সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসার অভাবে ২৯ বছর বয়সী যুবকের মৃ ত্যু, বিচার দাবি পরিবারের
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসার অভাবে ২৯ বছর বয়সী যুবকের মৃ ত্যু, বিচার দাবি পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা আইস-এর একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার পর ২৯ বছর বয়সী এক মেক্সিকান যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রিসিলিয়ানো ত্রেজো রিকানো নামের ওই যুবক আইস হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাকে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।   মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করে আইস হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি অ্যাকিউট লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। অথচ এর আগে তার শরীরে বড় কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার লক্ষণ ছিল না।   নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামের বাসিন্দা প্রিসিলিয়ানো মাত্র তিন বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ১৯ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে জর্জিয়ার স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে আটক থাকার তিন সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারকে ভিডিও কল করে তিনি নিয়মিত তার শারীরিক যন্ত্রণার কথা জানাতেন।   এমনকি নিজের ২৯তম জন্মদিনে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন যে, তীব্র গলাব্যথা, রক্তকাশি এবং মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় ভুগলেও তাকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে তারা কেবলই একটি 'সংখ্যা' মাত্র।   গত ১৬ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, প্রিসিলিয়ানোকে জর্জিয়ার অগাস্টার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে পরিবারের সদস্যদের তার সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিতে শেষ মুহূর্তে আইস তাকে তাদের হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় অবশেষে ২৪ জুলাই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।   এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ডিটেনশন সেন্টারে যদি তিনি সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা পেতেন, তবে হয়তো তাকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না। যেহেতু মৃত্যুর ঠিক আগে তাকে আইস হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাই সরকারি পরিসংখ্যানে এই মৃত্যুকে 'হেফাজতে মৃত্যু' হিসেবে দেখানো হচ্ছে না, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে।   প্রিসিলিয়ানোর পরিবার এখন আইস-এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং এই মর্মান্তিক অবহেলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২১:২৪
দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধা পেরিয়ে অবশেষে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাইমন শেট্টি। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধা পেরিয়ে মার্কিন নাগরিক হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা

কর্ণাটকের একটি ছোট গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা ও পেশাগত নানা বাধা পেরিয়ে মার্কিন নাগরিক হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাইমন শেট্টি। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পথে তাকে বিভিন্ন অভিবাসনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনকে তিনি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পেশাগত জীবন গড়ে তোলার পথে শেট্টিকে দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা সংক্রান্ত নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর পাশাপাশি পেশাগত ক্ষেত্রেও তাকে বিভিন্ন বাধা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেন।   শেট্টি আরও জানিয়েছেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে একটি প্রতারণার অভিযোগ করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। তিনি ওই অভিযোগকে মিথ্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এই অভিযোগটি শেট্টির নিজের বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে। অভিযোগটি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার মধ্যেও শেট্টি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পেশাগত জীবন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পেশাগত বাধার পাশাপাশি তাকে অভিযোগসংক্রান্ত পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে নাগরিকত্ব পাওয়াকে তিনি নিজের দীর্ঘ যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।   নিজের যাত্রার কথা বলতে গিয়ে শেট্টি কর্ণাটকের একটি ছোট গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পেশাগত জীবন গড়ে তোলা এবং পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পাওয়া তার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।   শেট্টির অভিজ্ঞতায় ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ার নানা চ্যালেঞ্জও ছিল। তিনি জানিয়েছেন, এসব পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। দীর্ঘ সময়ের এই প্রক্রিয়ার পর মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন তার জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।   কর্ণাটকের ছোট একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পর নাগরিকত্ব অর্জনকে শেট্টি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন। তার এই যাত্রায় ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, পেশাগত বাধা এবং তাকে বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে বর্ণনা করা অভিযোগের মতো পরিস্থিতি ছিল।   শেষ পর্যন্ত এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের মাধ্যমে শেট্টির দীর্ঘ অভিবাসনযাত্রা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিজের অভিজ্ঞতার দিকে ফিরে তাকিয়ে তিনি নাগরিকত্বকে শুধু একটি আইনি মর্যাদা নয়, বরং ছোট একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার দীর্ঘ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছেন।   সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১২:৫৪
পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন
আইসিই এজেন্টদের হাতে আসছে ‘শক গ্লাভস’! নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই এজেন্টদের বৈদ্যুতিক ‘শক গ্লাভস’ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছেন দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে এ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন। এতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শক গ্লাভস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। শক গ্লাভস এমন এক ধরনের বিশেষ দস্তানা, যা কারও শরীরে সরাসরি স্পর্শ করিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কেনটাকিভিত্তিক ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’র তৈরি ‘সিটিজি-৫ জি.এল.ও.ভি.ই.’। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য প্রায় ৬ হাজার শক গ্লাভস কিনতে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার খরচের পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, গ্লাভসটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা কর্মকর্তাদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে শান্ত করার একটি প্রযুক্তি। দেখতে সাধারণ দস্তানার মতো হলেও এটি সক্রিয় করার পর বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে এতে আঘাত এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। আইসিই এখনো শক গ্লাভস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেপ্তার, আটককেন্দ্রে অভিযান কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের সময় এগুলো ব্যবহার করা হতে পারে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বলছে, প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি উত্তেজনামুক্ত করতে গ্লাভসটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ না মানার কারণে বা শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিরাপদে গ্রেপ্তার এবং অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে সরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। সংস্থাটির দাবি, আইসিই যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সেগুলো আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মেনেই বাছাই করা হয়। কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিস্থিতি শান্ত করার কৌশল এবং বলপ্রয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ডিএইচএস জানিয়েছে, শক গ্লাভসগুলো আইসিইর দুটি প্রধান কার্যক্রম—‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ বা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগ এবং ‘এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস’ বা অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও বহিষ্কার কার্যক্রমের কর্মকর্তাদের দেওয়া হতে পারে। শক গ্লাভসের নিরাপত্তা নিয়ে এরই মধ্যে কংগ্রেসে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট রামিরেজসহ ৫০ জন প্রতিনিধি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে এই যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের চিঠিতে বলা হয়, গ্লাভসটি প্রায় ৩৮০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এমন যন্ত্রের ব্যবহার নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও তারা দাবি করেন। সিনেটেও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা হয়েছে। নেভাদার সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর গত ২৭ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে শক গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানান। তারা গ্লাভসটি কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কর্মকর্তাদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং এর ব্যবহার কীভাবে নজরদারি করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চুক্তি করার পরিকল্পনা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও শক গ্লাভস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে কম প্রাণঘাতী প্রযুক্তির সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের সরঞ্জাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিকল্প হতে পারে। সাবেক মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং আইসিই কর্মকর্তা ক্লেয়ার ট্রিকলার-ম্যাকনাল্টি বলেন, শক গ্লাভস ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কৌশলগত সমস্যা রয়েছে। তার মতে, গ্লাভস পরা অবস্থায় একজন কর্মকর্তা সহজে আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনো কম প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে একাধিক হুমকির মুখে ওই কর্মকর্তা নিজেই আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রিত আটককেন্দ্রের মতো জায়গায় সীমিত ব্যবহারের কিছু যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু রাস্তায় গ্রেপ্তার, গাড়ি থামানো বা কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের সময় এটি ব্যবহার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্ক শুধু অভিবাসন আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছরের শুরুতে নেব্রাস্কার ওমাহা সরকারি বিদ্যালয়গুলো স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এই যন্ত্র নিষিদ্ধ করে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেখানে দুই শিক্ষার্থীর ওপর শক গ্লাভস ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ এখন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিলটির তালিকাভুক্ত সমর্থকদের মধ্যে কোনো রিপাবলিকান সদস্য ছিলেন না। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে উভয় কক্ষের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার নীতিকে ঘিরে আইসিই ও ডিএইচএসের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যেই আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে শক গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনা এবং তা বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ নতুন করে সেই বিতর্ক আরও জোরালো করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৫:১৮
