সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সরকার

বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের রায়ে আবারও আটকাল ট্রাম্পের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ আদেশ
বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের রায়ে আবারও আটকাল ট্রাম্পের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ আদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পরিধি সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মেরিল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক ডেবোরাহ এল. বোর্ডম্যান।   বুধবারের এই রায়ে বিচারক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগটি সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক এবং এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে।   বিচারক বোর্ডম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত ফেডারেল বিচারক। তিনি এর আগে ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ নির্বাহী আদেশ কার্যকরেও বাধা দিয়েছিলেন।   এবার ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সংশোধিত আদেশের বিরুদ্ধেও তিনি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বা প্রিলিমিনারী ইনজাংশন জারি করলেন।   গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে আগের আদেশের তুলনায় নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।   আদেশে বিশেষ করে বিদেশি সরকারের কর্মী, নির্দিষ্ট বিদেশি শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তান এবং তথাকথিত বার্থ ট্যুরিজম বা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পরিস্থিতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নতুন আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে যেসব সীমিত ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর আওতায় কিছু শিশুকে বার্থরাইট সিটিজেনশিপ থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।   তবে বিচারক বোর্ডম্যান সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তাঁর মতে, যে শ্রেণির শিশুদের নিয়ে মামলাটি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে নতুন কোনো নির্বাহী আদেশ দিয়ে সেই সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করা যাবে না।   এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিচারকের এই রায় ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশকে স্থায়ীভাবে বাতিল করেনি। বরং মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট শ্রেণির শিশুদের ওপর আদেশটি কার্যকর করা বন্ধ রাখা হয়েছে।   ফলে ভবিষ্যতে মামলার পরবর্তী ধাপ এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।   গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ উদ্যোগ নিয়ে রায়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে যাদের বাবা-মা অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তারাও সাধারণভাবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মের সময় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে।   সেই রায়ের পরই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে অপেক্ষাকৃত সীমিত পরিসরে বার্থরাইট সিটিজেনশিপের নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়।   বুধবারের রায়ে বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এমন শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাদের নাগরিকত্বের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।   তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মামলার আওতাভুক্ত শিশুদের নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দিতে বা নাগরিকত্বের নথি আটকে দিতে সরকারি সংস্থাগুলো ট্রাম্পের নতুন আদেশ ব্যবহার করতে পারবে না।   ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আদালতের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নির্বাহী আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের রায় বিবেচনা করেই তৈরি করা হয়েছে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বার্থরাইট সিটিজেনশিপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতের আইনি দ্বন্দ্ব আরও দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৮:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের সরবরাহ সংকটের মধ্যে আমদানি বাড়িয়ে ভোক্তাদের জন্য দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম কমাতে ট্রাম্পের বড় উদ্যোগ, ৩ লাখ টন আমদানির অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের বাড়তি দাম কমাতে বিদেশ থেকে মাংস আমদানির সুযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার, ২৬ আগস্ট নতুন এক ঘোষণায় গরুর মাংসের নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের টুকরার জন্য শুল্ক-সুবিধাপ্রাপ্ত আমদানির পরিমাণ অতিরিক্ত ৩ লাখ মেট্রিক টন বাড়ানো হয়েছে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়ানো এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিমা করা গরুর মাংসের দাম কমানো। নতুন এই সুবিধা ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং তিন ধাপে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানির সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে ১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১ লাখ মেট্রিক টন এবং তৃতীয় ধাপে ৩১ অক্টোবর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাকি ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করা যাবে। বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট সময়সীমার আগেই আমদানি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।   এই অতিরিক্ত আমদানি সুবিধা মূলত ‘লিন বিফ ট্রিমিংস’ বা তুলনামূলক চর্বিহীন মাংসের টুকরার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এসব মাংস সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে কিমা করা গরুর মাংস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। নতুন ৩ লাখ মেট্রিক টনের বরাদ্দটি নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের জন্য নয়, বরং ‘অন্যান্য দেশ বা অঞ্চল’-এর জন্য রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের সরবরাহ সংকটকে বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গরুর সংখ্যা ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। যদিও জুলাইয়ে গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেছে, খরা, দাবানল এবং খাদ্য ও চারণের সংকটের কারণে খামারিদের ওপর চাপ এখনো রয়েছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেশটির খামারগুলোতে গরু ও বাছুরের মোট সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৪২ লাখ। এর মধ্যে মাংস উৎপাদনকারী গাভীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮৫ লাখ, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ শতাংশ কম। ২০২৬ সালের বাছুর উৎপাদনের হিসাবও আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমে ৩ কোটি ২৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই সরবরাহ সংকটের মধ্যেই গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্ধৃত কৃষি বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে চলতি বছর দেশটির গরুর মাংস উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কমতে পারে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান মাংসের দামকে উঁচুতে রাখছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।   এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও গরুর মাংসের দাম কমাতে আমদানির সুযোগ বাড়িয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সে সময় আর্জেন্টিনা থেকে চর্বিহীন গরুর মাংসের টুকরা আমদানির জন্য ২০২৬ সালের কোটা ৮০ হাজার মেট্রিক টন বাড়ানো হয়। তবে বুধবার ঘোষিত নতুন ৩ লাখ মেট্রিক টনের সুবিধা ওই আর্জেন্টিনা-নির্দিষ্ট বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে দাম কমানোর একটি শর্তও যুক্ত করেছে প্রশাসন। কৃষিমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি আমদানিকৃত চর্বিহীন মাংস বাজারদরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি দেখা যায়, অতিরিক্ত কোটার আওতায় আসা মাংস ওই হারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে না, তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পকে জানাতে হবে। এরপর অবশিষ্ট আমদানি সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট।   হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, এই ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আমদানির মাধ্যমে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পান, আবার যুক্তরাষ্ট্রের গরু পালনকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপও না পড়ে। প্রশাসনের হিসাবে, নতুন আমদানি ব্যবস্থা সাময়িকভাবে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়াবে এবং দেশীয় খামারিরা নিজেদের গবাদিপশুর সংখ্যা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবেন। তবে আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের গরু খামারিদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি করেছে। গবাদিপশু উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিদেশি মাংসের প্রবেশ বাড়লে দেশীয় খামারিরা দামের দিক থেকে চাপের মুখে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, বর্তমান সরবরাহ দিয়ে ভোক্তাদের চাহিদা ও যুক্তিসংগত দামের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।   মেক্সিকো থেকেও জীবন্ত গরু আমদানির ওপর সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম নামে একটি পরজীবী রোগের বিস্তার ঠেকাতে মেক্সিকো থেকে জীবন্ত গবাদিপশু প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সময়ে খরা ও দাবানলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গবাদিপশু উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ তাই একদিকে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য গরুর মাংসের দাম কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে দেশটির দীর্ঘদিনের গবাদিপশু সরবরাহ সংকট সাময়িকভাবে সামাল দেওয়ার উদ্যোগ। আগামী কয়েক মাসে আমদানি বাড়ার পর বাজারে কিমা করা গরুর মাংসের দাম কতটা কমে, সেটিই এখন এই নীতির সাফল্য পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।   সূত্র: হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ও ফক্স বিজনেস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২১:১১
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম কমাতে বিদেশি মাংস আমদানির পরিকল্পনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
গরুর মাংসের দাম কমাতে বিদেশি মাংস আমদানি, ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতায় খামারি ও রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম কমাতে আগামী ৯০ দিনের জন্য বিদেশ থেকে অতিরিক্ত মাংস আমদানির পরিকল্পনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর বদলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশটির গরু খামারি ও পশুপালকেরা। এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছেন।   ট্রাম্প শুক্রবার জানান, আগামী ৯০ দিনে সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা যাবে। এই পরিমাণ মাংস নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রমের পর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তা ছাড়াই আমদানির সুযোগ পাবে। ট্রাম্পের দাবি, আমদানি করা এই মাংস বর্তমান বাজারদরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম দামে মার্কিন ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে।   হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি মাংস রপ্তানিকারকদের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং তাঁরা ২৫ শতাংশ কম দামে মাংস সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। তবে কোন কোন দেশ এই মাংস সরবরাহ করবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করার পরিকল্পনা করছে।   ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। দেশটির গরুর পাল ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের খরা, খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মেক্সিকো থেকে গবাদিপশু আমদানিতে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহ কমেছে। একই সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে গরুর মাংসের চাহিদা শক্তিশালী থাকায় দাম আরও বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে গরু ও বাছুরের মাংসের দাম এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মাটির গরুর মাংসের গড় দামও প্রতি পাউন্ডে প্রায় ৬ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মার্কিন পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় থাকা এই পণ্যটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল।   তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্লিন টনসর বলেছেন, ৩ লাখ মেট্রিক টন আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে বছরে খাওয়া গরুর মাংসের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশের সমান। ফলে এই পরিমাণ আমদানি বাজারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক ডেভিড অ্যান্ডারসনও প্রশ্ন তুলেছেন, এত অল্প সময়ে বিদেশি দেশগুলো আদৌ এত বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত মাংস যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পারবে কি না।   অন্যদিকে, দেশটির গরু খামারিরা আশঙ্কা করছেন, সস্তা বিদেশি মাংস বাজারে ঢুকলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর দাম কমে যাবে। এতে বর্তমানে লাভজনক অবস্থায় থাকা খামারিরা নতুন করে গরুর পাল বাড়ানোর উৎসাহ হারাতে পারেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হিসেবে গরুর সংখ্যা বাড়ানোই বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।   যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটলম্যানস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাস্টিন টাপার বলেন, আমেরিকান খামারিদের পেছনে রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না। তাঁর অভিযোগ, এই উদ্যোগ স্থানীয় বাজারকে দুর্বল করতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।   ন্যাশনাল ক্যাটলম্যানস বিফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কলিন উডালও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও আপত্তি দেখা গেছে। নেব্রাস্কার সিনেটর ডেব ফিশার বলেছেন, সবাই বাজারে কম দাম চান, কিন্তু তার জন্য মার্কিন পশুপালকদের ক্ষতির মুখে ফেলা উচিত নয়। তাঁর মতে, বিদেশি গরুর মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় পশুপালন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   মন্টানার রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহিও ট্রাম্পের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য সঠিক হলেও বিদেশি মাংস আমদানির এই উদ্যোগ মার্কিন খামারিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।   নেব্রাস্কার আরেক রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসও সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় কৃষক ও পশুপালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে কম মানের মাংস বাজারে ঢোকার আশঙ্কা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খামারিদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন। তবে তাঁর মতে, গরুর মাংসের দাম কমাতে সাময়িকভাবে কিছু সহায়তা প্রয়োজন। প্রশাসন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গরুর পাল বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে।   হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানি বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সময় পর্যন্ত বাজারে সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ। আমদানি করা মাংস মূলত গরুর মাংসের কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের অংশ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ট্রাম্প প্রশাসন কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন গরুর মাংস আমদানির জন্য শুল্কমুক্ত সীমা সাময়িকভাবে বাড়িয়েছিল। এবার ৯০ দিনের জন্য আরও বড় পরিসরে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর চাপও প্রশাসনের ওপর রয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম কমানোর স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কতটা স্বস্তি দেবে এবং স্থানীয় খামারিদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।   সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, ফক্স বিজনেস ও এবিসি নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ০:১১
