সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চাকরি

ঢাকার মেয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. লামিয়া মওলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা থেকে মহাবিশ্বের গভীরে: বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা লামিয়া মওলার জ্যোতির্বিজ্ঞানে অসাধারণ অগ্রযাত্রা

নুরুল্লাহ সাঈদ । আমেরিকা বাংলা   বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বেড়ে ওঠা এক তরুণী এখন মহাবিশ্বের আদি গ্যালাক্সি, নক্ষত্রের জন্ম এবং ছায়াপথের বিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণায় যুক্ত। তিনি লামিয়া মওলা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক এই বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করে প্রাচীন মহাবিশ্বের একটি নবীন গ্যালাক্সি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। ২০২৪ সালে তাঁর সহলেখকত্বে প্রকাশিত গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে স্থান পায়। বর্তমানে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপকে ঘিরে নতুন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানেও তাঁর আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষাজীবন ও অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণায় পৌঁছানোর এই পথচলা তাঁকে বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করে তুলেছে।   ঢাকার আকাশ থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথে লামিয়া মওলার জীবনের গল্পের একটি বিশেষ দিক হলো, ছোটবেলায় আকাশের তারা দেখা তাঁর নিয়মিত অভিজ্ঞতা ছিল না। ওয়েলেসলি কলেজের ২০২৬ সালের একটি ফিচারে তিনি জানিয়েছেন, ঢাকায় বেড়ে ওঠার সময় শহরের ধোঁয়া ও কৃত্রিম আলোর কারণে আকাশে তারা দেখার স্মৃতি তাঁর খুব একটা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়তে যাওয়ার পর তাঁর সামনে খুলে যায় এক নতুন জগৎ। ওয়েলেসলি কলেজের পর্যবেক্ষণাগারে টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশ দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করে।   মজার বিষয় হলো, কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁর পরিকল্পনা ছিল স্নায়ুবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু প্রথম সেমিস্টারে স্নায়ুবিজ্ঞানের একটি প্রাথমিক কোর্সে ভর্তি হতে না পেরে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি ক্লাসে অংশ নেন। নক্ষত্রের জীবনচক্র, সুপারনোভা এবং কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে জানার পর বিষয়টির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহই ধীরে ধীরে তাঁর শিক্ষাজীবনের গতিপথ বদলে দেয়। পরে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণায় মনোনিবেশ করেন এবং পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন।   ওয়েলেসলি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করার পর লামিয়া ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ওয়েলেসলি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তন। এ জন্য তিনি হাবল ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ এবং মহাজাগতিক সিমুলেশন ব্যবহার করেন।   ফায়ারফ্লাই স্পার্কল: মহাবিশ্বের শৈশবের এক ঝলক লামিয়া মওলার গবেষণাকর্মের আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হলো ‘ফায়ারফ্লাই স্পার্কল’ নামের একটি নবীন গ্যালাক্সি। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে তিনি সহপ্রধান লেখক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং কানাডীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করে গবেষকেরা গ্যালাক্সিটির গঠন ও তারাগুচ্ছগুলো বিশ্লেষণ করেন।   গবেষণায় দেখা যায়, ফায়ারফ্লাই স্পার্কল এমন এক সময়ের গ্যালাক্সি, যখন বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্বের বয়স ছিল আনুমানিক ৬০ কোটি বছর। অর্থাৎ, আজকের মহাবিশ্বের তুলনায় এটি অত্যন্ত প্রাচীন এক সময়ের দৃশ্য তুলে ধরে। গ্যালাক্সিটিতে ১০টি ঘন তারাগুচ্ছ শনাক্ত করা হয়, যেগুলোর বৈশিষ্ট্য গবেষকেরা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন। গ্যালাক্সিটির ভরও এমন পর্যায়ের ছিল, যা একই বয়সে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সম্ভাব্য ভরের সঙ্গে তুলনীয়।   এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বোঝার জন্য মনে রাখতে হবে, দূরবর্তী গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ মানে আসলে অতীতের দিকে তাকানো। আলো আমাদের কাছে পৌঁছাতে সময় নেয়। তাই বহু কোটি আলোকবর্ষ দূরের কোনো গ্যালাক্সির আলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের অতীতের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন। ফায়ারফ্লাই স্পার্কলের মতো গ্যালাক্সি গবেষকদের দেখার সুযোগ দেয়, মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট ছোট তারাগুচ্ছ কীভাবে একত্রিত হচ্ছিল এবং সময়ের সঙ্গে গ্যালাক্সি কীভাবে বিকশিত হতে পারে।   গবেষণাটিতে লামিয়া ও তাঁর সহকর্মীরা গ্যালাক্সিটির বিভিন্ন অংশ আলাদাভাবে শনাক্ত করে বিশ্লেষণ করেন। এত প্রাচীন একটি গ্যালাক্সিকে একাধিক স্বতন্ত্র তারাগুচ্ছের সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হওয়া বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে গ্যালাক্সি গঠনের প্রাথমিক পর্যায় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। তবে এই একটি গবেষণাই মিল্কিওয়ের জন্ম ও বিবর্তনের সব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। বরং এটি মহাবিশ্বের প্রাথমিক ইতিহাস বোঝার জন্য নতুন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।   জেমস ওয়েবের তথ্য থেকে নতুন সম্ভাবনা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও প্রাচীন বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর শক্তিশালী ইনফ্রারেড যন্ত্রের সাহায্যে এমন সব গ্যালাক্সি দেখা সম্ভব হচ্ছে, যেগুলো থেকে আসা আলো মহাবিশ্বের প্রসারণের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তরঙ্গদৈর্ঘ্যে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ের গ্যালাক্সি, নক্ষত্রের জন্ম এবং গ্যালাক্সির বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য পাচ্ছেন।   লামিয়া মওলার গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি শুধু দূরবর্তী গ্যালাক্সির ছবি বিশ্লেষণ করেন না; সেই ছবির মধ্যে থাকা বিভিন্ন কাঠামোর ভৌত বৈশিষ্ট্য বোঝার চেষ্টা করেন। একটি গ্যালাক্সির ভর, তারাগুচ্ছের বিন্যাস এবং নক্ষত্র গঠনের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা অনুমান করতে পারেন, প্রাথমিক মহাবিশ্বে গ্যালাক্সি কীভাবে বেড়ে উঠেছিল। এসব পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে বিদ্যমান তাত্ত্বিক মডেল পরীক্ষা করতেও সাহায্য করে।   ফায়ারফ্লাই স্পার্কল নিয়ে গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানজগতে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এই গবেষণার গুরুত্ব শুধু একটি নতুন গ্যালাক্সি শনাক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেখায়, উন্নত টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের প্রাচীনতম পর্যায়ের বস্তুগুলোকে আরও বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি গ্যালাক্সি বিশ্লেষণ করা গেলে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন, ফায়ারফ্লাই স্পার্কলের মতো গ্যালাক্সি কতটা সাধারণ ছিল এবং সেগুলো কীভাবে পরবর্তী সময়ের বৃহৎ ছায়াপথে পরিণত হয়েছে।   রোমান স্পেস টেলিস্কোপ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা মহাবিশ্ব গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। নাসার এই পর্যবেক্ষণাগারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে একবারে আকাশের অনেক বড় অংশ পর্যবেক্ষণ করা যায়। এর ওয়াইড ফিল্ড ইনস্ট্রুমেন্ট হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় অন্তত ১০০ গুণ বড় আকাশের এলাকা দেখতে সক্ষম। এর ফলে বিশাল পরিসরে গ্যালাক্সি, গ্রহ এবং মহাবিশ্বের গঠন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।   রোমান স্পেস টেলিস্কোপ ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর থেকে মহাকাশযানটির যন্ত্রপাতি পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন এবং পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি চলছে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, টেলিস্কোপটির প্রথম ছবি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রকাশের প্রত্যাশা রয়েছে। ফলে এখনো এর পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের ফলাফল সামনে আসেনি।   লামিয়া মওলা তাঁর পেশাগত যোগাযোগমাধ্যমে রোমান টেলিস্কোপের প্রথম ছবিগুলো বিশ্লেষণকারী গবেষকদের একজন হতে পারার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর নির্দিষ্ট গবেষণার ভূমিকা এবং কোন পর্যবেক্ষণ প্রকল্পে তিনি কাজ করবেন, সে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়া জরুরি। রোমান মিশন নাসার একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ; একে কোনো একজন গবেষকের ব্যক্তিগত প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   রোমান টেলিস্কোপের বড় সুবিধা হলো, এটি অল্প সময়ে আকাশের বিশাল অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি মহাজাগতিক বস্তুর তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। বিজ্ঞানীরা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে অন্ধকার শক্তি, গ্যালাক্সির গঠন, বহির্গ্রহ এবং মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন। লামিয়ার মতো পর্যবেক্ষণভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য এ ধরনের তথ্য ভবিষ্যতের গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার সুযোগ লামিয়া মওলার পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর গবেষণাগত সংযোগ। তিনি বাংলাদেশের ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের সহযোগী সদস্য। ২০২৪ সালে ফায়ারফ্লাই স্পার্কল নিয়ে গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর অবদান তুলে ধরে। এই সংযোগ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে আগ্রহ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।   আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এখন আর শুধু বড় টেলিস্কোপের মাধ্যমে ছবি তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জটিল গাণিতিক বিশ্লেষণ, কম্পিউটার সিমুলেশন, বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং আন্তর্জাতিক গবেষক দলের সহযোগিতা। ফলে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানের শিক্ষার্থীদের জন্যও এই ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি করা এখন গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার সুযোগ বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা তৈরি করা এই ক্ষেত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লামিয়া মওলার পথচলা দেখায়, একজন শিক্ষার্থী আগ্রহ ও উপযুক্ত সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণায় অবদান রাখতে পারেন। তাঁর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সামনে জ্যোতির্বিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে বিবেচনা করার একটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে।   সাফল্যের গল্পের আড়ালে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সাফল্য সাধারণত একদিনে আসে না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, গবেষণার পদ্ধতি শেখা, তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা তৈরি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা। লামিয়া মওলার ক্ষেত্রেও তাঁর স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি, পর্যবেক্ষণাগারে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী গবেষণার ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   তাঁর গল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি শুরু থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানকে নিজের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেননি। কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় স্নায়ুবিজ্ঞানে আগ্রহী থাকা একজন শিক্ষার্থী পরে জ্যোতির্বিজ্ঞানে নিজের পথ খুঁজে পান। নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, প্রশ্ন করা এবং আগ্রহের জায়গা আবিষ্কার করার এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।   বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা একজন গবেষক হিসেবে লামিয়া মওলার আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক অবদান গর্বের বিষয়। তবে তাঁর সাফল্যের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে শুধু নামী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নয়, গবেষণায় তাঁর নির্দিষ্ট অবদানও তুলে ধরা দরকার। ফায়ারফ্লাই স্পার্কল নিয়ে গবেষণায় তাঁর ভূমিকা, জেমস ওয়েবের তথ্য ব্যবহার এবং গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তন বোঝার প্রচেষ্টা তাঁর কাজের বাস্তব গুরুত্ব তুলে ধরে।   ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবন থেকে মহাবিশ্বের প্রাচীন গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণা, লামিয়া মওলার এই যাত্রা বাংলাদেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। তাঁর কাজ মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞান এগিয়ে যায় কৌতূহল, প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান এবং নতুন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়ে। মহাবিশ্বের শৈশৎকালীন গ্যালাক্সি নিয়ে তাঁর গবেষণা যেমন আমাদের অতীতকে বুঝতে সাহায্য করছে, তেমনি রোমান স্পেস টেলিস্কোপের মতো নতুন পর্যবেক্ষণাগার ভবিষ্যতে আরও অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সুযোগ তৈরি করবে। সেই বৈজ্ঞানিক যাত্রায় বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা একজন গবেষকের অবদান দেশের তরুণ প্রজন্মকে নতুন সম্ভাবনার কথা ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১০:৪৩
হিউস্টনে সেপ্টেম্বরে কমেছে ৭ হাজার ৩০০ চাকরি
টেক্সাসের হিউস্টনের শ্রমবাজারে হঠাৎ মন্দার সংকেত, এক মাসে কমেছে ৭ হাজার ৩০০ কর্মসংস্থান