আইসিইর চাওয়া ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের তথ্য আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্রের আপিল কোর্ট
আইসিইর চাওয়া ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের তথ্য আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্রের আপিল কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার নীতিতে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ফেডারেল আপিল কোর্ট আইআরএসের এমন একটি নীতি বন্ধ রাখার আগের আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে। ওই নীতির মাধ্যমে আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ থাকা প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের সর্বশেষ ঠিকানা চেয়েছিল।    আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার করদাতার ঠিকানা আইসিইকে দিয়েছিল। আপিল কোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ বলেছে, তথ্য দেওয়ার যে পদ্ধতি আইআরএস ব্যবহার করেছিল, তা ফেডারেল আইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেনি।    আইআরএস ও আইসিইর মধ্যে করা একটি চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে আইসিই করদাতাদের সর্বশেষ জানা ঠিকানা চাওয়া শুরু করে। আইসিইর অনুরোধে এমন ব্যক্তিদের তথ্যও ছিল, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন ছিল।   মামলাটি করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ ছিল, করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ফেডারেল আইনে যে কঠোর নিয়ম রয়েছে, আইআরএসের নতুন পদ্ধতিতে তা পাশ কাটানো হয়েছে। আদালতও বলেছে, তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ব্যক্তির তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না।    এই রায়ের গুরুত্ব অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক ইমিগ্র্যান্ট নিয়মিত ট্যাক্স ফাইল করেন। ফেডারেল আইনে সাধারণভাবে আইআরএসের কাছে থাকা করদাতার তথ্য গোপন রাখার ওপর কঠোর সুরক্ষা রয়েছে। আপিল কোর্টের সিদ্ধান্ত সেই সুরক্ষার সীমা এবং সরকারের তথ্য ব্যবহারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।   তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে আইআরএস কোনো পরিস্থিতিতেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে পারবে না। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে কর সংক্রান্ত কিছু তথ্য শেয়ার করার সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবারের রায়ের মূল বিষয় হলো, আইসিইর জন্য ঠিকানা সংগ্রহ ও শেয়ার করার যে নির্দিষ্ট পদ্ধতি আইআরএস ২০২৫ সালে চালু করেছিল, সেটি ফেডারেল আইন অনুযায়ী বৈধ ছিল না।    এখন এই সিদ্ধান্তের পর আইআরএস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। মঙ্গলবারের রায়ের মাধ্যমে আপিল কোর্ট আপাতত ওই তথ্য শেয়ারিং নীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৭:১৫
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে দরিদ্রদের জন্য নির্মিত হাজার হাজার সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট বর্তমানে খালি পড়ে আছে। ছবি: সংগৃহীত
‘বাড়ি খালি, তবু গৃহহীন!’ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্রদের আবাসনে ভয়াবহ বৈষম্য

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের তীব্র সংকট তৈরি হলেও দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার সাশ্রয়ী হিসেবে চিহ্নিত আবাসন ইউনিট খালি পড়ে আছে। অস্টিন, ডেনভার ও পোর্টল্যান্ডের মতো শহরে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যেখানে কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত কিছু বাড়ি ভাড়াটে পাচ্ছে না। কারণ, এসব আবাসনের ভাড়া অনেক দরিদ্র মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে। ফলে একদিকে সবচেয়ে কম আয়ের মানুষ বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম করছেন, অন্যদিকে তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু ইউনিট খালি থাকছে।   টেক্সাসের অস্টিনে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ম্যাথিউ ডেভিস নিজের একটি অ্যাপার্টমেন্ট চান। কিন্তু রক্তের প্লাজমা দান করে মাসে কয়েকশ ডলার আয় করা ডেভিসের জন্য মাসে ৪৫০ ডলারের একটি ছোট ঘরের ভাড়াও বহন করা কঠিন। ওই ছোট ঘরটিতে পানির সরবরাহ নেই এবং বাথরুমও যৌথভাবে ব্যবহার করতে হয়। অথচ অস্টিনে শহর কর্তৃপক্ষের হিসাবে সাশ্রয়ী আবাসন হিসেবে চিহ্নিত ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইউনিট খালি পড়ে আছে, যা মোট ইউনিটের প্রায় ১৬ শতাংশ।   এই বৈষম্যের বড় কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থায়ন পাওয়া নিম্নআয়ের আবাসনের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ বা তার বেশি। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের আয় তার চেয়ে অনেক কম। ফলে কাগজে-কলমে এসব বাড়ি সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচিত হলেও দেশের সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের কাছে সেগুলো বাস্তবে সাশ্রয়ী নয়। কিছু শহরে এসব ইউনিটের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে আসায় খালি থাকার হারও বেড়েছে।   ন্যাশনাল লো ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশনের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কম আয়ের ১ কোটি ১০ লাখ ভাড়াটে পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী ও খালি থাকা ভাড়ার আবাসনের ঘাটতি ৭২ লাখ। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি অত্যন্ত কম আয়ের ভাড়াটে পরিবারের বিপরীতে এমন আবাসন রয়েছে মাত্র ৩৫টি। এই শ্রেণির মানুষের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে অথবা তাদের এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে, যেটি বেশি।   এই পরিবারগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি বাড়িভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যয় করে। ফলে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য তাদের হাতে খুব কম অর্থ থাকে। এর মধ্যে রয়েছেন কম বেতনের চাকরিজীবী, প্রবীণ এবং নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও। সবচেয়ে কম আয়ের ভাড়াটেদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য ও বড় মহানগর এলাকাতেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সাশ্রয়ী আবাসন তৈরিতে ব্যবহৃত ফেডারেল নিম্নআয়ের আবাসন কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালে অর্থায়ন পাওয়া ইউনিটগুলোর মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত ছিল। অধিকাংশ ইউনিট এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ। অস্টিনে উদাহরণ হিসেবে, একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এলাকার মধ্যম আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যায়ের আয় প্রায় ৪৭ হাজার ডলার, যেখানে অত্যন্ত কম আয়ের একজনের আয় ২৮ হাজার ডলারের নিচে।   বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির বর্তমান ব্যবস্থা জটিল এবং ভাড়া ভাউচারের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল। অন্যদিকে কিছু আবাসন বিশেষজ্ঞের মতে, কর সুবিধার মাধ্যমে তৈরি আবাসন ও ভাড়া ভাউচার একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে ভাড়া ভাউচারের ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, যোগ্য পরিবারগুলোর মাত্র চারটির মধ্যে একটি পরিবার ভাড়া ভাউচার পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হয় বছরের পর বছর।   অস্টিনে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য তৈরি সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে কিছু মানুষ সামান্য বেশি ভাড়া দিয়ে বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ সেখানে আয় যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত। বিপরীতে সাশ্রয়ী আবাসনের আবেদনকারীদের ব্যাংক হিসাব, বেতন, বিলসহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য যাচাই করা হয়।   ডেনভারে ফেডারেল কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে খালি থাকার হার ১৩ শতাংশ এবং ৮০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে ২১ শতাংশ। পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৭০০টির বেশি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট খালি রয়েছে। সেখানে এসব ইউনিটের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য নির্ধারিত, যাদের আয় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।   