সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চাকরি

নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ে ক্যারিয়ারের সুযোগ
নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং-কোডিংয়ে চাকরির সুযোগ কতটা, কীভাবে এই চাকরিতে প্রবেশ করবেন?

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের মধ্যে মেডিকেল বিলিং ও কোডিং পেশা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে এই খাতে কাজ শুরু করার সুযোগ থাকায় বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের কাছে পেশাটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মেডিকেল কোডিংয়ের কাজে রোগীর চিকিৎসা, পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্য নির্দিষ্ট কোডে রূপান্তর করা হয়। আর মেডিকেল বিলিংয়ের সঙ্গে যুক্তরা রোগীর বীমা যাচাই, চিকিৎসা ব্যয়ের দাবি তৈরি ও পাঠানো, অর্থ পরিশোধের হিসাব এবং বীমা কোম্পানির কাছে আটকে থাকা দাবির বিষয়ে কাজ করেন। হাসপাতাল, চিকিৎসকের কার্যালয়, ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এসব কর্মীর প্রয়োজন হয়। এই পেশায় প্রশিক্ষণ শেষ করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্সের ধরন অনুযায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের পেশাগত সংগঠন এএপিসির তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ের যৌথ প্রশিক্ষণ এক বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। তাদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রায় আট মাসে শেষ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক মেডিকেল কোডিং একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, তাদের পেশাদার মেডিকেল কোডার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মেয়াদ পাঁচ মাস। অনলাইনেও এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কোর্সের টিউশন ফি ২ হাজার ৭০০ ডলার। তবে বই ও জাতীয় পরীক্ষার ফি আলাদা। নিউইয়র্কের সিটি কলেজেও মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ের অনলাইন প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। সেখানে মোট ১৭৫ ঘণ্টার সরাসরি ক্লাস নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮৫ ঘণ্টায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিলিং, বীমা দাবি ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শেখানো হয়। বাকি ৯০ ঘণ্টায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন কোড ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই কোর্সটি পেশাগত সার্টিফিকেশন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও তৈরি করা হয়েছে। নিউইয়র্কের আশপাশে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল বিলিং ও কোডিং শেখার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ব্রঙ্কসের লেহম্যান কলেজ, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কলেজ অব স্ট্যাটেন আইল্যান্ড এবং নিউইয়র্ক মেডিকেল কোডিং একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোথাও অনলাইনে, আবার কোথাও সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু কোর্স শেষ করলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পেশাগত সার্টিফিকেশন অর্জন, কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিলিং ও কোডিংয়ের বাস্তব জ্ঞান চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর কেউ কেউ কয়েক মাসের মধ্যেই এন্ট্রি-লেভেল বা প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে চাকরি পাওয়ার নির্দিষ্ট সময় ব্যক্তি, দক্ষতা ও চাকরির বাজারের ওপর নির্ভর করে। বেতনের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ও সার্টিফিকেশনের পার্থক্য রয়েছে। এএপিসির ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে মেডিকেল কোডার, বিলার, নিরীক্ষকসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যম বার্ষিক আয় ৭৪ হাজার ৪২৬ ডলার। তবে শূন্য থেকে এক বছরের অভিজ্ঞতায় গড় আয় প্রায় ৪৯ হাজার ৫২৪ ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য ও চিকিৎসা নথি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৫১ হাজার ১৪০ ডলার। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই ধরনের চাকরির সংখ্যা ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। অর্থাৎ, নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং ও কোডিংকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রবেশের একটি সম্ভাব্য ক্যারিয়ার পথ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রাথমিক চাকরির জন্য প্রস্তুত হওয়া সম্ভব হলেও ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ পেতে প্রশিক্ষণের মান, পেশাগত সার্টিফিকেশন, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে প্রশিক্ষণের মেয়াদ, খরচ, সার্টিফিকেশন প্রস্তুতি এবং চাকরির সহায়তা সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৭:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন সম্ভাবনা—বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ, বদলাচ্ছে কাজের ধরন
আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ লাখ নতুন চাকরি, সবচেয়ে বেশি সুযোগ স্বাস্থ্যসেবায়

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ৫৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে সব খাতে চাকরির প্রবৃদ্ধি সমান হবে না। স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি, প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সেবার মতো কিছু খাতে নিয়োগ বাড়লেও প্রশাসনিক ও বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেশায় চাকরি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের এই পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি আসবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। স্বাস্থ্যসেবায় ২২ লাখ নতুন চাকরি আগামী দশকে সবচেয়ে বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। এ খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ। খাতটির কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদাও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে নার্স প্র্যাকটিশনারের চাকরি পেশাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হতে পারে নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরিতে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় আরও রয়েছে সোলার ফটোভোলটাইক ইনস্টলার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, উইন্ড টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান এবং মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজার। মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের কর্মসংস্থান ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। এআই ও ডেটা সেন্টারে ইউটিলিটি খাতে নিয়োগ প্রবৃদ্ধির হারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ইউটিলিটি খাত। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ খাতে কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে খাতটির আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় নতুন চাকরি হবে প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০টি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে এই কর্মসংস্থান বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চাকরি ১৫৩ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রযুক্তি খাতেও বাড়বে চাকরি এআই-এর বিস্তারে প্রযুক্তি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা খাত ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে এবং প্রায় ৯ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। এআই-ভিত্তিক সিস্টেম, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি পরামর্শক সেবার চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হবে। ডেটা সায়েন্টিস্টদের কর্মসংস্থান প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এআই-এর চাপে কমবে কিছু চাকরি সব পেশায় অবশ্য চাকরি বাড়বে না। এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তা-সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান কমতে পারে। এই খাতে চাকরি প্রায় ৪ শতাংশ বা ৭ লাখ ৫২ হাজার ১০০টি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে ই-কমার্সের বিস্তার এবং ব্যবসায় এআই ব্যবহারের কারণে বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট পেশাতেও কর্মসংস্থান ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। ফলে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমে যেতে পারে। বিশেষ করে শিল্প, নকশা, বিনোদন, ক্রীড়া ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কিছু চাকরিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিক চাকরির প্রবৃদ্ধি হবে ধীর সব মিলিয়ে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মসংস্থান ১৭ কোটি ৬ লাখ থেকে বেড়ে ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ৫৯ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার হবে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের দশকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী দশকের মার্কিন চাকরির বাজারে তাই শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, চাকরির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, এআই, প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোই এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৬:১৩
নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে শত শত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি! সেপ্টেম্বরে শত শত পদে নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন প্রবাসী বাঙালিরাও

নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে শত শত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসন, আইন ও অন্যান্য বিভাগে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য স্টেটের অফিসিয়াল জব পোর্টালে একাধিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।   স্টেটজবস নিউইয়র্কের বর্তমান তালিকায় অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, নার্স, সোশ্যাল ওয়ার্কার, আইটি স্পেশালিস্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনিশিয়ান, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাটর্নি, ডেটা অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন ধরনের পদ দেখা যাচ্ছে। অনেক পদের আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই, আবার কিছু পদের ডেডলাইন অক্টোবর বা নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।   উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনে আইটি স্পেশালিস্ট, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পদ এবং অন্যান্য স্টেট এজেন্সিতে অফিস ও পেশাদার পর্যায়ের চাকরির বিজ্ঞপ্তি রয়েছে।   তবে সেপ্টেম্বর মাসে ঠিক ৮০০টি নতুন পদে নিয়োগ হবে এমন নির্দিষ্ট সংখ্যা অফিসিয়াল স্টেটজবস তালিকায় নিশ্চিত করা যায়নি। চাকরির সংখ্যা ও পদের তালিকা নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই আবেদনকারীদের প্রতিটি পদের যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল এবং আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু সরকারি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হয়। আবার কিছু পদে সরাসরি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। স্টেটের সিভিল সার্ভিস বিভাগও সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী কয়েক মাসের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে।   আগ্রহীরা নিউইয়র্ক স্টেটের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টালে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদ খুঁজে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি এবং যোগ্যতার শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১১:৫২
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বস্তিতে ট্রাম্প
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বস্তিতে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে আগস্ট মাসে শক্তিশালী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে নতুন করে ১ লাখ ৬২ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।   অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেশ আশাব্যঞ্জক। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন ইতিবাচক তথ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে, কারণ ভোটারদের কাছে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   প্রতিবেদনে আগের দুই মাসের কর্মসংস্থানের তথ্যেও বড় সংশোধন আনা হয়েছে। জুন ও জুলাই মাসের কর্মসংস্থানের হিসাব সম্মিলিতভাবে ৫৫ হাজার বাড়ানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে দেশটির শ্রমবাজার একটি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। আগস্ট মাসে বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও বার খাতে ৫৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে।   গ্রীষ্মের ছুটির পর সরকারি স্কুলগুলোতে পুনরায় নিয়োগ শুরু হওয়ায় শিক্ষা খাতেও ৪২ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতে যুক্ত হয়েছে আরও ১৩ হাজার নতুন চাকরি।   তবে কর্মসংস্থানের এই ইতিবাচক খবরের পর শেয়ারবাজারে কিছুটা দরপতন দেখা গেছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারী এবং বিশ্লেষকদের নজর চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণী বৈঠকের দিকে। শ্রমবাজারের এই চাঙ্গা অবস্থা ফেডারেল রিজার্ভের জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে, কারণ বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করছে।   জুলাইয়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়াঙ্কের মতে, শ্রমবাজার পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ওঠার এই লক্ষণ সাধারণ শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্বস্তিদায়ক হলেও, চাহিদার পাশাপাশি সরবরাহজনিত ধাক্কার কারণে এটি ফেডের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৯:৩৯
এনভিডিয়া, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেনারেল মোটরস ও এটিঅ্যান্ডটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে
কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই ৬ অঙ্কের বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে নতুন ক্যারিয়ারের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ভালো বেতনের চাকরি করতে চার বছরের কলেজ ডিগ্রি সবসময় প্রয়োজন নয় বলে জানিয়েছেন লো’জের প্রধান নির্বাহী মারভিন এলিসন। তার মতে, দক্ষ পেশার অনেক চাকরিতে বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয় করা সম্ভব। প্লাম্বিং, ইলেকট্রিকের কাজ, ওয়েল্ডিং ও এইচভিএসির মতো পেশায় ভালো ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। এসব পেশাকে জনপ্রিয় করতেই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে লো’জ ফাউন্ডেশন।   লো’জ ফাউন্ডেশন ‘বিল্ডিং ফিউচার্স স্কিলড ট্রেডস কোয়ালিশন’ নামে একটি নতুন জোট গঠন করেছে। এর লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষকে দক্ষ পেশার জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুত করা।প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এসব কর্মীকে চাকরির সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশজুড়ে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এলিসন বলেন, চার বছরের কলেজ ডিগ্রিই সফল ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র পথ—এই ধারণা বদলানো দরকার। তার মতে, দক্ষ পেশার অনেক চাকরিই ভালো বেতন ও স্থায়ী ক্যারিয়ারের সুযোগ দিতে পারে। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা থাকা কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাই তরুণদের এসব পেশার দিকেও আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। লো’জ ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার দক্ষ কর্মী প্রশিক্ষণের জন্য ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে দেশটির দক্ষ কর্মীর ঘাটতির তুলনায় এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণেই বিভিন্ন বড় কোম্পানিকে যুক্ত করে নতুন জোট তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করা হবে। এনভিডিয়া, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেনারেল মোটরস ও এটিঅ্যান্ডটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার সনদ দেওয়ার কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করবে। কমিউনিটি কলেজ ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও এর আওতায় থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীদের উপযুক্ত চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতেও সহায়তা করা হবে। নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে এলিসন বলেন, তার বাবা হাইস্কুলও শেষ করতে পারেননি। তিনি সাত ভাইবোনের মধ্যে মাঝের সন্তান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। পরবর্তীতে তিনি দুটি ফরচুন ৫০০ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে সফল হওয়ার জন্য শুধু প্রচলিত শিক্ষার পথ অনুসরণ করা জরুরি নয়। এলিসন আরও সতর্ক করে বলেন, দক্ষ কর্মীর ঘাটতি সমাধান করা না গেলে মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তার হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২১ লাখ দক্ষ কর্মীর পদ খালি থাকতে পারে। এই ঘাটতির কারণে দেশটির অর্থনীতিতে বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। তাই দক্ষ পেশায় প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে কম থাকলেও দীর্ঘ সময় চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বৃদ্ধি! চাকরি না পেয়ে হতাশ লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার ছিলেন। মোট বেকার মানুষের প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের মধ্যে ছিলেন।   বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শুরুর দিক থেকে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেকার থাকা মানুষের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কোনো অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নেই। অতীতে এত বড়সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় বেকার থাকলে সাধারণত বেকারত্বের হারও বেশি থাকত এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকত বা সেখান থেকে বের হওয়ার পর্যায়ে থাকত।   ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা জেরেমি স্পিগেলের অভিজ্ঞতা এই দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের একটি উদাহরণ। ২০২৪ সালে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের চাকরি হারানোর পর তিনি নতুন কাজের সন্ধান শুরু করেন। দুই দশকের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই বছর ধরে তিনি চাকরি খুঁজছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না পাওয়ার কারণে এখন তিনি নিজেকেও প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন।   স্পিগেল জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তার মনে হয়েছে, হয়তো সমস্যাটি তার নিজের মধ্যেই রয়েছে। তার পরিবারের একজন সদস্য পর্যন্ত প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করেছেন সেখানে কারও সঙ্গে তার কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না। চাকরি খোঁজার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি কখনো কখনো সামাজিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে চলেন।   দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের কারণ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে দায়ী করছেন, কেউ বয়সভিত্তিক বৈষম্যের কথা বলছেন। আবার কেউ এমন চাকরির বিজ্ঞাপনের বিষয়টি সামনে আনছেন, যেগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে নিয়োগের উদ্যোগ নেই। তবে এসব বিষয়কে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের নিশ্চিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।   ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ওফার শ্যারোন দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তার মতে, চাকরিপ্রার্থীরা যখন দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার পেছনে কোনো স্পষ্ট বাহ্যিক কারণ খুঁজে পান না, তখন তারা নিজেদের মধ্যেই সমস্যার কারণ খুঁজতে শুরু করেন। এতে আত্মদোষারোপ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খোঁজার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে।   ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা জন ম্যাককার্টিও দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০২২ সালে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরি হারানোর পর তিনি ১৮ মাস ধরে নতুন কাজ খুঁজেছেন। পরে তিনি পেশা পরিবর্তন করে কারিগরি কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে একটি খুচরা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।   ম্যাককার্টি জানান, কয়েকটি চাকরির ক্ষেত্রে তিনি প্রাথমিক ফোন ও কারিগরি সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ভিডিও সাক্ষাৎকারের পর তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। একের পর এক প্রত্যাখ্যানের পর তার মনে হয়েছে, বয়স হয়তো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে তিনি নিজেই নিশ্চিত নন, বয়সকে কারণ হিসেবে ভাবাটা বাস্তবতা নাকি দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার একটি উপায়।   ওফার শ্যারোন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য আশা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘমেয়াদি চাকরিসন্ধান একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কিন্তু সমস্যার কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সেই আশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।   তবে দীর্ঘ সময় চাকরি খোঁজার পর কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত কাজে ফিরতে পারছেন। কিন্তু নতুন চাকরি পেলেও অনেকের ক্ষেত্রে আগের কর্মজীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরি গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ কাজ খোঁজা পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন।   কিম্বারলি ম্যাকক্লেইন ২০২৪ সালে একটি ছোট অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে উপপরিচালকের চাকরি থেকে পদত্যাগ করার পর দ্রুত নতুন কাজ পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে কোনো চাকরির প্রস্তাব না পাওয়ায় তিনিও নিজের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানের অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ-নিষেধ তালিকায় তিনি আছেন কি না, সেটিও ভাবতে শুরু করেছিলেন।   চাকরি খোঁজা শুরুর প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি একটি কল সেন্টারে পূর্ণকালীন গ্রাহকসেবা পেশায় চাকরি পেয়েছেন ম্যাকক্লেইন। তবে নতুন চাকরিতে তার আয় আগের চাকরির প্রায় অর্ধেক। তারপরও দীর্ঘ সময়ের প্রত্যাখ্যানের পর একটি চাকরির প্রস্তাব পাওয়াকে তিনি স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এখন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, জুলাইয়ে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা আগের মাসের ১৯ লাখ থেকে কিছুটা কমে ১৮ লাখে দাঁড়ালেও দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য।   আগামী দিনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগে আরও আত্মবিশ্বাসী হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আবার অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হলে বর্তমান চাকরির বাজার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা অনেক মানুষকে পেশা পরিবর্তন, কম বেতনের কাজ গ্রহণ অথবা চাকরির সন্ধান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।   সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১:১৩
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে যাওয়া ১০টি পেশার ছয়টিই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের। ছবি: সংগৃহীত