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন অঞ্চলে সেপ্টেম্বরে ৭ হাজার ৩০০টি চাকরি কমেছে। বছরের এই সময়ে সাধারণত কর্মসংস্থান বাড়লেও এবার তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের প্রধান শিল্পগুলোতে একযোগে চাকরি কমে যাওয়ায় স্থানীয় শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের কর্মসংস্থান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাসটিতে হিউস্টনে চাকরি কমার হার ১৯৯০ সালের পর ওই মাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পতন। মৌসুমি পরিবর্তনের প্রভাব সমন্বয় করার পরও কর্মসংস্থান কমেছে ১৪ হাজার ৬০০টি। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে স্কুলের নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ বাড়ে। কিন্তু এবার সেই স্বাভাবিক প্রবণতা দেখা যায়নি। বেসরকারি খাতেই চাকরি কমার চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। সেপ্টেম্বরে এ খাতে মোট ১৯ হাজার ৪০০টি চাকরি কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে অবসর ও আতিথেয়তা খাতে। রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং বিনোদনসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমসহ এই খাতে কর্মসংস্থান কমেছে ৭ হাজার ৩০০টি। এ ছাড়া পেশাগত ও ব্যবসায়িক পরিষেবা খাতে ৩ হাজার ৯০০টি এবং বাণিজ্য, পরিবহন ও ইউটিলিটি খাতে ২ হাজার ৬০০টি চাকরি কমেছে। অর্থাৎ, শুধু একটি শিল্পে নয়, হিউস্টনের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একাধিক খাতেই কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে। তবে সরকারি খাতে কিছুটা নিয়োগ বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এ খাতে ১২ হাজার ১০০টি চাকরি যুক্ত হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগ এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তারপরও সরকারি খাতের চাকরি বৃদ্ধির পরিমাণ সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণত যে হারে বাড়ে, এবার তা তার চেয়ে কম ছিল। ফলে সরকারি নিয়োগ বেসরকারি খাতের বড় ধরনের চাকরি হ্রাসের প্রভাব পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি। হিউস্টনের শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়ার্কফোর্স সলিউশনস গালফ কোস্টের অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আহমাদিজাদেহ। তাঁর মতে, সেপ্টেম্বরে চাকরি কমার বিস্তৃতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ছিল। বিশেষ করে হিউস্টনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিল্পগুলোতেও পতন দেখা গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মাত্র এক মাসের পরিসংখ্যান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। তবে বিভিন্ন খাতে একসঙ্গে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা বুঝতে পরবর্তী কয়েক মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে। মাসিক হিসাবে চাকরি কমলেও গত এক বছরের চিত্র পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিউস্টন অঞ্চলে মোট ৩৩ হাজার ৬০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। এই সময়ে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১ শতাংশ। এদিকে সেপ্টেম্বরে হিউস্টনের বেকারত্বের হার নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে। হারটি কমলেও তা টেক্সাস অঙ্গরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের বেকারত্বের হারের চেয়ে বেশি ছিল। অর্থাৎ, বার্ষিক হিসাবে নতুন চাকরি তৈরি এবং বেকারত্বের হার কমার ইতিবাচক দিক থাকলেও আঞ্চলিক শ্রমবাজারের কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। ওয়ার্কফোর্স সলিউশনস গালফ কোস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিউস্টন অঞ্চলে প্রায় ২৯ হাজার ৯০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। তবে সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন শিল্পে দেখা দেওয়া পতন এই পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কতটা সম্ভব হবে, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। অক্টোবর মাসের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত পরিসংখ্যান আগামী ২০ নভেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে নতুন চাকরি সৃষ্টি, বিভিন্ন শিল্পের নিয়োগ পরিস্থিতি এবং বেকারত্বের হারের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত এক মাসের পতনকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না; তবে হিউস্টনের শ্রমবাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য নতুন তথ্যের দিকে নজর থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৬:৩৩
ফ্লোরিডার সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ট্রাম্প
নার্সিং হোমে নার্স নিয়োগে বড় উদ্যোগ ট্রাম্পের, তিন বছর কাজ করলে মিলতে পারে ৪০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে নার্সিং হোমে নার্সের ঘাটতি কমাতে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে ৪ হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যোগ্য আবেদনকারীরা শিক্ষাঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং অতিরিক্ত ১০ হাজার ডলারের ভাতা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট নার্সিং হোমে তিন বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক নাগরিকদের কল্যাণে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিচ্ছেন। তাঁর প্রশাসন দেশজুড়ে নার্স, নার্সিং হোম ও বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি সেবাকেন্দ্রে বিনিয়োগ করছে। ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে নার্সের প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্র (সিএমএস) যৌথভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে। এর মূল লক্ষ্য হলো নার্সিং হোমে নতুন নার্স নিয়োগের পাশাপাশি কর্মরত নার্সদের ধরে রাখা। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা ও যেসব অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মীর ঘাটতি বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নার্স নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।   কর্মসূচির মোট অর্থায়নের মধ্যে সিএমএস দেবে ১০ কোটি ডলার। বাকি অন্তত ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেবে অঙ্গরাজ্যগুলো। এ অর্থের উৎস হিসেবে নার্সিং হোমগুলোর ওপর আরোপিত দেওয়ানি আর্থিক জরিমানা থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে নতুন করে সাধারণ করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হবে না বলে দাবি করেছেন সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজ। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ নার্সদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি বয়স্কদের সেবার মান উন্নত করতে সহায়তা করবে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত নার্স (আরএন) অথবা লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল বা ভোকেশনাল নার্স (এলপিএন/এলভিএন) হিসেবে বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইড অনুমোদিত যোগ্য দীর্ঘমেয়াদি সেবাকেন্দ্রে চাকরি করতে হবে এবং সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করে তিন বছরের চাকরির অঙ্গীকারের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।   যোগ্য নার্সদের শিক্ষাঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তাঁরা ১০ হাজার ডলারের ভাতার জন্যও যোগ্য হতে পারেন। অর্থাৎ, শর্ত অনুযায়ী উভয় সুবিধা পেলে একজন অংশগ্রহণকারীর মোট সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। সুবিধা পাওয়ার জন্য কর্মসূচির যোগ্যতা ও চাকরির শর্ত পূরণ করতে হবে।   নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, এমন শিক্ষার্থীরাও আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। তবে অর্থ পাওয়ার আগে তাঁদের পড়াশোনা শেষ করতে হবে, প্রয়োজনীয় পেশাগত লাইসেন্স অর্জন করতে হবে এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে নতুন নার্সদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে কাজ করতে উৎসাহিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে চালু হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার সব নার্সিং হোম এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় নার্সের ঘাটতি বেশি, সেখানকার নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানও সহায়তার সুযোগ পাবে। তবে সব নার্সিং হোমের কর্মী এই সুবিধা পাবেন না; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো নার্স নিয়োগ ও ধরে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ ও বেশি প্রয়োজন রয়েছে এমন এলাকায় সেবার পরিধি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজের ভাষ্য, শিক্ষাঋণ পরিশোধে সহায়তা শুধু নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক চাপ কমাবে না, বরং পরিবারের সদস্যদের জন্যও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, নার্সদের সঙ্গে বয়স্ক বাসিন্দাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁদের জীবনযাপনের মান ও সুস্থতাও উন্নত হতে পারে। কর্মসূচির জন্য আবেদন শুরু হবে ২৬ অক্টোবর থেকে। আগ্রহীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট NursesforNursingHomes.cms.gov-এর মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে এবং আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের নার্সিং হোমগুলো দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে পর্যাপ্ত নার্স পাওয়া কঠিন। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে সেই ঘাটতি কমানো এবং বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার মান উন্নত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৩:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল ফেলোস প্রোগ্রামের ২০২৭ সালের ব্যাচে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হার্ভার্ডে এনভায়রনমেন্ট গবেষণায় ফেলোশিপ, বছরে বেতন ৯২ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল ফেলোস প্রোগ্রামের ২০২৭ সালের ব্যাচে আবেদন গ্রহণ চলছে। দুই বছরের এই গবেষণা ফেলোশিপে নির্বাচিতরা বছরে ৯২ হাজার ডলার বেতন পাবেন। বাংলাদেশিসহ যোগ্য আন্তর্জাতিক গবেষকেরা আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১ ডিসেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন সময় বিকেল পাঁচটা।    হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর দ্য এনভায়রনমেন্টের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ব্যাচে প্রায় পাঁচজনকে নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিতরা হার্ভার্ডের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে পরিবেশের জটিল সমস্যা নিয়ে গবেষণা করবেন। প্রচারিত ছবিতে কর্মসূচিটিকে ২০২৬ সালের বলা হলেও বর্তমানে আবেদন নেওয়া হচ্ছে ২০২৭ সালের ব্যাচের জন্য।    বার্ষিক বেতনের পাশাপাশি ফেলোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা পাবেন। স্থানান্তরের খরচ বাবদ সর্বোচ্চ আড়াই হাজার ডলার ফেরত দেওয়া হবে। ভ্রমণ ও অন্যান্য পেশাগত খরচের জন্য বছরে আরও আড়াই হাজার ডলার বরাদ্দ থাকবে। সহকর্মী গবেষক ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।    আবেদনকারীদের পিএইচডি বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের সমমানের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সময়সীমা হতে হবে ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে। যেসব বিষয়ে পিএইচডি প্রচলিত সর্বোচ্চ ডিগ্রি নয়, সেসব ক্ষেত্রের সমমানের ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারবেন। গবেষণার অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে এবং ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব শুরুর আগে প্রয়োজনীয় ডিগ্রির শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু একাধিক মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলেই এই পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের যোগ্য হওয়া যাবে না।    আবেদনের আগে হার্ভার্ডের উপযুক্ত একজন বা একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে গবেষণার তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় অফিস বা ল্যাবের জায়গা দেওয়ার সম্মতি নিতে হবে। শিক্ষককে আবেদনকারীর গবেষণায় সহায়তার প্রতিশ্রুতিসহ সমর্থনপত্র দিতে হবে। এই সমর্থনপত্র ছাড়া আবেদন পর্যালোচনা করা হবে না বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে। প্রস্তাবিত গবেষণাও আবেদনকারীর পিএইচডির কাজের বাইরে স্বতন্ত্র অনুসন্ধানের বিষয় হতে হবে।    হার্ভার্ডের অনলাইন আবেদনব্যবস্থায় প্রকাশনার তালিকাসহ সিভি, সর্বোচ্চ পাঁচ পৃষ্ঠার গবেষণা প্রস্তাব এবং সর্বোচ্চ তিনটি প্রকাশনা বা লেখার নমুনা জমা দিতে হবে। গবেষণা প্রস্তাবের তথ্যসূত্র পাঁচ পৃষ্ঠার সীমার বাইরে রাখা যাবে। পাশাপাশি তিনটি সুপারিশপত্র প্রয়োজন, যার একটি হতে হবে আবেদনকারীর গবেষণা অভিসন্দর্ভের উপদেষ্টার কাছ থেকে। সুপারিশপত্র ও হার্ভার্ডের তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকের সমর্থনপত্র জমার শেষ সময় ১১ ডিসেম্বর, ইস্টার্ন সময় বিকেল পাঁচটা।    নির্বাচিত গবেষকদের দুই বছর ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজ এলাকায় থেকে কাজ করার প্রস্তুতি থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে নির্বাচনের ফল জানানোর পরিকল্পনা করেছে। বিদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদনে সহায়তার জন্য হার্ভার্ডের ইন্টারন্যাশনাল অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও কর্মসূচির নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১:৩২
এইচ-১বি ভিসার বেতনসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব কংগ্রেসে
এইচ-১বি ভিসায় বেতনের সীমা ৬০ হাজার থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে নিতে চায় রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বেতনের শর্ত আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন একটি প্রস্তাবিত বিলে নির্দিষ্ট নিয়োগদাতাদের জন্য বর্তমানে কার্যকর বার্ষিক ৬০ হাজার ডলারের বেতনসীমা বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে এইচ-১বি ভিসার ওপর বেশি নির্ভরশীল কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের নিয়ম আরও কঠিন হতে পারে।   উইসকনসিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান ‘প্রোটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি উত্থাপন করেছেন। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড একই বিষয়ে সিনেটে একটি সমজাতীয় বিল এনেছেন। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগে উল্লেখযোগ্যভাবে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষায় থাকা কিছু শর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করা। তবে প্রস্তাবটি সব এইচ-১বি ভিসাধারীর জন্য ন্যূনতম বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার নির্ধারণের কথা বলছে না। এখানে মূল বিষয় হলো, নির্দিষ্ট ধরনের নিয়োগদাতারা কোন পরিস্থিতিতে মার্কিন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা এবং তাঁদের চাকরি সুরক্ষাসংক্রান্ত কিছু বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন। বর্তমান নিয়মে, এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীর সংখ্যা কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর তুলনায় নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে সেটিকে ‘এইচ-১বি-নির্ভর নিয়োগদাতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করা এবং বিদ্যমান মার্কিন কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়ে বিদেশি কর্মী দিয়ে তাঁদের জায়গা পূরণ না করার বিষয়ে শর্ত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান আইনে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম আছে। কোনো এইচ-১বি কর্মীর বার্ষিক বেতন অন্তত ৬০ হাজার ডলার হলে অথবা তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা তার চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে, সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা এসব শর্তের কিছু থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। নতুন বিলটি বেতনের ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়ার সীমা পরিবর্তন করতে চায়। তবে প্রস্তাবিত ভাষায় উচ্চতর ডিগ্রির ভিত্তিতে অব্যাহতির পথটি বাদ দেওয়ার কথা নেই। কেন বেতনের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব বর্তমান ৬০ হাজার ডলারের সীমাটি ১৯৯৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন এর পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে অঙ্কটি আর হালনাগাদ করা হয়নি। আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, কয়েক দশকে গড় মজুরি বেড়ে গেলেও পুরোনো সীমা অপরিবর্তিত থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান সহজেই বিদ্যমান শর্তের ব্যতিক্রমের সুবিধা নিতে পারছে। নতুন প্রস্তাবে নির্দিষ্ট অঙ্কের পরিবর্তে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সর্বশেষ জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণকে বেতনসীমা হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ওই সূচকের পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার ডলার হওয়ায় নতুন সীমা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। ভবিষ্যতে গড় মজুরি বাড়লে বা কমলে এই সীমাও পরিবর্তিত হবে। গ্রথম্যান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, প্রায় তিন দশক আগে নির্ধারিত বেতনসীমা ব্যবহার করে নিয়োগদাতাদের যোগ্য মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষার নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাঁর মতে, বেতনের সীমা সময়মতো হালনাগাদ করা হলে মার্কিন কর্মীরা চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার আরও ন্যায্য সুযোগ পাবেন। সিনেটর হাস্টেডও একই ধরনের যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যেন পুরোনো আইনের সুযোগ নিয়ে যোগ্য মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা এড়িয়ে যেতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই বিলটির উদ্দেশ্য। বিলটি এখন কোন পর্যায়ে প্রস্তাবটি এখনো আইন হয়নি। সিনেটের সমজাতীয় বিলটি ৩০ সেপ্টেম্বর উত্থাপনের পর বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে গ্রথম্যানের বিলটি ১৩ অক্টোবর উত্থাপন করা হয় এবং সেটিও বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আইনে পরিণত হতে হলে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিলটিকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে হবে এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর লাগবে। এই উদ্যোগ রিপাবলিকানদের বৃহত্তর এইচ-১বি নীতির পরিবর্তন প্রচেষ্টার অংশ। দলটির কয়েকজন আইনপ্রণেতা ভিসার সংখ্যা কমানো, কর্মসূচির অপব্যবহারের জন্য কঠোর শাস্তি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাড়তি শর্ত আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান যুক্তি দেয়, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দুটি বিষয়—মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ রক্ষা এবং প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বজায় রাখা। নতুন বিলে বেতনের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ খুঁজতে এইচ-১বি কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে থাকেন। তবে প্রস্তাবটি পাস হলে তার প্রভাব সবার ওপর একইভাবে পড়বে না। বিশেষ করে এইচ-১বি কর্মীর ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান এবং বর্তমান নিয়মে বেতনের ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আপাতত এটি একটি আইনপ্রস্তাব; কার্যকর নিয়মে পরিবর্তন আসবে কি না, তা নির্ভর করছে কংগ্রেসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৭:১৯
এনওয়াইপিডিতে পুলিশ অফিসার পদে আবেদনের সুযোগ
নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির সম্পূর্ন গাইড, জেনে নিন যোগ্যতা ও পরীক্ষার নিয়ম

নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগ এনওয়াইপিডিতে পুলিশ অফিসার হওয়ার পরীক্ষায় আবেদন চলছে। ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএসের বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ৭৩১৪ নম্বর পরীক্ষায় আবেদনের শেষ দিন ১৪ অক্টোবর ২০২৬। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২ থেকে ৭ নভেম্বর। আবেদন ফি নেই। তবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরি পেতে স্বাস্থ্য, মানসিক সক্ষমতা, শারীরিক যোগ্যতা ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের ধাপগুলো পেরোতে হবে।   আবেদন করতে হবে ডিসিএএসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম ওএসিসে। সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে পুলিশ অফিসার পরীক্ষাটি নির্বাচন করে নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হবে। ফি দেওয়ার পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে হবে ‘নো ফি’।   বয়সের শর্তে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষার দিনে বয়স অন্তত ১৭ বছর হতে হবে। নিয়োগের জন্য ন্যূনতম বয়স ২০ বছর ছয় মাস। আবেদন জমা দেওয়ার দিনে বয়স ৪৩ বছরের নিচে থাকতে হবে। যোগ্য সামরিক সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত বয়স থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   শিক্ষাগত যোগ্যতায় হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা সমমানের সনদের পাশাপাশি স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত ২৪ সেমিস্টার ক্রেডিট এবং ন্যূনতম ২.০ জিপিএ প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে সম্মানজনকভাবে দুই বছরের পূর্ণকালীন সেবা গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো দেশে পড়াশোনা করলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান মূল্যায়ন করাতে হবে।   নিয়োগের সময় ইউএস সিটিজেন হতে হবে এবং বৈধ, বিধিনিষেধমুক্ত নিউইয়র্ক স্টেট ড্রাইভার লাইসেন্স থাকতে হবে। বাসস্থান হতে হবে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর কোনো একটিতে অথবা নাসাউ, সাফোক, রকল্যান্ড, ওয়েস্টচেস্টার, পুটনাম কিংবা অরেঞ্জ কাউন্টিতে।   চাকরির প্রক্রিয়া শুরু হয় লিখিত প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে। এরপর মেডিকেল পরীক্ষা, লিখিত ও মৌখিক সাইকোলজিক্যাল মূল্যায়ন, ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্ত, শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা এবং ড্রাগ ও অ্যালকোহল স্ক্রিনিং সম্পন্ন করতে হয়। এনওয়াইপিডির নিয়োগ নির্দেশনায় এসব ধাপ সফলভাবে শেষ করার শর্ত রয়েছে।   মেডিকেল ও সাইকোলজিক্যাল মূল্যায়নে পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব পালনের উপযোগিতা পরীক্ষা করা হয়। ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্তে প্রার্থীর চরিত্র ও পূর্ববর্তী আচরণ বিবেচনায় আসে। ফেলনি বা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সসংক্রান্ত মিসডিমিনরে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং সামরিক বাহিনী থেকে ডিসঅনারেবল ডিসচার্জ অযোগ্যতার কারণ। খারাপ আচরণের জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া, সহিংসতার প্রবণতা কিংবা আইন অমান্যের ইতিহাসও অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার কারণ হতে পারে।   শারীরিক পরীক্ষাটির নাম জব স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট বা জেএসটি। এনওয়াইপিডির প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, একটানা পরীক্ষাটি চার মিনিট ২৮ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে হয়। এতে ৫০ ফুট স্প্রিন্ট করে বেড়া পার হওয়া, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, কাউকে শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মহড়া এবং ধাওয়ার দৌড় রয়েছে। পাশাপাশি ১৭৬ পাউন্ড ওজনের ম্যানিকুইন ৩৫ ফুট টেনে নেওয়া ও গুলিবিহীন আগ্নেয়াস্ত্রের ট্রিগার একাধিকবার টানার কাজ করতে হয়।   নিয়োগের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে ক্যান্ডিডেট অ্যাসেসমেন্ট সেন্টারে ৭১৮ ৩১২ ৪২২৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।   নিয়োগের পর পুলিশ একাডেমিতে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সেখানে আইন, অপরাধ তদন্ত, সাংবিধানিক অধিকার ও সংকট মোকাবিলার মতো বিষয় শেখানো হয়। কলেজ ক্রেডিটের শর্ত ৬০ থেকে ২৪ করার সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে। একই ঘোষণায় একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এক দশমিক পাঁচ মাইল দৌড় ১৪ মিনিট ২১ সেকেন্ডের কম সময়ে শেষ করার শর্ত পুনর্বহালের কথা জানানো হয়।   বেতন সম্পর্কে এনওয়াইপিডির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুরুর বার্ষিক বেতন ৫৮ হাজার ৫৮০ ডলার এবং সাড়ে পাঁচ বছর পর ১ লাখ ২১ হাজার ৫৮৯ ডলার। এই অঙ্কে ওভারটাইম ও রাতের ডিউটির অতিরিক্ত পারিশ্রমিক অন্তর্ভুক্ত নেই। একাডেমির প্রশিক্ষণের প্রথম দিন থেকেই পূর্ণ বেতন ও সুবিধা পাওয়া যায়।   সুবিধার মধ্যে রয়েছে হেলথ বেনিফিটের বিভিন্ন প্যাকেজ, প্রেসক্রিপশন, ডেন্টাল ও ভিশন কভারেজ, বেতনসহ অসুস্থতাজনিত ছুটি এবং অবসর সঞ্চয়ের ব্যবস্থা। ছয় বছর চাকরির পর বছরে ২৭ দিন বেতনসহ ভ্যাকেশন পাওয়া যায়। পদোন্নতির মাধ্যমে সার্জেন্ট, লেফটেন্যান্ট ও ক্যাপ্টেন হওয়ার সুযোগও রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৮:৩২
ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন এলাকা ঘুরে অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য তিনজনকে নিয়োগের দারুণ সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
খাওয়া-ঘোরা আর সমুদ্রসৈকতে সূর্যাস্ত দেখার চাকরি, ১০ দিনেই মিলবে ১০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১০ দিন ঘুরে খাবার, বিনোদন, শিল্পকলা ও সমুদ্রসৈকতের সূর্যাস্তের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য তিনজনকে নিয়োগ দিচ্ছে সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের সরকারি পর্যটন বিপণন সংস্থা ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার। নির্বাচিত প্রত্যেকে পাবেন ১০ হাজার মার্কিন ডলার। সঙ্গে থাকবে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, ১০ দিনের থাকার ব্যবস্থা এবং বিশেষ অভিজ্ঞতার সুযোগ। আগ্রহীদের ২২ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।   নতুন এই কর্মসূচির আওতায় তিনটি আলাদা স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব রাখা হয়েছে। এগুলো হলো চিফ ভাইবস অফিসার, চিফ ফ্লেভার এক্সপ্লোরার এবং চিফ সানসেট কিউরেটর। প্রতিটি দায়িত্বই ১০ দিনের। নির্বাচিত ব্যক্তিদের সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে স্থানীয় মানুষ, খাবার, বিনোদন, শিল্পকলা ও সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।   ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার পিনেলাস কাউন্টির সরকারি পর্যটন বিপণন ও ব্যবস্থাপনা সংস্থা। পর্যটকদের কাছে এলাকার সমুদ্রসৈকত, শিল্পকলা, খাবার এবং অন্যান্য আকর্ষণ তুলে ধরাই সংস্থাটির কাজ। নতুন কর্মসূচিটিও এলাকার পর্যটন অভিজ্ঞতা নতুনভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য চালু করা হয়েছে।   তবে বাইরে থেকে এটি ১০ দিনের ছুটির মতো মনে হলেও নির্বাচিত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান লোয়াক জানিয়েছেন, নির্বাচিত ব্যক্তিদের খাওয়া, পান করা, ঘুরে দেখা এবং এলাকার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নেওয়ার কাজ থাকবে। পাশাপাশি যেসব জায়গা, মানুষ ও অভিজ্ঞতা তাঁদের আকৃষ্ট করবে, সেগুলো অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে।   রাতের বিনোদন ও সংগীতে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে চিফ ভাইবস অফিসারের দায়িত্ব। নির্বাচিত ব্যক্তিকে সরাসরি সংগীত, রাতের বিনোদন এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় স্থান ঘুরে দেখতে হবে। স্থানীয় বার, বিশেষ পানশালা, ছাদের ওপরের বিনোদনকেন্দ্র, সংগীতের স্থান এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় জায়গার অভিজ্ঞতা তাঁর কাজের অংশ হবে।   খাবারপ্রেমীদের জন্য রাখা হয়েছে চিফ ফ্লেভার এক্সপ্লোরারের দায়িত্ব। নির্বাচিত ব্যক্তি এলাকার বিভিন্ন খাবার ও পানীয়ের অভিজ্ঞতা নেবেন। স্বীকৃত রেস্তোরাঁর খাবার থেকে শুরু করে সদ্য ধরা সামুদ্রিক মাছ, স্থানীয়দের পছন্দের খাবারের জায়গা এবং বিভিন্ন দেশের খাবারও এই অনুসন্ধানের অংশ হতে পারে।   তৃতীয় দায়িত্ব চিফ সানসেট কিউরেটরের। নামের সঙ্গে সূর্যাস্ত থাকলেও দায়িত্ব শুধু সমুদ্রসৈকতে বসে সূর্যাস্ত দেখা নয়। নির্বাচিত ব্যক্তিকে সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের শিল্পকলা, রং ও সৃজনশীলতাও তুলে ধরতে হবে। স্থানীয় শিল্পী, জাদুঘর, বিভিন্ন এলাকার দেয়ালচিত্র এবং মেক্সিকো উপসাগরের সূর্যাস্ত তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।   এই দায়িত্বের আওতায় দালি জাদুঘর এবং মিউজিয়াম অব আমেরিকান আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস মুভমেন্টের মতো স্থানও রয়েছে। একই সঙ্গে ৬ থেকে ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শাইন মুরাল ফেস্টিভ্যালের সময় তৈরি বিভিন্ন দেয়ালচিত্র ঘুরে দেখার সুযোগও থাকতে পারে।   তিনটি পদের জন্য নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি আলাদাভাবে ১০ হাজার ডলার পাবেন। অর্থাৎ ১০ হাজার ডলার তিনজনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে না। প্রত্যেকের জন্য যাওয়া-আসার বিমানভাড়া ও থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি তাঁদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতার ব্যবস্থাও করবে আয়োজক সংস্থা।   তবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের বিনিময়ে কাজও করতে হবে। অবস্থানের সময় তাঁরা যেসব মানুষ, স্থান ও মুহূর্তের অভিজ্ঞতা পাবেন, সেগুলো অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আকর্ষণীয় গল্প ও কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম ব্যক্তিদেরই এই দায়িত্বের জন্য খোঁজা হচ্ছে।   আবেদনকারীর বয়স আবেদন করার সময় কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর থেকে ২২ নভেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে নির্ধারিত টানা ১০ দিনের দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁকে সময় দিতে হবে।   আবেদন প্রক্রিয়ায় অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচনের সময় তাঁদের নিজস্বতা ও গল্প বলার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মৌলিকত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি ও দর্শকদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে।   আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২২ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। নির্বাচিত ব্যক্তিরা প্রথম ১০ দিনের দায়িত্ব শেষ করার পর ভবিষ্যতে তাঁদের অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার জন্য অন্য কার্যক্রমেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার সাদা বালুর সমুদ্রসৈকত ও সূর্যাস্তের জন্য পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকাটিতে বছরে গড়ে ৩৬১ দিন সূর্যালোক থাকে। তবে নতুন এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু সমুদ্রসৈকত নয়। খাবার, রাতের বিনোদন, সংগীত, শিল্পকলা, জাদুঘর, দেয়ালচিত্র এবং স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাও এর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।   সব মিলিয়ে এটি সাধারণ অর্থে স্থায়ী চাকরি নয়, বরং ১০ দিনের অর্থপ্রদত্ত স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমও পদগুলোকে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছে। তিনজন নির্বাচিত ব্যক্তি প্রত্যেকে ১০ হাজার ডলার, বিমানভাড়া ও থাকার সুবিধা পাবেন। বিনিময়ে তাঁদের সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার ঘুরে সেখানকার খাবার, সংস্কৃতি, বিনোদন, শিল্পকলা ও সূর্যাস্তের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১১:৩৪
নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএর তিনটি সংস্থায় বাস অপারেটর পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে এমটিএর বাস অপারেটর পদে আবেদন চলছে, জেনে নিন আবেদনের যোগ্যতা

নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএর তিনটি সংস্থায় বাস অপারেটর পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ হালনাগাদ করা সরকারি তালিকা অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিট, ম্যানহাটন অ্যান্ড ব্রঙ্কস সারফেস ট্রানজিট অপারেটিং অথরিটি বা ম্যাবস্টোয়া এবং এমটিএ বাস কোম্পানির পদগুলো শূন্যপদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে। আবেদনকারীদের কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল, অথবা সংশ্লিষ্ট লার্নার পারমিট থাকতে হবে।    বর্তমান তালিকায় ম্যাবস্টোয়ার বাস অপারেটর পদের নম্বর ৬১২১ এবং এমটিএ বাস কোম্পানির নম্বর ৬৩২১। নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের অস্থায়ী বা প্রভিশনাল বাস অপারেটর পদের নম্বর ৬০১২। ফলে আগের বিজ্ঞপ্তির ৫১০১ বা ৫৩০১ নম্বর দিয়ে বর্তমান নিয়োগের তথ্য খোঁজার পরিবর্তে হালনাগাদ পদের নম্বর অনুসরণ করতে হবে।    বেতনের ক্ষেত্রেও সংস্থা ও বিজ্ঞপ্তিভেদে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। এমটিএর নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের ৬৬০৯ নম্বর পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের জন্য প্রারম্ভিক বেতন ঘণ্টায় ২৮ দশমিক ৭৬ ডলার এবং চাকরির ষষ্ঠ বছরে ৪১ দশমিক ০৯ ডলার উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই পরীক্ষার আবেদনপর্ব ২০২৫ সালের নভেম্বরেই শেষ হয়েছে। তাই সেই বেতনহারকে বর্তমানে খোলা সব পদের নিশ্চিত বেতন হিসেবে ধরা যাবে না।    একই বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুবিধার মধ্যে রয়েছে রাত ও সপ্তাহান্তে কাজের বাড়তি ভাতা, পেইড হলিডে, ভ্যাকেশন, সিক লিভ, মেডিকেল ও পেনশন প্ল্যান। বর্তমানে খোলা পদের জন্য এসব শর্ত সংশ্লিষ্ট চাকরির বিবরণ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।    নিয়োগের আগে পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অধিকার প্রমাণ করতে হয়। এই শর্তকে শুধু নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলা ঠিক নয়। এমটিএর বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজিতে বুঝতে ও যোগাযোগ করতে পারা এবং বাস অপারেটর ট্রেনিং সফলভাবে শেষ করার শর্তও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।    চাকরির ধরনেও পার্থক্য রয়েছে। ম্যাবস্টোয়া ও এমটিএ বাস কোম্পানির বাস অপারেটররা সুবিধা ও ইউনিয়ন প্রতিনিধিত্ব পেলেও পদ দুটি সিভিল সার্ভিস পদ নয়। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের প্রভিশনাল পদে স্থায়ী হতে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাস করে নির্বাচিত তালিকা থেকে নিয়োগ পেতে হবে।    আগ্রহীরা এমটিএর ক্যারিয়ার বিভাগের বর্তমান পরীক্ষার তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট বাস অপারেটর পদ বেছে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে পদের বেতন, লাইসেন্সের শর্ত, পরীক্ষার ধরন ও প্রযোজ্য ফি পড়তে বলেছে কর্তৃপক্ষ। আবেদন করলেই নিয়োগ নিশ্চিত হবে না; সংশ্লিষ্ট বাছাই ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৯:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের গাড়ি দিয়ে বাড়তি আয়ের অন্যতম একটি বিকল্প মাধ্যম অ্যামাজন ফ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় উবারের বিকল্প ডেলিভারি জব, আয় হয় দ্বিগুণ! জানুন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের গাড়ি দিয়ে বাড়তি আয়ের একটি বিকল্প অ্যামাজন ফ্লেক্স। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অধিকাংশ ড্রাইভার ঘণ্টায় ১৮ থেকে ২৫ ডলার আয় করেন। তবে এলাকা, ডেলিভারিতে লাগা সময় ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করে। উবার ছেড়ে প্যাকেজ ডেলিভারি করলেই আয় দ্বিগুণ হবে, এমন নিশ্চয়তা এই তথ্য দেয় না।    অ্যামাজন ফ্লেক্সে ড্রাইভাররা স্বাধীন কন্ট্রাক্টর হিসেবে নিজের গাড়িতে প্যাকেজ পৌঁছে দেন। অ্যাপে নির্দিষ্ট সময়ের কাজ বেছে নিতে হয়, যাকে বলা হয় ডেলিভারি ব্লক। অ্যামাজনের সাধারণ প্যাকেজ ডেলিভারির ব্লক সাধারণত তিন থেকে ছয় ঘণ্টার। ব্লক গ্রহণের আগেই নির্ধারিত পারিশ্রমিক জানা যায়।   এই ব্যবস্থায় সুবিধা হলো, ড্রাইভার নিজের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপলব্ধ কাজ বেছে নিতে পারেন। অ্যামাজনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্লকের সময়, প্যাকেজের সংখ্যা, গন্তব্য এবং ট্রাফিকসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় ডেলিভারি রুট তৈরি করা হয়। তবে নিজের সুবিধামতো সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেই সময়ে কাজ পাওয়া নির্ভর করে অ্যাপে ব্লকের প্রাপ্যতার ওপর।    ঘণ্টাপ্রতি পারিশ্রমিক আর খরচ বাদে হাতে থাকা অর্থ এক নয়। প্যাকেজ ডেলিভারির আয় হিসাব করতে গ্যাস, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিতে হবে। প্যাকেজ সংগ্রহের জায়গায় যাওয়া, ডেলিভারি শেষ করা এবং ফেরার মোট সময়ও হিসাবের অংশ। একই পারিশ্রমিকের ব্লকে দূরত্ব ও সময় বেশি লাগলে কার্যকর আয় কমে যেতে পারে।   উবারের সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রেও একই হিসাব ব্যবহার করা জরুরি। একটির খরচ বাদ দেওয়ার আগের আয় এবং অন্যটির খরচ বাদে হাতে থাকা অর্থ তুলনা করলে লাভের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। জাতীয় পর্যায়ের গড় আয় দিয়েও নিউইয়র্কের কোনো নির্দিষ্ট ড্রাইভারের আয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।   গিগ কাজের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিডওয়াইজের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের প্রকাশ্য সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রধান রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঘণ্টাপ্রতি আয় মোটামুটি স্থির ছিল। কোনো কোনো প্ল্যাটফর্মে সামান্য বৃদ্ধি হলেও অন্যগুলোতে কিছুটা কমেছে। ফলে শুধু কাজের ধরন বদলালেই বড় অঙ্কের আয় বাড়বে, এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তি নেই।    নিউইয়র্কের ড্রাইভারদের জন্য ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যামাজনের নির্দেশনা অনুযায়ী, অন্য রাজ্যে সক্রিয় ডেলিভারি ব্লকের সময় কোম্পানির দেওয়া যে কমার্শিয়াল অটো ইন্স্যুরেন্স প্রযোজ্য, তা নিউইয়র্কে প্রযোজ্য নয়। সেখানে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কভারেজ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স লাগতে পারে। কাজ শুরুর আগে নিজের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে কভারেজ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অ্যামাজন।   আবেদনের জন্য বয়স অন্তত ২১ বছর, বৈধ যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাইভার লাইসেন্স, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, উপযুক্ত গাড়ি, প্রয়োজনীয় অটো ইন্স্যুরেন্স এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হয়। সাধারণ প্যাকেজ ডেলিভারির জন্য চার দরজার মাঝারি আকারের সেডান বা বড় গাড়ি প্রয়োজন। আবেদনকারীকে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকও পাস করতে হয়।   অ্যামাজন ফ্লেক্স অ্যাপের মাধ্যমে নিজের এলাকায় সুযোগ আছে কি না দেখা যায়। নতুন ড্রাইভার নেওয়া বন্ধ থাকলে আগ্রহীদের অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হতে পারে। তাই যোগ্যতা পূরণ করলেই সঙ্গে সঙ্গে কাজ পাওয়া নিশ্চিত নয়।    নিজের গাড়ি দিয়ে আয় করতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্যাকেজ ডেলিভারি একটি বিবেচনাযোগ্য বিকল্প। তবে উবার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি ব্লকের মোট পারিশ্রমিক, যাতায়াতের সময়, মাইলেজ ও খরচ মিলিয়ে হিসাব করলেই বোঝা যাবে, নিজের এলাকায় কোন কাজটি বেশি লাভজনক।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৯:১৪
অবসরজীবনে কম খরচে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকা প্রকাশ
অবসরের পর কম খরচে নিরিবিলি জীবন কাটাতে সাশ্রয়ী যুক্তরাষ্ট্রের ১০ অঙ্গরাজ্য

অবসরের পর সঞ্চয়ের অর্থ আরও দীর্ঘসময় ধরে রাখতে চান অনেকেই। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম আবাসন খরচ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের সুবিধা রয়েছে—এমন অঙ্গরাজ্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত আর্থিক চাপ কমাতে পারে। নতুন এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য বিশ্লেষণ করে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।   অবসরজীবন নিয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিটায়ারমেন্ট লিভিং তিনটি প্রধান বিষয়—আবাসন খরচ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের সুবিধা—বিবেচনায় নিয়ে এই র‌্যাংকিং তৈরি করেছে। অবসরপ্রাপ্তদের সঞ্চয় কোথায় তুলনামূলক বেশি কাজে লাগতে পারে, সেটিই ছিল এই বিশ্লেষণের মূল বিষয়।   তালিকায় অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। আগের বছরের তুলনায় এবার ১৭ ধাপ এগিয়ে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে রাজ্যটি।   ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া আবাসন খরচ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়—দুই ক্ষেত্রেই প্রথম হয়েছে। রিটায়ারমেন্ট লিভিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া গড়ে ৬৪৩ ডলার। পাশাপাশি একজনের মাসিক মুদিখানা খরচ প্রায় ২০৫ ডলার, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।   সাশ্রয়ী রাজ্যের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিসিসিপি। টানা দ্বিতীয় বছর এই অবস্থান ধরে রেখেছে রাজ্যটি। ২০২৬ সালের মার্চে সেখানে বাড়ি বিক্রির মধ্যম মূল্য ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩০ ডলার, যা দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন। সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিক থেকেও মিসিসিপি চতুর্থ সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।   তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আলাবামা। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে রাজ্যটি অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সাশ্রয়ী তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে।   সাশ্রয়ী ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় আরও রয়েছে ওকলাহোমা, আরকানসাস, কেনটাকি, মিসৌরি, লুইজিয়ানা, ইন্ডিয়ানা এবং কানসাস।   অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে কম খরচের রাজ্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে আর্থিক পরিকল্পনাবিদ জোডি ডি’আগোস্তিনি বলেন, তিনি নিজেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের আগ্রহ দেখতে পাচ্ছেন। নিউ জার্সির বাসিন্দা এই সার্টিফায়েড ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানারের মতে, অবসরের পর অনেকেই নিউ জার্সির মতো রাজ্য থেকে তুলনামূলক করবান্ধব রাজ্যে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এতে অবসরকালীন আয় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা এবং করের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।   তবে সব রাজ্যে অবসরজীবনের খরচ একই নয়। র‌্যাংকিংয়ের একেবারে বিপরীত প্রান্তে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই ও ওয়াশিংটন। এই তিনটি অঙ্গরাজ্যকে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। সান দিয়েগোর রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্রিস্টিনা কুয়েসাদা জানান, সেখানে অবসরপ্রাপ্তরা নিজেদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচ মূল্যায়ন করছেন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ কেউ পুরোপুরি কম খরচের এলাকায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। আবার যারা নিজেদের বর্তমান এলাকায় থাকতে চান, তাদের মধ্যে অনেকে ছোট বাসায় চলে যাচ্ছেন, একই অঞ্চলের তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছেন অথবা দীর্ঘদিনের বাড়ির মালিকানা থেকে পাওয়া সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে খরচ সামলানোর চেষ্টা করছেন।   গবেষণাটি দেখাচ্ছে, অবসর নেওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়ার দিকে তাকালেই হবে না। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়, করব্যবস্থা এবং আবাসন খরচ—সবকিছু মিলিয়েই অবসরজীবনের সামগ্রিক আর্থিক চাপ নির্ধারিত হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৫:৩১
অ্যারিজোনায় মুদি দোকানের চাকরি ও মোট মজুরিতে দেখা দিয়েছে পতন
অ্যারিজোনার গ্রোসারি শপে চাকরির সংকট, এক বছরে কমেছে দুই শতাংশের বেশি পদ

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে মুদি ও কনভেনিয়েন্স স্টোরে চাকরির সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। জাতীয়ভাবে এ খাতে চাকরি কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ফেডারেল শ্রম বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস এ হিসাব দিয়েছে।   একই সময়ে অ্যারিজোনার দোকানগুলোতে দেওয়া মোট মজুরির অঙ্ক কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। জাতীয়ভাবে কমেছে ১ শতাংশের কম। এটি খাতটিতে দেওয়া মোট মজুরির হিসাব; প্রত্যেক কর্মীর বেতন একই হারে কমেছে, এমন তথ্য নয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেওএলডির প্রতিবেদনে কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা খাবার কেনায় খরচ কমাচ্ছেন। এক মুদি দোকানের কর্মী জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগে লোক কম থাকলেও কাজের প্রত্যাশা আগের মতোই রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান্তা ক্রুজ কাউন্টিতে মুদি দোকানের চাকরি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং গ্রাহাম কাউন্টিতে ১৩ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি চাকরি কমেছে ম্যারিকোপা কাউন্টিতে, প্রায় ৯০০টি।   অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে রাজ্যটিতে স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জোসেফ পালোমিনোর মতে, খাদ্য সহায়তা কমলে পরিবারের কেনাকাটার সামর্থ্য এবং স্থানীয় দোকানের আয়েও চাপ পড়তে পারে।   তবে স্ন্যাপ পাওয়া মানুষের সংখ্যা কমার কারণেই মুদি দোকানে চাকরি ও মোট মজুরি কমেছে, প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে তা নিশ্চিত করা যায় না। তথ্যগুলো একই সময়ে খাদ্য কেনাকাটা ও মুদি দোকানের কর্মসংস্থানে তৈরি হওয়া চাপের চিত্র তুলে ধরছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৮:৩৫
অভিজ্ঞতা কম থাকলেও নিউইয়র্কে চাকরি খোঁজার কয়েকটি সরকারি সুযোগ রয়েছে
অভিজ্ঞতা ছাড়াও নিউ ইয়র্কে চাকরি খোঁজার সাতটি পথ, জেনে নিন