যুক্তরাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের জাঁতাকলে বছরে জনগণের ১২ বিলিয়ন ঘণ্টা অপচয়, নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইম ট্যাক্স’ I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের জাঁতাকলে বছরে জনগণের ১২ বিলিয়ন ঘণ্টা অপচয়, নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইম ট্যাক্স’

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের সরকারি ফর্ম পূরণ আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রতি বছর প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। সাংবাদিক অ্যানি লোওরে তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই “দ্য টাইম ট্যাক্স: হাউ দ্য গভর্নমেন্ট ওয়েস্টস আওয়ার টাইম — অ্যান্ড হাউ টু ফিক্স ইট”-এ এই বিষয়টিকে ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের ওপর কর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত প্রায় ৯১ হাজার ৪৭৬টি সরকারি সংস্থা তাদের নিজস্ব নিয়ম ও ফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের এই বিপুল পরিমাণ সময় কেড়ে নিচ্ছে। আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের মতে, নষ্ট হওয়া এই শ্রমঘণ্টার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৪৩০ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনির জন্য বছরে প্রায় ছয় দিন পূর্ণকালীন কাজের সমান।   আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতার একটি ভয়াবহ উদাহরণ হলেন জেফ মিলার নামের এক ব্যক্তি। ২০০১ সালে ম্যাসাচুসেটসের একটি মোটরযান কার্যালয়ে (ডিএমভি) ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থানান্তর করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, সরকারি খাতায় তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী! আসলে একই দিনে ও একই রাজ্যে জন্ম নেওয়া জেফ মিলার নামের অন্য এক ব্যক্তি হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ করেছিলেন। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মিলারকে তার জন্মসনদ, পাসপোর্ট এবং নতুন করে সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড জোগাড় করতে হয়েছিল।   নিউজার্সি থেকে তাকে একটি চিঠিও সংগ্রহ করতে হয় প্রমাণ করার জন্য যে, তিনি সেই অপরাধী জেফ মিলার নন। কিন্তু তাতেও হয়রানির শেষ হয়নি; পরবর্তী সময়ে কানাডা ভ্রমণ শেষে তাকে সীমান্তে আটক করা হয় এবং অপরাধীদের বাড়ি ভাড়া দেয় না বলে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি-ও তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দেয়।   বইটিতে দেখানো হয়েছে, এই ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের অপচয় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলে দরিদ্র, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষদের। উটাহ রাজ্যের তিন সন্তানের একক মা মার্সেলা প্যাটিনোর সপ্তাহে আয় ছিল মাত্র ৩০০ ডলার এবং তিনি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।   কিন্তু বারবার কাগজপত্রের প্রমাণ দেওয়া এবং সরকারি ওয়েবসাইটের জটিলতার কারণে তাকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এমনকি মিশিগান রাজ্যে একসময় সরকারি সহায়তার আবেদনের ফর্মটি ছিল ৪০ পৃষ্ঠার এবং ১৮ হাজার শব্দ সংবলিত।   সেখানে আবেদনকারীদের ওজন, চুলের রঙের পাশাপাশি কোনো নারী গর্ভবতী হলে তার সন্তান ঠিক কোথায় এবং কবে মাতৃগর্ভে এসেছিল— এমন অযৌক্তিক প্রশ্নও করা হতো। লোওরে এই পরিস্থিতিকে ‘পেপারওয়ার্ক ভোর্টেক্স’ বা কাগজপত্রের ঘূর্ণিপাক বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার চেয়ে ফর্ম পূরণ করাই দরিদ্রদের মূল কাজে পরিণত হয়।   তবে পরিস্থিতি যে অপরিবর্তনযোগ্য, তা কিন্তু নয়। বইটিতে উদাহরণ হিসেবে ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রায় সব সরকারি সেবা একটি নিরাপদ ডিজিটাল পোর্টালে পাওয়া যায়। তাদের ‘অনলি ওয়ান্স’ বা ‘কেবল একবার’ নীতির ফলে এক সংস্থাকে তথ্য দিলে অন্য সংস্থাগুলো সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারে।   ফলে এস্তোনিয়ার নাগরিকরা মাইক্রোওভেনে পপকর্ন ভাজতে যে সময় লাগে, তার চেয়েও কম সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন। পরবর্তীতে আমেরিকার মিশিগান রাজ্যও তাদের সেই বিশাল ফর্মটি ছোট করে ৮০ শতাংশ শব্দ কমিয়ে আনে, যার ফলে আবেদন সফল হওয়ার হার ৭২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪ শতাংশে দাঁড়ায়।   অ্যানি লোওরের মতে, নাগরিকদের অপেশাদার আমলা বানানো সরকারের কাজ হতে পারে না; বরং মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাতে সরকারের উচিত নিজেদের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজেরাই পালন করা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৭:০
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের সহায়তায় খাবার, আবাসন ও যাতায়াত সুবিধা দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের জন্য ২৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা, বিনা মূল্যে পাবেন খাবার, ফোন ও যাতায়াত সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন অবস্থায় থাকা সাবেক সেনাদের জন্য নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে দেশটির ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগ (ভিএ)। এ কর্মসূচির আওতায় খাবার, পোশাক, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, স্মার্টফোন, অস্থায়ী আবাসন এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।   ভিএ জানিয়েছে, এই অর্থের মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার বিভিন্ন পণ্য ও সেবা দেওয়ার জন্য এবং বাকি ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার যাতায়াত সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে। গৃহহীন সাবেক সেনাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন সহায়তা কর্মসূচি ‘হাড-ভ্যাশ’-এ অংশ নেওয়া যোগ্য সাবেক সেনারাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   ভিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ আগামী অক্টোবর থেকে বিভিন্ন ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা দেওয়া শুরু হতে পারে। অন্যদিকে যাতায়াত সেবার জন্য চুক্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর এসব পরিবহন সুবিধা চালু হবে।   ভিএর সচিব ডগ কলিন্স বলেছেন, গৃহহীন সাবেক সেনাদের রাস্তায় থাকা থেকে বিরত রাখতে বিভাগটি বিভিন্ন উদ্যোগে অগ্রগতি করছে এবং নতুন কর্মসূচিটি সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।   নতুন কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সাবেক সেনারা খাবার, পোশাক, কম্বল, পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীসহ নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস পেতে পারেন। যারা রাস্তায় বা ঘরের বাইরে রাত কাটান, তাদের জন্য তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগের মতো সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে।   আবাসনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সহায়তার সুযোগ। যোগ্য ব্যক্তিদের ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এমনকি আগের কয়েক মাসের বকেয়া ভাড়া বা বিলও নির্দিষ্ট শর্তে পরিশোধ করা হতে পারে, যদি এর মাধ্যমে ওই সাবেক সেনা আবাসন পেতে পারেন বা বর্তমান আবাসন ধরে রাখতে পারেন।   এ ছাড়া নিরাপত্তা জামানত, ইউটিলিটি সংযোগের জামানত, বাসা বদলের খরচ এবং স্বল্পমেয়াদি জিনিসপত্র রাখার খরচও এই সহায়তার আওতায় আসতে পারে। সাধারণভাবে ভাড়া ও ইউটিলিটি সহায়তা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন বলে ভিএর চিকিৎসকরা মনে করলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।   অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। প্রয়োজন হলে হোটেল বা মোটেলে স্বল্পমেয়াদি থাকার খরচ কর্মসূচির অর্থ থেকে বহন করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আসবাব, বিছানাপত্র, রান্নার সরঞ্জাম, ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে।   যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতেও সহায়তা দেওয়া হবে। ভিএর চিকিৎসকরা প্রয়োজন মনে করলে সাবেক সেনাদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন এবং ফোনের সংযোগের খরচ দেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো তারা যেন চিকিৎসক, সরকারি সেবা প্রদানকারী, সম্ভাব্য বাড়ির মালিক কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।   যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তৃত সুবিধা। সরকারি পরিবহনের ভাউচার বা যাতায়াত সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া, বাসা খোঁজা, চাকরি খোঁজা, আদালত বা আইনি কাজে যাওয়া, জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের মতো কাজে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।   