আগামী দিনের সেরা ১০ চাকরির ৬টিই স্বাস্থ্যসেবায়! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে যে পেশাগুলোর চাহিদা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে এমন ১০টি পেশার ছয়টিই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর নতুন পূর্বাভাসে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে নার্স অনুশীলনকারীর পেশা। আগামী এক দশকে এই পেশায় প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে।   স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির চাহিদা বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যার ব্যাপকতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে আগামী বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে আরও কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।   নার্স অনুশীলনকারীর পাশাপাশি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপকদের চাকরিও দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই পেশায় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। নতুন চাকরির সংখ্যার হিসাবে এটি দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি হতে পারে।   দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের আরও কয়েকটি পেশা রয়েছে। জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বাড়তে থাকায় এসব পেশায় কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।   তালিকায় প্রযুক্তি ও গণিতভিত্তিক দুটি পেশাও রয়েছে। তথ্যবিজ্ঞানী এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীর চাকরি আগামী এক দশকে বাড়তে পারে। বড় পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন এবং তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধিকে এসব পেশায় কর্মসংস্থান বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   তথ্যবিজ্ঞানীর পেশায় ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার ৪০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীর পেশায় প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি নতুন চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এই দুই পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করেছে।   দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকার বাকি দুটি চাকরি পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী এবং বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদের চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং তথ্যকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এসব পেশার প্রয়োজনও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এসব পেশায় শতকরা হারে প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও নতুন চাকরির মোট সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী ও বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদের পেশা মিলিয়ে আগামী এক দশকে ১৫ হাজারের কম নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে।   ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থান প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ১৭ কোটি ৩ লাখ চাকরি থেকে ২০৩৫ সালে তা প্রায় ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের ১০ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।   জনসংখ্যার বয়স বাড়তে থাকায় আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়াও এর একটি কারণ। অনেক বয়স্ক কর্মী অবসরের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছেন এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে তাদের জায়গায় তরুণ কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।   অন্যদিকে খুচরা বাণিজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। খুচরা বাণিজ্যে কর্মসংস্থান শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। তবে কোনো পেশায় কর্মসংস্থান কমার পূর্বাভাস থাকলেও সেখানে চাকরির সুযোগ একেবারে শেষ হয়ে যাবে, এমনটা নয়।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। তারপরও এই পূর্বাভাস থেকে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে কোন পেশাগুলোর কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে, তার একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের পেশাগুলো এই তালিকায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।   সূত্র: সিএনবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ০:৫৫
পেনসিলভেনিয়ায় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয় তথ্য মিলবে জিপ কোডে
পেনসিলভেনিয়ায় নতুন! চাকরি, শিক্ষা ও জরুরি সহায়তার ঠিকানা জেনে নিন

পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, আবাসন ও আইনি সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন সরকারি ও কমিউনিটি সেবা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন আসা পরিবারের জন্য নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে এসব সেবা খুঁজে নেওয়া সহজ।   সবার আগে কাজে লাগতে পারে পেনসিলভেনিয়া ২১১। ২১১ নম্বরে ফোন করে বা নিজের জিপ কোড জানিয়ে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি, শিক্ষা ও অন্যান্য সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সেবাটি বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে।   চাকরির জন্য পেনসিলভেনিয়ার সরকারি ক্যারিয়ারলিংক ব্যবহার করা যেতে পারে। সেখানে চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, চাকরি খোঁজার প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সহায়তা পাওয়া যায়। বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখার ক্লাস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার সুযোগও জিপ কোড অনুযায়ী খুঁজে নেওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিতে নতুন অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতির বিভিন্ন রিসোর্স রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি, বিনামূল্যের খাবার ও অন্যান্য খাদ্য সহায়তা খুঁজে পাওয়া যায়। একইভাবে আবাসন ও বাড়িভাড়ার সহায়তার তথ্যও পাওয়া যায়। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স ও ফটো সেন্টার জিপ কোড দিয়ে খুঁজে নেওয়া যায়। তাই পেনসিলভেনিয়ায় নতুন হলে নিজের জিপ কোড দিয়ে সরকারি ও স্থানীয় সেবাগুলো খুঁজে দেখুন। চাকরি, স্কুল, খাবার, আবাসন বা অন্যান্য সহায়তার জন্য ২১১ এবং ক্যারিয়ারলিংক হতে পারে ভালো শুরু।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৭:৬
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ অফিসার পদে চাকরির পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির পরীক্ষার আবেদন চলছে, কীভাবে করবেন রেজিস্ট্রেশন

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ অফিসার পদে চাকরির পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। যারা নিউইয়র্ক পুলিশের চাকরিতে আগ্রহী, তারা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না।   নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের সিভিল সার্ভিস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন করার পর লিখিত পরীক্ষার সময়সীমা ৫ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। পরীক্ষাটি হবে মাল্টিপুল চয়েস পদ্ধতিতে (চার বা তার অধিক প্রশ্ন থাকবে তার থেকে উত্তর বেছে নিতে হবে)। পরীক্ষায় পাস করতে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।   আবেদন করবেন যেভাবে : পুলিশ অফিসার পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে নিউইয়র্ক সিটির অনলাইন পরীক্ষার আবেদন ব্যবস্থায় একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যাদের আগে অ্যাকাউন্ট নেই, তাদের প্রথমে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একটি সচল ইমেইল দিতে হবে এবং ইমেইলে পাঠানো নির্দেশনা অনুসরণ করে অ্যাকাউন্টটি নিশ্চিত করতে হবে।   এরপর পরীক্ষার তালিকা থেকে পুলিশ অফিসার পরীক্ষার আবেদন নম্বর ৭৩১৩ নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। যেহেতু এই পরীক্ষার আবেদন ফি শূন্য ডলার, তাই ফি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।   আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদন গ্রহণের একটি কনফার্মেশন ইমেইলে পাঠানো হবে। আবেদনকারীরা নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্টের বিজ্ঞপ্তি অংশেও আবেদনের অবস্থা দেখতে পারবেন।   অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হলে নিউইয়র্ক সিটির কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা ও আবেদন কেন্দ্রগুলো থেকেও আবেদন করা যায়। এসব কেন্দ্রে সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকে।   কারা আবেদন করতে পারবেন : পুলিশ অফিসার পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার তারিখের মধ্যে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৭ বছর হতে হবে। তবে চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার সময় বয়স কমপক্ষে ২০ বছর ৬ মাস হতে হবে।   শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে চার বছরের উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ বা সমমানের যোগ্যতার পাশাপাশি ২৪ সেমিস্টার কলেজ ক্রেডিটসহ কমপক্ষে ২.০ গড় নম্বর অথবা দুই বছর সম্মানজনকভাবে পূর্ণকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনীতে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।   চাকরিতে নিয়োগের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব, বৈধ নিউইয়র্ক স্টেট ড্রাইভার লাইসেন্স এবং নির্ধারিত এলাকার মধ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক সক্ষমতা যাচাই, মাদক পরীক্ষা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।   বয়স নিয়ে একটি বিষয় আবেদনকারীদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রচারমূলক বিজ্ঞপ্তিতে ৪২ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। তবে বর্তমান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ নিয়োগের বয়সসীমা আলাদাভাবে উল্লেখ আছে এবং সামরিক চাকরির ক্ষেত্রে বয়সে ছাড়ের বিধান রয়েছে। তাই বয়সের বিষয়ে আবেদন করার আগে সরকারি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।   আবেদন করার শেষ সময় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে দেরি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৯:১১
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য আবেদন করার আগে জীবনবৃত্তান্তের ফরম্যাট ঠিক করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় চাকরি খোঁজার আগে রেজুমে-তে যে ১০টি বিষয় ঠিক করতে হবে, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য Resume পাঠানোর আগে এর ফরম্যাট, তথ্য ও শব্দচয়ন ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক প্রতিষ্ঠান Applicant Tracking System বা ATS ব্যবহার করে Resume স্ক্যান করে। এই সফটওয়্যার চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে থাকা নির্দিষ্ট Keyword, Skills ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রার্থীর Resume মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে আবেদন বাছাই করতে পারে। তবে ATS সব Resume একইভাবে যাচাই করে না এবং কোনো Resume-কে ‘১০০ শতাংশ পাস’ করানোর নিশ্চয়তাও নেই। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক Resume Guide এবং CareerOneStop-এর নির্দেশনায় ATS-এর উপযোগী সহজ ফরম্যাট ও চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিল রেখে তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   প্রথমত, Resume-তে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিন। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ চাকরির Resume-তে ছবি, বয়স, জন্মতারিখ, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা বা বাবার নাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে নিজের নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল, City ও State এবং প্রয়োজন হলে LinkedIn প্রোফাইল দিতে পারেন। পুরো বাসার ঠিকানা দেওয়াও সাধারণত প্রয়োজন হয় না।   দ্বিতীয়ত, Resume-এর দৈর্ঘ্য অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে ঠিক করুন। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক পৃষ্ঠা যথেষ্ট হতে পারে। তবে অভিজ্ঞ প্রার্থীর Resume প্রয়োজন অনুযায়ী দুই পৃষ্ঠা পর্যন্ত হতে পারে। CareerOneStop সাধারণত দীর্ঘ কর্মজীবনের ক্ষেত্রে গত ১২ থেকে ১৫ বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাই বহু বছর আগের অপ্রাসঙ্গিক চাকরির তথ্য দিয়ে Resume ভারী করার দরকার নেই।   তৃতীয়ত, Job Description ভালোভাবে পড়ুন। সেখানে যে Skills ও যোগ্যতাগুলো চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা মিললে একই ধরনের Keyword Resume-তে ব্যবহার করুন। যেমন Customer Service, Cash Handling বা Inventory Management। তবে এমন কোনো Skill লিখবেন না, যা আপনার আসলে নেই।   চতুর্থত, Resume-এর শুরুতেই নিজের পরিচয় ও পেশাগত যোগ্যতা পরিষ্কার করুন। নাম, যোগাযোগের তথ্যের পর একটি সংক্ষিপ্ত Professional Summary দেওয়া যেতে পারে। এতে আপনি কোন ধরনের কাজ করেন, কত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরুন। নতুন গ্র্যাজুয়েট বা অল্প অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে Summary প্রয়োজন না-ও হতে পারে।   