নিউইয়র্কে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়। সিটি সরকারের চাকরির পোর্টাল, নিয়োগ মেলা, বিনামূল্যের ক্যারিয়ার সহায়তা ও প্রশিক্ষণের মতো বেশ কিছু পথ রয়েছে। তবে কোথাও অংশ নিলেই সরাসরি চাকরি মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি পদের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা করে দেখে আবেদন করতে হবে।   চাকরি খোঁজার প্রথম জায়গা হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি সরকারের চাকরির পোর্টাল। সেখানে প্রতিটি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের ধরন, অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা এবং আবেদন করার নিয়ম দেওয়া থাকে। শুধু চাকরির নাম দেখে আবেদন না করে ‘মিনিমাম কোয়ালিফিকেশনস’ বা ন্যূনতম যোগ্যতার অংশটি আগে ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।   দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার খবর নিয়মিত দেখা। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএস প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথমবার পরীক্ষায় আবেদনকারীদের জন্য পরীক্ষার ফি মওকুফের সুযোগ চালু হয়েছে। তবে এই সুবিধা সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় নয়, তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নিয়ম দেখে নিতে হবে।   তৃতীয় পথ হলো জবস এনওয়াইসি হায়ারিং হল। এসব আয়োজনে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতারা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। কিছু ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানস্থলেই ইন্টারভিউ নেওয়া হতে পারে। তবে ইন্টারভিউ বা চাকরি কোনোটিই নিশ্চিত নয়। সিটির তালিকায় ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একটি হায়ারিং হলের তথ্য রয়েছে। তবে ওই সরকারি পাতায় অনুষ্ঠানের শিরোনামে কুইন্স উল্লেখ থাকলেও ঠিকানায় স্টেটেন আইল্যান্ড দেওয়া হয়েছে। তাই যাওয়ার আগে সিটির সর্বশেষ ঘোষণায় অনুষ্ঠানস্থল নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।   চতুর্থ পথ হলো ওয়ার্কফোর্স ওয়ান ক্যারিয়ার সেন্টার। চাকরি খোঁজা, রিজিউমে তৈরি বা ঠিকঠাক করা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে এখানে বিনামূল্যে সহায়তা পাওয়া যায়। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ করে রিজিউমে কীভাবে সাজাতে হবে বা ইন্টারভিউতে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে এই সেবা কাজে আসতে পারে।   পঞ্চম পথ ইনডিভিজুয়াল ট্রেনিং গ্রান্ট। যোগ্য প্রার্থীরা নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের টিউশন, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার ফি এবং বইয়ের খরচে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গ্রান্টের সংখ্যা সীমিত এবং আবেদন করলেই অনুমোদন নিশ্চিত নয়। কোথাও ১ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ ডলারের ভাউচারের কথা বলা হলেও, এই পরিমাণ সবার জন্য নির্ধারিত—এমন তথ্য সিটির নির্দেশনায় নেই। একইভাবে কোনো কোর্স শেষ করলেই সেটিকে চাকরির অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা হবে, এমনও কোনো সাধারণ নিয়ম নেই।   ষষ্ঠত, এমটিএ ও ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সিটি ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরির বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখা যেতে পারে। পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন বা অফিসের মতো বিভিন্ন ধরনের পদে সুযোগ আসতে পারে। তবে প্রতিটি চাকরির যোগ্যতা আলাদা। সব এন্ট্রি-লেভেল পদে অভিজ্ঞতা লাগবে না, আবার শুধু একটি সেফটি সার্টিফিকেট থাকলেই সব পদে আবেদন করা যাবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়।   সপ্তম পথ হলো প্রতিবন্ধী যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সিটির ৫৫-এ কর্মসূচি। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু সিভিল সার্ভিস পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে। তবে শুধু এই কর্মসূচির আওতায় পড়লেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রার্থীর প্রতিবন্ধিতার যোগ্যতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষা, দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার শর্তও পূরণ করতে হয়।   চাকরি খোঁজার আগে নিজের একটি হালনাগাদ রিজিউমে তৈরি করে রাখা সবচেয়ে ভালো। এরপর নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন কয়েকটি পদ বেছে নিয়ে নিয়মিত আবেদন করা যেতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো পোস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা আগের নিয়োগ মেলার তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।   কারণ চাকরির সংখ্যা, আবেদনের সময়সীমা, যোগ্যতা এবং নিয়োগের নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই ‘অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি চাকরি’, ‘নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিলেই চাকরি’ কিংবা ‘মেলায় গেলেই নিয়োগ’—এ ধরনের দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না ধরে সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।   নিউইয়র্কে নতুনদের জন্য চাকরি পাওয়া সহজ নাও হতে পারে, কিন্তু সঠিক জায়গায় খোঁজ করলে সুযোগ পাওয়া সম্ভব। সরকারি চাকরির পোর্টাল নিয়মিত দেখা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার খবর রাখা, ক্যারিয়ার সেন্টারের সহায়তা নেওয়া এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগানো—চাকরি খোঁজার শুরুতে এসব পদক্ষেপই সবচেয়ে বেশি কাজে আসতে পারে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৮:৪০
নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ছাড়াই বিভিন্ন খাতের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আয়োজিত জব ফেয়ার বা নিয়োগ মেলা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নতুনদের জন্য ৭ চাকরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই আবেদন

নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও বিভিন্ন খাতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী, হোম হেলথ এইড, খুচরা বিক্রি ও গ্রাহকসেবা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ট্যাক্সি ও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন, রেস্টুরেন্ট এবং দাপ্তরিক কাজের মতো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যায়। তবে এসব চাকরি নিশ্চিত নয় এবং পদভেদে কাজের অনুমতি, প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ও নিয়োগকর্তার শর্ত পূরণ করতে হয়।   নতুন অভিবাসীদের জন্য নিরাপত্তাকর্মীর কাজ একটি সম্ভাব্য প্রবেশপর্যায়ের পেশা। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিবন্ধনের আগে ৮ ঘণ্টার প্রি-অ্যাসাইনমেন্ট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টও দিতে হয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে আরও ১৬ ঘণ্টার অন-দ্য-জব প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তীতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীর প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।   হোম কেয়ার খাতেও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হোম হেলথ এইড হিসেবে কাজ করতে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কমপক্ষে ৭৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়। পার্সোনাল কেয়ার এইডের জন্যও অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বয়স্ক, অসুস্থ বা দৈনন্দিন কাজে সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের বাড়িতে গিয়ে এসব কর্মী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকেন।   দোকান, সুপারমার্কেট, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খুচরা বিক্রি এবং গ্রাহকসেবার কাজেও চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি সবসময় প্রয়োজন হয় না। এসব পদের যোগ্যতা সাধারণত নিয়োগকর্তা নির্ধারণ করেন। বাংলাভাষী গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এমন কিছু কর্মক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা কাজে লাগতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভাষা জানলেই চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন কোনো সরকারি নিশ্চয়তা নেই।   নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতেও বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে। নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের মূলধনী পরিকল্পনার আকার প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার। এতে রেললাইন, স্টেশন, সংকেত ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো আধুনিকায়নের জন্য বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ থাকলেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি পদের জন্য আলাদা যোগ্যতা ও নিয়োগের শর্ত থাকে।   ট্যাক্সি ও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজেও ডিগ্রির বদলে নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশনের লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীদের নির্ধারিত ড্রাইভার শিক্ষা কোর্স, যাত্রী সহায়তা ও হুইলচেয়ার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা এবং ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ড্রাগ টেস্টসহ আরও কিছু যাচাই প্রক্রিয়াও রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না করলে শুধু গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলেই ট্যাক্সি বা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজে যোগ দেওয়া যায় না।   রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও হোটেলেও রান্নাঘর, খাবার প্রস্তুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশন ও হাউসকিপিংসহ বিভিন্ন প্রবেশপর্যায়ের পদ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭ ডলার। তবে টিপস পাওয়া কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে মজুরি হিসাবের আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। খাদ্যসেবা খাতে কাজের ধরন অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সনদের প্রয়োজনীয়তাও থাকতে পারে।   অফিস সহকারী, দাপ্তরিক কাজ এবং কিছু সরকারি চাকরিও ডিগ্রিবিহীন প্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে। তবে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিটি পদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির ৫৫-এ কর্মসূচিকেও নতুন অভিবাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ সুযোগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এই কর্মসূচি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য।   নিউইয়র্ক সিটির জবস্ এনওয়াইসি কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চাকরি মেলা ও নিয়োগ আয়োজনও করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুযোগও দেওয়া হয়। তবে কোনো চাকরি মেলা বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সরকারি তথ্য থেকে সময়, স্থান, যোগ্যতা এবং নিবন্ধনের নিয়ম যাচাই করা জরুরি।   চাকরি খোঁজার সময় প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার কথা বলে কেউ বড় অঙ্কের টাকা চাইলে আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা সরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ বা সরকারি চাকরির নামে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও একাধিক খাতে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স, অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং নিয়োগকর্তার নির্ধারিত যোগ্যতার ওপর। তাই নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট পদের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম দেখে আবেদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৯:৫৯
হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি ছাড়াই নিউইয়র্কের কিছু স্কুলে স্কুল এইড পদে আবেদনের সুযোগ
নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলে ডিপ্লোমা ছাড়াই চাকরির সুযোগ, চলছে নিয়োগ

নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে স্কুল এইড পদে নতুন নিয়োগ চলছে, আর কিছু পদের জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন স্কুল এইড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে।   সিএসবি নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে দেখা গেছে, অন্তত কয়েকটি স্কুল এইড পদের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন নেই। উদাহরণ হিসেবে ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে।   স্কুল এইডদের কাজ মূলত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন স্কুল কার্যক্রমে সহায়তা করা। এর মধ্যে হলওয়ে, স্টাডি হল, লাঞ্চরুম ও স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের তদারকি, স্কুলে আসা ও ছুটির সময় সহায়তা, স্কুলবাসে আসা শিক্ষার্থীদের দেখভাল এবং লাঞ্চ পরিবেশনে সহযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইনভেন্টরি সংরক্ষণ এবং কিছু সাধারণ দাপ্তরিক কাজও করতে হতে পারে।   অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতার ভালো রেকর্ড থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ১০ পাউন্ড ওজনের জিনিস তোলার সামর্থ্যও প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্কুলে দ্বিভাষিক প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হতে পারে।   কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার থেকে শুক্রবার কাজের কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা কাজের সম্ভাবনা রয়েছে। বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট কালেকটিভ বার্গেনিং এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী। তবে পদগুলো চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।   নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকলেও পদ পূরণ হয়ে গেলে আবেদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় আছে কি না যাচাই করা জরুরি।   নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের বর্তমান চাকরির তালিকাতেও ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাধিক স্কুল এইড পদ দেখা যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ব্রঙ্কস ও কুইন্সের বিভিন্ন স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। একই তালিকায় স্কুল এইডকে আলাদা চাকরির ক্যাটাগরি হিসেবে দেখানো হয়েছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি স্কুলভেদে যাচাই করা। ডিপ্লোমা বা জিইডি না থাকলেও কোনো কোনো স্কুল এইড পদে আবেদন করা সম্ভব হলেও, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত একই নয়। তাই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সর্বশেষ অফিসিয়াল পোস্টিং দেখে যোগ্যতা, কর্মঘণ্টা, আবেদন পদ্ধতি এবং পদটি এখনও খালি আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৭:৪২
নিউইয়র্ক কর্মীদের পাওনা নিয়ে ১৩১.৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় ডোরড্যাশের স্বীকারোক্তি
‘আমরাই ভুল করেছি’: নিউইয়র্ক কর্মীদের পাওনা নিয়ে ১৩১.৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় ডোরড্যাশের স্বীকারোক্তি

