলার সাশ্রয় হতে পারে। ডেনভারে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৫১৮ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৬৩৩ ডলার। ব্যবধান প্রায় ৮৮৫ ডলার। ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে মধ্যম মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৪০৪ ডলার, যেখানে গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৫১ ডলার। অর্থাৎ ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ৮৫৩ ডলার কম খরচ হতে পারে। মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ২৫৪ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৫২৭ ডলার। এখানে ব্যবধান প্রায় ৭২৭ ডলার। ইউটাহর সল্ট লেক সিটিতে মধ্যম মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ১০৬ ডলার। গড় রেন্ট ১ হাজার ৪২৮ ডলার। ফলে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ৬৭৮ ডলার সাশ্রয় হতে পারে। তালিকার সপ্তম শহর ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো। সেখানে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ১ হাজার ৯৬৭ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৯০ ডলার। ব্যবধান প্রায় ৩৭৭ ডলার। বিশ্লেষণে ব্যবহৃত রেন্টের তথ্য এপার্টমেন্ট ডট কমের সাম্প্রতিক বাজারের হিসাবের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী অস্টিনে গড় রেন্ট ছিল প্রায় ১ হাজার ৪২০ ডলার, স্যাক্রামেন্টোতে ১ হাজার ৫৮৩ ডলার, ডেনভারে ১ হাজার ৬৪২ ডলার এবং পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৫২৯ ডলার। একই সময়ে অরল্যান্ডোর গড় রেন্ট ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ ডলার। অস্টিনের আবাসন বাজার নিয়ে স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্ট দিলার শোয়ার্টজ ফক্স বিজনেসকে বলেন, শহরটিতে বাড়ি কেনা ও রেন্ট নেওয়া দুই বাজারেই চাহিদা রয়েছে। কাজের কারণে অস্টিনে আসা, নতুন এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা এবং বিভিন্ন সাবডিভিশনে স্থানান্তরের কারণে রেন্টাল ইনকোয়ারি বেড়েছে বলে তিনি জানান। তবে রেন্ট বনাম বাইয়ের সিদ্ধান্ত শুধু মাসিক রেন্ট ও মর্টগেজ পেমেন্টের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে না। বাড়ি কিনলে ডাউন পেমেন্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, মেইনটেন্যান্স ও ক্লোজিং কস্টের মতো অতিরিক্ত খরচ থাকে। অন্যদিকে রেন্টারদের সাধারণত এসব মালিকানাসংক্রান্ত খরচ বহন করতে হয় না। বর্তমান আবাসন বাজারে মর্টগেজের উচ্চ খরচ ও বাড়ির দামের কারণে অনেক পরিবারের জন্য রেন্ট নেওয়া স্বল্পমেয়াদে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অস্টিন ও স্যাক্রামেন্টোর মতো শহরে মাসিক ব্যয়ের ব্যবধান ১ হাজার ডলারের বেশি হওয়ায় বাড়ি কেনার আগে রেন্ট বনাম বাইয়ের হিসাব নতুন করে বিবেচনা করছেন অনেক ক্রেতা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।