তবে এই অর্থ সরাসরি নগদ হিসেবে সাবেক সেনাদের হাতে দেওয়া হবে না। ভিএর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে অথবা সংশ্লিষ্ট সেবার মূল্য সরাসরি পরিশোধ করবে। প্রধানত সমাজকর্মীসহ ভিএর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকর্মীরা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন।   কর্মসূচির আওতায় আসার জন্য একজন সাবেক সেনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত গৃহহীনতার সংজ্ঞার আওতায় পড়তে হবে। এর মধ্যে স্থায়ী ও পর্যাপ্ত রাত কাটানোর জায়গা না থাকা, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিংবা ঘুমানোর জন্য নির্ধারিত নয় এমন জায়গায় বসবাসের মতো পরিস্থিতি রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যারা শিগগিরই বাসস্থান হারাতে পারেন এবং বিকল্প থাকার জায়গা নেই, তারাও এই সংজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন। পারিবারিক সহিংসতা বা অনুরূপ হুমকির কারণে অনিরাপদ আবাসনে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধান রয়েছে।   এ ছাড়া হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাবেক সেনারাও নতুন সহায়তা পেতে পারেন। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (হাড) ভাড়ার ভাউচার দেয় এবং ভিএ আবাসন ধরে রাখা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কেস ম্যানেজমেন্ট সেবা দেয়। স্থানীয় আবাসন কর্তৃপক্ষ ভাড়ার সহায়তা পরিচালনা করে এবং ভিএর কর্মীরা সাবেক সেনাদের বাসা খুঁজে পাওয়া ও তা ধরে রাখতে সহায়তা করেন।   গৃহহীন সাবেক সেনাদের পরিস্থিতিতে গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ভিএর ২০২৫ সালের ‘পয়েন্ট-ইন-টাইম’ হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক রাতে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ হাজার ৪৯৫ জন সাবেক সেনা গৃহহীন অবস্থায় ছিলেন। ২০০৯ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার পর এটি সর্বনিম্ন সংখ্যা। ২০১০ সালের তুলনায় সংখ্যাটি ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।   ২০২৫ অর্থবছরে ভিএ ৫১ হাজার ৯৩৬ জন গৃহহীন সাবেক সেনাকে স্থায়ী আবাসনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভিএর তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে স্থায়ী আবাসন পাওয়া এসব ব্যক্তির ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ অর্থবছর শেষ হওয়ার সময়ও আবাসনে ছিলেন।   তবে গৃহহীনতা কমলেও আবাসন ও জনবল সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংস্থার (জিএও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে কেস ম্যানেজারের ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ পদ খালি ছিল। ২০২৪ অর্থবছরে ১২৯টি ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টিতে কেস ম্যানেজারের অন্তত ২০ শতাংশ পদ শূন্য ছিল।   জিএও আরও জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাড-ভ্যাশে পাঠানোর জন্য বিবেচিত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫টি ক্ষেত্রে সাবেক সেনাদের শেষ পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে পাঠানো হয়নি। এর মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৯৬টি ক্ষেত্রে কেন পাঠানো হয়নি, সে বিষয়ে কোনো কারণ নথিভুক্ত করা হয়নি। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের তথ্যের ঘাটতির কারণে কোথায় অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন এবং কতজন সাবেক সেনা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।   অর্থাৎ নতুন ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের কর্মসূচিটি গৃহহীন সাবেক সেনাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত রাখার একটি অতিরিক্ত উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে। তবে এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২১:১৯
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে আজ সিটি কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

নিউইয়র্ক শহরে মূল আবাসস্থল নয়—এমন বিলাসবহুল বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি করছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের দুটি কমিটি।   মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট দুপুর ১টায় সিটি হলের কাউন্সিল চেম্বারে অর্থ কমিটি এবং সরকারি কার্যক্রম, রাজ্য ও ফেডারেল আইনবিষয়ক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানির মূল বিষয় ‘পিড-আ-তের’ কর বাস্তবায়ন।   ‘পিড-আ-তের’ বলতে সাধারণত এমন দ্বিতীয় আবাসিক বাড়িকে বোঝানো হয়, যা মালিকের প্রধান বাসস্থান নয় এবং অনেক সময় বছরে সীমিত সময় ব্যবহার করা হয়। নিউইয়র্কে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার উচ্চমূল্যের মধ্যে এসব বাড়ির ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।   সিটি কাউন্সিলের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের আবাসন ও শূন্যতা জরিপ অনুযায়ী নিউইয়র্কে ৫৮ হাজার ৮১০টি আবাসিক ইউনিট ভাড়া বা বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছিল না, কারণ সেগুলো মৌসুমি, বিনোদনমূলক বা মাঝেমধ্যে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। এই সংখ্যা ভাড়া বা বিক্রির জন্য অনুপলব্ধ মোট ইউনিটের প্রায় ২৬ শতাংশ।   এ ধরনের উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পক্ষে থাকা কাউন্সিল সদস্যদের যুক্তি হলো, এতে অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত আবাসিক ইউনিটগুলো বাজারে আসতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত কর থেকে পাওয়া অর্থ সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচিতেও ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।   সিটি কাউন্সিলের একটি প্রস্তাবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভাকে নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের অপ্রধান আবাসনের ওপর অতিরিক্ত সম্পত্তি কর আরোপের অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে ৫ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি গড় বাজারমূল্যের নির্দিষ্ট অপ্রধান আবাসনের কথা উল্লেখ রয়েছে।   কাউন্সিলের নথি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের ২০২৩ সালের হিসাবের ভিত্তিতে উচ্চমূল্যের অপ্রধান আবাসনের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে বছরে গড়ে প্রায় ২৫৮ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে।   আজকের শুনানিতে এই কর বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রভাব, রাজস্ব আয় এবং আবাসন বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে করটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে।   নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে থাকায় সিটি কাউন্সিলের এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দা, বাড়ির মালিক ও আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৭:১৫
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মতপার্থক্যের মধ্যে নিজের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন হাকিম জেফরিস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব থেকে সরে এলেন হাকিম জেফ্রিস

যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ এখন আর সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন হাউসের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস। একই সঙ্গে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা বা ডিএসএর ঘোষিত কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন নেই বলে স্পষ্ট করেছেন নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট নেতা।   রোববার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান জানান জেফরিস। একসময় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা থাকলেও বর্তমানে তিনি এই প্রস্তাবের পক্ষে নেই বলে জানান।   জেফরিস বলেন, বর্তমানে তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ সংক্রান্ত কোনো আইনের সহ-উদ্যোক্তা নন এবং এটি সমর্থনও করেন না। ওয়েলকার তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রস্তাব সমর্থন করেন কি না। জবাবে জেফরিস তার বর্তমান অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কংগ্রেসে উত্থাপিত ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ আইনগুলোতে তিনি সহ-উদ্যোক্তা হননি এবং বর্তমানে এগুলো সমর্থন করছেন না।   ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রে একক সরকারি স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর একটি প্রস্তাব। এর আওতায় অধিকাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার পরিবর্তে সরকার পরিচালিত একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সব নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, এতে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তির নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয় ও বেসরকারি বিমা ব্যবস্থার প্রশাসনিক খরচ কমতে পারে। সমালোচকেরা অবশ্য এর সম্ভাব্য বিপুল সরকারি ব্যয়, কর বাড়ার ঝুঁকি এবং বর্তমান চাকরিভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।   জেফরিসের অবস্থান পরিবর্তন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের মতপার্থক্যকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। দলের প্রগতিশীল অংশের কাছে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। অন্যদিকে জেফরিসসহ দলের মধ্যপন্থী নেতারা স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানো এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।   জেফরিস ডিএসএর কর্মসূচি থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছেন। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল রাজনীতিতে প্রভাব বাড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রাথমিক নির্বাচনে সংগঠনটির সমর্থিত বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সাফল্যও দলের মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল অংশের মধ্যে বিতর্ক বাড়িয়েছে।   জেফরিস বলেন, ডেমোক্রেটিক ককাসে প্রগতিশীল, মধ্যপন্থী ও ব্লু ডগ ডেমোক্র্যাটদের মতো বিভিন্ন মতের মানুষ রয়েছেন। তবে ডিএসএ নিজে যে কর্মসূচি তুলে ধরেছে, তিনি সেটি সমর্থন করেন না। তার মতে, ডেমোক্র্যাটদের এখন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচকে তিনি সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।   স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে জেফরিস ‘মেডিকেয়ার ফর অল’-এর পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যবস্থায় খরচ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মেডিকেইডে রিপাবলিকানদের করা কাটছাঁট ফিরিয়ে নেওয়া এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের করছাড় বাড়ানোর পক্ষে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান তার আগের ভূমিকার তুলনায় ভিন্ন। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে আসার পর সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি।   জেফরিসের সঙ্গে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে প্রকাশ্য মতপার্থক্যও দেখিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না। পৃথক এক সাক্ষাৎকারে খান্না বলেন, তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেন। তার দাবি, এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।   ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক শুধু স্বাস্থ্যসেবা নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইস বা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিলুপ্ত করার দাবিতেও দলের প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে জেফরিসের মতপার্থক্য রয়েছে। জেফরিস আইস পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পক্ষে নন। তবে তিনি সংস্থাটির ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত, মানবিক ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমানে আইসের কার্যক্রম ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে গেছে।   এর আগে জেফরিস ও সিনেটের ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার আইসের কার্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢেকে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র বহনের বাধ্যবাধকতা, স্কুল ও গির্জার কাছে অভিযান সীমিত করা, কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ম আরোপের প্রস্তাব ছিল।   জেফরিসের এই বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্যরা আইস বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। একই সময়ে আইস সংস্কারের পক্ষে আরেকটি প্রস্তাবও বেশি ব্যবধানে অনুমোদিত হয়। ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার কেন মার্টিন অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, দলের আনুষ্ঠানিক নীতিমালা প্রতি চার বছর পর জাতীয় সম্মেলনে নির্ধারিত হয়।   জেফরিসের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ডেমোক্রেটিক পার্টি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলের ভেতরের মতপার্থক্য সামলে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা আবারও হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে। এজন্য অন্তত ২১৮টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি।   তার বক্তব্যে মূল বার্তা ছিল, ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টি রাখা উচিত। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর কাছে দলকে বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরতে হবে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশ মনে করে, বিদ্যমান ব্যবস্থার ছোটখাটো সংস্কারের বদলে স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। ফলে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান দলের মধ্যপন্থী নেতৃত্ব ও প্রগতিশীল ঘরানার মধ্যে নীতিগত দূরত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।   এ অবস্থায় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ থেকে সরে আসা এবং ডিএসএর কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে জেফরিস কার্যত ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি মধ্যপন্থী অবস্থানই সামনে এনেছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অবস্থান দলকে বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে কতটা সহায়তা করবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২২:৩৮
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট জানিয়েছেন, সরকারি অনুদানে পরিচালিত স্থাপনায় নির্দিষ্ট ধর্মকে সুবিধা দেওয়া বেআইনি। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাস গভর্নরের হস্তক্ষেপের পর ডালাস বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর স্থান নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ (ডিএফডব্লিউ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর স্থান (ওজুখানা) নির্মাণের একটি পরিকল্পনা তীব্র বিতর্কের মুখে বাতিল করা হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দেওয়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। একই সঙ্গে রাজ্যের দুটি বড় বিমানবন্দরে ধর্মীয় সুবিধার নামে কোনো বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য সরকারি অনুদান খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।   গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর অ্যাবট বলেন, "সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অন্য সব ধর্মের ওপর বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না। ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ইসলামিক ওজুর জায়গা নির্মাণের পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি সম্ভাব্য অনুদান বাতিলের জন্য রাজ্যের দুটি বিমানবন্দরের সব সরকারি অনুদান পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি তদন্তের জন্য বিষয়টি মার্কিন পরিবহন বিভাগের (ইউএসডিওটি) কাছে পাঠিয়েছি।"   তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো স্থাপনায় এ ধরনের বেআইনি ধর্মীয় বৈষম্য বরদাশত করবে না টেক্সাস। গভর্নরের এই কড়া বার্তার পরই ডালাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, তারা তাদের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল (টার্মিনাল ডি)-এর নিরাপত্তা তল্লাশির আগের অংশে যাত্রীদের জন্য একটি ওজুখানা স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছিল। কিন্তু জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হওয়ায় তারা দ্রুত এই পর্যালোচনা শেষ করেছে এবং প্রকল্পটি নিয়ে আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি থেকে প্রাথমিকভাবে যে ধরনের পরিচালনগত সুবিধার আশা করা হয়েছিল, সেটি পূরণ হবে না বলেই এই সিদ্ধান্ত।   