নিউইয়র্ক সিটির ডেলিভারি কর্মীদের পেমেন্ট সংক্রান্ত তদন্ত নিষ্পত্তি করতে ১৩১.৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় রাজি হয়েছে ডোরড্যাশ। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশনের তদন্তে কর্মীদের পেমেন্ট কম দেওয়া বা দেরিতে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এই সমঝোতা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   সমঝোতার আওতায় ডোরড্যাশকে প্রায় ২৬৪ হাজার ডেলিভারি কর্মীর জন্য মোট প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৩ মিলিয়ন ডলার এমন একটি বিরোধ নিষ্পত্তিতে যাবে, যেখানে অ্যাপে লগইন থাকা অবস্থায় কর্মীদের সময়ের পারিশ্রমিক কীভাবে হিসাব করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আরও প্রায় ১২.৩ মিলিয়ন ডলার কম বা দেরিতে দেওয়া পেমেন্টের বিষয়টি নিষ্পত্তিতে ব্যবহার হবে।   এ ছাড়া ডোরড্যাশ নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশনকে ১৬.৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেবে। শহর কর্তৃপক্ষের তদন্তটি মূলত ২০২৩ সালে কার্যকর হওয়া ডেলিভারি কর্মীদের ন্যূনতম পেমেন্ট সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে কোম্পানিটির কার্যক্রম কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, তা নিয়ে পরিচালিত হয়।   নিউইয়র্ক সিটির তদন্তে প্রায় ২০৯ হাজার ডেলিভারি কর্মীর কম বা দেরিতে পেমেন্ট পাওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডোরড্যাশ অবশ্য জানিয়েছে, পেমেন্টের সমস্যাগুলো ইচ্ছাকৃত ছিল না। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির জটিল পেমেন্ট নিয়ম বাস্তবায়নের সময় শহরের সীমানা পেরিয়ে ডেলিভারি, একাধিক অর্ডার একসঙ্গে সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ভুল হয়েছে।   নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের পেমেন্ট নিয়ে ডোরড্যাশসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন আইনি ও নিয়ন্ত্রক বিরোধ হয়েছে। ২০২৫ সালে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গেও ডোরড্যাশ ১৬.৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। সেই মামলায় ডেলিভারি কর্মীদের টিপস সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি ছিল।   নতুন সমঝোতার অংশ হিসেবে ডোরড্যাশকে নিয়ম মেনে চলার জন্য অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করতে হবে। কোম্পানিটি একটি কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নিয়মিত অভ্যন্তরীণ রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে।   নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের জন্য ২০২৩ সালের ন্যূনতম পেমেন্ট আইন চালুর পর অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে নিয়ম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন সমঝোতার ফলে তদন্তে উঠে আসা পেমেন্ট সংক্রান্ত বিরোধের একটি বড় অংশ নিষ্পত্তির পথে যাচ্ছে। ডোরড্যাশ জানিয়েছে, সমঝোতার পুরো অর্থের জন্য তারা আগেই আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ করেছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১১:১৮
নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মাথায় চাকরিচ্যুত। ছবি: সংগৃহীত
'চাকরিটা আমার দরকার ছিল’, নিউইয়র্কে 'হাইজিন সমস্যা’ দেখিয়ে নতুন চাকরিতে বরখাস্ত যুবক

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী ক্রিস স্মলস দাবি করেছেন, প্রায় সাড়ে নয় মাস বেকার থাকার পর পাওয়া নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে তাকে জানানো হয়, কোম্পানি তার বিরুদ্ধে ‘হাইজিন ইস্যু’ বা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সমস্যা দেখেছে। তবে স্মলস এই কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, চাকরির আগের রাতে তিনি গোসল করেছিলেন, নতুন পোলো শার্ট পরে অফিসে গিয়েছিলেন এবং নিজেকে ভালোভাবেই প্রস্তুত করেছিলেন।    স্মলসের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় বেকার থাকার পর একটি টেম্প এজেন্সির মাধ্যমে তিনি একটি এআই প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পান। সেখানে তার দায়িত্ব ছিল ‘পিপল অপস’ বিভাগে কাজ করা। নতুন চাকরিটি নিয়ে তিনি আশাবাদী ছিলেন। প্রথম দিন অফিসে গিয়ে সুপারভাইজারের কাছ থেকে কর্মস্থল ঘুরে দেখেন এবং পরে আরেক কর্মীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন।   কয়েক ঘণ্টা অনবোর্ডিং ও প্রশিক্ষণের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। স্মলসকে স্বাভাবিক সময়ের আগেই লাঞ্চে যেতে বলা হয়। অফিস থেকে বের হওয়ার আগেই টেম্প এজেন্সি থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার কাজের অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করা হয়েছে এবং এর কারণ হিসেবে ‘হাইজিন ইস্যু’ উল্লেখ করেছে কোম্পানি। স্মলসের দাবি, তাকে ঠিক কী ধরনের পরিচ্ছন্নতার সমস্যা পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে কোম্পানি বা এজেন্সির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।    এ ঘটনায় আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন স্মলস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চাকরিতে যাওয়ার আগে গোসল করার পাশাপাশি দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস করেছিলেন এবং নতুন পোলো শার্ট পরেছিলেন। পরে নিজের পরিচিত কয়েকজনের কাছেও জানতে চান, তার শরীর বা পোশাক থেকে কোনো অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে কি না। তারা এমন কোনো সমস্যা টের পাননি বলে তাকে জানান। স্মলস আরও বলেন, তার প্যান্টে হয়তো লিন্ট রোলার ব্যবহার করা দরকার ছিল, তবে এ ছাড়া নিজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তিনি কোনো সমস্যা দেখছেন না।    চাকরি হারানোর কারণ জানতে না পেরে স্মলস নিজের প্রথম দিনের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়েও ভাবতে শুরু করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন কী ঘটেছিল যার কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা ঘটনার ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ‘হাইজিন ইস্যু’ আসলে কী ছিল, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।    ঘটনাটি স্মলস রেডিটে নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রকাশ করার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়। সেখানে কেউ তার প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন, আবার কেউ ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে নিজেদের ধারণা প্রকাশ করেছেন। তবে এসব মন্তব্যের কোনোটি কোম্পানির সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ হিসেবে নিশ্চিত নয়। স্মলস নিজেও বলেছেন, তিনি এখনো ঘটনার কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাননি। কয়েক মাস ধরে চাকরি খোঁজার পর পাওয়া সুযোগটি প্রথম দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে হতাশ করেছে।    সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্মলস ওই আড়াই ঘণ্টার কাজের জন্য পারিশ্রমিক পেয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি টেম্প এজেন্সির পক্ষ থেকে তাকে নতুন কোনো কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্মলসের দাবি এবং কোম্পানির কথিত ‘হাইজিন ইস্যু’ এখনো তার ব্যক্তিগত বর্ণনার ওপরই নির্ভর করছে। কোম্পানির নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৯:২৯
ক্যালিফোর্নিয়ায় কমেছে নতুন চাকরির সুযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা

ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। চাকরির সুযোগের হার বলতে মাসের শেষ কর্মদিবসে বিদ্যমান খালি পদকে মোট কর্মী ও খালি পদের সমষ্টির শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেওএলটিএস জরিপে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ এবং কর্মী ছাঁটাইসহ শ্রমবাজারের বিভিন্ন সূচক পরিমাপ করা হয়।  ক্যালিফোর্নিয়ার এই হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২১ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ২০২৩ সালে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হারটি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।  ২০২৫ সালের অক্টোবরেও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৬ লাখ ৬৪ হাজার চাকরির সুযোগ ছিল। তবে ওই মাসে রাজ্যটির চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।  তবে চাকরির সুযোগ কম থাকা মানেই নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট চাকরির সুযোগ ছিল প্রায় ৭২ লাখ ৭১ হাজার এবং জাতীয় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে নিয়োগের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ছাঁটাই ও চাকরিচ্যুতির হার ছিল ১ শতাংশ।  সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের আরেকটি চিত্রও দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রম বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন সামান্য কমে ২ লাখ ৬ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগের গতি কিছুটা বাড়লেও রাজ্যভেদে চাকরির সুযোগের চিত্র এক নয়।  ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন কর্মীদের জন্য তাই শুধু মোট চাকরির সংখ্যা নয়, কোন খাতে নিয়োগ বাড়ছে, কোন এলাকায় সুযোগ বেশি এবং নিয়োগের প্রবণতা কীভাবে বদলাচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাকরির সুযোগের হার কম থাকলে একটি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পেশা, দক্ষতা ও স্থানীয় শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিকভাবে চাকরির সুযোগ এখনো কয়েক মিলিয়নের পর্যায়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মহামারির পরের উচ্চ চাকরির সুযোগের সময়ের তুলনায় নিয়োগের বাজার অনেক বেশি স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনামূলক কম চাকরির সুযোগের হার রাজ্যটির চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:২৫
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের মধ্যে ক্যারিয়ারে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনায় পরিবর্তন, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন পথে