অস্টিনে ২০১৮ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার আবাসন ইউনিট তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৫৪৩টি। বিপরীতে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য পরিকল্পিত ১৫ হাজার ইউনিটই নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের আবাসন বিভাগ জানিয়েছে, সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের জন্য আরও আবাসন তৈরির প্রয়োজন তারা স্বীকার করছে এবং ৩০ শতাংশ মধ্যম আয় পর্যায়ের মানুষের জন্য ইউনিটসহ প্রকল্পে অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   ম্যাথিউ ডেভিসের মতো মানুষের কাছে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। গাড়িতে এক বছর বসবাস করার পর অস্টিনের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সুযোগ পাওয়া ডেভিস এমন একটি জায়গা চান, যেখানে রাতে দরজা বন্ধ করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি এবং বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া ও আবেদন প্রক্রিয়ার কারণে সেই সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১১:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের নতুন ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য অগ্রাধিকারের তারিখ এগিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বুলেটিনে সুখবর, বাংলাদেশিদের কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য একাধিক পরিবারভিত্তিক ও চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসা শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে এফ-১, এফ-২এ, এফ-২বি, এফ-৩ ও এফ-৪ শ্রেণিতে অগ্রাধিকারের তারিখ এগিয়েছে। বাংলাদেশকে আলাদা কোনো দেশের তালিকায় রাখা হয়নি। তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়েছে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয় এমন দেশগুলোর সাধারণ শ্রেণির তারিখ।    আগস্টের তুলনায় এফ-১ শ্রেণিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে এগিয়ে ২২ জানুয়ারি ২০২০ হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১৩ মাসের বেশি অগ্রগতি হয়েছে। এই শ্রেণিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা অন্তর্ভুক্ত।   এফ-২এ শ্রেণিতেও অগ্রগতি হয়েছে। আগস্টে যেখানে তারিখ ছিল ২২ জুলাই ২০২৬, সেপ্টেম্বরে তা এগিয়ে হয়েছে ২২ আগস্ট ২০২৬। এই শ্রেণিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানরা অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেপ্টেম্বরের আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় এফ-২এ শ্রেণি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।    এফ-২বি শ্রেণিতে আগস্টের ১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে তারিখ এগিয়ে ২২ আগস্ট ২০১৯ হয়েছে। এফ-৩ শ্রেণিতে ১৫ মে ২০১২ থেকে এগিয়ে ২২ অক্টোবর ২০১৪ এবং এফ-৪ শ্রেণিতে ১ সেপ্টেম্বর ২০০৯ থেকে এগিয়ে ২২ অক্টোবর ২০১১ হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য কয়েক বছর পর্যন্ত অগ্রগতি দেখা গেছে।    চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের জন্য পরিস্থিতি ইতিবাচক। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং পঞ্চম শ্রেণির সাধারণ অংশে সেপ্টেম্বরে ভিসা নম্বর পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ অপরিবর্তিত রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির তারিখ আগস্টের ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ হয়েছে।    তবে ভিসা বুলেটিনে তারিখ এগিয়ে যাওয়াকে সরাসরি ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। একজন আবেদনকারীর অগ্রাধিকারের তারিখ সংশ্লিষ্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখের আগের হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।    এবারের বুলেটিনে কেন এত অগ্রগতি হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার হার কমে যাওয়ায় ২০২৬ অর্থবছরে অন্য দেশগুলোর আবেদনকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকা ভিসা সংখ্যা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন অভিবাসী ভিসা শ্রেণির তারিখ এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে এসব তারিখ আবার পিছিয়েও যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।    বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি ইতিবাচক পরিবর্তন হলো, জানুয়ারি ২০২৬ সালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর যে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল, আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে সেটি আর কার্যকর নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন।    সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ ইতিবাচক। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক একাধিক শ্রেণিতে অগ্রাধিকারের তারিখ কয়েক বছর পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবারের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নিজের অগ্রাধিকারের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণির সর্বশেষ তারিখ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১১:১৮
মিনেসোটায় আটক অভিবাসীদের গাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছেন লিওন
মৃত্যুর হুমকির পরও আইসিইতে আটক অভিবাসীদের ২৫০টি গাড়ি পরিবারের কাছে ফেরালেন ট্রাক চালক

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় আইসিইর হাতে আটক হওয়ার পর রাস্তায় বা পার্কিং এলাকায় পড়ে থাকা অভিবাসীদের গাড়ি পরিবারের কাছে বিনামূল্যে ফিরিয়ে দিচ্ছেন টো ট্রাক ব্যবসায়ী হুয়ান লিওন। গত ডিসেম্বর থেকে তার ছোট দলটি প্রায় ২৫০টি গাড়ি উদ্ধার করে মালিকদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে লিওন জানিয়েছেন।  মিনেসোটার টুইন সিটিজ এলাকায় আইসিইর অভিযান বাড়ার পর গাড়ি ফেলে রেখে মানুষ আটক হওয়ার ঘটনা লিওনের নজরে আসে। অনেক গাড়ি দিনের পর দিন রাস্তায়, পার্কিং লটে বা বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকছিল। পরে এসব গাড়ি পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। কাজটি করতে লিওনের দলকে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীরা তথ্য দেন। কোথায় গাড়ি পড়ে আছে, তারা তা জানালে লিওনের দলের একটি অনুসন্ধানী গাড়ি আগে সেখানে গিয়ে অবস্থান নিশ্চিত করে। এরপর টো ট্রাক নিয়ে গাড়িটি সরিয়ে পরিবারের কাছে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হয়।  লিওনের মালিকানাধীন লিও’স টো ওয়েস্ট সেন্ট পলে অবস্থিত। তার দল অনেক ক্ষেত্রে কোনো টো বিল না নিয়েই গাড়ি ফিরিয়ে দেয়। শুরুতে স্থানীয়ভাবে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগটি পরে দেশজুড়ে মানুষের অনুদানের মাধ্যমে আরও বড় আকার নেয়। অনুদানের অর্থেই তারা নিয়মিত ব্যবসার পাশাপাশি দিনরাত এই সেবা চালিয়ে যেতে পারছেন। সাধারণত কোনো গাড়ি রাস্তায় পড়ে থাকলে সেটি টো করে ইমপাউন্ড লটে নেওয়া হতে পারে। সেখানে টো ও সংরক্ষণ ফি যোগ হওয়ায় পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতেই লিওনের দল সরাসরি গাড়িগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মিনিয়াপোলিস কর্তৃপক্ষও পরে আইসিইর হাতে আটক হওয়ার কারণে ইমপাউন্ড লটে যাওয়া গাড়ি মালিকদের বিনা খরচে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ঘোষণা করে। তবে এই উদ্যোগের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকিতে পড়েছেন লিওন। সিবিএস মিনেসোটাকে তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার পর টানা তিন সপ্তাহ ধরে তিনি মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছিলেন। এরপরও তিনি ও তার দল গাড়ি ফেরত দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।  এই উদ্যোগ শুধু গাড়ি ফেরানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। একটি ঘটনায় গাড়ির মালিকের খোঁজ করতে গিয়ে লিওন এমন এক পরিবারের সন্ধান পান, যেখানে আইসিইর হাতে বাবা-মা আটক হওয়ার পর শিশুরা একা ছিল। পরে তিনি তাদের আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন এবং পরিবারের খোঁজখবরও নেন।  লিওনের এই উদ্যোগ মিনেসোটায় আইসিই অভিযানকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় সহায়তা কার্যক্রমের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্যবসা ও কমিউনিটি সংগঠনও আটক হওয়া অভিবাসীদের পরিবারকে খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৮:১৩
অর্থের বিনিময়ে ইমিগ্রেশন সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
১০ লাখ ডলার ঘুষ নিয়ে গ্রিন কার্ড দেওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আবেদনের অনুমোদন ও দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ইউএসসিআইএসের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার একটি দুর্নীতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিউ, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের সাবেক সিনিয়র ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস অফিসার। তাঁর সঙ্গে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকেই ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল আদালতে ৩১ আগস্ট দাখিল করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিউ তাঁর সরকারি পদ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতেন বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। এর মধ্যে ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য ইমিগ্রেশন আবেদন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন, গ্রিন কার্ডের শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন এবং নাগরিকত্বের আবেদন। এসব আবেদনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা ফেডারেল আইনের অধীনে যোগ্য ছিলেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গানিউ স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ পাশ কাটিয়ে আবেদন অনুমোদন করতেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, নির্ধারিত এখতিয়ার, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং ইউএসসিআইএসের নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাবি, গানিউ ও সোমোয়ে মিলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার অর্থ নিয়েছেন। তদন্তে তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে হাজার হাজার বার্তা এবং শত শত ফোনকলের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিছু অর্থপ্রদানের সঙ্গে নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদনের সরাসরি যোগসূত্রও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। গানিউয়ের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো সরকারি কর্মকর্তাকে অবৈধ অর্থ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি আসামির সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় এবং এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিস। ফেডারেল প্রসিকিউটর রায়ান রেবোল্ড বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তার হাতে বৈধ ইমিগ্রেশন সুবিধার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া জনগণের আস্থার গুরুতর অপব্যবহার। এ ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলো এখনো অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়। ফেডারেল বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ফৌজদারি অভিযোগপত্রে থাকা তথ্যগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৫:৮
বাবা-মায়ের সঙ্গে নেভাল একাডেমির ক্যাডেট ডেভিড গার্সিয়া
গ্রিন কার্ডের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে মাকে হারালেন নেভাল একাডেমির ক্যাডেট!

গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকার দিতে গিয়েছিলেন মারিয়া রোচা-মার্টিনেজ। ভেবেছিলেন, বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পথটা হয়তো এবার আরও সহজ হবে। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ঘটনায় পরিণত হয়। সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার আগেই তাকে আটক করে দেশ থেকে বহিষ্কার করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মারিয়ার ছেলে ডেভিড গার্সিয়া বর্তমানে ইউএস নেভাল একাডেমির প্রথম বর্ষের মিডশিপম্যান। চলতি গ্রীষ্মেই তিনি সামরিক দায়িত্ব শুরু করেছেন। মাকে হারানোর পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই নিজের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর পরিবারটির দুর্দশা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কারণে সামরিক পরিবারের সদস্যরাও কীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জোয়াকিন কাস্ত্রো জানান, বুধবার রাতে মারিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ডেভিড ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কাস্ত্রোর ভাষ্য, মারিয়া নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি বৈধভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করছিলেন। তার দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছিলেন। তাই সাক্ষাৎকারে গিয়ে তাকে আটক ও বহিষ্কার করার ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, মারিয়াকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি বেআইনিভাবে আবার দেশটিতে প্রবেশ করেন। সরকারের দাবি, এমনভাবে পুনরায় প্রবেশ করা ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। সরকারের এই বক্তব্য অবশ্য মেনে নেননি কাস্ত্রো। তার দাবি, মারিয়া যখন বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন, তখনই তাকে আইসিই আটক করে বহিষ্কার করেছে। এক বিবৃতিতে কাস্ত্রো বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে প্রশাসন অভিযান চালালেও এর প্রভাব নিরপরাধ পরিবারগুলোর ওপরও পড়ছে। তিনি জানান, মারিয়ার মামলার বিষয়ে আইসিইর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং তাকে তার স্বামী ও ছেলে ডেভিডের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যও চেষ্টা চলছে। একদিকে দেশের সেবায় নতুন জীবন শুরু করা ছেলে, অন্যদিকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত মা—মারিয়া ও ডেভিডের এই বিচ্ছিন্নতা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির মানবিক দিকটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৯:৫৩
‘ড্রাইভ-অনলি
অবৈধ অভিবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বন্ধের দাবি ওহাইওর দুই সিনেটরের

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন-স্ট্যাটাস প্রমাণ করতে না পারা ব্যক্তিদের ‘ড্রাইভ-অনলি’ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার নীতি বন্ধে জাতীয় পর্যায়ে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ওহাইওর দুই রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড ও বার্নি মোরেনো। সাম্প্রতিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় ওহাইওর এক বাসিন্দার মৃত্যুর পর তারা এ দাবি তুলেছেন।   গত ২৯ আগস্ট ওহাইওর ফুলটন কাউন্টিতে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী অস্টিন গ্রিমস নিহত হন। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় জড়িত অপর চালক ওয়াশিংটন জি. নাউলা-ওচোয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর যানবাহন হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। হাস্টেডের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাউলা-ওচোয়ার কানেকটিকাটের ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্স ছিল।   এই ঘটনার পর সিনেটর হাস্টেড মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলেনকে চিঠি দিয়ে এমন লাইসেন্স দেওয়ার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর প্রস্তাব, যেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের প্রমাণ দিতে পারবেন না, তাদের কোনো রাজ্য যেন ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে না পারে।   মোরেনোও কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্টের কাছে এ নীতির ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, রাজ্যটিতে কতজনকে ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং এসব লাইসেন্সধারীদের অপরাধ বা ভোটার নিবন্ধনের বিষয়ে কী তথ্য রয়েছে। তবে কানেকটিকাটের আইন অনুযায়ী এই ধরনের লাইসেন্স ভোট দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যায় না।    কানেকটিকাটসহ বর্তমানে ১৯টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি এমন ধরনের লাইসেন্সের সুযোগ দেয়। এসব রাজ্যের যুক্তি, বৈধভাবে গাড়ি চালানোর সুযোগ দিলে চালকদের পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও বীমার আওতায় আনা যায় এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়তে পারে।    কানেকটিকাটের গভর্নর ল্যামন্টও এই নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্সের মাধ্যমে অনথিভুক্ত অভিবাসীদেরও চালকের পরীক্ষা ও বীমার আওতায় আনা যায়, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য সহায়ক।    তবে দুর্ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে লাইসেন্স নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও, একটি দুর্ঘটনার ভিত্তিতে ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্স নীতিই দুর্ঘটনার কারণ - এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কানেকটিকাটের সামগ্রিক দুর্ঘটনা-তথ্য নিয়েও এমন সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৭:৪৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে রাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের জন্য কোটি টাকার শিক্ষা সহায়তা, ক্ষুব্ধ স্থানীয় শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে রাজ্যের স্থানীয় বাসিন্দা বা মার্কিন নাগরিকরা তাদের নিজেদের পড়াশোনার বিপুল খরচ জোগাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। নিজ দেশে এমন বৈষম্যের শিকার হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের রাজ্য তহবিলের অনুদানসহ নানা ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি হাজার হাজার অবৈধ শিক্ষার্থী ইন স্টেট টিউশন রেট বা স্থানীয়দের সমান ফি, কমিউনিটি কলেজের ফি মওকুফ এবং ভর্তুকিযুক্ত ঋণের সুবিধাও পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো রাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ।   মধ্যবিত্ত মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। কারণ তাদের অনেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হন, অথচ তাদের বছরে ৪৫ হাজার ডলারের বেশি কলেজ ফি গুনতে হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আভা শ্মিট এই বৈষম্যকে সম্পূর্ণ হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেছেন।   বে এরিয়াতে বেড়ে ওঠা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই ছাত্রী দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টকে জানান, গত বছর তিনি মাত্র ২ হাজার ডলার আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন। বাকি খরচ মেটাতে তার বাবাকে নিজের অবসরের জমানো টাকা ভাঙতে হয়েছে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। বর্তমানে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বছরে ৭৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পড়াশোনার খরচ জোগাতে আভা ক্যাম্পাসের বাইরে একটি কাজ করেন। তারপরও বাড়িভাড়া এবং মুদি বাজারের খরচ মেটাতে তাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে।   আভা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জায়গা করে নিতে অনেক পরিশ্রম করেছি। অথচ আমি কোনো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছি না, আর নথিপত্রবিহীন অবৈধ অভিবাসীরা সেই টাকা পেয়ে যাচ্ছেন।   যোগ্য অবৈধ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ একটি ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। যারা আয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন তারা ক্যালিফোর্নিয়া ড্রিম অ্যাক্ট অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের ক্যাল গ্রান্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই কর্মসূচি চালু করার সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৬ কোটি ডলার। এছাড়া এসব শিক্ষার্থী ক্যালিফোর্নিয়া ড্রিম লোন কর্মসূচির সুবিধাও নিতে পারেন, যার আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের ছাত্র ঋণ পাওয়ার অযোগ্য অবৈধ স্নাতকদের ভর্তুকিযুক্ত ঋণ দেওয়া হয়।   ২০০১ সালে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় শর্ত পূরণকারী নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থীরা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সমান টিউশন ফি দেওয়ার সুযোগ পান। এছাড়া কমিউনিটি কলেজগুলোতে যোগ্য অবৈধ শিক্ষার্থীরা ক্যালিফোর্নিয়া কলেজ প্রমিজ গ্রান্ট পান, যা তাদের প্রতি ইউনিটের ৪৬ ডলার নিবন্ধন ফি পুরোপুরি মওকুফ করে দেয়। সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন ও খাবারের খরচ যেখানে প্রতি শিক্ষাবর্ষে হাজার হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়, সেখানে এই ধরনের আর্থিক সহায়তা অবৈধ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় করে। কিন্তু পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়া মার্কিন নাগরিক ও বৈধ বাসিদারা বিশাল ঋণের মুখে পড়ছেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে অবস্থিত চ্যাপম্যান ইউনিভার্সিটির ছাত্র কুপার ভিনসিক ধারণা করছেন, স্নাতক শেষ করার পর তিনি বিশাল ঋণের জালে আটকে পড়বেন। ২১ বছর বয়সী এই তরুণ চিত্রনাট্যকার হতে চান। তিনি জানান, তার চোখের সামনে অবৈধ সহপাঠীরা নানা ধরনের সহায়তা পেলেও তিনি নিজে কোনো বড় আর্থিক সহায়তা পাননি। এর ফলে তাকে কয়েক হাজার ডলারের ঋণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হবে। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান টিউশন ফি বছরে প্রায় ৭০ হাজার ডলার।   সান দিয়েগোর বাসিন্দা ভিনসিক জানান, খরচ কমানোর জন্য তিনি প্রথম দুই বছর সান্তা বারবারা সিটি কলেজে পড়েছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ, ওই কমিউনিটি কলেজে নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থীদের বেশি আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতো। এমনকি ক্যাম্পাসে অভিবাসন কর্মকর্তারা এলে কীভাবে তাদের কাছ থেকে লুকাতে হবে সেই বিষয়েও শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হতো। ভিনসিকের মতে, যেহেতু কমিউনিটি কলেজগুলো জনগণের করের টাকায় চলে, তাই কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়ার জন্য সেই অর্থ ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত।   অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ড্রিম লোন কর্মসূচির জন্য প্রতি বছর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি সিস্টেমকে ২৫ লাখ ডলার দেয় এবং ইউসি নিজস্ব তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ যোগ করে। তবে রাজ্য আইনসভার কাছে জমা দেওয়া ইউসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচিতে যে পরিমাণ তহবিল রয়েছে সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঋণের আবেদন পাওয়া যাচ্ছে না।   এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। রিপাবলিকান দলের গভর্নর পদপ্রার্থী স্টিভ হিলটন বলেছেন, রাজ্যের অনেক বাসিন্দা যখন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সংগ্রাম করছেন তখন অবৈধ শিক্ষার্থীদের পেছনে এই বিশাল ব্যয় কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, আমরা সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের জন্য দেশের সর্বোচ্চ কর পরিশোধ করছি। গভর্নর নির্বাচিত হলে তিনি অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা কমানোর এবং বছরে দেড় লাখ ডলারের কম আয়কারী কর্মীদের রাজ্য আয়কর বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   তবে ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের এক মুখপাত্র এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীরা শুধু তাদের অভিবাসন মর্যাদার কারণে বেশি আর্থিক সহায়তা পান না। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের কলেজ শিক্ষাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার পূর্ণকালীন স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ ছাত্র ঋণ নিয়েছেন, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে এই হার ৩৮ শতাংশ।   খবরের উৎস: দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ২৩:১১
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কোনো ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত না
বি-১/বি-২ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রের বি-১/বি-২ ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করে বার্থ ট্যুরিজম, চাকরি, ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা এবং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পেশাগত পরিবেশনা করা যাবে না বলে বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।   মার্কিন দূতাবাসের এই সতর্কতার সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিজিটর ভিসা সংক্রান্ত নির্দেশনাতেও এসব কার্যক্রমকে অনুমোদিত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বি-১/বি-২ ভিসা মূলত সাময়িক ব্যবসায়িক সফর, পর্যটন, অবকাশযাপন, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা ও চিকিৎসার মতো নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহারের জন্য।  বিশেষ করে বার্থ ট্যুরিজমের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিজিটর ভিসায় অনুমোদিত নয়। অর্থাৎ সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়াকে ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য করে বি-১/বি-২ ভিসা ব্যবহার করা যাবে না।  এ ছাড়া এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বা কর্মসংস্থান করা নিষিদ্ধ। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিজিটর ভিসায় কর্মসংস্থান এবং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পেশাগত পরিবেশনা করা যায় না। তবে বি-১/বি-২ ভিসায় অনুমোদিত কিছু ব্যবসায়িক কার্যক্রম, যেমন ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক, সম্মেলনে অংশগ্রহণ বা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা যায়।  ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করে ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিট পাওয়ার উদ্দেশ্যে পড়াশোনাও করা যাবে না। এ ধরনের পড়াশোনার জন্য সাধারণত শিক্ষার্থী ভিসা প্রয়োজন। তবে পর্যটনের সময় ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিটের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন স্বল্পমেয়াদি বিনোদনমূলক কোর্স করা যেতে পারে।  মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, কোনো ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হয় না। দেশটির প্রবেশবন্দরে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা চূড়ান্তভাবে কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপন করে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করলে স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যান বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধার মতো গুরুতর পরিণতি হতে পারে। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৫:২৪
অভিবাসী তাড়াতে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে বর্ণবাদী ভিডিও গেম
অভিবাসী তাড়াতে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে বর্ণবাদী ভিডিও গেম, তীব্র সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিতর্কিত কিছু ভিডিও গেম উন্মুক্ত করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য অভিবাসী বিতাড়ন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক নীতিগুলোর প্রচার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্যান্ট স্টপ উইনিং’ স্লোগান দিয়ে এই আর্কেড গেমগুলোর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।   পরিচিত পুরোনো কিছু গেমের আদলে তৈরি এই গেমগুলোতে অভিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বইছে।   হোয়াইট হাউসের এই আর্কেডে মোট পাঁচটি গেম রয়েছে। এর মধ্যে 'বিল্ড দ্য ওয়াল' গেমটি তৈরি হয়েছে নব্বই দশকের জনপ্রিয় গেম টেট্রিসের অনুকরণে। এখানে খেলোয়াড়দের ব্লক সাজিয়ে দেয়াল তৈরির মাধ্যমে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে আসা অভিবাসীদের আটকাতে হয়। গেমটিতে অভিবাসীদের 'আক্রমণকারী দল' বা 'হোর্ড' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।   অন্যদিকে 'রিও রান' নামের গেমটি স্নেক গেমের আদলে তৈরি, যেখানে খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রের 'বর্ডার সিজার' টম হোম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেন। এখানে রিও গ্র্যান্ডে নদীর পাড় ধরে ছুটে চলা ভিন্ন বর্ণের অভিবাসীদের বন্দি করে নির্বাসন বা ডিপোর্টেশন পয়েন্ট বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।   অভিবাসন ছাড়াও রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের 'মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন' উদ্যোগের অধীনে স্কুলের খাবার বাছাই করা এবং শিশুদের জন্য 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' ভরার মতো বিষয়গুলো নিয়েও গেম রয়েছে এই তালিকায়। গেমগুলোর চরম অমানবিক উপস্থাপনার কারণে মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।   এমনকি টেট্রিস কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে একত্র করায় বিশ্বাসী এবং বিনা অনুমতিতে কপিরাইট লঙ্ঘনের বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে দেখছে। একসময় ভিডিও গেমের সহিংসতা নিয়ে সরব থাকা প্রশাসন এখন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে গেমকে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:১৭
জন্মদিনে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছেলেকে দেখতে ৩২০ মাইল পথ পাড়ি, তবু জড়িয়ে ধরতে পারলেন না মা
জন্মদিনে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছেলেকে দেখতে ৩২০ মাইল পথ পাড়ি, তবু জড়িয়ে ধরতে পারলেন না মা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) ডিটেনশন সেন্টারে বন্দিদের সাথে স্বজনদের আলিঙ্গন বা শারীরিক স্পর্শ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরে অবস্থিত প্রায় ১,৬০০ বন্দি ধারণক্ষমতার 'ক্যালিফোর্নিয়া সিটি' নামের এই বন্দিশালায় গত এক বছর ধরে 'কন্টাক্ট ভিজিট' বা সরাসরি সাক্ষাতের এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।   কোরসিভিক নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত এই কারাগারে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরিবারের সদস্যরা কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে শুধু ফোনেই কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রিয়জনকে একটু ছুঁয়ে দেখার বা সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের দেওয়া হচ্ছে না।   এই অমানবিক নিয়মের কারণে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বন্দি ও তাদের স্বজনরা। তেরেসা রেয়েস নামের এক মা ৩২০ মাইল পাড়ি দিয়ে ছেলের ৩২তম জন্মদিনে দেখা করতে এলেও তাকে একটু জড়িয়ে ধরতে বা কোনো উপহার দিতে পারেননি। অন্যদিকে, অ্যালেন টেসন নামের এক ফিলিপিনো-বংশোদ্ভূত বন্দি গত ফেব্রুয়ারি থেকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন।   