পঞ্চমত, কাজের অভিজ্ঞতা শুধু দায়িত্বের তালিকা হিসেবে লিখবেন না। সম্ভব হলে কাজের ফলাফল সংখ্যা দিয়ে তুলে ধরুন। যেমন ‘প্রতিদিন ১০০-এর বেশি কাস্টমারকে সেবা দিয়েছি’ বা ‘প্রতিদিন ৫ হাজার ডলারের ক্যাশ লেনদেন পরিচালনা করেছি’। CareerOneStop-ও কাজের বর্ণনায় সংখ্যা, শতাংশ, বিক্রি বা সাশ্রয়ের পরিমাণ এবং অর্জন তুলে ধরার পরামর্শ দেয়।   ষষ্ঠত, Education অংশে বাংলাদেশের শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির জন্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করুন। ডিগ্রি, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রাসঙ্গিক হলে গ্র্যাজুয়েশনের বছর উল্লেখ করুন। বাংলাদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার যুক্তরাষ্ট্রে সমমান নির্ধারণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক credential evaluation করা থাকলে, চাকরির ক্ষেত্রে সেটি প্রাসঙ্গিক হলে উল্লেখ করা যেতে পারে। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে ভুলভাবে ‘High School Diploma’ বা অন্য কোনো মার্কিন ডিগ্রির নামে পরিবর্তন করা উচিত নয়।   সপ্তমত, Skills অংশে চাকরিটির সঙ্গে সম্পর্কিত Technical বা Job-specific Skills আগে রাখুন। যেমন POS, Excel, QuickBooks বা Forklift। Soft Skills-এর ক্ষেত্রেও শুধু সাধারণ শব্দের তালিকা না দিয়ে, সম্ভব হলে Professional Summary বা কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেগুলোর প্রমাণ দেখানো বেশি কার্যকর।   অষ্টমত, ATS-এর জন্য Resume-এর ডিজাইন যতটা সম্ভব সহজ রাখুন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বলছে, অনেক ATS টেবিল, কলাম, ছবি, চার্ট বা গ্রাফিক্স ঠিকভাবে পড়তে পারে না। তাই একটি পরিষ্কার Single-column Layout এবং প্রচলিত Section Heading ব্যবহার করা নিরাপদ। Resume-এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Header বা Footer-এর ভেতরে না রাখাও ভালো।   নবমত, Resume-এর File Format চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দিন। শুধু ATS-এর কারণে সবসময় PDF বাদ দিয়ে DOCX ব্যবহার করতে হবে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের গাইডে বলা হয়েছে, Job Posting-এ যে Format চাওয়া হয়েছে সেটিই অনুসরণ করতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট Format না দেওয়া থাকে, CareerOneStop সাধারণত PDF ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, কারণ এতে ফরম্যাট ঠিক থাকে। File Name-এ নিজের নাম ও প্রয়োজনে Job Title রাখা যেতে পারে।   দশমত, Resume-এর পাশাপাশি Cover Letter প্রয়োজন হলে সেটিও Job Description অনুযায়ী তৈরি করুন। কোন পদের জন্য আবেদন করছেন, আপনার কোন অভিজ্ঞতা ওই পদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে এবং কেন আপনি উপযুক্ত, তা সংক্ষেপে তুলে ধরা যায়। ChatGPT বা অন্য কোনো AI Tool দিয়ে খসড়া তৈরি করলেও তথ্য অবশ্যই নিজের হতে হবে এবং ভাষা নিজের মতো করে সম্পাদনা করা উচিত। CareerOneStop-ও Resume উন্নত করতে AI Tool ব্যবহারের সুযোগের কথা উল্লেখ করেছে।   সবশেষে, ATS পাস করানোর কোনো নির্দিষ্ট ‘৯০+’ বা ‘১০০%’ স্কোর নিশ্চিত করার পদ্ধতি নেই। বরং চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক Keyword মিল রাখা, সত্য তথ্য ব্যবহার করা এবং সহজে পড়া যায় এমন Resume তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ২০২৬ সালের Resume Guide অনুযায়ী, ATS অনেক ক্ষেত্রে Keyword ও Formatting দেখে প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে বাছাই করতে পারে। তাই সুন্দর ডিজাইনের চেয়ে সঠিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা এবং পরিষ্কার ফরম্যাটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১০:৪৯
পেনসিলভানিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ায় নতুন আসা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি থেকে স্বাস্থ্যসেবা, ১০টি জরুরী ঠিকানা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নতুন করে বসবাস শুরু করা বাংলাদেশি পরিবার ও অভিবাসীদের জন্য চাকরি, শিক্ষা, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় বসবাসকারীরা সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কমিউনিটি রিসোর্সের মাধ্যমে এসব সহায়তা নিতে পারেন।   এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স হলো পেনসিলভানিয়া ২১১। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জরুরি সেবার সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করে এই বিনামূল্যের সেবা। ২১১ নম্বরে ফোন করে অথবা নিজের এলাকার জিপ কোড ব্যবহার করে খাবার, বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং শিশুদের সহায়তাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।   চাকরি খুঁজতে পেনসিলভানিয়ার ক্যারিয়ারলিংকও গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাজ্যের সরকারি কর্মসংস্থান সেবা, যেখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে সহায়তা পাওয়া যায়। নিজের এলাকার কাছাকাছি সেবা খুঁজতে জিপ কোড ব্যবহার করা যায়।   শিশুদের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে নিজের বাসার ঠিকানা অনুযায়ী স্থানীয় স্কুল জেলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ইংরেজি ভাষা শেখা শিক্ষার্থীদের জন্য পেনসিলভানিয়া শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে। প্রয়োজন হলে পরিবারগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ভাষাগত সহায়তা বা দোভাষীর সুবিধা সম্পর্কেও জানতে পারেন।   যারা ইংরেজি শিখতে চান বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও পেনসিলভানিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। রাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা ও পারিবারিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং চাকরি ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।   স্থানীয় গণগ্রন্থাগারও নতুন অভিবাসীদের জন্য কাজে লাগতে পারে। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে কম্পিউটার ব্যবহার, চাকরি খোঁজা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস বা কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সময়সূচি ও যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া ভালো।   খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভানিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র, খাদ্যভাণ্ডার ও বিনামূল্যের খাবারের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকেও খাবার বিতরণের কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   আইনি সমস্যায় কম আয়ের পরিবারগুলো পেনসিলভানিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সহায়তা খুঁজতে পারেন। এই নেটওয়ার্ক যোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন দেওয়ানি আইনি বিষয়ে সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করে। অভিবাসন, বাসস্থান বা কর্মক্ষেত্রসংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে বা কম খরচে আইনি সহায়তার সুযোগ রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে।   ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্টেট আইডির প্রয়োজন হলে পেনসিলভানিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলসের নির্ধারিত সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। কাছের লাইসেন্স বা ছবি তোলার কেন্দ্র খুঁজতে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করা যায়। নতুন লাইসেন্স, নবায়ন ও রিয়েল আইডির জন্য আলাদা নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে পারে।   এর পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার জায়গা হতে পারে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন, মসজিদ ও অন্যান্য কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার বিতরণ, শিক্ষা ও অন্যান্য সহযোগিতার তথ্য পাওয়া যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট সেবা বিনামূল্যে বা সবার জন্য উন্মুক্ত কি না, তা আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।   পেনসিলভানিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করলে একসঙ্গে সব তথ্য খোঁজার প্রয়োজন নেই। নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে প্রথমে ২১১-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। এরপর চাকরি, স্কুল, ইংরেজি শিক্ষা, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে আসবে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৯:৩৬
নিউইয়র্কে তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ, সঙ্গে অর্থ উপার্জনের সুযোগ
নিউইয়র্কে তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ, সঙ্গে অর্থ উপার্জনের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাজীবন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিনামূল্যে দুটি বৃহৎ যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শুধু কাজের অভিজ্ঞতাই নয়, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পারিশ্রমিক পাওয়ারও দারুণ সুযোগ থাকছে।   এর ফলে শিক্ষার্থীরা নতুন পেশার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও পড়াশোনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করছে।   শহরের যুব ও সম্প্রদায় উন্নয়ন বিভাগের অধীনে পরিচালিত ছয় সপ্তাহব্যাপী 'গ্রীষ্মকালীন যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচি'-তে প্রতি বছর ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় এক লাখ তরুণ অংশ নেয়।   ব্রঙ্কসের গ্যাব্রিয়েল পিটার্স নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও হিপহপ জাদুঘরের একটি যৌথ প্রকল্পে কাজের সুযোগ পায়।   পিটার্স জানায়, আগে সে শুধু অভিনয়শিল্পী বা গায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, এই কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংগীতের সমন্বয়ের বিষয়টি জেনে তার আগ্রহের পরিধি আরও বেড়েছে। এই চমৎকার অভিজ্ঞতার পর সে হিপহপ জাদুঘরে শিক্ষানবিশ হিসেবেও কাজের সুযোগ পেয়েছে।   অন্যদিকে, 'লার্ন অ্যান্ড আর্ন' নামক অপর একটি কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের উচ্চবিদ্যালয়গুলোর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় এক হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পাশাপাশি পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়েই এটি পরিচালিত হয়।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, কর্মক্ষেত্রের আচরণ এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শেখানো হচ্ছে। এই দক্ষতাগুলো শুধু কর্মজীবনেই নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনেও ব্যাপক কাজে আসবে।   যুব কর্মশক্তি উন্নয়ন কর্মসূচির কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে কলেজে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া অনেকটাই চাকরির আবেদনের মতো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। তাই আবেদনপত্রে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা থাকাটা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই জরুরি।   বিনামূল্যে পরিচালিত এই উদ্যোগগুলোর সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো শিক্ষার্থীদের মানসিক ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন। লাজুক ও আত্মবিশ্বাসহীন অনেক তরুণ এই কর্মসূচি শেষে প্রবল আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করার এক অভাবনীয় সুযোগ পাচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৫:৫৪
নিউ অরলিন্সের সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডে চাকরির সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
নিউ অরলিন্সে সরকারি চাকরির সুযোগ, অফিস সহকারীসহ একাধিক পদে নিয়োগ

