- প্রচ্ছদ
- অভিবাসন
অভিবাসন
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ইন্টারভিউতে আবেদনকারীদের সত্য ও সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। ইন্টারভিউতে মি থ্যা তথ্য দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা জা ল নথি উপস্থাপনের গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দূতাবাস। আরটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ৩ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এ সতর্কতা জানায়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের ইন্টারভিউতে সব প্রশ্নের উত্তর সত্যভাবে দেওয়া উচিত এবং কোনো তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা বা প্র তারণা করলে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনের ২১২(এ)(৬)(সি)(আই) ধারায় আবেদনকারী অ যোগ্য হতে পারেন। এ ধরনের অ যোগ্যতা সাধারণভাবে স্থায়ী। পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, এই বিধান শুধু কোনো একটি ভিসা আবেদন প্র ত্যাখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই আইনের আওতায় অ যোগ্যতা নির্ধারিত হলে পরবর্তী সময়ে ভিসার জন্য আবেদন করলেও একই কারণে অ যোগ্য বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনের আওতায় ওয়েভারের সুযোগ থাকতে পারে। সেই সুযোগ সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় বা নিশ্চিত নয়। তবে সাধারণ অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং জেনেশুনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মি থ্যা উপস্থাপনের বিষয় এক নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই বিধান মূলত ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন বা প্র তারণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ কারণে ভিসা আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি জমা এবং ইন্টারভিউ—প্রতিটি ধাপেই সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর অতীতের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যও ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার মূল বিষয় হলো, ভিসা পাওয়ার আশায় কোনো তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা না করা। আবেদনকারীদের নিজেদের তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করে ইন্টারভিউতে সত্য ও পরিষ্কারভাবে উত্তর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষারত আবেদনকারীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অভিবাসন ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বরের নতুন বরাদ্দ এসেছে এবং কয়েকটি কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন হয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক চার্জের নিয়মে পরিবর্তন এবং ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসার ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও কার্যকর হচ্ছে। প্রথম বড় পরিবর্তন এসেছে নতুন অর্থবছরের ভিসা নম্বর নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছর শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর। আগের অর্থবছরে যেসব ক্যাটাগরির বার্ষিক ভিসা সীমা পূরণ হয়ে গিয়েছিল, নতুন অর্থবছরে সেগুলোতে আবার ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে ভারতের কিছু কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড ক্যাটাগরিতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ নভেম্বর ২০১৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইবি-১ এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫-এর তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩ হয়েছে। তবে অন্য অনেক দেশের ক্ষেত্রে কিছু কর্মভিত্তিক ক্যাটাগরিতে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে। যেমন, অধিকাংশ দেশের ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ জানুয়ারি ২০২৫ এবং ইবি-৩-এর ডেট ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অক্টোবর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের জন্য ইউএসসিআইএস ডেটস ফর ফাইলিং চার্ট ব্যবহার করছে। অর্থাৎ কিছু আবেদনকারী তাদের প্রাইওরিটি ডেট অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে পারবেন, যদিও চূড়ান্ত গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ফাইনাল অ্যাকশন ডেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তৃতীয় পরিবর্তন এসেছে পাবলিক চার্জ নিয়মে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধি বাতিল করে নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। এতে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই নিয়ম সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন বাতিল হবে—এমন নয়। চতুর্থ পরিবর্তন ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায়। ৩০ নভেম্বর থেকে প্রধান বিনিয়োগ আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে করা বিনিয়োগকারীদের ফিও বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। নতুন একটি নির্দিষ্ট আবেদনের জন্য ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই গ্রিন কার্ডপ্রার্থীদের জন্য অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে নিজের ক্যাটাগরি, দেশভিত্তিক প্রাইওরিটি ডেট এবং ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের স্থায়ীভাবে নিয়ে যেতে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক স্ত্রী বা স্বামী, ছেলে বা মেয়ে, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম ও অপেক্ষার সময় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিককে সাধারণত ইমিগ্র্যান্ট ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে প্রবেশ করতে হয়। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারী যোগ্য আত্মীয়কে স্পনসর করেন। সাধারণত স্পনসরকে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী হতে হয়, যদিও সব ধরনের আত্মীয়ের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত এক নয়। মার্কিন নাগরিকদের জন্য পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা মূলত দুই ধরনের—‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ এবং ‘ফ্যামিলি প্রেফারেন্স’। ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে মার্কিন নাগরিকের স্ত্রী বা স্বামী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকের বাবা-মা অন্তর্ভুক্ত। এই ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর ভিসার সংখ্যাগত সীমা নেই। অন্যদিকে ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে মার্কিন নাগরিকের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে, বিবাহিত ছেলে-মেয়ে এবং ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক রয়েছে। এসব ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয়। ফলে আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে ভিসা পাওয়া যায় না; ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হতে পারে। মার্কিন নাগরিকরা যেসব চার ধরনের আত্মীয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন, সেগুলো হলো— ১. স্ত্রী বা স্বামী ২. ছেলে বা মেয়ে ৩. বাবা বা মা ৪. ভাই বা বোন বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য আবেদন করতে হলে মার্কিন নাগরিকের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। একইভাবে, ছেলে-মেয়ের বয়স ও বৈবাহিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তারা ইমিডিয়েট রিলেটিভ নাকি ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়বেন, তা নির্ধারিত হয়। গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের স্ত্রী বা স্বামী এবং অবিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরা বাবা-মা বা ভাই-বোনকে এই পরিবারভিত্তিক পদ্ধতিতে সরাসরি স্পনসর করতে পারেন না। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের প্রক্রিয়া সাধারণত ফর্ম আই-১৩০ বা ‘পিটিশন ফর এলিয়েন রিলেটিভ’ দিয়ে শুরু হয়। আবেদনকারীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। পিটিশন অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোয়। তবে আত্মীয়ের ধরন অনুযায়ী অপেক্ষার সময় অনেকটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে ভাই-বোন, বিবাহিত সন্তান এবং কিছু প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত সন্তানের ক্ষেত্রে বার্ষিক ভিসা সীমা থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির সর্বশেষ নিয়ম ও ভিসা বুলেটিন দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের জন্য গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছর পর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করা আইনগতভাবে প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’। এর জন্য ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হয়। গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে শরণার্থীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রথমত, যথাযথভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২০৭ ধারার অধীনে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হতে হবে। তৃতীয়ত, আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অন্তত এক বছর দেশটিতে শারীরিকভাবে অবস্থান করতে হবে। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, এই এক বছরের শারীরিক উপস্থিতির বিষয়টি আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও বিবেচনা করা হয়। পঞ্চমত, আবেদনকারীর শরণার্থী হিসেবে ভর্তির মর্যাদা বাতিল বা সমাপ্ত হয়ে যাওয়া যাবে না। ষষ্ঠত, অন্য কোনো উপায়ে এরই মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়া থাকলে এই একই ভিত্তিতে আবার আবেদন করা যাবে না। সপ্তমত, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কোনো কারণে আবেদনকারী গ্রহণযোগ্য না হলে এবং আইনের আওতায় সেই অযোগ্যতার জন্য ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েভারের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার জন্য সাধারণত কোনো ফাইলিং ফি দিতে হয় না। বায়োমেট্রিক সেবার ক্ষেত্রেও শরণার্থীদের জন্য ফি নেওয়া হয় না। গ্রিন কার্ড পাওয়ার মাধ্যমে একজন শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান। যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই মর্যাদা ভবিষ্যতে আরও স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় নথি এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো ইউএসসিআইএস যাচাই করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও ফর্মের সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মা-বাবাকে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় আনতে আবেদন করতে পারেন ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকেরা। বাবা-মায়ের জন্য নির্ধারিত আইআর-৫ ভিসা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। এতে বছরে ভিসা দেওয়ার সংখ্যাগত সীমা নেই। তবে আবেদন যাচাই, কাগজপত্র পর্যালোচনা ও ইন্টারভিউয়ের সময় পেতে অপেক্ষা করতে হয়। কোটা না থাকা দ্রুত ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু গ্রিন কার্ড থাকলে মা-বাবাকে এই ক্যাটাগরিতে স্পন্সর করা যায় না। আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক হতে হবে। মা ও বাবার জন্য আলাদা আই-১৩০ পিটিশন জমা দিতে হয়। আবেদনের সঙ্গে নাগরিকত্ব এবং পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ প্রয়োজন। সাধারণত মার্কিন পাসপোর্ট বা ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট এবং জন্মসনদ দিতে হয়। বাবার জন্য আবেদনে বাবা-মায়ের বিয়ের সনদসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও প্রয়োজন হতে পারে। আই-১৩০ ফরমের ফি এখন অনলাইনে ৬২৫ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৬৭৫ ডলার। মা-বাবা দুজনের জন্য আবেদন করলে প্রত্যেকের পিটিশনের ফি আলাদাভাবে দিতে হবে। এটি পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ার মোট খরচ নয়। মা-বাবা বাংলাদেশে থাকলে আই-১৩০ অনুমোদনের পর সাধারণত ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসির মাধ্যমে পরবর্তী ধাপ শুরু হয়। সেখানে ডিএস-২৬০ ভিসা আবেদন, আই-৮৬৪ আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারনামা এবং প্রয়োজনীয় সিভিল ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত দূতাবাসে ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করা হয়। পারিবারিক অভিবাসন ভিসার আবেদন ফি জনপ্রতি ৩২৫ ডলার। এনভিসিতে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট পর্যালোচনার ফি ১২০ ডলার। এর বাইরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা, নথি সংগ্রহ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ থাকে। তাই শুধু ভিসা আবেদন ফি ধরে বাজেট করলে পুরো খরচের হিসাব মিলবে না। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ভিসা নির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২৮ আগস্টের হালনাগাদে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়ার ওপর জানুয়ারিতে আরোপিত বিরতি ২১ আগস্ট থেকে আর কার্যকর নেই। তবে ৮ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছিল, নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে বহু দূতাবাসে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইন্টারভিউয়ের সাময়িক বিরতি তখনো চলছিল। আবেদনকারীর নিজস্ব ইন্টারভিউয়ের অবস্থা জানতে এনভিসি ও দূতাবাসের সর্বশেষ বার্তা অনুসরণ করতে হবে। আর্থিক স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রযোজ্য ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় দেখাতে হয়। ২০২৬ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮ স্টেট ও ওয়াশিংটন ডিসিতে তিন সদস্যের পরিবারের জন্য এই অঙ্ক বছরে ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার। স্পন্সরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা সঠিকভাবে গণনা করা জরুরি। আয় যথেষ্ট না হলে যোগ্য জয়েন্ট স্পন্সর বা নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের অন্য সদস্যের আয় ব্যবহার করা যেতে পারে। জয়েন্ট স্পন্সর থাকলেও মূল আবেদনকারীকে নিজের আই-৮৬৪ জমা দিতে হয়। এই অঙ্গীকারনামা সরকারের সঙ্গে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আর্থিক সহায়তার চুক্তি। মা-বাবা ইতিমধ্যে আমেরিকায় থাকলে তাঁদের প্রবেশের ইতিহাস ও অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে দেশের ভেতরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। শুধু আমেরিকায় অবস্থান করলেই এই সুযোগ নিশ্চিত হয় না। আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার মাধ্যমে কাজ বা বিদেশভ্রমণের অনুমতিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট অনুমতির জন্য আলাদা আবেদন ও অনুমোদন প্রয়োজন। আই-৪৮৫-এর সাধারণ কাগজে আবেদন ফি ১ হাজার ৪৪০ ডলার; এর সঙ্গে পুরোনো নিয়মের মতো আলাদা ৮৫ ডলার বায়োমেট্রিক ফি যোগ করা ঠিক নয়। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান বা অনুমতি ছাড়া প্রবেশের ইতিহাস থাকলে পরিস্থিতি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময় বেআইনিভাবে অবস্থানের পর আমেরিকা ছাড়লে তিন বা দশ বছরের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। তাই দেশে ফিরে ভিসা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে, এমন ধারণা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ভিসা অনুমোদন হলে তাতে উল্লেখ করা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমেরিকায় প্রবেশ করতে হবে। ঢাকার আবেদনকারীদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে ভিসার মেয়াদ সীমিত হতে পারে। ফলে ভিসা হাতে পাওয়ার দিন থেকে সবার জন্য নতুন করে ছয় মাস সময় থাকে না। মা-বাবার চিকিৎসা খরচও আগেই পরিকল্পনা করা দরকার। নতুন অভিবাসীরা প্রথম দশ বছর কোনোভাবেই মেডিকেয়ার পাবেন না, এমন সাধারণ নিয়ম নেই। মেডিকেয়ারের যোগ্যতা বয়স, কাজের ইতিহাস এবং বসবাসের শর্তের ওপর নির্ভর করে। পর্যাপ্ত কাজের ইতিহাস না থাকা স্থায়ী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৬৫ বছর বয়স এবং আমেরিকায় টানা পাঁচ বছর বসবাসসহ শর্ত পূরণ করে প্রিমিয়াম দিয়ে কভারেজ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর সাধারণ পাঁচ বছরের নিয়মে নাগরিকত্বের আবেদন করা সম্ভব হলেও সময় পার হওয়াই একমাত্র শর্ত নয়। ধারাবাহিক বসবাস, প্রয়োজনীয় সময় আমেরিকায় উপস্থিত থাকা এবং অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। মা-বাবাকে আনার পরিকল্পনায় তাই আবেদন ফি, ইন্টারভিউয়ের অপেক্ষা, আর্থিক দায়িত্ব ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র তার গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রামের জন্য যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করেছে। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপির পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় আগাম যাচাই করা কম-ঝুঁকির ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তুলনামূলক দ্রুত কাস্টমস ও সীমান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরাও আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু কোনো দেশের নাগরিক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্যপদ পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের সিবিপির নির্ধারিত যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২২টি দেশের তালিকায় রয়েছে—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্য। গ্লোবাল এন্ট্রি মূলত নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রবেশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পান। তবে এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। সিবিপির নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয় এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, তালিকায় কোনো আফ্রিকান দেশ নেই। ফলে নাইজেরিয়া, ঘানা, কেনিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরা এই তালিকার ভিত্তিতে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদের জন্য যোগ্য নন। গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত সুবিধা ব্যবহার করা যায়। লস এঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক, মায়ামি, শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকোসহ একাধিক বিমানবন্দরে এ সুবিধা রয়েছে। তবে যোগ্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সদস্যপদ নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীকে সিবিপির যাচাই প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হতে হবে এবং গ্লোবাল এন্ট্রির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতি আপাতত চালু রাখতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের একটি রায় স্থগিত করেছে। তবে নীতিটি বৈধ কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আদালত ডিসেম্বরে মামলাটির শুনানি করবে। এখানে ‘তৃতীয় দেশ’ বলতে এমন দেশ বোঝানো হচ্ছে, যেটি ফেরত পাঠানো ব্যক্তির নিজের দেশ নয় এবং যেখানে তাঁর আগে কোনো সম্পর্কও নাও থাকতে পারে। এই নীতি মূলত তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, যাঁদের নামে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু আদেশে উল্লেখিত কোনো দেশে তাঁদের পাঠানো যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট সব অভিবাসীকে যেকোনো দেশে পাঠানোর সাধারণ অনুমতি দেয়নি। নির্দিষ্ট এই নীতির ওপর নিম্ন আদালতের বাধা স্থগিত করেছে। মামলার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গন্তব্য জানিয়ে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা তুলে ধরার যথাযথ সুযোগ দিতে হবে কি না। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ব্রায়ান মারফি নীতিটিকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছিলেন। আপিল আদালতও তাঁর রায়ের অধিকাংশ বহাল রাখে। সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় আপাতত স্থগিত করেছে; তিন বিচারপতি স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করেছেন। কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ নীতির আওতায় মানুষকে মেক্সিকো, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংকলিত হিসাবে, ২০২৫ সাল থেকে ২৯টি তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে পাঠানো হয়েছে; তাঁদের অধিকাংশকে পাঠানো হয়েছে মেক্সিকোয়। এটি সংগঠনগুলোর হিসাব, আদালতের অনুমোদিত দেশের তালিকা নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, যাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, তাঁদের অপসারণে তৃতীয় দেশের ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে মামলাকারীদের আইনজীবীরা বলছেন, গন্তব্য ও ঝুঁকি সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ ছাড়া কাউকে পাঠালে তিনি নিপীড়ন বা নির্যাতনের মুখে পড়তে পারেন। আদালতের মঙ্গলবারের আদেশে এই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি; ডিসেম্বরে শুনানির পর চূড়ান্ত রায় আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে দ্রুত বিতাড়ন করার বিতর্কিত নীতি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক আদেশে বস্টনের নিম্ন আদালতের এক বিচারকের দেওয়া স্থগিতাদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় শীর্ষ আদালত। এর ফলে কোনো অভিবাসী সংশ্লিষ্ট তৃতীয় দেশে গিয়ে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হতে পারেন কি না, তা আদালতে তুলে ধরার সুযোগ না দিয়েই তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশান্তর করতে পারবে প্রশাসন। শীর্ষ আদালতের ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এই আদেশ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। আগামী ডিসেম্বরে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর দায়ের করা একটি যৌথ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএস জেলা জজ ব্রায়ান মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই তৃতীয় দেশে বিতাড়ন নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। বিচারক মারফির মতে, যথাযথ নোটিশ এবং শুনানির সুযোগ না দিয়ে অভিবাসীদের পাঠিয়ে দেওয়া মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর লঙ্ঘন। অধিকার কর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, নীতিটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে ২৯টি দেশে পাঠানো হয়েছে, যার সিংহভাগই পাঠানো হয় মেক্সিকোতে। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিতিশীল ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ সতর্কতায় থাকা দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও অনেককে পাঠানো হয়েছে। আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল মন্তব্য করেছেন, এটি অপরাধী অবৈধ অভিবাসী এবং সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার সমর্থকদের জন্য একটি ‘খারাপ দিন’। তবে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সের আইনজীবী ট্রিনা রিয়েলমুতো একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই অভিবাসীদের এমন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে যেখানে তারা চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। বাদীদের অভিযোগ, অতীতে বহু অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর পর সেখান থেকে তাদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং অনেকেই মারধর, যৌন নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতার চাকরি ও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দেয় এইচ-১বি ভিসা। কিন্তু এই ভিসায় কাজ করা অনেক বিদেশি কর্মীর কাছে চাকরির পাশাপাশি বাড়ি কেনা, পরিবার নিয়ে স্থায়ী পরিকল্পনা করা কিংবা নতুন শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্তও কঠিন হয়ে ওঠে। তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সোমবার প্রকাশিত বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে এই অনিশ্চয়তার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটির জন্য এইচ-১বি ভিসা পাওয়া বা এ পথে যাওয়ার চেষ্টা করা ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে বিজনেস ইনসাইডার। তাঁদের একজন মধুর মেহতা। যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছরে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, অ্যামাজনে চাকরি পেয়েছেন এবং এইচ-১বি ভিসার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবু তিনি ও তাঁর বাগদত্তা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তাঁর বাগদত্তার কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এইচ-১বি নির্বাচনের আর একটি সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চাকরি বদলের ক্ষেত্রেও হিসাব করতে হয় এই ভিসায় থাকা কর্মীদের। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য এইচ-১বি কর্মী নতুন নিয়োগকর্তার কাছে যেতে পারেন। তবে নতুন নিয়োগকর্তাকে তাঁর জন্য আবেদন জমা দিতে হয়। চাকরির অবস্থান বা দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এলেও প্রয়োজন হতে পারে সংশোধিত আবেদন। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানিয়েছেন, ভিসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা তাঁদের চাকরি বদল, পদোন্নতি বা অন্য শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। কারও জন্য প্রশ্নটি আরও বড়: যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবন কত দূর পর্যন্ত নিশ্চিন্তে পরিকল্পনা করা সম্ভব? এইচ-১বি ভিসা অনেকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত সুযোগের পথ খুলে দেয়। তবে প্রতিবেদনটিতে উঠে আসা অভিজ্ঞতাগুলো দেখায়, ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার বিষয়টি সব সময় একসঙ্গে আসে না।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী, শরণার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবার জন্য কংগ্রেস অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ অর্থ বাতিলের প্রস্তাব ইতোমধ্যে কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তর (ওএমবি)। গত শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, আবাসন ও নগর উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন খাতে অনুমোদিত অর্থ বাতিলের কথা বলা হয়েছে। ‘রিসিশন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত নির্দিষ্ট সরকারি বরাদ্দ বাতিলের জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রস্তাব দিতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অ-মার্কিন নাগরিকদের সহায়তায় ফেডারেল করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অবসান ঘটানোর প্রশাসনের লক্ষ্য এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ‘আমেরিকানদের অগ্রাধিকার’ দেওয়ার নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরেই আপত্তি উঠেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতার অভিযোগ, কংগ্রেস যে অর্থ অনুমোদন করেছে, তা নির্বাহী শাখা একতরফাভাবে বাতিল করতে পারে না। রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া বাতিলের যেকোনো চেষ্টা আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ মোকাবিলায় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলিও প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্দিষ্ট খাতের বরাদ্দ বাতিলের চেষ্টা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে এমনভাবে বাড়িয়ে দেয়, যেন তিনি একাই ঠিক করতে পারেন কোন খাতে সরকারি অর্থ ব্যয় হবে। এই উদ্যোগকে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টে এর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বৈধ মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কিছু শরণার্থী ও অভিবাসীর ক্ষেত্রে আটক এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ জোরদারের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ভিসার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদন করা বিদেশিদের জন্যও নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। ফলে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের এই প্রস্তাব কংগ্রেসে কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের বিষয়টি সামনে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে বিল এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ২৪ সেপ্টেম্বর উত্থাপিত ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ পাস হলে নাগরিকদের বাবা-মা ও ভাইবোনের জন্য প্রচলিত পারিবারিক গ্রিন কার্ডের পথ বন্ধ হবে। তবে বিলটি এখনো আইন হয়নি; আবেদনকারীদের জন্য বর্তমান নিয়মই বহাল রয়েছে। প্রস্তাবিত বিলে পারিবারিক ইমিগ্রেশন মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল এবং চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রচলিত ক্যাটাগরির জায়গায় পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। সিনেটর টিউবারভিলের দপ্তর প্রকাশিত বিলের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষা, দক্ষতা, ইংরেজিতে পারদর্শিতা, বেশি বেতনের চাকরির প্রস্তাবসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করার শর্তও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশিসহ যাঁরা বাবা-মা বা ভাইবোনের জন্য পারিবারিক গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে বিলটির পরবর্তী অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাব উত্থাপন আর আইন কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। কংগ্রেসের দুই কক্ষে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া গ্রিন কার্ডের নিয়মে এই পরিবর্তন আসবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে টাকার বিনিময়ে ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন এবং বাধ্যতামূলক ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিয়ু ও তাঁর সহযোগী আদেনিই আকিম সোমোয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে টেক্সাসের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রটি দেওয়া হয়। দুজনকে এর আগে ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিয়ু সরকারি পদ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আবেদন দ্রুত অনুমোদন করেন। এসবের মধ্যে আত্মীয়ের জন্য আবেদন, গ্রিন কার্ডের আবেদন, শর্তযুক্ত স্থায়ী বসবাসের শর্ত প্রত্যাহার এবং নাগরিকত্বের আবেদন ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, আবেদন অনুমোদনের সময় প্রয়োজনীয় ইন্টারভিউ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, গানিয়ু ও সোমোয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার নিয়েছেন। তবে ঠিক কতটি আবেদন নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমোদিত হয়েছে, তা বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়নি। এই অভিযোগের তদন্ত করেছে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর এবং এফবিআইয়ের ডালাস কার্যালয়। গানিয়ুর আইনজীবী তাঁর মক্কেলের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে ডালাস এক্সপ্রেস জানিয়েছে। অভিযোগপত্র দেওয়া মানে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত দুজনই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
অপরাধে দণ্ডিত নন বা ফৌজদারি অভিযোগ নেই, এমন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ করতে আইসিই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ডেইলি ওয়্যার ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে পরদিন ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, অভিবাসন প্রয়োগের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে গ্রেপ্তার বন্ধ হয়েছে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরিচয় প্রকাশ না করা আইসিই কর্মকর্তাদের বরাতে ডেইলি ওয়্যার জানায়, সাময়িকভাবে শুধু ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ তাঁরা পেয়েছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারও ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ থাকলেও ফৌজদারি রেকর্ড না থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতো না। অভিযানের সময় মূল লক্ষ্য ছাড়া অন্য অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও বন্ধ থাকার কথা ছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় ডেইলি ওয়্যার জানিয়েছিল, মন্তব্য চেয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তাৎক্ষণিক জবাব পায়নি তারা। এরপর ফক্স নিউজকে প্রশাসন জানায়, মাঠপর্যায়ে গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এটি আনুষ্ঠানিক নীতিবদল নয়; বিষয়টি স্পষ্ট করে আইসিই দপ্তরগুলোতে নতুন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের আইসিই এখনো গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করতে পারে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছাড়া সেখানে পাওয়া অন্য অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বহাল রয়েছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এখানে ‘অপরাধের রেকর্ড নেই’ বলতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ড বা অভিযোগ না থাকার কথা বোঝানো হচ্ছে। এতে কারও অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান বা ডিপোর্টেশনের আদেশ বদলে যায় না। ডেইলি ওয়্যারের কর্মকর্তাদের দেওয়া বিবরণ এবং প্রশাসনের পরবর্তী বক্তব্যে পার্থক্য থাকলেও বর্তমান সরকারি অবস্থান হলো, আইসিইর গ্রেপ্তারনীতি বদলায়নি। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়েছে। ডিএইচএস জানিয়েছে, অপরাধের রেকর্ড বা মুলতবি ফৌজদারি অভিযোগ নেই, এমন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য “ফলস” বা মিথ্যা। বিভাগটি বলেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেউই গ্রেপ্তারের আওতার বাইরে নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইসিইর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এদিকে পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিইর কিছু মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে অপরাধী ও গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা পৌঁছেছিল। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এটিকে আনুষ্ঠানিক নীতির পরিবর্তন নয়, বরং ভুল যোগাযোগ বা বিভ্রান্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। পরে আইসিইর মাঠ কার্যালয়গুলোতে নতুন নির্দেশনা পাঠিয়ে জানানো হয়, অভিবাসন প্রয়োগের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং অপরাধের অতিরিক্ত রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বহাল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসায় ভ্রমণ অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। বি-১ ও বি-২ ভিসা মূলত ব্যবসায়িক কাজ, পর্যটন, ছুটি কাটানো, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার মতো অস্থায়ী ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়। এই উদ্দেশ্যকে ভ্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে নিয়ে ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করা যাবে না। বি-১ ভিসা সাধারণত অস্থায়ী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে বি-২ ভিসা পর্যটন, অবকাশযাপন, আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার মতো উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। ভিসার আবেদন যাচাইয়ের সময় মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নিজ দেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক, সফর শেষে দেশে ফেরার অভিপ্রায় এবং ভ্রমণের খরচ বহনের সক্ষমতা বিবেচনা করেন। এ ক্ষেত্রে চাকরি, পরিবার বা নিজ দেশে ফেরার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। তবে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং চিকিৎসা ও ভ্রমণের খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার পরও দেশটিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকে না। বিমানবন্দর বা সীমান্তে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীর কাগজপত্র ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ ছাড়া অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ভিসার আবেদন করার সময় ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে বাড়িভাড়া কমার পেছনে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। তবে আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ভাড়া কমার পেছনে নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বৃদ্ধি ও ভাড়াটিয়ার চাহিদা কমে যাওয়ার মতো আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে। ডিএইচএসের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও আইসিইর গ্রেপ্তার কার্যক্রমের ফলে অস্টিন, ন্যাশভিল, ফিনিক্স, সান আন্তোনিও, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, আটলান্টা ও নিউ অরলিন্সের মতো শহরে বাড়িভাড়া কমেছে। বিভাগটি বিভিন্ন শহরের ভাড়া কমার হারও উল্লেখ করেছে। তবে এসব শতাংশ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র প্রকাশ করেনি ডিএইচএস। অন্যদিকে, আবাসনবাজারের বিভিন্ন তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরেই নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক নতুন ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে এসেছে। সরবরাহ বাড়ায় বাড়িওয়ালাদের মধ্যে ভাড়াটিয়া পাওয়ার প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। রিয়েল্টর ডটকমের আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে ৩৭তম মাসের মতো টানা বছরওয়ারি ভিত্তিতে মাঝারি ভাড়া কমেছে। সংস্থাটি বলছে, নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভাড়ার চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়া এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। ডিএইচএস যেসব শহরের কথা বলেছে, সেগুলোর কয়েকটিতে ভাড়ার পতনের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। যেমন সান আন্তোনিওতে ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ ডলার, ফিনিক্সে ৭০ ডলার এবং ন্যাশভিলে ৫০ ডলার কমেছে। তবে একই সময়ে লাস ভেগাস ও সান ডিয়েগোর মতো শহরেও ভাড়ার চাপ কমেছে, যেখানে ডিএইচএসের দাবিকৃত অভিবাসন নীতির প্রভাবকে একইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। অর্থনীতিবিদদের আলোচনায় আরেকটি বিষয়ও উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের অংশ উল্লেখযোগ্য। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কারণে শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেলে নির্মাণকাজ ধীর হয়ে যেতে পারে এবং শ্রম ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন। ডিএইচএসের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বাড়িভাড়া কমাতে ভূমিকা রাখছে। তবে কোন শহরে কতজন ভাড়াটিয়া অভিবাসন অভিযানের কারণে বাসস্থান ছেড়েছেন এবং মোট ভাড়া কমার কতটা সরাসরি এর সঙ্গে সম্পর্কিত—সে বিষয়ে বিভাগটি নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িভাড়া কমার বর্তমান প্রবণতায় অভিবাসন নীতির পাশাপাশি নতুন আবাসনের সরবরাহ, ভাড়াটিয়ার চাহিদা এবং স্থানীয় আবাসনবাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইবিরোধী বি ক্ষো ভে অংশ নেওয়ার পর সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের প্রার্থী মিসায়েল রামোসকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রে প্তা র করেছে রাজ্যের জননিরাপত্তা বিভাগ। তাঁর বিরুদ্ধে দা ঙ্গায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে এক হাজার ডলারের জা মি নে তিনি ছাড়া পান। রামোস অস্টিন সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ আসনের প্রার্থী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইউটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গু লিতে উইলবার গারসেস পেরেজ নামের এক ব্যক্তি আ হ ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। রামোসের প্রচার ব্যবস্থাপকের ভাষ্য, শনিবার সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। সেদিনই তাঁকে ট্রাভিস কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয় এবং বিকেলে জা মি নে মুক্তি দেওয়া হয়। রামোসের বিরুদ্ধে আনা অ ভি যোগটি টেক্সাসে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অ প রা ধের শ্রেণিতে পড়ে। বি ক্ষো ভে তাঁর ঠিক কোন আচরণের ভিত্তিতে অ ভি যোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অ ভি যোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। রামোসের প্রচার শিবির বলছে, তিনি আইসিই কর্মকর্তার গু লির ঘটনার প্র তি বা দ জানাতে অন্যদের সঙ্গে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন। গ্রে প্তা রের বিষয়ে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে কেইউটি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধে জড়িত নন এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আইনি হেফাজতে নেওয়া বন্ধ বা সীমিত করার বিষয়ে আইসিইকে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থান করা কাউকেই আইনি ব্যবস্থার আওতার বাইরে রাখা হয়নি। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইসিইর কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আপাতত আইনি হেফাজতে না নিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের নির্দেশনা আইসিইর অভ্যন্তরে মৌখিকভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি সাময়িকও হতে পারে। তবে ডিএইচএস এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থান করা যেকোনো ব্যক্তি আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় থাকতে পারেন। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কেউই তালিকার বাইরে নয়।’ এদিকে আইসিইর কৌশল পরিবর্তনের দাবি করা প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে অভিযান থেকে বিরত থাকতে বলা হতে পারে। তবে এই নির্দেশনা লিখিত নাকি মৌখিক, কিংবা এটি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য কি না—তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ডিএইচএসের অস্বীকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবির মধ্যে পার্থক্য থাকায় আইসিইর অভ্যন্তরে কোনো সাময়িক বা সীমিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো নথি পাওয়া যায়নি, যা দেশজুড়ে আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের নীতিতে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নিশ্চিত করে। ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার নীতিতে এমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, যার মাধ্যমে অপরাধে জড়িত নন এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনি হেফাজত থেকে অব্যাহতি পাবেন। অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ও না থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আইসিই কীভাবে অভিযান পরিচালনা করবে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও দাবি সামনে এসেছে। তবে নতুন কোনো জাতীয় নীতিগত পরিবর্তন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ডিএইচএসের প্রকাশ্য অবস্থান হলো—আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ব্যক্তিরা আইনি ব্যবস্থার আওতায় থাকতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে একটি বিল এনেছেন আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলটি পাস হলে ডিভি লটারি বন্ধ হবে, মার্কিন নাগরিকদের মা-বাবাসহ কয়েকটি পারিবারিক ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ডের সুযোগ শেষ হবে এবং চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড দেওয়ার নিয়ম বদলে পয়েন্ট পদ্ধতি চালু হবে। বিলটি এখনো আইন হয়নি; বর্তমান আবেদনকারীদের নিয়মেও এ কারণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামের প্রস্তাবে মার্কিন নাগরিকের মা-বাবাকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্য ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ ক্যাটাগরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে অন্তত ২১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক তাঁর মা-বাবার জন্য আবেদন করতে পারেন। বিলটি কয়েকটি পারিবারিক পছন্দভিত্তিক ক্যাটাগরিও বাতিল করতে চায়। তবে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানের জন্য আবেদনের পথ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবটি শুধু ভবিষ্যতের আবেদনেই সীমিত নয়। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাতিলের প্রস্তাব থাকা ক্যাটাগরিগুলোতে বিচারাধীন আবেদন অনুমোদন করা যাবে না। বিল কার্যকর হওয়ার আগে অনুমোদিত আবেদন থেকে কতজন ভিসা পাবেন, তার ওপরও একটি অন্তর্বর্তী সীমা রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে আইন হলে ইতিমধ্যে আবেদন করা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের প্রচলিত ক্যাটাগরিগুলোর জায়গায় পয়েন্ট পদ্ধতি আনার প্রস্তাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রস্তাব, বয়স, ইংরেজিতে দক্ষতা, বেতন ও শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে এবং তাঁকে অন্তত ১৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। প্রস্তাবিত বেতনের শর্তও পূরণ করতে হবে। বিলে চাকরির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসার বার্ষিক প্রাথমিক সংখ্যা এক লাখ ৯২ হাজার রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে বিলের নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী সেই সংখ্যা কমতে পারে। ডিভি লটারির মাধ্যমে ভিসা দেওয়াও বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে। টিউবারভিলের সিনেট বিলের আগে এপ্রিলে প্রতিনিধি পরিষদে একই উদ্দেশ্যে একটি বিল এনেছিলেন আলাবামার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ব্যারি মুর। সিনেটের প্রস্তাবে কিছু শর্ত ও কার্যকরের সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। কোনো পরিবর্তন কার্যকর হতে হলে বিলকে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া পেরোতে হবে। তত দিন গ্রিন কার্ড বা ডিভি লটারির নিয়ম বদলে গেছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য ফি ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বা ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, কিছু সামরিক সদস্য ও যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্য ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন করার সময় নির্ধারিত ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। বর্তমানে এন-৪০০ ন্যাচারালাইজেশন আবেদনের সাধারণ ফি ৭৬০ ডলার। প্রথমত, যারা সক্রিয়ভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত এবং অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন, তাদের এন-৪০০ আবেদনের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। এই ক্ষেত্রে আইনের অধীনেই ফি মওকুফ হয়ে যায় এবং আলাদাভাবে ফি মওকুফের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয়ত, যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের আবেদন ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। শান্তিকালীন সময়ে বা নির্ধারিত শত্রুতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সম্মানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। এ জন্য সামরিক বা নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের প্রমাণ হিসেবে এন-৪২৬ ফরম জমা দিতে হয়। ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সামরিক শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার কিছু সাধারণ শর্তেও ছাড় থাকতে পারে। যেমন, নির্ধারিত শত্রুতার সময় সম্মানের সঙ্গে সামরিক দায়িত্ব পালনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের আবেদনের আগে সাধারণ আবাসন বা যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিক উপস্থিতির কিছু শর্ত প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তবে সামরিক সদস্যদের জন্য নির্ধারিত এই ফি ছাড়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ফি মওকুফের জন্য ব্যবহৃত আই-৯১২ ফরম জমা দেওয়া উচিত নয়। কারণ সামরিক আইনের অধীনে যোগ্য হলে ফি ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রযোজ্য হয়। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের জন্যও আর্থিক সংকটের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন ফি কমানোর বা পুরোপুরি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আই-৯১২ ফরম জমা দিতে হয়। যাদের পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের মধ্যে, যারা নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা পান অথবা যারা গুরুতর আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তারা পুরো ফি মওকুফের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের বেশি কিন্তু ৪০০ শতাংশের মধ্যে হলে কাগজে আবেদন করার ক্ষেত্রে ৩৮০ ডলারের কমানো ফি প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ যোগ্যতা ও আয়ের ভিত্তিতে কিছু আবেদনকারীকে পুরো ফি না দিয়ে কম ফিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে সামরিক সদস্যদের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে হবে। নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে বিনা পরোয়ানায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) গ্রেপ্তার কমানো এবং নির্দোষ অভিবাসীদের অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক দলের ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যালেক্স প্যাডিলা যৌথভাবে ‘ইমিগ্রেশন ওয়ারেন্ট রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি প্রস্তাব করেছেন। আইসিই যাতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অথবা বর্ণবাদের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রাখতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা অনেক অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিককেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, যা এই বিল প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবশ্যই তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রশাসনিক পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং আটকের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। পরোয়ানার পাশাপাশি আটকের পর কবে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরা দিতে হবে, তা-ও আটকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন শুনানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, আটকে রাখা প্রতিটি অনাগরিকের হেফাজতের বিষয়টি প্রতি ৬০ দিন পরপর কোনো ইমিগ্রেশন বা মার্কিন জেলা বিচারককে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে বিনা বিচারে কেউ দীর্ঘদিন আইসিই হেফাজতে না থাকেন। সিনেটর প্যাডিলা বলেন, এই আইনটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধ হবে। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি সহজে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা এই বিলের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, ‘জননিরাপত্তার জন্য আসন্ন বিপদ’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের যে সুযোগ আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে রাখা হয়েছে, তা অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন তারা। টেক্সাস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইসেস-এর সহ-প্রধান নির্বাহী ফয়সাল আল-জুবুরি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ সিভিল বা দেওয়ানি অপরাধের জন্য কাউকে আটকে রাখা এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা কতটা যৌক্তিক। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মৌলিক সাংবিধানিক সুরক্ষার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
যুক্তরাষ্ট্রে ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করার সময় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭ ধরনের আবেদনকারী এই ফি-মওকুফের আওতায় পড়তে পারেন। তবে এই সুবিধা সব ভিসা আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য নয় এবং নিজে থেকেই কার্যকরও হয় না। প্রথমত, A, G, C-2, C-3, NATO ও কূটনৈতিক ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। এসব ভিসা মূলত কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ন্যাটোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি কাজে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়ত, J ভিসায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া আবেদনকারীদের আবেদন ফি মওকুফ করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ছাড় নির্দিষ্ট সরকারি অর্থায়ন ও প্রোগ্রাম সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত। তৃতীয় ক্যাটাগরিতে রয়েছেন এমন আবেদনকারীরা, যাদের মেশিন-রিডেবল ভিসা নতুন করে প্রতিস্থাপন বা পুনরায় ইস্যু করতে হচ্ছে আবেদনকারীর কোনো ভুল ছাড়াই। যেমন, আগের ভিসাটি সঠিকভাবে পাসপোর্টে সংযুক্ত না হলে নির্দিষ্ট শর্তে নতুন ভিসা ইস্যুর জন্য আবেদন ফি নেওয়া হয় না। চতুর্থত, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ফি থেকে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা এই সুবিধা পেতে পারেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ স্বীকৃত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কোনো পর্যবেক্ষক মিশনের সদস্য ও কর্মী এবং তাদের নিকট পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। বিষয়টি ভিসা সার্ভিসেসের নির্ধারণের ওপর নির্ভর করে। পঞ্চম ক্যাটাগরিতে রয়েছেন দাতব্য বা মানবিক সেবা দিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী ব্যক্তিরা, তবে তাদের ক্ষেত্রে ফি ছাড় প্রযোজ্য হবে কি না, তা ভিসা সার্ভিসেস নির্ধারণ করে। ষষ্ঠত, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মীরা সরকারি দায়িত্বে বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করলে তাদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। সপ্তম ক্যাটাগরিতে রয়েছেন কর্তব্যরত অবস্থায় নি হত বা গুরুতর আহ ত মার্কিন সরকারি কর্মীর নিকট পরিবারের সদস্যরা। কর্মস্থলে মৃ ত্যুবরণ করা সরকারি কর্মীর জানাজা বা দাফনে অংশ নিতে যাওয়া বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানরা নির্দিষ্ট শর্তে ফি ছাড় পেতে পারেন। একইভাবে দায়িত্ব পালনের সময় গুরুতর আহত সরকারি কর্মীকে জরুরি চিকিৎসা বা সুস্থ হওয়ার সময়ে দেখতে যাওয়া নিকট পরিবারের সদস্যরাও এই ছাড়ের আওতায় পড়তে পারেন। তবে সাধারণ পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষার্থী বা অধিকাংশ কর্মসংক্রান্ত ভিসার আবেদনকারীদের জন্য এই ফি-মওকুফ প্রযোজ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সাধারণ নন-পিটিশনভিত্তিক ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন প্রসেসিং ফি ১৮৫ ডলার; আর কিছু পিটিশনভিত্তিক ভিসায় ফি আরও বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন ফি মওকুফ আর ভিসা ইস্যু ফি এক বিষয় নয়। কোনো আবেদনকারী ফি-মওকুফের যোগ্য হলেও তার জাতীয়তা বা ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা রেসিপ্রোসিটি বা ইস্যুয়েন্স ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের ভিসার ধরন, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও প্রযোজ্য ছাড়ের শর্ত যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।