তার স্ত্রী সামান্থা সানচেজ বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অথচ কাঁচের দেয়ালের কারণে স্বামীর একটু স্পর্শ বা মানসিক সমর্থন থেকে তিনি পুরোপুরি বঞ্চিত। সামান্থা ও তার সন্তানেরা এখন ব্যয়বহুল ভিডিও কলের ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কন্টাক্ট ভিজিট নিষিদ্ধ করা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি বন্দিশালার জন্যই একটি চরম ও বিরল সিদ্ধান্ত। তারা অভিযোগ করছেন, বন্দিদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত ডিপোর্টেশন বা দেশে ফেরতের আদেশে বাধ্য করতেই এমন কারাগার-সদৃশ অমানবিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।   সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর অডিটে উঠে এসেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা খোদ কোরসিভিকের নিজস্ব নীতির পরিপন্থী, যেখানে স্পষ্ট বলা আছে নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলে শারীরিক স্পর্শের সুযোগ দেওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ও মাদক পাচারের আশঙ্কার কথা বললেও, দর্শনার্থী কক্ষে টেবিল ও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।   অমানবিক এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছেন বন্দি ও তাদের পরিবার। 'হাগস বিয়ন্ড বারস' (Hugs Beyond Bars) নামক একটি প্রচারণার মাধ্যমে তারা একজোট হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া কোলাবোরেটিভ ফর ইমিগ্রান্ট জাস্টিস (CCIJ)-এর মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সহায়তায় তারা সরাসরি কারারক্ষী বা ওয়ার্ডেনের কাছে চিঠি দিচ্ছেন এবং কংগ্রেসে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন।   নিরাপত্তার খোঁড়া যুক্তিতে কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম বহাল রাখলেও, স্বজনদের একটাই দাবি— দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষে প্রিয়জনকে অন্তত একবার আলিঙ্গন করার মানবিক অধিকারটুকু তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:৪৩
গ্রিন কার্ড স্পনসরদের ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের নতুন সুযোগ পেল ইউএসসিআইএস
গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে ইউএসসিআইএসের নতুন পদক্ষেপ, বাড়ছে যাচাই

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করা ব্যক্তিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। নতুন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড স্পনসরদের ক্রেডিট-সংক্রান্ত তথ্য ভোক্তা রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে সংগ্রহ করার সুযোগ পেয়েছে সংস্থাটি। পরিবর্তনটি মূলত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পরিবারের সদস্যকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করার ক্ষেত্রে এই ফর্মে স্বাক্ষর করে স্পনসরকে ওই অভিবাসীর আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়। নতুন ফর্মে যুক্ত করা হয়েছে একটি প্রাইভেসি রিলিজ বা তথ্য সংগ্রহের অনুমতিসংক্রান্ত ধারা। এর মাধ্যমে ইউএসসিআইএস এক বা একাধিক কনজিউমার রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে স্পনসরের তথ্য চাইতে পারবে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি। নতুন ব্যবস্থাটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে যারা এখন পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিচ্ছেন, তাদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট শুধু একটি সাধারণ ফর্ম নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এটি স্পনসর ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি আইনগতভাবে কার্যকর চুক্তি। স্পনসরকে নির্দিষ্ট শর্তে অভিবাসীর আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব নিতে হয়। স্পনসরকে সাধারণত নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। কেউ সেই আয়সীমা পূরণ করতে না পারলে যোগ্য জয়েন্ট স্পনসর ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, জয়েন্ট স্পনসরকে নিজস্ব আয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। স্পনসরশিপের দায়িত্বও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। সাধারণভাবে স্পনসর করা ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া, ৪০টি কোয়ালিফাইং কোয়ার্টারের কাজের ক্রেডিট অর্জন করা, স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব বহাল থাকতে পারে। শুধু বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্পনসরশিপের দায়িত্ব শেষ হয় না। নতুন ক্রেডিট-তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে আরও তথ্য ব্যবহারের পথ তৈরি করতে পারে। তবে বর্তমানে ইউএসসিআইএস প্রতিটি স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্ট কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেনি। ফলে গ্রিন কার্ডের জন্য পরিবারের সদস্যকে স্পনসর করতে যাওয়া ব্যক্তিদের নতুন ফর্মের সর্বশেষ সংস্করণ এবং ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:৫৩
অভিবাসন অভিযানের সময় গুলি চালানোর ঘটনায় আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ
ভেনেজুয়েলীয়কে গুলি, তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তা আটক

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে গুলি করার ঘটনায় তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। জানুয়ারিতে জুলিও সেসার সোসা-সেলিস নামে ওই ব্যক্তির পায়ে গুলি লাগার ঘটনায় কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করা হয়।  অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো সিলগালা রয়েছে। একই ঘটনায় মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে হামলা এবং অপরাধের মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগও করেছে।  ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল এলাকায় চালানো ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযানের সময়। ওই অভিযানে হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছিল, যা তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সবচেয়ে বড় অভিবাসন অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়।  মিনেসোটা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কাস্ত্রো এবং আরেক কর্মকর্তা এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ডুপ্লেক্সে যান। সেখানে কাস্ত্রো বাড়িটির সামনের দরজা দিয়ে গুলি চালিয়ে সোসা-সেলিসের উরুতে আঘাত করেন। পরে তিনি দাবি করেন, সোসা-সেলিস ও আরেক ব্যক্তি ঝাড়ুর হাতল ও তুষার সরানোর কোদাল দিয়ে এক আইসিই কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছিলেন।  তবে পরে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে ওই ঘটনার বিষয়ে কর্মকর্তাদের দেওয়া বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা সোসা-সেলিস ও অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করেন এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।  কাস্ত্রো ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন ছাড়া আইসিই থেকে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরে মে মাসে তাকে মিনেসোটার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের একটি জেলে রাখা হয়। মিনেসোটায় হস্তান্তরের জন্য টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। তবে অ্যাবট তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যর্পণ অনুমোদন না করায় কাস্ত্রোকে গত সপ্তাহে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন কাস্ত্রো। এই ঘটনায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা হিসেবে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। এদিকে সোসা-সেলিসের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগ যথেষ্ট নয় এবং গুলি চালানোর ঘটনাটি আড়াল করতেই তিনি তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তার পক্ষ থেকে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তবে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গুলি চালানোর ঘটনায় আরও গুরুতর নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে ফেডারেল  তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:২৯
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ক্লার্কস্টনে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি অভিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি নেই স্বামীর, বন্ধ খাদ্য সহায়তা, এরপর উচ্ছেদ, দুই শিশুসহ অভিবাসী পরিবারের পাশে কমিউনিটি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ক্লার্কস্টনে চাকরি হারানোর পর তিন মাস ধরে রেন্ট পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছিল একটি অভিবাসী পরিবার। এর মধ্যে সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের কারণে পরিবারটি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাও হারায়। আর্থিক সংকট যখন চরমে, তখন দুই শিশুসহ চার সদস্যের পরিবারটিকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকেও উচ্ছেদ করা হয়। তবে বিপদের সেই মুহূর্তে পরিবারটিকে একা থাকতে দেয়নি স্থানীয় কমিউনিটি।   গত শুক্রবার উচ্ছেদের পর পরিবারের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালপত্র অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে রেখে দেওয়া হয়। সেদিন রাতে তাদের থাকার মতো কোনো জায়গাও ছিল না। পরে স্থানীয় এক কমিউনিটি সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। সেখান থেকেই শুরু হয় পরিবারটির জন্য সহায়তার উদ্যোগ।   দ্রুত নতুন বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। ক্লার্কস্টনের ইংলিশ ওকস অ্যাপার্টমেন্টস পরিবারটির জন্য নতুন একটি অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা করে। পরদিনই পরিবারের সদস্যদের নতুন বাসায় স্থানান্তর করা হয়।   তবে নতুন ঘরে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই পাশে ছিল কমিউনিটি। পরিবারের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালপত্র সরিয়ে নিতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন। মালপত্র পরিবহনের জন্য ভ্যানও সরবরাহ করে আরিয়ানা হালাল স্টোর।   