নিউ অরলিন্সের সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডে অফিস সহকারীসহ একাধিক পূর্ণকালীন সরকারি চাকরির সুযোগ রয়েছে। সংস্থাটির সরকারি ক্যারিয়ার পাতায় বর্তমানে বিভিন্ন পদে নিয়োগের তথ্য দেওয়া হয়েছে।    এর মধ্যে অফিস সহকারী পদটি সিটিওয়াইড শ্রেণির পূর্ণকালীন চাকরি। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, এ পদের বেতন ৩১ হাজার ৮৮৯ ডলার এবং আবেদনের শেষ তারিখ নির্ধারিত নেই।   অফিস সহকারী পদের কাজে মাঝারি ধরনের বিভিন্ন দাপ্তরিক ও কেরানিসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। এ পদের জন্য উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ বা সমমানের যোগ্যতার পাশাপাশি তিন বছরের পূর্ণকালীন কেরানি, প্রশাসনিক, কম্পিউটার, জনসেবা বা প্রেরণকেন্দ্রিক কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে।   তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পদভেদে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, সংস্থাটির আরেকটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন বিশ্লেষক পদের জন্য স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পদে বেতন ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও আলাদা।    সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ড জানিয়েছে, কর্মীদের জন্য বার্ষিক ও অসুস্থতাজনিত ছুটি, জীবনবীমা, স্বাস্থ্য, ডেন্টাল ও ভিশন বীমা, পেনশন, শিক্ষাব্যয় ফেরত এবং কর্মী সহায়তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। সংস্থাটি সমান সুযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়।   নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থাটির একাধিক ধাপের প্রক্রিয়া রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট পদের সর্বশেষ যোগ্যতা, বেতন ও অন্যান্য শর্ত দেখে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্যারিয়ার পাতায় চলমান পদগুলোর তালিকাও পাওয়া যাচ্ছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন করার সময় বর্তমানে বসবাসের নির্দিষ্ট শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তবে পূর্ণকালীন কর্মীদের নিয়োগের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অরলিন্স প্যারিশে বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এ শর্ত থেকে অব্যাহতির সুযোগও রয়েছে।   চাকরিপ্রার্থীদের তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে আবেদন করার আগে সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডের সরকারি চাকরির তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট পদের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৩:২২
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থা সিবিপিতে একাধিক পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরির বড় সুযোগ, সিবিপিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থা সিবিপিতে একাধিক পদে বর্তমানে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার পদে বিভিন্ন লোকেশনে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।   কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসাররা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রবেশপথে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাত্রী ও পণ্য পরীক্ষা করা এবং কাস্টমস ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে কাজ করেন। পদটি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী চাকরি হওয়ায় দায়িত্বের সঙ্গে ইউনিফর্ম পরা, আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার বিষয়ও যুক্ত রয়েছে।    বর্তমান একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই পদে বেতন ৬৩ হাজার ৪৩১ ডলার থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৬৪ ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মূল বেতনের বাইরে বছরে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ওভারটাইম আয় করতে পারেন। চাকরিটি পূর্ণকালীন এবং নিয়মিত শিফট ও ওভারটাইমে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে।    নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন যোগ্যতা ও যাচাই প্রক্রিয়া রয়েছে। আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ইনভেস্টিগেশন, ড্রাগ টেস্ট, মেডিকেল পরীক্ষা এবং অন্যান্য নিয়োগসংক্রান্ত ধাপ পেরোতে হয়। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার পদে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে দক্ষতাও বাধ্যতামূলক।    কিছু নির্দিষ্ট লোকেশনে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য অতিরিক্ত নিয়োগ প্রণোদনাও রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট এলাকায় তিন বছরের সার্ভিস কনট্রাক্টের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার এবং কিছু এলাকায় চার বছরের সার্ভিস কনট্রাক্টের জন্যও বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে।    শুধু কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার নয়, সিবিপির ক্যারিয়ার পেজে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট, মেরিন ইন্টারডিকশন এজেন্ট এবং এয়ার ইন্টারডিকশন এজেন্টসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী পদেও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। এসব পদের কয়েকটির আবেদন শেষ হওয়ার তারিখও ৩১ আগস্ট ২০২৬।    তবে পদভেদে যোগ্যতা, বয়সসীমা, বেতন, দায়িত্ব, কর্মস্থল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আলাদা। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সর্বশেষ তথ্য দেখে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শর্ত নিশ্চিত করা জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২:৩৩
সঠিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপস্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অভিবাসী পেশাজীবীদের সফল কর্মসংস্থান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতাই হতে পারে আমেরিকায় ক্যারিয়ারের বড় শক্তি

বাংলাদেশে বছরের পর বছর চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর অনেকেই মনে করেন, আগের কাজের অভিজ্ঞতার আর কোনো মূল্য নেই। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে দেশের চাকরির অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দল পরিচালনা, গ্রাহকসেবা, তথ্য বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতা বিভিন্ন পেশায় কাজে লাগানো সম্ভব।   তবে শুধু রেজুমেতে বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতা উল্লেখ করলেই হবে না। আমেরিকান নিয়োগকর্তারা যেন আপনার কাজের দায়িত্ব, দক্ষতা ও অর্জন সহজে বুঝতে পারেন, সেভাবেই অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরতে হবে।   রেজুমে সাজাতে হবে আমেরিকান ধাঁচে বাংলাদেশে প্রচলিত দীর্ঘ জীবনবৃত্তান্তের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট পদের জন্য তৈরি রেজুমে বেশি কার্যকর। পেশাগত অভিজ্ঞতা লেখার সময় শুধু কী দায়িত্ব পালন করেছেন তা না লিখে, সেই কাজের মাধ্যমে কী ফলাফল অর্জন করেছেন সেটি তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।   উদাহরণ হিসেবে, শুধু ‘২০ জনের দল পরিচালনা করেছি’ না লিখে, সেই দলের মাধ্যমে কী অর্জন করেছেন তা উল্লেখ করা বেশি কার্যকর। যেমন, ২০ সদস্যের একটি দল পরিচালনা করে ছয় মাসে বিক্রি ৩০ শতাংশ বাড়ানোর মতো সুনির্দিষ্ট অর্জন থাকলে সেটি রেজুমেতে তুলে ধরা যেতে পারে।   চাকরির পদবি হতে হবে সহজবোধ্য বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত পদবি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার কাছে সবসময় পরিচিত নাও হতে পারে। তাই দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ও সহজবোধ্য পদবি ব্যবহার করা যেতে পারে।   একইভাবে বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত না হলে রেজুমেতে প্রতিষ্ঠানটির কাজের ধরন ও পরিধি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এতে নিয়োগকর্তা বুঝতে পারবেন, আপনি কী ধরনের প্রতিষ্ঠানে এবং কতটা বড় পরিসরে কাজ করেছেন।   স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা আলাদাভাবে তুলে ধরুন বাংলাদেশে শিক্ষকতা, ব্যাংকিং, হিসাবরক্ষণ, বিপণন কিংবা প্রশাসনিক কাজে অর্জিত অনেক দক্ষতা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন চাকরিতে কাজে লাগতে পারে।   একজন শিক্ষক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রাহকসেবা ও নিয়মনীতি মেনে কাজ করার দক্ষতা তুলে ধরা যায়। এসব দক্ষতা সংশ্লিষ্ট পেশার পাশাপাশি গ্রাহকসেবা, অফিস প্রশাসন বা কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিতেও কাজে লাগতে পারে।   পেশাভেদে লাইসেন্স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করুন ডাক্তার, নার্স, প্রকৌশলী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত পেশায় বিদেশি ডিগ্রি বা পেশাগত যোগ্যতা সরাসরি গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।   কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান নির্ধারণের জন্য মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের কাজে বিভিন্ন স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেবা দিয়ে থাকে। তবে কোন মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, তা পেশা ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পেশায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ ও নিয়োগদাতার শর্ত যাচাই করা উচিত।   সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতিভিত্তিক উত্তর দিন যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির সাক্ষাৎকারে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ চাওয়া খুবই সাধারণ। ‘কঠিন পরিস্থিতি কীভাবে সামলেছেন’ বা ‘কোনো সমস্যা কীভাবে সমাধান করেছেন’ এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের কর্মজীবনের বাস্তব ঘটনা ব্যবহার করা যেতে পারে।   এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি, দায়িত্ব, পদক্ষেপ ও ফলাফল এই চার ধাপে উত্তর দেওয়া কার্যকর। প্রথমে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে হবে, এরপর নিজের দায়িত্ব কী ছিল তা বলতে হবে। তারপর সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল হয়েছে তা তুলে ধরতে হবে। এতে বিদেশে অর্জিত কর্মঅভিজ্ঞতাও নিয়োগকর্তার কাছে স্পষ্ট ও প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।   দেশের অভিজ্ঞতা লুকিয়ে রাখবেন না বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতা রেজুমে থেকে বাদ দেওয়া বা অপ্রয়োজনীয় কর্মজীবন গ্যাপ তৈরি করা অনেক সময় উল্টো প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বরং আগের প্রতিষ্ঠানের নাম, পদবি, কর্মকাল এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জন পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা ভালো।   তবে বাংলাদেশের কোনো পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে একই পেশায় কাজ করার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, আইন, শিক্ষা ও অন্যান্য লাইসেন্সনির্ভর পেশায় স্থানীয় নিয়ম অবশ্যই যাচাই করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করার অর্থ শূন্য থেকে শুরু করা নয়। বাংলাদেশের কর্মজীবনে অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত সাফল্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে সেগুলোই আমেরিকায় নতুন ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১২:১০
যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিই একমাত্র পথ নয়। ছবি: সংগৃহীত
৬ মাসে শেখা যায় এমন ১০ দক্ষতা, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কাজে লাগতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে শুধু ডিগ্রিই একমাত্র পথ নয়। নির্দিষ্ট কিছু কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করেও নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তবে কোনো একটি দক্ষতা শিখলেই ছয় মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট বেতন বা চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়। বেতন, প্রশিক্ষণের সময়, লাইসেন্স এবং চাকরির চাহিদা অঙ্গরাজ্য, শহর, নিয়োগদাতা ও ব্যক্তির অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।   নতুনদের জন্য তাই এমন দক্ষতা বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলোর বাস্তব কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার রয়েছে এবং প্রশিক্ষণ বা সনদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নত করা যায়।   ১. ফর্কলিফট পরিচালনা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ওয়্যারহাউস ও পণ্য বিতরণকেন্দ্রে ফর্কলিফট পরিচালনার দক্ষতার চাহিদা রয়েছে। পণ্য ওঠানো, নামানো ও সরানোর পাশাপাশি নিরাপদভাবে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে শুধু অনলাইনে ভিডিও দেখে ফর্কলিফট চালানো শেখা যথেষ্ট নয়। নিয়োগদাতার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা যাচাই লাগতে পারে। কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী ফর্কলিফট অপারেটরদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।   ২. বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রস্তুতি বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সিডিএল অর্জন করতে পারলে ট্রাক ড্রাইভিংসহ পরিবহন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু সিডিএল পারমিট পেলেই সব ধরনের ট্রাক চালানো যায় না। পূর্ণ সিডিএল পেতে লিখিত পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং প্রযোজ্য দক্ষতা পরীক্ষার ধাপ রয়েছে।   