এর আগে গত ৩১ জুলাই টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের কাছে প্রকল্পটির নিবন্ধন করা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ডলার এবং অর্থায়নের উৎসের জায়গায় ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ উল্লেখ করা হয়েছিল। কথা ছিল, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে।   তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, নথিপত্রে উল্লেখ করা এসব তথ্য আসলে তাদের বহিরাগত নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ‘করণিক ভুল’ ছিল। বিমানবন্দরটির একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে বলেন, ৩ লাখ ডলারের হিসাবটি ছিল একটি প্রাথমিক উচ্চ ধারণা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এর প্রকৃত ব্যয় হতো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ কথাটিও ভুলবশত লেখা হয়েছিল। অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পেও বিমানবন্দরের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করার কথা ছিল। বিমানবন্দরটি তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে না, বরং পার্কিং ও বিভিন্ন দোকানপাট থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে একটি ওজুখানা এবং এর সংলগ্ন একটি প্রার্থনাকক্ষ রয়েছে।   মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে দেওয়া এক চিঠিতে গভর্নর অ্যাবট মার্কিন পরিবহন বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে উভয় বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, "এই ওজুখানাগুলো দৃশ্যত নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংবিধানে এ ধরনের বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া নিষেধ। সরকার যেমন পবিত্রতার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, তেমনি অন্য সব মতাদর্শের ওপর কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদকেও বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না।"   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরগুলোতেও, যেমন, শিকাগো ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যাত্রীদের সুবিধার্থে এ ধরনের নিচু বেসিন বা ওজুখানা এবং সর্বজনীন প্রার্থনার স্থান রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ২৩:৪৫
নির্দিষ্ট কোডযুক্ত ডিম না খাওয়ার এবং দোকানে ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এফডিএ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ১৫ লাখের বেশি ডিম, না খাওয়ার কড়া নির্দেশ দিল এফডিএ

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কায় বাজার থেকে প্রত্যাহার করা ১৫ লাখেরও বেশি ডিমের ওপর সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘ক্লাস ১’ (Class 1) সতর্কতা জারি করেছে। গত জুলাই মাসে এই ডিমগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংস্থাটি এই কড়া সতর্কতা জারি করে।   গত ১২ আগস্ট এফডিএ-এর পক্ষ থেকে এই সতর্কতা সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্যের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা মৃত্যুর প্রবল আশঙ্কা থাকলে সেটিকে ‘ক্লাস ১’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়। এই সতর্কতা থেকে স্পষ্ট যে, প্রত্যাহার করা ডিমগুলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ হতে পারে।   এর আগে জুলাই মাসে মিডওয়েস্ট পোল্ট্রি সার্ভিসেস, এল.পি. প্রথমবার এই বিপুল পরিমাণ ডিম বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর আওতায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৭টি সাদা এবং বাদামি রঙের খোসাযুক্ত ডিম রয়েছে। এসব ডিম ক্রোগার (Kroger), সিম্পল ট্রুথ (Simple Truth) এবং কান্ট্রি মর্নিং (Country Morning)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করা হয়েছিল।   জানা গেছে, ডিমগুলো মূলত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে উৎপাদন করা হয়। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যেসব অঙ্গরাজ্যে এই ডিমগুলো ছড়িয়ে পড়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আরকানসাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা এবং টেক্সাস।   প্রত্যাহার করা ডিমের কার্টন বা প্যাকেটের বাম অথবা ডান দিকে কালির ছাপ দেওয়া নির্দিষ্ট কোড লেখা রয়েছে। এফডিএ জানিয়েছে, যেসব প্যাকেটে P-1950 বা 0840962 কোড রয়েছে এবং সাথে জুলিয়ান তারিখ (Julian Date) ১৫৭ থেকে ১৮৪ উল্লেখ করা আছে, কেবল সেই ডিমগুলোই এই সতর্কতার আওতায় পড়বে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নির্দিষ্ট ডিমগুলো কেনা গ্রাহকদের তা না খাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর বদলে যেখান থেকে কেনা হয়েছে, সেখানে ফেরত দিয়ে পুরো অর্থ বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই ডিম খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন বা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।   সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত খাবার খেলে সালমোনেলোসিস নামের খাদ্যবাহিত রোগ হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, দূষিত খাবার খাওয়ার ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, ডায়রিয়া বা তীব্র পেটব্যথা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই অসুস্থতা এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হলেও বেশিরভাগ মানুষ কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই নিজে থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ২২:৭
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইডের ‘এস্টেট রিকভারি’ নীতিতে বিপাকে মার্কিন পরিবারগুলো, ঝুঁকিতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইডের ‘এস্টেট রিকভারি’ নীতিতে বিপাকে মার্কিন পরিবারগুলো, ঝুঁকিতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সরকারি কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ গ্রহণকারী পিতামাতার মৃত্যুর পর পারিবারিক বাড়ি রক্ষা করা অনেক উত্তরাধিকারীর জন্যই এক জটিল ও স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মেডিকেইডের ‘এস্টেট-রিকভারি’ বা সম্পদ পুনরুদ্ধার নীতির কারণে বাড়িটির ওপর সরকারি লিয়েন বা দেনার দাবি তৈরি হয়।   তবে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ, বিশেষ ছাড় ও এস্টেট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই বাড়ি রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সন্তানের বয়স ২১ বছরের কম হলে কিংবা সন্তান যদি অন্ধ বা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হন, তবে মেডিকেইড সেই বাড়ি বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে না। এছাড়া কিছু অঙ্গরাজ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি পিতামাতাকে সেবাদানকারী হিসেবে অন্তত দুই বছর ওই বাড়িতে অবস্থান করেন, তিনিও বিশেষ ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন।   এর বাইরেও উত্তরাধিকারীরা ‘আনডিউ হার্ডশিপ ওয়েভার’ বা চরম আর্থিক সংকটের অজুহাতে বিশেষ মওকুফের আবেদন করতে পারেন। রাজ্য মেডিকেইড সংস্থার নোটিশ পাওয়ার সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এই আবেদনটি করতে হয়। যদি প্রমাণ করা যায় যে, বাড়িটি নিয়ে নিলে উত্তরাধিকারী সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়বেন বা সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হবেন, তবে কর্তৃপক্ষ ছাড় দিতে পারে।   জাতীয় অধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস ইন এজিং’-এর মতে, মেডিকেইডের এই সম্পদ পুনরুদ্ধার নীতি মূলত স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ একটি পারিবারিক বসতভিটাই প্রায়শ তাদের একমাত্র সম্বল। আইনি পরামর্শ ও সম্পদ রক্ষার সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেকেই নিজেদের বাড়ি হারিয়ে আবাসন সংকটে পড়েন, যা প্রজন্মগত সম্পদ গড়ার পথকে রুদ্ধ করে দেয়।   এদিকে উত্তরাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির বন্ধকি ঋণ এবং হোমওনার্স ইনস্যুরেন্স বা গৃহবীমা নিয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পিতামাতার মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে এস্টেটের এক্সিকিউটর বা প্রতিনিধি নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বন্ধকি ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তরাধিকারীর সঙ্গে কথা বলতে চায় না।   তবে বীমা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে পিতামাতার মৃত্যুর ৩০ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে অবহিত করা উচিত। অন্যথায় অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হলে বীমা কোম্পানি দাবি নাকচ করে দিতে পারে।   ফ্লোরিডার উইল ও ট্রাস্ট বিষয়ক আইনজীবী বার্ট স্কোভিলের মতে, গৃহবীমা পলিসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন মালিকের নামে স্থানান্তরিত হয় না। তাই আইনি জটিলতা ও বাড়ি ফাঁকা থাকার কারণে বীমা সুবিধা বাতিল হওয়া এড়াতে দ্রুত পলিসি হালনাগাদ করা এবং একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া অপরিহার্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৮:১