উচ্ছেদের পর প্রথম রাতের আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হয়। ক্লার্কস্টন কেয়ার্স ফান্ডের উদ্যোগে একজন স্বেচ্ছাসেবক পরিবারটিকে সেই রাতের জন্য নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। একই সময়ে নতুন বাসার জামানত ও প্রথম মাসের রেন্টের জন্য প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলার সংগ্রহ করা হয়।   পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ অবশ্য সেখানেই থেমে থাকেনি। এখন তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্যও কাজ শুরু হয়েছে। পরিবারটি জর্জিয়ার আফগান-আমেরিকান জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সংগঠনটি আফগান পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, সরকারি সুবিধা, হেলথ কেয়ার, শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করে।   এই পরিবারের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ, সরকারি সহায়তা ও স্থানীয় সেবার সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার রেফারেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ক্লার্কস্টন কেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে ৪৪টির বেশি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের অনেকেই অভিবাসী, শরণার্থী অথবা সীমিত আয়ের পরিবার। সংগঠনটির মতে, একটি চাকরি হারানো, বড় কোনো জরুরি খরচ বা অন্য কোনো আকস্মিক সংকট অনেক পরিবারের জন্য বাসস্থান হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ক্লার্কস্টন এলাকায় অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবারগুলোর আবাসন সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে। শহর কর্তৃপক্ষের স্থানীয় সম্পদ তালিকাতেও স্বল্পমূল্যের আবাসনের বিভিন্ন সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর পাশাপাশি আফগান পরিবারগুলোর জন্য আবাসন ও কর্মসংস্থান সহায়তায় কাজ করছে জর্জিয়ার আফগান-আমেরিকান জোট।   এই পরিবারের সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্য সহায়তা হারানো। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতার নিয়মে পরিবর্তন হয়েছে, যার প্রভাব কিছু অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবারের ওপর পড়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট পরিবারের খাদ্য সহায়তা ঠিক কোন বিধানের কারণে বন্ধ হয়েছে, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   চাকরি হারানো, রেন্টের চাপ, খাদ্য সহায়তা হারানো এবং শেষ পর্যন্ত বাসস্থান হারানো—পরপর এসব সংকট পরিবারটির পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে দুই শিশু থাকা অবস্থায় এক রাতের জন্যও নিরাপদ আশ্রয় না থাকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছিল।   তবে উচ্ছেদের পরের ঘটনাটি দেখিয়েছে, সংকটে পড়া একটি পরিবারকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কেউ দিয়েছেন আশ্রয়, কেউ দিয়েছেন পরিবহনের ব্যবস্থা, কেউ সরিয়ে দিয়েছেন মালপত্র, আবার কেউ অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।   প্রাথমিক সহায়তার পর এখন পরিবারটির সামনে মূল লক্ষ্য হলো স্থায়ী কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া এবং নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় সময় ও সহায়তা পেলে পরিবারটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।   তবে সেই পথ এখনো সহজ নয়। পরিবারটির আগামী দুই মাসের রেন্ট পরিশোধে আরও ৩ হাজার ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সহায়তাকারীরা। এই অর্থ সংগ্রহ করা গেলে পরিবারের হাতে নিয়মিত কাজ খোঁজা এবং আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কিছুটা সময় থাকবে।   প্রাথমিক অর্থ সংগ্রহে ক্লার্কস্টন কেয়ার্স ফান্ডের এলি মায়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এরপর স্থানীয় আরও অনেক মানুষ পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন।   একটি পরিবারের জন্য এই সহায়তা হয়তো একটি নতুন অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাকরি হারানো থেকে শুরু করে খাদ্য সহায়তা বন্ধ এবং শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ—সবকিছুর পর তাদের আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করাই এখন কমিউনিটির সামনে সবচেয়ে বড় কাজ।   ক্লার্কস্টন কেয়ার্সের কার্যক্রমও মূলত সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে জরুরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল জীবনে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেয়। আর এই পরিবারের ঘটনায় সেই উদ্যোগেরই একটি বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১০:৫২
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত
আগস্টে রেকর্ড ৫১ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার করেছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে ৫০ হাজার ৯২৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, এক মাসে গ্রেপ্তারের হিসাবে এটি সংস্থাটির নতুন রেকর্ড। এর আগে জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুলাইয়ের আগের রেকর্ডকে ৭১৭ জন ছাড়িয়ে গেছে। জুনে আইসিই ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ফলে জুন, জুলাই ও আগস্ট, টানা তিন মাসে সংস্থাটির মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।   আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়া ৫০ হাজার ৯২৫ জনের সংখ্যা ৫১ হাজারের খুব কাছাকাছি হওয়ায় তা প্রায় ৫১ হাজার হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে সরকারি হিসাবে সঠিক সংখ্যা ৫০ হাজার ৯২৫ জন। জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জন এবং জুনের ৪৩ হাজার ৯০০ জনের তুলনায় আগস্টে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগস্টের গ্রেপ্তারের পরিমাণ সেই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।   জুনে ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তারের পর জুলাইয়ে এই সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনে পৌঁছায়। এরপর আগস্টে আরও ৭১৭ জন বেশি গ্রেপ্তার করা হয়। তিন মাসের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের সংখ্যাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, আগস্টের এই সংখ্যা এক মাসে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জনই ছিল এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের সংখ্যা। আগস্টে সেই রেকর্ড আবারও অতিক্রম করা হয়েছে।   আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালনকারী একটি সংস্থা। সংস্থাটির আগস্টের কার্যক্রমের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসে প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫০ হাজারের সীমা অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা টানা তৃতীয় মাসে বেড়েছে।   আগস্টের ৫০ হাজার ৯২৫ জনের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুনের তুলনায় ৭ হাজারেরও বেশি বেশি। একই সময়ে জুলাইয়ের তুলনায়ও আগস্টে গ্রেপ্তার বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পরিমাণ তুলে ধরছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্যে আগস্টের গ্রেপ্তারকে সংস্থাটির মাসিক কার্যক্রমের নতুন সর্বোচ্চ হিসাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাইয়ে রেকর্ড গড়ার এক মাস পরই সেই সংখ্যা আবার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে টানা তিন মাসের প্রতিটিতেই আগের মাসের তুলনায় বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে।   সরকারি হিসাবে, জুনে ৪৩ হাজার ৯০০, জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ এবং আগস্টে ৫০ হাজার ৯২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিন মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগস্টেই সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। নতুন এই রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইসিইর সাম্প্রতিক তৎপরতার পরিমাণকে সামনে এনেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১০:২৪
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল; ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা পাননি, তাদের যা জানা জরুরি
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল; ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা পাননি, তাদের যা জানা জরুরি

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে চলা স্থগিতাদেশ বাতিল হওয়ার পর এখন সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় রয়েছেন তারা, যারা ইতোমধ্যে ভিসা ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিন্তু এখনো ভিসা হাতে পাননি। ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।   ফলে শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে অভিবাসী ভিসা আটকে রাখার আগের বাধাটি এখন আর নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইন্টারভিউ দেওয়া প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পেয়ে যাবেন।   যারা ইন্টারভিউ দিয়েছেন এবং ইন্টারভিউয়ের পর ভিসা ইস্যু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হলো তাদের কেসের বর্তমান অবস্থা। কোনো আবেদনকারীর কেস যদি শুধু ৭৫ দেশের ওপর আরোপ করা আগের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকে, তাহলে সেই বাধা এখন আর নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অপেক্ষমাণ কেস আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   অভিবাসন আইনজীবীরাও বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকা কেসগুলো আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আইনজীবী রিচার্ড টি. হারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ সবার ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন হয়ে যাওয়া নয়। আবেদনকারীর অন্য কোনো যাচাই বা আইনগত শর্ত বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে।   