যারা দীর্ঘমেয়াদে ড্রাইভিং পেশায় যেতে চান, তাদের জন্য সিডিএল প্রস্তুতি একটি বাস্তব ক্যারিয়ার দক্ষতা হতে পারে। কোন ধরনের সিডিএল বা অতিরিক্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে, তা কাঙ্ক্ষিত কাজের ওপর নির্ভর করে।   ৩. তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা কম্পিউটার ও প্রযুক্তিতে আগ্রহ থাকলে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা বা আইটি সাপোর্ট একটি সম্ভাব্য ক্যারিয়ার পথ। কম্পিউটারের সমস্যা সমাধান, সফটওয়্যার ইনস্টলেশন, ব্যবহারকারীকে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নেটওয়ার্কের মৌলিক বিষয় শেখা এই দক্ষতার অংশ।   তবে আইটি সাপোর্ট শিখলেই সরাসরি উচ্চ বেতনের চাকরি নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কম্পিউটার ব্যবহারকারী সহায়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৬০ হাজার ৩৪০ ডলার। কিছু ক্ষেত্রে কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রযুক্তি সনদ থাকলেও চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।   ৪. স্বাস্থ্যসেবা সহকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করতে চাইলে নার্সিং সহকারী বা অন্যান্য সহায়ক পেশার প্রশিক্ষণ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এই ধরনের চাকরিতে অঙ্গরাজ্যভেদে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা বা অন্যান্য যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা সহায়ক পেশাগুলোর ক্ষেত্রেও চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   ৫. ওয়েল্ডিং কারিগরি পেশায় যেতে চাইলে ওয়েল্ডিং একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। বিশেষ করে মিগ ওয়েল্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের ওয়েল্ডিং শেখার মাধ্যমে উৎপাদন, নির্মাণ ও অন্যান্য শিল্প খাতে কাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়।   তবে ওয়েল্ডিং শিখলেই নির্দিষ্ট ঘণ্টাপ্রতি বেতন নিশ্চিত নয়। বেতন নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, সনদ, শ্রমিক ইউনিয়ন, নিয়োগদাতা এবং এলাকার ওপর। ট্রেড স্কুল, কমিউনিটি কলেজ বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া বেশি কার্যকর।   ৬. রিয়েল এস্টেট রিয়েল এস্টেট পেশায় যেতে চাইলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্সের নিয়ম জানতে হবে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোর্স, পরীক্ষা এবং লাইসেন্সের নিয়ম এক নয়।   এই পেশায় সাধারণ চাকরির মতো নির্দিষ্ট মাসিক বেতন নাও থাকতে পারে। আয় অনেক ক্ষেত্রে কমিশনভিত্তিক হয়। একটি বাড়ি বিক্রি করলেই নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। তাই লাইসেন্স নেওয়ার পাশাপাশি বিপণন, গ্রাহকসেবা এবং স্থানীয় আবাসন বাজার সম্পর্কে জ্ঞান প্রয়োজন।   ৭. হিসাবরক্ষণ ও কুইকবুকস ছোট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব পরিচালনার জন্য হিসাবরক্ষণ বা বুককিপিং দক্ষতা কাজে লাগতে পারে। আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা, চালান, পেমেন্ট এবং আর্থিক রেকর্ড ব্যবস্থাপনার মতো কাজ এই দক্ষতার মধ্যে পড়ে।   কুইকবুকসের মতো হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার শেখা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ব্যবহারের পাশাপাশি হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞান এবং নির্ভুলভাবে হিসাব পরিচালনার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ।   ৮. এইচভিএসি হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং বা এইচভিএসি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ক্ষেত্র। ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনের হিটিং ও কুলিং ব্যবস্থা স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের কাজে এই দক্ষতা ব্যবহার হয়।   এইচভিএসি পেশায় যেতে হলে শুধু কয়েকটি অনলাইন ভিডিও দেখার চেয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানবিশ কর্মসূচি বেশি কার্যকর। কিছু কাজে অতিরিক্ত লাইসেন্স বা সনদেরও প্রয়োজন হতে পারে।   ৯. বাণিজ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবনের মেঝে পরিচর্যা, কার্পেট পরিষ্কার এবং বিভিন্ন যন্ত্র পরিচালনার মতো বিশেষ দক্ষতা অর্জন করলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   এই কাজে ব্যবহৃত মেশিন ও রাসায়নিক নিরাপদভাবে পরিচালনা শেখা গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও বাস্তব প্রশিক্ষণ ছাড়া পেশাদারভাবে কাজ শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নিজের ব্যবসা শুরু করতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্স, বীমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিয়মও যাচাই করতে হবে।   ১০. ডিজিটাল বিপণন ও ভিডিও সম্পাদনা ছোট ব্যবসার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট, ভিডিও, গ্রাফিক ডিজাইন ও ডিজিটাল বিপণনের কাজের সুযোগ রয়েছে। ক্যানভা, ক্যাপকাট বা অন্যান্য সফটওয়্যার দিয়ে প্রাথমিক কাজ শেখা তুলনামূলক সহজ হলেও পেশাদার পর্যায়ে যেতে হলে কনটেন্ট কৌশল, বিজ্ঞাপন, তথ্য বিশ্লেষণ এবং গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগের মতো দক্ষতাও প্রয়োজন।   অনলাইনে বিনামূল্যে বা কম খরচের কোর্স দিয়ে শুরু করা যায়। পরে নিজের কাজের নমুনা বা পোর্টফোলিও তৈরি করে স্থানীয় ব্যবসা কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহক খোঁজা যেতে পারে।   কীভাবে শুরু করবেন? একসঙ্গে ১০টি দক্ষতা শেখার চেষ্টা না করে নিজের বর্তমান অভিজ্ঞতা, সময়, অর্থ এবং আগ্রহ অনুযায়ী একটি ক্ষেত্র বেছে নেওয়া ভালো। প্রতিদিন নিয়মিত সময় দেওয়ার পাশাপাশি বাস্তব অনুশীলন ও ছোট প্রকল্প তৈরি করলে দক্ষতা দ্রুত বাড়তে পারে।   যারা শারীরিক ও কারিগরি কাজে আগ্রহী, তারা এইচভিএসি, ওয়েল্ডিং বা ফর্কলিফট পরিচালনা বিবেচনা করতে পারেন। ড্রাইভিংয়ে আগ্রহ থাকলে সিডিএল একটি দীর্ঘমেয়াদি পথ হতে পারে। কম্পিউটারে কাজ করতে চাইলে আইটি সাপোর্ট, বুককিপিং বা ডিজিটাল বিপণন শেখা যেতে পারে। আর স্বাস্থ্যসেবায় ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অঙ্গরাজ্যের নিয়ম যাচাই করে নার্সিং সহকারীর মতো পেশা বিবেচনা করা যায়।   যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দক্ষতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো একটি অনলাইন কোর্স শেষ করলেই নির্দিষ্ট বেতন বা চাকরি নিশ্চিত হয় না। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে বায়ু টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী, নার্স প্র্যাকটিশনার, তথ্যবিজ্ঞানী এবং তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতো পেশা রয়েছে। এসব পেশার অনেকগুলোর জন্য অতিরিক্ত শিক্ষা বা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।   তাই নতুন দক্ষতা শেখার সময় শুধু দ্রুত বেশি বেতনের আশ্বাসের দিকে না তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট পেশার যোগ্যতা, লাইসেন্স, প্রশিক্ষণের খরচ, স্থানীয় চাকরির চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিবেচনা করা জরুরি। সঠিক দক্ষতা ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে পারলে বর্তমান চাকরি থেকে আরও ভালো ক্যারিয়ারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১১:৪১
গবেষণায় দেখা গেছে, পাইলটদের বিকিরণজনিত ক্যানসারে মৃত্যুর হার অন্যান্য যেকোনো পেশার মানুষের তুলনায় অনেকটাই বেশি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা দুই চাকরিতে ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি: বলছে গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০টির বেশি পেশা নিয়ে করা নতুন এক গবেষণায় পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, উড়োজাহাজের উচ্চতায় মহাজাগতিক রশ্মির সংস্পর্শে আসার কারণে বিমানকর্মীরা অন্যান্য অনেক পেশার তুলনায় বেশি আয়নাইজিং বিকিরণের মুখোমুখি হন।   গবেষণাটি ১৭ আগস্ট ‘JAMA Internal Medicine’-এ প্রকাশিত হয়েছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেনস হাসপাতালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে ৫০৩টি পেশা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার পাইলট এবং ৭ হাজার ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন।   গবেষণায় দেখা গেছে, পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাত অন্য পেশার তুলনায় সবচেয়ে বেশি। বিশ্লেষণে স্তন, প্রোস্টেট, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্যানসার এবং মেলানোমাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার বিবেচনা করা হয়েছে। পাইলটদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়ায় মৃত্যুর হারও তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।   গবেষকদের ব্যাখ্যা, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ যে উচ্চতায় চলাচল করে সেখানে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় মহাজাগতিক রশ্মির সংস্পর্শ বাড়ে। এ কারণে বিমানকর্মীরা কর্মক্ষেত্রে আয়নাইজিং বিকিরণের তুলনামূলক বেশি মাত্রার সংস্পর্শে আসেন। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই বিকিরণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে ক্যানসারের সঙ্গে এর সম্পর্ক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   গবেষণার ফলাফলে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ক্ষেত্রে বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর সমন্বিত সম্ভাবনা অন্যান্য পেশার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল। পাইলটদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই পরিসংখ্যান থেকে সরাসরি বলা যাবে না যে মহাজাগতিক বিকিরণই এসব মৃত্যুর কারণ।   কারণ গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক। এতে একজন বিমানকর্মী তাঁর কর্মজীবনে মোট কত ঘণ্টা উড়েছেন, কোন উচ্চতায় বেশি সময় কাটিয়েছেন, কোন রুটে উড়েছেন কিংবা কতটা বিকিরণের সংস্পর্শে এসেছেন, সেই ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সূর্যের অতিরিক্ত কণার বিকিরণ, ঘুমের ব্যাঘাত, অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ, শারীরিক ওজন এবং জীবনযাপনের মতো আরও কিছু বিষয়ও বিশ্লেষণে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।   এ কারণে গবেষণার ফলাফলকে কারণ ও ফলাফলের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিমানকর্মীদের বেশি বিকিরণের সংস্পর্শে আসার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুধু এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যাবে না যে বিকিরণের কারণেই তাঁদের ক্যানসারে মৃত্যুর হার বেশি।   গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিমান চলাচল খাতের সব কর্মীর মধ্যে একই প্রবণতা দেখা যায়নি। মাটিতে কাজ করা বিমান চলাচল খাতের কর্মীদের মধ্যে পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মতো একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, এটি উচ্চ আকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কারণের ভূমিকা থাকার সম্ভাবনাকে আরও গুরুত্ব দেয়।   তবে বিমানকর্মীদের ক্যানসারের ঝুঁকিতে বিকিরণ ছাড়াও অন্য কিছু বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘ সময় ভ্রমণ, রাতের ফ্লাইট, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা ও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত বিমানকর্মীদের জীবনে নিয়মিত ঘটনা। পাইলটরা ককপিটের জানালার কারণে অতিবেগুনি রশ্মিরও সংস্পর্শে আসতে পারেন। ফলে ক্যানসারে মৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।   বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট, দুটিই যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পেশা। চলতি বছরের ‘১০০ সেরা চাকরি’র তালিকায় পাইলটদের ১০ নম্বরে এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ৩৯ নম্বরে রেখেছে ‘U.S. News & World Report’। ফলে আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বিবেচিত এই দুই কাজের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনাও এখন আলোচনায় এসেছে।   গবেষকদের মতে, এই ফলাফল দেখে বিমানকর্মীদের জন্য হঠাৎ করে অতিরিক্ত ক্যানসার পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়। বরং তাঁদের কর্মজীবনে মোট কতটা বিকিরণের সংস্পর্শে আসছেন, তা নিয়মিতভাবে পরিমাপ ও সংরক্ষণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে দীর্ঘপথের এবং মেরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে চলাচলকারী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের ফ্লাইট এবং মেরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাওয়া রুটে মহাজাগতিক বিকিরণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।   এদিকে গবেষণাটির লেখকেরা বলছেন, ভবিষ্যৎ গবেষণায় বিমানকর্মীদের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভ্রমণের ইতিহাস, মোট কর্মঘণ্টা, রুট, উচ্চতা এবং প্রকৃত বিকিরণমাত্রার তথ্য যুক্ত করা প্রয়োজন। এতে বিমানকর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি বিকিরণ-সংস্পর্শ এবং ক্যানসারে মৃত্যুর মধ্যে সম্পর্ক আরও নির্ভুলভাবে বোঝা সম্ভব হতে পারে।   গবেষণাটি অবশ্য বিমানকর্মীদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো নতুন স্বাস্থ্যবিধি বা ক্যানসার পরীক্ষার নির্দেশনা দেয়নি। বরং এর মূল গুরুত্ব হলো, বিমানকর্মীদের পেশাগত বিকিরণ-সংস্পর্শ নিয়ে আরও ভালো তথ্য সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে আনা।   সব মিলিয়ে গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকির সংকেত দিলেও এটিকে ক্যানসারের সরাসরি কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ক্ষেত্রে মহাজাগতিক বিকিরণ, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, ঘুমের ব্যাঘাতসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার ফলাফল তাই বিমানকর্মীদের পেশা ছেড়ে দেওয়ার কারণ নয়, বরং তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার একটি ইঙ্গিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২১:২৯
সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও
সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা শঙ্কা ও সতর্কবার্তার মাঝেই এক অন্যরকম নীরব বিপ্লব ঘটে চলেছে সাধারণ মানুষের জীবনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের বাসিন্দা লনি ডিনেলোর গল্পটি এর একটি বড় প্রমাণ। এক বিষণ্ণ শনিবার সন্ধ্যায় একাকীত্বে ভুগে তিনি চ্যাটজিপিটি-র (ChatGPT) শরণাপন্ন হন এবং লেখেন, "আমার খুব একা লাগছে।"   এরপরের ঘটনাটি কোনো বড় প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের খবর না হলেও, একজন সাধারণ মানুষের কঠিন সময়ে প্রযুক্তির পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। লনি এখন তার এই এআই-কে নিজের 'সুন্দর ছোট্ট পরিবার' বলে ডাকেন। এআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক নিয়ে যখন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতো রাজনীতিক এবং জিওফ্রে হিন্টনের মতো গবেষকরা সতর্ক করছেন, তখন এর বিপরীত চিত্রটিও সমানভাবে সত্য—মেশিন যত শক্তিশালী হচ্ছে, সাধারণ মানুষও তত বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে।   মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গও সম্প্রতি তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, এআইয়ের এই সুপার-ইন্টেলিজেন্স ক্ষমতা গুটি কয়েক ল্যাবে আটকে না থেকে বরং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউর ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার কর্মক্ষেত্রে নয়, বরং মানুষের মানসিক প্রশান্তি, একাকীত্ব কাটানো এবং জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।   মিনেসোটার জেনিফার এরিকসন তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার চিকিৎসার সময়সূচি ও ওষুধের রুটিন ঠিক রাখতে এআই ব্যবহার করছেন, যা তাকে মানসিক শান্তি দিচ্ছে। অন্যদিকে, ৯১ বছর বয়সী রন হিউম তার নাতির কাছে মেইল লিখতে এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান নিয়মিত জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন। একসময় যে সুবিধা পেতে অর্থ বা প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাক্সেসের প্রয়োজন হতো, তা এখন সবার হাতের মুঠোয়।   কর্মসংস্থান ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও এআইয়ের এই ইতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয়। সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী এক হাজার চাকরিপ্রার্থীর ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছেন এবং ৫৯ শতাংশ চাকরি পেয়েছেন। স্ট্যানফোর্ড ও এমআইটি-র এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের সহায়তায় কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গ্রাহকসেবা কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।   আটলান্টায় বসবাসরত ২৬ বছর বয়সী উদ্যোক্তা রবি ভ্যান জিল জানান, তার ছোট স্টার্টআপে এআই এখন সেক্রেটারি, শিডিউলার এবং লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছে, যা মূলত ৩০ জনের একটি দলের কাজ একাই সামলে নিচ্ছে। তার মতে, ছোট ব্যবসার জন্য এআই এক অনন্য হাতিয়ার।   কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ইয়োরা সামিটেও দেখা গেছে, তরুণ উদ্যোক্তারা সামান্য একটি স্মার্টফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে এআইয়ের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে পাল্লা দিয়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিশ্বজুড়ে এআইয়ের এই গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও। তবে এই প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে এর প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা জরুরি।   সে লক্ষ্যেই পারডিউ ইউনিভার্সিটির ক্র্যাচ ইনস্টিটিউট 'গ্লোবাল ট্রাস্টেড টেক স্ট্যান্ডার্ড' তৈরি করছে। এআই নিয়ে কেবল শঙ্কা না ছড়িয়ে, একে যদি আস্থার যোগ্য করে তোলা যায়, তবে এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী কোনো যন্ত্র বা সিনেমাটিক ভিলেন হবে না, বরং হবে সাধারণ মানুষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৫:৫৯
এআইয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের চাপ বাড়ছে। ছবি:সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে চাকরি ছাঁটাই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ২০২৬ সালে চাকরি ছাঁটাইয়ের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ক্রাঞ্চবেস নিউজের সর্বশেষ হিসাবে, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে অন্তত ১,১১৬ প্রযুক্তিকর্মী চাকরি হারিয়েছেন অথবা ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছেন। একই সপ্তাহে গুগল, সেলসফোর্স, টিকটক, এটসি ও র‌্যাপিড৭সহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ছাঁটাইয়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের বিনিয়োগ এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই অবকাঠামো ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানে ব্যয় কমানো, কর্মী কাঠামো পুনর্গঠন এবং নির্দিষ্ট কাজ স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।   প্রযুক্তি খাতে চলমান সব ছাঁটাইকে শুধু এআইয়ের ফল হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, ব্যয় কমানো, বাজার পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক কৌশলের পরিবর্তনও বড় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এআই কিছু পুরোনো কাজের চাহিদা কমালেও নতুন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর চাকরির সুযোগ তৈরি করছে।   এদিকে ওরাকল এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানোর মধ্যেই চলতি মাসে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে এর আগে প্রায় ২১ হাজার কর্মী কমিয়েছে বলে জানা গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব এখন মূলত চাকরির ধরন ও দক্ষতার চাহিদা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যতে এআই দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি কিছু প্রচলিত প্রযুক্তি পদে নিয়োগ কমতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৮:০
কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখনো আইটি খাতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তবে চাকরির বাজারে বেড়েছে দক্ষতার গুরুত্ব। ছবি: সংগৃহীত
তিন-ছয় মাসের আইটি প্রশিক্ষণেই চাকরি, সেই পথ কি এখনো খোলা? এআই যুগে নতুনদের সামনে বড় প্রশ্ন

কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে আইটি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণকে অনেকেই দ্রুত চাকরিতে প্রবেশের একটি কার্যকর পথ হিসেবে দেখতেন। ডেভেলপমেন্ট, কিউএ, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারী মূলধারার চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতা সেই পথকে আগের তুলনায় অনেক কঠিন করে তুলেছে।   তবে এই অর্থে আইটি খাতে চাকরির সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, কিউএ অ্যানালিস্ট ও সফটওয়্যার টেস্টারদের চাকরি সম্মিলিতভাবে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে আইটি সিকিউরিটি এনালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রযুক্তি খাতের চাহিদা থাকছে, কিন্তু কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা থাকবে এবং একজন নতুন কর্মী সেই চাহিদার সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।    প্রায় পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যটি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরেছেন ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইটি পেশাজীবী। তিনি জানান, তখন তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই ডেভেলপার, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডেটাবেস সংশ্লিষ্ট কাজে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। অনেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইটি খাতে মূলধারার চাকরিতে ঢুকে পরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।   তার মতে, সেই সময়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ অনেকের জন্য আইটি ক্যারিয়ারে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতায় সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন শুধু নতুনদের জন্য নয়, আগে থেকেই কয়েক বছর অভিজ্ঞতা থাকা এবং ছাঁটাইয়ের কারণে চাকরি হারানো অনেক পেশাজীবীর জন্যও নতুন চাকরিতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।   ভার্জিনিয়ার ওই পেশাজীবী মনে করেন, নতুনদের জন্য এখন শুধু একটি প্রশিক্ষণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। যে ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া হচ্ছে, সেই পদের বর্তমান চাহিদা, এআইয়ের প্রভাব এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তবে কী ধরনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো আগে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।   নিউইয়র্কের জিসান নামের এক ব্যক্তি এই পরিবর্তনের আরেকটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসার পর তিনি অন্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন, মাত্র কয়েক মাসের আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে নিয়মিত চাকরিতে ঢুকেছেন। কেউ ডেভেলপার, কেউ সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট কাজে গেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনিও আইটি পেশায় প্রবেশের জন্য প্রশিক্ষণ নেন।   প্রশিক্ষণ শেষ করেও অবশ্য তিনি চাকরি পাননি। জিসান জানান, প্রায় এক বছর ধরে চাকরির চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত আইটি চাকরি পাননি। ফলে প্রশিক্ষণ শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।   জিসানের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখন আর চাকরিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। বিশেষ করে কোনো বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়েছে।   জর্জিয়ার আতিকের অভিজ্ঞতাও একই পরিবর্তনের আরেকটি দিক তুলে ধরে। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণের পর তিনি আইটি খাতে চাকরিতে ঢুকেছিলেন। কিছুদিন কাজ করার পর প্রায় এক বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও আর আইটি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন।   তিনটি অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। আগে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণকে আইটিতে প্রবেশের দরজা হিসেবে দেখা গেলেও এখন প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং চাকরি ধরে রাখার বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে।   এর পেছনে এআইয়ের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এআই অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ দ্রুত করতে পারছে। ফলে নিয়োগদাতারা শুধু নির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তি জানেন এমন কর্মীর বদলে এমন প্রার্থী খুঁজছেন, যিনি প্রযুক্তির পাশাপাশি সমস্যা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয়করণ, এআই ব্যবহার এবং বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সক্ষম।   