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের মধ্যে ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা তথ্যপ্রযুক্তির মতো দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় পেশার পাশাপাশি আইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স, ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মতো ক্ষেত্রও তরুণদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিউনিটির কয়েকটি পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতায়ও দেখা যাচ্ছে, পড়াশোনা বা কর্মজীবনের মাঝপথে অনেকে নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুন করে সাজাচ্ছেন।   টেক্সাসের বাংলাদেশি কমিউনিটির এক তরুণীর গল্প তার একটি উদাহরণ। মিডল স্কুল থেকেই তিনি হেলথ কেয়ার ও মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। হাই স্কুল পেরিয়ে কলেজেও সেই লক্ষ্য ধরে পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি কলেজ শেষ করার পরও অবশ্য সেই দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি হেলথ কেয়ারের পরিবর্তে আইন পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ল স্কুলে ভর্তির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন।   অর্থাৎ যে ক্যারিয়ারের জন্য একজন শিক্ষার্থী কৈশোর থেকে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়েছেন, কলেজ শেষ করার পর নিজের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে সেই পথ পরিবর্তন করতেও দ্বিধা করছেন না।   জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ধরনের একটি পরিবর্তন। এক বাংলাদেশি পরিবারের তরুণীর শুরু থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ ছিল। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আইটি ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং প্রযুক্তি খাতে কাজের ধরন পরিবর্তনের কারণে এখন তিনি নিজের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাচ্ছেন।   আইটি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তিনি একই প্রযুক্তি খাতের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করছেন। অর্থাৎ তার ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি আইটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, বরং আইটির ভেতরেই ভবিষ্যৎমুখী একটি নতুন বিশেষায়িত ক্ষেত্র বেছে নেওয়া।   এই পরিবর্তনের পেছনে শুধু ব্যক্তিগত আগ্রহ নয়, দ্রুত বদলে যাওয়া চাকরির বাজারও ভূমিকা রাখছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৫ সালের ফিউচার অব জবস রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাকরির বাজারে প্রযুক্তিগত দক্ষতার গুরুত্ব দ্রুত বাড়বে। এআই ও বিগ ডেটা, নেটওয়ার্ক ও সাইবার সিকিউরিটি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা দক্ষতার মধ্যে রাখা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বিগ ডেটা স্পেশালিস্ট, ফিনটেক ইঞ্জিনিয়ার, এআই ও মেশিন লার্নিং স্পেশালিস্ট এবং সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকায় রাখা হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের সর্বশেষ হিসাবও দেখাচ্ছে, এআই প্রযুক্তির কারণে আইটি খাতের সব চাকরি কমে যাচ্ছে এমন নয়। বরং কিছু পেশায় কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ডেটা সায়েন্টিস্টের চাকরি ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সফটওয়্যার ডেভেলপারের চাকরি ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।    তবে প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে কিছু প্রচলিত কাজের ধরন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে প্রশ্নটি এখন শুধু আইটি পড়বে কি না, তা নয়; বরং আইটির কোন শাখায় গেলে ভবিষ্যতে বেশি সুযোগ তৈরি হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এই পরিবর্তন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে আইটি পেশায় কাজ করা কিছু বাংলাদেশি-আমেরিকান পেশাজীবীও চাকরির বাজারের পরিবর্তনের মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। তাদের কেউ নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন, কেউ আইটির অন্য শাখায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, আবার কেউ চাকরির পরিবর্তে ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।   জর্জিয়ার এমনই এক তরুণ বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবী, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, দীর্ঘদিন আইটি খাতে কাজ করার পর এখন নতুন ব্যবসা শুরু করছেন। তার কাছে প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তন এবং চাকরির অনিশ্চয়তা আইটি ক্যারিয়ারকে আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে। ফলে চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজের ব্যবসা দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।   বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির আকারও দ্রুত বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের শুধু বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার।    অর্থাৎ কমিউনিটির একটি বড় অংশ এখন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম। তাদের ক্যারিয়ার পছন্দ আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পেশাগত পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশি পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা আইটি পেশার বাইরে নতুন প্রজন্ম কতটা যাচ্ছে?   একজন তরুণী হেলথ কেয়ার থেকে আইন পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আরেকজন আইটি থেকে এআইভিত্তিক ক্যারিয়ারের দিকে এগোচ্ছেন। অন্যদিকে একজন অভিজ্ঞ আইটি পেশাজীবী চাকরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন।   এই তিনটি ঘটনা হয়তো পুরো কমিউনিটির চিত্র নয়। কিন্তু এগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন প্রজন্ম এখন শুধু বাবা-মায়ের পছন্দের পেশা নয়, বরং নিজের আগ্রহ, ভবিষ্যতের চাকরির বাজার, প্রযুক্তির পরিবর্তন, আয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বিবেচনা করে ক্যারিয়ার বেছে নিতে চাইছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তাই ক্যারিয়ার নিয়ে পুরনো প্রশ্নটি হয়তো ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। প্রশ্নটি আর শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নাকি আইটি—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং কোন পেশায় ভবিষ্যতের সুযোগ বেশি, কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়বে এবং সন্তানের নিজের আগ্রহ কোথায়—সেটিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   আর সেই পরিবর্তনের গল্পই হয়তো আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নতুন ক্যারিয়ার মানচিত্র তৈরি করবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১২:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সরকারি চাকরির যোগ্যতার নিয়ম ফেডারেল ও স্টেট ভেদে ভিন্ন হয়। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড থাকলেই ফেডারেল চাকরি নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরির ৩ কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরি করতে চান এমন গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফেডারেল, স্টেট ও স্থানীয় সরকারের চাকরির যোগ্যতার নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল সরকারের বেশিরভাগ চাকরিতে মার্কিন নাগরিকত্ব প্রয়োজন হলেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই গ্রিন কার্ড থাকলেই সব ধরনের সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।   যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট বা সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফেডারেল সরকারের চাকরিতে কাজ করতে হলে আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক বা জাতীয় হতে হয়। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশ ১১৯৩৫ অনুযায়ী মার্কিন নাগরিক বা জাতীয় ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায় না।   তবে ফেডারেল সরকারের সব চাকরিকে একই নিয়মে দেখা যাবে না। সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরি মূলত প্রতিযোগিতামূলক চাকরি, বিশেষ নিয়োগের আওতাভুক্ত চাকরি এবং জ্যেষ্ঠ নির্বাহী চাকরি - এই তিন ধরনের কাঠামোর মধ্যে পড়ে। বিশেষ নিয়োগের আওতাভুক্ত কিছু পদে নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে ভিন্ন যোগ্যতা থাকতে পারে। তাই প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   ফেডারেল চাকরির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কেন্দ্রীয় চাকরির ওয়েবসাইট ইউএসএজবস ব্যবহার করা হয়। সেখানে প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত কোনো পদে সাধারণত মার্কিন নাগরিক বা জাতীয়রা আবেদন করতে পারেন। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে অ-মার্কিন নাগরিকদের জন্যও ব্যতিক্রম থাকতে পারে।   এ কারণে গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য প্রথম ধাপ হলো শুধু সরকারি চাকরি খোঁজা নয়, বরং নির্দিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর যোগ্যতার শর্ত দেখা। কোনো পদে মার্কিন নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক হলে গ্রিন কার্ড থাকলেও সেই পদে আবেদন করা যাবে না।   তবে সুযোগ শুধু ফেডারেল সরকারের চাকরিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্টেট ও স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগের যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট স্টেট, কাউন্টি, সিটি বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই গ্রিন কার্ডধারী কোনো ব্যক্তি স্টেট বা স্থানীয় সরকারের নির্দিষ্ট পদে আবেদন করতে পারবেন কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের ওপর নির্ভর করবে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু কাজের অনুমতি থাকলেই সব সরকারি পদে আবেদন করার অধিকার তৈরি হয় না। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের শর্ত, নিয়োগের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট পদের অন্যান্য যোগ্যতা আলাদাভাবে পূরণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় নিয়োগের শ্রেণির আওতায় না পড়লে আবেদন গ্রহণ নাও করা হতে পারে।   ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার সময় জীবনবৃত্তান্তের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন প্রক্রিয়া উল্লেখ থাকে। পদভেদে জীবনবৃত্তান্ত, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ, কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য এবং অন্যান্য নথি জমা দিতে হতে পারে। কিছু পদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই বা নিরাপত্তা ছাড়পত্রও প্রয়োজন হতে পারে।   তাই গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সহজ নিয়ম হলো, ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রথমে নাগরিকত্বের শর্ত যাচাই করা। এরপর বিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেই অংশটি দেখা এবং সবশেষে সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের তথ্য মিলিয়ে আবেদন করা। স্টেট, কাউন্টি, সিটি বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রিন কার্ড থাকলেই সরকারি চাকরি করা যায় না - এমন কথা যেমন সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়, তেমনি গ্রিন কার্ড থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যায় - এটিও সঠিক নয়। চাকরির স্তর, নিয়োগের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট যোগ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ০:৪৩
নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ে ক্যারিয়ারের সুযোগ
নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং-কোডিংয়ে চাকরির সুযোগ কতটা, কীভাবে এই চাকরিতে প্রবেশ করবেন?

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের মধ্যে মেডিকেল বিলিং ও কোডিং পেশা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে এই খাতে কাজ শুরু করার সুযোগ থাকায় বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের কাছে পেশাটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মেডিকেল কোডিংয়ের কাজে রোগীর চিকিৎসা, পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্য নির্দিষ্ট কোডে রূপান্তর করা হয়। আর মেডিকেল বিলিংয়ের সঙ্গে যুক্তরা রোগীর বীমা যাচাই, চিকিৎসা ব্যয়ের দাবি তৈরি ও পাঠানো, অর্থ পরিশোধের হিসাব এবং বীমা কোম্পানির কাছে আটকে থাকা দাবির বিষয়ে কাজ করেন। হাসপাতাল, চিকিৎসকের কার্যালয়, ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এসব কর্মীর প্রয়োজন হয়। এই পেশায় প্রশিক্ষণ শেষ করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্সের ধরন অনুযায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের পেশাগত সংগঠন এএপিসির তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ের যৌথ প্রশিক্ষণ এক বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। তাদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রায় আট মাসে শেষ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক মেডিকেল কোডিং একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, তাদের পেশাদার মেডিকেল কোডার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মেয়াদ পাঁচ মাস। অনলাইনেও এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কোর্সের টিউশন ফি ২ হাজার ৭০০ ডলার। তবে বই ও জাতীয় পরীক্ষার ফি আলাদা। নিউইয়র্কের সিটি কলেজেও মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ের অনলাইন প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। সেখানে মোট ১৭৫ ঘণ্টার সরাসরি ক্লাস নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮৫ ঘণ্টায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিলিং, বীমা দাবি ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শেখানো হয়। বাকি ৯০ ঘণ্টায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন কোড ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই কোর্সটি পেশাগত সার্টিফিকেশন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও তৈরি করা হয়েছে। নিউইয়র্কের আশপাশে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল বিলিং ও কোডিং শেখার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ব্রঙ্কসের লেহম্যান কলেজ, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কলেজ অব স্ট্যাটেন আইল্যান্ড এবং নিউইয়র্ক মেডিকেল কোডিং একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোথাও অনলাইনে, আবার কোথাও সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু কোর্স শেষ করলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পেশাগত সার্টিফিকেশন অর্জন, কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিলিং ও কোডিংয়ের বাস্তব জ্ঞান চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর কেউ কেউ কয়েক মাসের মধ্যেই এন্ট্রি-লেভেল বা প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে চাকরি পাওয়ার নির্দিষ্ট সময় ব্যক্তি, দক্ষতা ও চাকরির বাজারের ওপর নির্ভর করে। বেতনের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ও সার্টিফিকেশনের পার্থক্য রয়েছে। এএপিসির ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে মেডিকেল কোডার, বিলার, নিরীক্ষকসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যম বার্ষিক আয় ৭৪ হাজার ৪২৬ ডলার। তবে শূন্য থেকে এক বছরের অভিজ্ঞতায় গড় আয় প্রায় ৪৯ হাজার ৫২৪ ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য ও চিকিৎসা নথি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৫১ হাজার ১৪০ ডলার। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই ধরনের চাকরির সংখ্যা ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। অর্থাৎ, নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং ও কোডিংকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রবেশের একটি সম্ভাব্য ক্যারিয়ার পথ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রাথমিক চাকরির জন্য প্রস্তুত হওয়া সম্ভব হলেও ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ পেতে প্রশিক্ষণের মান, পেশাগত সার্টিফিকেশন, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে প্রশিক্ষণের মেয়াদ, খরচ, সার্টিফিকেশন প্রস্তুতি এবং চাকরির সহায়তা সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৭:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন সম্ভাবনা—বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ, বদলাচ্ছে কাজের ধরন
আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ লাখ নতুন চাকরি, সবচেয়ে বেশি সুযোগ স্বাস্থ্যসেবায়

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ৫৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে সব খাতে চাকরির প্রবৃদ্ধি সমান হবে না। স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি, প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সেবার মতো কিছু খাতে নিয়োগ বাড়লেও প্রশাসনিক ও বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেশায় চাকরি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের এই পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি আসবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। স্বাস্থ্যসেবায় ২২ লাখ নতুন চাকরি আগামী দশকে সবচেয়ে বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। এ খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ। খাতটির কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদাও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে নার্স প্র্যাকটিশনারের চাকরি পেশাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হতে পারে নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরিতে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় আরও রয়েছে সোলার ফটোভোলটাইক ইনস্টলার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, উইন্ড টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান এবং মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজার। মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের কর্মসংস্থান ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। এআই ও ডেটা সেন্টারে ইউটিলিটি খাতে নিয়োগ প্রবৃদ্ধির হারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ইউটিলিটি খাত। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ খাতে কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে খাতটির আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় নতুন চাকরি হবে প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০টি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে এই কর্মসংস্থান বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চাকরি ১৫৩ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রযুক্তি খাতেও বাড়বে চাকরি এআই-এর বিস্তারে প্রযুক্তি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা খাত ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে এবং প্রায় ৯ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। এআই-ভিত্তিক সিস্টেম, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি পরামর্শক সেবার চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হবে। ডেটা সায়েন্টিস্টদের কর্মসংস্থান প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এআই-এর চাপে কমবে কিছু চাকরি সব পেশায় অবশ্য চাকরি বাড়বে না। এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তা-সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান কমতে পারে। এই খাতে চাকরি প্রায় ৪ শতাংশ বা ৭ লাখ ৫২ হাজার ১০০টি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে ই-কমার্সের বিস্তার এবং ব্যবসায় এআই ব্যবহারের কারণে বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট পেশাতেও কর্মসংস্থান ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। ফলে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমে যেতে পারে। বিশেষ করে শিল্প, নকশা, বিনোদন, ক্রীড়া ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কিছু চাকরিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিক চাকরির প্রবৃদ্ধি হবে ধীর সব মিলিয়ে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মসংস্থান ১৭ কোটি ৬ লাখ থেকে বেড়ে ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ৫৯ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার হবে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের দশকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী দশকের মার্কিন চাকরির বাজারে তাই শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, চাকরির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, এআই, প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোই এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৬:১৩
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০