তবে কোনো আবেদনকারীর কেস যদি প্রশাসনিক যাচাই, নিরাপত্তা যাচাই, অতিরিক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা বা অন্য কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিসা ইস্যু নাও হতে পারে। তাই ইন্টারভিউ পাস করলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য প্রতিটি কেসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি।   এখন বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাদের কতদিন অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে এখনো সবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। তাই ৭ দিন, ১৫ দিন বা ৩০ দিনের মধ্যে সব অপেক্ষমাণ কেস শেষ হয়ে যাবে, এমন দাবি করার মতো কোনো সরকারি তথ্য নেই।   অন্যদিকে যারা এখনো ইন্টারভিউ দেননি, তাদের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ৭৫ দেশের ওপর আগের ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও বর্তমানে অভিবাসী ভিসার ইন্টারভিউ নির্ধারণ নিয়ে আলাদা সাময়িক পরিবর্তন চলছে। ফলে পুরোনো স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই নতুন ইন্টারভিউয়ের তারিখ পেয়ে যাবেন, এমন নিশ্চয়তাও এখনো নেই।   যারা ইতোমধ্যে ইন্টারভিউ দিয়েছেন, তাদের নতুন করে পুরো ভিসা আবেদন শুরু করার প্রয়োজন আছে, এমন কোনো সাধারণ নির্দেশনা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাদের উচিত নিজেদের সিইএসি কেসের অবস্থা নিয়মিত দেখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে কোনো নতুন ইমেইল বা নির্দেশনা এলে তা অনুসরণ করা।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো বাংলাদেশি আবেদনকারীর ভিসা ইন্টারভিউ হয়ে থাকলে এবং শুধুমাত্র ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে তার ভিসা আটকে থাকলে, সেই নির্দিষ্ট বাধা এখন আর কার্যকর নেই। তবে ভিসা ইস্যুর আগে অন্য কোনো যাচাই বা প্রক্রিয়া বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে।   অর্থাৎ, ইন্টারভিউ দিয়ে যারা ভিসার অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আগের চেয়ে ইতিবাচক। এখন অপেক্ষা হচ্ছে তাদের অপেক্ষমাণ কেস কত দ্রুত আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর পর্যায়ে এগিয়ে যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৬:১১
নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পুনরায় চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের তথ্য যাচাইয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলবে মার্কিন ইমিগ্রেশন, ফিরল ৩৫ বছর আগের নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও কঠোর হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের চরিত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ে আবারও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নিয়ম চালু করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। সম্প্রতি সংস্থাটির প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।   ১৯৯১ সালের পর থেকে এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি স্থগিত ছিল। সেই সময় ইউএসসিআইএস, যা আগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন সার্ভিস নামে পরিচিত ছিল, সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের জন্য মূলত এফবিআই এর অপরাধমূলক ইতিহাস এবং অন্যান্য সংস্থার রেকর্ডের ওপরই নির্ভর করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরল সংস্থাটি।   গত ২৫ আগস্ট থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এরপর ২৯ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইএস জানায়, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আবেদনকারীর বসবাস, উত্তম নৈতিক চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মঙ্গলের প্রতি তার মনোভাব গভীরভাবে যাচাই করা হবে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া একটি বিরল সুযোগ, যা কেবল তাদেরই পাওয়া উচিত যারা জাতির জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন।   এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পরিচিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেবেন। এর মধ্যে থাকতে পারেন প্রতিবেশী, বাড়ির মালিক, চাকরিদাতা, সহকর্মী এবং আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। মূলত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে যেসব তথ্য সাধারণত উঠে আসে না, সেসব বিষয়ে ধারণা পেতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।   তবে সব আবেদনকারীর জন্য এই তদন্ত বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ জন্য আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বা চরিত্র সনদ জমা দিতে হবে, যেখানে তার যোগ্যতা, চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সংবিধানের নীতিগুলোর প্রতি তার শ্রদ্ধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই ধরনের চিঠিপত্র জমা দিলে ইউএসসিআইএস চাইলে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি মওকুফ করতে পারে, যদিও তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়।   এই নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ বি এডলো। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, আমেরিকান মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যথাযথভাবে মিশে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং নাগরিকত্বের মর্যাদা ও বিশেষ সুবিধা সুরক্ষার জন্য প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।   শুধু প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদই নয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য আরও কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ইউএসসিআইএস। গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সিভিকস বা পৌরনীতি পরীক্ষাকে আরও দীর্ঘ ও কঠিন করা হয়েছে। আগে যেখানে ১০০টি প্রশ্নের একটি ব্যাংক থেকে প্রশ্ন করা হতো, তা বাড়িয়ে ১২৮টি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তারা এখন ১০টির বদলে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করতে পারবেন।   পরীক্ষায় পাসের জন্য আগে ৬টি সঠিক উত্তরের প্রয়োজন হলেও এখন তা বাড়িয়ে ১২টি করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রিন কার্ডধারী, তাদের জন্য এই নিয়মে শিথিলতা রয়েছে। তবে পাসের জন্য সব আবেদনকারীকেই আগের মতো কমপক্ষে ৬০ শতাংশ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে।   সংবাদসূত্র: ইউএসসিআইএস পলিসি অ্যালার্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ২১:১৬
৭৬ বছর বয়সী ক্যানসার আক্রান্ত গ্রিন কার্ডধারী দুই মাসের বেশি সময় ধরে আইস ডিটেনশনে
৭৬ বছর বয়সী ক্যানসার আক্রান্ত গ্রিন কার্ডধারী দুই মাসের বেশি সময় ধরে আইস ডিটেনশনে

স্টেজ ৪ প্রোস্টেট ক্যানসারসহ গুরুতর অসুস্থ ৭৬ বছর বয়সী এক গ্রিন কার্ডধারী দুই মাসের বেশি সময় ধরে আইস হেফাজতে রয়েছেন। পরিবারের দাবি, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকার কারণে তিনি ক্যানসারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও মেডিকেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করেছেন। ওয়াশিংটনের ফাইফের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি মূলত ফিলিপাইনের নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   গত ২৩ জুন টুকউইলায় তাঁর ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যাপ্লিকেশনের ইন্টারভিউ ছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি স্বাভাবিক নাগরিকত্বের ইন্টারভিউ হিসেবেই প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন। এরপর থেকে তিনি টাকোমার নর্থওয়েস্ট আইস প্রসেসিং সেন্টারে রয়েছেন।   তাঁর মেয়ে ডেইজি জাভার জানিয়েছেন, বাবার স্টেজ ৪ প্রোস্টেট ক্যানসারের পাশাপাশি ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি রয়েছে। নিয়মিত ক্যানসার চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও ডিটেনশনে থাকার কারণে তাঁর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার ইমিগ্রেশন কোর্টের শুনানিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের সময় ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরিবারের দাবি, এর ফলে তাঁর আরও একটি ক্যানসার চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস হতে পারে।   বাবার দ্রুত মুক্তি দাবি করে ডেইজি বলেন, তিনি চান তাঁর বাবা যেন আর একদিনও ডিটেনশনে না থাকেন। ডিটেনশনে খাবার সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাবাকে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয় এবং ওষুধ ঠিক সময়ে দেওয়া হলেও খাবার অনেক সময় দেরিতে দেওয়া হচ্ছে।   পরিবারের অভিযোগ, নাগরিকত্বের ইন্টারভিউতে যাওয়ার সময় তাঁর বাবাকে কার্যত ফাঁদে ফেলে আটক করা হয়েছে। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁর আটকের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।   মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় ফিলিপাইনে থাকা একটি পুরোনো ক্রিমিনাল কনভিকশন তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকাশ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, ওই তথ্য প্রকাশ করা হলে সে সময় তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারত। তবে পরিবার এ বিষয়ে আরও তথ্য ও পুরোনো নথি পাওয়ার চেষ্টা করছে।   প্রায় তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এই প্রবীণ গ্রিন কার্ডধারীর গুরুতর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে পরিবার ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর পরবর্তী কোর্ট কার্যক্রম ২০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত থাকলেও, এর আগেই প্রয়োজনীয় ক্যানসার চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন পরিবারের প্রধান উদ্বেগ।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৯:৫৭
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০