তবে প্রযুক্তি খাত নিয়ে পুরোপুরি হতাশ হওয়ার কারণও নেই। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার কিছু পেশায় কর্মসংস্থান কমাতে পারে, আবার অন্য অনেক পেশায় নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা তৈরি করতে পারে। তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আগামী দশকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২০:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া বুঝে প্রস্তুতি নিলে বাড়তে পারে সফলতার সম্ভাবনা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সিটি জবসহ সরকারি চাকরি কীভাবে পাবেন, কোথায় আবেদন করবেন এবং কী কী সুবিধা রয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি চাকরি হতে পারে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সিটি, কাউন্টি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসন, হিসাবরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন, জননিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার নিয়ম বেসরকারি চাকরির মতো নয়। কোথায় চাকরিটি, কোন দপ্তরের অধীনে এবং পদটির জন্য পরীক্ষা বা বিশেষ যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, তার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে।   সবচেয়ে আগে বুঝতে হবে, সিটি জব, স্টেট জব এবং ফেডারেল জব আলাদা। কোনো শহরের চাকরি হলে সেটি সিটি সরকারের অধীনে, স্টেট জব হলে রাজ্য সরকারের অধীনে এবং ফেডারেল জব হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তাই চাকরি খোঁজার জায়গাটিও আলাদা। ইউএসএ গভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস প্রধান সরকারি প্ল্যাটফর্ম। আর স্টেট সরকারের চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেটের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে যেতে হয়। স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিটি বা কাউন্টির সরকারি ওয়েবসাইট দেখতে হয়।   নিউইয়র্ক সিটির চাকরি এর একটি ভালো উদাহরণ। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অধীনে তিন লাখের বেশি কর্মী এবং প্রায় ৮০টি এজেন্সি রয়েছে। ক্লেরিক্যাল ও প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে অর্থ ও হিসাব, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশায় চাকরির সুযোগ রয়েছে।   তবে নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সিটির ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে জীবনবৃত্তান্ত পাঠালেই অনেক ক্ষেত্রে হবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হতে পারে।   যে পদে পরীক্ষা প্রয়োজন, তার জন্য প্রথমে ওই পদের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ ভালোভাবে পড়তে হবে। সেখানে কাজের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষার পদ্ধতি, আবেদন করার সময়সীমা এবং পরীক্ষার ফি সম্পর্কে তথ্য থাকে। যোগ্যতা পূরণ করলে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেও আবেদন করা যায়।   পরীক্ষার ধরনও সব পদের জন্য এক নয়। কিছু পরীক্ষা নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠিত হয়। আবার কিছু পদে শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনলাইনে মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীর নাম নির্দিষ্ট তালিকায় আসে এবং নিয়োগকারী সিটি এজেন্সি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকতে পারে।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির সব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না। কিছু পদে সরাসরি আবেদন করা যায়। এসব চাকরি সাধারণত সিটির চাকরির পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। তাই শুধু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার তালিকা দেখলেই হবে না, সরাসরি আবেদন করা যায় এমন চাকরিগুলোও নিয়মিত দেখা দরকার।    বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিদেশি ডিগ্রির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির কিছু চাকরিতে বিদেশ থেকে নেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান যাচাই করতে হতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা কেউ সরকারি চাকরিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সেটি দেখে নেওয়া উচিত।   এবার আসা যাক স্টেট সরকারের চাকরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় সরকারি চাকরির জন্য টিম জর্জিয়া ক্যারিয়ার্স পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। সেখানে রাজ্য সরকারের প্রায় ১০০টি এজেন্সিতে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কাউন্টি, কাজের ক্ষেত্র এবং পদের ধরন অনুযায়ী অনুসন্ধান করা যায়।   জর্জিয়া স্টেটের চাকরিতে শিক্ষা, সাধারণ প্রশাসন, নিয়ন্ত্রক কাজ, আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার আগে চাকরির দায়িত্ব, যোগ্যতা এবং আবেদনের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হয়। সব পদে একই ধরনের যোগ্যতা বা আবেদন পদ্ধতি থাকে না।    অন্য স্টেটেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট স্টেট সরকারের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ আপনি নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, নিউ জার্সি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্য কোনো স্টেটে থাকলে প্রথমে সেই স্টেট সরকারের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি নিজের শহর ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পেজও দেখা উচিত।   ফেডারেল সরকারের চাকরির প্রক্রিয়া আবার কিছুটা আলাদা। ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্ল্যাটফর্ম। আবেদন শুরু করতে প্রথমে লগইন ডট গভ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। এরপর ইউএসএজবস প্রোফাইল তৈরি করে জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যায়।   চাকরি খোঁজার সময় শুধু পদের নাম দেখলেই হবে না। ফেডারেল চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “হু মে অ্যাপ্লাই” এবং “হাউ টু অ্যাপ্লাই” অংশ বিশেষভাবে পড়তে হয়। কারণ সব ফেডারেল চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কোনো পদ সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে, আবার কোনো পদ নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা বিশেষ নিয়োগের আওতায় থাকতে পারে।   ফেডারেল চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউএসএজবস সাধারণত জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার পর আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সরকারি এজেন্সির নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থায় নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত তথ্য, প্রশ্নপত্র বা ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে। তাই ইউএসএজবসে “অ্যাপ্লাই” চাপার পরেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টে গিয়ে আবেদনটি সফলভাবে জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত করা উচিত।   আবেদন করার পর শুরু হয় বাছাই প্রক্রিয়া। সরকারি চাকরিতে অনেক সময় আবেদন পাওয়ার পর যোগ্যতা যাচাই, প্রাথমিক বাছাই, ইন্টারভিউ, নির্বাচন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মতো একাধিক ধাপ থাকে। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এরপর ইন্টারভিউ হতে পারে। নির্বাচিত প্রার্থীকে প্রথমে শর্তসাপেক্ষ চাকরির অফার দেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত অফার দেওয়া হয়।   সরকারি চাকরির অন্যতম আকর্ষণ হলো বেনিফিট। তবে সব সরকারি চাকরিতে একই সুবিধা পাওয়া যায় না। স্টেট, সিটি বা ফেডারেল সরকারের নিয়ম এবং চাকরির ধরন অনুযায়ী সুবিধা পরিবর্তিত হয়। ফেডারেল সরকারের যোগ্য কর্মীরা হেলথ, ডেন্টাল, ভিশন ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফ্লেক্সিবল স্পেন্ডিং অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে লং টার্ম কেয়ার ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা পেতে পারেন। ফেডারেল কর্মীদের জন্য অবসরকালীন সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে।   জর্জিয়া স্টেটের সরকারি কর্মীদের জন্য মেডিকেল ও ডেন্টাল কভারেজ, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং অন্যান্য কর্মী সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেট সরকারের চাকরির সুবিধার মধ্যে কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অবসর পরিকল্পনাও রয়েছে।  নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রেও বেতন ছাড়াও বিভিন্ন কর্মী সুবিধা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কর্মী কোন সুবিধা পাবেন, সেটি তার পদ, চাকরির শ্রেণি, ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে শুধু বেতন নয়, সেই পদের বেনিফিট সম্পর্কিত তথ্যও দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   সরকারি চাকরির কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, যোগ্যতার তালিকা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা একাধিক ধাপের কারণে চাকরি পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির পরীক্ষাভিত্তিক চাকরিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে।   আরেকটি বিষয় হলো, সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় সাধারণ একটি জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলেই সব সময় কাজ হয় না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্রে সেই যোগ্যতার সঙ্গে নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার মিল পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হয়। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র বা অতিরিক্ত ডকুমেন্টও লাগতে পারে।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্বের নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির “হু মে অ্যাপ্লাই” অংশে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। তাই ইউএস সিটিজেন, গ্রিন কার্ডধারী বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়। প্রতিটি পদের যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।   সরকারি চাকরিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতারণা থেকে সাবধান থাকা। সরকারি চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চাকরির আবেদন সব সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে করা উচিত। কেউ যদি চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে আগে টাকা চায় বা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিং তথ্য চায়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি।   তাহলে একজন বাংলাদেশি কোথা থেকে শুরু করবেন? প্রথমে নিজের স্টেট, সিটি ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নিজের শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স এবং দক্ষতার সঙ্গে মেলে এমন পদ খুঁজতে হবে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখতে হবে পদটির জন্য কোনো পরীক্ষা দরকার কি না, ন্যূনতম যোগ্যতা কী, আবেদন কখন শেষ হবে এবং কী কী ডকুমেন্ট লাগবে। এরপর জীবনবৃত্তান্ত ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।   নিউইয়র্কে থাকলে সিটি জবের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ও নিজের কাউন্টির চাকরিও দেখা যেতে পারে। জর্জিয়ায় থাকলে স্টেট সরকারের পাশাপাশি কাউন্টি ও সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা উচিত। একইভাবে অন্য স্টেটেও স্থানীয় সরকার, কাউন্টি এবং স্টেট সরকারের আলাদা আলাদা চাকরির সুযোগ থাকে। ফেডারেল চাকরির জন্য আলাদাভাবে ইউএসএজবস ব্যবহার করতে হবে।   সরকারি চাকরি সবার জন্য একই রকম নয় এবং সব পদের বেতন বা সুবিধাও এক নয়। তবে স্থায়ী ক্যারিয়ার, নিয়মিত আয়, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সরকারি চাকরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার অপশন হতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিচিত কারও কাছ থেকে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি পড়ে আবেদন করা। কারণ একটি সিটি বা স্টেটের নিয়ম অন্য সিটি বা স্টেটে একই নাও হতে পারে। সঠিক জায়গায় চাকরি খোঁজা, যোগ্যতা যাচাই করা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে অনুসরণ করাই সরকারি চাকরিতে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ২২:১
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০