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণ অব্যাহত রাখতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণ অব্যাহত রাখতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে হোয়াইট হাউসে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম প্রকল্পের নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখার অনুমতি চেয়েছে। নিম্ন আদালতের একটি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালীন এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেল গত সপ্তাহে ইউএস কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের তিন বিচারপতির প্যানেলের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলরুম প্রকল্পটিকে আইনি চ্যালেঞ্জকারী বাদীদের এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে আপিল আদালতের বিভক্ত প্যানেল রায় দেয় যে, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকায় ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে। প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের জায়গায় ৯০ হাজার বর্গফুটের (৮ হাজার ৪০০ বর্গমিটার) এই বলরুম নির্মাণের কোনো আইনি অধিকার নেই।   গত শরতে ট্রাম্পের নির্দেশেই পুরোনো ইস্ট উইং গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে নিম্ন আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ দিতে তাদের নিজস্ব রায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখে। সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার আগামী ২১ আগস্ট আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই এই স্থগিতাদেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্রুত রায় চেয়েছেন।   সাওয়ার তার আবেদনে উল্লেখ করেন, এই মামলাটি এমন একটি অসাধারণ ও বেআইনি ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জড়িত, যা হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে চলমান সামরিক কমপ্লেক্স এবং সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বলরুমের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেবে। অথচ এটি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিহার্য বলে তিনি দাবি করেন।   এর আগে গত এপ্রিলে এক জেলা আদালতের বিচারক এই পরিকল্পিত বলরুমের মাটির ওপরের অংশের নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বিচারক স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে হোয়াইট হাউস ভূগর্ভস্থ কাজ, যেমন বাঙ্কার, সামরিক স্থাপনা এবং চিকিৎসা সুবিধা নির্মাণের কাজ বাধাহীনভাবে চালিয়ে যেতে পারবে।   ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট প্যানেল তাদের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে মাটির ওপরের নির্মাণকাজ স্থগিত করার ওই আদেশ বহাল রাখে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণবাদীদের পক্ষে অবস্থান নেয়, যারা মূলত বলরুম নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এই মামলাটি করেছিলেন। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই বিচারক মত প্রকাশ করেন যে, এত বিশাল একটি বলরুম নির্মাণ করা হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল কংগ্রেসের, এটি নির্বাহী বিভাগের নিজস্ব ইচ্ছার কোনো বিষয় নয়।   অন্যদিকে ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া তৃতীয় বিচারক নাওমি রাও ভিন্নমত পোষণ করে জানান, যে সংগঠনটি প্রকল্পটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তাদের মামলা করার কোনো আইনি অধিকারই নেই। তার মতে, সরকার যেখানে জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, সেখানে জেলা আদালত কেবল একজন পথচারীর নান্দনিক অসন্তোষকে বড় করে দেখছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, হোয়াইট হাউস সংস্কারের জন্য প্রেসিডেন্টেরই নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগও দাবি করেছে, বর্তমানে প্রকল্পের স্থানটি উন্মুক্ত থাকায় হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ১০ মাস ধরে নির্মাণাধীন এই বলরুমের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে বাদীরা অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজের গতি বাড়িয়ে মূলত আদালতকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৫:৩৮
মার্কিন ইমিগ্রেশন পুলিশ আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য কেনা হচ্ছে বিশেষ 'ইলেকট্রিক শক গ্লাভস'। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসীদের আটক অভিযানে বিদ্যুৎ শক দেওয়া বিশেষ গ্লাভস কিনতে ২ কোটি ডলার ব্যয় করবে আইস

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) কর্মকর্তাদের জন্য বিদ্যুৎ শক দিতে সক্ষম বিশেষ ধরনের গ্লাভস কিনতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত একটি ক্রয়সংক্রান্ত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরিকল্পনাটি প্রকাশের পরই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ডিএইচএসের নোটিশ অনুযায়ী, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে আইসের কর্মকর্তা ও এজেন্টদের ব্যবহারের জন্য হাজার হাজার 'গ্লোভ (Generated Low Output Voltage Emitter)' কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো তৈরি করে কেন্টাকির লেক্সিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই গ্লাভস সাধারণ টহল গ্লাভসের মতোই ব্যবহার করা যায়। তবে প্রয়োজনে একটি সুইচ চাপলে এটি বিদ্যুৎ শক দেওয়ার মোডে চলে যায়। কারও খোলা ত্বকে স্পর্শ করালে এটি তীব্র ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং সাধারণত তিন সেকেন্ডেরও কম সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এতে পোড়া দাগ, ক্ষত বা স্থায়ী চিহ্ন পড়ে না।   কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এ প্রযুক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তুলনামূলক কম দৃশ্যমান এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক একটি পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কারাগারেও এ ধরনের গ্লাভস ব্যবহারের নজির রয়েছে।   ইনস্টিটিউট ফর দ্য প্রিভেনশন অব ইন-কাস্টডি ডেথসের সভাপতি জন পিটার্স, যিনি এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, বিদ্যুৎ শকের অনুভূতি অনেকটা মৌমাছির হুল ফোটানোর মতো তীব্র ও তাৎক্ষণিক। তার মতে, কেউ প্রতিরোধ করলে কর্মকর্তাদের জন্য এটি কার্যকর একটি নিয়ন্ত্রণমূলক সরঞ্জাম হতে পারে।   তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিষয়ক কঠোর নীতি বাস্তবায়নের সময় আইসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ আগেই উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ শক দেওয়ার নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ আরও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।   আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) পুলিশিং প্রকল্পের উপপরিচালক জেন রলনিক বোরকেটা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগে এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তার গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।   তার ভাষায়, "গত এক বছরে আইস দেখিয়েছে যে তারা খুব দ্রুত বলপ্রয়োগে যায়। এখন একটি বোতাম চাপলেই তারা বিদ্যুৎ শক ব্যবহার করতে পারবে, যা হয়তো অন্য কেউ দেখতেও পারবে না। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।"   অন্যদিকে জন পিটার্সের ধারণা, আইসের এই ক্রয়াদেশ সম্ভবত কোম্পানিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্ডার হতে যাচ্ছে। তার মতে, গাড়ি, বাড়ি বা আটককেন্দ্রে সহযোগিতা না করা ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মকর্তারা এ গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন।   তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এটি কোনোভাবেই শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। শুধু মৌখিকভাবে প্রতিবাদ বা অসহযোগিতা করছেন, এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর এ গ্লাভস ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ নিকলাস ই-মেইলে জানান, এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে অপারগ।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ২১:১২
শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়ে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছেন ট্রাম্প, উদ্বেগে শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশে শিশুদের জন্য নতুন "গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড চাইল্ডহুড ভ্যাকসিন রেকমেন্ডেশনস" চালুর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আওতায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হাম, মাম্পস ও রুবেলার (এমএমআর) যৌথ টিকাকে ভবিষ্যতে তিনটি পৃথক টিকায় বিভক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের টিকাদান সূচি, টিকার ধরন এবং প্রয়োগ পদ্ধতি নতুন করে মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে (এইচএইচএস) আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বর্তমান টিকাদান কর্মসূচি পর্যালোচনা করে নতুন সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।   নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সমমানের অনেক দেশের তুলনায় শিশুদের জন্য বেশি সংখ্যক টিকা সুপারিশ করা হয়। তাই টিকা দেওয়ার সময়, ক্রম এবং কোন টিকা কীভাবে দেওয়া হবে, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে।   এমএমআর টিকা বর্তমানে একসঙ্গে হাম, মাম্পস ও রুবেলা এই তিনটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব হলে এই তিনটি রোগের জন্য আলাদা আলাদা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে যতটা সম্ভব প্রতিটি টিকা আলাদা চিকিৎসা-সাক্ষাতে দেওয়ার নির্দেশনাও রাখা হয়েছে। ফলে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আগের তুলনায় আরও বেশি বার যেতে হতে পারে।   হোয়াইট হাউসে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের আগে ট্রাম্প বলেন, নতুন সুপারিশ বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে, যার মধ্যে অটিজমও রয়েছে। তবে আদেশের লিখিত অংশে অটিজমের কোনো উল্লেখ নেই।   নতুন নীতিতে শিশুদের টিকাকে তিনটি ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমটি সব শিশুর জন্য নিয়মিত সুপারিশকৃত টিকা, দ্বিতীয়টি কেবল উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য এবং তৃতীয়টি চিকিৎসক ও পরিবারের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হবে।   এতে আরএসভি প্রতিরোধী মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, হেপাটাইটিস এ ও বি, মেনিনগোকক্কাল বি, মেনিনগোকক্কাল এসিডব্লিউওয়াই এবং ডেঙ্গু টিকাকে উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে।   এ ছাড়া নিরাপদ শিশু টিকাবিষয়ক এইচএইচএস টাস্কফোর্সকে ৯০ দিনের মধ্যে একক রোগভিত্তিক টিকার সুযোগ বাড়ানো, টিকার উপাদান, নিরাপত্তা তথ্য এবং নজরদারি ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে টিকাদান নীতি হালনাগাদ করা এবং অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আরও বাড়ানো। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।   কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ও কিশোরস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মেলিসা স্টকওয়েল নিউজউইককে বলেন, এমএমআর টিকাকে তিনটি আলাদা ইনজেকশনে ভাগ করার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণ নেই।   তার ভাষায়, এতে পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে এবং শিশুদের আরও বেশি ইনজেকশন নিতে হবে, অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোনো অতিরিক্ত উপকার নেই। বরং আলাদা আলাদা টিকা দেওয়ার ফলে নির্ধারিত সময়ে সব ডোজ সম্পন্ন না হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং শিশুরা দীর্ঘ সময় রোগের ঝুঁকিতে থাকবে।   তিনি বলেন, হাম, মাম্পস ও রুবেলা কোনো সাধারণ শৈশবকালীন রোগ নয়। হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে, মাম্পস শ্রবণশক্তি হারানোর কারণ হতে পারে এবং রুবেলা গর্ভবতী নারীর জন্য গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব বা জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়।   স্টকওয়েল আরও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এমএমআর-এর পৃথক টিকা বাজারে নেই। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত যৌথ এমএমআর টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ এবং মাম্পসের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৬ শতাংশ সুরক্ষা দেয়।   তিনি সতর্ক করে বলেন, টিকা বিলম্বিত করা বা অতিরিক্ত বিরতি দিয়ে দেওয়া শিশুর নিরাপত্তা বাড়ায় না; বরং সংক্রমণের ঝুঁকি দীর্ঘায়িত করে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, প্রেসিডেন্টের এমন পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ জ্ঞান নেই। তার মতে, শিশুদের টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং অটিজমের সঙ্গে এর কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই।   ক্যাসিডি বলেন, একই সুরক্ষা পেতে যদি শিশুদের একাধিকবার চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়, তাহলে অনেক পরিবার টিকা নেওয়া পিছিয়ে দিতে পারে। এতে প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।   এদিকে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা স্কুলে ভর্তির টিকা সংক্রান্ত নিয়মে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সুপারিশ অনুসরণ নাও করতে পারে। জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সুপারিশে আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২২:২০
টেক্সাসে বৈদ্যুতিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে ২০০ ডলার ফি, ক্ষোভ বাড়ছে চালকদের মধ্যে
টেক্সাসে বৈদ্যুতিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে ২০০ ডলার ফি, ক্ষোভ বাড়ছে চালকদের মধ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) চালকদের জন্য নির্ধারিত ২০০ ডলারের বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি এক ইভি চালক তার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নবায়নের সময় এই অতিরিক্ত ফি লক্ষ্য করে রেডিট (Reddit)-এ একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, টেক্সাসের এই নিয়মের সমস্যা কোথায় এবং অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও এই ফি এর চেয়ে কম কি না। তার এই সাধারণ একটি প্রশ্ন বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগে রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য তহবিল কীভাবে সংগ্রহ করা উচিত এবং এই নীতি কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে একটি বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   এই ফি মূলত জ্বালানি করের বিকল্প হিসেবে আরোপ করা হয়েছে, কারণ ইভি চালকরা গ্যাস স্টেশন থেকে জ্বালানি কেনেন না, ফলে তারা সরকারকে কোনো জ্বালানি করও দেন না। তবে অনেক চালকের দাবি, গ্যাসচালিত গাড়ির মালিকরা জ্বালানি কর হিসেবে যে অর্থ প্রদান করেন, এই ২০০ ডলার তার চেয়েও অনেক বেশি।   রেডিটে এক ব্যবহারকারী হিসাব কষে দেখান, ২০০ ডলার ফি মানে হলো ১,০০০ গ্যালন গ্যাসের ওপর হারানো করের সমান, যা সপ্তাহে প্রায় ৫৭৫ মাইল গাড়ি চালানোর সমতুল্য। ফলে যারা গড়ে অনেক কম দূরত্বে গাড়ি চালান, তাদের জন্য বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ এই ফি একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এক মন্তব্যকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর মানে হলো সাধারণ ইঞ্জিনচালিত গাড়ির চেয়ে ইভি চালকদের শক্তির জন্য বেশি কর দিতে হচ্ছে।   এই বিতর্ক কেবল একটি ফি-এর ফরমে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের প্রকৃত খরচের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। যারা গাড়ি কম চালান, তাদের জন্য এই ফ্ল্যাট ফি গ্যাসচালিত গাড়ির করের চেয়েও বেশি ব্যয়বহুল। যদিও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাশ্রয় হয়, তবুও এমন শাস্তিমূলক বা বিভ্রান্তিকর ফি নতুন ক্রেতাদের বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। গাড়ি কেনার আগে চালকদের এই ফি বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই নির্দিষ্ট ফি-এর পরিবর্তে চালকদের অতিক্রান্ত দূরত্ব (মাইলেজ) বা গাড়ির ওজনের ওপর ভিত্তি করে নতুন ব্যবস্থা চালু হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৮:২৭
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০